কোরান সূরা নাহল আয়াত 24 তাফসীর
﴿وَإِذَا قِيلَ لَهُم مَّاذَا أَنزَلَ رَبُّكُمْ ۙ قَالُوا أَسَاطِيرُ الْأَوَّلِينَ﴾
[ النحل: 24]
যখন তাদেরকে বলা হয়ঃ তোমাদের পালনকর্তা কি নাযিল করেছেন? তারা বলেঃ পূর্ববর্তীদের কিসসা-কাহিনী। [সূরা নাহল: 24]
Surah An-Nahl in Banglaজহুরুল হক সূরা বাংলা Surah Nahl ayat 24
আর যখন তাদের বলা হয় -- ''তোমাদের প্রভু কী বিষয়বস্তু অবতারণ করেছেন?’’ তারা বলে -- ''সেকেলে গালগল্প!’’
Tafsir Mokhtasar Bangla
২৪. যারা আল্লাহর এককত্ব ও পুনরুত্থানকে অস্বীকার করে তাদেরকে যখন বলা হয়, আল্লাহ তা‘আলা মুহাম্মাদ ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) এর উপর কী নাযিল করেছেন? তখন তারা বলে, তিনি তার উপর কিছুই নাযিল করেননি। বরং সে নিজ থেকেই কিছু পূর্ববর্তীদের ঘটনা ও মিথ্যা কাহিনী নিয়ে এসেছে।
Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান
যখন তাদেরকে বলা হয়, ‘তোমাদের প্রতিপালক কি অবতীর্ণ করেছেন?’ উত্তরে তারা বলে, ‘পূর্ববর্তীদের উপকথা।’[১] [১] বৈমুখ্য ও বিদ্রূপ প্রকাশ করে মিথ্যায়নকারীরা উত্তরে বলত, আল্লাহ তাআলা কিছুই অবতীর্ণ করেননি। আর মুহাম্মাদ যা কিছু পাঠ করে তা হল পূর্ববর্তীদের উপকথা; যা অপরের নিকট থেকে শুনে বর্ণনা করে।
Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স
আর যখন তাদেরকে বলা হয়, তোমাদের রব কী নাযিল করেছেন? তখন তারা বলে, পূর্ববর্তীদের উপকথা! [ ১ ]’ [ ১ ] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দাওয়াতের চর্চা যখন চারদিকে হতে লাগলো তখন মক্কার লোকেরা যেখানেই যেতো সেখানেই তাদেরকে জিজ্ঞেস করা হতো, তোমাদের ওখানে যে ব্যক্তি নবী হয়ে এসেছেন তিনি কি শিক্ষা দেন? কুরআন কোন ধরনের কিতাব, তার মধ্যে কি বিষয়ের আলোচনা করা হয়েছে? ইত্যাদি ইত্যাদি। এ ধরনের প্রশ্নের জবাবে মক্কার কাফেররা সবসময় এমন সব শব্দ প্রয়োগ করতো যাতে প্রশ্নকারীর মনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তিনি যে কিতাবটি এনেছেন সে সম্পর্কে কোন না কোন সন্দেহ জাগতো অথবা কমপক্ষে তার মনে নবীর বা তাঁর নবুওয়াতের ব্যাপারে সকল প্রকার আগ্রহ খতম হয়ে যেত। [ এ ব্যাপারে আরো দেখুন, সূরা আল-ফুরকানঃ ৫ ] এভাবেই তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর মিথ্যাচার করতো এবং তার সম্পর্কে পরস্পর বিরোধী সম্পূর্ণ অসার অলীক বাতিল কথাবার্তা বলতো। কেননা যারাই হকের