কোরান সূরা মারইয়াম আয়াত 73 তাফসীর
﴿وَإِذَا تُتْلَىٰ عَلَيْهِمْ آيَاتُنَا بَيِّنَاتٍ قَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا لِلَّذِينَ آمَنُوا أَيُّ الْفَرِيقَيْنِ خَيْرٌ مَّقَامًا وَأَحْسَنُ نَدِيًّا﴾
[ مريم: 73]
যখন তাদের কাছে আমার সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ তেলাওয়াত করা হয়, তখন কাফেররা মুমিনদেরকে বলেঃ দুই দলের মধ্যে কোনটি মর্তবায় শ্রেষ্ঠ এবং কার মজলিস উত্তম? [সূরা মারইয়াম: 73]
Surah Maryam in Banglaজহুরুল হক সূরা বাংলা Surah Maryam ayat 73
আর যখন তাদের কাছে আমাদের সুস্পষ্ট বাণীসমূহ পড়া হয় তখন যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তারা বলে যারা বিশ্বাস করেছে তাদের -- ''দুই দলের মধ্যে কোনটি প্রতিষ্ঠার দিকে শ্রেষ্ঠতর ও জাঁকজমকে গুলজার?’’
Tafsir Mokhtasar Bangla
৭৩. আমার রাসূলের উপর নাযিলকৃত সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ যখন মানুষের সামনে পড়া হয় তখন কাফিররা মু’মিনদেরকে বলে: আমাদের মধ্যকার কোন্ দলটি সর্বোত্তম আবাসস্থল এবং সর্বসুন্দর বৈঠক ও সমাজে অবস্থান করবে; আমাদের দল না তোমাদের দল?!
Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান
তাদের নিকট আমার আয়াতসমূহ স্পষ্টভাবে আবৃত্ত হলে অবিশ্বাসীরা বিশ্বাসীদেরকে বলে, ‘দু’দলের মধ্যে কোন্টি মর্যাদায় শ্রেষ্ঠতর ও মজলিস হিসাবে কোনটি উত্তম?’ [১] [১] মক্কার কাফেররা দরিদ্র মুসলিম ও ধনী কুরাইশ তথা তাদের সভা ও ঘর-বাড়ির মধ্যে তুলনা করে কুরআনী আহবানের মোকাবেলা করে থাকে। মুসলিমদের মধ্যে আম্মার, বিলাল, সুহাইবের মত দরিদ্র মানুষ রয়েছেন। তাঁদের পরামর্শগৃহ ( মন্ত্রণালয় ) 'দারুল আরকাম'। অন্য দিকে কাফেরদের মধ্যে রয়েছে আবু জাহল, নযর বিন হারিস, উতবা, শাইবা প্রভৃতির মত নেতৃস্থানীয় লোক, তাদের উঁচু উঁচু প্রাসাদ রয়েছে এবং মন্ত্রণাসভার জন্য রয়েছে 'দারুন নাদওয়াহ' যা অতি সুন্দর।
Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স
আর তাদের কাছে আমাদের স্পষ্ট আয়াতসমূহ তেলওয়াত করা হলে কাফেররা মুমিনদেরকে বলে, দু’দলের মধ্যে কারা মর্যাদায় শ্রেষ্ঠতর ও মজলিস হিসেবে উত্তম? [ ১ ] [ ১ ] অর্থাৎ কাফেরদের যুক্তি ছিল এ রকমঃ দেখে নাও দুনিয়ায় কার প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ ও নিয়ামত বর্ষণ করা হচ্ছে? কার গৃহ বেশী জমকালো? কার জীবন যাত্রার মান বেশী উন্নত? কার মজলিসগুলো বেশী আড়ম্বরপূর্ণ? যদি আমরা এসব কিছুর অধিকারী হয়ে থাকি এবং তোমরা এসব থেকে বঞ্চিত হয়ে থাকো তাহলে তোমরা নিজেরাই চিন্তা করে দেখো, এটা কেমন করে সম্ভবপর ছিল যে, আমরা বাতিলের উপর প্রতিষ্ঠিত থেকেও এভাবে দুনিয়ার মজা লুটে যেতে থাকবো। আর তোমরা হকের পথে অগ্রসর হয়েও এ ধরনের ক্লান্তিকর জীবন