কোরান সূরা ফাত্হ আয়াত 21 তাফসীর

  1. Mokhtasar
  2. Ahsanul Bayan
  3. AbuBakr Zakaria
  4. Ibn Kathir
Surah Al Fath ayat 21 Bangla tafsir - তাফসীর ইবনে কাসীর - Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান - Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স - বাংলা ভাষায় নোবেল কোরআনের অর্থের অনুবাদ উর্দু ভাষা ও ইংরেজি ভাষা & তাফসীর ইবনে কাসীর : সূরা ফাত্হ আয়াত 21 আরবি পাঠে(Al Fath).
  
   

﴿وَأُخْرَىٰ لَمْ تَقْدِرُوا عَلَيْهَا قَدْ أَحَاطَ اللَّهُ بِهَا ۚ وَكَانَ اللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرًا﴾
[ الفتح: 21]

আর ও একটি বিজয় রয়েছে যা এখনও তোমাদের অধিকারে আসেনি, আল্লাহ তা বেষ্টন করে আছেন। আল্লাহ সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান। [সূরা ফাত্হ: 21]

Surah Al-Fath in Bangla

জহুরুল হক সূরা বাংলা Surah Al Fath ayat 21


আর অন্যান্য যে গুলোর উপরে তোমরা এখনও কবজা করতে পার নি, আল্লাহ্ এগুলোকে ঘিরে রেখেছেন। আর আল্লাহ্ সব- কিছুর উপরে সর্বশক্তিমান ।


Tafsir Mokhtasar Bangla


২১. আল্লাহ তোমাদেরকে আরো কিছু গনীমতের অঙ্গীকার দিয়েছেন যা প্রাপ্তিতে তোমরা এখন পর্যন্ত সক্ষম হও নি। তিনিই কেবল এর উপর সামর্থ্যবান। এটি রয়েছে তাঁর জ্ঞান-গরিমা ও পরিচালনায়। আল্লাহ সর্ব বিষয়ে সক্ষম। তাঁকে কোন কিছুই ব্যর্থ করতে পারে না।

Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান


আরো বহু সম্পদ রয়েছে, যা এখনো তোমরা অধিকারভুক্ত করতে পারনি, তা তো আল্লাহর আয়ত্তে আছে।[১] আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান। [১] এই আয়াতে পরবর্তীকালের বিজয়সমূহ ও তা থেকে অর্জনীয় গনীমতের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। যেভাবে চতুর্দিক ঘিরে দিয়ে কোন জিনিসকে নিজের দখলে নেওয়া হয় এবং তার ব্যাপারে নিশ্চিন্ত হওয়া যায়, তেমনিভাবে আল্লাহ এই বিজয়সমূহকে নিজ মহাশক্তির বেড়ার আয়ত্তে করে নিয়েছেন। অর্থাৎ, যদিও তোমাদের বিজয়ের সীমা ওখান পর্যন্ত প্রসারিত হয়নি, তবুও মহান আল্লাহ সেগুলোকে তোমাদের জন্য নিজের আয়ত্তে করে রেখেছেন। যখনই তিনি চাইবেন, তখনই সেসব দিয়ে তোমাদেরকে জয়যুক্ত করে দেবেন। আর এতে কোন প্রকার সন্দেহ নেই। কারণ, তিনি সব কিছুর উপর সর্বশক্তিমান। কেউ কেউ أَحَاطَ এর অর্থ করেছেন عَلِمَ অর্থাৎ, তিনি জানেন যে, ঐ এলাকাগুলোও তোমরা জয় করবে।

Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স


আর আরেকটি, এখনো যা তোমাদের অধিকারে আসেনি, তা তো আল্লাহ বেষ্টন করে রেখেছেন []। আর আল্লাহ সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান। [] অর্থাৎ আল্লাহ তা’আলা মুসলিমদেরকে আরও অনেক বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যা এখনও তাদের ক্ষমতাসীন নয়। এসব বিজয়ের মধ্যে সর্বপ্রথম মক্কা বিজয় রয়েছে দেখে কোনো কোনো তফসিরবিদ আয়াতে মক্কা বিজয়কেই বোঝাতে চেয়েছেন। কিন্তু ভাষা ব্যাপক হেতু কেয়ামত পর্যন্ত আগত সব বিজয়ই এর অন্তর্ভুক্ত। [ বাগভী ]

