কোরান সূরা হা-মীম আস-সাজদা আয়াত 49 তাফসীর
﴿لَّا يَسْأَمُ الْإِنسَانُ مِن دُعَاءِ الْخَيْرِ وَإِن مَّسَّهُ الشَّرُّ فَيَئُوسٌ قَنُوطٌ﴾
[ فصلت: 49]
মানুষ উন্নতি কামনায় ক্লান্ত হয় না; যদি তাকে অমঙ্গল স্পর্শ করে, তবে সে সম্পূর্ণ রূপে নিরাশ হয়ে পড়ে। [সূরা হা-মীম আস-সাজদা: 49]
Surah Fussilat in Banglaজহুরুল হক সূরা বাংলা Surah Fussilat ayat 49
মানুষ ভালর জন্যে প্রার্থনায় ক্লান্তি বোধ করে না, কিন্ত যদি দুঃখকষ্ট তাকে স্পর্শ করে সে তখন ধৈর্যহারা হয়ে যায়।
Tafsir Mokhtasar Bangla
৪৯. স্বাস্থ্য, সম্পদ, সন্তান ইত্যাদি নি‘আমত অন্বেষণে মানুষ ক্লান্ত হয় না। তবে যদি তাকে অভাব কিংবা রোগ ইত্যাদি পেয়ে বসে তখন সে আল্লাহর রহমত থেকে খুব বেশী নিরুৎসাহী ও নিরাশ হয়ে পড়ে।
Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান
মানুষ কল্যাণ প্রার্থনায় কোন ক্লান্তি বোধ করে না।[১] কিন্তু যখন তাকে দুঃখ-দৈন্য স্পর্শ করে, তখন সে সম্পূর্ণরূপে নিরাশ হয়ে পড়ে। [২] [১] অর্থাৎ, দুনিয়ার ধন-সম্পদ ও আসবাব-পত্র, সুস্থতা ও শক্তি, সম্মান ও মর্যাদা এবং অন্যান্য পার্থিব নিয়ামত চাইতে মানুষ ক্লান্ত ও বিরক্ত হয় না; বরং অবিরাম চাইতেই থাকে। এখানে 'মানুষ' বলতে অধিকাংশ মানুষ উদ্দেশ্য। [২] অর্থাৎ, কষ্ট পৌঁছলেই, নিরাশ হয়ে পড়ে। অথচ, আল্লাহর খাঁটি বান্দার অবস্থা এর বিপরীত হয়। এরা প্রথমতঃ পার্থিব জীবনের সুখ-সামগ্রী চায় না; বরং সর্বদা তারা আখেরাতের চিন্তা-ভাবনাই করে থাকে। দ্বিতীয়তঃ কষ্ট পৌঁছবার পরও তারা আল্লাহর রহমত এবং তাঁর অনুগ্রহ থেকে নিরাশ হয়ে পড়ে না। বরং পরীক্ষাকেও গোনাহর প্রায়শ্চিত্ত এবং মর্যাদা বৃদ্ধির কারণ মনে করে থাকে। এই জন্য, নৈরাশ্য তাদের নিকটেও পৌঁছতে পারে না।
Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স
মানুষ কল্যাণ প্রার্থনায় কোন ক্লান্তি বোধ করে না, কিন্তু যখন তাকে অকল্যাণ স্পর্শ করে তখন সে প্রচণ্ডভাবে হতাশ ও নিরাশ হয়ে পড়ে;
Tafsir ibn kathir bangla তাফসীর ইবনে কাসীর
৪৯-৫১ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ্ তা'আলা বলেন যে, মালধন, স্বাস্থ্য ইত্যাদি কল্যাণের প্রার্থনা হতে মানুষ ক্লান্ত হয় না। কিন্তু যদি তার উপর বিপদ-আপদ এসে পড়ে তখন সে এতো বেশী হতাশ ও নিরাশ হয়ে পড়ে যে, যেন আর কখনো সে কোন কল্যাণের মুখ দেখতেই পাবে না। আবার যদি কোন বিপদ ও কাঠিন্যের পর সে কোন কল্যাণ ও সুখ লাভ করে তখন সে বলে বসেঃ “ আল্লাহ তা'আলার উপর তো আমার এটা হক বা প্রাপ্যই ছিল । আমি এর যোগ্যই ছিলাম। এখন সে এই নিয়ামত লাভ করে ফুলে উঠে এবং ধরাকে সরা জ্ঞান করে বসে। মহান আল্লাহকে বিস্মরণ হয়ে যায় এবং পরিষ্কারভাবে তাকে অস্বীকার করে ফেলে। কিয়ামতের সংঘটনকে স্পষ্টভাবে অবিশ্বাস করে বসে। ধন-দৌলত এবং আরাম ও আয়েশ তার কুফরীর কারণ হয়ে দাড়ায়। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ ( আরবী ) অর্থাৎ “ বস্তুতঃ মানুষ তো সীমালংঘন করেই থাকে, কারণ সে নিজেকে অভাব মুক্ত মনে করে ।”( ৯৬:৬-৭ ) তাই সে মস্তক উঁচু করে হঠকারিতা করতে শুরু করে দেয়।