কোরান সূরা ফাতির আয়াত 42 তাফসীর

  1. Mokhtasar
  2. Ahsanul Bayan
  3. AbuBakr Zakaria
  4. Ibn Kathir
Surah Fatir ayat 42 Bangla tafsir - তাফসীর ইবনে কাসীর - Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান - Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স - বাংলা ভাষায় নোবেল কোরআনের অর্থের অনুবাদ উর্দু ভাষা ও ইংরেজি ভাষা & তাফসীর ইবনে কাসীর : সূরা ফাতির আয়াত 42 আরবি পাঠে(Fatir).
  
   

﴿وَأَقْسَمُوا بِاللَّهِ جَهْدَ أَيْمَانِهِمْ لَئِن جَاءَهُمْ نَذِيرٌ لَّيَكُونُنَّ أَهْدَىٰ مِنْ إِحْدَى الْأُمَمِ ۖ فَلَمَّا جَاءَهُمْ نَذِيرٌ مَّا زَادَهُمْ إِلَّا نُفُورًا﴾
[ فاطر: 42]

তারা জোর শপথ করে বলত, তাদের কাছে কোন সতর্ককারী আগমন করলে তারা অন্য যে কোন সম্প্রদায় অপেক্ষা অধিকতর সৎপথে চলবে। অতঃপর যখন তাদের কাছে সতর্ককারী আগমন করল, তখন তাদের ঘৃণাই কেবল বেড়ে গেল। [সূরা ফাতির: 42]

Surah Fatir in Bangla

জহুরুল হক সূরা বাংলা Surah Fatir ayat 42


আর তারা আল্লাহ্‌র নামে শপথ খায় তাদের সব চাইতে জোরালো শপথের দ্বারা যে যদি তাদের কাছে একজন সতর্ককারী আসতেন তাহলে তারা নিশ্চয়ই অন্যান্য সম্প্রদায়ের যে কোনোটির চেয়ে অধিকতর সৎপথাবলন্বী হতো। কিন্তু যখন তাদের কাছে একজন সতর্ককারী এলেন তখন তাতে বিতৃষ্ণা ব্যতীত তাদের আর কিছুই বাড়লো না, --


Tafsir Mokhtasar Bangla


৪২. এসব অবিশ্বাসী কাফির শক্তভাবে শপথ করেছে যে, যদি আল্লাহর পক্ষ থেকে কোন রাসূল তাঁর শাস্তি থেকে ভীতি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে আগমন করেন তবে তারা দৃঢ়পদ ও সত্য মানার ক্ষেত্রে ইহুদী-খ্রিষ্টান এবং অন্যান্যদের তুলনায় অগ্রণী হবে। তবে যখন তাদের নিকট মুহাম্মদ স্বীয় প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তাঁর শাস্তি থেকে সতর্ক করতে প্রেরিত হলেন তখন তাঁর আগমন তাদের জন্য আরো দূরে সরে পড়া ও বাতিলের সাথে সম্পৃক্ত হওয়াকে বৃদ্ধি করল। ফলে তারা তাদের চেয়ে অগ্রণীদের তুলনায় অধিকতর হেদায়েত গ্রহণের শক্ত অঙ্গীকার বজায় রাখল না।

Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান


এরা দৃঢ়তার সাথে আল্লাহর শপথ করে বলত যে, এদের নিকট কোন সতর্ককারী এলে এরা অবশ্যই অন্য সকল সম্প্রদায় অপেক্ষা অধিকতর সৎপথের অনুসারী হবে;[১] কিন্তু এদের নিকট যখন সতর্ককারী এল,[২] তখন তা কেবল এদের বিমুখতাই বৃদ্ধি করল। [১] এখানে আল্লাহ তাআলা বর্ণনা করছেন যে, নবী মুহাম্মাদ ( সাঃ )-কে প্রেরণের পূর্বে এই আরববাসী মুশরিকরা শপথ করে বলত যে, যদি আমাদের নিকট কোন রসূল আসে, তবে আমরা তাঁকে সবাগত জানাব এবং তাঁর প্রতি ঈমান আনাতে এক দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করব। এই বিষয়টি অন্য স্থানেও বর্ণনা করা হয়েছে; যেমন সূরা আনআম ৬:১৫৬-১৫৭ আয়াত, স্বাফ্ফাত ৩৭:১৬৭-১৭০ আয়াত।[২] অর্থাৎ, মুহাম্মাদ ( সাঃ ) যখন তাদের নিকট নবী হয়ে এলেন, যাঁর তারা আকাঙ্ক্ষী ছিল।

Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স


আর তারা দৃঢ়তার সাথে আল্লাহর শপথ করে বলত যে, তাদের কাছে কোন সতর্কাকারী আসলে এরা অন্য সকল জাতির চেয়ে সৎপথের অধিকতর অনুসারী হবে; অতঃপর যখন এদের কাছে সতর্ককারী আসল [], তখন তা শুধু তাদের বিমুখতা ও দূরত্বই বৃদ্ধি করল--- [] অর্থাৎ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। [ তাবারী ]

Tafsir ibn kathir bangla তাফসীর ইবনে কাসীর


৪২-৪৩ নং আয়াতের তাফসীর: কুরায়েশরা ও অন্যান্য আরবরা রাসূলুল্লাহ ( সঃ )-এর আগমনের পূর্বে কসম করে করে বলেছিল যে, যদি তাদের কাছে আল্লাহ্ তা'আলার কোন রাসূল আগমন করেন তবে দুনিয়ার সবারই চেয়ে তারা তাঁর অনুগত হবে। যেমন অন্য জায়গায় রয়েছেঃ ( আরবী ) অর্থাৎ “ এ জন্যে যে, তোমরা যেন বলতে না পারঃ আমাদের পূর্ববর্তী জামাআতের উপর কিতাব নাযিল হয়েছিল, কিন্তু আমরা তো তা থেকে বে-খবরই ছিলাম । অথবা তোমরা বলবেঃ যদি আমাদের উপর কিতাব নাযিল করা হয় তবে আমরা তাদের চেয়ে অনেক বেশী হিদায়াত প্রাপ্ত হবো। নাও, এখন তো তোমাদের কাছে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে দলীল এসে গেছে এবং হিদায়াত ও রহমতও এসেছে। সুতরাং ঐ ব্যক্তি অপেক্ষা বড় যালিম আর কে আছে যে আল্লাহর নিদর্শনাবলীকে অবিশ্বাস করেছে এবং ওগুলো হতে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে? যারা আমার নিদর্শন হতে মুখ ফিরিয়ে নেয় সত্যবিমুখিতার জন্যে আমি তাদেরকে নিকৃষ্ট শাস্তি দেব।”( ৬:১৫৬-১৫৭ ) আর এক জায়গায় রয়েছেঃ “ তারা অবশ্যই বলতো যে, যদি আমাদের কাছে পূর্ববর্তীদের যিকর আসে তবে অবশ্যই আমরা আল্লাহর একনিষ্ঠ বান্দা হবো । অতঃপর তারা তাকে অস্বীকার করে, অতএব সত্বরই তারা জানতে পারবে।” তাদের কাছে আল্লাহর শেষ নবী হযরত মুহাম্মাদ ( সঃ ) এবং তাঁর সর্বশেষ ও সর্বোত্তম কিতাব অর্থাৎ কুরআন কারীম এসে গেছে। কিন্তু এরপরেও তাদের কুফরী ও অবাধ্যতা আরো বেড়ে গেছে। তারা আল্লাহ তা'আলার কথা মানতে অস্বীকার করেছে ও অহংকার করে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। তারা নিজেরা তো মানেইনি, এমনকি চক্রান্ত করে আল্লাহর বান্দাদের তাঁর পথে আসতে বাধা দিয়েছে। কিন্তু তাদের মনে রাখা উচিত যে, এর শাস্তি তাদেরকেই ভোগ করতে হবে। তারা আল্লাহ তা'আলার ক্ষতি করছে না, বরং নিজেদেরই ক্ষতি সাধন করছে।রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) বলেছেনঃ “ তোমরা কূট ষড়যন্ত্র হতে বেঁচে থাকবে । কূট ষড়যন্ত্রের বোঝা ষড়যন্ত্রকারীকেই বহন করতে হবে এবং তাকে আল্লাহ তা'আলার নিকট জবাবদিহি করতে হবে।” ( এ হাদীসটি ইবনে আবি হাতিম (রঃ ) বর্ণনা করেছেন)মুহাম্মাদ ইবনে কা'ব কারাযী ( রঃ ) বলেছেনঃ “ তিনটি কাজ যে করে সে মুক্তি ও পরিত্রাণ পায় না । তার কাজের প্রতিফল নিশ্চিতরূপে তারই উপর পড়ে। কাজ তিনটি হলোঃ কট ষড়যন্ত্র করা, বিদ্রোহ করা ও ওয়াদা ভঙ্গ করা।” অতঃপর তিনি এই আয়াতটি পাঠ করেন।মহান আল্লাহ বলেনঃ তারা কি প্রতীক্ষা করছে তাদের পূর্ববর্তীদের প্রতি প্রযুক্ত বিধানের? অর্থাৎ তাদের পূর্ববর্তী লোকেরা তাদের মতই অন্যায় ও অসৎ কাজে লিপ্ত হয়ে পড়েছিল। ফলে তারা আল্লাহ তা'আলার যে গযবে পতিত হয়েছিল এলোকগুলো তারই অপেক্ষায় রয়েছে। আল্লাহর বিধানের কোন পরিবর্তন নেই।এবং তার বিধানের কোন ব্যতিক্রমও কখনো হয় না। আল্লাহ যে কওমের উপর শাস্তি অবতীর্ণ করার ইচ্ছা করেছেন তা পরিবর্তনের ক্ষমতা কারো নেই। তাদের উপর থেকে আযাব সরবেও না এবং তারা তা থেকে বাচতেও পারবে না। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তাআলাই সবচেয়ে ভাল জানেন।