যাপন করে যেতে থাকবে? [ দেখুন, ফাতহুল কাদীর; সা’দী ] কাফেরদের এই বিভ্রান্তি পবিত্র কুরআন এভাবে দূর করেছে যে, দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী নেয়ামত ও সম্পদ আল্লাহর প্রিয়পাত্র হওয়ার আলামত নয় এবং দুনিয়াতেও একে কোন ব্যক্তিগত পরাকাষ্ঠার লক্ষণ মনে করা হয় না। কেননা, দুনিয়াতে অনেক নির্বোধ মূর্খও এগুলো জ্ঞানী ও বিদ্বানের চাইতেও বেশী লাভ করে। বিগত যুগের ইতিহাস খুঁজে দেখলে এ সত্য উদঘাটিত হবে যে, পৃথিবীতে এ পরিমাণ তো বটেই, বরং এর চাইতেও বেশী ধন-দৌলত স্তুপীকৃত হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেগুলো তো তাদের কোন কাজে আসেনি। [ দেখুন, সা'দী ]
Tafsir ibn kathir bangla তাফসীর ইবনে কাসীর
৭৩-৭৪ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তাআলা কাফিরদের সম্পর্কে খবর দিচ্ছেন যে, তারা আল্লাহর স্পষ্ট আয়াতসমূহ এবং দলীল প্রমাণাদি বিশিষ্ট কালাম দ্বারা কোন উপকার লাভ করে না। তারা এগুলো হতে মুখ ফিরিয়ে নেয় ও চক্ষু ঘুরিয়ে থাকে। তারা তাদের বাহ্যিক শান শওকত ও জাকজমক দ্বারা মু'মিনদেরকে প্রভাবিত করতে চায়। মু'মিনদেরকে তারা বলেঃ “ বল তো, ঘরবাড়ী সুন্দর ও জাকজমক পূর্ণ কাদের? কাদের মজলিসগুলি গুল্যার? সুতরাং আমরা যখন ধন দৌলতে, শান শওকতে, ও মান মর্যাদায় তোমাদের চেয়ে উন্নত, তখন আমরাই আল্লাহর প্রিয় বান্দা, না তোমরা? তোমরা তো বাস করছো কুঁড়ে ঘরে । তোমরা ভাল ভাল খাবার খেতে, উত্তম পানীয় পান করতে পাও না। কখনো তোমরা আরকাম ইবনু আবি আরকামের ঘরে লুকিয়ে থাকো এবং কখনো কখনো এদিক ওদিক পালিয়ে থাকে। যেমন অন্য আয়াতে আছে। যে, কাফিররা বলেছিলঃ ( আরবী ) অর্থাৎ “ যদি এই দ্বীন ভাল হতো তবে এরা ( মু'মিনরা ) এটা মানার ব্যাপারে আমাদের অগ্রগামী হতো না ।" ( ৪৬:১১ ) হযরত নূহের ( আঃ ) কওমও একথাই বলেছিলঃ ( আরবী ) অর্থাৎ “ আমরা কি তোমার উপর এমন অবস্থায় ঈমান আনতে পারি যে, হীন প্রকৃতির লোকেরা তোমার অনুসরণ করেছে?” ( ২৬:১১১ ) আর একটি আয়াতে রয়েছেঃ “এভাবেই তারা প্রতারিত হয়েছে এবং বলছেঃ এরাই কি ওরাই যাদের উপর আমাদের মধ্য হতে আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন? কৃতজ্ঞ বান্দাদেরকে কি আল্লাহ অবগত নন?" কাফিরদের একথার প্রতিবাদে আল্লাহ তাআলা বলেনঃ “তাদের পূর্বে আমি কত মানব গোষ্ঠীকে বিনাশ করেছি, যারা তাদের অপেক্ষা সম্পদ ও বাহ্য দৃষ্টিতে শ্রেষ্ঠ ছিল ।” অর্থাৎ তাদের দুঙ্কার্যের দরুণ তাদেরকে আমি ধ্বংস ও তচনচ করে দিয়েছি। তারা এই কাফিরদের তুলনায় বেশী সম্পদের অধিকারী ছিল। তারা ধন দৌলত, গাড়ীবাড়ী এবং শক্তি সামর্থে এদের চেয়ে বহু গুণে বেড়ে ছিল। কিন্তু তাদের অহংকার ও ঔদ্ধত্যের কারণে তাদের মূলোৎপাটন করে দিয়েছি। ফিরআউন এবং তার লোকদের অবস্থার প্রতি লক্ষ্য করো, তাদের বাগান, প্রস্রবণ, জমিজমা, আঁকজমক পূর্ণ অট্টালিকা এবং সুউচ্চ প্রাসাদের ধ্বংসাবশেষ আজও বিদ্যমান রয়েছে। তাদের অন্যায়াচরণের কারণে তাদের ঐ সব কিছুই আমি ধ্বংস করে দিয়েছিলাম। মাছ সমূহ তাদেরকে গ্রাস করে ফেলেছে।