কোরান সূরা নূর আয়াত 16 তাফসীর
﴿وَلَوْلَا إِذْ سَمِعْتُمُوهُ قُلْتُم مَّا يَكُونُ لَنَا أَن نَّتَكَلَّمَ بِهَٰذَا سُبْحَانَكَ هَٰذَا بُهْتَانٌ عَظِيمٌ﴾
[ النور: 16]
তোমরা যখন এ কথা শুনলে তখন কেন বললে না যে, এ বিষয়ে কথা বলা আমাদের উচিত নয়। আল্লাহ তো পবিত্র, মহান। এটা তো এক গুরুতর অপবাদ। [সূরা নূর: 16]
Surah An-Nur in Banglaজহুরুল হক সূরা বাংলা Surah An Nur ayat 16
আর যখন তোমরা এটি শুনেছিলে তখন কেন তেমরা বল নি -- ''এ আমাদের জন্য উচিত নয় যে আমরা এ বিষয়ে বলাবলি করি, তোমারই সব মহিমা, এ তো এক গুরুতর অপবাদ’’?
Tafsir Mokhtasar Bangla
১৬. যখন তোমরা এ অপবাদ শুনলে তখন কেন তোমরা এ কথা বললে না যে, এ বিশ্রী ব্যাপার নিয়ে কথা বলা আমাদের জন্য সঠিক হবে না। হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি পবিত্র। তারা উম্মুল-মু’মিনীনকে যে অপবাদ দিয়েছে তা কিন্তু ভারী মিথ্যা কথা।
Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান
যখন তোমরা এ শ্রবণ করলে, তখন কেন বললে না যে, ‘এ বিষয়ে বলাবলি করা আমাদের উচিত নয়। আল্লাহ্ই পবিত্র, মহান! এ তো এক গুরুতর অপবাদ।’[১] [১] দ্বিতীয় শিক্ষা এই যে, আল্লাহ মু'মিনদেরকে এ কথা বললেন যে, অপবাদের জন্য তারা একটি সাক্ষীও পেশ করেনি, যদিও এর জন্য চারটি সাক্ষী পেশ করা জরুরী ছিল। এ সত্বেও তোমরা অপবাদদাতাদেরকে মিথ্যাবাদী বলনি। অথচ এই কারণেই উক্ত আয়াতগুলি অবতীর্ণ হওয়ার পর হাসসান, মিসত্বাহ ও হামনাহ বিনতে জাহাশকে অপবাদ আরোপের শাস্তি প্রদান করা হয়েছে। ( আহমাদ ৬/৩০, তিরমিযী ৩১৮১, আবু দাউদ ৪৪৭৪, ইবনে মাজাহ ২৫২৭নং ) পক্ষান্তরে মুনাফিক আব্দুল্লাহ বিন উবাইকে উক্ত কারণে শাস্তি দেওয়া হয়নি। বরং তার জন্য আখেরাতের কঠিন শাস্তিই যথেষ্ট ভাবা হয়েছে। অন্য দিকে মু'মিনদেরকে শাস্তি দিয়ে পৃথিবীতে পবিত্র করা হয়েছে। তাকে শাস্তি না দেওয়ার দ্বিতীয় কারণ এই যে, তার পশ্চাতে একটি ( পৃষ্ঠপোষক ) দল ছিল। যার ফলে ওকে শাস্তি দিলে এমন আশঙ্কামূলক পরিস্থিতির সৃষ্টি হত, যেটা সামাল দেওয়া তখনকার যুগের মুসলিমদের পক্ষে কঠিন ছিল। এই জন্য বৃহত্তর স্বার্থকে খেয়ালে রেখে তাকে শাস্তি দেওয়া হতে বিরত থাকা হয়েছে। ( ফাতহুল কাদীর ) তৃতীয় কথা এই বলা হয়েছে যে, তোমাদের প্রতি আল্লাহর কৃপা ও অনুগ্রহ না থাকলে, সত্যতার যাচাই ও তদন্ত না করে উক্ত গুজব রটানোর এই আচরণ তোমাদের কঠিন শাস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াত। এর অর্থ হল অপবাদ রটিয়ে বেড়ানো বা তা প্রচার করাও মহা অপরাধ, যার ফলে মানুষ কঠিন শাস্তির উপযুক্ত হতে পারে। চতুর্থ কথা এই যে, ব্যাপারটি ছিল স্বয়ং রসূল ( সাঃ )-এর পত্নী ও তাঁর মান-মর্যাদার সাথে জড়িত। কিন্তু তোমরা তার যথার্থ গুরুত্বই দিলে না; বরং তা হাল্কা মনে করলে। এ কথা হতে এই বুঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে যে, কেবল ব্যভিচারই বড় অপরাধ নয়, যার শাস্তি একশ' বেত্রাঘাত বা পাথর ছুঁড়ে মারা; বরং কারো মান-সম্ভ্রমে আঘাত হানা বা কোন মর্যাদাসম্পন্ন পরিবারের মানহানি করাও আল্লাহর নিকট মহাপাপ বলে গণ্য। এমন পাপকে হাল্কা মনে করো না। সেই জন্য পরবর্তীতে বিশেষ জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে, তোমরা শোনার পরই কেন বললে না যে, এ রকম কথা মুখ হতে বের করাও উচিত নয়; নিঃসন্দেহে এটি বড় অপবাদ। এখান হতে ইমাম মালেক ( রঃ ) বলেন, যে সকল নামসর্বস্ব মুসলমান আয়েশা ( রাঃ )-র উপর অশ্লীলতার অপবাদ আরোপ করবে, তারা কাফের। কারণ, এতে কুরআনকে মিথ্যাজ্ঞান করা হয়। ( আইসারুত্ তাফাসীর )
Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স
আর তোমরা যখন এটা শুনলে তখন কেন বললে না, ‘এ বিষয় বলাবলি করা আমাদের উচিত নয়; আল্লাহ্ পবিত্র, মহান। এটাতো এক গুরুতর অপবাদ!’
Tafsir ibn kathir bangla তাফসীর ইবনে কাসীর
১৬-১৮ নং আয়াতের তাফসীরপূর্বে ভাল ধারণা পোষণ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে, এখানে নির্দেশ দেয়া হচ্ছে যে, ভাল লোকদের সম্পর্কে সত্যাসত্য নিরূপণ না করে কোন মন্দ কথা মুখ দিয়ে বের করা চলবে না। খারাপ ধারণা, জঘন্য অপবাদ এবং শয়তানী কুমন্ত্রণা হতে দূরে থাকতে হবে। কখনো এরূপ খারাপ কথা মুখ দিয়ে বের করতে হবে। যদি অন্তরে এরূপ শয়তানী কুমন্ত্রণা সৃষ্টি হয়েও যায় তবুও জিহ্বাকে সংযত রাখতে হবে। রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) বলেছেনঃ “ আল্লাহ তা'আলা আমার উম্মতের অন্তরে সৃষ্ট কুমন্ত্রণাকে ক্ষমা করে থাকেন যে পর্যন্ত না ওটা মুখে প্রকাশ করে অথবা কার্যে পরিণত করে ।” ( এ হাদীসটি সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে বর্ণিত আছে )মহান আল্লাহ বলেনঃ যখন তোমরা এটা শুনলে তখন কেন বললে না- এ বিষয়ে বলাবলি করা আমাদের উচিত নয়? তোমাদের বলা উচিত ছিলঃ আমরা এ বেআদবী করতে পারি না যে, আল্লাহর বন্ধু এবং তাঁর রাসূল ( সঃ )-এর স্ত্রীর সম্পর্কে এরূপ বাজে ও জঘন্য কথা বলে ফেলি। আল্লাহর সত্তা পবিত্র। এরপর মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ আল্লাহ তোমাদেরকে উপদেশ দিচ্ছেন-তোমরা যদি মুমিন হও তবে কখনো অনুরূপ আচরণের পুনরাবৃত্তি করো হ্যাঁ, তবে যদি কোন লোক ঈমান থেকে অজ্ঞ থাকে তাহলে সে তো বেআদব, অভদ্র এবং ভাল লোকদেরকে ঘৃণাকারী হবেই।আল্লাহ পাক বলেনঃ আল্লাহ তোমাদের জন্যে তার আয়াতসমূহ সুস্পষ্টভাবে বিবৃত করেন। তিনি সর্বজ্ঞ। বান্দার জন্যে কি কল্যাণকর তা তিনি সম্যক অবগত এবং তিনি প্রজ্ঞাময়। তার কোন হুকুমই নিপুণতা শূন্য নয়।
সূরা নূর আয়াত 16 সূরা
| English | Türkçe | Indonesia |
| Русский | Français | فارسی |
| تفسير | Urdu | اعراب |
বাংলায় পবিত্র কুরআনের আয়াত
- মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ ও রসূলের সামনে অগ্রণী হয়ো না এবং আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ
- ছোট ও বড় সবই লিপিবদ্ধ।
- আপনার কাছে সৈন্যবাহিনীর ইতিবৃত্ত পৌছেছে কি?
- অতএব আপনি প্রকাশ্যে শুনিয়ে দিন যা আপনাকে আদেশ করা হয় এবং মুশরিকদের পরওয়া করবেন না।
- যাদের চক্ষুসমূহের উপর পর্দা ছিল আমার স্মরণ থেকে এবং যারা শুনতেও সক্ষম ছিল না।
- হে চাদরাবৃত!
- তারপর যখন মূসার রাগ পড়ে গেল, তখন তিনি তখতীগুলো তুলে নিলেন। আর যা কিছু তাতে
- তারা আল্লাহর পরিবর্তে যা কিছুকে ডাকে, আল্লাহ তা জানেন। তিনি শক্তিশালী, প্রজ্ঞাময়।
- নিশ্চয়ই ইলিয়াস ছিল রসূল।
- এবং তৃতীয় আরেকটি মানাত সম্পর্কে?
বাংলায় কোরআনের সূরা পড়ুন :
সবচেয়ে বিখ্যাত কোরআন তেলাওয়াতকারীদের কণ্ঠে সূরা নূর ডাউনলোড করুন:
সূরা An Nur mp3 : উচ্চ মানের সাথে সম্পূর্ণ অধ্যায়টি An Nur শুনতে এবং ডাউনলোড করতে আবৃত্তিকারকে বেছে নিন
আহমেদ আল-আজমি
ইব্রাহীম আল-আখদার
বান্দার বেলাইলা
খালিদ গালিলি
হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
খলিফা আল টুনাইজি
সাদ আল-গামদি
সৌদ আল-শুরাইম
সালাহ বুখাতীর
আবদ এল বাসেট
আবদুল রশিদ সুফি
আব্দুল্লাহ্ বাস্ফার
আবদুল্লাহ আল-জুহানী
আলী আল-হুদায়েফি
আলী জাবের
ফারেস আব্বাদ
মাহের আলমাইকুলই
মোহাম্মদ আইয়ুব
মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
মুহাম্মাদ জিব্রীল
আল-মিনশাবি
আল হোসারি
মিশারী আল-আফসী
নাসের আল কাতামি
ইয়াসের আল-দোসারি
Please remember us in your sincere prayers



