কোরান সূরা কাহ্ফ আয়াত 45 তাফসীর

  1. Mokhtasar
  2. Ahsanul Bayan
  3. AbuBakr Zakaria
  4. Ibn Kathir
Surah Kahf ayat 45 Bangla tafsir - তাফসীর ইবনে কাসীর - Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান - Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স - বাংলা ভাষায় নোবেল কোরআনের অর্থের অনুবাদ উর্দু ভাষা ও ইংরেজি ভাষা & তাফসীর ইবনে কাসীর : সূরা কাহ্ফ আয়াত 45 আরবি পাঠে(Kahf).
  
   

﴿وَاضْرِبْ لَهُم مَّثَلَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا كَمَاءٍ أَنزَلْنَاهُ مِنَ السَّمَاءِ فَاخْتَلَطَ بِهِ نَبَاتُ الْأَرْضِ فَأَصْبَحَ هَشِيمًا تَذْرُوهُ الرِّيَاحُ ۗ وَكَانَ اللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ مُّقْتَدِرًا﴾
[ الكهف: 45]

তাদের কাছে পার্থিব জীবনের উপমা বর্ণনা করুন। তা পানির ন্যায়, যা আমি আকাশ থেকে নাযিল করি। অতঃপর এর সংমিশ্রণে শ্যামল সবুজ ভূমিজ লতা-পাতা নির্গত হয়; অতঃপর তা এমন শুস্ক চুর্ণ-বিচুর্ণ হয় যে, বাতাসে উড়ে যায়। আল্লাহ এ সবকিছুর উপর শক্তিমান। [সূরা কাহ্ফ: 45]

Surah Al-Kahf in Bangla

জহুরুল হক সূরা বাংলা Surah Kahf ayat 45


আর তাদের কাছে পার্থিব জীবনের উপমা ছুঁড়ো -- এ পানির ন্যায় যা আমরা বর্ষণ করি আকাশ থেকে, তাতে পৃথিবীর গাছপালা ঘন-সন্নিবিষ্ট হয়, তারপর পরক্ষণেই তা হয়ে যায় শুকনো, বাতাস তাকে উড়িয়ে নিয়ে যায়। আর আল্লাহ্ সব কিছুর উপরেই সর্বশক্তিমান।


Tafsir Mokhtasar Bangla


৪৫. হে রাসূল! আপনি দুনিয়ার ধোঁকায় পড়া লোকদের দৃষ্টান্ত দিন। ধ্বংস ও দ্রæত নিঃশেষ হওয়ার ক্ষেত্রে দুনিয়ার দৃষ্টান্ত হলো বৃষ্টির পানির ন্যায় যা আমি আকাশ থেকে নাযিল করেছি। অতঃপর এ পানিতে জমিনের উদ্ভিদগুলো উৎপন্ন হয়েছে ও পেকেছে। অতঃপর এ উদ্ভিদগুলো ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেলো। বাতাস যার অংশ বিশেষ এদিক ওদিক নিয়ে যায়। ফলে জমিন আগের অবস্থায় ফিরে গেছে। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা সব কিছু করতে সক্ষম। কোন কিছু তাঁকে অক্ষম করতে পারে না। তিনি যা চান বাঁচিয়ে রাখেন আর যা চান ধ্বংস করেন।

Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান


তাদের কাছে পেশ কর উপমা পার্থিব জীবনের; এটা পানির ন্যায় যা আমি বর্ষণ করি আকাশ হতে, যার দ্বারা ভূমির উদ্ভিদ ঘন সন্নিবিষ্ট হয়ে উদগত হয়। অতঃপর তা বিশুষ্ক হয়ে এমন চূর্ণ-বিচূর্ণ হয় যে, বাতাস ওকে উড়িয়ে নিয়ে যায়। আর আল্লাহ সর্ব বিষয়ে শক্তিমান। [১] [১] এই আয়াতে দুনিয়া যে অস্থায়ী এবং ক্ষণস্থায়ী সে কথা ক্ষেতের একটি দৃষ্টান্তের মাধ্যমে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ক্ষেতের ফসলাদি ও গাছ-পালার উপর যখন আসমান থেকে বৃষ্টির পানি পড়ে, তখন তা গ্রহণ করে ক্ষেত শ্যামল-সবুজ হয়ে ওঠে। ফসলাদি ও গাছপালা নতুন জীবনে মেতে ওঠে। কিন্তু এক সময় আবার এমন আসে, যখন পানি না পাওয়ার অথবা ফসল পেকে যাওয়ার কারণে ক্ষেত শুকিয়ে যায়। অতঃপর বাতাস তা উড়িয়ে নিয়ে বেড়ায়। বাতাসের এক ঝটকা কখনও তাকে ডান দিকে আবার কখনও বাম দিকে ঝুঁকিয়ে দেয়। পার্থিব জীবনও বাতাসের এক ঝটকা অথবা পানির বুদ্বুদের অথবা ক্ষেতের মত, যা কিছু কাল মনোহারিত্ব দেখিয়ে ধ্বংসের কোলে ঢলে পড়ে। আর এই সমস্ত কিছুর নিয়ন্ত্রণ সেই সত্তার হাতে, যিনি একক এবং প্রতিটি জিনিসের উপর সর্বশক্তিমান। মহান আল্লাহ দুনিয়ার এই দৃষ্টান্ত কুরআন মাজীদের কয়েক স্থানে বর্ণনা করেছেন। যেমন, সূরা ইউনুসের ১০:২৪ নং, সূরা যুমারের ৩৯:২১ নং এবং সূরা হাদীদের ৫৭:২০ নং আয়াত সহ আরো বিভিন্ন আয়াতে বর্ণনা করা হয়েছে।

Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স


আর আপনি তাদের কাছে পেশ করুন উপমা দুনিয়ার জীবনের; এটা পানির ন্যায় যা আমরা বর্ষণ করি আকাশ থেকে, যা দ্বারা ভূমিজ উদ্ভিদ ঘন সন্নিবিষ্ট হয়ে উদগত হয়, তারপর তা বিশুষ্ক হয়ে এমন চূর্ণ-বিচূর্ণ হয় যে, বাতাস তাকে উড়িয়ে নিয়ে যায়। আর আল্লাহ্ সব কিছুর উপর শক্তিমান []। ষষ্ঠ রুকু [] কুরআনের বিভিন্ন স্থানে মহান আল্লাহ্ দুনিয়ার জীবনকে আকাশ থেকে নাযিল হওয়া পানির সাথে তুলনা করেছেন। দুনিয়ার জীবনের ক্ষণস্থায়ীত্বের উদাহরণ হলো আকাশ থেকে বৰ্ষিত পানির মত। যা প্রথমে যমীনে পতিত হওয়ার সাথে সাথে যমীনে অবস্থিত উদ্ভিদরাজিতে প্ৰাণের উন্মেষ ঘটে। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই সে পানি পুরিয়ে গেলে, পানির কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে গেলে আবার সে প্রাণের নিঃশেষ ঘটে। দুনিয়ার জীবনও ঠিক তদ্রুপ; এখানে আসার পর জীবনের বিভিন্ন অংশের প্রাচুর্যে মানুষ মোহান্ধ হয়ে আখেরাতকে ভুলে বসে থাকে কিন্তু অচিরেই তার জীবনের মেয়াদ ফুরিয়ে গেলে সে আবার হতাশ হয়ে পড়ে। এ কথাটি মহান আল্লাহ কুরআনের অন্যত্র এভাবে বলেছেন: “ বস্তুত পার্থিব জীবনের দৃষ্টান্ত এরূপ, যেমন আমি আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করি যা দ্বারা ভূমিজ উদ্ভিদ ঘন সন্নিবিষ্ট হয়ে উদগত হয়, যা থেকে মানুষ ও জীব-জন্তু খেয়ে থাকে । তারপর যখন ভূমি তার শোভা ধারণ করে ও নয়নাভিরাম হয় এবং তার অধিকারীগণ মনে করে ওটা তাদের আয়ত্তাধীন, তখন দিনে বা রাতে আমার নির্দেশ এসে পড়ে ও আমি ওটা এমনভাবে নির্মূল করে দেই, যেন গতকালও ওটার অস্তিত্ব ছিল না। এভাবে আমি নিদর্শনাবলী বিশদভাবে বর্ণনা করি চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য। ” [ সূরা ইউনুস: ২৪ ] আরো বলেছেন: “ আপনি কি দেখেন না, আল্লাহ আকাশ হতে বারি বর্ষণ করেন, তারপর তা ভূমিতে নির্ঝররুপে প্রবাহিত করেন এবং তা দ্বারা বিবিধ বর্ণের ফসল উৎপন্ন করেন, তারপর তা শুকিয়ে যায় । ফলে তোমরা তা পীত বর্ণ দেখতে পাও, অবশেষে তিনি ওটাকে খড়-কুটোয় পরিণত করেন? এতে অবশ্যই উপদেশ রয়েছে বোধশক্তিসম্পন্নদের জন্য।” [ সূরা আয-যুমার: ২১ ] আরও বলেছেন: “ তোমরা জেনে রাখ, পার্থিব জীবন তো খেল-তামাশা, জাঁকজমক, পারস্পরিক শ্লাঘা, ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে প্রাচুর্য লাভের প্রতিযোগিতা ছাড়া আর কিছু নয় । এর উপমা বৃষ্টি, যা দ্বারা উৎপন্ন শস্য-সম্ভার কৃষকদেরকে চমৎকৃত করে, তারপর সেগুলো শুকিয়ে যায়, ফলে আপনি ওগুলো পীতবর্ণ দেখতে পান, অবশেষে সেগুলো খড়-কুটোয় পরিণত হয়। পরকালে রয়েছে কঠিন শাস্তি এবং আল্লাহর ক্ষমা ও সস্তুষ্টি। পার্থিব জীবন প্রতারণার সামগ্ৰী ছাড়া কিছু নয়। ” [ সূরা আল-হাদীদ: ২০ ] অনুরূপভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও বলেছেন: “ দুনিয়া হলো সুমিষ্ট সবুজ-শ্যামল মনোমুগ্ধকর । সুতরাং তোমরা দুনিয়া থেকে বেঁচে থাক আর মহিলাদের থেকে নিরাপদ থাক”। [ মুসলিম: ২৭৪২ ]

