কোরান সূরা বায়্যিনাহ আয়াত 1 তাফসীর

  1. Mokhtasar
  2. Ahsanul Bayan
  3. AbuBakr Zakaria
  4. Ibn Kathir
Surah Bayyinah ayat 1 Bangla tafsir - তাফসীর ইবনে কাসীর - Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান - Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স - বাংলা ভাষায় নোবেল কোরআনের অর্থের অনুবাদ উর্দু ভাষা ও ইংরেজি ভাষা & তাফসীর ইবনে কাসীর : সূরা বায়্যিনাহ আয়াত 1 আরবি পাঠে(Bayyinah).
  
   

﴿لَمْ يَكُنِ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ وَالْمُشْرِكِينَ مُنفَكِّينَ حَتَّىٰ تَأْتِيَهُمُ الْبَيِّنَةُ﴾
[ البينة: 1]

আহলে-কিতাব ও মুশরেকদের মধ্যে যারা কাফের ছিল, তারা প্রত্যাবর্তন করত না যতক্ষণ না তাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ আসত। [সূরা বায়্যিনাহ: 1]

Surah Al-Bayyinah in Bangla

জহুরুল হক সূরা বাংলা Surah Bayyinah ayat 1


গ্রন্থধারীদের মধ্যে থেকে যারা অবিশ্বাস পোষণ করে আর বহুখোদাবাদীরা তাদের ছাড়ানো যাচ্ছিল না যতক্ষণ না তাদের কাছে এসেছে সুস্পষ্ট প্রমাণ --


Tafsir Mokhtasar Bangla


১. ইহুদি, খ্রিস্টান ও মুশরিক জাতীয় কাফিররা ততক্ষণ পর্যন্ত নিজেদের কুফরীর উপর ঐক্যবদ্ধতা ও জোট পরিহার করবে না যতক্ষণ না তাদের নিকট সুস্পষ্ট দলীল ও প্রমাণাদি উপস্থিত হয়।

Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান


আহলে কিতাব[১] ও মুশরিকদের[২] মধ্যে যারা কুফরী করেছিল, তারা আপন মতে অবিচলিত ছিল, যতক্ষণ না এল তাদের নিকট সুস্পষ্ট প্রমাণ; [১] এ থেকে উদ্দেশ্য ইয়াহুদী ও নাসারা ( খ্রিষ্টান )। [২] 'মুশরিক' ( অংশীবাদী ) বলে আরব এবং অনারবের ঐ সমস্ত লোকদেরকে বুঝানো হয়েছে যারা অগ্নি ও মূর্তি পূজা করত। مُنفَكِّين মানে বিরত বা বিচলিত। البَيِّنة ( দলীল বা সুস্পষ্ট প্রমাণ ) বলে নবী ( সাঃ )-কে বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ, ইয়াহুদী ও নাসারা, আরব এবং অনারবের মুশরিক বা অংশীবাদীরা নিজেদের কুফর ও শিরক থেকে ফিরে আসার নয়; যতক্ষণ পর্যন্ত না মুহাম্মাদ ( সাঃ ) তাদের নিকট পবিত্র কুরআনসহ এসে উপস্থিত হয়েছেন এবং তাদের অজ্ঞতা ও ভ্রষ্টতা ব্যক্ত করে তাদেরকে ইসলামের প্রতি আহবান করেছেন।

Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স


আহলে কিতাবদের মধ্যে যারা কুফরি করেছে এবং মুশরিকরা [] , তারা নিবৃত্ত নিবৃত্ত হবে না যতক্ষণ না তাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ আসবে []— সূরা সম্পর্কিত তথ্যঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উবাই ইবনে কা‘ব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে বললেন, আল্লাহ্ আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমি তোমাকে “ লাম ইয়াকুনিল্লাযিনা কাফারু” ( সূরা ) পড়ে শোনাই উবাই ইবনে কা‘ব বললেন, আমার নাম নিয়ে আপনাকে বলেছে? রাসূল বললেন, হ্যাঁ। উবাই ইবনে কা‘ব তখন ( খুশিতে ) কেঁদে ফেললেন” । [ বুখারী: ৩৮০৮, ৪৯৫৯, মুসলিম: ৭৯৯, মুসনাদে আহমাদ: ৩/২৭৩ ] ----------------------------- [] আহলি কিতাব ও মুশরিক উভয় দলই কুফরী কর্মকাণ্ডে জড়িত হলেও দু’দলকে দু’টি পৃথক নামব দেয়া হয়েছে। যাদের কাছে আগের নবীদের আনা কোন আসমানী কিতাব ছিল, তা যত বিকৃত আকারেই থাক না কেন, তারা তা মেনে চলতো, তাদেরকে বলা হয় আহলি কিতাব; আর তারা হল ইয়াহুদী ও নাসারাগণ। আর যারা মূর্তি-পূজারী বা অগ্নি-পূজারী, তারা-ই মুশরিক। [ ইবন কাসীর ] [] অর্থাৎ তারা তাদের কুফৱী থেকে নিবৃত্ত হবে না যতক্ষণ না একটি সুস্পষ্ট প্রমাণ এসে তাদেরকে কুফরীর প্রতিটি গলদ ও সত্য বিরোধী বিষয় বুঝাবে এবং যুক্তি-প্রমাণের সাহায্যে সুস্পষ্ট পদ্ধতিতে সত্য সঠিক পথ তাদের সামনে পেশ করবে, এর মাধ্যমে তারা কুফারী থেকে বের হতে পারবে। এর মানে এ নয় যে, এই সুস্পষ্ট প্রমাণটি এসে যাবার পর তারা সাবাই কুফৱী পরিত্যাগ করবে। তবে তার আসার পরও তাদের মধ্য থেকে যারা নিজেদের কুফরীর ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল তার দায়িত্ব তাদের ওপরই বর্তায়। এরপর তারা আল্লাহ্র কাছে অভিযোগ করতে পারবে না যে, আপনি আমাদের হেদায়াতের কোন ব্যবস্থা করেননি। আল্লাহ্ অন্যত্র বলেন, “ অনেক রাসূল পাঠিয়েছি যাদের কথা আগে আমি আপনাকে বলেছি এবং অনেক রাসূল, যাদের কথা আপনাকে বলিনি । এবং মূসার সাথে আল্লাহ্ সাক্ষাত কথা বলেছিলেন। এই রাসূলদেরকে সুসংবাদদানকারী ও সতর্ককারী করা হয়েছে যাতে রাসূলদের পর লোকদের জন্য আল্লাহ্র বিরুদ্ধে কোন যুক্তি না থাকে ” [ সূরা আন-নিসা: ১৬৪-১৬৫ ] আরও বলেন, “ হে আহলি কিতাব! রাসূলদের সিলসিলা দীর্ঘকাল বন্ধ থাকার পর প্রকৃত সত্যকে সুস্পষ্ট করার জন্য তোমাদের কাছে আমার রাসূল এসেছে । যাতে তোমরা বলতে না পারো আমাদের কাছে না কোন সুসংবাদদানকারী এসেছিল, না এসেছিল কোন সতর্ককারী। কাজেই নাও, এখন তোমাদের কাছে সুসংবাদদানকারী এসে গেছে এবং সতর্ককারীও।” [ সূরা আল-মায়েদাহ: ১৯ ]

