কোরান সূরা বাকারাহ্ আয়াত 137 তাফসীর
﴿فَإِنْ آمَنُوا بِمِثْلِ مَا آمَنتُم بِهِ فَقَدِ اهْتَدَوا ۖ وَّإِن تَوَلَّوْا فَإِنَّمَا هُمْ فِي شِقَاقٍ ۖ فَسَيَكْفِيكَهُمُ اللَّهُ ۚ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ﴾
[ البقرة: 137]
অতএব তারা যদি ঈমান আনে, তোমাদের ঈমান আনার মত, তবে তারা সুপথ পাবে। আর যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তারাই হঠকারিতায় রয়েছে। সুতরাং এখন তাদের জন্যে আপনার পক্ষ থেকে আল্লাহই যথেষ্ট। তিনিই শ্রবণকারী, মহাজ্ঞানী। [সূরা বাকারাহ্: 137]
Surah Al-Baqarah in Banglaজহুরুল হক সূরা বাংলা Surah Baqarah ayat 137
এবার যদি তারা ঈমান আনত যেভাবে তোমরা তাঁর প্রতি ঈমান আনছো, তাহলে নিঃসন্দেহ তারা হেদায়ত পেতো, আর যদি তারা ফিরে যায় তাহলে অবশ্যই তারা বিরোধিতাতে নিমগ্ন। অতএব আল্লাহই তাদের বিরুদ্ধে তোমার জন্য যথেষ্ট, কারণ তিনিই সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাতা।
Tafsir Mokhtasar Bangla
১৩৭. যদি ইহুদি, খ্রিস্টান ও অন্যান্য কাফিররা তোমাদের মতো ঈমান আনে তাহলেই তারা আল্লাহর পছন্দনীয় সঠিক পথের দিশা পাবে। আর যদি তারা ঈমান থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় তথা নবীদের সবাইকে অথবা তাঁদের কাউকে অস্বীকার করে তাহলে তারা সত্যিই দ্ব›দ্ব ও বিদ্বেষ করছে। তাই হে নবী! আপনি সে জন্য অস্থির ও চিন্তিত হবেন না। কারণ, আল্লাহ তা‘আলাই আপনাকে তাদের যন্ত্রণা থেকে রক্ষা করবেন, তাদের অনিষ্ট থেকে দূরে রাখবেন এবং তাদের উপর আপনাকে জয়ী করবেন। তিনি তাদের সকল কথা শুনছেন এবং তাদের সকল কর্মকাÐ ও নিয়ত সম্পর্কে জানেন।
Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান
তোমরা যাতে বিশ্বাস করেছ তারা যদি সেরূপ বিশ্বাস করে, তাহলে নিশ্চয় তারা সুপথ পাবে। আর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাহলে তারা নিশ্চয়ই বিরুদ্ধভাবাপন্ন। সুতরাং তাদের বিরুদ্ধে তোমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। [১] তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। [১] সাহাবায়ে কেরাম ( রাঃ )গণ ( কুরআনে ) উল্লিখিত এই নিয়মেই ঈমান এনেছিলেন। এই জন্যই তাঁদের দৃষ্টান্ত পেশ করে বলা হচ্ছে যে, তারা যদি ঐভাবেই ঈমান আনে, যেভাবে হে সাহাবাগণ! তোমরা ঈমান এনেছ, তাহলে অবশ্যই তারা হিদায়াত লাভ করবে। কিন্তু তারা যদি হঠকারিতা ও বিরোধিতার পথ অবলম্বন করে, তবে তাতে ঘাবড়ানোর কোন প্রয়োজন নেই তাদের চক্রান্তসমূহ ( হে নবী ) তোমার কোনই ক্ষতি করতে পারবে না। কারণ, তাদের জন্য তোমার পক্ষ থেকে আল্লাহই যথেষ্ট। বলা বাহুল্য, কয়েক বছরের