কোরান সূরা বুরুজ আয়াত 11 তাফসীর

  1. Mokhtasar
  2. Ahsanul Bayan
  3. AbuBakr Zakaria
  4. Ibn Kathir
Surah Buruj ayat 11 Bangla tafsir - তাফসীর ইবনে কাসীর - Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান - Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স - বাংলা ভাষায় নোবেল কোরআনের অর্থের অনুবাদ উর্দু ভাষা ও ইংরেজি ভাষা & তাফসীর ইবনে কাসীর : সূরা বুরুজ আয়াত 11 আরবি পাঠে(Buruj).
  
   

﴿إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَهُمْ جَنَّاتٌ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ ۚ ذَٰلِكَ الْفَوْزُ الْكَبِيرُ﴾
[ البروج: 11]

যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তাদের জন্যে আছে জান্নাত, যার তলদেশে প্রবাহিত হয় নির্ঝরিণীসমূহ। এটাই মহাসাফল্য। [সূরা বুরুজ: 11]

Surah Al-Burooj in Bangla

জহুরুল হক সূরা বাংলা Surah Buruj ayat 11


পক্ষান্তরে যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করছে তাদের জন্য রয়েছে বাগানসমূহ যাদের নিচে দিয়ে বয়ে চলেছে ঝরনারাজি। এটিইতো বিরাট সাফল্য।


Tafsir Mokhtasar Bangla


১১. নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর উপর ঈমান আনয়নপূর্বক সৎকাজ সম্পাদন করে তাদের জন্য রয়েছে এমন উদ্যানসমূহ যেগুলোর অট্টালিকা ও বৃক্ষরাজির তলদেশ দিয়ে প্রবাহিত হয় নদীনালা। বস্তুতঃ তাদের উদ্দেশ্যে আল্লাহর প্রস্তুতকৃত এ সেই মহা সফলতা যার সাথে অন্য কোন সফলতার তুলনা নেই।

Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান


যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তাদের জন্যই রয়েছে জান্নাত, যার নিম্নে নদীমালা প্রবাহিত; এটাই মহা সাফল্য।

Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স


নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত, যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত; এটাই মহাসাফল্য।

