কোরান সূরা সাদ আয়াত 74 তাফসীর
﴿إِلَّا إِبْلِيسَ اسْتَكْبَرَ وَكَانَ مِنَ الْكَافِرِينَ﴾
[ ص: 74]
কিন্তু ইবলীস; সে অহংকার করল এবং অস্বীকারকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল। [সূরা সাদ: 74]
Surah Saad in Banglaজহুরুল হক সূরা বাংলা Surah Sad ayat 74
ইবলিস ব্যতীত। সে অহংকার করল, আর সে ছিল অবিশ্বাসীদের অন্তর্গত।
Tafsir Mokhtasar Bangla
৭৪. শুধু ইবলীস ব্যতীত। কেননা, সে সাজদা করার ক্ষেত্রে অহঙ্কার প্রদর্শন করলো। বস্তুতঃ সে স্বীয় প্রতিপালকের নির্দেশের বিপরীতে অহঙ্কার প্রদর্শন করার মাধ্যমে কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেলো।
Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান
ইবলীস ছাড়া, সে অহংকার করল[১] এবং সত্যপ্রত্যাখ্যানকারীদের অন্তর্ভুক্ত হল। [২] [১] যদি ইবলীসকে ফিরিশতার গুণে গুণান্বিত ভাবা হয় তবে এই استثناء متصل হবে। অর্থাৎ ইবলীস সিজদার ঐ আদেশের আওতাভুক্ত হবে। এ ছাড়া এটা استثناء منقطع হবে, অর্থাৎ ইবলীস সেই আদেশের আওতাভুক্ত ছিল না। কিন্তু তার আকাশে বসবাসের কারণে তাকেও উক্ত আদেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সে অহংকারবশতঃ তা পালন করতে অস্বীকার করল। [২] এখানে كَانَ ( ছিল ) صَارَ ( হয়ে গেল )এর অর্থে ব্যবহার হয়েছে। অর্থাৎ আল্লাহ তাআলার আদেশ লঙ্ঘন ও তাঁর আনুগত্যে অহংকার প্রদর্শনের কারণে সে কাফের হয়ে গেল। অথবা আল্লাহর ইলমে সে কাফের ছিল।
Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স
ইবলীস ছাড়া, সে অহংকার করল এবং কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হল।
Tafsir ibn kathir bangla তাফসীর ইবনে কাসীর
৭১-৮৫ নং আয়াতের তাফসীর: এ ঘটনাটি সূরায়ে বাকারা, সূরায়ে আ'রাফ, সূরায়ে হিজ্বর, সূরায়ে সুবহান, সূরায়ে কাহাফ এবং সূরায়ে সোয়াদে বর্ণিত হয়েছে। হযরত আদম ( আঃ )-কে সৃষ্টি করার পূর্বে আল্লাহ্ ফেরেশতাদেরকে নিজের ইচ্ছার কথা বলেন যে, তিনি মাটি দ্বারা আদম ( আঃ )-কে সৃষ্টি করবেন। তিনি তাদেরকে এ কথাও বললেন যে, যখন তিনি আদম ( আঃ )-কে সৃষ্টি করবেন তখন যেন তারা তাকে সিজদা করেন, যাতে আল্লাহর আদেশ পালনের সাথে সাথে আদম ( আঃ )-এরও আভিজাত্য প্রকাশ পায়। ফেরেশতারা সাথে সাথে আল্লাহর আদেশ পালন করেন। কিন্তু ইবলীস এ আদেশ পালনে বিরত থাকে। সে ফেরেশতাদের শ্রেণীভুক্ত ছিল না। বরং সে ছিল জ্বিনদের অন্তর্ভুক্ত। তার প্রকৃতিগত অশ্লীলতা এবং স্বভাবগত ঔদ্ধত্যপনা প্রকাশ পেয়ে গেল। মহান আল্লাহ্ তাকে প্রশ্ন করলেনঃ “ হে ইবলীস! আমি যাকে নিজ হাতে সৃষ্টি করেছি, তার প্রতি সিজদাবনত হতে । তোমাকে কিসে বাধা দিলো? তুমি কি ঔদ্ধত্য প্রকাশ করলে, না তুমি উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন?” সে উত্তরে বললোঃ “ আমি তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ । কেননা, আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন আগুন হতে এবং তাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি হতে। সুতরাং মর্যাদার দিক দিয়ে আমি তার চেয়ে বহুগুণে উচ্চ।” ঐ পাপী শয়তান হযরত আদিম ( আঃ )-কে বুঝতে ভুল করলো এবং আল্লাহর আদেশ অমান্য করার কারণে নিজেকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিলো। আল্লাহ্ তা'আলা তাকে বললেন:“ তুমি এখান হতে বের হয়ে যাও, নিশ্চয়ই তুমি বিতাড়িত । তুমি আমার রহমত হতে দূর হয়ে গেলে। তোমার উপর আমার লা'নত কর্মফল দিবস পর্যন্ত স্থায়ী হবে।” সে বললোঃ “ হে আমার প্রতিপালক! আমাকে আপনি পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত অবকাশ দিন ।” মহান ও সহনশীল আল্লাহ্, যিনি স্বীয় মাখলুককে তাদের পাপের কারণে তাড়াতাড়ি পাকড়াও করেন না, ইবলীসের