কোরান সূরা নাজ্ম আয়াত 42 তাফসীর
﴿وَأَنَّ إِلَىٰ رَبِّكَ الْمُنتَهَىٰ﴾
[ النجم: 42]
তোমার পালনকর্তার কাছে সবকিছুর সমাপ্তি, [সূরা নাজ্ম: 42]
Surah An-Najm in Banglaজহুরুল হক সূরা বাংলা Surah Najm ayat 42
আর এই যে, তোমার প্রভুর দিকেই হচ্ছে শেষ-সীমা,
Tafsir Mokhtasar Bangla
৪২. হে রাসূল! আপনার রবের নিকটই বান্দাদের প্রত্যাবর্তন এবং তাদের মৃত্যুর পর তাদের ঠিকানা।
Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স
আর এই যে, সবার শেষ গন্তব্য তো আপনার রবের কাছে [ ১ ], [ ১ ] উদ্দেশ্য এই যে, অবশেষে সবাইকে আল্লাহ তা'আলার দিকেই ফিরে যেতে হবে এবং কর্মের হিসার-নিকাশ দিতে হবে। কোন কোন তফসীরবিদ এই বাক্যের অর্থ এরূপ সাব্যস্ত করেছেন যে, মানুষের চিন্তা-ভাবনার গতিধারা আল্লাহ তা’আলার সত্তায় পৌছে নিঃশেষ হয়ে যায়। তাঁর সত্তা ও গুণাবলির স্বরূপ চিন্তাভাবনার মাধ্যমে অর্জন করা যায় না। [ ইবন কাসীর; কুরতুবী ]
Tafsir ibn kathir bangla তাফসীর ইবনে কাসীর
৪২-৫৫ নং আয়াতের তাফসীর: ঘোষিত হচ্ছে যে, শেষে প্রত্যাবর্তন স্থল আল্লাহর নিকট। কিয়ামতের দিন সবকেই তারই সামনে হাযির হতে হবে। হযরত মুআয ( রাঃ ) বানু আওদ গোত্রের মধ্যে ভাষণ দিতে গিয়ে বলেনঃ “ হে বানু আওদ! আমি রাসূলুল্লাহ ( সঃ )-এর দূতরূপে তোমাদের নিকট আগমন করেছি । তোমরা সবাই এ বিশ্বাস রেখো যে, তোমাদের সবকেই আল্লাহ তাআলার নিকট ফিরে যেতে হবে। অতঃপর তোমাদেরকে জান্নাতে প্রবিষ্ট করা হবে অথবা জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।” ( এটা ইমাম ইবনে আবি হাতিম (রঃ ) বর্ণনা করেছেন)হযরত উবাই ইবনে কা'ব ( রাঃ ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী ( সঃ ) ( আরবী )-এ আয়াতের তাফসীরে বলেনঃ “ আল্লাহর সত্তা সম্পর্কে চিন্তা করা জায়েয নয় ।" এটা ঐ হাদীসের মতই যা হযরত আবু হুরাইরা ( রাঃ ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) বলেছেনঃ “ সৃষ্টি সম্পর্কে গভীরভাবে চিন্তা করো, কিন্তু সৃষ্টিকর্তা সম্পর্কে গভীরভাবে চিন্তা করতে যেয়ো না । তাকে জ্ঞান ও চিন্তা পেতে পারে না ।” ( ইমাম বাগাভী (রঃ ) এটা বর্ণনা করেছেন)এ হাদীসটি এ শব্দগুলো দ্বারা সুরক্ষিত না হলেও সহীহ হাদীসেও এ বিষয়টি বিদ্যমান রয়েছে। তাতে রয়েছেঃ “ তোমাদের কাছে এসে বলে- এটা কে সৃষ্টি করেছেন? ওটা কে সৃষ্টি করেছেন?” শেষ পর্যন্ত সে বলেঃ “আল্লাহকে কে সৃষ্টি করেছেন?” তোমাদের মধ্যে কারো অন্তরে এই কুমন্ত্রণা আসলে সে যেন আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করে এবং অন্তর হতে ঐ ধারণা দূর করে দেয় ।"