মধ্যেই এই অঙ্গীকার বাস্তব রূপ পেল। বানু-ক্বায়নুক্বা' ও বানু-নাযীরকে দেশ থেকে বহিষ্কার করা এবং বানু-ক্বুরায়যাকে হত্যা করা হল। ইতিহাসের বর্ণনায় এসেছে যে, উসমান ( রাঃ )-কে শহীদ করার সময় একটি কুরআন তাঁর কোলেই ছিল এবং তাতে লিখিত এই {فَسَيَكْفِيْكَهُمُ اللهُ} আয়াতে তাঁর রক্তের ছিটা পড়েছিল। বলা হয়, কুরআনের সে কপিটি আজও তুরস্কের যাদুঘরে সংরক্ষিত আছে।
Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স
অতঃপর তোমরা যেরূপ ঈমান এনেছ তারাও যদি সেরূপ ঈমান আনে, তবে নিশ্চয় তারা হেদায়াত পাবে। আর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তারা বিরোধিতায় লিপ্ত সুতরাং তাদের বিপক্ষে আপনার জন্য আল্লাহ্ই যথেষ্ট। আর তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।
Tafsir ibn kathir bangla তাফসীর ইবনে কাসীর
১৩৭-১৩৮ নং আয়াতের তাফসীরঅর্থাৎ হে ঈমানদার সাহাবীবর্গ ( রাঃ )! এই সব কাফিরও যদি তোমাদের মত যাবতীয় কিতাব ও রাসূলের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে তবে তারাও সুপথ প্রাপ্ত হবে এবং মুক্তি পেয়ে যাবে। আর যদি দলীল ও প্রমাণ বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও তারা ঈমান আনয়ন হতে বিরত থাকে তবে নিশ্চিত রূপে তারা ন্যায় ও সত্যের উল্টো পথে রয়েছে। সেই সময় হে নবী ( সঃ )! তোমাকে তাদের উপর জয়যুক্ত করতঃ আল্লাহ তা'আলা তাদের জন্যে তোমাদেরকেই যথেষ্ট করবেন। হযরত নাফে' বিন আবু নাঈম ( রাঃ ) বলেন যে, কোন একজন খলীফার নিকট হযরত উসমানের ( রাঃ ) কুরআন মাজীদ পাঠানো হয়। একথা শুনে যিয়াদ নামক এক ব্যক্তি নাফে' বিন আবু নাঈমকে বলেনঃ “ জনসাধারণের মধ্যে একথা ছড়িয়ে রয়েছে যে, যখন হযরত উসমানকে ( রাঃ ) শহীদ করা হয় সেই সময় এই কালামুল্লাহ ( কুরআন মাজীদ ) তাঁর ক্রোড়ে বিদ্যমান ছিল এবং তাঁর রক্ত ঠিক এই শব্দগুলোর উপর ছিল ( আরবি ) একথা কি সত্য?' তখন হযরত নাফে' ( রাঃ ) বলেনঃ ‘এটা সম্পূর্ণ রূপে সঠিক কথা । আমি স্বয়ং এই আয়াতের উপর হযরত উসমান যিনুরাইনের ( রাঃ ) রক্ত দেখেছিলাম।এখানে রং’ এর ভাবার্থ হচ্ছে ‘ধর্ম'। অর্থাৎ আল্লাহর দ্বীনের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকো। কেউ কেউ বলেন যে, এটা ( আরবি )হতে ( আরবি )হয়েছে যা এর পূর্বে বিদ্যমান রয়েছে। সিবওয়াই ( রঃ ) বলেন যে, এটা। ( আরবি )-এরং ( আরবি ) এবং কারণে এর উপর ( আরবি )হয়েছে। যেমন ( আরবি )-এর উপর হয়েছে। একটি মারফু হাদীসের মধ্যে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) বলেনঃ ‘বানী ইসরাঈল হযরত মূসা ( আঃ )কে জিজ্ঞেস করেছিলঃ “ হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের প্রভুও কি রং করে থাকেন?' তখন হযরত মূসা ( আঃ ) বলেনঃ “তোমরা আল্লাহকে ভয় কর । আল্লাহ তা'আলা তখন হযরত মূসা ( আঃ ) কে ডাক দিয়ে বলেনঃ “ তারা কি তোমাকে জিজ্ঞেস করছে যে, তোমার প্রভু কি রং করেন?' তিনি বলেনঃ হাঁ । তখন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ তুমি তাদেরকে বলে দাও যে, লাল, সাদা, কালো ইত্যাদি সমুদয় রং আল্লাহ তাআলাই সষ্টি করেন। এই আয়াতেরও ভাবার্থ এটাই। কিন্তু হাদীসটি মাওকুফ হওয়াই সঠিক কথা এবং এটাও এর ইসনাদ বিশুদ্ধ হওয়ার উপর নির্ভর করে।
সূরা বাকারাহ্ আয়াত 137 সূরা
| English | Türkçe | Indonesia |
| Русский | Français | فارسی |
| تفسير | Urdu | اعراب |
বাংলায় পবিত্র কুরআনের আয়াত
- যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সামনে পেশ হওয়ার ভয় রাখে, তার জন্যে রয়েছে দু’টি উদ্যান।
- আর সামুদ জাতি প্রতি তাদের ভাই সালেহ কে প্রেরণ করি; তিনি বললেন, হে আমার জাতি।
- তাদের দেবতা গুলোর মধ্যে কেউ তাদের সুপারিশ করবে না। এবং তারা তাদের দেবতাকে অস্বীকার করবে।
- সেই পত্র সুলায়মানের পক্ষ থেকে এবং তা এইঃ সসীম দাতা, পরম দয়ালু, আল্লাহর নামে শুরু;
- যখন আমি বনী-ইসরাঈলের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিলাম যে, তোমরা আল্লাহ ছাড়া কারও উপাসনা করবে না,
- তুমি বলে দাও, কাফেরদেরকে যে, তারা যদি বিরত হয়ে যায়, তবে যা কিছু ঘটে গেছে
- অতঃপর তারা তাদের পালনকর্তার আদেশ অমান্য করল এবং তাদের প্রতি বজ্রঘাত হল এমতাবস্থায় যে, তারা
- সূর্য ঢলে পড়ার সময় থেকে রাত্রির অন্ধকার পর্যন্ত নামায কায়েম করুন এবং ফজরের কোরআন পাঠও।
- কখনই নয়, তারা তাদের এবাদত অস্বীকার করবে এবং তাদের বিপক্ষে চলে যাবে।
- সে বললঃ তোমরা স্বহস্ত নির্মিত পাথরের পূজা কর কেন?
বাংলায় কোরআনের সূরা পড়ুন :
সবচেয়ে বিখ্যাত কোরআন তেলাওয়াতকারীদের কণ্ঠে সূরা বাকারাহ্ ডাউনলোড করুন:
সূরা Baqarah mp3 : উচ্চ মানের সাথে সম্পূর্ণ অধ্যায়টি Baqarah শুনতে এবং ডাউনলোড করতে আবৃত্তিকারকে বেছে নিন
আহমেদ আল-আজমি
ইব্রাহীম আল-আখদার
বান্দার বেলাইলা
খালিদ গালিলি
হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
খলিফা আল টুনাইজি
সাদ আল-গামদি
সৌদ আল-শুরাইম
সালাহ বুখাতীর
আবদ এল বাসেট
আবদুল রশিদ সুফি
আব্দুল্লাহ্ বাস্ফার
আবদুল্লাহ আল-জুহানী
আলী আল-হুদায়েফি
আলী জাবের
ফারেস আব্বাদ
মাহের আলমাইকুলই
মোহাম্মদ আইয়ুব
মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
মুহাম্মাদ জিব্রীল
আল-মিনশাবি
আল হোসারি
মিশারী আল-আফসী
নাসের আল কাতামি
ইয়াসের আল-দোসারি
Please remember us in your sincere prayers



