কোরান সূরা হুদ আয়াত 116 তাফসীর

  1. Mokhtasar
  2. Ahsanul Bayan
  3. AbuBakr Zakaria
  4. Ibn Kathir
Surah Hud ayat 116 Bangla tafsir - তাফসীর ইবনে কাসীর - Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান - Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স - বাংলা ভাষায় নোবেল কোরআনের অর্থের অনুবাদ উর্দু ভাষা ও ইংরেজি ভাষা & তাফসীর ইবনে কাসীর : সূরা হুদ আয়াত 116 আরবি পাঠে(Hud).
  
   

﴿فَلَوْلَا كَانَ مِنَ الْقُرُونِ مِن قَبْلِكُمْ أُولُو بَقِيَّةٍ يَنْهَوْنَ عَنِ الْفَسَادِ فِي الْأَرْضِ إِلَّا قَلِيلًا مِّمَّنْ أَنجَيْنَا مِنْهُمْ ۗ وَاتَّبَعَ الَّذِينَ ظَلَمُوا مَا أُتْرِفُوا فِيهِ وَكَانُوا مُجْرِمِينَ﴾
[ هود: 116]

কাজেই, তোমাদের পূর্ববতী জাতি গুলির মধ্যে এমন সৎকর্মশীল কেন রইল না, যারা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করতে বাধা দিত; তবে মুষ্টিমেয় লোক ছিল যাদেরকে আমি তাদের মধ্য হতে রক্ষা করেছি। আর পাপিষ্ঠরা তো ভোগ বিলাসে মত্ত ছিল যার সামগ্রী তাদেরকে যথেষ্ট দেয়া হয়েছিল। আসলে তারা ছিল মহা অপরাধী। [সূরা হুদ: 116]

Surah Hud in Bangla

জহুরুল হক সূরা বাংলা Surah Hud ayat 116


তবে কেন তোমাদের পূর্বপুরুষদের মধ্যে বাকী থাকা লোকজন নেই যারা নিষেধ করে পৃথিবীতে বিপর্যয় ঘটাতে -- যাদের আমরা উদ্ধার করেছিলাম তাদের মধ্য থেকে শুধু অল্প কয়েকজন ছাড়া? কিন্তু যারা অন্যায় আচরণ করেছিল তারা অনুসরণ করেছিল তাদের যারা এতে সচ্ছল-সমৃদ্ধ ছিল, ফলে তারা ছিল অপরাধী।


Tafsir Mokhtasar Bangla


১১৬. তাহলে তোমাদের পূর্ববর্তী শাস্তিপ্রাপ্ত জাতিগুলোর মধ্যে কিছু সম্মানিত ও সৎ কর্মশীল ব্যক্তিবর্গ কেন রইল না। যারা তাদের জাতিগুলোকে কুফরি থেকে এবং পৃথিবীতে পাপের মাধ্যমে বিপর্যয় সৃষ্টি করা হতে বাধা দিত। বস্তুতঃ তাদের মধ্যে মুষ্টিমেয় লোক ব্যতীত এমন কেউ ছিল না যারা বিপর্যয সৃষ্টি করা হতে বাধা দিত। ফলে আমি তাদেরকে রক্ষা করেছি যখন আমি তাদের অত্যাচারী জাতিগুলোকে ধ্বংস করি। তারা তো আসলে তাদেরকে দেয়া বস্তুসামগ্রীর সুখ-স্বাচ্ছন্দেই লিপ্ত থাকতো।

Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান


যেসব উম্মত তোমাদের পূর্বে গত হয়েছে, আমি যাদেরকে রক্ষা করেছিলাম তাদের মধ্য হতে অল্প কতক ব্যতীত এমন সজ্জন ছিল না, যারা পৃথিবীতে অশান্তি ঘটাতে বাধা প্রদান করত।[১] যালেমরা যে আরাম-আয়েশে ছিল তার পিছনেই পড়ে রইল। আর তারা ছিল অপরাধী।[২] [১] অর্থাৎ, পূর্ববর্তী জাতির মধ্য থেকে এমন নেক লোক কেউ ছিল না, যারা নোংরা ও ফাসাদ সৃষ্টিকারীদেরকে নোংরা, অশ্লীলতা ও ফাসাদ সৃষ্টি করা হতে বিরত রাখত? তারপর বলেন, এরূপ মুষ্টিমেয় কিছু লোক ছিল, তাদেরকে আমি সেই সময় আযাব থেকে রক্ষা করেছি। আর অবশিষ্ট লোকদেরকে আযাব দিয়ে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। [২] অর্থাৎ এ যালেমরা, নিজেদের যুলমের উপর অটল ছিল এবং আপন মত্ততায় উন্মত্ত ছিল। পরিশেষে আযাবে তাদেরকে ঘিরে ফেলেছিল।

Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স


অতএব তোমাদের পূর্বের প্রজন্মসমুহের মধ্যে এমন প্রজ্ঞাবন কেন হয়নি, যারা যমীনে বিপর্যয় সৃষ্টি থেকে নিষেধ করত? অল্প সংখ্যক ছাড়া, যাদেরকে আমরা তাদের মধ্যে নাজাত দিয়েছিলাম []। আর যারা যুলুম করেছে তারা বিলাসিতার পেছনে পড়ে ছিল, আর তারা ছিল অপরাধী। [] এখানে পূর্ববর্তী জাতিসমূহের উপর আযাব নাযিল হওয়ার কারণ বর্ণনা করে তা থেকে আত্মরক্ষার পথ নির্দেশ করা হয়েছে। এরশাদ হয়েছেঃ আফসোস, পূর্ববর্তী ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতিসমূহের মধ্যে দায়িত্বশীল বিবেকবান কিছু লোক কেন ছিল না, যারা জাতিকে ফাসাদ সৃষ্টি করা হতে বিরত রাখত? তাহলে তো তারা সমূলে ধ্বংস হত না। তবে মুষ্টিমেয় কিছু লোক ছিল, যারা নবীদের যথার্থ অনুসরণ করেছে এবং তারাই আযাব হতে নিরাপদ ছিল | অবশিষ্ট লোকেরা পার্থিব ভোগবিলাসে মত্ত হয়ে অপকর্মে মেতে উঠেছিল। [ দেখুন, মুয়াসসার ]

Tafsir ibn kathir bangla তাফসীর ইবনে কাসীর


১১৬-১১৭ নং আয়াতের তাফসীর আল্লাহ তাআ’লা বলেনঃ অতি অল্প সংখ্যক লোক ছাড়া আমি অতীত যুগের লোকদের মধ্যে এমন লোকদেরকে কেন পাই নাই যারা দুষ্ট ও অবাধ্য লোকদেরকে অন্যায় ও অসৎ কাজ হতে বিরত রাখতো? এই অল্প সংখ্যক লোক ওরাই যাদেরকে আমি নিজের শাস্তি থেকে রক্ষা করে থাকি। এ জন্যেই আল্লাহ তাআ’লা এই উম্মতের মধ্যে এরূপ দলের বিদ্যমানতা অপরিহার্য করে নির্দেশ দিয়েছেনঃ ( আরবি )অর্থাৎ “ তোমাদের মধ্যে অবশ্যই এমন একটি দল থাকা উচিত যারা মানুষকে মঙ্গল ও কল্যাণের দিকে আহ্‌বান করবে এবং মন্দ ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করবে, আর তারাই হচ্ছে সফলকাম ।( ৩: ১০৪ ) যালিমদের নীতি এটাই যে, তারা তাদের বদ অভ্যাস থেকে ফিরে আসে না। সৎ আলেমদের ফরমানের প্রতি তারা মোটেই ভ্রুক্ষেপ করে না। শেষ পর্যন্ত তাদের প্রতি তাদের অজান্তে আল্লাহর আযাব এসে পড়ে। ভাল বস্তিগুলির উপর আল্লাহ তাআ’লার পক্ষ হতে অত্যাচারমূলক ভাবে কখনো শাস্তি আসে না। বরং তারা নিজেরাই নিজেদের উপর যুলুম করে নিজেদেরকে শাস্তির যোগ্য করে তোলে। আল্লাহ পাক যুলুম থেকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র। যেমন তিনি বলেনঃ ( আরবি )অর্থাৎ “ আমি তাদের উপর যুলুম করি নাই বরং তারা নিজেরাই নিজেদের নফ্‌সের উপর যুলুম করেছে; ( ১১: ১০১ ) অন্য জায়গায় তিনি বলেনঃ ( আরবি ) অর্থাৎ “তোমার প্রতিপালক বান্দাদের উপর অত্যাচারকারী নন ।( ৪১: ৪৬ )

সূরা হুদ আয়াত 116 সূরা

فلولا كان من القرون من قبلكم أولو بقية ينهون عن الفساد في الأرض إلا قليلا ممن أنجينا منهم واتبع الذين ظلموا ما أترفوا فيه وكانوا مجرمين

سورة: هود - آية: ( 116 )  - جزء: ( 12 )  -  صفحة: ( 234 )


