কোরান সূরা ইউসুফ আয়াত 32 তাফসীর
﴿قَالَتْ فَذَٰلِكُنَّ الَّذِي لُمْتُنَّنِي فِيهِ ۖ وَلَقَدْ رَاوَدتُّهُ عَن نَّفْسِهِ فَاسْتَعْصَمَ ۖ وَلَئِن لَّمْ يَفْعَلْ مَا آمُرُهُ لَيُسْجَنَنَّ وَلَيَكُونًا مِّنَ الصَّاغِرِينَ﴾
[ يوسف: 32]
মহিলা বললঃ এ ঐ ব্যক্তি, যার জন্যে তোমরা আমাকে ভৎর্সনা করছিলে। আমি ওরই মন জয় করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সে নিজেকে নিবৃত্ত রেখেছে। আর আমি যা আদেশ দেই, সে যদি তা না করে, তবে অবশ্যই সে কারাগারে প্রেরিত হবে এবং লাঞ্চিত হবে। [সূরা ইউসুফ: 32]
Surah Yusuf in Banglaজহুরুল হক সূরা বাংলা Surah Yusuf ayat 32
সে বললে -- ''এ-ই তো সেই যার সন্বন্ধে তোমরা আমার নিন্দা করেছ, আর আমি অবশ্যই তাকে কামনা করেছিলাম তার অন্তরঙ্গতার, কিন্তু সে নিজেকে সংযত রেখেছিল। আর আমি তাকে যা আদেশ করি তা যদি সে না করে তবে সে নিশ্চিত কারারুদ্ধ হবে এবং সে হবে অবশ্যই ছোটলোকদের মধ্যেকার।’’
Tafsir Mokhtasar Bangla
৩২. আযীযের স্ত্রী মহিলাদের অবস্থা দেখে তাদেরকে বলল: এই সেই দাস যার ভালবাসার কারণে তোমরা আমাকে ভর্ৎসনা করেছ। আমিই তাকে চেয়েছিলাম এবং তাকে ভুলানোর জন্য ছলনা করেছি কিন্তু সে বিরত থেকেছে। তবে ভবিষ্যতে তার কাছে আমি যা চাইব সে যদি তা না করে তাহলে অবশ্যই সে জেলে প্রবেশ করবে আর সে হীন লোকদেরই অর্ন্তভুক্ত হবে।
Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান
সে বলল, ‘এই সে, যার সম্বন্ধে তোমরা আমাকে ভৎর্সনা করেছ।[১] আমি তো তার কাছে যৌন-মিলন কামনা করেছি; কিন্তু সে নিজেকে পবিত্র রেখেছে। আমি তাকে যা আদেশ করি, সে যদি তা না করে, তাহলে অবশ্যই সে কারারুদ্ধ হবে এবং লাঞ্ছিতদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’ [২] [১] যখন আযীযের স্ত্রী দেখল যে তার ছলনা ও চক্রান্ত সফল ও কৃতকার্য হয়েছে এবং ইউসুফের রূপ দেখে সমালোচক মহিলারা অভিভূত হয়ে পড়েছে, তখন বলতে লাগল যে, তাকে এক ঝলক দেখাতেই তোমাদের এ অবস্থা হয়ে গেল, তাহলে কি এখন তার প্রেম-জালে আবদ্ধ হওয়ার কারণে তোমরা আমার নিন্দা করবে? এ তো সেই তরুণ, যার সম্পর্কে তোমরা আমার নিন্দা করেছ। [২] সমালোচক মহিলাদেরকে অভিভূত হতে দেখে তার স্পর্ধা আরো বেড়ে গেল এবং লজ্জা-শরমের সমস্ত পর্দা খুলে দিয়ে সে তার অসৎ কামনা আরো একবার প্রকাশ করল। ( এবং এবারে অস্বীকার অবস্থায় তাকে হুমকি দেখানো হল। )
Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স
সে বলল, ‘এ-ই সে যার সম্বন্ধে তোমরা আমার নিন্দা করেছ। আমি তো তার থেকে অসৎ কাজ কামনা করেছি। কিন্তু সে নিজেকে পবিত্র রেখেছে; আর আমি তাকে যা আদেশ করেছি সে যদি তা না করে , তবে সে অবশ্যই অবশ্যই সে হীনদের অন্তর্ভুক্ত হবে [ ১ ]।’ [ ১ ] আষীয-পত্নী বললঃ দেখে নাও, এ ঐ ব্যক্তি, যার সম্পর্কে তোমরা আমাকে ভর্ৎসনা করতে। বাস্তবিকই আমি তার কাছে নিজেকে সমর্পন করতে চেয়েছিলাম; কিন্তু সে নিষ্পাপ রয়েছে। ভবিষ্যতে সে আমার আদেশ পালন না করলে অবশ্যই কারাগারে প্রেরিত হবে এবং লাঞ্ছিত হবে। কোন কোন মুফাস্সির বলেনঃ আযীয-পত্নী এখানে “ কিন্তু সে নিজেকে পবিত্র রেখেছে" একথা বলে প্রমাণ করতে চেয়েছে যে, সে বাহ্যিক সৌন্দর্যের সাথে সাথে তার আরো একটি মহা সৌন্দর্য রয়েছে, আর তা হল, আত্মিক পবিত্রতা । যা তোমরা দেখতে পাওনি। [ ইবন কাসীর ] আষীয -পত্নী যখন দেখল যে, সমাগত মহিলাদের সামনে তার গোপন ভেদ ফাঁস হয়ে গেছে, তখন সে তাদের সামনেই ইউসুফ ‘আলাইহিস্ সালাম-কে ভীতি প্রদর্শন করতে লাগল। কোন কোন তাফসীরবিদ বর্ণনা করেছেন যে, তখন আমন্ত্রিত মহিলারা ইউসুফ আলাইহিস সালাম-কে বলতে লাগলঃ তুমি আযীযপত্নীর কাছে ঋণী। কাজেই তার ইচ্ছার অবমাননা করা উচিত নয়। পরবর্তী আয়াতের কোন কোন শব্দ দ্বারাও মহিলাদের উপরোক্ত বক্তব্য সম্পর্কে আভাস পাওয়া যায়; যেমন, ( يَدْعُوْنَنِىْ ) এবং ( كَيْدَهُنَّ ) এগুলোতে বহুবচনে কয়েকজনের কথা বলা হয়েছে। [ দেখুন, কুরতুবী ] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এক হাদীস থেকেও আমরা বুঝতে পারি যে, এ আমন্ত্রিত মহিলাগুলো ইউসুফ আলাইহিসসালামকে তার সঙ্কল্প থেকে টলাতে চেষ্টা করেছিল। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার মৃত্যু শয্যায় আবু বকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে সালাতের ইমামতি করার নির্দেশ দেন। কিন্তু কয়েকজন এ মন্তব্য করল যে, আবু বকর নরমদিল মানুষ। তিনি আপনার জায়গায় দাঁড়ালে কান্না চেপে রাখতে পারবেন না। সুতরাং উমর বা অন্য কাউকে সালাতের ইমামতির জন্য নির্দেশ দেয়া হোক। এভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনবার নির্দেশ দিলেন আর তিনবারই তাকে একথা জানানো হলো। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাগাম্বিত হয়ে বললেনঃ “ তোমরা তো দেখছি ইউসুফের সেসব সঙ্গীনিদের মতই । আবুবকরকে বল যেন মানুষদের নিয়ে সালাতে ইমামতি করে " [ বুখারীঃ ৬৪৬, মুসলিমঃ ৪২০ ]