Tafsir ibn kathir bangla তাফসীর ইবনে কাসীর


মুসনাদে আহমাদে হযরত আমর ইবনু সাবিত আনসারী ( রাঃ ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ যখন ( আরবি ) সূরাটি শেষ পর্যন্ত অবতীর্ণ হয় তখন হযরত জিবরাঈল ( আঃ ) বলেনঃ “ হে আল্লাহর রাসূল ( সঃ )! আল্লাহ্ তা'আলা আপনাকে এ সূরাটি হযরত উবাই ( রাঃ )-এর নিকট পাঠ করার নির্দেশ দিয়েছেন ।রাসূলুল্লাহ( সঃ ) হযরত উবাই ( রাঃ )-কে এ কথা জানানোর পর হযরত উবাই ( রাঃ ) বলেনঃ “ হে আল্লাহর রাসূল ( সঃ )! সেখানে কি আমার কথা আলোচিত হয়েছে?” জবাবে রাসূলুল্লাহ( সঃ ) তাঁকে বললেনঃ “হ্যা, হ্যাঁ । হযরত উবাই ( রাঃ ) তখন কেঁদে ফেললেন। মুসনাদেরই অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে যে, হযরত উবাই ( রাঃ ) জিজ্ঞেস করেনঃ “ হে আল্লাহ্র রাসূল ( সঃ )! আল্লাহ্ তা'আলা কি আমার নাম উচ্চারণ করেছেন?” রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) উত্তরে হ্যা’ বললেন । তখন হযরত উবাই ( রাঃ ) কেঁদে ফেললেন। ( এ হাদীসটি ইমাম বুখারী (রঃ ) ইমাম মুসলিম ( রঃ ), ইমাম তিরমিযী ( রঃ ) এবং ইমাম নাসাঈ ( রঃ )ও বর্ণনা করেছেন)মুসনাদে আহমাদের অন্য একটি রিওয়াইয়াতে আছে যে, যে সময় হযরত উবাই ( রাঃ ) এ ঘটনাটি বর্ণনা করেন সে সময় বর্ণনাকারী হযরত উবাই ( রাঃ )-কে বলেনঃ “ হে আবু মুনযির ( রাঃ )! তাহলে তো আপনি খুবই আনন্দিত হয়েছেন?” উত্তরে হযরত উবাই ( রাঃ ) বলেনঃ কেন আনন্দিত হবে না? আল্লাহ্ রাম্বুল আলামীন স্বয়ং বলেনঃ ( আরবি )অর্থাৎ “তুমি বলে দাওঃ আল্লাহর অনুগ্রহ ও করুণা লাভ করে যেন তারা আনন্দিত হয় । এটা তারা যা পুঞ্জীভূত করে তার চেয়ে বহুগুণে উত্তম।” ( ১০:৫৮ )অন্য একটি বর্ণনায় রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ( সঃ ) হযরত উবাই ( রাঃ )-এর সামনে এ সূরাটি পড়ার পর পাঠ করেনঃ ( আরবি )অর্থাৎ “ আদম সন্তান যদি একটা উপত্যকা পূর্ণ মাল যাঞ্চা করে, অতঃপর তাকে তা দেয়া হয় তবে অবশ্যই সে দ্বিতীয়টির জন্যে প্রার্থনা করবে, সেটাও যদি তাকে প্রদান করা হয় তবে সে তৃতীয়টির জন্যে প্রার্থনা করবে । আদম সন্তানের পেট মাটি ছাড়া অন্য কিছু দিয়ে ভরবে না। তবে যে তাওবা করবে আল্লাহ্ তার তাওবা কবুল করবেন। আল্লাহর কাছে ঐ ব্যক্তিই দ্বীনদার যে একাগ্রচিত্তে তাঁর ইবাদত করে। তবে সে মুশরিক, ইয়াহুদী এবং নাসারা হতে পারবে না। যে ব্যক্তি কোন পুণ্য কাজ করবে তার অমর্যাদা করা হবে না।” ( জামে তিরমিযীতেও বর্ণনাটি রয়েছে এবং ইমাম তিরমিযী (রঃ ) এটাকে হাসান সহীহ বলেছেন) হযরত উবাই ইবনে কা'ব ( রাঃ ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ( সঃ ) তাঁকে বলেনঃ “ হে আবুল মুনযির ( রাঃ )! আমি আদিষ্ট হয়েছি যে, আমি যেন তোমার সামনে কুরআন পাঠ করি । হযরত উবাই ( রাঃ ) তখন বলেনঃ “ হে আল্লাহর রাসূল ( সঃ )! আমি আল্লাহর উপর ঈমান এনেছি, আপনার হাতে ইসলাম গ্রহণ করেছি এবং আপনার কাছে ধর্মীয় শিক্ষা লাভ করেছি ।” নবী করীম ( সঃ ) ঐ কথারই পুনরাবৃত্তি করলেন। হযরত উবাই ( রাঃ ) তখন আর করলেনঃ “ হে আল্লাহর রাসূল ( সঃ )! আমার কথা কি সেখানে আলোচনা করা হয়েছে?" উত্তরে রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) বললেনঃ “হ্যা, তোমার নাম ও নসব এ সবই মালায়ে আ’লায় আলোচিত হয়েছে । হযরত উবাই ( রাঃ ) তখন বললেনঃ “ তা হলে পাঠ করুন!” ( এ হাদীসটি হাফিজ আবুল কাসিম তিবরানী (রঃ ) বর্ণনা করেছেন । এ পদ্ধতিতে এ হাদীসটি গারীব বা দুর্বল। পূর্বে যেটা বর্ণনা করা হয়েছে সেটাই প্রমাণিত) এটা স্মরণ রাখার বিষয় যে হযরত উবাই ( রাঃ )-এর মানসিক দৃঢ়তা এবং ঈমান বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যেই রাসূলুল্লাহ( সঃ ) তাঁর সামনে এ সূরাটি পাঠ করেছিলেন। মুসনাদে আহমদ, সুনানে আবী দাউদ, সুনানে নাসাঈ এবং সহীহ মুসলিমে রয়েছে যে, একবার হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ ( রাঃ )-এর কিরআত শুনে হযরত উবাই ( রাঃ ) অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন, কেননা রাসূলুল্লাহ ( সঃ )-এর কাছে তিনি যেমনভাবে এ সূরার কিরআত শুনেছিলেন, হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ ( রাঃ ) তেমনভাবে পড়েননি। রাগতভাবে হযরত উবাই হযরত ইবনে মাসউদ ( রাঃ )-কে সাথে নিয়ে রাসূলুল্লাহ ( সঃ )-এর নিকট গমন করেন। রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) উভয়ের কিরআত শুনে বলেনঃ “ উভয়ের কিরআতই বিশুদ্ধ । হযরত উবাই ( রাঃ ) বলেনঃ আমি এ কথা শুনে এমন সন্দেহের মধ্যে পড়ে গেলাম যে, যেন অজ্ঞতার যুগের সন্দেহ আমার সামনে এসে গেল। রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) এ অবস্থা দেখে আমার বুকে হাত রাখলেন। আমার বুক ঘামে ভিজে গেল। আমার উপর এমন ভয় চাপলো যে, যেন আমি রাম্বুল আলামীন আল্লাহকে সামনে দেখতে পাচ্ছি। নবী করীম ( সঃ ) বললেনঃ “ শোনো, হযরত জিবরাঈল ( আঃ ) আমার সামনে এসেছিলেন । তিনি বললেনঃ “ উম্মতকে একই কিরআতে কুরআন শিক্ষা দেয়ার জন্যে আল্লাহ তা'আলা নির্দেশ দিয়েছেন।' আমি বললামঃ আমি আল্লাহ্ তা'আলার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং মাগফিরাত কামনা করছি। অতঃপর আমাকে দু'প্রকারের কিরআতের অনুমতি প্রদান করা হলো। কিন্তু আমি আরো বাড়ানোর আবেদন জানালাম। অবশেষে সাত প্রকারের কিরআত পাঠের অনুমতি দেয়া হলো।” অতঃপর এ সূরা নাযিল হলো এবং এতে রয়েছেঃ ( আরবি ) নবী করীম ( সঃ ) মানসিক দৃঢ়তার শিক্ষা দান এবং সতর্ককরণের উদ্দেশ্যে হযরত উবাই ( রাঃ )-কে এ সূরাটি তিলাওয়াত করে শুনিয়ে দেন। কেউ যেন এটা মনে না করে যে, শিখবার ও মনে রাখবার উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ( সঃ ) হযরত উবাই ( রাঃ )-এর সামনে এ সূরাটি তিলাওয়াত করেছিলেন। এসব ব্যাপারে আল্লাহ্ তা'আলাই সবচেয়ে ভাল জানেন।রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) একাধিক কিরআতের মাধ্যমে কুরআন কারীম পাঠ করায় হযরত উবাই ( রাঃ )-এর মনে যে সন্দেহের উদ্রেক হয়েছিল তা নিরসন কল্পেই রাসূলুল্লাহ( সঃ ) এই সূরাটি হযরত উবাই ( রাঃ )-কে পাঠ করে শোনান। হযরত উমর ( রাঃ )-এর ঘটনাও একই ধরনের। তিনি হুদাইবিয়ার সন্ধির বছরে সন্ধির ব্যাপারে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে রাসূলুল্লাহ( সঃ )-এর কাছে নানা প্রশ্ন উত্থাপন করেছিলেন। তার মধ্যে একটি প্রশ্ন ছিলঃ “ হে আল্লাহর রাসূল ( সঃ )! আপনি কি বলেননি যে, আমরা কা'বা শরীফে যাবো এবং তাওয়াফ করবো?” উত্তরে রাসূলুল্লাহ( সঃ ) বলেনঃ “হ্যা, তা বলেছিলাম বটে, কিন্তু এটা তো বলিনি যে এ বছরই এটা হবে? নিঃসন্দেহে সে সময় আসছে যখন তুমি সেখানে পৌছবে ও তাওয়াফ করবে ।” হুদাইবিয়া হতে ফিরবার পথে সূরা ফাতহ নাযিল হওয়ার পর রাসূলুল্লাহ( সঃ ) হযরত উমর ( রাঃ )-কে ডেকে সূরাটি পড়ে শোনালেন। তাতে নিম্নের আয়াতটিও ছিলঃ ( আরবি ) অর্থাৎ “ নিশ্চয়ই আল্লাহ তার রাসূল ( সঃ )-এর স্বপ্ন বাস্তবায়িত করেছেন, আল্লাহর ইচ্ছায় তোমরা অবশ্যই মসজিদুল হারামে প্রবেশ করবে নিরাপদে ।( ৪৮:২৭ ) হাফিয আবু নাঈম ( রাঃ ) তাঁর ( আরবি ) নামক গ্রন্থে একটি হাদীস সংযোজন করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) বলেনঃ আল্লাহ তা'আলা ( আরবি ) এ সূরাটির কিরআত শুনে বলেনঃ “হে আমার বান্দা! তুমি খুশী হয়ে যাও, আমার মর্যাদার শপথ! তোমাকে জান্নাতে এমন বাসস্থান দিবো যে, তুমি আনন্দে আত্মহারা হয়ে যাবে । ( এ হাদীসটি উসূলে হাদীসের পরিভাষায় নিতান্ত গারীব বা দুর্বল )হযরত মাতার আলমুযানী অথবা মাদানী ( রাঃ ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী ( সঃ ) বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলা ( আরবি ) এ সূরাটির কিরআত শুনে । বলেনঃ আমি তোমাকে দুনিয়া ও আখিরাতে কোন অবস্থাতেই বিস্মৃত হবো না এবং তোমাকে জান্নাতে এমন বাসস্থান দান করবো যাতে তুমি সন্তুষ্ট হয়ে যাবে।” ( আবু মূসা আলমাদানী (রঃ ) এবং ইবনুল আমীর ( রঃ ) এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন)১-৫ নং আয়াতের তাফসীরআহলে কিতাব দ্বারা ইয়াহুদী ও নাসারাদেরকে বুঝানো হয়েছে। আর মুশরিকীন দ্বারা বুঝানো হয়েছে মূর্তি পূজক আরব এবং অগ্নিপূজক অনারবদেরকে। আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ তারা প্রত্যাবর্তনকারী ছিল না যে পর্যন্ত তাদের সামনে সুস্পষ্ট প্রমাণ উপস্থিত হয়।