কোরান সূরা মুল্ক আয়াত 3 তাফসীর
﴿الَّذِي خَلَقَ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ طِبَاقًا ۖ مَّا تَرَىٰ فِي خَلْقِ الرَّحْمَٰنِ مِن تَفَاوُتٍ ۖ فَارْجِعِ الْبَصَرَ هَلْ تَرَىٰ مِن فُطُورٍ﴾
[ الملك: 3]
তিনি সপ্ত আকাশ স্তরে স্তরে সৃষ্টি করেছেন। তুমি করুণাময় আল্লাহ তা’আলার সৃষ্টিতে কোন তফাত দেখতে পাবে না। আবার দৃষ্টিফেরাও; কোন ফাটল দেখতে পাও কি? [সূরা মুল্ক: 3]
Surah Al-Mulk in Banglaজহুরুল হক সূরা বাংলা Surah Mulk ayat 3
যিনি সাত আকাশ সৃষ্টি করেছেন সুবিন্যস্তভাবে। তুমি পরম করুণাময়ের সৃষ্টিতে কোনো অসামঞ্জস্য দেখতে পাবে না। তারপর তুমি দৃষ্টি ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে নাও, তুমি কি কোনো ফাটল দেখতে পাচ্ছ?
Tafsir Mokhtasar Bangla
৩. যিনি পৃথকভাবে একটির উপর অপরটি রেখে সাত স্তর আসমান সৃষ্টি করেছেন। হে দর্শক! তুমি আল্লাহর সৃষ্টিতে কোনরূপ খুঁত কিংবা অসামঞ্জস্যতা দেখতে পাবে না। তুমি আবারও দৃষ্টি ঘুরিয়ে দেখো। তুমি কি তাতে কোনরূপ ফাটল কিংবা ভাঙ্গন দেখতে পাও?! আদৗ তা দেখতে পাবে না। বরং তুমি কেবল এক নিপুণ ও সুদৃঢ় সৃষ্টি দেখতে পাবে।
Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান
তিনি সৃষ্টি করেছেন স্তরে স্তরে সাত আকাশ। দয়াময় আল্লাহর সৃষ্টিতে তুমি কোন খুঁত দেখতে পাবে না;[১] আবার তাকিয়ে দেখ, কোন ত্রুটি দেখতে পাচ্ছ কি?[২] [১] অর্থাৎ, তাতে কোন অসামঞ্জস্য, কোন বক্রতা এবং কোন ত্রুটি ও খুঁত নেই। বরং তাকে একেবারে সোজা ও সমতল বানানো হয়েছে; যা এ কথা প্রমাণ করে যে, এ সবের সৃষ্টিকর্তা হলেন কেবল একজন, একাধিক নয়। [২] কখনো কখনো এমন হয় যে, দ্বিতীয়বার ভালভাবে লক্ষ্য করলে কোন ঘাটতি বা দোষ-ত্রুটি পরিলক্ষিত হয়। তাই মহান আল্লাহ আহবান করছেন যে, তোমরা বারবার দৃষ্টিপাত করে দেখ, তাতে কোন ছিদ্র বা ফাটল পাও কি না?
Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স
যিনি সৃষ্টি করেছেন স্তরে স্তরে সাত আসমান। রহমানের সৃষ্টিতে আপনি কোন খুঁত দেখতে পাবেন না; আপনি আবার তাকিয়ে দেখুন, কোন ত্রুটি দেখতে পান কি [ ১ ]? [ ১ ] মূল ব্যবহৃত শব্দটি হলো فطور যার অর্থ ফাটল, ছিদ্র, ছেঁড়া, ভাঙা-চোরা। [ কুরতুবী ]
Tafsir ibn kathir bangla তাফসীর ইবনে কাসীর
মুসনাদে আহমাদে হযরত আবূ হুরাইরা ( রাঃ ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) বলেছেনঃ “ কুরআন কারীমে ত্রিশটি আয়াত বিশিষ্ট এমন একটি সূরা রয়েছে যা ওর পাঠকের জন্যে সুপারিশ করতে থাকবে যে পর্যন্ত না তাকে ক্ষমা করে দেয়া হয় । ওটা হলো ( আরবি )-এই সূরাটি। ( এ হাদীসটি সুনানে নাসাঈ, সুনানে আবি দাউদ, জামেউত তিরমিযী এবং সুনানে ইবনে মাজাহতেও বর্ণিত হয়েছে। ইমাম তিরমিযী (রঃ ) এটাকে হাসান বলেছেন) ‘তারীখে ইবনে আসাকির’ গ্রন্থে হযরত আনাস ইবনে মালিক ( রাঃ ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) বলেছেন, তোমাদের পূর্ববর্তী যুগে একটি লোক মারা যায়। তার সাথে আল্লাহর কিতাবের মধ্য হতে সূরা ‘তাবারাকা ছাড়া আর কিছুই ছিল না। তাকে সমাধিস্থ করা হলে ফেরেশতা এসে তার সামনে দাঁড়িয়ে যান। এ দেখে এ সূরাটি ফেরেশতার মুখোমুখি হয়ে যায়। তখন ফেরেশতা সূরাটিকে বলেনঃ “ তুমি আল্লাহর কিতাব । সুতরাং আমি তোমাকে অসন্তুষ্ট করতে চাইনে। তোমার জানা আছে যে, আমি তোমার এই মৃতের এবং আমার নিজের লাভ ক্ষতির কোন অধিকার রাখি না। সুতরাং তুমি যদি একে ( কবরের আযাব হতে ) রক্ষা করতে চাও তবে তুমি তোমার প্রতিপালকের নিকট গমন কর এবং এর জন্যে সুপারিশ কর।” এ সূরাটি তখন মহামহিমান্বিত আল্লাহর নিকট গমন করলো এবং বললোঃ “ হে আমার প্রতিপালক! অমুক ব্যক্তি আপনার কিতাবের মধ্য হতে আমাকে শিখেছে ও পাঠ করেছে । সুতরাং আমি তার বক্ষে রক্ষিত আছি এমতাবস্থায়ও কি আপনি তাকে আগুনে ফেলে শাস্তি দিবেন? যদি তাই করেন তবে আমাকে আপনার কিতাব হতে মুছে ফেলুন। তার এই কথা শুনে আল্লাহ তা'আলা তাকে বলবেনঃ “ তোমাকে তো এ সময় খুবই রাগান্বিত দেখছি ।" সে জবাবে বললোঃ “ অসন্তুষ্টি প্রকাশের আমার অধিকার রয়েছে ।” আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা তখন তাকে বললেনঃ যাও, আমি ঐ ব্যক্তিকে ক্ষমা করে দিলাম এবং তোমার সুপারিশ কবূল করলাম।” এই সূরাটি তখন ঐ লোকটির কাছে ফিরে গেলো এবং আযাবের ফেরেশতাকে সরিয়ে দিলো। অতঃপর ঐ মৃত ব্যক্তির মুখের সাথে নিজের মুখ মিলিয়ে দিয়ে বললোঃ “ এ মুখকে ধন্যবাদ! এই মুখই তো আমাকে পাঠ করতো । এই বক্ষকে মুবারকবাদ! এই বক্ষই তো আমাকে মুখস্থ করে রেখেছিল। ধন্য এ পা দু’টি! এ পা দু’টিই তো আমাকে পাঠের সাথে রাত্রে দাঁড়িয়ে থাকতে।" এ সূরাটি কবরে তাকে কোন