কোরান সূরা ইয়াসীন আয়াত 82 তাফসীর
﴿إِنَّمَا أَمْرُهُ إِذَا أَرَادَ شَيْئًا أَن يَقُولَ لَهُ كُن فَيَكُونُ﴾
[ يس: 82]
তিনি যখন কোন কিছু করতে ইচ্ছা করেন, তখন তাকে কেবল বলে দেন, ‘হও’ তখনই তা হয়ে যায়। [সূরা ইয়াসীন: 82]
Surah Ya-Sin in Banglaজহুরুল হক সূরা বাংলা Surah Yasin ayat 82
যখন তিনি কোনো-কিছু ইচ্ছা করেন তখন তাঁর নির্দেশ হল যে তিনি সে-সন্বন্ধে শুধু বলেন -- ''হও’’, আর তা হয়ে যায়।
Tafsir Mokhtasar Bangla
৮২. আল্লাহর শান হচ্ছে এই যে, তিনি কোন কিছু সৃষ্টি করতে চাইলে তাকে হও বলে নির্দেশ দেয়া মাত্রই তা হয়ে যায়। আর যে সব জিনিস তিনি চান তন্মধ্যে রয়েছে জীবন, মরণ ও পুনরুত্থান ইত্যাদি।
Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান
তাঁর ব্যাপার তো এই যে, তিনি যখন কোন কিছু করতে ইচ্ছা করেন, তখন তিনি কেবল বলেন, ‘হও’; ফলে তা হয়ে যায়। [১] [১] অর্থাৎ, এমন ক্ষমতা থাকার পরেও তাঁর জন্য সকল মানুষকে জীবিত করা এমন কি কঠিন ব্যাপার?
Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স
তাঁর ব্যাপার শুধু এই যে, তিনি যখন কোন কিছুর ইচ্ছে করেন, তিনি বলেন, 'হও', ফলে তা হয়ে যায়।
Tafsir ibn kathir bangla তাফসীর ইবনে কাসীর
৮১-৮৩ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তা'আলা নিজের ব্যাপক ও সীমাহীন ক্ষমতার বর্ণনা দিচ্ছেন যে, তিনি আসমান এবং ওর সমস্ত জিনিস সৃষ্টি করেছেন এবং যমীনকে ও ওর মধ্যকার সমস্ত বস্তুকেও তিনি সৃষ্টি করেছেন। সুতরাং যিনি এত বড় ক্ষমতার অধিকারী তিনি মানুষের মত ছোট মাখলুককে সৃষ্টি করতে অপারগ হবেন? এটা তো জ্ঞানেরও বিপরীত কথা। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ ( আরবী ) অর্থাৎ “ অবশ্যই আসমান ও যমীন সৃষ্টি করা মানুষ সৃষ্টি করা হতে বহুগুণে বড় ও কঠিন ।” ( ৪০-৫৭ ) এখানেও তিনি বলেনঃ যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন তিনি তাদের অনুরূপ সৃষ্টি করতে কি সমর্থ নন? আর এতে যখন তিনি পূর্ণ ক্ষমতাবান তখন অবশ্যই তিনি তাদেরকে তাদের মৃত্যুর পর পুনরুজ্জীবিত করতে সক্ষম। যিনি প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন, দ্বিতীয়বার সৃষ্টি করা তার পক্ষে খুবই সহজ। যেমন অন্য আয়াতে রয়েছেঃ ( আরবী ) অর্থাৎ “ তারা কি দেখে না যে, যে আল্লাহ আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন এবং তাতে তিনি ক্লান্ত হননি, তিনি কি মৃতকে জীবিত করতে সক্ষম নন? হ্যা, নিশ্চয়ই তিনি প্রত্যেক বস্তুর উপর ক্ষমতাবান ।” ( ৪৬:৩৩ )।মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ হ্যা, তিনি নিশ্চয়ই মহাস্রষ্টা, সর্বজ্ঞ। তাঁর ব্যাপার শুধু এই যে, তিনি যখন কোন কিছুর ইচ্ছা করেন তখন শুধু ওকে বলেনঃ হও, ফলে ওটা হয়ে যায়। অর্থাৎ কোন কিছুর ব্যাপারে তিনি একবারই মাত্র নির্দেশ দেন, বারবার নির্দেশ দেয়ার ও তাগীদ করার কোন প্রয়োজনই তাঁর হয় না।