Tafsir ibn kathir bangla তাফসীর ইবনে কাসীর


৪৫-৪৬ নং আয়াতের তাফসীর: দুনিয়া নষ্ট, ধ্বংস ও শেষ হওয়ার দিক দিয়ে আকাশের বৃমিত। এই বৃষ্টি যমীনের বীজ ইত্যাদির সাথে মিলিত হয়, ফলে হাজার হাজার চারা গাছ সবুজ-শ্যামল হয়ে ওঠে। প্রত্যেক জিনিসের উপর সজীবতার চিহ্ন পরিস্ফুট হয়, কিন্তু কিছুদিন অতিবাহিত হওয়ার পরই সব শুকিয়ে যায় এবং এমন চূর্ণবিচূর্ণ হয় যে, বাতাস ওগুলিকে ডানে বামে উড়িয়ে নিয়ে বেড়ায়। পূর্বের ঐ অবস্থার উপর যিনি সক্ষম ছিলেন, তিনি এই অবস্থার উপরও সক্ষম। সাধাণতঃ দুনিয়ার দৃষ্টান্ত বৃষ্টির সাথেই দেয়া হয়ে থাকে। যেমন সূরায়ে ইউনূসের এক আয়াতে রয়েছেঃ ( আরবী ) অর্থাৎ পার্থিব জীবনের দৃষ্টান্ত বৃষ্টিন্যায় যা আমি আকাশ হতে বর্ষণ করি।” ( ১০:২৪ ) সূরায়ে যুমারে রয়েছেঃ ( আরবী ) অর্থাৎ “ তুমি কি এর প্রতি লক্ষ্য কর নাই যে, আল্লাহ আকাশ হতে পানি বর্ষণ করেছেন ।" ( ২২:৬৩ ) সূরায়ে হাদীদে আছেঃ ( আরবী ) অর্থাৎ “ তোমরা জেনে রেখো যে, ( পরলোকের তুলনায় ) পার্থিব জীবন তো কখনও বাঞ্ছিত হওয়ার যোগ্য নয় । কেননা, এটা তো শুধু খেলা ও তামাশা এবং ( একটা বাহ্যিক ) জাকজমক এবং পরস্পর একে অন্যের প্রতি আত্মগর্ব করা, আর ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি সম্বন্ধে একে অন্য অপেক্ষা প্রাচুর্য বর্ণনা করা মাত্র; যেমন বৃষ্টি ( বর্ষিত ) হলে ওর উৎপন্ন ফল কৃষকদের ভালবোধ হয়।” ( ৫৭:২০ )সহীহ হাদীসে আছে যে, দুনিয়ার সবুজ রঙ মিষ্ট ( শেষ পর্যন্ত )।” এরপর আল্লাহ তাআলা বলেনঃ ধনৈশ্বর্য ও সন্তান-সন্ততি পার্থিব জীবনের শোভা। যেমন তিনি অন্য জায়গায় বলেনঃ ( আরবী ) অর্থাৎ “ সুশোভিত মনে হয় মানুষের নিকট লোভনীয় বস্তুর মুহব্বত, রমণী হোক, সন্তান-সন্ততি হোক, পুঞ্জীভূত স্বর্ণ এবং রৌপ্য হোক ।" ( ৩:১৪ )। অন্য আয়াতে রয়েছেঃ ( আরবী ) অর্থাৎ তোমাদের মাল ও তোমাদের সন্তান-সন্ততি পরীক্ষা স্বরূপ, আর আল্লাহ তাআলার নিকটই বড় পুরস্কার রয়েছে।” ( ৬৪:১৫ ) অর্থাৎ তারই দিকে ঝুঁকে পড়া এবং তারই ইবাদতে নিমগ্ন থাকা দুনিয়া অনুসন্ধান হতে উত্তম। এজন্যে এখানেও আল্লাহ তাআলা বলেনঃ ( আরবী ) অর্থাৎ “ চিরবিদ্যমান পুণ্যগুলি সবদিক দিয়েই উত্তম । যেমন পাচ ওয়াক্তের নামায ( আরবী ) এবং ( আরবী ) মুসনাদে আহমাদে রয়েছেঃ হযরত উছমানের ( রাঃ ) গোলাম বর্ণনা করেছে। যে, একদা হযরত উছমান ( রাঃ ) তাঁর সঙ্গীদের সাথে বসেছিলেন। এমন সময় মুআযযিন হাজির হন। হযরত উছমান ( রাঃ ) তখন পানি চেয়ে পাঠান। তখন তার কাছে একটি বরতনে তিন পোয়ামত পানি আনয়ন করা হয়। তিনি ঐ পানিতে অযু করে বলেনঃ রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) আমার এই অযুর মত অযু করে বলেছিলেনঃ “যে ব্যক্তি আমার এই অযুর মত অযু করে যুহরের নামায আদায় করবে, ফজর থেকে নিয়ে যুহর পর্যন্ত তার যত গুনাহ্ ছিল সব মাফ হয়ে যাবে । তারপর এইভাবে