প্রকারের দুঃখ কষ্ট পৌঁছতে দিবে না।” বর্ণনাকারী বলেন যে, এ হাদীসটি শোনা মাত্রই ছোট-বড়, আযাদ-গোলাম সবাই এই সূরাটি শিখে নিলো। এই সূরাটির নাম রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) ( আরবি ) রেখেছেন অর্থাৎ মুক্তিদাতা সূরা। ( এ হাদীসটি মুনকার বা অস্বীকৃত। ফুরাত ইসায়েব নামক এর একজন বর্ণনাকারীকে ইমাম আহমাদ (রঃ ), ইমাম ইয়াহইয়া ইবনে মুঈন ( রঃ ), ইমাম বুখারী ( রঃ ), ইমাম আবূ হাতিম ( রঃ ), ইমাম দারকুতনী ( রঃ ) প্রমুখ গুরুজন দুর্বল বলেছেন। অন্য সনদে বর্ণিত আছে যে, এটা ইমাম যুহরী ( রঃ )-এর উক্তি, মারফূ’ হাদীস নয়) ইমাম বায়হাকী ( রঃ ) ইসতাতু আবিল কাবরি’ নামক গ্রন্থে হযরত ইবনে মাসউদ ( রাঃ ) হতে একটি মারফূ’ এবং একটি মাওকুফ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাতে যে বিষয়টি রয়েছে, সেটাও এর সাক্ষীরূপে কাজে লাগতে পারে। আমরা এটাকে আহকামি কুবরার কিতাবুল জানায়েযের মধ্যে বর্ণনা করেছি। সুতরাং আল্লাহ তা'আলারই জন্যে সমস্ত প্রশংসা এবং আমরা তাঁর নিকট কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।হযরত আনাস ( রাঃ ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) বলেছেনঃ “ কুরআন কারীমে এমন একটি সূরা রয়েছে যা তার পাঠকের পক্ষ হতে আল্লাহ তা’আলার সাথে ঝগড়া ও তর্ক-বিতর্ক করে তাকে জান্নাতে প্রবিষ্ট করেছে । ওটা হলো ( আরবি )-এই সূরাটি।” ( এ হাদীসটি তিবরানী (রঃ )-এর হাফিয যিয়া মুকাদ্দসী ( রঃ ) বর্ণনা করেছেন)হযরত ইবনে আব্বাস ( রাঃ ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী ( সঃ )-এর কোন একজন সাহাবী জঙ্গলের এমন এক জায়গায় তার তাঁবু স্থাপন করেন, যেখানে একটি কবর ছিল। কিন্তু ওটা তাঁর জানা ছিল না। তিনি শুনতে পান যে কে যেন সূরা মূলক পাঠ করছেন এবং পূর্ণ সূরাটি পাঠ করেন। ঐ সাহাবী এসে নবী ( সঃ )-এর নিকট ঘটনাটি বর্ণনা করেন। এটা শুনে নবী ( সঃ ) বলেনঃ “ এ সূরাটি হলো বাধাদানকারী এবং মুক্তিদাতা । এটা কবরের আযাব থেকে মুক্তি দিয়ে থাকে। ( এ হাদীসটি ইমাম তিরমিযী (রঃ ) বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এটা গারীব বা দুর্বল হাদীস)হযরত জাবির ( রাঃ ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) শয়নের পূর্বে ( আরবি ) এবং ( আরবি ) সূরা দু’টি পাঠ করতেন। ( এ হাদীসটি ইমাম তিরমিযী (রঃ ) বর্ণনা করেছেন) হযরত তাউস ( রঃ )-এর বর্ণনায় রয়েছে যে, এ সূরা দু’টি কুরআন কারামের অন্যান্য সূরাগুলোর উপর সত্তরটি পুণ্যের ফযীলত রাখে। হযরত ইবনে আব্বাস ( রাঃ ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) বলেছেনঃ “ আমি চাই যে, এ সূরাটি যেন আমার উম্মতের প্রত্যেকের অন্তরেই থাকে । অর্থাৎ ( আরবি )-এই সূরাটি।” ( এ হাদীসটি ইমাম তিবরানী (রঃ ) বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এটা গারীর হাদীসু এর ইবরাহীম নামক বর্ণনাকারী দুর্বল। এ ধরনেরই বর্ণনা সূরা ইয়াসীনের তাফসীরে গত হয়েছে)মুসনাদে আবদ ইবনে হুমাইদে কিছুটা বিস্তারিতভাবে বর্ণিত আছে যে, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস ( রাঃ ) একজন লোককে বলেনঃ “ এসো, আমি তোমাকে এমন একটি উপহার দিই যাতে তুমি সন্তুষ্ট হয়ে যেতে পার । ( তা হলো এই যে, ) তুমি ( আরবি ) সূরাটি পাঠ করবে এবং পরিবারবর্গকে, সন্তান- সন্তুতিকে এবং পাড়া-প্রতিবেশীকে এটা শিখিয়ে দিবে। এ সূরাটি মুক্তিদাতা এবং সুপারিশকারী। কিয়ামতের দিন এটা এই পাঠকের পক্ষ হতে আল্লাহ তা'আলার নিকট সুপারিশ করে তাকে আগুনের শাস্তি হতে বাঁচিয়ে নিবে এবং কবরের আযাব হতেও রক্ষার ব্যবস্থা করবে।”রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) বলেছেনঃ “ আমি আকাক্ষা করি যে, আমার উম্মতের প্রত্যেকের অন্তরেই যেন এ সূরাটি থাকে । ১-৫ নং আয়াতের তাফসীর আল্লাহ তা'আলা নিজের প্রশংসা করছেন এবং খবর দিচ্ছেন যে, সমস্ত মাখলূকের উপর তাঁরই আধিপত্য রয়েছে। তিনি যা চান তাই করেন। তাঁর হুকুমকে কেউ টলাতে পারে না। তাঁর শক্তি, হিকমত এবং ন্যায়পরায়ণতার কারণে কেউ তাঁর কাছে কোন কৈফিয়ত তলব করতে পারে না। তিনি সব কিছুর উপরই পূর্ণ ক্ষমতাবান।এরপর আল্লাহ পাক মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টির বর্ণনা দিয়েছেন। এ আয়াত দ্বারা ঐ লোকগুলো দলীল গ্রহণ করেছেন। যাঁরা বলেন যে, মৃত্যুর অস্তিত্ব রয়েছে। কেননা, ওটাকেও সৃষ্টি করা হয়েছে। এ আয়াতের ভাবার্থ এই যে, আল্লাহ তা'আলা সমস্ত মাখলূকের অস্তিত্বহীনতাকে অস্তিত্বে আনয়ন করেছেন যাতে সকৎর্মশীলদের পরীক্ষা হয়ে যায়। যেমন অন্য জায়গায় রয়েছেঃ ( আরবি )অর্থাৎ “ তোমরা কিরূপে আল্লাহকে অস্বীকার কর? অথচ তোমরা ছিলে মৃত, তিনি তোমাদেরকে জীবন্ত করেছেন ।” ( ২৪:২৮ ) সুতরাং প্রাথমিক অবস্থা অর্থাৎ অস্তিত্বহীনতাকে এখানে মৃত বলা হয়েছে এবং সৃষ্টিকে জীবন্ত বলা হয়েছে। এ জন্যেই এর পরে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা বলেছেনঃ ( আরবি ) অর্থাৎ “ আবার তিনি তোমাদের মৃত্যু ঘটাবেন ও পুনরায় জীবন্ত করবেন ।” ( ২:২৮ )মুসনাদে ইবনে আবি হাতিমে হ্যরত কাতাদাহ ( রঃ ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) আল্লাহ তা'আলার ( আরবি )-এই উক্তি সম্পর্কে বলেনঃ “ আল্লাহ তা'আলা আদম সন্তানকে মৃত্যু দ্বারা লাঞ্ছিত করেন এবং তিনি দুনিয়াকে জীবনের ঘর বানিয়ে দেন, তারপর বানিয়ে দেন মৃত্যুর ঘর । আর আখিরাতকে তিনি প্রতিফল ও প্রতিদানের ঘর বানিয়ে দেন, তারপর বানিয়ে দেন চিরস্থায়ী ঘর। ( অন্য জায়গায় এই রিওয়াইয়াটিই হযরত কাতাদাহ (রঃ )-এর নিজের উক্তি বলে বর্ণিত হয়েছে)মহান আল্লাহ বলেনঃ তোমাদেরকে পরীক্ষা করবার জন্যে- কে তোমাদের মধ্যে কর্মে উত্তম? অধিক কর্মশীল নয়, বরং উত্তম কর্মশীল। আল্লাহ তা’আলা মহাপরাক্রমশালী হওয়া সত্ত্বেও অবাধ্য ও উদ্ধত লোকেরা তাওবা করলে তাদের জন্যে তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীলও বটে।