কোরান সূরা ইউনুস আয়াত 1 তাফসীর
﴿الر ۚ تِلْكَ آيَاتُ الْكِتَابِ الْحَكِيمِ﴾
[ يونس: 1]
আলিফ-লাম-র, এগুলো হেকমতপূর্ণ কিতাবের আয়াত। [সূরা ইউনুস: 1]
Surah Yunus in Banglaজহুরুল হক সূরা বাংলা Surah Yunus ayat 1
আলিফ, লাম, রা। এগুলো জ্ঞানগর্ভ গ্রন্থের আয়াতসমূহ।
Tafsir Mokhtasar Bangla
১. আলিফ-লাম-রা। সূরা বাক্বারার শুরুতে এ জাতীয় বিচ্ছিন্ন বর্ণমালার ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। এ সূরার পঠিতব্য আয়াতগুলো সুগঠিত হিকমতপূর্ণ কুর‘আনের আয়াত যা হিকমত ও বিধানাবলী সম্বলিত।
Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান
আলিফ লা-ম রা। এ হল বিজ্ঞানময় গ্রন্থের আয়াত। [১] [১] الحَكِيْمِ ( বিজ্ঞানময় ) কিতাব অর্থাৎ, কুরআন কারীমের বিশেষণ। এর একটি অর্থ তাই যা অনুবাদে উল্লেখ করা হয়েছে। তার আরো কয়েকটি অর্থ করা হয়েছে। যেমন الْمُحْكَمِ - অর্থাৎ, হালাল ও হারাম এবং দন্ডবিধি ও যাবতীয় বিধান দানে মযবুত। حَكِيْمٌ -حَاكِمٌ এর অর্থে। অর্থাৎ, মতভেদ ইত্যাদিতে মানুষের মাঝে ফায়সালা বা সমাধান দাতা গ্রন্থ। ( সূরা বাক্বারাহ ২:২৩ ) حكيم - محكوم فيه এর অর্থে। অর্থাৎ, আল্লাহ তাআলা এই কুরআনে ন্যায় ও ইনসাফের সাথে ফায়সালা দিয়েছেন।
Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স
আলিফ্-লাম-রা [ ১ ]। এগুলো প্রজ্ঞাপূর্ণ কিতাবের আয়াত। সূরা সংক্রান্ত আলোচনাঃ আয়াত সংখ্যাঃ ১০৯। নাযিল হওয়ার স্থানঃ সূরা ইউনুস মক্কায় নাযিল হয়েছে। [ ইবন কাসীর ] কেউ কেউ সূরার মাত্র তিনটি আয়াতকে মাদানী বলে উল্লেখ করেছেন, যা মদীনায় হিজরত করার পর নাযিল হয়েছে। [ কুরতুবী ] নামকরণঃ এ সূরার নাম সূরা ইউনুস। কারণ সূরার ৯৮ নং আয়াতে এর উল্লেখ রয়েছে।। ----------------- [ ১ ] এগুলোকে ‘হরফে মোকাত্তা'আত’ বলা হয়। এগুলোর আলোচনা পূর্বে সূরা আল-বাকারায় করা হয়েছে।
Tafsir ibn kathir bangla তাফসীর ইবনে কাসীর
১-২ নং আয়াতের তাফসীর: যেগুলো সূরাসমূহের শুরুতে এসে থাকে সেগুলোর উপর আলোচনা ইতিপূর্বে হয়ে গেছে এবং সূরায়ে বাকারায় এর পুরোপুরি ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে। আবু যুহা ( রঃ ) ইবনে আব্বাস ( রাঃ ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, ( আরবী ) আল্লাহ তা'আলার এই উক্তির ভাবার্থ হচ্ছে ( আরবী )অর্থাৎ আমি আল্লাহ, আমি সব কিছু দেখতে রয়েছি। যহ্হাক ( রঃ ) প্রমুখ গুরুজনও এ কথাই বলেছেন।