কোরান সূরা নিসা আয়াত 66 তাফসীর

  1. Mokhtasar
  2. Ahsanul Bayan
  3. AbuBakr Zakaria
  4. Ibn Kathir
Surah Nisa ayat 66 Bangla tafsir - তাফসীর ইবনে কাসীর - Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান - Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স - বাংলা ভাষায় নোবেল কোরআনের অর্থের অনুবাদ উর্দু ভাষা ও ইংরেজি ভাষা & তাফসীর ইবনে কাসীর : সূরা নিসা আয়াত 66 আরবি পাঠে(Nisa).
  
   

﴿وَلَوْ أَنَّا كَتَبْنَا عَلَيْهِمْ أَنِ اقْتُلُوا أَنفُسَكُمْ أَوِ اخْرُجُوا مِن دِيَارِكُم مَّا فَعَلُوهُ إِلَّا قَلِيلٌ مِّنْهُمْ ۖ وَلَوْ أَنَّهُمْ فَعَلُوا مَا يُوعَظُونَ بِهِ لَكَانَ خَيْرًا لَّهُمْ وَأَشَدَّ تَثْبِيتًا﴾
[ النساء: 66]

আর যদি আমি তাদের নির্দেশ দিতাম যে, নিজেদের প্রাণ ধ্বংস করে দাও কিংবা নিজেদের নগরী ছেড়ে বেরিয়ে যাও, তবে তারা তা করত না; অবশ্য তাদের মধ্যে অল্প কয়েকজন। যদি তারা তাই করে যা তাদের উপদেশ দেয়া হয়, তবে তা অবশ্যই তাদের জন্য উত্তম এং তাদেরকে নিজের ধর্মের উপর সুদৃঢ় রাখার জন্য তা উত্তম হবে। [সূরা নিসা: 66]

Surah An-Nisa in Bangla

জহুরুল হক সূরা বাংলা Surah Nisa ayat 66


আর আমরা যদি তাদের জন্য বিধান করতাম, যথা -- ''তোমাদের প্রাণ বিসর্জন করো’’, অথবা ''তোমাদের বাড়িঘর থেকে বেরিয়ে পড়ো’’, তারা তা করতো না তাদের মধ্যের অল্প কয়েকজন ছাড়া। আর যদি তারা তাই করতো যে ব্যাপারে তাদের উপদেশ দেয়া হয়েছিল তবে তাদের জন্য তা হতো বহু ভালো ও আরো বেশী শক্তিদায়ক;


Tafsir Mokhtasar Bangla


৬৬-৬৮. যদি আমি তাদের উপর একে অপরকে হত্যা করা অথবা তাদের ঘরসমূহ থেকে বের হওয়া ফরয করে দিতাম তাদের কিছু সংখ্যক ছাড়া কেউই আমার আদেশ মানতো না। তাই তারা যেন এ ব্যাপারে আল্লাহর প্রশংসা করে যে, তিনি তাদের উপর কঠিন কোন কিছু চাপিয়ে দেননি। যদি তারা আল্লাহর আনুগত্যের উপদেশ মাফিক কাজ করতো তাহলে তা বিরুদ্ধাচরণের চেয়ে অনেক উত্তম ও তাদের ঈমান আরো পরিপক্ক হতো। আর আমি তাদেরকে আমার পক্ষ থেকে মহা প্রতিদান দিতাম এবং তাদেরকে আল্লাহ ও তাঁর জান্নাতের দিকে পৌঁছিয়ে দেয় এমন পথে চলার তাওফীক দিতাম।

Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান


আর যদি আমি তাদের জন্য বিধিবদ্ধ করতাম যে, তোমরা নিজেদেরকে হত্যা কর অথবা আপন গৃহত্যাগ কর, তাহলে তাদের অল্পসংখ্যকই তা মান্য করত। আর যা করতে তাদেরকে উপদেশ দেওয়া হয়েছিল, যদি তারা তা পালন করত, তাহলে তা তাদের জন্য নিশ্চয়ই কল্যাণকর হত এবং চিত্তস্থিরতায় দৃঢ়তর হত। [১] [১] আয়াতে অবাধ্য প্রকৃতির লোকদের প্রত্যাখ্যান করার কু-অভ্যাসের প্রতি ইঙ্গিত করে বলা হচ্ছে যে, এদেরকে যদি নির্দেশ দেওয়া হত যে, তোমরা পরস্পরকে হত্যা কর অথবা নিজেদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাও, তাহলে তারা এই নির্দেশের উপর কিভাবে আমল করতে পারত, অথচ তারা এর থেকেও আসান জিনিসের উপর আমল করতে পারেনি? তাদের ব্যাপারে এটা মহান আল্লাহ নিজ জ্ঞান অনুযায়ী বলেছেন, যা অবশ্যই বাস্তবসম্মত। অর্থাৎ, কঠিন নির্দেশের উপর আমল করা তো অবশ্যই কঠিন। কিন্তু মহান আল্লাহ চরম দয়ালু এবং পরম করুণাময়, তাঁর বিধানাদিও সহজ। কাজেই তারা যদি এই নির্দেশগুলো পালন করে, যা করতে তাদেরকে নসীহত করা হচ্ছে, তাহলে তা তাদের জন্য উত্তম এবং ( দ্বীনে ) সুদৃঢ় থাকার মাধ্যম সাব্যস্ত হবে। কেননা, ঈমান পুণ্যকর্ম দ্বারা বর্ধিত হয় এবং পাপকর্ম দ্বারা হ্রাস পায়। পুণ্য দ্বারা পুণ্যের পথ আরো খুলে যায় এবং পাপ দ্বারা আরো অনেক পাপের জন্ম হয়। অর্থাৎ, পাপের পথ আরো প্রশস্ত এবং সহজ হয়ে যায়।

Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স


আর যদি আমরা তাদেরকে আদেশ দিতাম যে, তোমরা নিজেদেরকে হত্যা কর বা আপন গৃহ ত্যাগ কর তবে তাদের অল্প সংখ্যকই তা করত []। যা করতে তাদেরকে উপদেশ দেয়া হয়েছিল তারা তা করলে তাদের ভাল হত এবং চিত্তস্থিরতায় তারা দৃঢ়তর হত। [] কাতাদা বলেন, এখানে ইয়াহুদীদেরকেই বলা হচ্ছে। যেমনিভাবে তাদের পুর্বপুরুষদের তাওবা কবুলের জন্য মূসা ‘আলাইহিস সালাম কর্তৃক তাদের নিজেদের হত্যা করার নির্দেশ ছিল, তেমনি নির্দেশ যদি তাদের জন্যও আসত, তবে তারা তা অবশ্যই অমান্য করত। [ আত-তাফসীরুস সহীহ ]

Tafsir ibn kathir bangla তাফসীর ইবনে কাসীর


৬৬-৭০ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তা'আলা সংবাদ দিচ্ছেন- অধিকাংশ লোক এরূপ যে, তাদেরকে যদি ঐ নিষিদ্ধ কাজগুলো করারও নির্দেশ দেয়া হতো যা তারা এ সময়ে করতে রয়েছে তবে তারা ঐ কাজগুলোও করতো না। কেননা, তাদের হীন প্রকৃতিকে আল্লাহ তাআলার বিরুদ্ধাচরণের উপরই গঠন করা হয়েছে। সুতরাং আল্লাহ তাআলা এখানে তাঁর ঐ জ্ঞানের সংবাদ দিচ্ছেন যা হয়নি। কিন্তু যদি হতো তবে কিরূপ হতো? হযরত আবু ইসহাক সাবীঈ ( রঃ ) বলেন যে, যখন ( আরবী )-এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয় তখন একজন মনীষী বলেছিলেনঃ যদি আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে এ নির্দেশ দিতেন তবে অবশ্যই আমরা তা পালন করতাম। কিন্তু তিনি আমাদেরকে এটা হতে বাঁচিয়ে নিয়েছেন বলে আমরা তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।' যখন রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) এ কথা শুনেন তখন তিনি বলেনঃ “ নিশ্চয়ই আমার উম্মতের মধ্যে এমন লোকও রয়েছে যাদের অন্তরে ঈমান মজবুত পর্বত অপেক্ষাও বেশী প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ।' ( মুসনাদ-ইইবনে আবি হাতিম )অন্য সনদে রয়েছে যে, কয়েকজন সাহাবী ( রাঃ ) এ কথা বলেছিলেন। সুদ্দী ( রঃ ) বলেন যে, একজন ইয়াহূদী হযরত কায়েস ইবনে শাম্মাস ( রাঃ )-কে গর্ব করে বলেছিলেন, আল্লাহ তাআলা আমাদের উপর স্বয়ং আমাদের হত্যা ফরয। করেছিলেন এবং আমরা তা পালন করেছিলাম। তখন হযরত সাবিত ( রাঃ ) বলেনঃ যদি আমাদের উপর ওটা ফরয করা হতো তবে আমরাও তা পালন করতাম।' তখন এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। অন্য একটি বর্ণনায় রয়েছে যে, যখন এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয় তখন রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) বলেনঃ ‘যদি এ নির্দেশ দেয়া হতো হবে তা পালনকারীদের মধ্যে একজন ইবনে উম্মে আবদও ( রাঃ ) হতো'( মুসনাদ-ই-ইবনে আবি হাতিম )অন্য একটি বর্ণনায় রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) এ আয়াতটি পড়ে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা ( রাঃ )-এর দিকে হাত বাড়িয়ে ইঙ্গিত করত বলেনঃ ‘এর উপর আমলকারীদের মধ্যে এও একজন।এরপর আল্লাহ তাআলা বলেনঃ যদি এ লোকগুলো আমার আদেশ পালন করতো এবং আমার নিষিদ্ধ জিনিস ও কাজ হতে বিরত থাকতো তবে আমার আদেশের বিরুদ্ধাচরণ অপেক্ষা ওটাই তাদের জন্যে উত্তম হতো। এটাই হতো তাদের জন্য কল্যাণকর ও অধিকতর সুপ্রতিষ্ঠিত। সে সময় আমি তাদেরকে জান্নাত দান করতাম এবং দুনিয়া ও আখিরাতের উত্তম পথ প্রদর্শন করতাম।অতঃপর আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ ( সঃ )-এর নির্দেশের উপর আমল করে এবং নিষিদ্ধ কাজ হতে বিরত থাকে তাকে আল্লাহ তা'আলা সম্মানের ঘরে নিয়ে যাবেন এবং নবীদের বন্ধুরূপে পরিগণিত করবেন। তারপর সত্য সাধকদের বন্ধু করবেন, যাদের মর্যাদা নবীদের পরে। তারপর তাদেরকে তিনি শহীদের সঙ্গী করবেন। অতঃপর সমস্ত মুমিনের সঙ্গী করবেন যাদের ভেতর ও বাহির সুসজ্জিত। একটু চিন্তা করলেই বুঝা যাবে যে, এরা কতই না পবিত্র ও উত্তম বন্ধু! সহীহ বুখারী শরীফে রয়েছে, হযরত আয়েশা ( রাঃ ) বলেন, আমি