এরপর আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা বলেনঃ যিনি সৃষ্টি করেছেন স্তরে স্তরে সপ্তাকাশ। অর্থাৎ উপর নীচ করে সৃষ্টি করেছেন, একটির উপর অপরটিকে। কেউ কেউ এ কথাও বলেছেন যে, একটির উপর অপরটি মিলিতভাবে রয়েছে। কিন্তু দ্বিতীয় উক্তি এই যে, মধ্যভাগে জায়গা রয়েছে এবং একটি হতে অপরটি পর্যন্ত দূরত্ব রয়েছে। সর্বাধিক সঠিক উক্তি এটাই বটে। মিরাজের হাদীস দ্বারাও এটাই প্রমাণিত হয়।মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ দয়াময় আল্লাহর সৃষ্টিতে তুমি কোন খুঁত দেখতে পাবে না। বরং তুমি দেখবে যে, ওটা সমান রয়েছে। না তাতে আছে কোন হের-ফের, না কোন গরমিল। আবার তুমি আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখো, কোন ত্রুটি দেখতে পাও কি অত্যন্ত গভীর দৃষ্টিতে দেখো তো, কোথাও কোন ফাটা-ফুটা ও ছিদ্র পরিলক্ষিত হয় কি? এরপরেও যদি সন্দেহ হয় তবে বারবার দৃষ্টি ফিরাও, সেই দৃষ্টি ব্যর্থ ও ক্লান্ত হয়ে তোমার দিকে ফিরে আসবে। অর্থাৎ বারবার দৃষ্টি ফিরালেও তুমি আকাশে কোন প্রকারের ত্রুটি দেখতে পাবে না এবং তোমার দৃষ্টি ব্যর্থ-মনোরথ হয়ে ফিরে আসবে।অপূর্ণতা ও দোষ-ত্রুটির অস্বীকৃতি জানিয়ে এখন পূর্ণতা সাব্যস্ত করতে গিয়ে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা বলেনঃ আমি নিকটবর্তী আকাশকে সুশোভিত করেছি প্রদীপমালা অর্থাৎ নক্ষত্রপুঞ্জ দ্বারা, যেগুলোর মধ্যে কিছু কিছু চলাফেরা করে এবং কতকগুলো স্থির থাকে। এরপর ঐ নক্ষত্রগুলোর আরো একটি উপকারিতা বর্ণনা করছেন যে ওগুলোর দ্বারা শয়তানদেরকে মারা হয়। ওগুলো হতে অগ্নি শিখা বের হয়ে ঐ শয়তানদের উপর নিক্ষিপ্ত হয়, এ নয় যে, স্বয়ং তারকাই তাদের উপর ভেঙ্গে পড়ে। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলাই সবচেয়ে ভাল জানেন। শয়তানদের জন্যে তো দুনিয়ায় এ শাস্তি, আর আখিরাতে আল্লাহ তা'আলা তাদের জন্যে জ্বলন্ত অগ্নির শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছেন। যেমন সূরা সাফফাতের শুরুতে রয়েছেঃ ( আরবি )অর্থাৎ “ আমি নিকটবর্তী আকাশকে নক্ষত্ররাজির সুষমা দ্বারা সুশোভিত করেছি এবং রক্ষা করেছি প্রত্যেক বিদ্রোহী, শয়তান হতে । ফলে তারা উর্ধ জগতের কিছু শ্রবণ করতে পারে না এবং তাদের প্রতি নিক্ষিপ্ত হয় সকল দিক হতে বিতাড়নের জন্যে এবং তাদের জন্যে আছে