কোরান সূরা তাগাবুন আয়াত 14 তাফসীর
﴿يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّ مِنْ أَزْوَاجِكُمْ وَأَوْلَادِكُمْ عَدُوًّا لَّكُمْ فَاحْذَرُوهُمْ ۚ وَإِن تَعْفُوا وَتَصْفَحُوا وَتَغْفِرُوا فَإِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ﴾
[ التغابن: 14]
হে মুমিনগণ, তোমাদের কোন কোন স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি তোমাদের দুশমন। অতএব তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাক। যদি মার্জনা কর, উপেক্ষা কর, এবং ক্ষমা কর, তবে আল্লাহ ক্ষমাশীল, করুনাময়। [সূরা তাগাবুন: 14]
Surah At-Taghabun in Banglaজহুরুল হক সূরা বাংলা Surah Taghabun ayat 14
ওহে যারা ঈমান এনেছ! নিশ্চয় তোমাদের কোনো-কোনো স্ত্রীরা ও তোমাদের ছেলেমেয়েরা তোমাদের শত্রু, অতএর তাদের ক্ষেত্রে হুশিয়াঁর হও। কিন্ত যদি তোমরা মাফ করে দাও ও উপেক্ষা কর ও উদ্ধার কর, তাহলে আল্লাহ্ পরিত্রাণকারী, অফুরন্ত ফলদাতা।
Tafsir Mokhtasar Bangla
১৪. হে মু’মিন সম্প্রদায়! তোমরা যারা আল্লাহর উপর ঈমান এনেছো এবং তোমাদের জন্য নির্ধারিত তাঁর বিধান অনুযায়ী আমল করে থাকো তোমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের মধ্যে তোমাদের শত্রæ রয়েছে। যারা তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ ও তাঁর পথে জিহাদ করা থেকে বিরত ও পিছিয়ে রাখে। তাই তোমরা তাদের দ্বারা প্রভাবিত হওয়া থেকে সতর্ক থাকো। তবে তোমরা যদি তাদের ভুল-ভ্রান্তি ক্ষমা করে দাও এবং তা বিষ্মৃত হও উপরন্তু তা গোপন রাখো তাহলে আল্লাহ তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন ও তোমাদের উপর দয়া করবেন। বস্তুতঃ কর্ম যেমন হয় ফলাফলও তেমনই হয়ে থাকে।
Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান
হে বিশ্বাসীগণ! তোমাদের স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততিদের মধ্যে কেউ কেউ তোমাদের শত্রু,[১] অতএব তাদের সম্পর্কে তোমরা সতর্ক থেকো।[২] আর তোমরা যদি তাদেরকে মার্জনা কর, তাদের দোষ-ত্রুটি উপেক্ষা কর এবং তাদেরকে ক্ষমা কর, তাহলে ( জেনে রেখো যে, ) নিশ্চয় আল্লাহ চরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। [৩] [১] অর্থাৎ, যারা তোমাদের নেক কাজ ও আনুগত্যের পথে বাধা সৃষ্টি করে, জেনে নিও তারা তোমার কল্যাণকামী ও হিতাকাঙ্ক্ষী নয়, বরং শত্রু। [২] অর্থাৎ, তুমি তাদের পিছনে পড়ো না, বরং তাদেরকে তোমার পিছনে লাগাও, যাতে তারাও আল্লাহর আনুগত্যের পথ অবলম্বন করে নেয়। তুমি তাদের পিছনে পড়ে নিজের পরিণাম মন্দ করো না। [৩] এ আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার কারণ সম্পর্কে বলা হয় যে, মক্কায় ইসলাম গ্রহণকারীদের মধ্যে কেউ কেউ মক্কা ছেড়ে মদীনা আসার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন। কারণ, তখন হিজরত করার নির্দেশ বড়ই তাকীদের সাথে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাঁদের স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততিরা হিজরতের পথে বাধা সৃষ্টি করে তাঁদেরকে হিজরত করতে দিল না। পরে যখন তাঁরা রসূল ( সাঃ )-এর নিকট এসে পড়লেন, তখন দেখলেন যে, তাঁদের পূর্বে আসা লোকেরা ধর্মের ব্যাপারে অনেক কিছুই শিখে নিয়েছেন। তখন তাঁরা তাঁদের সেই স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততিদের প্রতি রাগাম্বিত হলেন, যারা তাঁদেরকে হিজরত করতে বাধা দিয়েছিল। সুতরাং তাঁরা তাদেরকে সাজা দেওয়ার ইচ্ছা করলেন। মহান আল্লাহ এই আয়াতে তাঁদেরকে মার্জনা এবং উপেক্ষা করার কথা শিক্ষা দিলেন। ( সুনানে তিরমিযী সূরা তাগাবুনের তাফসীর পরিচ্ছেদ )
Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স
‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের স্ত্রী-স্বামী ও সন্তান-সন্ততিদের মধ্যে কেউ কেউ তোমাদের শত্রু; অতএব তাদের সম্পর্কে তোমরা সতর্ক থেকো [ ১ ]। [ ১ ] বিভিন্ন বর্ণনায় এসেছে যে, এই আয়াত সেই মুসলিমদের সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে, যারা হিজরতের পর মক্কায় ইসলাম গ্রহণ করে মদীনায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে হিজরত করে চলে যেতে মনস্থ করে, কিন্তু তাদের পরিবারপরিজনরা তাদেরকে হিজরত করতে বাধা দেয়। তারপর তারা যখন হিজরত করে মদীনা আসে তখন দেখতে পায় যে, লোকেরা তাদের আগেই দ্বীনের ফিকহ শিক্ষায় অগ্রণী হয়ে গেছে। তখন তাদের খুব আফসোস হয়। [ তিরমিয়ী: ৩৩১৭ ] তাছাড়া সন্তান-সন্তুতির কারণে মানুষ অনেক মহৎ কাজ থেকেও বিরত হতে বাধ্য হয়। হাদীসে এসেছে, বুরাইদা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খুৎবা দিচ্ছিলেন, ইত্যবসরে হাসান ও হুসাইন ( রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা ) সেখানে উপস্থিত হলেন, তাদের গায়ে দুটি লাল রংয়ের কাপড় ছিল। তারা হাঁটছিলেন আর হোঁচট খেয়ে পড়ছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের এ অবস্থা দেখে মিম্বর থেকে নেমে এসে তাদেরকে তার সামনে বসালেন তারপর বললেন, আল্লাহ সত্য বলেছেন, “ তোমাদের সম্পদ ও সন্তানসন্ততি তো পরীক্ষা বিশেষ" । এ বাচ্চা দু'টিকে হাঁটার সময় হোচঁট খেতে দেখে আমি স্থির থাকতে পারলাম না। ফলে আমি আমার কথা বন্ধ করে তাদেরকে উঠিয়ে নিলাম।” [ তিরমিয়ী: ৩৭৭৪, ইবনে মাজাহ, ৩৬০০ ]
Tafsir ibn kathir bangla তাফসীর ইবনে কাসীর
১৪-১৮ নং আয়াতের তাফসীর আল্লাহ্ তা'আলা স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি সম্পর্কে খবর দিতে গিয়ে বলেনঃ কতক স্ত্রী তাদের স্বামীদেরকে এবং কতক সন্তান তাদের পিতা-মাতাদেরকে আল্লাহ্ স্মরণ ও নেক আমল হতে দূরে সরিয়ে রাখে যা প্রকৃতপক্ষে শক্রতাই বটে। যেমন আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ ( আরবি )অর্থাৎ “ হে মুমিনগণ! তোমাদের ঐশ্বর্য ও সন্তান-সন্ততি যেন তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণে উদাসীন না করে । যারা উদাসীন হবে তারাই তো ক্ষতিগ্রস্ত।” ( ৬৩:৯ ) এখানেও আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ তোমরা তাদের সম্পর্কে সতর্ক থাকবে। দ্বীনের রক্ষণাবেক্ষণকে তাদের প্রয়োজন ও ফরমায়েশ পূর্ণ করার উপর প্রাধান্য দিবে। মানুষ স্ত্রী, ছেলে মেয়ে এবং মাল-ধনের খাতিরে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করে ফেলে এবং আল্লাহর নাফরমানী করে বসে। তাদের প্রেমে পড়ে আহকামে ইলাহীকে পৃষ্ঠের পিছনে নিক্ষেপ করে।