নবী ( সঃ )-কে বলতে শুনেছি, প্রত্যেক নবী ( আঃ )-কে তার রোগাক্রান্ত অবস্থায় দুনিয়ায় অবস্থানের এবং আখিরাতের দিকে গমনের মধ্যে অধিকার দেয়া হয়। যখন রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) রোগাক্রান্ত হন, যে রোগ হতে তিনি আর উঠতে পারেননি তখন তাঁর কণ্ঠস্বর বসে যায়। সে সময় আমি তাকে বলতে শুনি, ‘ওদের সঙ্গে যাঁদের উপর আল্লাহ তাআলা অনুগ্রহ করেছেন, যারা নবী, সত্য সাধক, শহীদ ও সকর্মশীল। আমি তখন জানতে পারি যে, তাকে অধিকার দেয়া হয়েছে'।অন্য হাদীসে রয়েছে যে, তাঁর নিম্নের শব্দগুলো এসেছে, হে আল্লাহ! আমি সবচেয়ে উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন বন্ধুর সাথে মিলন যাজ্ঞা করছি। অতঃপর তিনি এ নশ্বর জগত হতে চির বিদায় গ্রহণ করেন। এ কথা তিনি তিনবার পবিত্র মুখে উচ্চারণ করেন। পূর্বোক্ত হাদীসে বর্ণিত তার উক্তির ভাবার্থ এটাই ।এ পবিত্র আয়াতের শানে নুযূলঃতাফসীর-ই-ইবনে জারীরে রয়েছে, হযরত সাঈদ ইবনে যুবাইর ( রাঃ ) হতে বর্ণিত আছে যে, একজন আনসারী রাসূলুল্লাহ ( সঃ )-এর নিকট আগমন করেন। রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) তাঁকে অত্যন্ত চিন্তিত দেখে চিন্তার কারণ জিজ্ঞেস করায় তিনি। বলেন, হে আল্লাহর রাসূল ( সঃ )! এখানে তো সকাল সন্ধ্যায় আমরা আপনার ' খেদমতে এসে উঠা বসা করছি এবং আপনার মুখমণ্ডলও দর্শন করছি। কিন্তু কাল কিয়ামতের দিন তো আপনি নবীগণের সমাবেশে সর্বোচ্চ আসনে উপবিষ্ট থাকবেন। তখন তো আমরা আপনার নিকট পৌছাতে পারবো না! রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) কোন উত্তর দিলেন না। সে সময় হযরত জিবরাঈল ( আঃ ) এ আয়াতটি আনয়ন করেন। রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) তখন লোক পাঠিয়ে উক্ত আনসারীকে সুসংবাদ প্রদান করেন। এ হাদীসটি মুরসাল সনদেও বর্ণিত আছে, যে সনদটি খুবই উত্তম।হযরত রাবী ( রাঃ ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ ( সঃ )-এর সাহাবীগণ বলেন, এটা তো স্পষ্ট কথা যে, রাসূলুল্লাহ ( সঃ )-এর মর্যাদা তার উপর বিশ্বাস স্থাপন কারীদের বহু উর্ধে। সুতরাং জান্নাতে যখন এঁরা সব একত্রিত হবেন তখন তাঁদের পরস্পরের মধ্যে কিরূপে দেখা সাক্ষাৎ হবে? তখন উপরোক্ত আয়াতটি অবতীর্ণ হয় এবং রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) বলেনঃ উচ্চমর্যাদা সম্পন্ন ব্যক্তিগণ নিম্নমর্যাদা সম্পন্ন ব্যক্তিদের নিকট নেমে আসবে এবং তারা সব ফুল বাগানে একত্রিত হবে। তারা আল্লাহ তা'আলার অনুগ্রহ সম্বন্ধে আলাপ আলোচনা করবে ও তার প্রশংসা করবে। তারা যা চাইবে তাই পাবে এবং তন্মধ্যে সদা তারা আমোদ-আহলাদ করতে থাকবে।' তাফসীর-ই-ইবনে মিরদুওয়াই-এর মধ্যে হযরত আয়েশা ( রাঃ ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন যে, একটি লোক রাসূলুল্লাহ ( সঃ )-এর নিকট এসে বলে, ‘হে আল্লাহর রাসূল ( সঃ )! আমি আপনাকে আমার প্রাণ হতে, পরিবার পরিজন হতে এবং সন্তান অপেক্ষাও বেশী ভালবাসি। আমি বাড়ীতে থাকি বটে, কিন্তু আপনাকে স্মরণ করা মাত্র আপনার নিকট আগমন ছাড়া আমি আর ধৈর্য ধারণ করতে পারি না। অতঃপর এসে আপনাকে দর্শন করি। কিন্তু যখন আমি আমার ও আপনার মৃত্যুর কথা স্মরণ করি এবং নিশ্চিতরূপে জানতে পারি যে, আপনি নবীদের সঙ্গে সুউচ্চ প্রকোষ্ঠে অবস্থান করবেন, তখন আমার ভয় হয় যে, আমি জান্নাতে প্রবেশ লাভ করলেও আপনাকে হয়তো দেখতে পাবো না। সে সময় উপরোক্ত আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। এ বর্ণনাটির আরও ধারা রয়েছে।