আসরের নামায পড়লে যুহর হতে আসার পর্যন্ত যত পাপ সব। মাফ হয়ে যাবে। এরপর অনুরূপভাবে মাগরিবের নামায পড়লে আসর ও মাগরিবের মধ্যবর্তী সময়ের সমস্ত গুনাহ মাফ হয়ে যাবে। তারপর ঐভাবেই যদি সে এশার নামায আদায় করে, তবে মাগরিব ও এশার মধ্যবর্তী সমস্ত পাপ মোচন হয়ে যাবে। অতঃপর রাত্রে ঘুমিয়ে যাবার পর ভোরে উঠে ফজরের নামায যদি সে পড়ে নেয় তবে এশা থেকে নিয়ে ফজর পর্যন্ত মধ্যবর্তী সমস্ত গুনাহ তার ক্ষমা করে দেয়া হবে।" এটাই হচ্ছে এমন পুণ্য যা পাপসমূহ দূর করে দেয়।" জনগণ জিজ্ঞেস করলোঃ “ হে উছমান ( রাঃ )! এগুলি তো হলো পুণ্য, এখন ( আরবী ) কি তা আমাদেরকে বলে দিন!" তিনি উত্তরে বললেন- ( আরবী ) হচ্ছে নিম্ন লিখিত কালেমাগুলি পাঠ করাঃ ( আরবী ) অর্থাৎ “আমি আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করছি, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্যে, আল্লাহ সবচেয়ে বড় ও মহান, আল্লাহ ছাড়া কারো কোন শক্তি ও ক্ষমতা নেই, যে আল্লাহ উচ্চ ও মহান ।"হযরত সাঈদ ইবনু মুসাইয়া ( রঃ ) বলেন যে, ( আরবী ) হচ্ছে হযরত সাঈদ ইবনু মুসাইয়াব তার ছাত্র হযরত আম্মারা’কে ( রঃ ) জিজ্ঞেস করেনঃ “ আচ্ছা, বল তো, ( আরবী ) কি? তিনি উত্তরে বলেনঃ “নামায ও রোযা । হযরত সাঈদ ( রঃ ) তখন বলেনঃ “ তোমার জবাব সঠিক হয় নাই ।" তাঁর ছাত্র বললেনঃ “ যাকাত ও হজ্ব ।” তিনি বললেনঃ “ উত্তর এখনও ঠিক হয় নাই । শুনো, ওটা হচ্ছে নীচের পাঁচটি কালেমঃ ( আরবী ) হযরত ইবনু আব্বাসকে ( রাঃ ) এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি ( আরবী ) ছাড়া বাকী চারটি কালেমার কথা বলেন। হযরত হাসান ( রঃ ) হযরত কাদাতাও ( রঃ ) এই চারটি কালেমাকেই ( আরবী ) বলেছেন। ইমাম ইবনু জারীর ( রঃ ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) বলেছেনঃ ( আরবী ) হচ্ছে এই কালেমাগুলি।” অন্য একটি রিওয়াইয়াতে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) জনগণকে বলেনঃ তোমরা। বেশী করো।” তারা জিজ্ঞেস করলোঃ “ হে আল্লাহর রাসূল ( সঃ )! ( আরবী ) কি?” তিনি উত্তরে বললেনঃ ( আরবী ) হযরত সালিম ইবনু আবদিল্লাহর ( রঃ ) গোলাম হযরত আবদুল্লাহ ইবনু আবদির রহমান ( রঃ ) বলেনঃ আমাকে হযরত সা'লিম ( রঃ ) হযরত মুহাম্মদ ইবনু কা'ব কারাযীর ( রঃ ) কাছে কোন একটি কার্য উপলক্ষে প্রেরণ করেন । তিনি আমাকে বললেনঃ “ তুমি সালিমকে ( রঃ ) বলে দেবে যে, তিনি যেন অমুক কবরের পার্শ্বে আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন । তার সাথে আমার কিছু কথা আছে। সেখানে ঐ দুজনের সাক্ষাৎ হয়। সালাম বিনিময়ের পর হযরত সালিম ( রঃ ) হযরত মুহাম্মদ ইবনু কা'ব কারাযীকে ( রঃ ) জিজ্ঞেস করেনঃ “ আপনার মতে ( আরবী ) কি?” উত্তরে তিনি বলেনঃ ( আরবী ) “হচ্ছে এই কালেমাগুলি । হযরত সালিম ( রঃ ) তখন তাকে বললেনঃ “ এই শেষের কালেমাটি আপনি কখন থেকে বাড়িয়ে