Tafsir ibn kathir bangla তাফসীর ইবনে কাসীর


১১-২২ নং আয়াতের তাফসীরআল্লাহ তা'আলা নিজ শত্রুদের পরিণাম বর্ণনা করার পর তার বন্ধুদের পরিণাম বর্ণনা করতে গিয়ে বলেনঃ তাদের জন্যে বেহেশত রয়েছে তার তলদেশে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত রয়েছে। তাদের মত সফলতা আর কে লাভ করতে পারে? এরপর আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ তোমার প্রতিপালকের মারা বা শাস্তি বড়ই কঠিন। তাঁর যে সব শত্রু তাঁর রাসূলদেরকে মিথ্যাবাদী বলে অপবাদ দেয় তাদেরকে তিনি ব্যাপক শক্তির সাথে পাকড়াও করবেন, যে পাকড়াও থেকে মুক্তির কোন পথ তারা খুঁজে পাবে না। তিনি বড়ই শক্তিশালী। তিনি যা চান তাই করেন। যা কিছু করার তাঁর ইচ্ছা হয় এক নিমেষের মধ্যে তা করে ফেলেন। তার কুদরত বা শক্তি এমনই যে, তিনি মানুষকে প্রথমে সৃষ্টি করেছেন, তারপর মৃত্যুমুখে পতিত করার পর পুনরায় জীবিত করবেন। পুনরায় জীবিত করার ব্যাপারে তাঁকে কেউ বাধা দিতে পারবে না, তাঁর সামনেও কেউ আসতে পারবে না।তিনি তাঁর বান্দাদের পাপ ক্ষমা করে থাকেন, তবে শর্ত হলো যে, তাদেরকে তার কাছে বিনীতভাবে তাওবা করতে হবে। তাহলে যত বড় পাপ বা অন্যায় হোক না কেন তিনি তা মার্জনা করে দিবেন।তিনি ক্ষমাশীল ও প্রেমময়। স্বীয় বান্দাদের প্রতি তিনি অত্যন্ত স্নেহশীল। তিনি আরশের মালিক, সেই আরশ সারা মাখলুকাত অপেক্ষা উচ্চতর এবং সকল মাখলুক তথা সৃষ্টির উপরে অবস্থিত।( আরবি ) শব্দের দুটি কিরআত রয়েছে। একটি কিরআতে মীম’ এর উপর যবর দিয়ে অর্থাৎ ( আরবি ) এবং অপর কিরআতের ‘মীম’ এর উপর পেশ দিয়ে অর্থাৎ ( আরবি ) রয়েছে( আরবি ) উচ্চারণ করলে তাতে আল্লাহর গুণ বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পাবে। আর উচ্চারণ করলে প্রকাশ পাবে আরশের গুণ বৈশিষ্ট্য। উভয় কিরআতই নির্ভুল ও বিশুদ্ধ।আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা যে কোন কাজ যখন ইচ্ছা করতে পারেন, করার ক্ষমতা রাখেন। শ্রেষ্ঠত্ব, সুবিচার এবং নৈপুণ্যের ভিত্তিতে কেউ তাকে বাধা দেয়ার বা তাকে কিছু জিজ্ঞেস করার ক্ষমতা রাখেন না।হযরত আবু বকর ( রাঃ ) যে রোগে মৃত্যুবরণ করেন ঐ রোগের সময় তাকে জিজ্ঞেস করা হয়ঃ “ চিকিৎসক আপনার চিকিৎসা করেছেন কি?” উত্তরে তিনি বলেনঃ “হ্যা, করেছেন । জনগণ তখন তাঁকে বললেনঃ “ চিকিৎসক আপনাকে ( রোগের ব্যাপারে ) কি বলেছেন?" তিনি জবাব দিলেনঃ “চিকিৎসক বলেছেনঃ ( আরবি ) অর্থাৎ “আমি যা ইচ্ছা করি তা-ই করে থাকি । এরপর আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ ( হে নবী (সঃ )! তোমার নিকট কি ফিরাউন ও সামুদের সৈন্যবাহিনীর বৃত্তান্ত পৌঁছেছে? এমন কেউ ছিল না যে সেই শাস্তি থেকে তাদেরকে রক্ষা করতে পারে, তাদেরকে সাহায্য করতে পারে বা শাস্তি প্রত্যাহার করাতে পারে। অর্থাৎ আল্লাহর পাকড়াও খুবই কঠিন। যখন তিনি কোন পাপী, অত্যাচারী, দুষ্কৃতিকারী ও দুবৃত্তকে পাকড়াও করেন তখন অত্যন্ত ভয়াবহভাবেই পাকড়াও করে থাকেন।মুসনাদে ইবনে আবী হাতিমে হযরত আমর ইবনে মায়মুন ( রাঃ ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী করিম ( সঃ ) কোথাও গমন করছিলেন এমন সময় তিনি শুনতে পান যে, একটি মহিলা। ( আরবি ) এ আয়াতটি পাঠ করছেন। তিনি তখন দাঁড়িয়ে গেলেন এবং কান লাগিয়ে শুনতে লাগলেন। অতঃপর বললেনঃ( আরবি ) অর্থাৎ হ্যাঁ এ খবর এসেছে।” আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ তবু কাফিররা মিথ্যা আরোপ করায় রত। অর্থাৎ তারা সন্দেহ, কুফরী এবং হঠকারিতায় রত রয়েছে।আর আল্লাহ তাদের অলক্ষ্যে তাদেরকে পরিবেষ্টন করে রয়েছেন। অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা তাদের উপর বিজয়ী ও শক্তিমান। তারা তাঁর নিকট হতে কোথাও আত্মগোপন করতে পারে না। অথবা তাকে পরাজিত করতে পারে না। কুরআন কারীম সম্মান ও কারামত সম্পন্ন। তা সংরক্ষিত ফলকে লিপিবদ্ধ রয়েছে। উচ্চমর্যাদা সম্পন্ন ফেরেশতাদের মধ্যে রয়েছে, কুরআন হ্রাস বৃদ্ধি হতে মুক্ত। এর মধ্যে কোন প্রকার পরিবর্তন পরিবর্ধন হবে না। হযরত আয়েশা ( রাঃ ) বলেন যে, এই লাওহে মাহফুয হযরত ইসরাফীল ( আঃ )-এর ললাটের উপর রয়েছে। আবদুর রহমান ইবনে সালমান ( রঃ ) বলেন যে, পৃথিবীতে যা কিছু হয়েছে, হচ্ছে এবং হবে তা সবই লাওহে মাহফুযে মওজুদ রয়েছে এবং লাওহে মাহফুয হযরত ইসরাফীল ( আঃ )-এর দু’চোখের সামনে বিদ্যমান রয়েছে। অনুমতি পাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তিনি তা দেখতে পারেন না। হযরত ইবনে আব্বাস ( রাঃ ) হতে বর্ণিত আছে যে, লাওহে মাহফুযের কেন্দ্রস্থলে লিখিত রয়েছেঃ আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই । তিনি এক, একক। তার দ্বীন ইসলাম, মুহাম্মদ ( সঃ ) তাঁর বান্দা ও রাসূল! যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ঈমান আনবে, তাঁর অঙ্গীকারসমূহকে সত্য বলে বিশ্বাস করবে এবং তাঁর রাসূলদের আনুগত্য করবে, তিনি তাকে জান্নাতে প্রবিষ্ট করবেন। এ লাওহে মাহফুয সাদা মুক্তা দিয়ে নির্মিত। এর দৈর্ঘ্য আসমান জমীনের মধ্যবর্তী স্থানের সমান। এর প্রস্থ মাশরিকও মাগরিবের মধ্যবর্তী জায়গার সমান। এর উভয় দিক মুক্তা এবং ইয়াকুত দ্বারা নির্মিত। এর কলম নূরের তৈরী। এর কালাম আরশের সাথে সম্পৃক্ত। এর মূল ফেরেশতাদের ক্রোড়ে অবস্থিত। মুকাতিল ( রঃ ) বলেন যে, এ কুরআন আরশের ডানদিকে বিদ্যমান। তিবরানীর ( রঃ ) হাদীসে হযরত ইবনে আব্বাস ( রাঃ )হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা লাওহে মাহফুজকে সাদা মুক্তা দ্বারা নির্মান করেছেন । এর পাতা লাল ইয়াকূতের এর কলম নূরের, এর মধ্যকার লিখাও নূরের আল্লাহ তাআলা প্রত্যহ তিনশ ষাটবার করে আরশকে দেখে থাকেন। তিনি সৃষ্টি করেন রিযক দেন, মৃত্যু ঘটান, জীবন দান করেন, সম্মান দেন, অপমানিত করেন এবং যা চান তাই করে থাকেন।