হযরত ইবনে আব্বাস ( রাঃ ) বলেন যে, মক্কাবাসী কতক লোক ইসলাম কবূল করে নিয়েছিল, কিন্তু স্ত্রী ও ছেলেমেয়ের প্রেমে পড়ে হিজরত করেনি। অতঃপর যখন ইসলামের খুব বেশী প্রকাশ ঘটে তখন তারা হিজরত করে আল্লাহর নবী ( সঃ )-এর নিকট চলে যায়। গিয়ে দেখে যে, যাঁরা পূর্বে হিজরত করেছিলেন তাঁরা বহু কিছুর জ্ঞান লাভ করেছেন। তখন এই লোকদের মনে হলো যে, তারা তাদের সন্তান-সন্ততিকে শাস্তি প্রদান করবে। তখন আল্লাহ্ তা'আলা ঘোষণা করলেনঃ তোমরা যদি তাদেরকে মার্জনা কর, তাদের দোষ-ক্রটি উপেক্ষা কর এবং তাদেরকে ক্ষমা কর তবে জেনে রেখো যে, আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। অর্থাৎ এখন তোমরা তোমাদের ছেলেমেয়েদেরকে ক্ষমা করে দাও, ভবিষ্যতের জন্যে সতর্ক থাকবে।মহান আল্লাহ বলেনঃ “ তোমাদের সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি তোমাদের জন্যে পরীক্ষা, আল্লাহরই নিকট রয়েছে মহাপুরস্কার ।' অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দিয়ে মানুষকে পরীক্ষা করে থাকেন যে, এগুলো পেয়ে কে নাফরমানীতে জড়িয়ে পড়ছে এবং কে আনুগত্য করছে। আল্লাহ তা'আলার নিকট যে মহাপুরস্কার রয়েছে সেদিকে মানুষের খেয়াল রাখা উচিত। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ ( আরবি )অর্থাৎ “ নারী, সন্তান, রাশিকৃত স্বর্ণ রৌপ্য আর চিহ্নিত অশ্বরাজি, গবাদি পশু এবং ক্ষেত-খামারের প্রতি আসক্তি, মানুষের নিকট মনোরম করা হয়েছে । এই সব ইহজীবনের ভোগ্যবস্তু। আর আল্লাহ্, তাঁর নিকট উত্তম আশ্রয়স্থল।” ( ৩:১৪ ) আরো, যা এর পরে রয়েছে।হযরত আবূ বুরাইদাহ্ ( রাঃ ) হতে বর্ণিত আছে যে, একদা রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) খুৎবাহ দিচ্ছিলেন এমন সময় হযরত হাসান ( রাঃ ) ও হযরত হুসাইন ( রাঃ ) লম্বা লম্বা জামা পরিহিত হয়ে এসে পড়লেন। তাঁরা জামার মধ্যে জড়িয়ে পড়েছিলেন বলে বাধা লেগে লেগে পড়ছিলেন ও উঠছিলেন, এই ভাবে আসছিলেন। তাঁরা তো তখন শিশু! জামাগুলো লাল রঙএর ছিল। রাসূলুল্লাহ্ ( সঃ )-এর দৃষ্টি তাঁদের উপর পড়া মাত্রই তিনি মিম্বর হতে নেমে গিয়ে তাদেরকে উঠিয়ে নিয়ে আসলেন এবং নিজের সামনে বসিয়ে নিলেন। অতঃপর তিনি বলতে লাগলেনঃ “ আল্লাহ তা'আলা সত্য বলেছেন এবং তাঁর রাসূল ( সঃ )-ও সত্য কথা বলেছেন, তা হলোঃ “তোমাদের সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি তোমাদের জন্যে পরীক্ষা ।” এই দুই শিশুকে পড়ে উঠে আসতে দেখে আমার ধৈর্যচ্যুতি ঘটলো। তাই খুৎবাহ ছেড়ে এদেরকে উঠিয়ে নিয়ে আসতে হলো। ( এ হাদীসটি মুসনাদে আহমদে বর্ণিত হয়েছে। ইমাম তিরমিযী (রঃ ) হাদীসটি হাসান গারীব বলেছেন)হযরত আশআস ইবনে কায়েস ( রাঃ ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ “ কিনদাহ গোত্রের প্রতিনিধি দলের মধ্যে শামিল হয়ে আমিও রাসূলুল্লাহ ( সঃ )-এর খিদমতে হাযির হলাম । রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) আমাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ “ তোমার সন্তান-সন্ততি আছে কি?” আমি উত্তরে বললামঃ জ্বী হ্যাঁ, আপনার খিদমতে হাযির হওয়ার উদ্দেশ্যে বের হবার সময় আমার একটি পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করেছে । যদি তার স্থলে একটি বন্য জন্তু হতো তবে ওটাই আমার জন্যে ভাল ছিল। তিনি একথা শুনে বললেনঃ “ না, না, এরূপ কথা বলো না । এরাই হলো চক্ষু ঠাণ্ডাকারী এবং এরা মারা গেলেও পুণ্য রয়েছে। তারপর তিনি বললেনঃ “ তবে হ্যাঁ, এরা আবার ভীরুতা ও দুঃখেরও কারণ হয়ে থাকে ।” ( এ হাদীসটিও ইমাম আহমাদ (রঃ ) বর্ণনা করেছেন)হযরত আবূ সাঈদ ( রাঃ ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) বলেছেনঃ “ সন্তান অন্তরের ফল বটে, কিন্তু আবার সন্তানই কাপুরুষতা, কৃপণতা ও দুঃখেরও কারণ হয় ।” ( এ হাদীসটি হাফিয আবূ বকর আল বায্যার (রঃ ) বর্ণনা করেছেন)হযরত আবূ মালিক আশআরী ( রাঃ ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) বলেছেনঃ “ শুধু ঐ ব্যক্তি তোমার শত্রু নয় যে, ( সে কাফির বলে ) তুমি ( যুদ্ধে ) তাকে হত্যা কর তবে ওটা হবে তোমার জন্যে সফলতা, আর যদি তুমি নিহত হও তবে তুমি জান্নাতে প্রবেশ করবে । বরং সম্ভবতঃ তোমার সবচেয়ে বড় শত্রু হলো তোমার সন্তান, যে তোমার পৃষ্ঠ হতে বের হয়েছে। অতঃপর তোমার আর একটি চরম শত্রু হলো তোমার মাল, যার মালিক হয়েছে তোমার দক্ষিণ হস্ত। [ এ হাদিসটি বর্ণনা করেছেন ইমাম তিবরানী ( রঃ ) ]এরপর আল্লাহ পাক বলেনঃ “ তোমরা আল্লাহকে যথাসাধ্য ভয় কর ।' অর্থাৎ তোমরা তোমাদের শক্তি ও সাধ্য অনুযায়ী আল্লাহকে ভয় কর। যেমন সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে হযরত আবূ হুরাইরা ( রাঃ ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) বলেছেনঃ “ আমি যখন তোমাদেরকে কোন আদেশ করবো তখন তোমরা যথাসাধ্য তা পালন করবে এবং যখন নিষেধ করবো ( কোন কিছু হতে ) তখন তা হতে বিরত থাকবে ।”কোন কোন মুফাসসির বলেছেন যে, এই আয়াতটি সূরায়ে আলে ইমরানের নিম্নের আয়াতটিকে রহিতকারীঃ ( আরবি )অর্থাৎ “ হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথার্থভাবে ভয় কর এবং তোমরা আত্মসমর্পণ না করে কোন অবস্থায় মরো না ।" ( ৩:১০২ ) অর্থাৎ প্রথমে বলেছিলেনঃ “ তোমরা আল্লাহকে যথার্থভাবে ভয় কর । আর পরে বললেনঃ ‘তোমরা আল্লাহকে যথাসাধ্য ভয় কর। হযরত সাঈদ ইবনে জুবায়ের ( রাঃ ) বলেছেন, প্রথম আয়াতটি জনগণের কাছে খুবই কঠিন ঠেকেছিল। তাঁরা নামাযে এতো দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতেন যে, তাঁদের পা ফুলে যেতো। আর তাঁরা সিজদায় এতো দীর্ঘক্ষণ ধরে পড়ে থাকতেন যে, তাঁদের কপালে ক্ষত হয়ে যেতো। তখন আল্লাহ তা'আলা এই দ্বিতীয় আয়াতটি নাযিল করে তাঁদের উপর হালকা করে দিলেন। আরো কিছু মুফাসসিরও একথাই বলেছেন যে, প্রথম আয়াতটি মানসূখ এবং দ্বিতীয় আয়াতটি নাসেখ। অতঃপর মহান আল্লাহ বলেনঃ তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ( সঃ )-এর অনুগত হয়ে যাও। তাদের আনুগত্য হতে এক ইঞ্চি পরিমাণও এদিক ওদিক হয়ো না। আগেও বেড়ে যেয়ো না এবং পিছনেও সরে এসো না। আর আল্লাহ তা’আলা তোমাদেরকে যা দিয়ে রেখেছেন তা হতে তোমাদের আত্মীয়-স্বজনকে ফকীর-মিসকীন ও অভাবগ্রস্তদেরকে দান করতে থাকো। আল্লাহ তা'আলা তোমাদের প্রতি যে ইহসান করেছেন ঐ ইহসান তোমরা তাঁর সৃষ্টজীবের প্রতি করে যাও। তাহলে এটা হবে তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আর যদি এটা না কর তবে দুনিয়ার ধ্বংস তোমরা নিজেরাই নিজেদের হাতে টেনে আনবে। ( আরবি ) এর তাফসীর সূরায়ে হাশরের এই আয়াতে গত হয়েছে। সুতরাং এখানে পুনরাবৃত্তির প্রয়োজন নেই।মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ যদি তোমরা আল্লাহকে উত্তম ঋণ দান কর তবে তিনি তোমাদের জন্যে ওটা বহুগুণ বৃদ্ধি করবেন এবং তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করবেন। অর্থাৎ তোমাদের দরিদ্র ও অভাগ্রস্তদের উপর খরচ করাই হলো আল্লাহ তা'আলাকে উত্তম ঋণ দেয়া। সূরায়ে বাকারাতেও এটা গত হয়েছে।মহান আল্লাহ বলেনঃ তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করবেন। অর্থাৎ তোমাদের অপরাধসমূহ তিনি মার্জনা করবেন। এ জন্যেই আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা এখানে বলেনঃ আল্লাহ গুণগ্রাহী অর্থাৎ তিনি অল্প সকাজের বেশী পুণ্য দান করেন এবং তিনি সহনশীল অর্থাৎ তিনি পাপ ও অপরাধসমূহ ক্ষমা করে থাকেন এবং স্বীয় বান্দাদের পাপ দেখেও দেখেন না। অর্থাৎ ক্ষমার চক্ষে দেখেন। তিনি দৃশ্য ও অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা, পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। এর তাফসীর ইতিপূর্বে কয়েকবার গত হয়েছে।
সূরা তাগাবুন আয়াত 14 সূরা
| English | Türkçe | Indonesia |
| Русский | Français | فارسی |
| تفسير | Urdu | اعراب |
বাংলায় পবিত্র কুরআনের আয়াত
- পক্ষান্তরে যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে। তাদের প্রাপ্য পরিপুর্ণভাবে দেয়া হবে। আর আল্লাহ অত্যাচারীদেরকে
- আপনি বলে দিন, যে কেউ জিবরাঈলের শত্রু হয়-যেহেতু তিনি আল্লাহর আদেশে এ কালাম আপনার অন্তরে
- যদি কোন কোরআন এমন হত, যার সাহায্যে পাহাড় চলমান হয় অথবা যমীন খন্ডিত হয় অথবা
- তাদের কাউকেই তোমরা আল্লাহ সম্পর্কে বিভ্রান্ত করতে পারবে না।
- নিশ্চয় যারা বলে, আমাদের পালনকর্তা আল্লাহ, অতঃপর তাতেই অবিচল থাকে, তাদের কাছে ফেরেশতা অবতীর্ণ হয়
- এবং যারা তাদের আমানত ও অঙ্গীকার রক্ষা করে
- যখন সে তার পিতা ও সম্প্রদায়কে বলেছিলঃ তোমরা কিসের উপাসনা করছ?
- তারা সেই লোকদের মত, যারা তাদের নিকট অতীতে নিজেদের কর্মের শাস্তিভোগ করেছে। তাদের জন্যে রয়েছে
- এতীম আত্বীয়কে
- অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে?
বাংলায় কোরআনের সূরা পড়ুন :
সবচেয়ে বিখ্যাত কোরআন তেলাওয়াতকারীদের কণ্ঠে সূরা তাগাবুন ডাউনলোড করুন:
সূরা Taghabun mp3 : উচ্চ মানের সাথে সম্পূর্ণ অধ্যায়টি Taghabun শুনতে এবং ডাউনলোড করতে আবৃত্তিকারকে বেছে নিন
আহমেদ আল-আজমি
ইব্রাহীম আল-আখদার
বান্দার বেলাইলা
খালিদ গালিলি
হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
খলিফা আল টুনাইজি
সাদ আল-গামদি
সৌদ আল-শুরাইম
সালাহ বুখাতীর
আবদ এল বাসেট
আবদুল রশিদ সুফি
আব্দুল্লাহ্ বাস্ফার
আবদুল্লাহ আল-জুহানী
আলী আল-হুদায়েফি
আলী জাবের
ফারেস আব্বাদ
মাহের আলমাইকুলই
মোহাম্মদ আইয়ুব
মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
মুহাম্মাদ জিব্রীল
আল-মিনশাবি
আল হোসারি
মিশারী আল-আফসী
নাসের আল কাতামি
ইয়াসের আল-দোসারি
Please remember us in your sincere prayers