সূরা ফাতির আয়াত 42 সূরা

وأقسموا بالله جهد أيمانهم لئن جاءهم نذير ليكونن أهدى من إحدى الأمم فلما جاءهم نذير ما زادهم إلا نفورا

سورة: فاطر - آية: ( 42 )  - جزء: ( 22 )  -  صفحة: ( 439 )


English Türkçe Indonesia
Русский Français فارسی
تفسير Urdu اعراب

বাংলায় পবিত্র কুরআনের আয়াত

  1. ইব্রাহীম, এহেন ধারণা পরিহার কর; তোমার পালনকর্তার হুকুম এসে গেছে, এবং তাদের উপর সে আযাব
  2. এটাতো শুনলে, এখন দুষ্টদের জন্যে রয়েছে নিকৃষ্ট ঠিকানা
  3. অতঃপর তিনি এক কার্যোপকরণ অবলম্বন করলেন।
  4. মানুষকে দগ্ধ করবে।
  5. অতঃপর সে সুখী জীবন-যাপন করবে,
  6. বস্তুতঃ যদি প্রত্যেক গোনাহগারের কাছে এত পরিমাণ থাকে যা আছে সমগ্র যমীনের মাঝে, আর অবশ্যই
  7. আসমান ও যমীনের চাবি তাঁরই নিকট। যারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করে, তারাই ক্ষতিগ্রস্ত।
  8. আল্লাহ তাদের জন্যে কঠোর শাস্তি প্রস্তুত রেখেছেন। নিশ্চয় তারা যা করে, খুবই মন্দ।
  9. অতঃপর না, সত্বর তারা জানতে পারবে।
  10. আপনি কাফেরদেরকে তাদের কৃতকর্মের জন্যে ভীতসন্ত্রস্ত দেখবেন। তাদের কর্মের শাস্তি অবশ্যই তাদের উপর পতিত হবে।

বাংলায় কোরআনের সূরা পড়ুন :