সূরা বুরুজ আয়াত 11 সূরা

إن الذين آمنوا وعملوا الصالحات لهم جنات تجري من تحتها الأنهار ذلك الفوز الكبير

سورة: البروج - آية: ( 11 )  - جزء: ( 30 )  -  صفحة: ( 590 )


English Türkçe Indonesia
Русский Français فارسی
تفسير Urdu اعراب

বাংলায় পবিত্র কুরআনের আয়াত

  1. তাদের পূর্বে নূহের সম্প্রদায়ও মিথ্যারোপ করেছিল। তারা মিথ্যারোপ করেছিল আমার বান্দা নূহের প্রতি এবং বলেছিলঃ
  2. তারা বলে, রহমান আল্লাহ ইচছা না করলে আমরা ওদের পূজা করতাম না। এ বিষয়ে তারা
  3. আপনি কি ধারণা করেন যে, গুহা ও গর্তের অধিবাসীরা আমার নিদর্শনাবলীর মধ্যে বিস্ময়কর ছিল ?
  4. আল্লাহর কসম, আমি আপনার পূর্বে বিভিন্ন সম্প্রদায়ে রাসূল প্রেরণ করেছি, অতঃপর শয়তান তাদেরকে কর্ম সমূহ
  5. তিনিই আল্লাহ, যিনি নভোমন্ডল ও ভুমন্ডল সৃজন করেছেন এবং আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করে অতঃপর
  6. এখন তারা বলবেঃ সবই আল্লাহর। বলুন, তবুও কি তোমরা চিন্তা কর না?
  7. এটা লিপিবদ্ধ খাতা।
  8. সে বলল, আপনার ইযযতের কসম, আমি অবশ্যই তাদের সবাইকে বিপথগামী করে দেব।
  9. আল্লাহ বললেনঃ এটা আমা পর্যন্ত সোজা পথ।
  10. এবং তিনিই মারেন ও বাঁচান,