দিয়েছেন?" উত্তরে হযরত কারাযী ( রঃ ) বলেনঃ “সব সময়ই আমি এই কালেমাকে গণনা করে থাকি ।” দু'বার বা তিনবার এই প্রশ্ন ও উত্তরের আদান-প্রদান হয়। অবশেষে হযরত মুহাম্মদ ইবনু কা'ব ( রঃ ) হযরত সালিমকে ( রঃ ) জিজ্ঞেস করেনঃ “ আপনি কি এই কালেমাটিকে অস্বীকার করছেন?" জবাবে হযরত সা'লিম ( রঃ ) বলেনঃ “হাঁ, আমি অস্বীকারই করছি বটে ।” তখন তিনি বলেনঃ হলে শুনুন! আমি হযরত আবু আইয়ুব আনসারীর ( রাঃ ) নিকট থেকে শুনেছি এবং তিনি রাসূলুল্লাহকে ( সঃ ) বলতে শুনেছেনঃ “ যখন আমাকে মি'রাজ করানো হয় তখন আমি অকিাশে হযরত ইবরাহীমকে ( আঃ ) দেখতে পাই । তিনি হযরত জিবরাঈলকে ( আঃ ) জিজ্ঞেস করেনঃ “ আপনার সাথে ইনি কে? তিনি জবাবে বলেনঃ “ইনি হলেন হযরত মুহাম্মদ ( সঃ ) তিনি তখন আমাকে মারহাবা বলে সাদর সম্ভাষণ জানালেন এবং আমাকে বললেনঃ “ আপনি আপনার উম্মতকে বলুন যে, তারা যেন জান্নাতে নিজেদের জন্যে বহু কিছুর বাগান তৈরী করেন । ওর মাটি পবিত্র এবং ওর যমীন খুবই প্রশস্ত।” আমি প্রশ্ন করলামঃ সেখানে বাগান তৈরীর উপায় কি?" জবাবে তিনি বললেনঃ “ তারা যেন ( আরবী ) এই কালেমাটি খুব বেশী বেশী করে পাঠ করে । হযরত নুমান ইবনু বাশীর ( রাঃ ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাত্রে এশার নামাযের পর রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) আমাদের নিকট আগমন করেন। আকাশের দিকে তাকিয়ে তিনি দৃষ্টি নীচের দিকে নামিয়ে দেন। আমরা ধারণা করলাম যে, হয়তো আকাশে নতুন কিছু ঘটেছে। অতঃপর তিনি বলেনঃ “ আমার পরে মিথ্যাবাদী ও অত্যাচারী বাদশাহদের আবির্ভাব ঘটবে । যারা তাদের মিথ্যাকে সত্যায়িত করবে এবং তাদের জুলুমের কাজে তাদের পক্ষপাতিত্ব করবে তারা আমার অন্তর্ভুক্ত নয় এবং আমিও তাদের অন্তর্ভুক্ত নই। আর যারা তাদের মিথ্যাকে সত্যায়িত করবে না এবং তাদের জুলুমের কাজে তাদের পক্ষপাতিত্ব করবে না তারা আমার অন্তর্ভুক্ত এবং আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত। হে জনমণ্ডলী! তোমরা জেনে রেখো যে, ( আরবী ) এই কালেমাগুলি হলো অর্থাৎ চিরস্থায়ী ও চির বিদ্যমান পুণ্য। ( এ হাদীসটি মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত হয়েছে )বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) বলেছেনঃ “ বাঃ! বাঃ! এমন পাঁচটি কালেমা রয়েছে যেগুলি মীযানে বা দাড়িপাল্লায় খুবই ওজন সই হবে । সেগুলি হচ্ছেঃ ( আরবী ) এবং ঐ শিশু যার মৃত্যুতে তার পিতা ধৈর্য ধারণ করেছে ও পুরস্কার কামনা করেছে। বাঃ! বাঃ! পাঁচটি জিনিস এমন রয়েছে যে, যারা ঐ গুলির উপর বিশ্বাস রেখে আল্লাহ তাআলার সাথে সাক্ষাৎ করবে তারা নিঃসন্দেহে জান্নাতী। সেগুলি হচ্ছে এই যে, তারা বিশ্বাস রাখবে কিয়ামত দিবসের উপর, জান্নাতের উপর, জাহান্নামের উপর, মৃত্যুর পর পুনর্জীবনের উপর এবং হিসাবের উপর।” ( এ হাদীসটিও ইমাম আহমাদ (রঃ ) স্বীয় মুসনাদে বর্ণনা করেছেন)বর্ণিত আছে যে, হযরত শাদ্দাদ ইবনু আউস ( রাঃ ) এক সফরে ছিলেন। কোন এক জায়গায় অবতরণ করে স্বীয় গোলামকে বলেনঃ “ ছুরি আন, খেলা করি ।”