কোরান সূরা মুনাফিকুন আয়াত 10 তাফসীর

  1. Mokhtasar
  2. Ahsanul Bayan
  3. AbuBakr Zakaria
  4. Ibn Kathir
Surah Munafiqun ayat 10 Bangla tafsir - তাফসীর ইবনে কাসীর - Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান - Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স - বাংলা ভাষায় নোবেল কোরআনের অর্থের অনুবাদ উর্দু ভাষা ও ইংরেজি ভাষা & তাফসীর ইবনে কাসীর : সূরা মুনাফিকুন আয়াত 10 আরবি পাঠে(Munafiqun).
  
   

﴿وَأَنفِقُوا مِن مَّا رَزَقْنَاكُم مِّن قَبْلِ أَن يَأْتِيَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ فَيَقُولَ رَبِّ لَوْلَا أَخَّرْتَنِي إِلَىٰ أَجَلٍ قَرِيبٍ فَأَصَّدَّقَ وَأَكُن مِّنَ الصَّالِحِينَ﴾
[ المنافقون: 10]

আমি তোমাদেরকে যা দিয়েছি, তা থেকে মৃত্যু আসার আগেই ব্যয় কর। অন্যথায় সে বলবেঃ হে আমার পালনকর্তা, আমাকে আরও কিছুকাল অবকাশ দিলে না কেন? তাহলে আমি সদকা করতাম এবং সৎকর্মীদের অন্তর্ভুক্ত হতাম। [সূরা মুনাফিকুন: 10]

Surah Al-Munafiqun in Bangla

জহুরুল হক সূরা বাংলা Surah Munafiqun ayat 10


আর আমরা তোমাদের যা জীবনোপকরণ দিয়েছি তা থেকে তোমরা খরচ করো তোমাদের কোনো একজনের কাছে মৃত্যু এসে পড়ার আগেই, পাছে তাকে বলতে হয় -- ''আমার প্রভু! কেন তুমি আমাকে এক আসন্নকাল পর্যন্ত অবকাশ দাও নি, তাহলে তো আমি দান-খয়রাত করতাম এবং আমি সৎকর্মীদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারতাম।’’


Tafsir Mokhtasar Bangla


১০. তোমরা আল্লাহ প্রদত্ত সম্পদ থেকে ব্যয় করো তোমাদের কারো নিকট মৃত্যু হাজির হওয়ার পূর্বে। যখন সে স্বীয় রবকে বলবে: হে আমার প্রতিপালক! আপনি কেন আমার জন্য একটুখানি সময় পিছিয়ে দিলেন না। যাতে করে আমি নিজ সম্পদ থেকে আল্লাহর পথে দান করতাম এবং আল্লাহর সৎ বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হতাম। যাদের আমল সংশোধন হয়েছে।

Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান


আমি তোমাদেরকে যে রুযী দিয়েছি, তোমরা তা হতে ব্যয় কর[১] তোমাদের কারো মৃত্যু আসার পূর্বে ( অন্যথা মৃত্যু আসলে সে বলবে, ) ‘হে আমার প্রতিপালক! আমাকে আরো কিছু কালের জন্য অবকাশ দিলে না কেন? [২] তাহলে আমি সাদাকা করতাম এবং সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হতাম।’ [১] ব্যয় করার অর্থ, যাকাত আদায় করা এবং অন্যান্য কল্যাণকর পথে দান করা। [২] এ থেকে জানা গেল যে, যাকাত আদায়, আল্লাহর পথে ব্যয় এবং হজ্জ করার সামর্থ্য হলে তা সম্পাদন করার ব্যাপারে বিলম্ব করা কোনমতেই ঠিক নয়। কারণ, মৃত্যু কখন এসে পড়বে, তার কোন ঠিক নেই? ফলে এই ফরয কাজগুলো আদায় করতে না পারলে তার উপর তা অনাদায় রয়ে যাবে। আর মৃত্যুর সময় তা আদায়ের আশা করায় কোন লাভ হবে না।

Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স


আর আমরা তোমাদেরকে যে রিফিক দিয়েছি তোমরা তা থেকে ব্যয় করবে। তোমাদের কারও মৃত্যু আসার আগে। ( অন্যথায় মৃত্যু আসলে সে বলবে ) 'হে আমার রব ! আমাকে আরো কিছু কালের জন্য অবকাশ দিলে আমি সাদাকাহ দিতাম ও সৎকর্মপরায়ণদের অন্তর্ভুক্ত হতাম ! []’ [] এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করল, “ কোন সদকায় সর্বাধিক সওয়াব পাওয়া যায়? তিনি বললেনঃ “যে সদকা সুস্থ অবস্থায় এবং ভবিষ্যতের দিকে লক্ষ্য করে- অর্থ ব্যয় করে ফেললে নিজেই দরিদ্র হয়ে যাওয়ার আশংকা থাকা অবস্থায় করা হয় ।” তিনি আরও বললেনঃ আল্লাহর পথে ব্যয় করাকে সেই সময় পর্যন্ত বিলম্বিত করো না যখন আত্মা তোমার কণ্ঠনালীতে এসে যায় এবং তুমি মরতে থাক আর বলঃ এই পরিমাণ অর্থ অমুককে দিয়ে দাও, এই পরিমাণ অর্থ অমুক কাজে ব্যয় করা ।” [ বুখারী: ১৩৫৩, মুসলিম: ১০৩২, মুসনাদে আহমাদঃ ১/৩৯৬ ]

Tafsir ibn kathir bangla তাফসীর ইবনে কাসীর


৯-১১ নং আয়াতের তাফসীর আল্লাহ তা'আলা স্বীয় মুমিন বান্দাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, তারা যেন খুব বেশী বেশী করে আল্লাহর যিক্‌র করে এবং তাদেরকে সতর্ক করছেন যে, তারা যেন ধন-দৌলত ও সন্তান-সন্ততির প্রেমে পড়ে আল্লাহকে ভুলে না যায়। এরপর বলেনঃ যারা আল্লাহর স্মরণে উদাসীন হবে তারা হবে ক্ষতিগ্রস্ত।অতঃপর আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা তাঁর আনুগত্যের কাজে মাল খরচ করার নির্দেশ দিচ্ছেন যে, তারা যেন মৃত্যুর পূর্বেই তাদেরকে প্রদত্ত মাল হতে খরচ করে। মৃত্যুর সময়ের নিরুপায় অবস্থা দেখে মাল খরচ করতঃ শান্তি লাভের আশা করা বৃথা হবে। ঐ সময় তারা চাইবে যে, যদি অল্প সময়ের জন্যেও ছেড়ে দেয়া হতো তবে যা কিছু ভাল কাজ আছে সবই তারা করতো এবং মন খুলে আল্লাহর পথে দান-খয়রাত করতো। কিন্তু তখন সময় কোথায়? যে বিপদ আসার তা এসেই গেছে। এটা কখনো টলবার নয়। বিপদ মাথার উপর এসেই পড়েছে। অন্য জায়গায় রয়েছেঃ ( আরবি )অর্থাৎ “ যেদিন তাদের শাস্তি আসবে সেই দিন সম্পর্কে তুমি মানুষকে সতর্ক কর, তখন যালিমরা বলবেঃ হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে কিছু কালের জন্যে অবকাশ দিন, আমরা আপনার আহ্বানে সাড়া দিবো এবং রাসূলদেরকে অনুসরণ করবো! তোমরা কি পূর্বে শপথ করে বলতে না যে, তোমাদের পতন নেই?" ( ১৪:৪৪ ) আল্লাহ তা'আলা আর এক জায়গায় বলেনঃ ( আরবি )অর্থাৎ “শেষ পর্যন্ত তাদের কারো যখন মৃত্যু এসে যাবে তখন বলবে- হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ফিরিয়ে দিন, যেন আমি ভাল কাজ করতে পারি যা আমি ছেড়ে দিয়েছিলাম, কখনো নয় ।( ২৩:৯৯-১০০ )এখানে মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ নির্ধারিত সময়কাল যখন উপস্থিত হয়ে যাবে, আল্লাহ কখনো কাউকেও অবকাশ দিবেন না। তোমরা যা কর আল্লাহ সে সম্পর্কে সবিশেষ অবহিত। এ লোকগুলোকে যদি ফিরিয়ে দেয়া হয় তবে এসব কথা তারা ভুলে যাবে এবং পূর্বে যে কাজ করতো পুনরায় ঐ কাজই করতে থাকবে। হযরত ইবনে আব্বাস ( রাঃ ) বলেনঃ “ ঐ মালদার ব্যক্তি যে হজ্ব করেনি ও যাকাত দেয়নি সে মৃত্যুর সময় দুনিয়ায় ফিরে আসার আকাঙ্ক্ষা করবে ।" একটি লোক তখন বললোঃ “ জনাব! আল্লাহকে ভয় করুন । দুনিয়ায় ফিরে আসার আকাক্ষা তো করবে কাফির।” তখন তিনি বললেনঃ “ তাড়াতাড়ি করছো কেন? আমি তোমাকে কুরআন থেকে এটা পাঠ করে শুনাচ্ছি ।” অতঃপর তিনি ( আরবি ) হতে পূর্ণ রুকূটি পাঠ করে শুনালেন। লোকটি জিজ্ঞেস করলোঃ “ কি পরিমাণ সম্পদে যাকাত ওয়াজিব হয়?” জবাবে তিনি বলেনঃ “দুই শত এবং এর চেয়ে বেশী হলে ।” সে প্রশ্ন করলোঃ “ হজ্ব কখন ফরয হয়?” তিনি উত্তর দিলেনঃ “যখন পথ খরচ ও সওয়ারীর শক্তি থাকে । একটি মারফূ’ রিওয়াইয়াতেও অনুরূপ বর্ণিত আছে। কিন্তু এর মাওকুফটাই সঠিকতর। হযরত ইবনে আব্বাস ( রাঃ ) হতে বর্ণিত হযরত যহ্‌হাক ( রঃ )-এর রিওয়াইয়াতে ইনকিতা' রয়েছে। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলাই সবচেয়ে ভাল জানেন।মুসনাদে ইবনে আবি হাতিমে হযরত আবূ দারদা ( রাঃ ) হতে বর্ণিত আছে। যে, একদা সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ ( সঃ )-এর সামনে বেশী বয়সের আলোচনা করেন। তখন তিনি বলেনঃ “ নির্ধারিত কাল যখন উপস্থিত হবে, আল্লাহ কখনো অবকাশ দিবেন না । বয়সের আধিক্য এই ভাবে হয় যে, আল্লাহ তা’আলা কোন বান্দাকে সুসন্তান দান করেন এবং ঐ সন্তানরা তাদের পিতার মৃত্যুর পর তার জন্যে দু'আ করতে থাকে। ঐ দু'আ তার কবরে পৌঁছে থাকে।”

