কোরান সূরা তাগাবুন আয়াত 3 তাফসীর
﴿خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ بِالْحَقِّ وَصَوَّرَكُمْ فَأَحْسَنَ صُوَرَكُمْ ۖ وَإِلَيْهِ الْمَصِيرُ﴾
[ التغابن: 3]
তিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলকে যথাযথভাবে সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদেরকে আকৃতি দান করেছেন, অতঃপর সুন্দর করেছেন তোমাদের আকৃতি। তাঁরই কাছে প্রত্যাবর্তন। [সূরা তাগাবুন: 3]
Surah At-Taghabun in Banglaজহুরুল হক সূরা বাংলা Surah Taghabun ayat 3
তিনি মহাকাশমন্ডল ও পৃথিবীকে সৃষ্টি করেছেন যথাযথভাবে, আর তিনি তোমাদের আকৃতি দিয়েছেন, তারপর তোমাদের আকৃতিকে কত সুন্দর করেছেন! আর তাঁরই কাছে শেষ-প্রত্যাবর্তন।
Tafsir Mokhtasar Bangla
৩. আল্লাহ আসমান ও যমীনকে সত্যিকারার্থেই সৃষ্টি করেছেন। এতদুভয়কে তিনি অনর্থক সৃষ্টি করেন নি। হে মানব সমাজ! তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের আকৃতিকে তাঁর নিজ অনুগ্রহে সুন্দর করেছেন। তিনি চাইলে তা কুৎসিত করতে পারতেন। এককভাবে কিয়ামত দিবসে তাঁর নিকটই প্রত্যাবর্তন করতে হবে। ফলে তিনি তোমাদের কাজের বদলা দিবেন। ভলো কাজের প্রতিদান হবে ভালো। আর মন্দ কাজের প্রতিদান হবে মন্দ।
Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান
তিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী যথাযথভাবে সৃষ্টি করেছেন।[১] তিনি তোমাদেরকে আকৃতি দান করেছেন এবং তোমাদের আকৃতি সুন্দর করেছেন। [২] আর প্রত্যাবর্তন তো তাঁরই নিকট। [৩] [১] অর্থাৎ, তা তিনি অযথা সৃষ্টি করেননি। বরং এর সৃষ্টির পিছনে ন্যায়পরায়ণতা ও যুক্তি আছে। আর তার দাবী হল, নেককারকে তার নেকীর এবং বদকারকে তার বদীর বদলা দেওয়া হোক। সুতরাং তিনি এই ন্যায়পরায়ণতার ( দাবীর ) পরিপূর্ণ প্রকাশ ঘটাবেন কিয়ামতের দিন।[২] তোমাদের আকৃতি, শারীরিক গঠন এবং চেহারার আকৃতি এত সুন্দর বানিয়েছেন যে, আল্লাহর অন্য সৃষ্টিকুল এ থেকে বঞ্চিত। যেমন, সূরা ইনফিত্বার ৮২:৬-৮ এবং সূরা মু'মিন ৪০:৬৪ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, ﴿يَا أَيُّهَا الْأِنْسَانُ مَا غَرَّكَ بِرَبِّكَ الْكَرِيمِ * الَّذِي خَلَقَكَ فَسَوَّاكَ فَعَدَلَكَ* فِي أَيِّ صُورَةٍ مَا شَاءَ رَكَّبَكَ﴾ ( الانفطار:৬-৮ )﴿وَصَوَّرَكُمْ فَأَحْسَنَ صُوَرَكُمْ وَرَزَقَكُمْ مِنَ الطَّيِّبَاتِ ﴾ ( المؤمن:৬৪ )[৩] অন্য কারো কাছে নয় যে, আল্লাহর পাকড়াও ও হিসাব-নিকাশ হতে বেঁচে যাবে।
Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স
তিনি সৃষ্টি করেছেন আসমানসমূহ ও যমীন যথাযথভাবে এবং তোমাদেরকে আকৃতি দান করেছেন, অতঃপর তোমাদের আকৃতি করেছেন সুশোভন [ ২ ]। আর ফিরে যাওয়া তো তাঁরই কাছে। [ ১ ] যেমন অন্য আয়াতে এসেছে, “ হে মানুষ! কিসে তোমাকে তোমার মহান রব সম্পর্কে বিভ্রান্ত করল? যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তোমাকে সুঠাম করেছেন এবং সুসামঞ্জস্য করেছেন, যে আকৃতিতে চেয়েছেন, তিনি তোমাকে গঠন করেছেন ।” [ সূরা আল-ইনফিতার: ৬-৮ ]
Tafsir ibn kathir bangla তাফসীর ইবনে কাসীর
আবার এটাকে মাক্কী সূরাও বলা হয়েছে। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমার ( রাঃ ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) বলেছেনঃ “ যে শিশু জন্মগ্রহণ করে তার মাথার জোড়ে সূরায়ে তাগায়ূনের পাঁচটি আয়াত লিখিত থাকে । ( ইমাম তিবরানী (রঃ ) এটা বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে আসাকির ( রঃ ) ওয়ালী ইবনে সালেহ এর জীবনীতে আনয়ন করেছেন। কিন্তুটি হাদীসটি গারীব এমনকি মুনকারও বটে) ১-৪ নং আয়াতের তাফসীর সাব্বাহাতের সূরাগুলোর মধ্যে এটাই সর্বশেষ সূরা। সৃষ্টি কুলের আল্লাহ্ পাকের তাসবীহ্ পাঠের বর্ণনা কয়েকবার দেয়া হয়েছে। রাজত্ব ও প্রশংসার