আল্লাহর কোন একজন রাসূল যিনি পবিত্র গ্রন্থ পাঠ করে শুনিয়ে দেন, যাতে আছে সঠিক বিধান, এর দ্বারা কুরআন কারীমের কথা বুঝানো হয়েছে। যেমন অন্য জায়গায় রয়েছেঃ ( আরবি )অর্থাৎ “ ওটা আছে মহান লিপিসমূহে, যা উন্নত মর্যাদা সম্পন্ন, পবিত্র, মহান, পূতঃচরিত্র লিপিকর হস্তে লিপিবদ্ধ ।( ৮০:১৩-১৬ )সঠিক বিষয়সমূহ লিপিবদ্ধকরণের ক্ষেত্রে কোন প্রকার ভুল-ভ্রান্তি হয়নি।হযরত কাতাদা ( রঃ ) বলেন যে, নবী করীম ( সঃ ) উত্তমভাবে কুরআনের ওয়ায করেন এবং কুরআনের সুন্দর ব্যাখ্যা দেন। ইবনে যায়েদ ( রঃ ) বলেন যে, এ সব সহীফায় সত্য ন্যায়ের কথা সম্বলিত বিষয়সমূহ রয়েছে।এরপর আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ আর যাদেরকে কিতাব প্রদান করা হয়েছিল তাদের নিকট এই স্পষ্ট প্রমাণ উপস্থিত হওয়ার পরই তারা বিভক্ত হয়ে গেল। যেমন বিভিন্নভাবে বর্ণিত একটি হাদীসে রয়েছেঃ “ ইয়াহুদীরা একাত্তর ফিরকা বা সম্প্রদায়ে বিভক্ত হয়ে গেল, আর নাসারারা বা খ্রিস্টানরা বিভক্ত হলো বাহাত্তর ফিরকায় । এই উম্মতে মুহাম্মদী ( সঃ ) তিয়াত্তর ফিরকায় বিভক্ত। তার মধ্যে একটি মাত্র ফিরকা ছাড়া সবাই জাহান্নামে যাবে।" জনগণ জিজ্ঞেস করলেনঃ “ হে আল্লাহর রাসূল ( সঃ )! তারা কারা?" উত্তরে তিনি বললেনঃ “আমি এবং আমার সাহাবীগণ যে আদর্শের উপর রয়েছি ( এই আদর্শের উপর যারা প্রতিষ্ঠিত রয়েছে । )।”আল্লাহ তাআলা এরপর বলেনঃ অথচ তাদের প্রতি এই নির্দেশই ছিল যে, তারা আল্লাহর আনুগত্যে বিশুদ্ধ চিত্ত হয়ে একনিষ্ঠভাবে ইবাদত করবে। যেমন আল্লাহ তা'আলা অন্য জায়গায় বলেনঃ ( আরবি ) অর্থাৎ “ তোমার পূর্বে আমি যতো রাসূল পাঠিয়েছি সবারই কাছে এই অহী করেছি যে, আমি ছাড়া কোন মাবুদ নেই, সুতরাং তোমরা আমারই ইবাদত করো ।" ( ২১:২৫ ) এখানেও আল্লাহ পাক বলেনঃ একনিষ্ঠ হয়ে অর্থাৎ শিরক হতে দূরে থেকে এবং তাওহীদ বা একত্ববাদে লিপ্ত হওয়ার মাধ্যমে ইবাদত করো। যেমন অন্যত্র বলেনঃ ( আরবি ) অর্থাৎ “ আমি প্রত্যেক উম্মতের মধ্যে রাসূল পাঠিয়েছি । ( সেই কথা বলার জন্যে যে, তোমরা আল্লাহরই ইবাদত করো এবং তাগূত হতে দূরে থাকো।” (১৬:৩৬ )এরপর আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা বলেনঃ “ তারা নামায কায়েম করবে ও যাকাত দিবে, এটাই সঠিক দ্বীন ।' যাকাত দিবে এর অর্থ এই যে, ফকীর মিসকীন এবং অভাবগ্রস্তদের সাথে সদ্ব্যবহার করবে। এই দ্বীন অর্থাৎ ইসলাম মযবূত, সরল, সহজ এবং কল্যাণধর্মী। বহু সংখ্যক ইমাম যেমন ইমাম যুহরী ( রঃ ), ইমাম শাফিয়ী ( রঃ ) প্রমুখ এ আয়াত থেকে প্রমাণ পেশ করেছেন যে, আমল ঈমানের অন্তর্ভুক্ত। কেননা, এই আয়াতের সরলতা ও আন্তরিকতার সাথে আল্লাহর ইবাদত, নামায আদায় ও যাকাত প্রদানকেই দ্বীন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূরা বায়্যিনাহ আয়াত 1 সূরা