এ প্রার্থনাও কবুল করলেন এবং তিনি তাকে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত অবকাশ দিলেন। অতঃপর সে বললোঃ “ আপনার ক্ষমতার শপথ! আমি আদম ( আঃ )-এর সমস্ত সন্তানকে পথভ্রষ্ট করবো, তবে তাদেরকে নয় যারা তাদের মধ্যে আপনার একনিষ্ঠ বান্দা ।” যেমন আল্লাহ্ তা'আলা অন্য আয়াতে ইবলীসের উক্তি উদ্ধৃত করেছেনঃ ( আরবী ) অর্থাৎ “ তাকে যে আপনি আমার উপর মর্যাদা দান করলেন, কেন? কিয়ামতের দিন পর্যন্ত যদি আমাকে অবকাশ দেন তাহলে আমি অল্প কয়েকজন ব্যতীত তার বংশধরদেরকে কর্তৃত্ত্বাধীন করে ফেলবো ।” ( ১৭:৬২ ) এই স্বতন্ত্ৰকৃতদের কথা আল্লাহ্ তা'আলা অন্য আয়াতে বলেনঃ ( আরবী ) অর্থাৎ “ আমার বান্দাদের উপর তোমার কোন ক্ষমতা নেই । কর্মবিধায়ক হিসেবে তোমার প্রতিপালকই যথেষ্ট।” ( ১৭:৬৫ )( আরবী ) এখানে ( আরবী ) শব্দকে মুজাহিদ ( রঃ ) পেশ দিয়ে পড়েছেন এবং ব্যাখ্যায় তিনি বলেছেন যে, এর অর্থ হলোঃ “ আমি স্বয়ং সত্য এবং আমার কথাও সত্য হয়ে থাকে ।” হযরত মুজাহিদ ( রঃ ) হতেই আর একটি রিওয়াইয়াতে রয়েছে যে, এর অর্থ হলোঃ “ সত্য আমার পক্ষ হতে হয় এবং আমি সত্যই বলে থাকি ।” অন্যেরা ( আরবী ) শব্দ দুটোকেই যবর দিয়ে পড়ে থাকেন। সুদ্দী ( রঃ ) বলেন যে, এটা হলো কসম, যার দ্বারা আল্লাহ কসম খেয়েছেন। আমি ( ইবনে কাসীর রঃ ) বলি যে, এ আয়াতটি আল্লাহ তা'আলার নিম্নের উক্তির মতঃ ( আরবী ) অর্থাৎ “ কিন্তু আমার এ কথা অবশ্যই সত্যঃ আমি নিশ্চয়ই জ্বিন ও মানুষ উভয় দ্বারা জাহান্নাম পূর্ণ করবো ।” ( ৩২:১৩ ) আর এক জায়গায় মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ ( আরবী ) অর্থাৎ “ আল্লাহ বললেনঃ যাও, তাদের মধ্যে যারা তোমার অনুসরণ করবে, জাহান্নামই তোমাদের সকলের শাস্তি- পূর্ণ শাস্তি ।” ( ১৭:৬৩ )।
সূরা সাদ আয়াত 74 সূরা
| English | Türkçe | Indonesia |
| Русский | Français | فارسی |
| تفسير | Urdu | اعراب |
বাংলায় পবিত্র কুরআনের আয়াত
- এই মর্মে যে, আল্লাহর বান্দাদেরকে আমার কাছে অর্পণ কর। আমি তোমাদের জন্য প্রেরীত বিশ্বস্ত রসূল।
- আপনি জানেন, সে ঘাঁটি কি?
- যে কেউ দুনিয়ার কল্যাণ কামনা করবে, তার জেনে রাখা প্রয়োজন যে, দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ
- অতঃপর আমি তাকে জননীর কাছে ফিরিয়ে দিলাম, যাতে তার চক্ষু জুড়ায় এবং তিনি দুঃখ না
- সৃষ্টিগত ভাবে মানুষ ত্বরাপ্রবণ, আমি সত্তরই তোমাদেরকে আমার নিদর্শনাবলী দেখাব। অতএব আমাকে শীঘ্র করতে বলো
- নিশ্চয় আল্লাহ আসমান ও যমীনকে স্থির রাখেন, যাতে টলে না যায়। যদি এগুলো টলে যায়
- বরং মানুষ নিজেই তার নিজের সম্পর্কে চক্ষুমান।
- এবং বলল, আমাদের উপাস্যরা শ্রেষ্ঠ, না সে? তারা আপনার সামনে যে উদাহরণ উপস্থাপন করে তা
- তারপর এরই পরিণতিতে তাদের অন্তরে কপটতা স্থান করে নিয়েছে সেদিন পর্যন্ত, যেদিন তার তাঁর সাথে
- ইলিয়াসের প্রতি সালাম বর্ষিত হোক!
বাংলায় কোরআনের সূরা পড়ুন :
সবচেয়ে বিখ্যাত কোরআন তেলাওয়াতকারীদের কণ্ঠে সূরা সাদ ডাউনলোড করুন:
সূরা Sad mp3 : উচ্চ মানের সাথে সম্পূর্ণ অধ্যায়টি Sad শুনতে এবং ডাউনলোড করতে আবৃত্তিকারকে বেছে নিন
আহমেদ আল-আজমি
ইব্রাহীম আল-আখদার
বান্দার বেলাইলা
খালিদ গালিলি
হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
খলিফা আল টুনাইজি
সাদ আল-গামদি
সৌদ আল-শুরাইম
সালাহ বুখাতীর
আবদ এল বাসেট
আবদুল রশিদ সুফি
আব্দুল্লাহ্ বাস্ফার
আবদুল্লাহ আল-জুহানী
আলী আল-হুদায়েফি
আলী জাবের
ফারেস আব্বাদ
মাহের আলমাইকুলই
মোহাম্মদ আইয়ুব
মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
মুহাম্মাদ জিব্রীল
আল-মিনশাবি
আল হোসারি
মিশারী আল-আফসী
নাসের আল কাতামি
ইয়াসের আল-দোসারি
Please remember us in your sincere prayers