Tafsir ibn kathir bangla তাফসীর ইবনে কাসীর


২০-২৪ নং আয়াতের তাফসীর: যুদ্ধে লভ্য বিপুল সম্পদ দ্বারা রাসূলুল্লাহ( সঃ )-এর যুগের এবং পরবর্তী সব যুগেরই গানীমাতকে বুঝানো হয়েছে। ত্বরান্বিতকৃত গানীমাত দ্বারা খায়বারের গানীমাত এবং হোদায়বিয়ার সন্ধি উদ্দেশ্য। আল্লাহ্ তা'আলার এটাও একটি অনুগ্রহ যে, তিনি কাফিরদের মন্দ বাসনা পূর্ণ হতে দেননি, না তিনি মক্কার কাফিরদের মনোবাঞ্ছা পূর্ণ করেছেন এবং না তিনি ঐ মুনাফিকদের মনের বাসনা পূর্ণ করেছেন যারা মুসলমানদের সাথে যুদ্ধে গমন না করে বাড়ীতেই রয়ে গিয়েছিল। তারা মুসলমানদের উপর না আক্রমণ চালাতে পেরেছে, না তাদের। সন্তানদেরকে শাসন-গর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এটা এ জন্যে যে, একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলাই যে প্রকৃত রক্ষক ও সাহায্যকারী এ শিক্ষা যেন মুসলমানরা গ্রহণ করতে পারে। সুতরাং তারা যেন শত্ৰু সংখ্যার আধিক্য ও নিজেদের সংখ্যার স্বল্পতা দেখে সাহস হারিয়ে না ফেলে। তারা যেন এ বিশ্বাসও রাখে যে, প্রত্যেক কাজের পরিণাম আল্লাহ পাক অবগত রয়েছেন। বান্দাদের জন্যে এটাই উত্তম পন্থা যে, তারা আল্লাহ্ তা'আলার নির্দেশ অনুযায়ী আমল করবে এবং এতেই যে তাদের জন্যে মঙ্গল রয়েছে এ বিশ্বাস রাখবে। যদিও আল্লাহর ঐ নির্দেশ বাহ্যিক দৃষ্টিতে স্বভাব-বিরুদ্ধরূপে পরিলক্ষিত হয়। যেমন মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ ( আরবী ) অর্থাৎ “ হতে পারে যে, তোমরা যা অপছন্দ কর ওটাই তোমাদের জন্যে মঙ্গলজনক ।( ২:২১৬ )মহান আল্লাহর উক্তি ও ‘আল্লাহ তোমাদেরকে পরিচালিত করেন সরল পথে। অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা স্বীয় বান্দাদেরকে তাদের আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল ( সঃ )-এর আনুগত্যের কারণে সরল-সঠিক পথে পরিচালিত করেন এবং গানীমাত ও বিজয় ইত্যাদিও দান করেন, যা তাদের সাধ্যের বাইরে। কিন্তু আল্লাহ্ তাআলার ক্ষমতার বাইরে কিছুই নেই। তিনি স্বীয় মুমিন বান্দাদেরকে সাহায্য করবেন এবং তাদের জন্যে কঠিন সহজ করে দিবেন। তাই তিনি বলেনঃ আরো বহু সম্পদ আছে যা এখনো তোমাদের অধিকারে আসেনি, ওটা তো আল্লাহর নিকট রক্ষিত আছে। আল্লাহ্ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান। তিনি তার মুমিন বান্দাদেরকে এমন জায়গা হতে রূযী দান করে থাকেন যা তারা ধারণাও করতে পারে না। এই গানীমাত দ্বারা খায়বারের গানীমাতকে বুঝানো হয়েছে যার ওয়াদা হুদায়বিয়ার সন্ধির সময় করা হয়েছিল। অথবা এর দ্বারা মক্কা বিজয় বা পারস্য ও রোমের সম্পদকে বুঝানো হয়েছে। কিংবা এর দ্বারা ঐ সমুদয় বিজয়কে বুঝানো হয়েছে যেগুলো কিয়ামত পর্যন্ত মুসলমানরা লাভ করতে থাকবে।