لم يكن الذين كفروا من أهل الكتاب والمشركين منفكين حتى تأتيهم البينة

سورة: البينة - آية: ( 1 )  - جزء: ( 30 )  -  صفحة: ( 598 )


English Türkçe Indonesia
Русский Français فارسی
تفسير Urdu اعراب

বাংলায় পবিত্র কুরআনের আয়াত

  1. এবং যাদেরকে তাদের পালনকর্তার আয়াতসমূহ বোঝানো হলে তাতে অন্ধ ও বধির সদৃশ আচরণ করে না।
  2. তাদেরকে তো শ্রবণের জায়গা থেকে দূরে রাখা রয়েছে।
  3. এবং একদল পরবর্তীদের মধ্য থেকে।
  4. বলুনঃ ‘হে আহলে-কিতাবগণ! একটি বিষয়ের দিকে আস-যা আমাদের মধ্যে ও তোমাদের মধ্যে সমান-যে, আমরা আল্লাহ
  5. যখন যাদুকররা আগমণ করল, তখন ফেরআউনকে বলল, যদি আমরা বিজয়ী হই, তবে আমরা পুরস্কার পাব
  6. আপনার মনোনীত বান্দাদের ব্যতীত।
  7. আর কেউ যখন তাদের নিকট আমার আয়াতসমূহ পাঠ করে তবে বলে, আমরা শুনেছি, ইচ্ছা করলে
  8. বললেন তুই এখান থেকে যা। এখানে অহংকার করার কোন অধিকার তোর নাই। অতএব তুই বের
  9. তোমরা জেনে রাখ তোমাদের মধ্যে আল্লাহর রসূল রয়েছেন। তিনি যদি অনেক বিষয়ে তোমাদের আবদার মেনে
  10. তারা আল্লাহর জন্যে কন্যা সন্তান নির্ধারণ করে-তিনি পবিত্র মহিমান্বিত এবং নিজেদের জন্যে ওরা তাই স্থির

বাংলায় কোরআনের সূরা পড়ুন :

সুরত আল বাক্বারাহ্ আলে ইমরান সুরত আন-নিসা
সুরত আল-মায়েদাহ্ সুরত ইউসুফ সুরত ইব্রাহীম
সুরত আল-হিজর সুরত আল-কাহফ সুরত মারইয়াম
সুরত আল-হাজ্জ সুরত আল-ক্বাসাস আল-‘আনকাবূত
সুরত আস-সাজদা সুরত ইয়াসীন সুরত আদ-দুখান
সুরত আল-ফাতহ সুরত আল-হুজুরাত সুরত ক্বাফ
সুরত আন-নাজম সুরত আর-রাহমান সুরত আল-ওয়াক্বি‘আহ
সুরত আল-হাশর সুরত আল-মুলক সুরত আল-হাক্কাহ্
সুরত আল-ইনশিক্বাক সুরত আল-আ‘লা সুরত আল-গাশিয়াহ্

