কোরান সূরা মায়িদা আয়াত 114 তাফসীর

  1. Mokhtasar
  2. Ahsanul Bayan
  3. AbuBakr Zakaria
  4. Ibn Kathir
Surah Maidah ayat 114 Bangla tafsir - তাফসীর ইবনে কাসীর - Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান - Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স - বাংলা ভাষায় নোবেল কোরআনের অর্থের অনুবাদ উর্দু ভাষা ও ইংরেজি ভাষা & তাফসীর ইবনে কাসীর : সূরা মায়িদা আয়াত 114 আরবি পাঠে(Maidah).
  
   

﴿قَالَ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا أَنزِلْ عَلَيْنَا مَائِدَةً مِّنَ السَّمَاءِ تَكُونُ لَنَا عِيدًا لِّأَوَّلِنَا وَآخِرِنَا وَآيَةً مِّنكَ ۖ وَارْزُقْنَا وَأَنتَ خَيْرُ الرَّازِقِينَ﴾
[ المائدة: 114]

ঈসা ইবনে মরিয়ম বললেনঃ হে আল্লাহ আমাদের পালনকর্তা আমাদের প্রতি আকাশ থেকে খাদ্যভর্তি খাঞ্চা অবতরণ করুন। তা আমাদের জন্যে অর্থাৎ, আমাদের প্রথম ও পরবর্তী সবার জন্যে আনন্দোৎসব হবে এবং আপনার পক্ষ থেকে একটি নিদর্শন হবে। আপনি আমাদের রুযী দিন। আপনিই শ্রেষ্ট রুযীদাতা। [সূরা মায়িদা: 114]

Surah Al-Maidah in Bangla

জহুরুল হক সূরা বাংলা Surah Maidah ayat 114


মরিয়ম-পুত্র ঈসা বললেন -- ''হে আল্লাহ্‌! আমাদের প্রভু! আমাদের জন্য আকাশ থেকে খাদ্য-পরিপূর্ণ খাঞ্চা প্রেরণ করো, যা হবে আমাদের জন্য এক ঈদ, -- আমাদের অগ্রগামীদের জন্য ও পশ্চাদগামীদের জন্য, আর তোমার কাছ থেকে একটি নিদর্শন, আর আমাদের রিযেক দান করো, কেননা তুমিই রিযেকদাতাদের সর্বোত্তম।’’


Tafsir Mokhtasar Bangla


১১৪. ‘ঈসা ( আলাইহিস-সালাম ) তাদের আবেদনে সাড়া দিয়ে আল্লাহকে ডেকে বললেন: হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদের উপর খাঞ্চাভর্তি খাদ্য নাযিল করুন। সে দিনকে আমরা ঈদ হিসেবে গ্রহণ করে আপনার কৃতজ্ঞতার্থে তাকে আমরা সম্মান করবো। উপরন্তু তা হবে আপনার একক সত্তা ও আমার প্রেরিত বিষয়ের সত্যতার প্রমাণ ও আলামত। আপনার ইবাদাতের সহযোগী হবে আপনি আমাদেরকে এমন রিযিক দিন। হে প্রতিপালক! আপনিই সর্বোত্তম রিযিকদাতা।

Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান


মারয়্যাম-তনয় ঈসা বলল, ‘হে আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ! আমাদের জন্য আকাশ থেকে খাদ্যপূর্ণ খাঞ্চা প্রেরণ কর, এ হবে আমাদের ও আমাদের সকলের জন্য তোমার নিকট থেকে নিদর্শন এবং আনন্দোৎসব স্বরূপ।[১] আর আমাদেরকে জীবিকা দান কর। তুমিই তো শ্রেষ্ঠ জীবিকাদাতা।’ [১] ইসলামী শরীয়তে ঈদের উদ্দেশ্য এ নয় যে, এটি জাতীয় পরবের একটি দিন। যাতে যাবতীয় নৈতিক বন্ধন ও শরয়ী বাধা-নিষেধকে উল্লংঘন করে উচ্ছৃঙ্খলভাবে আনন্দ ও উল্লাস প্রকাশ করা হবে, ঘর-বাহির আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হবে এবং নানা অনুষ্ঠান উদযাপন করা হবে; যেমন আজকাল এই ধরনেরই কিছু বুঝে মহা উদ্দীপনার সাথে ঈদের পর্ব পালন করা হয়ে থাকে। বরং আসমানী শরীয়তসমূহে ঈদের মর্যাদা একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান ছাড়া অন্য কিছু নয়। যার আসল উদ্দেশ্য এই হয় যে, সেদিন জাতির সকল মানুষ জামাআতবদ্ধভাবে মহান আল্লাহর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করবে, সকলে ( একাকী ) তাকবীর ও তাহমীদের আওয়াজ উঁচু করবে। এখানেও ঈসা ( আঃ ) যে দিনকে ঈদ বানানোর আশা পোষণ করেছেন, তাতে তাঁর উদ্দেশ্য এই যে, আমরা ঐ ঈদে তোমার প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা করব, তাকবীর ও তাহমীদ পাঠ করব। পক্ষান্তরে কিছু বিদআতী এই 'ঈদে মায়েদাহ' দ্বারা 'ঈদে মীলাদ' ( জন্মদিন ) প্রমাণ করার প্রয়াস পেয়েছে। অথচ প্রথমতঃ এ ঘটনা আমাদের শরীয়তের নয়; বরং পূর্ববর্তী শরীয়তের, যাকে ইসলাম বহাল রাখতে চাইলে তার স্পষ্ট বিবৃতি থাকত। দ্বিতীয়তঃ নবীর মুখে 'ঈদ' বানানোর কামনা প্রকাশ করা হয়েছিল, আর নবীও আল্লাহর নির্দেশে শরয়ী বিধি-বিধান বর্ণনা করার জন্য অনুমতিপ্রাপ্ত হন। ( অর্থাৎ, ঈদ একটি শরয়ী বিধান। ) তৃতীয়তঃ ঈদের অর্থ ও উদ্দেশ্য তাই হয়, যা উপরে বর্ণনা করা হয়েছে। কিন্তু 'ঈদে মীলাদ' ( জন্মদিন )এ উপরোক্ত কোন কথাই পাওয়া যায় না। এই জন্য এই ঈদের বিদআত হওয়াতে কোন সন্দেহ থাকার কথা নয়। মুসলিমদের কেবল দুটিই ঈদ; যা ইসলামী শরীয়ত কর্তৃক অনুমোদিত; ঈদুল ফিতব্র ও ঈদুল আযহা। এ ছাড়া তৃতীয় কোন ঈদ নেই।

Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স


মারইয়াম-তনয় ‘ঈসা বললেন, ‘হে আল্লাহ্‌ আমাদের রব! আমাদের জন্য আসমান থেকে খাদ্যপূর্ণ খাঞ্চা পাঠান; এটা আমাদের ও আমাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তি সবার জন্য হবে আনন্দোৎসব স্বরুপ এবং আপনার কাছ থেকে নিদর্শন।আর আমাদের জীবিকা দান করুন; আপনিই তো শ্রেষ্ঠ জীবিকাদাতা।’

