কোরান সূরা ফাতির আয়াত 10 তাফসীর
﴿مَن كَانَ يُرِيدُ الْعِزَّةَ فَلِلَّهِ الْعِزَّةُ جَمِيعًا ۚ إِلَيْهِ يَصْعَدُ الْكَلِمُ الطَّيِّبُ وَالْعَمَلُ الصَّالِحُ يَرْفَعُهُ ۚ وَالَّذِينَ يَمْكُرُونَ السَّيِّئَاتِ لَهُمْ عَذَابٌ شَدِيدٌ ۖ وَمَكْرُ أُولَٰئِكَ هُوَ يَبُورُ﴾
[ فاطر: 10]
কেউ সম্মান চাইলে জেনে রাখুন, সমস্ত সম্মান আল্লাহরই জন্যে। তাঁরই দিকে আরোহণ করে সৎবাক্য এবং সৎকর্ম তাকে তুলে নেয়। যারা মন্দ কার্যের চক্রান্তে লেগে থাকে, তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর শাস্তি। তাদের চক্রান্ত ব্যর্থ হবে। [সূরা ফাতির: 10]
Surah Fatir in Banglaজহুরুল হক সূরা বাংলা Surah Fatir ayat 10
যে কেউ মানসম্মান চায় সমস্ত মানসম্মান তো আল্লাহ্র। তাঁরই দিকে উত্থিত হয় সকল খাঁটি বাক্যালাপ, আর পূণ্যময় কাজ -- তিনি তার উন্নতি সাধন করেন। আর যারা মন্দ কাজের ফন্দি আঁটে তাদের জন্য আছে কঠিন শাস্তি। আর এদের ফন্দি -- তা ব্যর্থ হবেই।
Tafsir Mokhtasar Bangla
১০. যে ব্যক্তি দুনিয়া কিংবা আখেরাতে সম্মান চায় সে যেন আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নিকট তা না চায়। কেননা, এতদুভয়ের সম্মান তো কেবল তাঁরই। তাঁর প্রতি উত্তম যিকির উত্থিত হয়। আর তিনি নেক আমলকে তাঁর প্রতি উঠিয়ে নেন। যারা মন্দ ফাঁদ পাতে যেমন রসূলকে হত্যার চেষ্টা করা তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। এসব কাফিরদের দুরভিসন্ধি বাতিল ও নস্যাত হবে। যা তাদের কোন উদ্দেশ্য সফল করবে না।
Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান
কেউ ক্ষমতা ( ইজ্জত-সম্মান ) চাইলে ( সে জেনে রাখুক ) সকল ক্ষমতা ( ইজ্জত-সম্মান ) তো আল্লাহরই।[১] সৎবাক্য তাঁর দিকে আরোহণ করে[২] এবং সৎকর্ম তিনি তুলে ( গ্রহণ করে ) নেন।[৩] আর যারা মন্দ কাজের ফন্দি আঁটে[৪] তাদের জন্য আছে কঠিন শাস্তি। তাদের ফন্দি ব্যর্থ হবেই। [৫] [১] অর্থাৎ, যে ব্যক্তি দুনিয়া ও আখেরাতে সম্মানিত হতে চায়, সে যেন আল্লাহর আনুগত্য করে; আল্লাহর আনুগত্যেই তার এই উদ্দেশ্য পূরণ হবে। কারণ দুনিয়া ও আখেরাতের একমাত্র মালিক হচ্ছেন আল্লাহ, সকল সম্মান তাঁরই নিকটে, তিনি যাকে সম্মান দেবেন সেই সম্মানিত হবে, তিনি যাকে অপদস্থ করবেন তাকে পৃথিবীর কোন শক্তি সম্মান দিতে পারবে না। তিনি অন্য স্থানে বলেছেন, ( الَّذِينَ يَتَّخِذُونَ الْكَافِرِينَ أَوْلِيَاءَ مِنْ دُونِ الْمُؤْمِنِينَ أَيَبْتَغُونَ عِنْدَهُمُ الْعِزَّةَ فَإِنَّ الْعِزَّةَ لِلَّهِ جَمِيعًا ) অর্থাৎ, যারা বিশ্বাসীদের পরিবর্তে অবিশ্বাসীদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করে। তারা কি তাদের নিকট সম্মান অনুসন্ধান করে? অথচ সমস্ত সম্মান তো আল্লাহরই। ( সূরা নিসা ৪:১৩৯ আয়াত )[২] اَلْكَلِمُ - كَلِمَةٌ এর বহুবচন। পবিত্র কালেমাসমূহের অর্থ হলঃ আল্লাহর তাসবীহ ও তাহমীদ ( পবিত্রতা ও প্রশংসা বর্ণনা ), কুরআন তেলাঅত, ভাল কাজের আদেশ এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ। 'আরোহণ করে' ( উপরে চড়ে বা উঠে ) এর অর্থ হলঃ কবুল বা গ্রহণ করা। অথবা তা নিয়ে ফিরিশতাদের আকাশে উঠে যাওয়া যাতে আল্লাহ তাআলা তার সওয়াব প্রদান করেন।[৩] يَرْفَعُهُ ক্রিয়ার কর্তা কে? অনেকে বলেন, الكلم الطيب অর্থাৎ, সৎকর্ম সৎবাক্যকে ( আল্লাহর দিকে ) উঠিয়ে থাকে। আর তার মানে, শুধু মুখে আল্লাহর যিকর ( তাসবীহ ও তাহমীদে ) কোন কাজ হবে না; যতক্ষণ না তার সাথে সৎকর্ম অর্থাৎ আহ্কাম ও ফরয আমল আদায় করা হবে। অনেকে বলেন, يرفعه ক্রিয়ার কর্তা মহান আল্লাহ। উদ্দেশ্য হল, আল্লাহ তাআলা সৎকর্মকে সৎবাক্যের উপর প্রধান্য দেন। কারণ সৎকর্ম দ্বারাই এই কথা প্রমাণ হয় যে, সৎবাক্য ( তাসবীহ, তাহমীদ ইত্যাদি ) আবৃত্তিকারী প্রকৃতপক্ষে তাতে আন্তরিক ও একনিষ্ঠ। ( ফাতহুল ক্বাদীর ) ঠিক যেন আল্লাহর নিকট আমল ছাড়া কেবল মুখের কথার কোন মূল্য নেই।[৪] গোপনভাবে কারোর ক্ষতি সাধন করার চেষ্টাকে مكر ( চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র বা ফন্দি অাঁটা ) বলে। কুফর ও শিরকের কাজ করাও এক প্রকার চক্রান্তের কাজ। যেহেতু তাতে আল্লাহর পথের ক্ষতি সাধন করা হয়। মক্কার কাফেররা নবী ( সাঃ )-এর বিরুদ্ধে হত্যা ইত্যাদির যে প্রচেষ্টা চালিয়েছে তাকেও চক্রান্ত বলা হয়েছে। লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে কোন কাজ করাকেও চক্রান্ত বলা যায়। এখানে উক্ত শব্দটি সাধারণ অর্থে ব্যবহার হয়েছে; অর্থাৎ এখানে সকল প্রকার চক্রান্ত ও ফন্দির নিন্দা করা হয়েছে।[৫] অর্থাৎ, তাদের চক্রান্তও ব্যর্থ হবে এবং তার শাস্তিও তাদেরকেই ভোগ করতে হবে যে চক্রান্ত করবে। যেমন বলেছেন, ( وَلا يَحِيقُ الْمَكْرُ السَّيِّئُ إِلا بِأَهْلِه ) অর্থাৎ, কূট ষড়যন্ত্র ষড়যন্ত্রকারীদেরই পরিবেষ্টন করে। ( সূরা ফাত্বির ৩৫:৪৩ আয়াত )
Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স
যে কেউ সম্মান-প্রতিপত্তি চায়, তবে সকল সম্মান-প্রতিপত্তির মালিক তো আল্লাহ্ই [ ১ ]। তাঁরই দিকে পবিত্র বাণিসমূহ হয় সমুত্থিত এবং সৎকাজ, তিনি তা করেন উন্নীত [ ২ ]। আর যারা মন্দকাজের ফন্দি আঁটে তাদের জন্য আছে কঠিন শাস্তি। আর তাদের ষড়যন্ত্র, তা ব্যর্থ হবেই। [ ১ ] অর্থাৎ সম্মান চাইলে কেবলমাত্র তাঁর কাছেই চাওয়া উচিত। আর তা চাইতে হবে তাঁর আনুগত্য করেই। কারণ, তিনি সম্মান প্রতিপত্তির মালিক। [ বাগভী, মুয়াসসার ] আসল ও চিরস্থায়ী মর্যাদা, দুনিয়া থেকে নিয়ে আখেরাত পর্যন্ত যা কখনো হীনতা ও লাঞ্ছনার শিকার হতে পারে না, তা কেবলমাত্র আল্লাহর বন্দেগীর মধ্যে পাওয়া যেতে পারে। তুমি যদি তাঁর হয়ে যাও, তাহলে তাঁকে পেয়ে যাবে এবং যদি তাঁর দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও, তাহলে অপমানিত ও লাঞ্ছিত হবে। [ দেখুন, কুরতুবী; ফাতহুল কাদীর ] [ ২ ] ইবন আব্বাস বলেন, ভাল কথা হচ্ছে, আল্লাহর যিকির। আর সৎকাজ হচ্ছে, আল্লাহর ফরয আদায় করা, সুতরাং যে কেউ আল্লাহর ফরয আদায়ে আল্লাহর যিকির করবে: তারই সে আমল উপরের দিকে উঠবে। আর যে কেউ যিকির করবে, কিন্তু আল্লাহর ফরয আদায় করবে না তার কথা তার আমলের দিকে প্রত্যাবর্তিত হবে, তখন সেটা তার ধ্বংসের কারণ হবে। [ তাবারী ] কাতাদাহ বলেন, আল্লাহ তা'আলা আমল ব্যতীত কোন কথা কবুল করেন না। যে ভাল বলল এবং ভাল আমল করল সেটাই শুধু আল্লাহ কবুল করেন। [ তাবারী ]
Tafsir ibn kathir bangla তাফসীর ইবনে কাসীর
৯-১১ নং আয়াতের তাফসীর: মৃত্যুর পর পুনজীবনের উপর কুরআন কারীমে প্রায় মৃত ও শুষ্ক জমি পুনরুজ্জীবিত হওয়াকে দলীল হিসেবে পেশ করা হয়েছে। যেমন সূরায়ে হাজ্ব প্রভৃতিতে রয়েছে। এতে বান্দার জন্যে পূর্ণ উপদেশ ও শিক্ষণীয় বিষয় আছে এবং মৃতদের জীবিত হওয়ার পূর্ণ দলীল এতে বিদ্যমান রয়েছে যে, জমি সম্পূর্ণরূপে শুকিয়ে গিয়েছে এবং তাতে সজীবতা মোটেই পরিলক্ষিত হয় না। কিন্তু যখন মেঘ উঠে ও বৃষ্টি হয় তখন ঐ জমির শুষ্কতা সজীবতায় এবং মরণ জীবনে পরিবর্তিত হয়। কারো ধারণাও ছিল না যে, এমন শুষ্ক ও মৃত জমি পুনর্জীবন ও সজীবতা লাভ করবে। এভাবেই বানী আদমের উপকরণ করে বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে আছে। কিন্তু আরশের নীচে থেকে, আল্লাহর হুকুমের বৃষ্টির সাথে সাথে সবগুলো একত্রিত হয়ে কবর থেকে উদাত