সুনানের অন্য একটি হাদীসে রয়েছেঃ “ তোমরা সৃষ্টজীব ও বস্তু সম্পর্কে চিন্তা-গবেষণা করো, কিন্তু সৃষ্টিকর্তার সত্তা সম্পর্কে চিন্তা-গবেষণা করো না । জেনে রেখো যে, আল্লাহ তা'আলা এমন একজন ফেরেশতা সৃষ্টি করেছেন যার কানের নিম্নভাগ হতে কাঁধ পর্যন্ত স্থান তিনশ বছরের পথ।” অথবা যেরূপ বলেছেন। মহান আল্লাহ বলেনঃ “ তিনিই হাসান, তিনিই কাঁদান ।' অর্থাৎ হাসি-কান্নার মূল ও কারণ তিনিই সৃষ্টি করেছেন, যা সম্পূর্ণরূপে পৃথক পৃথক। তিনিই মারেন, তিনিই বাঁচান।' যেমন তিনিঃ ( আরবী ) অর্থাৎ “ যিনি সৃষ্টি করেন মৃত্যু ও জীবন ।” ঘোষিত হচ্ছেঃ “ তিনিই সৃষ্টি করেন যুগল পুরুষ ও নারী শুক্রবিন্দু হতে যখন তা স্খলিত হয় । যেমন আল্লাহ তা'আলার উক্তিঃ ( আরবী ) অর্থাৎ “ মানুষ কি মনে করে যে, তাকে নিরর্থক ছেড়ে দেয়া হবে? সে কি স্খলিত শুক্র বিন্দু ছিল না? অতঃপর সে রক্তপিণ্ডে পরিণত হয় । তারপর আল্লাহ তাকে আকৃতি দান করেন ও সুঠাম করেন। অতঃপর তিনি তা হতে সৃষ্টি করেন যুগল নর ও নারী। তবুও কি সেই স্রষ্টা মৃতকে পুনর্জীবিত করতে সক্ষম নন?” ( ৭৫:৩৬-৪০ )। মহান আল্লাহ বলেনঃ ‘পুনরুত্থান ঘটাবার দায়িত্ব তারই।' অর্থাৎ যেমন তিনি প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন তেমনই মৃত্যুর পর পুনর্জীবিত করার দায়িত্ব তারই। “ তিনিই অভাবমুক্ত করেন ও সম্পদ দান করেন । ধন-সম্পদ তাঁরই অধিকারে রয়েছে যা তাঁর কাছে পুঁজি হিসেবে থাকে। অধিকাংশ তাফসীরকারের উক্তি এ স্থলে এটাই, যদিও কিছু লোক হতে বর্ণিত আছে যে, এর ভাবার্থ হচ্ছেঃ তিনি মাল দিয়েছেন ও গোলাম দিয়েছেন। তিনি দিয়েছেন ও খুশী হয়েছেন। তিনি নিজেকে অমুখাপেক্ষী করেছেন এবং স্বীয় মাখলুককে তাঁর মুখাপেক্ষী করেছেন। তিনি যাকে ইচ্ছা সম্পদশালী করেছেন এবং যাকে ইচ্ছা দরিদ্র করেছেন। কিন্তু এই পরবর্তী দু'টি উক্তি শব্দের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ‘শি’রা ঐ উজ্জ্বল তারকার নাম যাকে ‘মারমুল জাওয়াও বলা হয়। আরবের একটি দল ওর ইবাদত করতো। আ’দে ঊলা অর্থাৎ হযরত হূদ ( আঃ )-এর কওম, যাকে আ’দ ইবনে ইরাম ইবনে সাম ইবনে নূহ ( আঃ ) বলা হতো। এই কওমকে আল্লাহ তা'আলা ঔদ্ধত্যের কারণে ধ্বংস করে দিয়েছিলেন। যেমন তিনি বলেনঃ ( আরবী ) অর্থাৎ “ তুমি কি দেখোনি তোমার প্রতিপালক কি করেছিলেন আ’দ বংশেরইরাম গোত্রের প্রতি- যারা অধিকারী ছিল সুউচ্চ প্রাসাদের? যার সমতুল্য কোন দেশে নির্মিত হয়নি ।" ( ৮৯:৬-৮ ) এই সম্প্রদায়টি অত্যন্ত শক্তিশালী ছিল এবং সাথে সাথে তারা ছিল আল্লাহ তা'আলার চরম অবাধ্য ও রাসূলুল্লাহ ( সঃ )-এর চরম বিরোধী। তাদের উপর ঝড়ের শাস্তি আপতিত হয়, যা সাত রাত ও আট দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। অনুরূপভাবে সামূদ সম্প্রদায়কেও ধ্বংস করে দেন এবং তাদের কাউকেও তিনি বাকী রাখেননি। তাদের পূর্বে নূহ ( আঃ )-এর সম্প্রদায়কেও ধ্বংস করেছেন, তারা ছিল অতিশয় যালিম ও অবাধ্য। আর। উৎপাটিত আবাস ভূমিকে উল্টিয়ে নিক্ষেপ করেছিলেন। আকাশ হতে প্রস্তর বর্ষণ করে সমস্ত পাপীকে ধ্বংস করে দিয়েছিলেন। তাদেরকে একটি জিনিস ঢেকে ফেলে, অর্থাৎ পাথর সমূহ, যেগুলোর বৃষ্টি তাদের উপর বর্ষিত হয় এবং অত্যন্ত মন্দ অবস্থায় তারা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। ঐ গ্রামে চার লক্ষ লোক বসবাস করতো। আবাসভূমির সবটাই অগ্নি, গন্ধক ও তেল হয়ে তাদের উপর প্রজ্বলিত হয়েছিল।