হযরত আবু যার ( রাঃ ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) বলেছেন, আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ “ হে আমার বান্দারা! তোমরা সবাই পাপী, কিন্তু যাদেরকে আমি মাফ করি । সুতরাং তোমরা আমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর, আমি তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিবো। তোমাদের প্রত্যেকেই দরিদ্র, কিন্তু আমি যাদেরকে ধনবান করি। আমি বড় দানশীল এবং আমি বড় মর্যাদাবান। আমি যা ইচ্ছা করি তাই করে থাকি। আমার ইনআম বা পুরস্কারও একটা কালাম বা কথা এবং আমার আযাবও একটা কালাম। আমার ব্যাপার তো শুধু এই যে, যখন আমি কোন কিছুর ইচ্ছা করি তখন ওকে বলিঃ হও, ফলে তা হয়ে যায়।” ( এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ ) স্বীয় মুসনাদে বর্ণনা করেছেন)মহান আল্লাহ বলেনঃ অতএব মহান ও পবিত্র তিনি যার হাতে রয়েছে প্রত্যেক বিষয়ের সার্বভৌম ক্ষমতা। যেমন অন্য জায়গায় তিনি বলেনঃ ( আরবী ) অর্থাৎ “ তুমি বল- তিনি কে যার হাতে প্রত্যেক জিনিসের সার্বভৌম ক্ষমতা রয়েছে?” ( ২৩:৮৮ ) আরো বলেনঃ ( আরবী ) অর্থাৎ “মহামহিমান্বিত তিনি, সর্বময় কর্তৃত্ব যার করায়ত্ব ।” ( ৬৭:১ ) সুতরাং ( আরবী ) ও ( আরবী ) একই অর্থ। যেমন ( আরবী ) ও ( আরবী ) এবং ( আরবী ) ও -এর অর্থ একই। কেউ কেউ বলেছেন যে, ( আরবী ) দ্বারা দেহের জগত এবং দ্বারা রূহের জগতকে বুঝানো হয়েছে। কিন্তু প্রথমটিই সঠিক উক্তি এবং জমহর মুফাসসিরদেরও উক্তি এটাই।হযরত হুযাইফা ইবনে ইয়ামান ( রাঃ ) বলেনঃ “ একদা রাত্রে আমি রাসূলুল্লাহ ( সঃ )-এর সাথে ( তাহাজ্জুদের নামাযে ) দাঁড়িয়ে যাই । তিনি রাক'আতগুলোতে সাতটি লম্বা সূরা পাঠ করেন। ( আরবী ) বলে তিনি রুকূ' হতে মাথা উত্তোলন করেন এবং ( আরবী ) এ কালেমাগুলো পাঠ করেন। তাঁর রুকূ দাঁড়ানো অবস্থার মতই দীর্ঘ ছিল এবং সিজদাও ছিল রুকূ'র মতই দীর্ঘ। আমার তো পদদ্বয় ভেঙ্গে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল।” ( এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ ), ইমাম আবু দাউদ ( রঃ ), ইমাম তিরমিযী ( রঃ ) এবং ইমাম নাসাঈ ( রঃ ) বর্ণনা করেছেন)হযরত হুযাইফা ( রাঃ ) হতেই বর্ণিত, তিনি বলেন যে, তিনি একদা রাত্রে রাসূলুল্লাহ ( সঃ )-কে নামায পড়তে দেখেন। তিনি ( আরবী ) পড়ে সূরায়ে বাকারা সম্পূর্ণ পাঠ করেন এবং এরপর রুকূ'তে যান। রুকূতেও তিনি প্রায় দাঁড়ানোর মতই বিলম্ব করেন এবং ( আরবী ) পড়তে থাকেন। তারপর তিনি রুকূ' হতে মাথা উঠান এবং প্রায় ঐ পরিমাণ সময় পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকেন এবং ( আরবী ) পড়তে থাকেন। তারপর সিজদায় যান এবং সিজদাতেও প্রায় দাঁড়ানো অবস্থার সমপরিমাণ সময় পর্যন্ত পড়ে থাকেন এবং সিজদায় তিনি ( আরবী ) পড়তে থাকেন। অতঃপর তিনি সিজদা হতে মস্তক উত্তোলন করেন। তাঁর অভ্যাস ছিল এই যে, দুই সিজদার মাঝে ঐ সময় পর্যন্ত বসে থাকতেন যে সময়টা তিনি সিজদায় কাটাতেন। ঐ সময় তিনি ( আরবী ) ( হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ক্ষমা করুন! ) বলতেন। চার রাকআত নামায তিনি আদায় করেন। এই চার রাকআত নামাযে তিনি সূরায়ে বাকারা, সূরায়ে