হতে শুরু করবে। যেমন মাটি হতে গাছ বের হয়ে আসে ও মাটি হতে চারা বের হয়। সহীহ্ হাদীসে আছে যে, সমস্ত আদম সন্তান মাটিতে গলে পচে যায়। কিন্তু তার একটি হাড় আছে যাকে বলা হয় রেড় বা জন্ম হাড়, সেটা পচেও না, নষ্টও হয় না। এ হাড়ের দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছে এবং আবার সৃষ্টি করা হবে। এখানে একটি চিহ্নের উল্লেখ করে বলা হয়েছে। ঠিক তেমনই বলা হচ্ছে যে, মৃত্যুর পর আবার জীবন আছে। সূরায়ে হাজ্বের তাফসীরে হাদীস গত হয়েছে যে, হযরত আবু রাযীন ( রাঃ ) রাসূলুল্লাহ ( সঃ )-কে জিজ্ঞেস করেনঃ “ হে আল্লাহর রাসূল ( সঃ )! আল্লাহ্ কিভাবে মৃতকে জীবিত করবেন? আর তাঁর সৃষ্টিজগতে এর কি নিদর্শন আছে?” উত্তরে রাসূলুল্লাহ্ ( সঃ ) বলেনঃ “হে আবু রাযীন ( রাঃ )! তুমি কি তোমার আশে-পাশের যমীনের উপর দিয়ে ঘুরে ফিরে বেড়াওনি? তুমি কি দেখোনি যে, জমিগুলো শুষ্ক ও ফসলবিহীন অবস্থায় পড়ে আছে? অতঃপর যখন তুমি পুনরায় সেখান দিয়ে গমন কর তখন কি তুমি দেখতে পাও না যে, ঐ জমি সবুজ-শ্যামল হয়ে উঠেছে? সজীবতা লাভ করেছে এবং তাতে ফসল ঢেউ খেলছে?” হযরত আৰূ রাযীন ( রাঃ ) উত্তর দিলেনঃ “হ্যা, এমন তো প্রায়ই চোখে পড়ে ।” তখন রাসূলুল্লাহ্ ( সঃ ) বললেনঃ “ এভাবেই আল্লাহ্ তা'আলা মৃতকে জীবিত করবেন ।" মহা প্রতাপান্বিত আল্লাহ্ বলেনঃ “ কেউ ক্ষমতা চাইলে সে জেনে রাখুক যে, সব ক্ষমতা তো আল্লাহরই । অর্থাৎ যারা দুনিয়া ও আখিরাতে সম্মানিত থাকতে চায় তাকে আল্লাহর আনুগত্য স্বীকার করে চলতে হবে। তিনিই তার এ উদ্দেশ্যকে সফলতা দান করবেন। দুনিয়া ও আখিরাতে আল্লাহই একমাত্র সত্তা যার হাতে সমস্ত ক্ষমতা, ইযযত ও সম্মান বিদ্যমান রয়েছে।অন্য আয়াতে রয়েছেঃ ( আরবী ) অর্থাৎ “ যারা কাফিরদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করে মুমিনদেরকে ছেড়ে, তারা কি তাদের কাছে ইয্যত তালাশ করে? তাদের জেনে রাখা উচিত যে, সমস্ত ইয্যত তো আল্লাহর হাতে ।”( ৪:১৩৯ )আর এক জায়গায় আছেঃ ( আরবী ) অর্থাৎ “ তাদের কথা যেন তোমাকে চিন্তিত ও দুঃখিত না করে, নিশ্চয়ই । সমস্ত ইয্যত তো আল্লাহরই জন্যে।” ( ১০:৬৫ )মহামহিমান্বিত আল্লাহ আর এক জায়গায় বলেনঃ ( আরবী ) অর্থাৎ “ ইয্যত তো আল্লাহরই, আর তাঁর রাসূল ( সঃ ) ও মুমিনদের । কিন্তু মুনাফিকরা এটা জানে না।” ( ৬৩:৮ )। | মুজাহিদ ( রঃ ) বলেন যে, প্রতিমা পূজায় ইয্যত নেই, ইতের অধিকারী তো একমাত্র আল্লাহ্। ভাবার্থ এই যে, ইযষত অনুসন্ধানকারীর আল্লাহর হুকুম মেনে চলার কাজে লিপ্ত থাকা উচিত। আর এটাও বলা হয়েছে যে, কার জন্যে ইয্যত তা যে জানতে চায় সে যেন জেনে নেয় যে, সমস্ত ইযত আল্লাহরই জন্যে।