হাসান ইবনু আতিয়া ( রাঃ ) বলেনঃ আমি তখন বললামঃ আপনি এটা কি কথা বললেন? জবাবে তিনি বললেনঃ “ সত্যিই, আমি এটা ভুলই করেছি । জেনে রেখো, যে ইসলাম গ্রহণের পর থেকে নিয়ে আজ পর্যন্ত আমার মুখ দিয়ে এমন কোন একটি কথা বের করি নাই যা আমার জন্যে লাগাম হয়ে যায়, শুধু এই একটি কথা ছাড়া। সুতরাং তোমরা এটা মন থেকে মুছে ফেল এবং আমি এখন যা বলছি তা মনে রেখো। আমি রাসূলুল্লাহকে ( সঃ ) বলতে শুনেছিঃ “ যখন মানুষ স্বর্ণ-রৌপ্য জমা করতে উঠেপড়ে লেগে যাবে; তখন তোমরা নিম্নের কালেমাগুলি খুব বেশী পাঠ করবেঃঅর্থাৎ “হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে নিজের কাজের উপর স্থিরতা, পুণ্য কাজের প্রতি দৃঢ় সংকল্প ও আপনার নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের তাওফীক প্রার্থনা করছি এবং উত্তমরূপে আপনার ইবাদত করার তাওফীক কামনা করছি । আপনার কাছে প্রার্থনা করছি যে, আপনি আমাকে প্রশান্ত অন্তর ও সত্যবাদী যবান দান করুন! আপনার জ্ঞানে যা ভাল আমি তাই কামনা করছি এবং আপনার জ্ঞানে যা মন্দ তার থেকে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমি এমন মন্দ হতে আপনার নিকট তাওবা ও ক্ষমা প্রার্থনা করছি যা আপনি মন্দ বলে জানেন, নিশ্চয় আপনি অদৃশ্যের খবর খুব ভালভাবেই জানেন।” ( এটাও ইমাম আহমদ (রঃ ) স্বীয় মুসনাদ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন)হযরত সা'দ ইবনু উবাদা ( রাঃ ) বলেনঃ “ আহলে তায়েফের মধ্যে সর্বপ্রথম আমি নবীর ( সঃ ) খিদমতে হাযির হই । আমার বাড়ী হতে আমি সকাল সকালই বেরিয়ে পড়ি এবং আসরের সময় মিনায় পৌছে যাই। পাহাড়ের উপর চড়ি এবং নেমে আসি। তারপর রাসূলুল্লাহ( সঃ ) নিকট হাযির হই এবং ইসলাম গ্রহণ করি। তিনি আমাকে সুরায়ে ( আরবী )( আরবী ) শিখিয়ে দেন এবং নিম্নের কালেমা গুলির তালীম দেনঃ ( আরবী ) এবং বলেনঃ “ এগুলো হলো চিরস্থায়ী পুণ্য ।” এই সনদেই বর্ণিত আছে যে, যে ব্যক্তি রাত্রে উঠে অযু করে, কুল্লী করে, অতঃপর এক শ বার ( আরবী ) পাঠ করে তার সমস্ত গুনাহ মাফ হয়ে যায়। শুধু কাউকে হত্যা করার অপরাধ মাফ হয় না। হযরত ইবনু আব্বাস ( রাঃ ) বলেন যে, ( আরবী ) হলো আল্লাহ তাআলার যিক্র এবং নিম্নের কালেমাগুলিঃ ( আরবী ) আর রোযা, নামায, হজ্ব, সাদা গোলাম আযাদ করা, জিহাদ করা, সিলারহমী করা এবং সমস্ত পুণ্যের কাজ হচ্ছে ( আরবী ) বা চিরস্থায়ী পূণ্য। এগুলির সওয়াব জান্নাতবাসীদেরকে তাদের দুনিয়ায় জীবিত থাকা পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা পৌঁছাতে থাকবেন। বলা হয়েছে যে, পবিত্র কথাও এর অন্তর্ভুক্ত। হযরত আবদুর রহমান ( রঃ ) বলেন যে, সমস্ত সৎকাজই এর অন্তর্ভুক্ত। ইমাম ইবনু জারীরও ( রঃ ) এটাকেই পছন্দ করেছেন।