এটা হচ্ছে অতি সূক্ষ্ম তত্ত্বপূর্ণ কিতাবের আয়াতসমূহ। মুজাহিদ ( রঃ )-এরও এটাই উক্তি। হাসান ( রঃ ) বলেন যে, কিতাব দ্বারা তাওরাত ও যনূরকে বুঝানো হয়েছে। কাতাদা ( রঃ )-এর ধারণা এই যে, কিতাব দ্বারা কুরআনের পূর্ববর্তী সমস্ত আসমানী কিতাবকে বুঝানো হয়েছে। কিন্তু তাঁর এ ধারণা ভিত্তিহীন। আল্লাহ তাআলার উক্তিঃ ( আরবী ) অর্থাৎ কাফিরদের বিস্ময়ের প্রতি লক্ষ্য করে আল্লাহ পাক বলেন, মানুষের মধ্য হতেই যদি রাসূল নির্বাচিত হয়। তাতে বিস্ময়ের কি আছে? যেমন মহান আল্লাহ অতীত যুগের কাফিরদের উক্তি নকল করে বলেনঃ ( আরবী ) অর্থাৎ “ কোন মানুষ কি আমাদেরকে হিদায়াত করবে?” ( ৬৪:৬ ) এখানে কাফিররা হুদ ( আঃ ) ও সালিহ ( আঃ )-কে উদ্দেশ্য করে ঐ কথা বলেছিল । হুদ ( আঃ ) ও সালিহ ( আঃ ) তাদের কওমকে সম্বোধন করে বলেছিলেনঃ “ তোমাদের মধ্যকার এক ব্যক্তির উপর তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে অহী অবতীর্ণ করা হয়েছে এতে কি তোমরা বিস্মিত হয়েছো?”কুরায়েশ কাফিরদের সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ “( কাফিররা বলে ) সে ( মুহাম্মাদ সঃ ) কি এতগুলো উপাস্যের স্থলে মাত্র একজন উপাস্য করে দিলো? বাস্তবিকই এটা তো বড় বিস্ময়কর ব্যাপার বটে!”যহহাক ( রঃ ) ইবনে আব্বাস ( রাঃ ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহ তা'আলা যখন মুহাম্মাদ ( সঃ )-কে রাসূল করে পাঠালেন তখন আরবরা তাঁকে অস্বীকার করে বসলো এবং বলতে লাগলো- আল্লাহ তো এর চেয়ে অনেক বড় যে তিনি মুহাম্মাদের ন্যায় মানুষকে রাসূল করে পাঠাবেন । তখন আল্লাহ তা'আলা বললেন যে, এতে বিস্ময়ের কিছুই নেই।( আরবী ) এই উক্তির ব্যাপারে মতানৈক্য রয়েছে। ইবনে আব্বাস ( রাঃ ) বলেন যে, দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রথম বর্ণনাতেই সত্যতা স্বীকার করে নেয়া এবং সৌভাগ্য লাভ করা। আর নিজের আমলের উত্তম প্রতিদান লাভ করা। এটা সম্পূর্ণরূপে আল্লাহ তা'আলার ( আরবী ) ( ১৮:২ ) এই উক্তির সঙ্গে সাদৃশ্যযুক্ত অর্থাৎ “ যেন তিনি তাদেরকে যুদ্ধ ও কঠিন শাস্তি হতে ভয় প্রদর্শন করেন ।” ( আরবী ) ( আরবী ) -এর ব্যাপারে মুজাহিদ ( রঃ ) বলেন যে, এর দ্বারা উত্তম আমল বুঝানো হয়েছে। যেমন সালাত, সিয়াম, সাদকা, তাসবীহ এবং রাসূল ( সঃ )-এর শাফাআত। যায়েদ ইবনে আসলাম ( রঃ ) এবং মুকাতিল ইবনে হাইয়ান ( রঃ ) এরূপই বলেছেন। কাতাদা ( রঃ ) বলেন যে, এর দ্বারা ( আরবী ) উদ্দেশ্য। ইবনে জারীর ( রঃ ) মুজাহিদ ( রঃ )-এর অভিমত