যিকর, তিলাওয়াত, দু'আ ইত্যাদি সবই আল্লাহ্ তা'আলার নিকট পৌছে থাকে। এগুলো সবই পাক কালেমা।মুখারিক ইবনে সালীম ( রঃ ) বলেন, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ ( রাঃ ) আমাদেরকে বলেনঃ “ আমি তোমাদের কাছে যতগুলো হাদীস বর্ণনা করি সবগুলোরই সত্যতা আল্লাহর কিতাব হতে পেশ করতে পারি । জেনে রেখো যে, মুসলমান বান্দা যখন ( আরবী ) এই কালেমাগুলো পাঠ করে তখন ফেরেশতারা এগুলো তাদের ডানার নীচে নিয়ে আসমানের উপরে উঠে যান। এগুলো নিয়ে তাঁরা ফেরেশতাদের যে দলের পার্শ্ব দিয়ে গমন করেন তখন ঐ দলটি এই কালেমাগুলো পাঠকারীদের জন্যে আল্লাহ তা'আলার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করেন। শেষ পর্যন্ত জগতসমূহের প্রতিপালক মহামহিমান্বিত আল্লাহর সামনে এই কালেমাগুলো পেশ করা হয়।” অতঃপর হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ ( রাঃ ) ( আরবী )-এই আয়াতটি তিলাওয়াত করেন। ( এটা ইমাম ইবনে জারীর (রঃ ) বর্ণনা করেছেন) হযরত কা'ব আহ্বার ( রঃ ) বলেন যে, ( আরবী )-এই কালেমাগুলো আরশের চতুপার্শ্বে মৌমাছির ভন্ ভন্ শব্দের মত বের হয় এবং যারা এগুলো পাঠ করে তাদের কথা আল্লাহর সামনে আলোচিত হয় এবং সৎ কার্যাবলী খানা খানায় সংরক্ষিত থাকে। হযরত নুমান ইবনে বাশীর ( রাঃ ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ ( সঃ ) বলেছেনঃ “ যারা আল্লাহর বুযর্গী, তার তাসবীহ, তাঁর হাদ, তার শ্রেষ্ঠত্ব এবং তার একত্বের যিক্র করে, তাদের জন্যে এই কালেমাগুলো আরশের আশে-পাশে আল্লাহর সামনে তাদের কথা আলোচনা করে । তোমরা কি পছন্দ কর না যে, সদা-সর্বদা তোমাদের যি আল্লাহর সামনে হতে থাকুক?” ( এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ ) ও ইমাম ইবনে মাজাহ ( রঃ ) বর্ণনা করেছেন)হযরত ইবনে আব্বাস ( রাঃ ) বলেন যে, পাক কালাম দ্বারা উদ্দেশ্য আল্লাহর যিকর এবং সকর্ম দ্বারা উদ্দেশ্য ফরয কাজসমূহ আদায় করা। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহর যিকর ও ফরযসমূহ আদায় করে তার আমল তার যিকরকে আল্লাহর নিকট উঠিয়ে দেয়। কিন্তু যে আল্লাহর যিক্র করে কিন্তু ফরযসমূহ আদায় করে না, তার কালাম তার আমলের উপর ফিরিয়ে দেয়া হয়।