Tafsir ibn kathir bangla তাফসীর ইবনে কাসীর


১১২-১১৫ নং আয়াতের তাফসীর: এখানে ‘মায়িদাহ বা খাবারের খাঞ্চার বর্ণনা দেয়া হচ্ছে। এ জন্যই এ সূরার নাম ‘মায়িদাহ' রাখা হয়েছে। এখানেও আল্লাহ তা'আলা স্বীয় বান্দা ও রাসূল হযরত ঈসা ( আঃ )-এর উপর তার ইহসানের কথা প্রকাশ করেছেন। অর্থাৎ তিনি খাবারের খাঞ্চা অবতরণের জন্যে দুআ করেছিলেন, সেই দুআ মহান আল্লাহ কবুল করেছিলেন। এটাও ছিল হযরত ঈসা ( আঃ )-এর একটা মুজিযা এবং তাঁর নবুওয়াতের অকাট্য প্রমাণ। কোন কোন ইমাম বর্ণনা করেছেন যে, এ ঘটনা ই শীলে বর্ণিত হয়নি এবং একমাত্র মুসলমান ছাড়া খ্রীষ্টানেরাও এ সম্পর্কে অবহিত ছিল না, মুসলমানদের মাধ্যমেই তারা অবগত হয়েছে। আল্লাহ পাকের উক্তি ( আরবী ) অর্থাৎ যখন হযরত ঈসা ( আঃ )-এর অনুসারী হওয়ারীরা বলেছিল- “ হে ঈসা ( আঃ )! আপনার প্রভু কি আমাদের উপর আকাশ থেকে খাদ্যভর্তি খাঞ্চা অবতীর্ণ করতে পারেন?” এখানে অধিকাংশ কারী ( আরবী ) পড়েছেন ( অর্থাৎ আপনার প্রভু কি এতে সক্ষম? ) অন্যান্য কারীরা ( আরবী ) পড়েছেন ( অর্থাৎ আপনি কি এতে সক্ষম? ) ( আরবী ) খাদ্যপূর্ণ খাঞ্চাকে বলা হয় । কেউ কেউ বলেছেন যে, হযরত ঈসা ( আঃ )-এর সঙ্গীরা তাদের অভাব ও দারিদ্রের তাড়নায় এ কথা বলেছিল যে, আল্লাহ তাআলা যেন প্রত্যহ তাদের উপর আকাশ থেকে খানাভর্তি খাঞ্চা অবতীর্ণ করেন, যা খেয়ে তারা ইবাদতের শক্তি সঞ্চয় করতে পারে। তখন হযরত ঈসা ( আঃ ) তাদেরকে বলেছিলেনতোমরা যদি প্রকৃত মুমিন হয়ে থাক তবে আল্লাহকে ভয় কর এবং এরূপ প্রার্থনা করা থেকে বিরত হও। আহার্য চাওয়ার ব্যাপারে আল্লাহ পাকের উপর ভরসা। কর। হতে পারে যে, এ জিনিসই তোমাদের জন্যে ফিৎনা ফাসাদের কারণ হয়ে যাবে। তার এ কথা শুনে হাওয়ারীরা বলেছিল- “ আমরা মহান আল্লাহর মুখাপেক্ষী হয়ে পড়েছি । আমাদের খাওয়ার প্রয়োজন। আর আমরা যখন আকাশ হতে অবতারিত খাদ্যপূর্ণ খাঞ্চা দেখতে পাবো তখন আমাদের মনে পূর্ণ প্রশান্তি নেমে আসবে। ফলে আপনার প্রতি আমাদের ঈমান দৃঢ় হবে এবং আপনি যে আল্লাহর রাসূল এ ব্যাপারে আমাদের আর কোন সন্দেহই থাকবে না। আর আমরা নিজেরাই সাক্ষী হয়ে যাবো যে, এটা আল্লাহ পাকের পক্ষ থেকে একটা বড় নিদর্শন এবং আপনার নবুওয়াত ও সত্যতার স্পষ্ট দলীল।” তখন হযরত ঈসা ( আঃ ) আল্লাহ তা'আলার কাছে প্রার্থনা জানালেন- “ হে আল্লাহ! আমাদের উপর আকাশ হতে খাদ্যপূর্ণ খাঞ্চা অবতীর্ণ করুন! যেন ওটা আমাদের জন্যে অর্থাৎ যারা বর্তমানে বিদ্যমান রয়েছে এবং যারা পরে আসবে, সকলের জন্যেই আনন্দের বিষয় হয় ।” সুদ্দী ( রঃ ) বলেন যে, এর ভাবার্থ হচ্ছে- যেদিন ওটা অবতীর্ণ হবে সে দিনকে আমরা খুশীর দিন হিসাবে মর্যাদা দেবো এবং আমাদের পরবর্তী লোকেরাও ঐ দিনকে সম্মানিত দিন মনে করবে।' হযরত সুফইয়ান সাওরী ( রঃ ) বলেন যে, ( আরবী ) -এর ভাবার্থ হচ্ছে- ‘আমরা ঐ দিনে। নামায পড়বো।' কাতাদাহ ( রঃ ) বলেন যে, এর ভাবার্থ হচ্ছে আমাদের পরবর্তীদের জন্যে এ দিনটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে।' হযরত সালমান ফারসী ( রঃ ) বলেন যে, এ কথা দ্বারা হযরত ঈসা ( আঃ ) বুঝাতে চেয়েছিলেন- “ যেন ওটা আমাদের