এরপর আল্লাহ্ তাবারাকা ওয়া তা'আলা শুভসংবাদ শুনাচ্ছেন যে, তাদের কাফিরদেরকে ভয় করা ঠিক নয়। কেননা, তারা যদি তাদের সাথে মুকাবিলা করতে আসে তবে পরিণামে তারা অবশ্যই পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবে, তখন তারা কোন অভিভাবক ও সাহায্যকারী পাবে না। কারণ, এটা হবে তাদের আল্লাহ্ ও তার রাসূল ( সঃ )-এর বিরুদ্ধে লড়াই। সুতরাং তারা যে পরাজিত হবে এতে সন্দেহের কোন অবকাশ থাকতে পারে কি? অতঃপর প্রবল পরাক্রান্ত আল্লাহ্ বলেনঃ আল্লাহর বিধান ও নীতি এটাই যে, যখন কাফির ও মুমিনদের মধ্যে মুকাবিলা হয় তখন তিনি মুমিনদেরকে কাফিরদের উপর জয়যুক্ত করে থাকেন এবং সত্যকে প্রকাশ করেন ও মিথ্যাকে দাবিয়ে দেন। যেমন বদরের যুদ্ধে তিনি মুমিনদেরকে কাফিরদের উপর জয়যুক্ত করেন। অথচ কাফিরদের সংখ্যাও ছিল মুমিনদের সংখ্যার কয়েকগুণ বেশী এবং তাদের যুদ্ধাস্ত্রও ছিল বহুগুণে অধিক।এরপর মহান আল্লাহ্ বলেন:তোমরা আল্লাহ্ তা'আলার এই অনুগ্রহের কথাও ভুলে যেয়ো না যে, তিনি মক্কা উপত্যকায় মুশরিকদের হস্ত তোমাদের হতে নিবারিত করেন এবং তোমাদের হস্ত তাদের হতে নিবারিত করেন তাদের উপর তোমাদেরকে বিজয়ী করবার পর। অর্থাৎ তিনি মুশরিকদের হাত তোমাদের পর্যন্ত পৌঁছতে দেননি, তারা তোমাদেরকে আক্রমণ করেনি। আবার তোমাদেরকেও তিনি মসজিদে হারামের পার্শ্বে যুদ্ধ করা হতে ফিরিয়ে রাখেন এবং তোমাদের ও তাদের মধ্যে সন্ধি করিয়ে দেন। এটা তোমাদের জন্যে দুনিয়া ও আখিরাত উভয় দিক দিয়েই উত্তম। এই সূরারই তাফসীরে হযরত সালমা ইবনে আকওয়া ( রাঃ ) বর্ণিত যে হাদীসটি গত হয়েছে তা স্মরণ থাকতে পারে যে, যখন সত্তর জন কাফিরকে বেঁধে সাহাবীগণ ( রাঃ ) রাসূলুল্লাহ( সঃ )-এর সামনে পেশ করেন তখন তিনি বলেনঃ “ এদেরকে ছেড়ে দাও । মন্দের সূচনা এদের দ্বারাই হয়েছে এবং এর পুনরাবৃত্তিও এদের দ্বারাই হবে।” এ ব্যাপারেই ( আরবী )-এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। হযরত আনাস ( রাঃ ) হতে বর্ণিত আছে যে, হুদায়বিয়ার সন্ধির দিন মক্কার আশিজন কাফির সুযোগ পেয়ে অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত অবস্থায় তানঈম পাহাড়ের দিক হতে নেমে আসে। কিন্তু রাসূলুল্লাহ( সঃ ) অসতর্ক ছিলেন না। তিনি তৎক্ষণাৎ সাহাবীদেরকে ( রাঃ ) খবর দেন। সুতরাং তাদের সকলকেই গ্রেফতার করে নিয়ে আসা হয় এবং রাসূলুল্লাহ( সঃ )-এর সামনে পেশ করা হয়। রাসূলুল্লাহ( সঃ ) দয়া করে তাদের সবকেই ছেড়ে দেন। এরই বর্ণনা এই আয়াতে রয়েছে। ( এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ ) বর্ণনা করেছেন। ইমাম মুসলিম ( রঃ ), ইমাম আবু দাউদ ( রঃ ), ইমাম তিরমিযী ( রঃ ) এবং ইমাম নাসাঈ ( রঃ )-ও এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন)হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল আল মুযানী ( রাঃ ) হতে বর্ণিত, তিনি। বলেনঃ “ যে গাছটির কথা কুরআন কারীমের মধ্যে বর্ণিত হয়েছে ঐ গাছটির নীচে রাসূলুল্লাহ( সঃ ) অবস্থান করছিলেন । আমরাও তাঁর চতুম্পার্শ্বে ছিলাম। ঐ গাছটির শাখাগুলো রাসূলুল্লাহ( সঃ )-এর কোমর পর্যন্ত লটকে ছিল। তার সামনে হযরত আলী ( রাঃ ) বিদ্যমান ছিলেন এবং সুহাইল ইবনে আমরও তাঁর সামনে ছিল। রাসূলুল্লাহ( সঃ ) হযরত আলী ( রাঃ )-কে বলেনঃ “ বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম’ লিখো । এ কথা শুনে সুহাইল রাসূলুল্লাহ( সঃ )-এর হাত ধরে নেয় এবং বলেঃ “ রহমান ও রাহীমকে আমরা চিনি না । আমাদের এই সন্ধিপত্রটি আমাদের দেশপ্রথা অনুযায়ী লিখিয়ে নিন।” রাসূলুল্লাহ( সঃ ) তখন হযরত আলী ( রাঃ )-কে বলেনঃ ( আরবী ) “ লিখো ।” তারপর লিখলেনঃ “ এটা ঐ জিনিস যার উপর আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ ( সঃ ) মক্কাবাসীর সাথে সন্ধি করেছেন ।” এ কথায় সুহাইল পুনরায় রাসূলুল্লাহ ( সঃ )-এর হাত ধরে নেয় এবং বলেঃ “ আপনি যদি আল্লাহর রাসূল ( সঃ )-ই হন তাহলে তো আমরা আপনার উপর যুলুম করেছি । এই সন্ধি নামায় ঐ কথাই লিখিয়ে নিন। যা আমাদের মধ্যে প্রসিদ্ধ হয়ে রয়েছে।” তখন রাসূলুল্লাহ( সঃ ) হযরত আলী ( রাঃ )-কে বললেনঃ “ লিখো, এটা ঐ জিনিস যার উপর মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ্ ( সঃ ) মক্কাবাসীর সাথে সন্ধি করেছেন । ইতিমধ্যে অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত ত্রিশজন কাফির যুবক এসে পড়ে। রাসূলুল্লাহ( সঃ ) তাদের বিরুদ্ধে বদ দু'আ করেন। আল্লাহ্ তাদেরকে বধির করে দেন। সাহাবীগণ ( রাঃ ) উঠে তখন তাদেরকে পাকড়াও করেন। রাসূলুল্লাহ( সঃ ) তাদেরকে জিজ্ঞেস করেনঃ “ তোমাদেরকে কেউ কি নিরাপত্তা দান করেছে, না তোমরা কারো দায়িত্বের উপর এসেছো?” তারা উত্তরে বলেঃ “না ।” এতদসত্ত্বেও নবী ( সঃ ) তাদেরকে ক্ষমা করে দেন এবং ছেড়ে দেন। তখন আল্লাহ্ তাবারাকা ওয়া তা'আলা ....
( আরবী )-এ আয়াতটি অবতীর্ণ করেন।” ( এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ ) ও ইমাম নাসাঈ ( রঃ ) বর্ণনা করেছেন)হযরত ইবনে ইযী ( রাঃ ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ( সঃ ) যখন কুরবানীর জন্তু সঙ্গে নিয়ে চললেন এবং যুলহুলাইফা নামক স্থান পর্যন্ত পৌছে গেলেন তখন হযরত উমার ( রাঃ ) আরয করলেনঃ “ হে আল্লাহর নবী ( সঃ )! আপনি এমন এক কওমের পল্লীতে যাচ্ছেন যাদের বহু যুদ্ধাস্ত্র রয়েছে, আর আপনি এ অবস্থায় যাচ্ছেন যে, আপনার কাছে অস্ত্র-শস্ত্র কিছুই নেই । হযরত উমার ( রাঃ )-এর একথা শুনে রাসূলুল্লাহ( সঃ ) তোক পাঠিয়ে মদীনা হতে অস্ত্র-শস্ত্র এবং সমস্ত আসবাবপত্র আনিয়ে নিলেন। যখন তিনি মক্কার নিকটবর্তী হলেন তখন মুশরিকরা তাকে বাধা দিলো এবং বললো যে, তিনি যেন মক্কায় না যান। তিনি সফর অব্যাহত রাখলেন এবং মিনায় গিয়ে অবস্থান করলেন। তার গুপ্তচর এসে তাকে খবর দিলেন যে, ইকরামা ইবনে আবু জেহেল পাচশ' সৈন্য নিয়ে তার উপর আক্রমণ করতে আসছে। তিনি তখন হযরত খালিদ ইবনে ওয়ালিদ ( রাঃ )-কে বলেনঃ “ হে খালিদ ( রাঃ )! তোমার চাচাতো ভাই সেনাবাহিনী নিয়ে আমাদের উপর হামলা করতে আসছে, এখন কি করবে?” উত্তরে হযরত খালিদ ( রাঃ ) বলেনঃ “তাতে কি হলো? আমি তো আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূল ( সঃ )-এর তরবারী?" সেই দিন হতেই তাঁর উপাধি দেয়া হয় সাইফুল্লাহ্ ( আল্লাহর তরবারী ) অতঃপর হযরত খালিদ ( রাঃ ) বলেনঃ “ আপনি আমাকে যেখানে ইচ্ছা এবং যার সাথে ইচ্ছা মুকাবিলা করতে পাঠিয়ে দিন ।” এরপর হযরত খালিদ ( রাঃ ) ইকরামা ( রাঃ )-এর মুকাবিলায় বেরিয়ে পড়েন। যুদ্ধ ঘাঁটিতে উভয়ের মধ্যে মুকাবিলা হয়। হযরত খালিদ ( রাঃ ) তাঁকে এমন কঠিনভাবে আক্রমণ করেন যে, তিনি যুদ্ধক্ষেত্রে টিকতে না পেরে মক্কায় ফিরে যেতে বাধ্য হন। হযরত খালিদ ( রাঃ ) ইকরামা ( রাঃ )-কে মক্কার গলি পর্যন্ত পৌছিয়ে দিয়ে ফিরে আসেন। কিন্তু ইকরামা ( রাঃ ) পুনরায় নতুনভাবে সজ্জিত হয়ে মুকাবিলায় এগিয়ে আসেন। এবারও তিনি পরাজিত হয়ে মক্কার গলি পর্যন্ত পৌছে যান। ইকরামা ( রাঃ ) তৃতীয়বার আবার আসেন। এবারও একই অবস্থা হয়। এরই বর্ণনা ...