সহীহ মুসলিমে রয়েছে, হযরত রাবিআ’ ইবনে কা'ব আসলামী ( রাঃ ) বলেন, ‘আমি রাত্রে রাসূলুল্লাহ ( সঃ )-এর খিদমতে অবস্থান করতাম এবং তাঁকে পানি ইত্যাদি এনে দিতাম। একদা তিনি আমাকে বলেনঃ “ কিছু যাঞা কর' । আমি বলি, জান্নাতে আপনার বন্ধুত্ব যাজ্ঞা করছি। তিনি বলেনঃ “ এটা ছাড়া অন্য কিছু?' আমি বলি, এটাও এটাই বটে । তখন তিনি বলেনঃ তা হলে অধিক সিজদার মাধ্যমে তুমি তোমার জীবনের উপর আমাকে সাহায্য কর।'মুসনাদ-ই-আহমাদে হযরত আমর ইবনে মুররাতুল জাহনী ( রাঃ ) হতে বর্ণিত আছে যে, একটি লোক রাসূলুল্লাহ ( সঃ )-এর নিকট এসে বলেন, “ আমি সাক্ষ্য দিয়েছি যে, আল্লাহ ছাড়া কেউ মা'বুদ নেই এবং আরও সাক্ষ্য দিয়েছি যে, আপনি আল্লাহর রাসূল । আমি পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়ি, স্বীয় মালের যাকাত প্রদান করি এবং রমযানের রোযা রাখি। তখন রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) স্বীয় অঙ্গুলি উঠিয়ে ইঙ্গিত করতঃ বলেনঃ “ যে ব্যক্তি এর উপরই মৃত্যুবরণ করবে সে কিয়ামতের দিন এভাবে নবীদের সঙ্গে, সত্য সাধকদের সঙ্গে এবং শহীদদের সঙ্গে অবস্থান করবে । কিন্তু শর্ত এই যে, সে যেন পিতা-মাতার অবাধ্য না হয়।মুসনাদ-ই-আহমাদেই রয়েছে, হযরত আনাস ( রাঃ ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) বলেছেনঃ “ যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার পথে এক হাজার আয়াত পাঠ করে সে কিয়ামতের দিন ইনশাআল্লাহ নবীদের, সত্য সাধকদের, শহীদদের এবং সৎ কর্মশীলদের সঙ্গে মিলিত হবে । আর এরাই সর্বোত্তম সঙ্গী। জামেউত তিরমিযীর মধ্যে হযতর আবু সাঈদ ( রাঃ ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) বলেছেনঃ ‘সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত বণিক- নবী, সিদ্দীক ও শহীদের সঙ্গে থাকবে।সহীহ ও মুসনাদ হাদীস গ্রন্থসমূহে সাহাবা-ই-কিরামের একটি বিরাট দল হতে ক্রম পরম্পরায় বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) ঐ ব্যক্তি সম্বন্ধে জিজ্ঞাসিত হন যে একটি গোত্রের সাথে ভালবাসা রাখে কিন্তু তাদের সাথে মিলিত হয়নি। তখন রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) বলেনঃ ‘মানুষ তাদের সঙ্গেই থাকবে যাদেরকে সে ভালবাসতো।'হযরত আনাস ( রাঃ ) বলেন, মুসলমানেরা এ হাদীস শুনে যত খুশী হয়েছিল এত খুশী অন্য কোন জিনিসে হয়নি। আল্লাহর শপথ! আমার ভালবাসা তো রাসূলুল্লাহ ( সঃ ), হযরত আবু বকর ( রাঃ ) এবং হযতর উমার ( রাঃ )-এর সঙ্গে রয়েছে। তাই, আমি আশা রাখি যে, আল্লাহ তা'আলা আমাকে তাঁদের সঙ্গেই উঠাবেন, যদিও আমার আমল তাঁদের মত নয়।'হযরত আবু সাঈদ খুদরী ( রাঃ ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) বলেছেনঃ জান্নতবাসীরা তাদের অপেক্ষা উচ্চমর্যাদা সম্পন্ন জন্নাতবাসীদেরকে তাদের প্রাসাদ এরূপ দেখবে যেরূপ তোমরা পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত কোন উজ্জ্বল তারকা দেখে থাক। তাদের মধ্যে বহু দূরের ব্যবধান থাকবে। তখন সাহাবীগণ ( রাঃ ) বলেন, হে আল্লাহর রাসূল ( সঃ )! এসব প্রাসাদ তো নবীদের জন্যে নির্দিষ্ট থাকবে। সুতরাং তথায় তো তারা ছাড়া অন্য কেউ পৌছতে পারবে না। তখন নবী ( সঃ ) বলেনঃ হ্যা, যার হাতে আমার প্রাণ রয়েছে তার শপথ! যেসব লোক আল্লাহ তা'আলা উপর ঈমান এনেছে এবং রাসূলগণকে সত্য বলে স্বীকার করেছে তারাও তথায় পৌছে যাবে।' ( সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম )।হযরত ইবনে উমার ( রাঃ ) হতে বর্ণিত আছে যে, একজন হাবশী রাসূলুল্লাহ ( সঃ )-এর দরবারে কিছু প্রশ্ন করার জন্যে উপস্থিত হয়। রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) তাঁকে বলেনঃ ‘জিজ্ঞেস কর ও অনুধাবন কর।' সে বলে, হে আল্লাহর রাসূল ( সঃ )! আল্লাহ তা'আলা আপনাদেরকে আকারে, রঙ্গে এবং নবুওয়াতে আমাদের উপর মর্যাদা দান করেছেন। আপনি যার উপর ঈমান এনেছেন আমিও যদি তার উপর ঈমান আনি এবং যেসব নির্দেশ আপনি পালন করেন আমিও যদি তা পালন করি তবে কি আমি জান্নাতে আপনার সঙ্গ লাভ করবো?' রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) উত্তরে বলেনঃ হ্যা। যে আল্লাহ তা'আলার হাতে আমার প্রাণ রয়েছে তাঁর শপথ! কৃষ্ণ বর্ণের হাবশী এমন সাদা উজ্জ্বল হয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে যে, তার ঔজ্জ্বল্য এক হাজার বছরের পথের দূরত্ব হতেও দৃষ্টিগোচর হবে। অতঃপর তিনি বলেন, “ যে ব্যক্তি ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলে তার জন্যে আল্লাহ তা'আলার নিকট অঙ্গীকার রয়েছে এবং যে ব্যক্তি 'সুবহানাল্লাহ ওয়া বিহামদিহী’ বলে তার জন্যে এক লক্ষ চব্বিশ হাজার পুণ্য লিখা হয় তখন আর এক ব্যক্তি বলে, হে আল্লাহর রাসূল ( সঃ )! যখন এত পুণ্য লাভ হবে তখন আমরা ধ্বংস কিরূপে হতে পারি। এর উত্তরে রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) বলেনঃ ‘একজন লোক কিয়ামতের দিন এত পুণ্য নিয়ে হাযির হবে যে, যদি তা কোন পর্বতের উপর রাখা হয় তবে তার উপর ভারী বোঝা হয়ে যাবে। কিন্তু আল্লাহ তা'আলার নিয়ামতসমূহের মধ্যে একটি নি'আমত দাড়িয়ে যাবে এবং ওরই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে গিয়ে এ সমুদয় আমল খুবই অল্প রূপ পরিলক্ষিত হবে। হ্যাঁ, তবে আল্লাহ তাআলা যদি তাকে স্বীয় পূর্ণ করুণা দ্বারা ঢেকে দিয়ে জান্নাত দান করেন সেটা অন্য কথা। সে সময় ( আরবী ) ( ৭৬:১-২০ ) পর্যন্ত আয়াতগুলো অবতীর্ণ হয়। তখন হাবশী বলেন, হে আল্লাহর রাসূল ( সঃ )। জান্নাতে আপনার চক্ষু যা দেখবে আমার চক্ষুও কি তা দেখতে পাবে’? রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) বলেনঃ হ্যাঁ'। একথা শুনে সে কেঁদে পড়ে এবং এত বেশী ক্রন্দন করে যে, তাতেই তার জীবনলীলা শেষ হয়ে যায়। হযরত ইবনে উমার ( রাঃ ) বলেন, 'আমি ঐ লোকটির মৃত দেহ স্বয়ং রাসূলুল্লাহ ( সঃ )-কে কবরে নামাতে দেখেছি।' এ বর্ণনাটি গারীব এবং মুনকারও বটে। এর সনদও দুর্বল।অতঃপর আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ “ এটা আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতেই অনুগ্রহ ও দান এবং তাঁর বিশেষ করুণা, যার কারণে তাঁর বান্দা এত মর্যাদা লাভ করেছে, এটা সে তার কার্যবলে লাভ করেনি । আল্লাহ তাআলা খুব ভাল জানেন।' অর্থাৎ হিদায়াত ও তাওফীক লাভের হকদার যে কে তাঁর খুব ভালরূপেই জানা আছে।