সুরত আল বাক্বারাহ্ আলে ইমরান সুরত আন-নিসা
সুরত আল-মায়েদাহ্ সুরত ইউসুফ সুরত ইব্রাহীম
সুরত আল-হিজর সুরত আল-কাহফ সুরত মারইয়াম
সুরত আল-হাজ্জ সুরত আল-ক্বাসাস আল-‘আনকাবূত
সুরত আস-সাজদা সুরত ইয়াসীন সুরত আদ-দুখান
সুরত আল-ফাতহ সুরত আল-হুজুরাত সুরত ক্বাফ
সুরত আন-নাজম সুরত আর-রাহমান সুরত আল-ওয়াক্বি‘আহ
সুরত আল-হাশর সুরত আল-মুলক সুরত আল-হাক্কাহ্
সুরত আল-ইনশিক্বাক সুরত আল-আ‘লা সুরত আল-গাশিয়াহ্

সবচেয়ে বিখ্যাত কোরআন তেলাওয়াতকারীদের কণ্ঠে সূরা ফাতির ডাউনলোড করুন:

সূরা Fatir mp3 : উচ্চ মানের সাথে সম্পূর্ণ অধ্যায়টি Fatir শুনতে এবং ডাউনলোড করতে আবৃত্তিকারকে বেছে নিন
সুরত ফাতির  ভয়েস আহমেদ আল-আজমি
আহমেদ আল-আজমি
সুরত ফাতির  ভয়েস ইব্রাহীম আল-আখদার
ইব্রাহীম আল-আখদার
সুরত ফাতির  ভয়েস বান্দার বেলাইলা
বান্দার বেলাইলা
সুরত ফাতির  ভয়েস খালিদ গালিলি
খালিদ গালিলি
সুরত ফাতির  ভয়েস হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
সুরত ফাতির  ভয়েস খলিফা আল টুনাইজি
খলিফা আল টুনাইজি
সুরত ফাতির  ভয়েস সাদ আল-গামদি
সাদ আল-গামদি
সুরত ফাতির  ভয়েস সৌদ আল-শুরাইম
সৌদ আল-শুরাইম
সুরত ফাতির  ভয়েস সালাহ আবু খাতর
সালাহ বুখাতীর
সুরত ফাতির  ভয়েস আবদুল বাসিত আব্দুল সামাদ
আবদ এল বাসেট
সুরত ফাতির  ভয়েস আবদুল রশিদ সুফি
আবদুল রশিদ সুফি
সুরত ফাতির  ভয়েস আব্দুল্লাহ্ বাস্‌ফার
আব্দুল্লাহ্ বাস্‌ফার
সুরত ফাতির  ভয়েস আবদুল্লাহ আওওয়াদ আল-জুহানী
আবদুল্লাহ আল-জুহানী
সুরত ফাতির  ভয়েস আলী আল-হুদায়েফি
আলী আল-হুদায়েফি
সুরত ফাতির  ভয়েস আলী জাবের
আলী জাবের
সুরত ফাতির  ভয়েস ফারেস আব্বাদ
ফারেস আব্বাদ
সুরত ফাতির  ভয়েস মাহের আলমাইকুলই
মাহের আলমাইকুলই
সুরত ফাতির  ভয়েস মোহাম্মদ আইয়ুব
মোহাম্মদ আইয়ুব
সুরত ফাতির  ভয়েস মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
সুরত ফাতির  ভয়েস মুহাম্মাদ জিব্রীল
মুহাম্মাদ জিব্রীল
সুরত ফাতির  ভয়েস মুহাম্মদ সিদ্দিক আল মিনশাবি
আল-মিনশাবি
সুরত ফাতির  ভয়েস আল হোসারি
আল হোসারি
সুরত ফাতির  ভয়েস আল-আফসী
মিশারী আল-আফসী
সুরত ফাতির  ভয়েস নাসের আল কাতামি
নাসের আল কাতামি
সুরত ফাতির  ভয়েস ইয়াসের আল-দোসারি
ইয়াসের আল-দোসারি


Friday, June 5, 2026

Please remember us in your sincere prayers