( আরবী ) দ্বারা বাসভূমি ও নিয়ামত রাজিকে বুঝানো হয়েছে। ( আরবী ) দ্বারা মজলিস ও বৈঠককে বুঝানো হয়েছে। আরবে বৈঠক ও লোকদের একত্রিত। হওয়ার জায়গাকে ( আরবী ) এবং ( আরবী ) বলা হয়। যেমন একটি আয়াতে রয়েছেঃ ( আরবী ) অর্থাৎ “ তোমরা তোমাদের অপছন্দনীয় মজলিসে এসে থাকো ।" ( ২৯:২৯ )। মুশরিকরা বলতোঃ “ পার্থিব দিক দিয়ে আমরা তোমাদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছি । পোষাক পরিচ্ছদে, ধনে, মালে এবং রূপ ও আকারে আমরা তোমাদের ( মু'মিনদের ) চেয়ে উত্তম।”
সূরা মারইয়াম আয়াত 73 সূরা
| English | Türkçe | Indonesia |
| Русский | Français | فارسی |
| تفسير | Urdu | اعراب |
বাংলায় পবিত্র কুরআনের আয়াত
- নিশ্চয় খোদাভীরুরা নিরাপদ স্থানে থাকবে-
- এবং কাফেরেরা চক্রান্ত করেছে আর আল্লাহও কৌশল অবলম্বন করেছেন। বস্তুতঃ আল্লাহ হচ্ছেন সর্বোত্তম কুশলী।
- মসীহ আল্লাহর বান্দা হবেন, তাতে তার কোন লজ্জাবোধ নেই এবং ঘনিষ্ঠ ফেরেশতাদেরও না। বস্তুতঃ যারা
- আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতাগণ একে প্রত্যক্ষ করে।
- যখন নির্দেশ দান করেন ফেরেশতাদিগকে তোমাদের পরওয়ারদেগার যে, আমি সাথে রয়েছি তোমাদের, সুতরাং তোমরা মুসলমানদের
- এটা আল্লাহর কৃপা ও নিয়ামতঃ আল্লাহ সর্বজ্ঞ প্রজ্ঞাময়।
- আমি তোমাদের কাছে একজন রসূলকে তোমাদের জন্যে সাক্ষী করে প্রেরণ করেছি, যেমন প্রেরণ করেছিলাম ফেরাউনের
- এবং যারা আমানত ও অঙ্গীকার সম্পর্কে হুশিয়ার থাকে।
- নিশ্চয় যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, তাদের জন্যে রয়েছে অফুরন্ত পুরস্কার।
- তারা কি জেনে নেয়নি যে, আল্লাহ তাদের রহস্য ও শলা-পরামর্শ সম্পর্কে অবগত এবং আল্লাহ খুব
বাংলায় কোরআনের সূরা পড়ুন :
সবচেয়ে বিখ্যাত কোরআন তেলাওয়াতকারীদের কণ্ঠে সূরা মারইয়াম ডাউনলোড করুন:
সূরা Maryam mp3 : উচ্চ মানের সাথে সম্পূর্ণ অধ্যায়টি Maryam শুনতে এবং ডাউনলোড করতে আবৃত্তিকারকে বেছে নিন
আহমেদ আল-আজমি
ইব্রাহীম আল-আখদার
বান্দার বেলাইলা
খালিদ গালিলি
হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
খলিফা আল টুনাইজি
সাদ আল-গামদি
সৌদ আল-শুরাইম
সালাহ বুখাতীর
আবদ এল বাসেট
আবদুল রশিদ সুফি
আব্দুল্লাহ্ বাস্ফার
আবদুল্লাহ আল-জুহানী
আলী আল-হুদায়েফি
আলী জাবের
ফারেস আব্বাদ
মাহের আলমাইকুলই
মোহাম্মদ আইয়ুব
মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
মুহাম্মাদ জিব্রীল
আল-মিনশাবি
আল হোসারি
মিশারী আল-আফসী
নাসের আল কাতামি
ইয়াসের আল-দোসারি
Please remember us in your sincere prayers