অধিকারী একমাত্র আল্লাহ্। সব কিছুরই উপর রয়েছে তাঁর কর্তৃত্ব, প্রত্যেক কাজ ও প্রত্যেক জিনিসের পরিমাপ বা মূল্যায়ন নির্ধারণকারী তিনিই। তিনিই প্রশংসারযোগ্য। যে জিনিসের তিনি ইচ্ছা করেন তা তিনি কার্যে পরিণতকারী। কেউই তাঁর কোন কাজে বাধা সৃষ্টি করতে পারে না। তিনি না চাইলে কোন কিছুই হবে না। তিনি সারা মাখলূকের সৃষ্টিকর্তা। তাঁরই ইচ্ছায় মানবমণ্ডলীর কেউ হয়েছে কাফির এবং কেউ হয়েছে মুমিন। কে হিদায়াতের যোগ্য এবং কে গুমরাহীর যোগ্য তা তিনি সম্যক অবগত। তিনি স্বীয় বান্দাদের সমৃদয় কাজকর্ম প্রত্যক্ষকারী। তাদেরকে তিনি তাদের সমুদয় কাজের প্রতিদান প্রদানকারী। তিনি আদল ও হিকমতের সাথে আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন। তিনিই মানুষকে আকৃতি দান করেছেন। যেমন অন্য জায়গায় রয়েছেঃ ( আরবি )অর্থাৎ “ হে মানুষ! কিসে তোমাকে তোমার মহান প্রতিপালক সম্বন্ধে বিভ্রান্ত করলো? যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তোমাকে সুঠাম করেছেন এবং সুসমঞ্জস করেছেন, যেই আকৃতিতে চেয়েছেন, তিনি তোমাকে গঠন করেছেন ।” ( ৮২:৬-৮ ) মহান আল্লাহ আর এক জায়গায় বলেনঃ ( আরবি )অর্থাৎ “ আল্লাহ তিনিই যিনি তোমাদের জন্যে যমীনকে শান্তির স্থল বানিয়েছেন এবং আসমানকে বানিয়েছেন ছাদ স্বরূপ, আর তোমাদেরকে আকৃতি দান করেছেন- তোমাদের আকৃতি করেছেন সুশোভন এবং তোমাদেরকে উৎকৃষ্ট ও পবিত্র বস্তু হতে রিয্ক দান করেছেন ।” ( ৪০:৬৪ )মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ প্রত্যাবর্তন তো তাঁরই নিকট। আল্লাহ তা'আলা যে আকাশ ও পৃথিবীর সমুদয় বিষয় অবগত আছেন এ সম্পর্কে খবর দিতে গিয়ে তিনি বলেনঃ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই তিনি জানেন এবং তিনি জানেন তোমরা যা গোপন কর ও তোমরা যা প্রকাশ কর এবং তিনি অন্তর্যামী।
সূরা তাগাবুন আয়াত 3 সূরা
| English | Türkçe | Indonesia |
| Русский | Français | فارسی |
| تفسير | Urdu | اعراب |
বাংলায় পবিত্র কুরআনের আয়াত
- অতএব আপনার পালনকর্তার উদ্দেশ্যে নামায পড়ুন এবং কোরবানী করুন।
- ইব্রাহীম (আঃ) বললেন, তোমরা যখন আহবান কর, তখন তারা শোনে কি?
- গণনার কয়েকটি দিনের জন্য অতঃপর তোমাদের মধ্যে যে, অসুখ থাকবে অথবা সফরে থাকবে, তার পক্ষে
- আমরা ওহী লাভ করেছি যে, যে ব্যক্তি মিথ্যারোপ করে এবং মুখ ফিরিয়ে নেয়, তার উপর
- গৃহে অবস্থানকারী মরুবাসীদেরকে বলে দিনঃ আগামীতে তোমরা এক প্রবল পরাক্রান্ত জাতির সাথে যুদ্ধ করতে আহুত
- যখন তাদেরকে বোঝানো হয়, তখন তারা বোঝে না।
- ফেরাউন বলল; তোমরা আমাকে ছাড়, মূসাকে হত্যা করতে দাও, ডাকুক সে তার পালনকর্তাকে! আমি আশংকা
- অন্ধকার রাত্রির অনিষ্ট থেকে, যখন তা সমাগত হয়,
- বস্তুতঃ আমি তাদেরকে ঢিল দিয়ে থাকি। নিঃসন্দেহে আমার কৌশল সুনিপুণ।
- তাদেরকে এছাড়া কোন নির্দেশ করা হয়নি যে, তারা খাঁটি মনে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর এবাদত করবে, নামায
বাংলায় কোরআনের সূরা পড়ুন :
সবচেয়ে বিখ্যাত কোরআন তেলাওয়াতকারীদের কণ্ঠে সূরা তাগাবুন ডাউনলোড করুন:
সূরা Taghabun mp3 : উচ্চ মানের সাথে সম্পূর্ণ অধ্যায়টি Taghabun শুনতে এবং ডাউনলোড করতে আবৃত্তিকারকে বেছে নিন
আহমেদ আল-আজমি
ইব্রাহীম আল-আখদার
বান্দার বেলাইলা
খালিদ গালিলি
হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
খলিফা আল টুনাইজি
সাদ আল-গামদি
সৌদ আল-শুরাইম
সালাহ বুখাতীর
আবদ এল বাসেট
আবদুল রশিদ সুফি
আব্দুল্লাহ্ বাস্ফার
আবদুল্লাহ আল-জুহানী
আলী আল-হুদায়েফি
আলী জাবের
ফারেস আব্বাদ
মাহের আলমাইকুলই
মোহাম্মদ আইয়ুব
মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
মুহাম্মাদ জিব্রীল
আল-মিনশাবি
আল হোসারি
মিশারী আল-আফসী
নাসের আল কাতামি
ইয়াসের আল-দোসারি
Please remember us in your sincere prayers