আলে ইমরান, সূরায়ে নিসা এবং সূরায়ে মায়েদাহ তিলাওয়াত করেন।” বর্ণনাকারী শু’বাহ ( রাঃ )-এর সন্দেহ হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) সূরায়ে মায়েদাহ অথবা সূরায়ে আনআম পাঠ করেছেন।” ( এ মসটি ইমাম আবু দাউদ (রঃ ), ইমাম তিরমিযী ( রঃ ) এবং ইমাম নাসাঈ ( রঃ ) বর্ণনা করেছেন)হযরত আউফ ইবনে মালিক আশজায়ী ( রাঃ ) বলেনঃ “ একদা রাত্রে আমি রাসূলুল্লাহ ( সঃ )-এর সাথে তাহাজ্জুদের নামায আদায় করি । তিনি সূরায়ে বাকারা তিলাওয়াত করেন। রহমতের বর্ণনা রয়েছে এরূপ প্রতিটি আয়াতে তিনি থেমে যেতেন এবং আল্লাহ তা'আলার নিকট রহমত প্রার্থনা করতেন। তারপর তিনি রুকূ' করেন এবং এটাও দাড়ানো অবস্থা অপেক্ষা কম সময়ের ছিল না। রুকূতে তিনি ( আরবী ) পাঠ করেন। এরপর তিনি সিজদা করেন এবং ওটাও প্রায় দাঁড়ানো অবস্থার সমপরিমাণই ছিল এবং সিজদাতেও তিনি ওটাই পাঠ করেন। তারপর দ্বিতীয় রাকআতে তিনি সূরায়ে আলে-ইমরান পড়েন। এভাবেই তিনি এক এক রাকআতে এক একটি সূরা তিলাওয়াত করেন।
সূরা ইয়াসীন আয়াত 82 সূরা
| English | Türkçe | Indonesia |
| Русский | Français | فارسی |
| تفسير | Urdu | اعراب |
বাংলায় পবিত্র কুরআনের আয়াত
- কিন্তু আমি তো একথাই বলি, আল্লাহই আমার পালনকর্তা এবং আমি কাউকে আমার পালনকর্তার শরীক মানি
- যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে এবং সৎকর্ম করেছে, আমি তাদেরকে উদ্যানসমূহে প্রবিষ্ট করাব, যেগুলোর তলদেশে নহরসমূহ
- এরাই হল সে সমস্ত লোক, যারা হেদায়েতের বিনিময়ে গোমরাহী খরিদ করেছে এবং (খরিদ করেছে) ক্ষমা
- তোমরা কি এর বৃক্ষ সৃষ্টি করেছ, না আমি সৃষ্টি করেছি ?
- সে সৃজিত হয়েছে সবেগে স্খলিত পানি থেকে।
- প্রশস্ত পত্রে,
- কে সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহকে উত্তম ধার দিবে, এরপর তিনি তার জন্যে তা বহুগুণে বৃদ্ধি
- আকাশে ও পৃথিবীতে এমন কোন গোপন ভেদ নেই, যা সুস্পষ্ট কিতাবে না আছে।
- তারাই বলেঃ আল্লাহর রাসূলের সাহচর্যে যারা আছে তাদের জন্যে ব্যয় করো না। পরিণামে তারা আপনা-আপনি
- তাঁর পক্ষ থেকে অনুসরণকারী রয়েছে তাদের অগ্রে এবং পশ্চাতে, আল্লাহর নির্দেশে তারা ওদের হেফাযত করে।
বাংলায় কোরআনের সূরা পড়ুন :
সবচেয়ে বিখ্যাত কোরআন তেলাওয়াতকারীদের কণ্ঠে সূরা ইয়াসীন ডাউনলোড করুন:
সূরা Yasin mp3 : উচ্চ মানের সাথে সম্পূর্ণ অধ্যায়টি Yasin শুনতে এবং ডাউনলোড করতে আবৃত্তিকারকে বেছে নিন
আহমেদ আল-আজমি
ইব্রাহীম আল-আখদার
বান্দার বেলাইলা
খালিদ গালিলি
হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
খলিফা আল টুনাইজি
সাদ আল-গামদি
সৌদ আল-শুরাইম
সালাহ বুখাতীর
আবদ এল বাসেট
আবদুল রশিদ সুফি
আব্দুল্লাহ্ বাস্ফার
আবদুল্লাহ আল-জুহানী
আলী আল-হুদায়েফি
আলী জাবের
ফারেস আব্বাদ
মাহের আলমাইকুলই
মোহাম্মদ আইয়ুব
মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
মুহাম্মাদ জিব্রীল
আল-মিনশাবি
আল হোসারি
মিশারী আল-আফসী
নাসের আল কাতামি
ইয়াসের আল-দোসারি
Please remember us in your sincere prayers



