কোরান সূরা সাবা আয়াত 10 তাফসীর
﴿۞ وَلَقَدْ آتَيْنَا دَاوُودَ مِنَّا فَضْلًا ۖ يَا جِبَالُ أَوِّبِي مَعَهُ وَالطَّيْرَ ۖ وَأَلَنَّا لَهُ الْحَدِيدَ﴾
[ سبأ: 10]
আমি দাউদের প্রতি অনুগ্রহ করেছিলাম এই আদেশ মর্মে যে, হে পর্বতমালা, তোমরা দাউদের সাথে আমার পবিত্রতা ঘোষণা কর এবং হে পক্ষী সকল, তোমরাও। আমি তাঁর জন্য লৌহকে নরম করে ছিলাম। [সূরা সাবা: 10]
Surah Saba in Banglaজহুরুল হক সূরা বাংলা Surah Saba ayat 10
আর আমরা নিশ্চয়ই দাউদকে আমাদের কাছ থেকে দিয়েছিলাম করুণাভান্ডার। ''হে পাহাড়গুলো! তাঁর সঙ্গে একমুখো হও, আর পাখীরাও।’’ আর লোহাকেও আমরা তাঁর জন্য গলিয়েছিলাম,
Tafsir Mokhtasar Bangla
১০. আর আমি দাউদকে আমার পক্ষ থেকে নবুওয়াত ও রাজত্ব প্রদান করেছি এবং আমি পাহাড়কে বলেছি, আপনি দাউদের সাথে তাসবীহ পাঠ করো। এমনিভাবে পক্ষিরাজিকেও নির্দেশ দিয়েছি। আর আমি তাঁর জন্য লোহাকে নরম করে দিয়েছি যাতে তিনি ইচ্ছামত যেকোন বস্ত্র তৈরী করতে পারেন।
Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান
নিশ্চয় আমি দাঊদকে আমার তরফ থেকে অনুগ্রহ প্রদান করেছিলাম।[১] হে পর্বতমালা! তোমরা দাঊদের সঙ্গে আমার পবিত্রতা ঘোষণা কর এবং হে পক্ষীকুল তোমরাও।[২] আর লৌহকে তার জন্য নম্র করেছিলাম। [৩] [১] অর্থাৎ নবুঅতের সাথে সাথে বাদশাহী এবং আরো কিছু বিশেষ মর্যাদা দান করেছিলেন। [২] বিশেষ মর্যাদাসমূহের মধ্যে একটি মর্যাদা সুমধুর কণ্ঠস্বরের নিয়ামত ছিল। যখন তিনি আল্লাহর তসবীহ পাঠ করতেন, তখন তাঁর সাথে পাথরের পাহাড় তসবীহ পাঠে বিভোল হয়ে যেতো, পক্ষীকুল উড়া বন্ধ করে দিত এবং তসবীহর গুনগুন্ আওয়াজ আরম্ভ করত। أَوِّبِيْ এর অর্থ হল তসবীহ পাঠ কর। অর্থাৎ পাহাড় ও পাখিদেরকে আমি বলেছিলাম, সুতরাং এরাও দাঊদ ( আঃ )-এর সাথে তসবীহ পাঠে রত হয়ে যেত। وَالطَّيْرَ শব্দটি يَاجِبَالُ এর স্থানের উপর আত্ব্ফ করা হয়েছে বলে শেষে যবর হয়েছে। কারণ جِبَالُ শব্দটিতে আনুমানিক যবরই আছে। মূলতঃ বাক্য এইভাবে হবে نَادَيْنَا الْجِبَالَ وَالطَّيْرَ ( আমি পাহাড় ও পক্ষীদের ডাক দিয়ে বললাম,-- )। ( ফাতহুল ক্বাদীর ) [৩] অর্থাৎ লোহাকে আগুন দিয়ে গলানো ও হাতুড়ি দিয়ে পিটানো ছাড়াই তা মোম, সানা আটা এবং ভেজা মাটির মত যেভাবে চাইতেন ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে ইচ্ছামত জিনিস-পত্র তৈরী করতেন।
Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স
আর অবশ্যই আমরা আমাদের পক্ষ থেকে দাউদকে দিয়েছিলাম মর্যাদা এবং আদেশ করেছিলাম, 'হে পর্বতমালা! তোমরা দাউদের সাথে বার বার আমার পবিত্ৰতা ঘোষণা কর' এবং পাখিদেরকেও। আর তার জন্য আমরা নরম করে দিয়েছিলাম লোহা---