অবিরাম শাস্তি। তবে কেউ হঠাৎ কিছু শুনে ফেললে জ্বলন্ত উল্কাপিণ্ড তাদের পশ্চাদ্ধাবন করে।” ( ৩৭:৬-১০ )হযরত কাতাদাহ ( রঃ ) বলেন যে, তারকারাজ তিনটি উপকারের জন্যে সৃষ্টি হয়েছে। ( এক ) আকাশের সৌন্দর্য, ( দুই ) শয়তানদের মার এবং ( তিন ) পথ প্রাপ্তির নিদর্শন। যে ব্যক্তি এ তিনটি ছাড়া অন্য কিছু অনুসন্ধান করে সে তার নিজের মতের অনুসরণ করে এবং নিজের বিশুদ্ধ ও সঠিক অংশকে হারিয়ে ফেলে আর অধিক জ্ঞান ও বিদ্যা না থাকা সত্ত্বেও নিজেকে বড় জ্ঞানী বলে প্রমাণিত করার কৃত্রিমতা প্রকাশ করে।” ( এটা ইমাম জারীর (রঃ ) ও ইমাম আবি হাতিম ( রঃ ) বর্ণনা করেছেন)
সূরা মুল্ক আয়াত 3 সূরা
| English | Türkçe | Indonesia |
| Русский | Français | فارسی |
| تفسير | Urdu | اعراب |
বাংলায় পবিত্র কুরআনের আয়াত
- লূত বললেনঃ তারা আমার মেহমান। অতএব আমাকে লাঞ্ছিত করো না।
- তাদের জন্যে উপর দিক থেকে এবং নীচের দিক থেকে আগুনের মেঘমালা থাকবে। এ শাস্তি দ্বারা
- আল্লাহর কসম, আমরা প্রকাশ্য বিভ্রান্তিতে লিপ্ত ছিলাম।
- নিঃসন্দেহে যারা মুসলমান হয়েছে এবং যারা ইহুদী, নাসারা ও সাবেঈন, (তাদের মধ্য থেকে) যারা ঈমান
- কতক মানুষ অজ্ঞানতাবশতঃ আল্লাহ সম্পꦣ2503;ক বিতর্ক করে এবং প্রত্যেক অবাধ্য শয়তানের অনুসরণ করে।
- আল্লাহ বলেন, কখনই নয় তোমরা উভয়ে যাও আমার নিদর্শনাবলী নিয়ে। আমি তোমাদের সাথে থেকে শোনব।
- তিনিই আল্লাহ তা’আলা, স্রষ্টা, উদ্ভাবক, রূপদাতা, উত্তম নাম সমূহ তাঁরই। নভোমন্ডলে ও ভূমন্ডলে যা কিছু
- বলুন, সত্য আগমন করেছে এবং অসত্য না পারে নতুন কিছু সৃজন করতে এবং না পারে
- তারা বলল, আপনি প্রভুর কাছে প্রার্থনা করুন-তিনি বলে দিন যে, সেটা কিরূপ? কেননা, গরু আমাদের
- আর আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন, তাকে পথভ্রষ্টকারী কেউ নেই। আল্লাহ কি পরাক্রমশালী, প্রতিশোধ গ্রহণকারী নন?
বাংলায় কোরআনের সূরা পড়ুন :
সবচেয়ে বিখ্যাত কোরআন তেলাওয়াতকারীদের কণ্ঠে সূরা মুল্ক ডাউনলোড করুন:
সূরা Mulk mp3 : উচ্চ মানের সাথে সম্পূর্ণ অধ্যায়টি Mulk শুনতে এবং ডাউনলোড করতে আবৃত্তিকারকে বেছে নিন
আহমেদ আল-আজমি
ইব্রাহীম আল-আখদার
বান্দার বেলাইলা
খালিদ গালিলি
হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
খলিফা আল টুনাইজি
সাদ আল-গামদি
সৌদ আল-শুরাইম
সালাহ বুখাতীর
আবদ এল বাসেট
আবদুল রশিদ সুফি
আব্দুল্লাহ্ বাস্ফার
আবদুল্লাহ আল-জুহানী
আলী আল-হুদায়েফি
আলী জাবের
ফারেস আব্বাদ
মাহের আলমাইকুলই
মোহাম্মদ আইয়ুব
মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
মুহাম্মাদ জিব্রীল
আল-মিনশাবি
আল হোসারি
মিশারী আল-আফসী
নাসের আল কাতামি
ইয়াসের আল-দোসারি
Please remember us in your sincere prayers