অনুরূপভাবে হযরত মুজাহিদ ( রঃ ) বলেন যে, কালেমায়ে তায়্যিবকে আমলে সালেহ্ নিয়ে যায়। অন্যান্য গুরুজন হতেও অনুরূপ বর্ণিত আছে। এমনকি কাযী আইয়াস ইবনে মুআবিয়া ( রঃ ) বলেন যে, আমলে সালেহ্ বা ভাল আমল না থাকলে কালেমায়ে তায়্যিব বা উত্তম কথা উপরে উঠে না। হযরত হাসান ( রঃ ) ও হযরত কাতাদা ( রঃ ) বলেন যে, আমল ছাড়া কথা প্রত্যাখ্যাত হয়।যারা মন্দ কর্মের ফন্দি আঁটে তারা হলো ঐসব লোক যারা ফাঁকিবাজি ও রিয়াকারী বা লোক দেখানো কাজ করে থাকে। বাহ্যিকভাবে যদিও এটা লোকদের কাছে প্রকাশিত হয় যে, তারা আল্লাহর আদেশ মেনে চলছে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারা আল্লাহর নিকট সবচেয়ে নিকৃষ্ট। তারা ভাল কাজ যা কিছু করে সবই লোক দেখানো করে। তারা আল্লাহর যিক্র খুব কমই করে। আব্দুর রহমান ( রঃ ) বলেন যে, এর দ্বারা মুশরিককে বুঝানো হয়েছে। কিন্তু সঠিক কথা এই যে, আয়াতটি সাধারণ। মুশরিকরা যে বেশী এর অন্তর্ভুক্ত এটা বলাই বাহুল্য। মহা-প্রতাপান্বিত আল্লাহ্ বলেন যে, তাদের জন্যে রয়েছে কঠিন শাস্তি। তাদের ফন্দি ও চক্রান্ত ব্যর্থ হবেই। তাদের মিথ্যাবাদিতা আজ না হলেও কাল প্রকাশ পাবেই। জ্ঞানীরা তাদের চক্রান্ত ধরে ফেলবে। কোন লোক যে কাজ করে তার লক্ষণ তার চেহারায় প্রকাশিত হয়ে থাকে। তার ভাষা ও কথা ঐ রঙেই রঞ্জিত হয়ে থাকে। ভিতর যেমন হয় তেমনিভাবে তার প্রতিচ্ছায়া বাইরেও প্রকাশ পায়। রিয়াকারীর বে-ঈমানী বেশীদিন গোপন থাকে না। নির্বোধরা তাদের চক্রান্তের জালে আবদ্ধ হয়ে থাকে সেটা অন্য কথা। মুমিন ব্যক্তি পুরোমাত্রায় জ্ঞানী ও বিবেকবান হয়ে থাকে। তারা তাদের ধোকাবাজি হতে বেশ সতর্ক থাকে।মহান আল্লাহ বলেনঃ আল্লাহ্ তোমাদের আদম ( আঃ )-কে মাটি দ্বারা সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর বংশকে এক ফোঁটা নিকৃষ্ট পানির ( শুক্র বিন্দুর ) মাধ্যমে জারী রেখেছেন। অতঃপর তিনি তোমাদেরকে জোড়া জোড়া বানিয়েছেন অর্থাৎ নর ও নারী। এটাও আল্লাহর এক বড় দয়া ও মেহেরবানী যে, তিনি নরদের জন্যে নারী বানিয়েছেন, যারা তাদের শান্তি ও আরামের উপকরণ। আল্লাহর অজ্ঞাতসারে কোন নারী গর্ভধারণ করে না এবং সন্তান প্রসব করে না। অর্থাৎ এসব খবর তিনি রাখেন। এমনকি প্রত্যেক ঝরে পড়া পাতা, অন্ধকারে পড়ে থাকা বীজ এবং প্রত্যেক সিক্ত ও শুষ্কের খবরও তিনি রাখেন। তাঁর কিতাবে এসব লিপিবদ্ধ রয়েছে।