সূরা নিসা আয়াত 66 সূরা

ولو أنا كتبنا عليهم أن اقتلوا أنفسكم أو اخرجوا من دياركم ما فعلوه إلا قليل منهم ولو أنهم فعلوا ما يوعظون به لكان خيرا لهم وأشد تثبيتا

سورة: النساء - آية: ( 66 )  - جزء: ( 5 )  -  صفحة: ( 89 )


English Türkçe Indonesia
Русский Français فارسی
تفسير Urdu اعراب

বাংলায় পবিত্র কুরআনের আয়াত

  1. তখন প্রত্যেকেই জেনে নিবে সে কি উপস্থিত করেছে।
  2. হে ঈমানদারগণ, তোমাদের নিকটবর্তী কাফেরদের সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যাও এবং তারা তোমাদের মধ্যে কঠোরতা অনুভব
  3. হে মানুষ, তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ কর। আল্লাহ ব্যতীত এমন কোন স্রষ্টা আছে কি,
  4. তারা বলেঃ আমরা কি উলটো পায়ে প্রত্যাবর্তিত হবই-
  5. তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর এবং রসূলুল্লাহর আনুগত্য কর। যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে আমার
  6. আল্লাহ তা’আলাই তো জীবিকাদাতা শক্তির আধার, পরাক্রান্ত।
  7. তুমি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর আর না কর। যদি তুমি তাদের জন্য সত্তর বারও
  8. আর তিনি বললেন, তোমরা এতে আরোহন কর। আল্লাহর নামেই এর গতি ও স্থিতি। আমার পালনকর্তা
  9. কোরাইশের আসক্তির কারণে,
  10. আমাদের ইলাহ একক ইলাহ। অনন্তর যারা পরজীবনে বিশ্বাস করে না, তাদের অন্তর সত্যবিমুখ এবং তারা

বাংলায় কোরআনের সূরা পড়ুন :