( আরবী )-এই আয়াতে রয়েছে। আল্লাহ তা'আলা রাসূলুল্লাহ( সঃ )-এর সফলতা সত্ত্বেও কাফিরদেরকেও বাঁচিয়ে নেন যাতে মক্কায় অবস্থানরত দুর্বল মুসলমানরা ইসলামী সেনাবাহিনী কর্তৃক আঘাতপ্রাপ্ত না হয়। ( ইমাম ইবনে জারীর (রঃ ) এটা বর্ণনা করেছেন)কিন্তু এই রিওয়াইয়াতের ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনার অবকাশ রয়েছে। এটা হুদায়বিয়ার ঘটনা হওয়া অসম্ভব। কেননা, তখন পর্যন্ত হযরত খালিদ ( রাঃ )-ই তো মুসলমান হননি। বরং ঐ সময় তিনি মুশরিকদের সেনাবাহিনীর সেনাপতি ছিলেন, যেমন এটা সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। এও হতে পারে যে, এটা উমরাতুল কাযার ঘটনা। কেননা, হুদায়বিয়ার সন্ধিনামায় এটাও একটা শর্ত ছিল যে, আগামী বছর রাসূলুল্লাহ( সঃ ) উমরা করার উদ্দেশ্যে মক্কায় আসবেন এবং তিন দিন পর্যন্ত তথায় অবস্থান করবেন। সুতরাং এই শর্ত মুতাবেক যখন রাসূলুল্লাহ( সঃ ) মক্কায় আগমন করেন তখন মক্কাবাসী মুশরিকরা তাকে বাধাও দেয়নি এবং তার সাথে যুদ্ধ-বিগ্রহেও লিপ্ত হয়নি। অনুরূপভাবে এটা মক্কা বিজয়ের ঘটনাও হতে পারে না। কেননা, ঐ বছর রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) কুরবানীর জন্তু সঙ্গে নিয়ে যাননি। ঐ সময় তো তিনি যুদ্ধের উদ্দেশ্যে গিয়েছিলেন। সুতরাং এই রিওয়াইয়াতে বড়ই গোলমাল রয়েছে। এটা অবশ্যই ত্রুটিমুক্ত নয়। সুতরাং এ ব্যাপারে চিন্তা-গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তাআলাই সবচেয়ে ভাল জানেন।হযরত ইবনে আব্বাস ( রাঃ )-এর গোলাম হযরত ইকরামা ( রাঃ ) বলেন যে, কুরায়েশরা চল্লিশ বা পঞ্চাশজন লোককে এই উদ্দেশ্যে প্রেরণ করে যে, তারা যেন রাসূলুল্লাহ ( সঃ )-এর সেনাবাহিনীর চতুর্দিকে ঘোরাফেরা করে এবং সুযোগ পেলে যেন তাদের ক্ষতি সাধন করে কিংবা যেন কাউকেও গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। এদের সকলকেই পাকড়াও করা হয় এবং রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) সবকেই ক্ষমা করেন ও ছেড়ে দেন। তারা তার সেনাবাহিনীর উপর কিছু পাথর এবং তীরও নিক্ষেপ করেছিল।এটাও বর্ণিত আছে যে, ইবনে যানীম ( রাঃ ) নামক একজন সাহাবী হুদায়বিয়ার একটি ছোট পাহাড়ের উপর আরোহণ করেছিলেন। মুশরিকরা তার প্রতি তীর নিক্ষেপ করে তাঁকে শহীদ করে দেয়। রাসূলুল্লাহ( সঃ ) তাঁর কিছু অশ্বারোহীকে তাদের পশ্চাদ্ধাবনে পাঠিয়ে দেন। তারা তাদের সবকেই গ্রেফতার করে আনেন। তারা ছিল বারো জন অশ্বারোহী। রাসূলুল্লাহ( সঃ ) তাদেরকে জিজ্ঞেস করেনঃ “ আমার পক্ষ থেকে তোমাদেরকে কোন নিরাপত্তা দেয়া হয়েছে কি?” তারা উত্তরে বলেঃ “না ।” তিনি আবার প্রশ্ন করেনঃ “ কোন অঙ্গীকার ও চুক্তি আছে কি?” তারা জবাব দেয়ঃ “না ।” কিন্তু এতদসত্ত্বেও রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) তাদেরকে ছেড়ে দেন। এই ব্যাপারেই ( আরবী )-এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়।