Tafsir ibn kathir bangla তাফসীর ইবনে কাসীর
১০-১১ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তা'আলা খবর দিচ্ছেন যে, তিনি তাঁর বান্দা ও রাসূল হযরত দাউদ ( আঃ )-এর উপর পার্থিব ও পারলৌকিক রহমত নাযিল করেছিলেন। তাকে তিনি নবুওয়াতও দান করেছিলেন, রাজত্বও দিয়েছিলেন, সৈন্য-সামন্তও প্রদান করেছিলেন, শক্তি সামর্থ্যও দিয়েছিলেন এবং আরো একটি মুজিযা দান করেছিলেন। একদিকে হযরত দাউদ ( আঃ ) মিষ্টি সুরে আল্লাহর একত্ববাদের গান ধরেছেন আর অপরদিকে পক্ষীকুলের তন্ময়তা শুরু হয়ে গেছে। পাহাড় পর্বত সুরে সুর মিলিয়ে আল্লাহর হামদ ও সানা শুরু করে দিয়েছে। পক্ষীকুল ডানা নাড়া-চাড়া দিয়ে তাদের বিভিন্ন প্রকারের মিষ্টি সুরে আল্লাহর একত্ববাদের গীত গাইতে লেগেছে। একটি সহীহ হাদীসে আছে যে, একদা রাত্রে রাসুলল্লাহ ( সঃ ) হযরত আব। মূসা আশআরী ( রাঃ )-এর কুরআন পাঠ শুনে দাঁড়িয়ে যান এবং দীর্ঘক্ষণ ধরে শুনতে থাকেন। অতঃপর বলেনঃ একে নাগমায়ে দাউদীর ( দাউদ আঃ-এর মিষ্টি সুরের গানের ) কিছু অংশ দেয়া হয়েছে।”হযরত আবু উসমান নাহূদী ( রাঃ ) বলেনঃ “ আল্লাহর কসম! আমি আবূ মূসা আশআরী ( রাঃ )-এর সুরের চেয়ে মিষ্টি সুর কোন বাদ্যযন্ত্রেও শুনিনি ।” হাবশী ভাষায় ( আরবী ) শব্দের অর্থ হলোঃ ‘তাসবীহ পাঠ কর।' কিন্তু আমাদের মতে এ ব্যাপারে বহু চিন্তা-ভাবনার অবকাশ রয়েছে। আরবী ভাষায় এ শব্দটির মধ্যে ( আরবী ) -এর অর্থ বিদ্যমান রয়েছে। সুতরাং পর্বতরাশি ও পক্ষীকুলকে হুকুম দেয়া হচ্ছে যে, তারাও যেন হযরত দাউদ ( আঃ )-এর সুরের সাথে সুর মিলিয়ে নেয়।( আরবী )-এর একটি অর্থ দিনে চলা’ও এসে থাকে। যেমন রাত্রে চলার আরবী শব্দ ( আরবী ) এসে থাকে। কিন্তু এই অর্থটিও এখানে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এখানে অর্থ হলোঃ দাউদ ( আঃ )-এর তাসবীহ এর সুরে তোমরাও সুর মিলাও। আরো সুন্দর সুরে আল্লাহ তাআলার হামদ বর্ণনা কর। তাছাড়া তার উপর এ অনুগ্রহও ছিল যে, আল্লাহ তাআলা তার জন্যে লৌহকে নরম করে দিয়েছিলেন। ঐ লৌহকে ভাটিতে দিবার কোন প্রয়োজন হতো না বা হাতুড়ী দিয়ে পিটবারও দরকার হতো না। পিটবার কাজ হাত দিয়েই হয়ে যেতো। তার হাতে লোহাকে সূতার মত মনে হতো। ঐ লোহা দিয়ে তিনি আল্লাহর নির্দেশক্রমে লৌহ-বর্ম তৈরী করতেন। এমন কি একথাও বলা হয়ে থাকে যে, তিনিই সর্বপ্রথম পৃথিবীতে লৌহ নির্মিত যুদ্ধ-পোশাক তৈরী করেছিলেন। দৈনিক তিনি একটি করে বর্ম তৈরী করতেন। ছয় হাজার টাকায় এক একটি বর্ম বিক্রি করতেন। দৈনিক বাড়ীর খরচের জন্যে দু' হাজার টাকা রেখে দিতেন এবং বাকী চার হাজার টাকা লোকদেরকে খাওয়াতে পরাতে ব্যয় করতেন। যেরা বা বর্ম তৈরীর পদ্ধতি স্বয়ং আল্লাহ তা'আলা তাঁকে শিখিয়েছিলেন যে, কড়া যেন ঠিকমত দেয়া হয়। ছোট বড় যেন না হয়। মাপ যেন অনুমান মত হয়। কড়াগুলো যেন শক্ত হয়।