বিপরীতে কথা বলবে, তারা যত প্রকারের কথাই বলুক না কেন, সবই ভুল ও অসার হতে বাধ্য। তারা বলত, জাদুকর, কবি, গণক, পাগল। শেষ পর্যন্ত তারা তাদের সবচেয়ে বড় শিক্ষক ওলীদ ইবন মুগীরা আল-মাখযুমী যা বলেছিল তাতেই সবাই একমত হয়েছিল। আল্লাহ বলেন, “ সে তো চিন্তা করল এবং সিদ্ধান্ত করল । সুতরাং ধ্বংস হোক সে! কেমন করে সে এ সিদ্ধান্ত করল! তারপরও ধবংস হোক সে! কেমন করে সে এ সিদ্ধান্তে উপনীত হল! তারপর সে তাকাল। তারপর সে ভ্ৰকুঞ্চিত করল ও মুখ বিকৃত করল। তারপর সে পিছন ফিরল এবং অহংকার করল। অতঃপর সে বলল, এটা তো লোক পরম্পরায় প্রাপ্ত জাদু ভিন্ন আর কিছু নয়।” [ সূরা আল-মুদ্দাসসির: ২৪ ] অর্থাৎ বলা হয়ে থাকে যে, তার আনিত বিষয় জাদু। শেষপর্যন্ত তারা এটার উপর পরস্পর একমত হয়ে চলে যায়। [ ইবন কাসীর ]
Tafsir ibn kathir bangla তাফসীর ইবনে কাসীর
২৪-২৫ নং আয়াতের তাফসীর আল্লাহ তাআলা বলেন, এই মিথ্যা প্রতিপন্নকারীদের যখন বলা হয়ঃ “ আল্লাহর কিতাবে কি অবতীর্ণ করা হয়েছে?” তখন তারা প্রকৃত উত্তর দান থেকে সরে গিয়ে হুট করে বলে ফেলেঃ ‘এতে পূর্ববর্তীদের কাহিনী ছাড়া আর কিছুই অবতীর্ণ করা হয় নাই । ঐ গুলিই লিখে নেয়া হয়েছে এবং সকালসন্ধ্যায় বার বার পাঠ করা হচ্ছে। সুতরাং তারা আল্লাহর রাসূলের ( সঃ ) উপর মিথ্যা আরোপ করছে। কখনো তারা একটা কথা বলে, আবার কখনো তার বিপরীত কথা বলে। প্রকৃত পক্ষে তারা একটা কথার উপর স্থির থাকতে পারে না। আর তাদের সমস্ত উক্তি বাজে ও ভিত্তিহীন হওয়ার এটাই বড় প্রমাণ। যারাই এভাবে হক থেকে সরে যায় তারা এভাবেই বিভ্রান্ত হয়ে ফিরে। কখনো তারা রাসূলুল্লাহকে ( সঃ ) যাদুকর বলে, কখনো বলে-কবি, কখনো বলেভবিষ্যদ্বক্তা, আবার কখনো বলে-পাগল। অতঃপর তাদের বৃদ্ধগুরু ওয়ালীদ ইবনু মুগীরা বলেঃ “ তোমরা সবাই মিলিতভাবে তার কথাকে যাদু বল ।”মহান আল্লাহ বলেনঃ “ আমি তাদেরকে এই পথে এজন্যেই চালিত করেছি যে, যেন তারা তাদের নিজেদের পূর্ণপাপসহ তাদের অনুসারীদের পাপও নিজেদের স্কন্ধে চাপিয়ে নেয় । সুতরাং তাদের ঐ উক্তির ফল হবে অতি মারাত্মক। যেমন হাদীসে এসেছেঃ যে ব্যক্তি হিদায়াতের দিকে আহ্বান করে। সে ওটা মান্যকারীদের সমপরিমাণ পূণ্য লাভ করে, কিন্তু তাদের পুণ্যের একটুও কম হয় না। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি অসৎ কাজের দিকে আহ্বান করে সে ওটা পালনকারীদের সমপরিমাণ পাপের অধিকারী এবং তাদের পাপ মোটেই কম করা হয় না। যেমন মহান আল্লাহ বলেনঃ ( আরবি ) অর্থাৎ “ এবং অবশ্যই তারা নিজেদের পাপের সাথে সাথে আরো পাপের বোঝা বহন করবে এবং তাদের মিথ্যা আরোপের কারণে কিয়ামতের দিন অবশ্যই তারা জিজ্ঞাসিত হবে ।” ( ২৯:১৩ ) সুতরাং তারা তাদের অনুসারীদের পাপের বোঝা বহন করবে বটে, কিন্তু অনুসারীদের পাপের বোঝা মোটেই হালকা করা হবে না ( বরং তাদেরকে তাদের পাপের বোঝা বহন করতেই হবে )
সূরা নাহল আয়াত 24 সূরা
| English | Türkçe | Indonesia |
| Русский | Français | فارسی |
| تفسير | Urdu | اعراب |
বাংলায় পবিত্র কুরআনের আয়াত
- আমি আপনার পূর্বে পূর্ববর্তী সম্প্রদায়ের মধ্যে রসূল প্রেরণ করেছি।
- আল্লাহর পক্ষ থেকে যে সত্য এসেছে, তার ব্যতিক্রম কিছু না বলার ব্যাপারে আমি সুদৃঢ়। আমি
- অতঃপর তাদের কথাবার্তা বন্ধ হয়ে যাবে এবং তারা একে অপরকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে না।
- যে কেউ পরকালের ফসল কামনা করে, আমি তার জন্যে সেই ফসল বাড়িয়ে দেই। আর যে
- আর তোমরা তাঁকে বাদ দিয়ে যাদেরকে ডাক তারা না তোমাদের কোন সাহায্য করতে পারবে, না
- ফেরাউন তার সম্প্রদায়কে ডেকে বলল, হে আমার কওম, আমি কি মিসরের অধিপতি নই? এই নদী
- তোমার পালনকর্তা আদেশ করেছেন যে, তাঁকে ছাড়া অন্য কারও এবাদত করো না এবং পিতা-মাতার সাথে
- যখন মূসা তাঁর যুবক (সঙ্গী) কে বললেনঃ দুই সমুদ্রের সঙ্গমস্থলে না পৌছা পর্যন্ত আমি আসব
- তিনি বললেন, হে পালনকর্তা আমার জন্য কিছু নিদর্শন দাও। তিনি বললেন, তোমার জন্য নিদর্শন হলো
- অতঃপর তাদের কাছে যখন আমার আযাব আসল, তখন কেন কাকুতি-মিনতি করল না ? বস্তুতঃ তাদের
বাংলায় কোরআনের সূরা পড়ুন :
সবচেয়ে বিখ্যাত কোরআন তেলাওয়াতকারীদের কণ্ঠে সূরা নাহল ডাউনলোড করুন:
সূরা Nahl mp3 : উচ্চ মানের সাথে সম্পূর্ণ অধ্যায়টি Nahl শুনতে এবং ডাউনলোড করতে আবৃত্তিকারকে বেছে নিন
আহমেদ আল-আজমি
ইব্রাহীম আল-আখদার
বান্দার বেলাইলা
খালিদ গালিলি
হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
খলিফা আল টুনাইজি
সাদ আল-গামদি
সৌদ আল-শুরাইম
সালাহ বুখাতীর
আবদ এল বাসেট
আবদুল রশিদ সুফি
আব্দুল্লাহ্ বাস্ফার
আবদুল্লাহ আল-জুহানী
আলী আল-হুদায়েফি
আলী জাবের
ফারেস আব্বাদ
মাহের আলমাইকুলই
মোহাম্মদ আইয়ুব
মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
মুহাম্মাদ জিব্রীল
আল-মিনশাবি
আল হোসারি
মিশারী আল-আফসী
নাসের আল কাতামি
ইয়াসের আল-দোসারি
Please remember us in your sincere prayers