সূরা কাহ্ফ আয়াত 45 সূরা

واضرب لهم مثل الحياة الدنيا كماء أنـزلناه من السماء فاختلط به نبات الأرض فأصبح هشيما تذروه الرياح وكان الله على كل شيء مقتدرا

سورة: الكهف - آية: ( 45 )  - جزء: ( 15 )  -  صفحة: ( 298 )


English Türkçe Indonesia
Русский Français فارسی
تفسير Urdu اعراب

বাংলায় পবিত্র কুরআনের আয়াত

  1. তারা কি আল্লাহর সৃজিত বস্তু দেখে না, যার ছায়া আল্লাহর প্রতি বিনীতভাবে সেজদাবনত থেকে ডান
  2. নগরে মহিলারা বলাবলি করতে লাগল যে, আযীযের স্ত্রী স্বীয় গোলামকে কুমতলব চরিতার্থ করার জন্য ফুসলায়।
  3. তারা বলেঃ এসব চতুষ্পদ জন্তু ও শস্যক্ষেত্র নিষিদ্ধ। আমরা যাকে ইচছা করি, সে ছাড়া এগুলো
  4. তারা কি জানে না যে, আল্লাহ যিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল সৃষ্টি করেছেন এবং এগুলোর সৃষ্টিতে
  5. ফেরাউন বলল, হঁ্যা এবং তখন তোমরা আমার নৈকট্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত হবে।
  6. যে ব্যক্তি ইহকালে অন্ধ ছিল সে পরকালেও অন্ধ এবং অধিকতর পথভ্রান্ত।
  7. আর যদি তাদের বিমুখতা আপনার পক্ষে কষ্টকর হয়, তবে আপনি যদি ভূতলে কোন সুড়ঙ্গ অথবা
  8. অতঃপর আমি তাদেরকে প্রকাশ্যে দাওয়াত দিয়েছি,
  9. আমি কি তাদের কাছে এমন কোন দলীল নাযিল করেছি, যে তাদেরকে আমার শরীক করতে বলে?
  10. নিশ্চয় তার জন্যে আমার কাছে রয়েছে মর্যাদা ও শুভ পরিণতি।