সবচেয়ে বিখ্যাত কোরআন তেলাওয়াতকারীদের কণ্ঠে সূরা বায়্যিনাহ ডাউনলোড করুন:

সূরা Bayyinah mp3 : উচ্চ মানের সাথে সম্পূর্ণ অধ্যায়টি Bayyinah শুনতে এবং ডাউনলোড করতে আবৃত্তিকারকে বেছে নিন
সুরত বায়্যিনাহ  ভয়েস আহমেদ আল-আজমি
আহমেদ আল-আজমি
সুরত বায়্যিনাহ  ভয়েস ইব্রাহীম আল-আখদার
ইব্রাহীম আল-আখদার
সুরত বায়্যিনাহ  ভয়েস বান্দার বেলাইলা
বান্দার বেলাইলা
সুরত বায়্যিনাহ  ভয়েস খালিদ গালিলি
খালিদ গালিলি
সুরত বায়্যিনাহ  ভয়েস হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
সুরত বায়্যিনাহ  ভয়েস খলিফা আল টুনাইজি
খলিফা আল টুনাইজি
সুরত বায়্যিনাহ  ভয়েস সাদ আল-গামদি
সাদ আল-গামদি
সুরত বায়্যিনাহ  ভয়েস সৌদ আল-শুরাইম
সৌদ আল-শুরাইম
সুরত বায়্যিনাহ  ভয়েস সালাহ আবু খাতর
সালাহ বুখাতীর
সুরত বায়্যিনাহ  ভয়েস আবদুল বাসিত আব্দুল সামাদ
আবদ এল বাসেট
সুরত বায়্যিনাহ  ভয়েস আবদুল রশিদ সুফি
আবদুল রশিদ সুফি
সুরত বায়্যিনাহ  ভয়েস আব্দুল্লাহ্ বাস্‌ফার
আব্দুল্লাহ্ বাস্‌ফার
সুরত বায়্যিনাহ  ভয়েস আবদুল্লাহ আওওয়াদ আল-জুহানী
আবদুল্লাহ আল-জুহানী
সুরত বায়্যিনাহ  ভয়েস আলী আল-হুদায়েফি
আলী আল-হুদায়েফি
সুরত বায়্যিনাহ  ভয়েস আলী জাবের
আলী জাবের
সুরত বায়্যিনাহ  ভয়েস ফারেস আব্বাদ
ফারেস আব্বাদ
সুরত বায়্যিনাহ  ভয়েস মাহের আলমাইকুলই
মাহের আলমাইকুলই
সুরত বায়্যিনাহ  ভয়েস মোহাম্মদ আইয়ুব
মোহাম্মদ আইয়ুব
সুরত বায়্যিনাহ  ভয়েস মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
সুরত বায়্যিনাহ  ভয়েস মুহাম্মাদ জিব্রীল
মুহাম্মাদ জিব্রীল
সুরত বায়্যিনাহ  ভয়েস মুহাম্মদ সিদ্দিক আল মিনশাবি
আল-মিনশাবি
সুরত বায়্যিনাহ  ভয়েস আল হোসারি
আল হোসারি
সুরত বায়্যিনাহ  ভয়েস আল-আফসী
মিশারী আল-আফসী
সুরত বায়্যিনাহ  ভয়েস নাসের আল কাতামি
নাসের আল কাতামি
সুরত বায়্যিনাহ  ভয়েস ইয়াসের আল-দোসারি
ইয়াসের আল-দোসারি


Friday, June 5, 2026

Please remember us in your sincere prayers