সবারই জন্যে একটা শিক্ষণীয় বিষয় হয়ে যায় এবং রিসালাতের সত্যতার জন্যে সুস্পষ্ট দলীল হতে পারে । আর হে আল্লাহ! যেন ওটা আপনার পূর্ণ ক্ষমতার এবং আমার প্রার্থনা ককূল হওয়ার দলীল হিসাবে প্রকাশ পায়, যাতে জনগণ আমার রিসালাতের সত্যতা স্বীকার করে নিতে পারে।” “ হে আল্লাহ! আপনার পক্ষ হতে আমাদের নিকট আমাদের কষ্ট ও পরিশ্রম ছাড়াই উত্তম খাদ্য প্রেরণ করুন, যেহেতু আপনি হচ্ছেন সর্বোত্তম আহার্য প্রদানকারী ।”তখন আল্লাহ তা'আলা বললেনঃ “ ঠিক আছে, আমি তোমাদের কাছে খাদ্যপূর্ণ খাঞ্চা প্রেরণ করছি । কিন্তু সাবধান! এর পরও যদি তোমার কওম কুফরী করে এবং অবাধ্যই থেকে যায় তবে আমি তাদেরকে এমন শাস্তি প্রদান করবো, যে শাস্তির স্বাদ বিশ্ববাসীর কেউই কখনও গ্রহণ করেনি বা করবেও না।”মহান আল্লাহ অন্য জায়গায় বলেছেন ( আরবী ) অর্থাৎ কিয়ামতের দিন ( ফেরেশতাদেরকে বলা হবে ) ফিরআউনের দলবলকে কঠিনতম শাস্তির মধ্যে প্রবিষ্ট কর।' ( ৪০৪ ৪৬ ) আর এক জায়গায় আল্লাহ পাক বলেছেন- ( আরবী ) অর্থাৎ “ নিশ্চয়ই মুনাফিকরা জাহান্নামের নিম্নতম গহ্বরে অবস্থান করবে । ( ৪:১৪৫ ) ইবনে জারীর ( রঃ ) বলেন যে, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ( রাঃ ) বলেছেন- “ কিয়ামতের দিন তিন প্রকারের লোককে কঠিনতম শাস্তি প্রদান করা হবে । ( ১ ) মুনাফিক, ( ২ ) খাদ্যপূর্ণ খাঞ্চা অবতীর্ণ হওয়ার পরও যারা কুফরী। করেছিল এবং ( ৩ ) ফিরআউনের দলবল।” হাওয়ারীদের উপর খাঞ্চা অবতীর্ণ হওয়া সম্পর্কে যে হাদীসগুলো বর্ণিত হয়েছে সেগুলো উল্লেখ করা হলোঃ আবু জাফর ইবনে জারীর ( রঃ ) হযরত ইবনে আব্বাস ( রাঃ ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, হযরত ঈসা ( আঃ ) বানী ইসরাঈলকে বললেনঃ “ তোমরা কি ত্রিশদিন রোযা রাখতে পার? অতঃপর তোমরা আল্লাহ তাআলার নিকট খাঞ্চার জন্যে প্রার্থনা করবে এবং তিনি তোমাদেরকে তা প্রদান করবেন । কেননা, আমলকারীকে মহান আল্লাহ তার আমলের প্রতিদান দিয়ে থাকেন। তারা তখন তাই করলো। অতঃপর তারা বললোঃ “ হে মঙ্গলের শিক্ষাদানকারী ঈসা ( আঃ )! আপনি বলে থাকেন যে, আমলকারীদেরকে আল্লাহ তা'আলা তাদের আমলের প্রতিদান অবশ্যই প্রদান করে থাকেন । আপনি আমাদেরকে ত্রিশটি রোযা রাখতে বলেছিলেন, আমরা তা রেখেছি। ত্রিশদিন আমরা কারও চাকরী করলে সে আমাদেরকে খেতে দেয় বা বেতন দেয়। তাহলে এখন কি আপনার প্রভু আমাদের উপর খাদ্যপূর্ণ খাঞ্চা অবতীর্ণ করবেন?” তখন হযরত ঈসা ( আঃ ) বললেনঃ “ তোমরা যদি মুমিন হয়ে থাক তবে আল্লাহকে ভয় কর ।' হাওয়ারীরা তখন বললোঃ ‘আমরা তো শুধু আমাদের মনের প্রশান্তি চাচ্ছি এবং নিজেরা বিশ্বাস করে অন্যদের সামনেও সাক্ষী হয়ে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করছি।' মোটকথা, শেষ পর্যন্ত আকাশ থেকে খাদ্যের খাঞ্চা অবতীর্ণ হলো, যাতে সাতটি মাছ ও সাতটি রুটি ছিল। খাঞ্চাটি তাদের সামনে এসে থেমে গেলো। প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সমস্ত লোকই তা খেলো। ইবনে জারীর ( রঃ ) এরূপ বর্ণনা করেছেন। অনুরূপ বর্ণনা ইবনে আবি হাতিম ( রঃ ) থেকেও বর্ণিত আছে। তিনি হযরত ইবনে আব্বাস ( রাঃ ) হতে বর্ণনা করেন যে, হাওয়ারীরা হযরত ঈসা ইবনে মারইয়াম ( আঃ )-কে বললোঃ আপনি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করুন, তিনি যেন আমাদের উপর আকাশ থেকে খাদ্যপূর্ণ খাঞ্চা অবতীর্ণ করেন। হযরত ইবনে আব্বাস ( রাঃ ) বলেন যে, তখন ফেরেশতাগণ মায়িদাহ্ বা খাঞ্চা নিয়ে অবতীর্ণ হন। ঐ খাঞ্চায় সাতটি মাছ ও সাতটি রুটি ছিল। খাঞ্চাটি তারা তাদের সামনে রেখে দেন। তা থেকে তাদের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সমস্ত লোকই ভক্ষণ করে।ইবনে আবি হাতিম ( রঃ ) হযরত আম্মার ইবনে ইয়াসির ( রাঃ ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, নবী ( সঃ ) বলেছেন- “ যে মায়েদাহ বা খাঞ্চাটি আকাশ থেকে অবতীর্ণ হয়েছিল তাতে রুটি ও গোশত ছিল । তাদের উপর নির্দেশ ছিল যে, তারা যেন খিয়ানত না করে এবং পরবর্তী দিনের জন্যে উঠিয়ে না রাখে। কিন্তু তারা খিয়ানত করেছিল এবং জমা করে রেখেছিল। ফলে তাদের আকৃতি বিকৃত করে দিয়ে তাদেরকে বানর ও শূকরে পরিণত করা হয়েছিল।” মায়িদাহ্ সম্পৰ্কীয় যতগুলো হাদীস বর্ণিত রয়েছে, সবগুলো দ্বারাই প্রমাণিত হচ্ছে যে, উক্ত মায়িদাহ বা খানাভর্তি খাঞ্চা হযরত ঈসা ( আঃ )-এর যুগের বানী ইসরাঈলের উপর অবতীর্ণ হয়েছিল এবং ওটা ছিল আল্লাহর নিকট তাঁর প্রার্থনার ফল। আর এটা আল্লাহ তাআলার ( আরবী ) -এ আয়াত দ্বারা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হচ্ছে।কোন কোন উক্তিকারী এটাও উক্তি করেছেন যে, খাঞ্চা অবতীর্ণ হয়নি। হযরত কাতাদা ( রঃ ) হতে বর্ণিত আছে যে, হযরত হাসান ( রঃ ) বলতেন- যখন তাদেরকে ( আরবী ) -এ কথা বলা হলো তখন তারা বললোঃ “ আমাদের এর প্রয়োজন নেই । ফলে তা আর অবতীর্ণ হলো না। কিন্তু জমহর উলামার মতে মায়িদাহ্ অবতীর্ণ হয়েছিল। ইবনে জারীরও ( রঃ ) এই মত পোষণ করেছেন। কেননা, মহান আল্লাহ( আরবী ) –এ উক্তি দ্বারা এটাই প্রমাণিত হচ্ছে। তার ওয়াদা এবং ওয়াঈদ সত্য। আর এটা সত্য বলে অনুমিতও হচ্ছে। আল্লাহ তা'আলাই সবচেয়ে ভাল জানেন। পূর্ববর্তী গুরুজন থেকে যেসব খবর’ ও ‘আসার’ বর্ণিত হয়েছে সেগুলো দ্বারাও এটাই প্রমাণিত হয়। ইমাম আহমাদ ( রঃ ) হযরত ইবনে আব্বাস ( রাঃ ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, কুরাইশরা নবী ( সঃ )-কে বললোঃ আপনি আপনার প্রভুর নিকট প্রার্থনা করুন, তিনি যেন আমাদের জন্যে সাফা পর্বতকে সোনা বানিয়ে দেন, তাহলে আমরা আপনার উপর বিশ্বাস স্থাপন করবো। তিনি বললেনঃ ‘সত্যি তোমরা ঈমান। আনবে তো?' তারা উত্তরে বললোঃ হঁ্যা। বর্ণনাকারী বলেন যে, নবী ( সঃ ) তখন আল্লাহ তাআলার নিকট প্রার্থনা জানালেন। ইতিমধ্যে তাঁর নিকট হযরত জিবরাঈল ( আঃ ) এসে পড়লেন- “ তুমি যদি চাও তবে সকালেই সাফা পর্বত সোনায় পরিণত হয়ে যাবে । কিন্তু এর পরও তারা ঈমান না আনলে আমি তাদেরকে এমন শাস্তি প্রদান করবো যে শাস্তি আমি বিশ্ববাসীর আর কাউকে প্রদান করবো না। আর যদি তুমি চাও যে, আমি তাদের তাওবা কবুল করতঃ তাদের উপর করুণা বর্ষণ করি, তবে আমি তাই করবো।” তখন নবী ( সঃ ) বললেনঃ হে আমার প্রভু! আমি আপনার নিকট তাওবার কবুলিয়ত ও করুণাই কামনা করি।