বাংলায় কোরআনের সূরা পড়ুন :

সুরত আল বাক্বারাহ্ আলে ইমরান সুরত আন-নিসা
সুরত আল-মায়েদাহ্ সুরত ইউসুফ সুরত ইব্রাহীম
সুরত আল-হিজর সুরত আল-কাহফ সুরত মারইয়াম
সুরত আল-হাজ্জ সুরত আল-ক্বাসাস আল-‘আনকাবূত
সুরত আস-সাজদা সুরত ইয়াসীন সুরত আদ-দুখান
সুরত আল-ফাতহ সুরত আল-হুজুরাত সুরত ক্বাফ
সুরত আন-নাজম সুরত আর-রাহমান সুরত আল-ওয়াক্বি‘আহ
সুরত আল-হাশর সুরত আল-মুলক সুরত আল-হাক্কাহ্
সুরত আল-ইনশিক্বাক সুরত আল-আ‘লা সুরত আল-গাশিয়াহ্

সবচেয়ে বিখ্যাত কোরআন তেলাওয়াতকারীদের কণ্ঠে সূরা কাহ্ফ ডাউনলোড করুন:

সূরা Kahf mp3 : উচ্চ মানের সাথে সম্পূর্ণ অধ্যায়টি Kahf শুনতে এবং ডাউনলোড করতে আবৃত্তিকারকে বেছে নিন
সুরত কাহ্ফ  ভয়েস আহমেদ আল-আজমি
আহমেদ আল-আজমি
সুরত কাহ্ফ  ভয়েস ইব্রাহীম আল-আখদার
ইব্রাহীম আল-আখদার
সুরত কাহ্ফ  ভয়েস বান্দার বেলাইলা
বান্দার বেলাইলা
সুরত কাহ্ফ  ভয়েস খালিদ গালিলি
খালিদ গালিলি
সুরত কাহ্ফ  ভয়েস হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
সুরত কাহ্ফ  ভয়েস খলিফা আল টুনাইজি
খলিফা আল টুনাইজি
সুরত কাহ্ফ  ভয়েস সাদ আল-গামদি
সাদ আল-গামদি
সুরত কাহ্ফ  ভয়েস সৌদ আল-শুরাইম
সৌদ আল-শুরাইম
সুরত কাহ্ফ  ভয়েস সালাহ আবু খাতর
সালাহ বুখাতীর
সুরত কাহ্ফ  ভয়েস আবদুল বাসিত আব্দুল সামাদ
আবদ এল বাসেট
সুরত কাহ্ফ  ভয়েস আবদুল রশিদ সুফি
আবদুল রশিদ সুফি
সুরত কাহ্ফ  ভয়েস আব্দুল্লাহ্ বাস্‌ফার
আব্দুল্লাহ্ বাস্‌ফার
সুরত কাহ্ফ  ভয়েস আবদুল্লাহ আওওয়াদ আল-জুহানী
আবদুল্লাহ আল-জুহানী
সুরত কাহ্ফ  ভয়েস আলী আল-হুদায়েফি
আলী আল-হুদায়েফি
সুরত কাহ্ফ  ভয়েস আলী জাবের
আলী জাবের
সুরত কাহ্ফ  ভয়েস ফারেস আব্বাদ
ফারেস আব্বাদ
সুরত কাহ্ফ  ভয়েস মাহের আলমাইকুলই
মাহের আলমাইকুলই
সুরত কাহ্ফ  ভয়েস মোহাম্মদ আইয়ুব
মোহাম্মদ আইয়ুব
সুরত কাহ্ফ  ভয়েস মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
সুরত কাহ্ফ  ভয়েস মুহাম্মাদ জিব্রীল
মুহাম্মাদ জিব্রীল
সুরত কাহ্ফ  ভয়েস মুহাম্মদ সিদ্দিক আল মিনশাবি
আল-মিনশাবি
সুরত কাহ্ফ  ভয়েস আল হোসারি
আল হোসারি
সুরত কাহ্ফ  ভয়েস আল-আফসী
মিশারী আল-আফসী
সুরত কাহ্ফ  ভয়েস নাসের আল কাতামি
নাসের আল কাতামি
সুরত কাহ্ফ  ভয়েস ইয়াসের আল-দোসারি
ইয়াসের আল-দোসারি


Saturday, June 13, 2026

Please remember us in your sincere prayers