সূরা মুনাফিকুন আয়াত 10 সূরা

وأنفقوا من ما رزقناكم من قبل أن يأتي أحدكم الموت فيقول رب لولا أخرتني إلى أجل قريب فأصدق وأكن من الصالحين

سورة: المنافقون - آية: ( 10 )  - جزء: ( 28 )  -  صفحة: ( 555 )


English Türkçe Indonesia
Русский Français فارسی
تفسير Urdu اعراب

বাংলায় পবিত্র কুরআনের আয়াত

  1. এ কোরআন এমন গ্রন্থ, যা আমি অবতীর্ন করেছি; বরকতময়, পূর্ববর্তী গ্রন্থের সত্যতা প্রমাণকারী এবং যাতে
  2. বলুন, আমি তো একজন সতর্ককারী মাত্র এবং এক পরাক্রমশালী আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই।
  3. আর যখন তাদের প্রতি নির্দেশ হল যে, তোমরা এ নগরীতে বসবাস কর এবং খাও তা
  4. যিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের ক্ষমতার মালিক, আল্লাহর সামনে রয়েছে সবকিছু।
  5. আমি চাই যে, আমার পাপ ও তোমার পাপ তুমি নিজের মাথায় চাপিয়ে নাও। অতঃপর তুমি
  6. তিনিই কাজে লাগিয়ে দিয়েছেন সমুদ্রকে, যাতে তা থেকে তোমরা তাজা মাংস খেতে পার এবং তা
  7. তারা সেখানে সালাম ব্যতীত কোন অসার কথাবার্তা শুনবে না এবং সেখানে সকাল-সন্ধ্যা তাদের জন্যে রুযী
  8. আর দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছেন এমরান-তনয়া মরিয়মের, যে তার সতীত্ব বজায় রেখেছিল। অতঃপর আমি তার মধ্যে
  9. তোমাদেরকে এ নির্দেশ দিয়েছেন, যেন তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর। নিশ্চিত এটি আমার সরল পথ। অতএব,
  10. আল্লাহর নেয়ামত ও অনুগ্রহের জন্যে তারা আনন্দ প্রকাশ করে এবং তা এভাবে যে, আল্লাহ, ঈমানদারদের