সূরা মায়িদা আয়াত 114 সূরা

قال عيسى ابن مريم اللهم ربنا أنـزل علينا مائدة من السماء تكون لنا عيدا لأولنا وآخرنا وآية منك وارزقنا وأنت خير الرازقين

سورة: المائدة - آية: ( 114 )  - جزء: ( 7 )  -  صفحة: ( 127 )


English Türkçe Indonesia
Русский Français فارسی
تفسير Urdu اعراب

বাংলায় পবিত্র কুরআনের আয়াত

  1. অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে?
  2. আপনি আল্লাহর সাথে অন্য উপাস্যকে আহবান করবেন না। তিনি ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নেই। আল্লাহর
  3. তারা বলল, হে যাদুকর, তুমি আমাদের জন্যে তোমার পালনকর্তার কাছে সে বিষয় প্রার্থনা কর, যার
  4. এমনি ভাবে আমি নিদর্শনাবলী ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে বর্ণনা করি যাতে তারা না বলে যে, আপনি তো পড়ে
  5. আল্লাহ সত্যকে সত্যে পরিণত করেন স্বীয় নির্দেশে যদিও পাপীদের তা মনঃপুত নয়।
  6. যে না দেখে দয়াময় আল্লাহ তা’আলাকে ভয় করত এবং বিনীত অন্তরে উপস্থিত হত।
  7. তোমাদেরকে যা কিছু দেয়া হয়েছে, তা পার্থিব জীবনের ভোগ ও শোভা বৈ নয়। আর আল্লাহর
  8. স্থলে ও জলে মানুষের কৃতকর্মের দরুন বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে। আল্লাহ তাদেরকে তাদের কর্মের শাস্তি আস্বাদন
  9. এবং যারা নিজেদের যৌনাঙ্গকে সংযত রাখে।
  10. আমি তাঁর উপর এক লতাবিশিষ্ট বৃক্ষ উদগত করলাম।

বাংলায় কোরআনের সূরা পড়ুন :