Tafsir ibn kathir bangla তাফসীর ইবনে কাসীর
৩০-৩৪ নং আয়াতের তাফসীর আল্লাহ তাআ’লা সংবাদ দিচ্ছেন যে, ইউসুফ ( আঃ ) ও আযীযের স্ত্রীর খবর শহরময় ছড়িয়ে পড়লো এবং ওটা হচ্ছে মিসর ( এর শহর )। কতকগুলি ভদ্র মহিলা অত্যন্ত বিষ্ময় ও ঘৃণার সাথে এই ঘটনার সমালোচনা করতে থাকে। তারা পরস্পর বলাবলি করেঃ ‘যুলাইখার কর্মকান্ডটা দেখো! সে হচ্ছে উযীরের স্ত্রী, অথচ সে তার ক্রীতদাসের সাথে দুস্কার্যে লিপ্ত হতে চাচ্ছে! ক্রীতদাসের প্রেম তার অন্তরকে আচ্ছন্ন করে ফেলেছে।’ যহ্হাক ( রঃ ) হযরত ইবনু আব্বাস ( রাঃ ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, ( আরবি ) বলা হয় হত্যাকারী প্রেমকে। ( আরবি ) হচ্ছে এর নিম্নস্তরের প্রেম। আর ( আরবি ) বলা হয় অন্তরের পর্দাকে। স্ত্রীলোকগুলি বললো: “ আমরা যুলাইখাকে স্পষ্ট বিভ্রান্তির মধ্যে দেখছি । শহরের ভদ্রমহিলারা তাকে যে দোষারোপ করছে এ খবর তার কানে পৌঁছে গেল। এখানে ‘মকর’ বা ষড়যন্ত্র শব্দটি আনার কারণ এই যে, কারো কারো মতে এটা প্রকৃতপক্ষে ঐ মহিলাদের ষড়যন্ত্রই ছিল। আসলে তারা হযরত ইউসুফের ( আঃ ) দর্শন কামনা করছিল। সুতরাং যুলাইখাকে দোষারোপ করা তাদের একটা কৌশল ছিল মাত্র। আযীযের স্ত্রী যুলাইখা তাদের এই চাল বুঝে ফেললো। এতে সে তার ওজর পেশ করার একটা সুযোগ পেয়ে গেল। সে তাদেরকে বলে পাঠালো: ‘অমুক সময় আমার বাড়ীতে আপনাদের দাওয়াত থাকলো।’ ইবনু আব্বাস ( রাঃ ), সাঈদ ইবনু জুবাইর ( রাঃ ), মুজাহিদ ( রঃ ) হাসান ( রঃ ), সুদ্দী ( রঃ ) প্রভৃতি গুরুজন বলেন যে, যুলাইখা মহিলাদের জন্যে এমন মজলিসের ব্যবস্থা করলো যেখানে খাদ্য হিসেবে ফল রাখা হয়েছিল। ফলগুলি কেটে কেটে ও ছিলে ছিলে খাওয়ার জন্যে সে প্রত্যেককে একটি করে ধাৱাল চাকু প্রদান করলো। এটাই ছিল মহিলাদের ষড়যন্ত্রের প্রতিফলন। তারা আসলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনয়ন করে ইউসুফের ( আঃ ) সৌন্দর্য দেখতে চেয়েছিল। যুলাইখা নিজেকে ক্ষমার্হ প্রমাণ এবং তাদের ষড়যন্ত্র প্রকাশ করার জন্যেই তাদেরকে আহত করলো এবং সেটাও আবার তাদের নিজেদের হাতে। যুলাইখা হযরত ইউসুফকে ( আঃ ) বললো: “ তাদের কাছে বেরিয়ে এসো, হযরত ইউসুফ ( আঃ ) কি করে তার প্রভুপত্নীর আদেশ অমান্য করতে পারেন? তৎক্ষণাৎ তিনি ঐ কামরা থেকে বেরিয়ে আসলেন যেখানে তিনি অবস্থান করছিলেন । মহিলাদের দৃষ্টি তাঁর দিকে পড়া মাত্রই তারা তাঁর গরিমায় অভিভূত হয়ে পড়লো এবং তাঁর সৌন্দর্য দর্শনে একেবারে আত্মহারা হয়ে গেল। ফলে ঐ সূতীক্ষ্ণ চাকু দ্বারা ফল কাটার পরিবর্তে তারা নিজেদের হাতের অঙ্গুলীগুলি কেটে ফেললো।