English Türkçe Indonesia
Русский Français فارسی
تفسير Urdu اعراب

বাংলায় পবিত্র কুরআনের আয়াত

  1. বরং তাদের কাছে সত্য আগমন করার পর তারা তাকে মিথ্যা বলছে। ফলে তারা সংশয়ে পতিত
  2. যখন আমি কোন জনপদকে ধ্বংস করার ইচ্ছা করি তখন তার অবস্থাপন্ন লোকদেরকে উদ্ধুদ্ধ করি অতঃপর
  3. তারা বলল, তুমি উপদেশ দাও অথবা উপদেশ নাই দাও, উভয়ই আমাদের জন্যে সমান।
  4. তিনি বললেনঃ আপনি আমার সাথে কিছুতেই ধৈর্য্যধারণ করে থাকতে পারবেন না।
  5. মূসা বললঃ হে আমার পালনকর্তা, আমি শুধু নিজের উপর ও নিজের ভাইয়ের উপর ক্ষমতা রাখি।
  6. এটা অবতীর্ণ পরম করুণাময়, দয়ালুর পক্ষ থেকে।
  7. বল, ‘আল্লাহ সত্য বলেছেন। এখন সবাই ইব্রাহীমের ধর্মের অনুগত হয়ে যাও, যিনি ছিলেন একনিষ্ঠ ভাবে
  8. হে রসূল, পৌছে দিন আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে। আর যদি
  9. মুমিনগণ! তোমরা যা কর না, তা কেন বল?
  10. আমি ধ্বংস করেছি আদ, সামুদ, কপবাসী এবং তাদের মধ্যবর্তী অনেক সম্প্রদায়কে।

বাংলায় কোরআনের সূরা পড়ুন :

সুরত আল বাক্বারাহ্ আলে ইমরান সুরত আন-নিসা
সুরত আল-মায়েদাহ্ সুরত ইউসুফ সুরত ইব্রাহীম
সুরত আল-হিজর সুরত আল-কাহফ সুরত মারইয়াম
সুরত আল-হাজ্জ সুরত আল-ক্বাসাস আল-‘আনকাবূত
সুরত আস-সাজদা সুরত ইয়াসীন সুরত আদ-দুখান
সুরত আল-ফাতহ সুরত আল-হুজুরাত সুরত ক্বাফ
সুরত আন-নাজম সুরত আর-রাহমান সুরত আল-ওয়াক্বি‘আহ
সুরত আল-হাশর সুরত আল-মুলক সুরত আল-হাক্কাহ্
সুরত আল-ইনশিক্বাক সুরত আল-আ‘লা সুরত আল-গাশিয়াহ্

সবচেয়ে বিখ্যাত কোরআন তেলাওয়াতকারীদের কণ্ঠে সূরা হুদ ডাউনলোড করুন:

সূরা Hud mp3 : উচ্চ মানের সাথে সম্পূর্ণ অধ্যায়টি Hud শুনতে এবং ডাউনলোড করতে আবৃত্তিকারকে বেছে নিন
সুরত হুদ  ভয়েস আহমেদ আল-আজমি
আহমেদ আল-আজমি
সুরত হুদ  ভয়েস ইব্রাহীম আল-আখদার
ইব্রাহীম আল-আখদার
সুরত হুদ  ভয়েস বান্দার বেলাইলা
বান্দার বেলাইলা
সুরত হুদ  ভয়েস খালিদ গালিলি
খালিদ গালিলি
সুরত হুদ  ভয়েস হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
সুরত হুদ  ভয়েস খলিফা আল টুনাইজি
খলিফা আল টুনাইজি
সুরত হুদ  ভয়েস সাদ আল-গামদি
সাদ আল-গামদি
সুরত হুদ  ভয়েস সৌদ আল-শুরাইম
সৌদ আল-শুরাইম
সুরত হুদ  ভয়েস সালাহ আবু খাতর
সালাহ বুখাতীর
সুরত হুদ  ভয়েস আবদুল বাসিত আব্দুল সামাদ
আবদ এল বাসেট
সুরত হুদ  ভয়েস আবদুল রশিদ সুফি
আবদুল রশিদ সুফি
সুরত হুদ  ভয়েস আব্দুল্লাহ্ বাস্‌ফার
আব্দুল্লাহ্ বাস্‌ফার
সুরত হুদ  ভয়েস আবদুল্লাহ আওওয়াদ আল-জুহানী
আবদুল্লাহ আল-জুহানী
সুরত হুদ  ভয়েস আলী আল-হুদায়েফি
আলী আল-হুদায়েফি
সুরত হুদ  ভয়েস আলী জাবের
আলী জাবের
সুরত হুদ  ভয়েস ফারেস আব্বাদ
ফারেস আব্বাদ
সুরত হুদ  ভয়েস মাহের আলমাইকুলই
মাহের আলমাইকুলই
সুরত হুদ  ভয়েস মোহাম্মদ আইয়ুব
মোহাম্মদ আইয়ুব
সুরত হুদ  ভয়েস মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
সুরত হুদ  ভয়েস মুহাম্মাদ জিব্রীল
মুহাম্মাদ জিব্রীল
সুরত হুদ  ভয়েস মুহাম্মদ সিদ্দিক আল মিনশাবি
আল-মিনশাবি
সুরত হুদ  ভয়েস আল হোসারি
আল হোসারি
সুরত হুদ  ভয়েস আল-আফসী
মিশারী আল-আফসী
সুরত হুদ  ভয়েস নাসের আল কাতামি
নাসের আল কাতামি
সুরত হুদ  ভয়েস ইয়াসের আল-দোসারি
ইয়াসের আল-দোসারি


Friday, June 5, 2026

Please remember us in your sincere prayers