সুরত আল বাক্বারাহ্ আলে ইমরান সুরত আন-নিসা
সুরত আল-মায়েদাহ্ সুরত ইউসুফ সুরত ইব্রাহীম
সুরত আল-হিজর সুরত আল-কাহফ সুরত মারইয়াম
সুরত আল-হাজ্জ সুরত আল-ক্বাসাস আল-‘আনকাবূত
সুরত আস-সাজদা সুরত ইয়াসীন সুরত আদ-দুখান
সুরত আল-ফাতহ সুরত আল-হুজুরাত সুরত ক্বাফ
সুরত আন-নাজম সুরত আর-রাহমান সুরত আল-ওয়াক্বি‘আহ
সুরত আল-হাশর সুরত আল-মুলক সুরত আল-হাক্কাহ্
সুরত আল-ইনশিক্বাক সুরত আল-আ‘লা সুরত আল-গাশিয়াহ্

সবচেয়ে বিখ্যাত কোরআন তেলাওয়াতকারীদের কণ্ঠে সূরা নিসা ডাউনলোড করুন:

সূরা Nisa mp3 : উচ্চ মানের সাথে সম্পূর্ণ অধ্যায়টি Nisa শুনতে এবং ডাউনলোড করতে আবৃত্তিকারকে বেছে নিন
সুরত নিসা  ভয়েস আহমেদ আল-আজমি
আহমেদ আল-আজমি
সুরত নিসা  ভয়েস ইব্রাহীম আল-আখদার
ইব্রাহীম আল-আখদার
সুরত নিসা  ভয়েস বান্দার বেলাইলা
বান্দার বেলাইলা
সুরত নিসা  ভয়েস খালিদ গালিলি
খালিদ গালিলি
সুরত নিসা  ভয়েস হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
সুরত নিসা  ভয়েস খলিফা আল টুনাইজি
খলিফা আল টুনাইজি
সুরত নিসা  ভয়েস সাদ আল-গামদি
সাদ আল-গামদি
সুরত নিসা  ভয়েস সৌদ আল-শুরাইম
সৌদ আল-শুরাইম
সুরত নিসা  ভয়েস সালাহ আবু খাতর
সালাহ বুখাতীর
সুরত নিসা  ভয়েস আবদুল বাসিত আব্দুল সামাদ
আবদ এল বাসেট
সুরত নিসা  ভয়েস আবদুল রশিদ সুফি
আবদুল রশিদ সুফি
সুরত নিসা  ভয়েস আব্দুল্লাহ্ বাস্‌ফার
আব্দুল্লাহ্ বাস্‌ফার
সুরত নিসা  ভয়েস আবদুল্লাহ আওওয়াদ আল-জুহানী
আবদুল্লাহ আল-জুহানী
সুরত নিসা  ভয়েস আলী আল-হুদায়েফি
আলী আল-হুদায়েফি
সুরত নিসা  ভয়েস আলী জাবের
আলী জাবের
সুরত নিসা  ভয়েস ফারেস আব্বাদ
ফারেস আব্বাদ
সুরত নিসা  ভয়েস মাহের আলমাইকুলই
মাহের আলমাইকুলই
সুরত নিসা  ভয়েস মোহাম্মদ আইয়ুব
মোহাম্মদ আইয়ুব
সুরত নিসা  ভয়েস মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
সুরত নিসা  ভয়েস মুহাম্মাদ জিব্রীল
মুহাম্মাদ জিব্রীল
সুরত নিসা  ভয়েস মুহাম্মদ সিদ্দিক আল মিনশাবি
আল-মিনশাবি
সুরত নিসা  ভয়েস আল হোসারি
আল হোসারি
সুরত নিসা  ভয়েস আল-আফসী
মিশারী আল-আফসী
সুরত নিসা  ভয়েস নাসের আল কাতামি
নাসের আল কাতামি
সুরত নিসা  ভয়েস ইয়াসের আল-দোসারি
ইয়াসের আল-দোসারি


Friday, June 5, 2026

Please remember us in your sincere prayers