হযরত যায়েদ ইবনু আসলাম ( রঃ ) বলেন যে, যিয়াফতের খাদ্য ইতিপূর্বেই যথারীতি পরিবেশন করা হয়েছিল এবং তাদের আহারও ছিল সমাপ্তির পথে। শুধুমাত্র ফল দ্বারা আপ্যায়ন অবশিষ্ট ছিল। তাদের হাতে চাকু ছিল এবং তা দ্বারা তারা ফল কাটতে ছিল। এমতাবস্থায় যুলাইখা তাদেরকে বললো: “ আপনারা ইউসুফকে ( আঃ ) দেখতে চান কি?” সবাই সমস্বরে বলে উঠলো: “হ্যাঁ হ্যাঁ ।” তখনই হযরত ইউসুফকে ( আঃ ) ডেকে পাঠানো হয় এবং তিনি তাদের সামনে হাযির হন। এর পরেই তাকে চলে যেতে বলা হয়। সুতরাং তিনি চলে যান। তাঁর এই আগমন ও প্রস্থানের ফলে তারা তার সামনের দিক এবং পিছনের দিক পূর্ণভাবে দেখবার সুযোগ পায়। তাকে দেখা মাত্রই তাদের মুর্ছা যাওয়ার উপক্রম হয় এবং ফল কাটার পরিবর্তে নিজেদের হাত কেটে ফেলে। কিন্তু তারা ব্যথা অনুভব করতে পারলো না। যখন হযরত ইউসুফ ( আঃ ) তাদের নিকট থেকে বিদায় হয়ে গেলেন তখন তারা ব্যথা অনুভব করলো এবং বুঝতে পারলো যে, ফলের পরিবর্তে তারা নিজেদের হাত কেটে ফেলেছে। ঐ সময় আযীযের স্ত্রী যুলাইখা তাদেরকে বললো: “ দেখুন তো, একবার মাত্র তার সৌন্দর্য দর্শনে আপনারা আত্মভোলা হয়ে গেলেন, তাহলে আমার কি অবস্থা হতে পারে?” মহিলারা বলে উঠলো: “আল্লাহর কসম! ইনি তো মানুষ নন, বরং ফেরেশতা! সাধারণ ফেরেশতা নন বরং বড় মর্যাদাবান ফেরেশতা! আজ থেকে আমরা আর আপনাকে ভৎসনা করবো না ।” ভদ্র-মহিলারা হযরত ইউসুফের ( আঃ ) মত তো নয়ই, এমনকি তাঁর কাছাকাছি এবং তাঁর সাথে সাদৃশ্যযুক্ত সুন্দর লোকও কখনো দেখে নাই। তাঁকে সৌন্দর্যের অর্ধেক দান করা হয়েছিল।মি’রাজের সহীহ হাদীসে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) তৃতীয় আকাশে হযরত ইউসুফের ( আঃ ) পার্শ্ব দিয়ে গমন করার সময় বলেনঃ “ তাঁকে সৌন্দর্যের অর্ধেক দান করা হয়েছে ।” হযরত আনাস ( রাঃ ) হতে বর্নিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) বলেছেনঃ “ ইউসুফকে ( আঃ ) এবং তাঁর মাতাকে অর্ধেক সৌন্দর্য দান করা হয়েছে ।” হযরত আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ ( রাঃ ) হতে বর্নিত, তিনি বলেনঃ “ ইউসুফ ( আঃ ) এবং তাঁর মাতাকে সৌন্দর্যের এক তৃতীয়াংশ দান করা হয়েছে । হযরত আবদুল্লাহ ( রাঃ ) বলেনঃ “ হরত ইউসুফের ( আঃ ) মুখমন্ডল বিদ্যুতের মতো উজ্জ্বল ছিল । যখন কোন নারী কোন প্রয়োজনে তাঁর কাছে আসতো তখন তিনি তার ফিৎনায় পড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় নিজের মুখমণ্ডল ঢেকে নিতেন।” হযরত হাসান বসরী ( রঃ ) মুরসালরূপে নবী ( সঃ ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেনঃ “ ইউসুফ ( আঃ ) এবং তাঁর মাতাকে দুনিয়াবাসীর সৌন্দর্যের এক তৃতীয়াংশ দান করা হয়েছে এবং বাকী দুই তৃতীয়াংশ সৌন্দর্য সারা দুনিয়ার লোককে দান করা হয়েছে ।” মুজাহিদ ( রঃ ) রাবী’’আ আল-জারাশী ( রঃ ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেনঃ “ সৌন্দর্যকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়েছে । এক ভাগ দেয়া হয়েছে ইউসুফ ( আঃ ) এবং তাঁর মাতা সা’রা’কে এবং বাকী এক ভাগ দেয়া হয়েছে সমস্ত মাখলুককে। ইমাম আবুল কাসিম আস-সুহাইলী ( রঃ ) বলেন যে, এর অর্থ হচ্ছেঃ হযরত ইউসুফকে ( আঃ ) হযরত আদমের ( আঃ ) অর্ধেক সৌন্দর্য দান করা হয়েছে। আল্লাহ তাআ’লা হযরত আদমকে ( আঃ ) নিজের হাতে পূর্ণ আকৃতির নমুনা বানিয়েছিলেন এবং খুবই সুন্দর করে সৃষ্টি করেছিলেন। তাঁর সন্তানদের মধ্যে তার সমপরিমাণ সৌন্দর্য কারো ছিল না। আর হযরত ইউসুফকে ( আঃ ) তার সৌন্দর্যের অর্ধেক দান করা হয়েছিল।যা হোক, ঐ মহিলারা হযরত ইউসুফকে ( আঃ ) দেখা মাত্রই বলেছিলেনঃ “ আমরা আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি, ইনি তো মানুষ নন । ( আরবি ) শব্দটি অন্য কিরআতে ( আরবি ) রয়েছে। অর্থাৎ “ ইনি ক্রীতদাস হতেই পারেন না । ইনি কোন মর্যাদাবান ফেরেশতা হবেন।” আযীযের স্ত্রী তখন তাদেরকে বললো: “ এখন আপনারা আমাকে ক্ষমার্হ মনে করবেন কি? তাঁর সৌন্দর্য কি ধৈর্য শক্তি ছিনিয়ে নেয়ার মত নয়? আমি তাকে সব সময় নিজের দিকে আকৃষ্ট করতে চেয়েছিলাম । কিন্তু তিনি সর্বদা আমার আয়ত্বের বাইরে রয়েছেন। আপনারা মনে রাখবেন যে, বাইরে তিনি যেমন তুলনীয় সৌন্দর্যের অধিকারী তেমনই ভিতরেও তিনি পবিত্র ও নিষ্কলুষ।তাঁর বাহির যেমন সুন্দর ভিতরও তেমনই সুন্দর।” অতঃপর সে ধমক দিয়ে বলেঃ “ যদি তিনি আমার কথা না মানেন এবং মনোবাঞ্ছা পূর্ণ না করেন তবে অবশ্যই তাঁকে জেলখানায় যেতে হবে এবং আমি তাঁকে কঠিনভাবে লাঞ্ছিত করবো ।” ঐ সময় হযরত ইউসুফ ( আঃ ) আল্লাহ তাআ’লার আশ্রয় প্রার্থনা করে বলেছিলেনঃ “ হে আমার প্রতিপালক । এই নারীরা আমাকে যার প্রতি আহ্বান করছে তা অপেক্ষা