হযরত কাতাদা ( রঃ )-এর উক্তি এটাই যার সনদ অত্যন্ত দুর্বল। এটা'মুসনাদে ইবনে আবি হাতিমে বর্ণিত হয়েছে। এরপর মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ তাহলে হে মানুষ! তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন অনুগ্রহ সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করবে? কেউ কেউ বলেন যে, এটা নবী ( সঃ )-কে সম্বোধন করা হয়েছে। কিন্তু সম্বোধনকে সাধারণ রাখাই বেশী যুক্তিযুক্ত। ইমাম ইবনে জারীরও ( রঃ ) সাধারণ রাখাকেই পছন্দ করেছেন।
সূরা নাজ্ম আয়াত 42 সূরা
| English | Türkçe | Indonesia |
| Русский | Français | فارسی |
| تفسير | Urdu | اعراب |
বাংলায় পবিত্র কুরআনের আয়াত
- অতঃপর সেখানে যারা ঈমানদার ছিল, আমি তাদেরকে উদ্ধার করলাম।
- তবুও কি সেই আল্লাহ মৃতদেরকে জীবিত করতে সক্ষম নন?
- বলুনঃ যদি পৃথিবীতে ফেরেশতারা স্বচ্ছন্দে বিচরণ করত, তবে আমি আকাশ থেকে কোন ফেরেশতাকেই তাদের নিকট
- আর কোরআন সে জিনিস নয় যে, আল্লাহ ব্যতীত কেউ তা বানিয়ে নেবে। অবশ্য এটি পূর্ববর্তী
- এবং বেশী পরিমাণে আপনাকে স্মরণ করতে পারি।
- নভোমন্ডলে যা কিছু আছে এবং ভূমন্ডলে যা কিছু আছে, সমস্তই তাঁর। তিনি সমুন্নত, মহান।
- আর সামুদ জাতি প্রতি তাদের ভাই সালেহ কে প্রেরণ করি; তিনি বললেন, হে আমার জাতি।
- তোমরা যে পানি পান কর, সে সম্পর্কে ভেবে দেখেছ কি?
- কাফেররাই কেবল আল্লাহর আয়াত সম্পর্কে বিতর্ক করে। কাজেই নগরীসমূহে তাদের বিচরণ যেন আপনাকে বিভ্রান্তিতে না
- যারা তোমাদের শত্রু আল্লাহ তাদের মধ্যে ও তোমাদের মধ্যে সম্ভবতঃ বন্ধুত্ব সৃষ্টি করে দেবেন। আল্লাহ
বাংলায় কোরআনের সূরা পড়ুন :
সবচেয়ে বিখ্যাত কোরআন তেলাওয়াতকারীদের কণ্ঠে সূরা নাজ্ম ডাউনলোড করুন:
সূরা Najm mp3 : উচ্চ মানের সাথে সম্পূর্ণ অধ্যায়টি Najm শুনতে এবং ডাউনলোড করতে আবৃত্তিকারকে বেছে নিন
আহমেদ আল-আজমি
ইব্রাহীম আল-আখদার
বান্দার বেলাইলা
খালিদ গালিলি
হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
খলিফা আল টুনাইজি
সাদ আল-গামদি
সৌদ আল-শুরাইম
সালাহ বুখাতীর
আবদ এল বাসেট
আবদুল রশিদ সুফি
আব্দুল্লাহ্ বাস্ফার
আবদুল্লাহ আল-জুহানী
আলী আল-হুদায়েফি
আলী জাবের
ফারেস আব্বাদ
মাহের আলমাইকুলই
মোহাম্মদ আইয়ুব
মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
মুহাম্মাদ জিব্রীল
আল-মিনশাবি
আল হোসারি
মিশারী আল-আফসী
নাসের আল কাতামি
ইয়াসের আল-দোসারি
Please remember us in your sincere prayers