নিম্নের আয়াতগুলোও এ আয়াতের অনুরূপঃ ( আরবী ) অর্থাৎ “ প্রত্যেক নারী যা গর্ভে ধারণ করে এবং জরায়ুতে যা কিছু কমে ও বাড়ে আল্লাহ্ তা জানেন এবং তাঁর বিধানে প্রত্যেক বস্তুরই এক নির্দিষ্ট পরিমাণ আছে । যা অদৃশ্য ও যা দৃশ্যমান তিনি তা অবগত। তিনি মহান, সর্বোচ্চ মর্যাদাবান।” ( ১৩:৮-৯ ) এর পূর্ণ তাফসীর সেখানে বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ কোন দীর্ঘায়ু ব্যক্তির আয়ু বৃদ্ধি করা হয় না অথবা তার আয়ু হ্রাস করা হয় না, কিন্তু তা তো রয়েছে কিতাবে।( আরবী ) তে ( আরবী ) সর্বনামটির ফিরবার স্থান ( আরবী ) অর্থাৎ মানব। কেননা, দীর্ঘায়ু কিতাবে রয়েছে এবং আল্লাহ তাআলার জ্ঞানে তার আয়ু হতে কম করা হয় না। ( আরবী ) -এর দিকেও সর্বনাম ফিরে থাকে। যেমন আরবে বলা হয়ঃ ( আরবী ) অর্থাৎ “ আমার কাছে একটি কাপড় আছে এবং অন্য কাপড়ের অর্ধেক আছে ।”হযরত ইবনে আব্বাস ( রাঃ ) হতে বর্ণিত আছে যে, আল্লাহ্ তা'আলা যে ব্যক্তির জন্যে দীর্ঘায়ু নির্ধারণ করে রেখেছেন সে তা পুরো করবেই। কিন্তু ঐ দীর্ঘায়ু তাঁর কিতাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে। সে ঐ পর্যন্ত পৌছবে। আর যার জন্যে তিনি স্বল্পায় নির্ধারণ করেছেন তার জীবন ঐ পর্যন্তই পৌছবে। এ সবকিছু আল্লাহর কিতাবে পূর্ব হতেই লিপিবদ্ধ রয়েছে। আর এটা আল্লাহ তাআলার কাছে খুবই সহজ। আয়ু কম হওয়ার একটি ভাবার্থ এও হতে পারে যে, যে শুক্র পূর্ণতাপ্রাপ্ত হওয়ার পূর্বেই পড়ে যায় সেটাও আল্লাহর অবগতিতে রয়েছে। কোন কোন মানুষ শত শত বছর বেঁচে থাকে। আবার কেউ কেউ ভূমিষ্ট হওয়ার পরেই মারা যায়। ষাট বছরের কমে মৃত্যুবরণকারীও স্বল্পায়ু বিশিষ্ট।এ কথা বলা হয়েছে যে, মায়ের পেটে দীর্ঘায়ু বা স্বল্পায় লিখে নেয়া হয়। সারা সৃষ্টজীবের আয়ু সমান হয় না। কারো আয়ু দীর্ঘ হয় কারো স্বল্প হয়। এগুলো আল্লাহ্ তা'আলার কাছে লিখিত রয়েছে। আর ওটা অনুযায়ীই প্রকাশ হতে রয়েছে।কেউ কেউ বলেন যে, এর অর্থ হচ্ছেঃ যে নির্ধারিত কাল লিখিত হয়েছে এবং ওর মধ্য হতে যা কিছু অতিবাহিত হয়েছে, সবই আল্লাহর অবগতিতে আছে এবং তাঁর কিতাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে।সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম প্রভৃতি হাদীস গ্রন্থে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) বলেছেনঃ “ যে চায় যে, তার রিযক ও বয়স বেড়ে যাক সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক যুক্ত রাখে ।”