কারাগার আমার কাছে অধিক প্রিয়। আমাকে আপনি তাদের কুকর্ম হতে রক্ষা করুন! আমি যেন দুষ্কার্যে লিপ্ত হয়ে না পড়ি। যদি আপনি আমাকে রক্ষা করেন তবেই আমি রক্ষা পাবো। আমার নিজের কোনই ক্ষমতা নেই। আমি আমার নিজের লাভ ও ক্ষতির মালিক নই। আপনার সাহায্য ও করুণা ছাড়া না আমি কোন পাপ কার্য থেকে বাঁচতে পারি, না কোন সৎ কাজ করতে পারি। হে আমার প্রতিপালক! আমি আপনার কাছেই সাহায্য চাচ্ছি এবং আপনার উপরই ভরসা করছি। আপনি আমাকে আমার নফসের কাছে সমর্পণ করবেন না যে, আমি ঐ মহিলাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ি এবং মুখদের অন্তর্ভুক্ত হই।”মহান আল্লাহ তাঁর প্রার্থনা কবুল করলেন এবং নির্লজ্জতাপূর্ণ কাজ থেকে বাঁচিয়ে নিলেন। তাঁকে তিনি পবিত্রতা দান করলেন এবং স্বীয় হিফাযতে রাখলেন। অশ্লীলতা ও বেহায়াপনা থেকে তিনি রক্ষা পেতেই থাকলেন। অথচ তিনি সেই সময় পূর্ণ যৌবনে পদার্পণ করেছিলেন এবং তিনি পূর্ণমাত্রায় সৌন্দর্যের অধিকারী হয়েছিলেন। তার ভিতরে বিভিন্ন প্রকারের সদ্গুণাবলীর সমাবেশ ঘটেছিল। তথাপি তিনি স্বীয় প্রবৃত্তিকে দমন করেছিলেন এবং আযীযের স্ত্রী যুলাইখার প্রতি মোটেই ভ্রূক্ষেপ করেননি। অথচ সে ছিল নেতার কন্যা ও নেতার স্ত্রী এবং তার প্রভুপত্নী। তাছাড়া সে ছিল অতীব সুন্দরী ও প্রচুর মালের অধিকারিণী। সে তাকে বলেছিল যে, যদি তিনি তার কথা মেনে নেন তবে সে তাকে পুরস্কৃত করবে এবং না মানলে কারাগারে পাঠিয়ে দেবে। কিন্তু তাঁর অন্তরে ছিল আল্লাহর ভয়। তাই তিনি পার্থিব সুখ শান্তিকে আল্লাহর নামে উৎসর্গ করে দিয়েছিলেন এবং ওর উপর কারাগারকেই পছন্দ করেছিলেন। উদ্দেশ্য একমাত্র এটাই যে, এর মাধ্যমে তিনি আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষা পাবেন এবং পরকালে সাওয়াবের অধিকারী হবেন। এ জন্যেই সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) বলেছেনঃ “ সাত প্রকারের লোককে আল্লাহ তাঁর ( আর্শের ) ছায়ায় স্থান দিবেন, এমন দিনে যেই দিন তার ছায়া ছাড়া অন্য কোন ছায়া থাকবে নাঃ ( ১ ) ন্যায় পরায়ন বাদশাহ, ( ২ ) ঐ যুবক ( বা যুবতী ) যে তার যৌবনকে আল্লাহর ইবাদতে কাটিয়ে দিয়েছে, ( ৩ ) ঐ ব্যক্তি যার অন্তর সদা মসজিদে লটকানো থাকে, যখন সে মসজিদ হতে বের হয় যে পর্যন্ত না সে তাতে ফিরে যায়, ( ৪ ) এমন দুই ব্যক্তি যারা আল্লাহর জন্যেই একে অপরকে ভালবাসে, আল্লাহর জন্যেই তারা একত্রিত থাকে এবং আল্লাহর জন্যেই বিচ্ছিন্ন হয়, ( ৫ ) ঐ ব্যক্তি যে এমন গোপনে দান করে যে, তার ডান হাত যা দান করে বাম হাত তা জানতে পারে না, ( ৬ ) ঐ ব্যক্তি যাকে সম্ভ্রান্ত বংশীয়া ও সুশ্রী নারী কু-কাজের দিকে আহ্বান করে এবং সে বলেঃ আমি আল্লাহকে ভয় করি, ( ৭ ) ঐ ব্যক্তি যে নির্জনে আল্লাহকে স্মরণ করে, অতঃপর তার দু'চক্ষু দিয়ে অশ্রু বয়ে যায় ।”