মহান আল্লাহ বলেন যে, শুধু এটুকুই নয়, বরং এই দুষ্কর্যের উপর সে ভাল আশাও রাখে এবং বলেঃ যদি কিয়ামত সংঘটিত হয়েও যায় এবং আমি আল্লাহ তা'আলার নিকট প্রত্যাবর্তিতও হই, তবে যেমন আমি এখানে সুখ-স্বচ্ছন্দে রয়েছি, অনুরূপভাবে সেখানেও অর্থাৎ পরকালেও সুখেই থাকবো। মোটকথা, সে কিয়ামতকে অস্বীকারও করে, মৃত্যুর পর পুনজীবনকে মানেও না, আবার বড় বড় আশাও পোষণ করে যে, দুনিয়ায় যেমন সুখে রয়েছে, আখিরাতেও তেমনি সুখেই থাকবে।যাদের আমল ও বিশ্বাস এইরূপ তাদেরকে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা ভয় প্রদর্শন করে বলেনঃ “ আমি এই কাফিরদেরকে তাদের কৃতকর্ম সম্বন্ধে অবশ্যই অবহিত করবো এবং তাদেরকে আস্বাদন করাবো কঠোর শাস্তি । মহামহিমান্বিত আল্লাহ মানুষের স্বভাব ও আচরণের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেনঃ ‘যখন আমি মানুষের প্রতি অনুগ্রহ করি তখন ( গর্বভরে ) মুখ ফিরিয়ে নেয় ও দূরে সরে যায়। আর যখন তাকে অনিষ্ট স্পর্শ করে তখন সে দীর্ঘ প্রার্থনায় রত হয়। ( আরবী ) ওকেই বলা হয় যার শব্দ বেশী এবং অর্থ কম হয়। আর যে কালাম বা কথা এর বিপরীত হয় অর্থাৎ শব্দ কম ও অর্থ বেশী, ওকে ( আরবী ) বলা হয়ে থাকে। এই বিষয়টিই অন্য জায়গায় নিম্নরূপে বর্ণিত হয়েছেঃ ( আরবী ) অর্থাৎ “ মানুষকে যখন কষ্ট ও বিপদ স্পর্শ করে তখন সে শুয়ে, বসে এবং দাড়িয়ে আমাকে আহ্বান করে থাকে, অতঃপর যখন আমি ঐ কষ্ট ও বিপদ দূরীভূত করি তখন সে এমন বেপরোয়া ভাব দেখিয়ে ফিরে যায় যে, যেন সে বিপদের সময় আমাকে আহ্বান করেইনি ।” ( ১০:১২ )
সূরা হা-মীম আস-সাজদা আয়াত 49 সূরা
| English | Türkçe | Indonesia |
| Русский | Français | فارسی |
| تفسير | Urdu | اعراب |
বাংলায় পবিত্র কুরআনের আয়াত
- অতঃপর সে বনী ইসরাঈলকে দেশ থেকে উৎখাত করতে চাইল, তখন আমি তাকে ও তার সঙ্গীদের
- অতএব, সে তার সভাসদদেরকে আহবান করুক।
- হে আমার ঈমানদার বান্দাগণ, আমার পৃথিবী প্রশস্ত। অতএব তোমরা আমারই এবাদত কর।
- যিনি আল্লাহ তোমাদের পালনকর্তা এবং তোমাদের পূর্বপুরুষদের পালনকর্তা?
- পার্থিব জীবন তো কেবল খেলাধুলা, যদি তোমরা বিশ্বাসী হও এবং সংযম অবলম্বন কর, আল্লাহ তোমাদেরকে
- যে শহর উৎকৃষ্ট, তার ফসল তার প্রতিপালকের নির্দেশে উৎপন্ন হয় এবং যা নিকৃষ্ট তাতে অল্পই
- স্মরণ কর, যখন আমি ফেরেশতাদেরকে বললামঃ আদমকে সেজদা কর, তখন ইবলীস ব্যতীত সবাই সেজদায় পড়ে
- তোমরা ঐ মহিলার মত হয়ো না, যে পরিশ্রমের পর কাটা সূতা টুকরো টুকরো করে ছিড়ে
- ফেরাউন সম্প্রদায়ের কাছেও সতর্ককারীগণ আগমন করেছিল।
- কিন্তু যে সুস্থ অন্তর নিয়ে আল্লাহর কাছে আসবে।
বাংলায় কোরআনের সূরা পড়ুন :
সবচেয়ে বিখ্যাত কোরআন তেলাওয়াতকারীদের কণ্ঠে সূরা হা-মীম আস-সাজদা ডাউনলোড করুন:
সূরা Fussilat mp3 : উচ্চ মানের সাথে সম্পূর্ণ অধ্যায়টি Fussilat শুনতে এবং ডাউনলোড করতে আবৃত্তিকারকে বেছে নিন
আহমেদ আল-আজমি
ইব্রাহীম আল-আখদার
বান্দার বেলাইলা
খালিদ গালিলি
হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
খলিফা আল টুনাইজি
সাদ আল-গামদি
সৌদ আল-শুরাইম
সালাহ বুখাতীর
আবদ এল বাসেট
আবদুল রশিদ সুফি
আব্দুল্লাহ্ বাস্ফার
আবদুল্লাহ আল-জুহানী
আলী আল-হুদায়েফি
আলী জাবের
ফারেস আব্বাদ
মাহের আলমাইকুলই
মোহাম্মদ আইয়ুব
মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
মুহাম্মাদ জিব্রীল
আল-মিনশাবি
আল হোসারি
মিশারী আল-আফসী
নাসের আল কাতামি
ইয়াসের আল-দোসারি
Please remember us in your sincere prayers