বাংলায় কোরআনের সূরা পড়ুন :

সুরত আল বাক্বারাহ্ আলে ইমরান সুরত আন-নিসা
সুরত আল-মায়েদাহ্ সুরত ইউসুফ সুরত ইব্রাহীম
সুরত আল-হিজর সুরত আল-কাহফ সুরত মারইয়াম
সুরত আল-হাজ্জ সুরত আল-ক্বাসাস আল-‘আনকাবূত
সুরত আস-সাজদা সুরত ইয়াসীন সুরত আদ-দুখান
সুরত আল-ফাতহ সুরত আল-হুজুরাত সুরত ক্বাফ
সুরত আন-নাজম সুরত আর-রাহমান সুরত আল-ওয়াক্বি‘আহ
সুরত আল-হাশর সুরত আল-মুলক সুরত আল-হাক্কাহ্
সুরত আল-ইনশিক্বাক সুরত আল-আ‘লা সুরত আল-গাশিয়াহ্

সবচেয়ে বিখ্যাত কোরআন তেলাওয়াতকারীদের কণ্ঠে সূরা মুনাফিকুন ডাউনলোড করুন:

সূরা Munafiqun mp3 : উচ্চ মানের সাথে সম্পূর্ণ অধ্যায়টি Munafiqun শুনতে এবং ডাউনলোড করতে আবৃত্তিকারকে বেছে নিন
সুরত মুনাফিকুন  ভয়েস আহমেদ আল-আজমি
আহমেদ আল-আজমি
সুরত মুনাফিকুন  ভয়েস ইব্রাহীম আল-আখদার
ইব্রাহীম আল-আখদার
সুরত মুনাফিকুন  ভয়েস বান্দার বেলাইলা
বান্দার বেলাইলা
সুরত মুনাফিকুন  ভয়েস খালিদ গালিলি
খালিদ গালিলি
সুরত মুনাফিকুন  ভয়েস হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
সুরত মুনাফিকুন  ভয়েস খলিফা আল টুনাইজি
খলিফা আল টুনাইজি
সুরত মুনাফিকুন  ভয়েস সাদ আল-গামদি
সাদ আল-গামদি
সুরত মুনাফিকুন  ভয়েস সৌদ আল-শুরাইম
সৌদ আল-শুরাইম
সুরত মুনাফিকুন  ভয়েস সালাহ আবু খাতর
সালাহ বুখাতীর
সুরত মুনাফিকুন  ভয়েস আবদুল বাসিত আব্দুল সামাদ
আবদ এল বাসেট
সুরত মুনাফিকুন  ভয়েস আবদুল রশিদ সুফি
আবদুল রশিদ সুফি
সুরত মুনাফিকুন  ভয়েস আব্দুল্লাহ্ বাস্‌ফার
আব্দুল্লাহ্ বাস্‌ফার
সুরত মুনাফিকুন  ভয়েস আবদুল্লাহ আওওয়াদ আল-জুহানী
আবদুল্লাহ আল-জুহানী
সুরত মুনাফিকুন  ভয়েস আলী আল-হুদায়েফি
আলী আল-হুদায়েফি
সুরত মুনাফিকুন  ভয়েস আলী জাবের
আলী জাবের
সুরত মুনাফিকুন  ভয়েস ফারেস আব্বাদ
ফারেস আব্বাদ
সুরত মুনাফিকুন  ভয়েস মাহের আলমাইকুলই
মাহের আলমাইকুলই
সুরত মুনাফিকুন  ভয়েস মোহাম্মদ আইয়ুব
মোহাম্মদ আইয়ুব
সুরত মুনাফিকুন  ভয়েস মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
সুরত মুনাফিকুন  ভয়েস মুহাম্মাদ জিব্রীল
মুহাম্মাদ জিব্রীল
সুরত মুনাফিকুন  ভয়েস মুহাম্মদ সিদ্দিক আল মিনশাবি
আল-মিনশাবি
সুরত মুনাফিকুন  ভয়েস আল হোসারি
আল হোসারি
সুরত মুনাফিকুন  ভয়েস আল-আফসী
মিশারী আল-আফসী
সুরত মুনাফিকুন  ভয়েস নাসের আল কাতামি
নাসের আল কাতামি
সুরত মুনাফিকুন  ভয়েস ইয়াসের আল-দোসারি
ইয়াসের আল-দোসারি


Wednesday, June 17, 2026

Please remember us in your sincere prayers