ইবনে আসাকীর ( রঃ ) বর্ণনা করেছেন যে, হযরত দাউদ ( আঃ ) ছদ্মবেশে শহরে বের হতেন। লোকদের সাথে সাক্ষাৎ করতেন। স্থানীয় ও বহিরাগত লোকদের অবস্থা স্বচক্ষে দেখতেন। তিনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করতেনঃ “ দাঊদ ( আঃ ) কেমন লোক?” প্রত্যেককেই তিনি তাঁর প্রশংসা করতে শুনতেন । কারো নিকট হতে তিনি সংশোধনযোগ্য কোন অপরাধের কথা শুনতে পেতেন না। একদা আল্লাহ একজন ফেরেশতাকে তাঁর কাছে মানুষরূপে প্রেরণ করেন। হযরত দাউদ ( আঃ )-এর সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হয়ে গেল। তিনি অন্যান্যদের কাছে যেসব প্রশ্ন করতেন তাঁকেও সেই ভাবে প্রশ্ন করলেন। ফেরেশতা উত্তরে বললেনঃ “ দাউদ ( আঃ ) লোকটি তো ভাল, কিন্তু একটি দোষ যদি তাঁর মধ্যে না থাকতো । তবে তিনি কামেল লোকে পরিণত হতেন।” হযরত দাউদ ( আঃ ) অত্যন্ত আগ্রহের সাথে পুনরায় মানুষরূপী ফেরেশতাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ “ ঐ দোষটি কি?” ফেরেশতা জবাব দিলেনঃ “তিনি নিজের বোঝা মুসলমানদের বায়তুল মালের সাথে মিশিয়ে দিয়েছেন । তিনি স্বয়ং তা থেকে গ্রহণ করেন এবং তার পরিবারবর্গও তা হতে খাদ্য গ্রহণ করে থাকে।” হযরত দাউদ ( আঃ )-এর অন্তরে কথাটি দাগ কেটে দিল। তিনি মনে মনে বললেনঃ “ লোকটি সঠিক কথাই বলেছেন ।” সাথে সাথে তিনি আল্লাহর দরবারে সিজদায় পড়ে গেলেন ও কেঁদে কেঁদে তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে লাগলেন। তিনি বলতে লাগলেনঃ “ হে আল্লাহ্! আপনি আমাকে এমন একটি কাজ শিখিয়ে দিন যার দ্বারা আমি আমার পেট পূর্ণ করতে পারি । কোন শিল্প বা কারিগরি বিদ্যা আমাকে শিখিয়ে দিন যার আয় আমার ও আমার পরিবারবর্গের জন্যে যথেষ্ট হয়।” আল্লাহ্ তা'আলা তার প্রার্থনা ককূল করে নেন এবং তাঁকে একজন শিল্পী বানিয়ে দেন। তাঁর প্রতি রহমত হিসেবে লোহাকে তিনি তার জন্যে নরম করে দেন। দুনিয়ায় সর্বপ্রথম তিনিই যেরা বা লৌহ-বর্ম তৈরী করেছিলেন। তিনি একটি বর্ম তৈরী করে তা বিক্রী করে দিতেন এবং বিক্রয়লব্ধ টাকা তিন ভাগ করতেন। এক ভাগ নিজের ও পরিবারবর্গের ভরণ-পোষণের কাজে ব্যয় করতেন, এক ভাগ দান করতেন এবং এক ভাগ জমা করে রেখে দিতেন, যাতে দ্বিতীয় বর্ম তৈরী না হওয়া পর্যন্ত আল্লাহর বান্দাদেরকে তা থেকে দান-খয়রাত করতে পারেন। হযরত দাউদ ( আঃ )-কে আল্লাহ্ তা'আলা সঙ্গীত শিক্ষা দিয়েছিলেন যা অতুলনীয় ছিল। তিনি যখন আল্লাহর কালামের ঝংকার তুলতেন তখন মধুর কণ্ঠের সুর পশু-পাখী, পাহাড়-পর্বত ইত্যাদি সব কিছুকেই মাতিয়ে তুলতো। তারা মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে আল্লাহর কালাম শুনতে মশগুল হয়ে পড়তো। বর্তমান যুগের সমস্ত বাদ্যযন্ত্র শয়তানী কায়দায় দাউদী সুরের বিকাশ মাধ্যমে আবিষ্কৃত হয়েছে। এগুলো হযরত দাউদ ( আঃ )-এর তুলনাবিহীন সুরের অতি নগণ্য অংশ মাত্র।