সমর্থন করে এর দ্বারা ( আরবী ) ‘উত্তম আমল’ ভাবার্থ নিয়েছেন। যেমন ( আরবী ) এ কথা বলা হয়। যেমন হাসসান ( রাঃ )-এর কবিতায় রয়েছেঃ ( আরবী ) অর্থাৎ “ আমাদের আমল এবং আমাদের রীতিনীতি আপনার সাথে সত্য ও সঠিকভাবে রয়েছে, আর আল্লাহর আনুগত্যের ব্যাপারে আমাদের পরবর্তীরা পূর্ববর্তীদের অনুসারী । আল্লাহপাকের উক্তিঃ ( আরবী ) অর্থাৎ যদিও আমি তাদেরই মধ্য হতে একজন লোককে সুসংবাদদাতা ও ভয়প্রদর্শনকারী রূপে প্রেরণ করেছি তবুও ঐ কাফিররা বলে-এই ব্যক্তি তো অবশ্যই একজন প্রকাশ্য যাদুকর। এই ব্যাপারে তারা সম্পূর্ণরূপে মিথ্যাবাদী।
সূরা ইউনুস আয়াত 1 সূরা
| English | Türkçe | Indonesia |
| Русский | Français | فارسی |
| تفسير | Urdu | اعراب |
বাংলায় পবিত্র কুরআনের আয়াত
- যখন মূসা তাঁর যুবক (সঙ্গী) কে বললেনঃ দুই সমুদ্রের সঙ্গমস্থলে না পৌছা পর্যন্ত আমি আসব
- অতঃপর তারা চলতে লাগল। অবশেষে যখন একটি বালকের সাক্ষাত পেলেন, তখন তিনি তাকে হত্যা করলেন।
- যা ছিল আপনার জন্যে অতিশয় দুঃসহ।
- আলিফ-লাম-মীম।
- তোমরা যে পানি পান কর, সে সম্পর্কে ভেবে দেখেছ কি?
- পার্থিব জীবনের উপর কাফেরদিগকে উম্মত্ত করে দেয়া হয়েছে। আর তারা ঈমানদারদের প্রতি লক্ষ্য করে হাসাহাসি
- অবশেষে যখন আমার হুকুম এসে পৌঁছাল এবং ভুপৃষ্ঠ উচ্ছসিত হয়ে উঠল, আমি বললামঃ সর্বপ্রকার জোড়ার
- কল্যাণময় তিনি, যিনি নভোমন্ডলে রাশিচক্র সৃষ্টি করেছেন এবং তাতে রেখেছেন সূর্য ও দীপ্তিময় চন্দ্র।
- অতঃপর তাদের থেকে নিজেকে আড়াল করার জন্যে সে পর্দা করলো। অতঃপর আমি তার কাছে আমার
- আর আমি একে আসন্ন দেখছি।
বাংলায় কোরআনের সূরা পড়ুন :
সবচেয়ে বিখ্যাত কোরআন তেলাওয়াতকারীদের কণ্ঠে সূরা ইউনুস ডাউনলোড করুন:
সূরা Yunus mp3 : উচ্চ মানের সাথে সম্পূর্ণ অধ্যায়টি Yunus শুনতে এবং ডাউনলোড করতে আবৃত্তিকারকে বেছে নিন
আহমেদ আল-আজমি
ইব্রাহীম আল-আখদার
বান্দার বেলাইলা
খালিদ গালিলি
হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
খলিফা আল টুনাইজি
সাদ আল-গামদি
সৌদ আল-শুরাইম
সালাহ বুখাতীর
আবদ এল বাসেট
আবদুল রশিদ সুফি
আব্দুল্লাহ্ বাস্ফার
আবদুল্লাহ আল-জুহানী
আলী আল-হুদায়েফি
আলী জাবের
ফারেস আব্বাদ
মাহের আলমাইকুলই
মোহাম্মদ আইয়ুব
মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
মুহাম্মাদ জিব্রীল
আল-মিনশাবি
আল হোসারি
মিশারী আল-আফসী
নাসের আল কাতামি
ইয়াসের আল-দোসারি
Please remember us in your sincere prayers