বাংলায় কোরআনের সূরা পড়ুন :

সুরত আল বাক্বারাহ্ আলে ইমরান সুরত আন-নিসা
সুরত আল-মায়েদাহ্ সুরত ইউসুফ সুরত ইব্রাহীম
সুরত আল-হিজর সুরত আল-কাহফ সুরত মারইয়াম
সুরত আল-হাজ্জ সুরত আল-ক্বাসাস আল-‘আনকাবূত
সুরত আস-সাজদা সুরত ইয়াসীন সুরত আদ-দুখান
সুরত আল-ফাতহ সুরত আল-হুজুরাত সুরত ক্বাফ
সুরত আন-নাজম সুরত আর-রাহমান সুরত আল-ওয়াক্বি‘আহ
সুরত আল-হাশর সুরত আল-মুলক সুরত আল-হাক্কাহ্
সুরত আল-ইনশিক্বাক সুরত আল-আ‘লা সুরত আল-গাশিয়াহ্

সবচেয়ে বিখ্যাত কোরআন তেলাওয়াতকারীদের কণ্ঠে সূরা বুরুজ ডাউনলোড করুন:

সূরা Buruj mp3 : উচ্চ মানের সাথে সম্পূর্ণ অধ্যায়টি Buruj শুনতে এবং ডাউনলোড করতে আবৃত্তিকারকে বেছে নিন
সুরত বুরুজ  ভয়েস আহমেদ আল-আজমি
আহমেদ আল-আজমি
সুরত বুরুজ  ভয়েস ইব্রাহীম আল-আখদার
ইব্রাহীম আল-আখদার
সুরত বুরুজ  ভয়েস বান্দার বেলাইলা
বান্দার বেলাইলা
সুরত বুরুজ  ভয়েস খালিদ গালিলি
খালিদ গালিলি
সুরত বুরুজ  ভয়েস হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
সুরত বুরুজ  ভয়েস খলিফা আল টুনাইজি
খলিফা আল টুনাইজি
সুরত বুরুজ  ভয়েস সাদ আল-গামদি
সাদ আল-গামদি
সুরত বুরুজ  ভয়েস সৌদ আল-শুরাইম
সৌদ আল-শুরাইম
সুরত বুরুজ  ভয়েস সালাহ আবু খাতর
সালাহ বুখাতীর
সুরত বুরুজ  ভয়েস আবদুল বাসিত আব্দুল সামাদ
আবদ এল বাসেট
সুরত বুরুজ  ভয়েস আবদুল রশিদ সুফি
আবদুল রশিদ সুফি
সুরত বুরুজ  ভয়েস আব্দুল্লাহ্ বাস্‌ফার
আব্দুল্লাহ্ বাস্‌ফার
সুরত বুরুজ  ভয়েস আবদুল্লাহ আওওয়াদ আল-জুহানী
আবদুল্লাহ আল-জুহানী
সুরত বুরুজ  ভয়েস আলী আল-হুদায়েফি
আলী আল-হুদায়েফি
সুরত বুরুজ  ভয়েস আলী জাবের
আলী জাবের
সুরত বুরুজ  ভয়েস ফারেস আব্বাদ
ফারেস আব্বাদ
সুরত বুরুজ  ভয়েস মাহের আলমাইকুলই
মাহের আলমাইকুলই
সুরত বুরুজ  ভয়েস মোহাম্মদ আইয়ুব
মোহাম্মদ আইয়ুব
সুরত বুরুজ  ভয়েস মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
সুরত বুরুজ  ভয়েস মুহাম্মাদ জিব্রীল
মুহাম্মাদ জিব্রীল
সুরত বুরুজ  ভয়েস মুহাম্মদ সিদ্দিক আল মিনশাবি
আল-মিনশাবি
সুরত বুরুজ  ভয়েস আল হোসারি
আল হোসারি
সুরত বুরুজ  ভয়েস আল-আফসী
মিশারী আল-আফসী
সুরত বুরুজ  ভয়েস নাসের আল কাতামি
নাসের আল কাতামি
সুরত বুরুজ  ভয়েস ইয়াসের আল-দোসারি
ইয়াসের আল-দোসারি


Tuesday, June 9, 2026

Please remember us in your sincere prayers