সূরা ইউসুফ আয়াত 32 সূরা
| English | Türkçe | Indonesia |
| Русский | Français | فارسی |
| تفسير | Urdu | اعراب |
বাংলায় পবিত্র কুরআনের আয়াত
- তোমরা কি দেখ না আল্লাহ নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডলে যাকিছু আছে, সবই তোমাদের কাজে নিয়োজিত করে
- বরং তারা বলে যেমন তাদের পূর্ববর্তীরা বলত।
- তাদের অধিকাংশ সলা-পরামর্শ ভাল নয়; কিন্তু যে সলা-পরামর্শ দান খয়রাত করতে কিংবা সৎকাজ করতে কিংবা
- ফেরাউন বলল, তুমি যদি আমার পরিবর্তে অন্যকে উপাস্যরূপে গ্রহণ কর তবে আমি অবশ্যই তোমাকে কারাগারে
- এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে যখন সে হিংসা করে।
- নিশ্চয় যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, তাদের জন্যে রয়েছে অফুরন্ত পুরস্কার।
- অতএব আজকের দিনে বাঁচিয়ে দিচ্ছি আমি তোমার দেহকে যাতে তোমার পশ্চাদবর্তীদের জন্য নিদর্শন হতে পারে।
- আল্লাহ তা’আলা মুমিনদেরকে মজবুত বাক্য দ্বারা মজবুত করেন। পার্থিবজীবনে এবং পরকালে। এবং আল্লাহ জালেমদেরকে পথভ্রষ্ট
- বরং তাদের প্রত্যেকেই চায় তাদের প্রত্যেককে একটি উম্মুক্ত গ্রন্থ দেয়া হোক।
- এবং মানুষ বলবে, এর কি হল ?
বাংলায় কোরআনের সূরা পড়ুন :
সবচেয়ে বিখ্যাত কোরআন তেলাওয়াতকারীদের কণ্ঠে সূরা ইউসুফ ডাউনলোড করুন:
সূরা Yusuf mp3 : উচ্চ মানের সাথে সম্পূর্ণ অধ্যায়টি Yusuf শুনতে এবং ডাউনলোড করতে আবৃত্তিকারকে বেছে নিন
আহমেদ আল-আজমি
ইব্রাহীম আল-আখদার
বান্দার বেলাইলা
খালিদ গালিলি
হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
খলিফা আল টুনাইজি
সাদ আল-গামদি
সৌদ আল-শুরাইম
সালাহ বুখাতীর
আবদ এল বাসেট
আবদুল রশিদ সুফি
আব্দুল্লাহ্ বাস্ফার
আবদুল্লাহ আল-জুহানী
আলী আল-হুদায়েফি
আলী জাবের
ফারেস আব্বাদ
মাহের আলমাইকুলই
মোহাম্মদ আইয়ুব
মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
মুহাম্মাদ জিব্রীল
আল-মিনশাবি
আল হোসারি
মিশারী আল-আফসী
নাসের আল কাতামি
ইয়াসের আল-দোসারি
Please remember us in your sincere prayers