আল্লাহ তাআলা নিজের এসব নিয়ামতের বর্ণনা দেয়ার পর নির্দেশ দিচ্ছেনঃ এখন তোমাদেরও উচিত সকর্মে আত্মনিয়োগ করা এবং আমার আদেশের বিপরীত কিছু না করা। সবচেয়ে বড় কথা এই যে, যার এতগুলো ইহসান রয়েছে তার নির্দেশ কি পালিত হবে না? তোমরা যা কিছু কর আমি ওর সম্যক দ্রষ্টা। তোমাদের সব আমল, ছোট হোক, বড় হোক, ভাল হোক বা মন্দই হোক, আমার কাছে প্রকাশমান। কিছুই আমার কাছে গোপন নেই।
সূরা সাবা আয়াত 10 সূরা
| English | Türkçe | Indonesia |
| Русский | Français | فارسی |
| تفسير | Urdu | اعراب |
বাংলায় পবিত্র কুরআনের আয়াত
- তাদেরকে বলা হবেঃ তোমরা যা করতে তার প্রতিফলস্বরূপ তোমরা তৃপ্ত হয়ে পানাহার কর।
- এবং তাদেরকে যাতে সনাক্ত করা যায় যারা মুনাফিক ছিল। আর তাদেরকে বলা হল এসো, আল্লাহর
- বলুন, ভেবে দেখ তো, আল্লাহ যদি দিনকে কেয়ামতের দিন পর্যন্ত স্থায়ী করেন, তবে আল্লাহ ব্যতীত
- তারা এ কাজের উপযুক্ত নয় এবং তারা এর সামর্থ?451; রাখে না।
- অতঃপর তার সব ফল ধ্বংস হয়ে গেল এবং সে তাতে যা ব্যয় করেছিল, তার জন্য
- এবং যখন মুনাফিক ও যাদের অন্তরে রোগ ছিল তারা বলছিল, আমাদেরকে প্রদত্ত আল্লাহ ও রসূলের
- নিশ্চয় এতে ঈমানদারদের জন্যে নিদর্শণ আছে।
- আমি কি আপনার বক্ষ উম্মুক্ত করে দেইনি?
- আল্লাহ তাকে মহা আযাব দেবেন।
- তাঁর আরও নিদর্শনঃ তিনি তোমাদেরকে দেখান বিদ্যুৎ, ভয় ও ভরসার জন্যে এবং আকাশ থেকে পানি
বাংলায় কোরআনের সূরা পড়ুন :
সবচেয়ে বিখ্যাত কোরআন তেলাওয়াতকারীদের কণ্ঠে সূরা সাবা ডাউনলোড করুন:
সূরা Saba mp3 : উচ্চ মানের সাথে সম্পূর্ণ অধ্যায়টি Saba শুনতে এবং ডাউনলোড করতে আবৃত্তিকারকে বেছে নিন
আহমেদ আল-আজমি
ইব্রাহীম আল-আখদার
বান্দার বেলাইলা
খালিদ গালিলি
হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
খলিফা আল টুনাইজি
সাদ আল-গামদি
সৌদ আল-শুরাইম
সালাহ বুখাতীর
আবদ এল বাসেট
আবদুল রশিদ সুফি
আব্দুল্লাহ্ বাস্ফার
আবদুল্লাহ আল-জুহানী
আলী আল-হুদায়েফি
আলী জাবের
ফারেস আব্বাদ
মাহের আলমাইকুলই
মোহাম্মদ আইয়ুব
মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
মুহাম্মাদ জিব্রীল
আল-মিনশাবি
আল হোসারি
মিশারী আল-আফসী
নাসের আল কাতামি
ইয়াসের আল-দোসারি
Please remember us in your sincere prayers