সুরত আল বাক্বারাহ্ আলে ইমরান সুরত আন-নিসা
সুরত আল-মায়েদাহ্ সুরত ইউসুফ সুরত ইব্রাহীম
সুরত আল-হিজর সুরত আল-কাহফ সুরত মারইয়াম
সুরত আল-হাজ্জ সুরত আল-ক্বাসাস আল-‘আনকাবূত
সুরত আস-সাজদা সুরত ইয়াসীন সুরত আদ-দুখান
সুরত আল-ফাতহ সুরত আল-হুজুরাত সুরত ক্বাফ
সুরত আন-নাজম সুরত আর-রাহমান সুরত আল-ওয়াক্বি‘আহ
সুরত আল-হাশর সুরত আল-মুলক সুরত আল-হাক্কাহ্
সুরত আল-ইনশিক্বাক সুরত আল-আ‘লা সুরত আল-গাশিয়াহ্

সবচেয়ে বিখ্যাত কোরআন তেলাওয়াতকারীদের কণ্ঠে সূরা মায়িদা ডাউনলোড করুন:

সূরা Maidah mp3 : উচ্চ মানের সাথে সম্পূর্ণ অধ্যায়টি Maidah শুনতে এবং ডাউনলোড করতে আবৃত্তিকারকে বেছে নিন
সুরত মায়িদা  ভয়েস আহমেদ আল-আজমি
আহমেদ আল-আজমি
সুরত মায়িদা  ভয়েস ইব্রাহীম আল-আখদার
ইব্রাহীম আল-আখদার
সুরত মায়িদা  ভয়েস বান্দার বেলাইলা
বান্দার বেলাইলা
সুরত মায়িদা  ভয়েস খালিদ গালিলি
খালিদ গালিলি
সুরত মায়িদা  ভয়েস হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
সুরত মায়িদা  ভয়েস খলিফা আল টুনাইজি
খলিফা আল টুনাইজি
সুরত মায়িদা  ভয়েস সাদ আল-গামদি
সাদ আল-গামদি
সুরত মায়িদা  ভয়েস সৌদ আল-শুরাইম
সৌদ আল-শুরাইম
সুরত মায়িদা  ভয়েস সালাহ আবু খাতর
সালাহ বুখাতীর
সুরত মায়িদা  ভয়েস আবদুল বাসিত আব্দুল সামাদ
আবদ এল বাসেট
সুরত মায়িদা  ভয়েস আবদুল রশিদ সুফি
আবদুল রশিদ সুফি
সুরত মায়িদা  ভয়েস আব্দুল্লাহ্ বাস্‌ফার
আব্দুল্লাহ্ বাস্‌ফার
সুরত মায়িদা  ভয়েস আবদুল্লাহ আওওয়াদ আল-জুহানী
আবদুল্লাহ আল-জুহানী
সুরত মায়িদা  ভয়েস আলী আল-হুদায়েফি
আলী আল-হুদায়েফি
সুরত মায়িদা  ভয়েস আলী জাবের
আলী জাবের
সুরত মায়িদা  ভয়েস ফারেস আব্বাদ
ফারেস আব্বাদ
সুরত মায়িদা  ভয়েস মাহের আলমাইকুলই
মাহের আলমাইকুলই
সুরত মায়িদা  ভয়েস মোহাম্মদ আইয়ুব
মোহাম্মদ আইয়ুব
সুরত মায়িদা  ভয়েস মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
সুরত মায়িদা  ভয়েস মুহাম্মাদ জিব্রীল
মুহাম্মাদ জিব্রীল
সুরত মায়িদা  ভয়েস মুহাম্মদ সিদ্দিক আল মিনশাবি
আল-মিনশাবি
সুরত মায়িদা  ভয়েস আল হোসারি
আল হোসারি
সুরত মায়িদা  ভয়েস আল-আফসী
মিশারী আল-আফসী
সুরত মায়িদা  ভয়েস নাসের আল কাতামি
নাসের আল কাতামি
সুরত মায়িদা  ভয়েস ইয়াসের আল-দোসারি
ইয়াসের আল-দোসারি


Tuesday, June 9, 2026

Please remember us in your sincere prayers