সূরা ফাত্হ আয়াত 21 সূরা

وأخرى لم تقدروا عليها قد أحاط الله بها وكان الله على كل شيء قديرا

سورة: الفتح - آية: ( 21 )  - جزء: ( 26 )  -  صفحة: ( 513 )


English Türkçe Indonesia
Русский Français فارسی
تفسير Urdu اعراب

বাংলায় পবিত্র কুরআনের আয়াত

  1. তিনি পরম দয়াময়, আরশে সমাসীন হয়েছেন।
  2. যারা মুমিন, তাদের জন্যে কি আল্লাহর স্মরণে এবং যে সত্য অবর্তীর্ণ হয়েছে, তার কারণে হৃদয়
  3. বলে দাও, যদি আল্লাহ চাইতেন, তবে আমি এটি তোমাদের সামনে পড়তাম না, আর নাইবা তিনি
  4. এবং তোমরাও অপেক্ষা করে থাক, আমরাও অপেক্ষায় রইলাম।
  5. তার কাছে কি অদৃশ্যের জ্ঞান আছে যে, সে দেখে?
  6. অতঃপর তাদের কথাবার্তা বন্ধ হয়ে যাবে এবং তারা একে অপরকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে না।
  7. তোমরা কাফেরদেরকে পৃথিবীতে পরাক্রমশালী মনে করো না। তাদের ঠিকানা অগ্নি। কতই না নিকৃষ্ট এই প্রত্যাবর্তনস্থল।
  8. অতঃপর ইয়াজুজ ও মাজুজ তার উপরে আরোহণ করতে পারল না এবং তা ভেদ করতে ও
  9. জীবমাত্রই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। অতঃপর তোমরা আমারই কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে।
  10. তিনি বললেনঃ বৎস, তোমার ভাইদের সামনে এ স্বপ্ন বর্ণনা করো না। তাহলে তারা তোমার বিরুদ্ধে