মুসনাদে ইবনে আবি হাতিমে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ্ ( সঃ ) বলেছেনঃ “ কারো নির্ধারিত সময় এসে যাওয়ার পর তাকে অবকাশ দেয়া হয় না ।” বয়স বৃদ্ধি পাওয়া দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সৎ সন্তান জন্মগ্রহণ করা, যার দু'আ তার মৃত্যুর পর তার কবরে পৌঁছতে থাকে। বয়স বৃদ্ধি পাওয়ার অর্থ এটাই। এটা আল্লাহর নিকট খুবই সহজ। এটা তাঁর অবগতিতে রয়েছে। তাঁর জ্ঞনি সমস্ত সৃষ্টজীবকে পরিবেষ্টন করে আছে। তিনি সব কিছুই জানেন। কিছুই তাঁর কাছে গোপন নেই।
সূরা ফাতির আয়াত 10 সূরা
| English | Türkçe | Indonesia |
| Русский | Français | فارسی |
| تفسير | Urdu | اعراب |
বাংলায় পবিত্র কুরআনের আয়াত
- সেদিন হবে কঠিন দিন,
- এটি এমন একটি গ্রন্থ, যা আমি অবতীর্ণ করেছি, খুব মঙ্গলময়, অতএব, এর অনুসরণ কর এবং
- কখনই নয়; যদি তোমরা নিশ্চিত জানতে।
- এবং কোন খাদ্য নাই, ক্ষত-নিঃসৃত পুঁজ ব্যতীত।
- আদ, ফেরাউন, ও লূতের সম্প্রদায়,
- অতঃপর তোমাদের উপর শোকের পর শান্তি অবতীর্ণ করলেন, যা ছিল তন্দ্রার মত। সে তন্দ্রায় তোমাদের
- অতঃপর যখন ইউসুফ তাদের রসদপত্র প্রস্তুত করে দিল, তখন পানপাত্র আপন ভাইয়ের রসদের মধ্যে রেখে
- আপনি বলে দিনঃ আমার কাছে প্রতিপালকের পক্ষ থেকে একটি প্রমাণ আছে এবং তোমরা তার প্রতি
- আর তোমরা তাদের সাথে লড়াই কর, যে পর্যন্ত না ফেতনার অবসান হয় এবং আল্লাহর দ্বীন
- আপনি ভরসা করুন পরাক্রমশালী, পরম দয়ালুর উপর,
বাংলায় কোরআনের সূরা পড়ুন :
সবচেয়ে বিখ্যাত কোরআন তেলাওয়াতকারীদের কণ্ঠে সূরা ফাতির ডাউনলোড করুন:
সূরা Fatir mp3 : উচ্চ মানের সাথে সম্পূর্ণ অধ্যায়টি Fatir শুনতে এবং ডাউনলোড করতে আবৃত্তিকারকে বেছে নিন
আহমেদ আল-আজমি
ইব্রাহীম আল-আখদার
বান্দার বেলাইলা
খালিদ গালিলি
হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
খলিফা আল টুনাইজি
সাদ আল-গামদি
সৌদ আল-শুরাইম
সালাহ বুখাতীর
আবদ এল বাসেট
আবদুল রশিদ সুফি
আব্দুল্লাহ্ বাস্ফার
আবদুল্লাহ আল-জুহানী
আলী আল-হুদায়েফি
আলী জাবের
ফারেস আব্বাদ
মাহের আলমাইকুলই
মোহাম্মদ আইয়ুব
মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
মুহাম্মাদ জিব্রীল
আল-মিনশাবি
আল হোসারি
মিশারী আল-আফসী
নাসের আল কাতামি
ইয়াসের আল-দোসারি
Please remember us in your sincere prayers