বাংলায় কোরআনের সূরা পড়ুন :

সুরত আল বাক্বারাহ্ আলে ইমরান সুরত আন-নিসা
সুরত আল-মায়েদাহ্ সুরত ইউসুফ সুরত ইব্রাহীম
সুরত আল-হিজর সুরত আল-কাহফ সুরত মারইয়াম
সুরত আল-হাজ্জ সুরত আল-ক্বাসাস আল-‘আনকাবূত
সুরত আস-সাজদা সুরত ইয়াসীন সুরত আদ-দুখান
সুরত আল-ফাতহ সুরত আল-হুজুরাত সুরত ক্বাফ
সুরত আন-নাজম সুরত আর-রাহমান সুরত আল-ওয়াক্বি‘আহ
সুরত আল-হাশর সুরত আল-মুলক সুরত আল-হাক্কাহ্
সুরত আল-ইনশিক্বাক সুরত আল-আ‘লা সুরত আল-গাশিয়াহ্

সবচেয়ে বিখ্যাত কোরআন তেলাওয়াতকারীদের কণ্ঠে সূরা ফাত্হ ডাউনলোড করুন:

সূরা Al Fath mp3 : উচ্চ মানের সাথে সম্পূর্ণ অধ্যায়টি Al Fath শুনতে এবং ডাউনলোড করতে আবৃত্তিকারকে বেছে নিন
সুরত ফাত্হ  ভয়েস আহমেদ আল-আজমি
আহমেদ আল-আজমি
সুরত ফাত্হ  ভয়েস ইব্রাহীম আল-আখদার
ইব্রাহীম আল-আখদার
সুরত ফাত্হ  ভয়েস বান্দার বেলাইলা
বান্দার বেলাইলা
সুরত ফাত্হ  ভয়েস খালিদ গালিলি
খালিদ গালিলি
সুরত ফাত্হ  ভয়েস হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
সুরত ফাত্হ  ভয়েস খলিফা আল টুনাইজি
খলিফা আল টুনাইজি
সুরত ফাত্হ  ভয়েস সাদ আল-গামদি
সাদ আল-গামদি
সুরত ফাত্হ  ভয়েস সৌদ আল-শুরাইম
সৌদ আল-শুরাইম
সুরত ফাত্হ  ভয়েস সালাহ আবু খাতর
সালাহ বুখাতীর
সুরত ফাত্হ  ভয়েস আবদুল বাসিত আব্দুল সামাদ
আবদ এল বাসেট
সুরত ফাত্হ  ভয়েস আবদুল রশিদ সুফি
আবদুল রশিদ সুফি
সুরত ফাত্হ  ভয়েস আব্দুল্লাহ্ বাস্‌ফার
আব্দুল্লাহ্ বাস্‌ফার
সুরত ফাত্হ  ভয়েস আবদুল্লাহ আওওয়াদ আল-জুহানী
আবদুল্লাহ আল-জুহানী
সুরত ফাত্হ  ভয়েস আলী আল-হুদায়েফি
আলী আল-হুদায়েফি
সুরত ফাত্হ  ভয়েস আলী জাবের
আলী জাবের
সুরত ফাত্হ  ভয়েস ফারেস আব্বাদ
ফারেস আব্বাদ
সুরত ফাত্হ  ভয়েস মাহের আলমাইকুলই
মাহের আলমাইকুলই
সুরত ফাত্হ  ভয়েস মোহাম্মদ আইয়ুব
মোহাম্মদ আইয়ুব
সুরত ফাত্হ  ভয়েস মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
সুরত ফাত্হ  ভয়েস মুহাম্মাদ জিব্রীল
মুহাম্মাদ জিব্রীল
সুরত ফাত্হ  ভয়েস মুহাম্মদ সিদ্দিক আল মিনশাবি
আল-মিনশাবি
সুরত ফাত্হ  ভয়েস আল হোসারি
আল হোসারি
সুরত ফাত্হ  ভয়েস আল-আফসী
মিশারী আল-আফসী
সুরত ফাত্হ  ভয়েস নাসের আল কাতামি
নাসের আল কাতামি
সুরত ফাত্হ  ভয়েস ইয়াসের আল-দোসারি
ইয়াসের আল-দোসারি


Friday, June 5, 2026

Please remember us in your sincere prayers