কোরান সূরা শুআরা আয়াত 14 তাফসীর
﴿وَلَهُمْ عَلَيَّ ذَنبٌ فَأَخَافُ أَن يَقْتُلُونِ﴾
[ الشعراء: 14]
আমার বিরুদ্ধে তাদের অভিযোগ আছে। অতএব আমি আশংকা করি যে, তারা আমাকে হত্যা করবে। [সূরা শুআরা: 14]
Surah Ash-Shuara in Banglaজহুরুল হক সূরা বাংলা Surah Shuara ayat 14
''আর আমার বিরুদ্ধে এক অপরাধ তাদের তত্ত্বাবধানে রয়েছে, সেজন্য আমি ভয় করি যে তারা আমাকে কাতল করবে।’’
Tafsir Mokhtasar Bangla
১৪. উপরন্তু কিবতীকে মারার দরুন আমার প্রতি তাদের অপরাধের অভিযোগও রয়েছে। তাই আমার ভয় হচ্ছে যে, তারা আমাকে হত্যা করবে।
Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান
আমার বিরুদ্ধে ওদের এক অভিযোগ আছে, আমি আশংকা করি, ওরা আমাকে হত্যা করবে।’[১] [১] এখানে ইঙ্গিত করা হয়েছে ঐ হত্যার প্রতি, যা মূসা ( আঃ ) কর্তৃক অনিচ্ছাকৃতভাবে হয়ে গিয়েছিল। যাকে হত্যা করা হয়েছিল সে ছিল কিবতী; ফিরআউনের দলের লোক। সেই কারণে ফিরআউন মূসা ( আঃ )-কে তার প্রতিশোধে হত্যা করতে চাচ্ছিল। যার সংবাদ পেয়ে মূসা ( আঃ ) মিসর ছেড়ে মাদয়্যান চলে যান। যদিও উক্ত ঘটনার পর বেশ কয়েক বছর কেটে গিয়েছিল। তবুও এ আশঙ্কা ছিল যে, ফিরআউন সেই অপরাধে তাঁকে ধরে হত্যার শাস্তি দেওয়ার চেষ্টা করবে। সেই কারণে এই ভয়ও অযথা ছিল না।
Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স
‘আর আমার বিরুদ্ধে তো তাদের এক অভিযোগ আছে, সুতরাং আমি আশংকা করছি যে, তারা আমাকে হত্যা করবে।’
Tafsir ibn kathir bangla তাফসীর ইবনে কাসীর
১০-২২ নং আয়াতের তাফসীরআল্লাহ তা'আলা স্বীয় বান্দা এবং রাসূল হযরত মূসা কালীমুল্লাহ ( আঃ )-কে যে নির্দেশ দিয়েছিলেন এখানে তিনি তারই বর্ণনা দিচ্ছেন। তুর পাহাড়ের ডান দিক হতে আল্লাহ তা'আলা তাঁকে ডাক দেন, তাঁর সাথে কথা বলেন এবং তাকে নিজের রাসূল ও মনোনীত বান্দারূপে নির্বাচন করেন। তাঁকে তিনি ফিরাউনের নিকট প্রেরণ করেন, যে ছিল চরম অত্যাচারী বাদশাহ। তার মধ্যে আল্লাহর ভয় মোটেই ছিল না। হযরত মূসা ( আঃ ) মহান আল্লাহর নিকট স্বীয় দুর্বলতার কথা প্রকাশ করেন এবং তা তার পক্ষ থেকে দূর করে দেয়া হয়। যেমন সূরায়ে। তোয়-হায় তাঁর প্রার্থনার পরে বলা হয়ঃ ( আরবি ) অর্থাৎ “ হে । মূসা ( আঃ )! তোমার প্রার্থিত জিনিস তোমাকে দিয়ে দেয়া হলো।” ( ২০: ৩৬ ) এখানে তিনি তাঁর ওজর বর্ণনা করে বলেনঃ “ আমার হৃদয় সংকুচিত হয়ে পড়ছে, আমার জিহ্বায় জড়তা রয়েছে । সুতরাং ( আমার বড় ভাই ) হারুন ( আঃ )-কেও আমার সাথে নবী বানিয়ে দিন। আর আমি তাদেরই মধ্য হতে একজন কিবতীকে বিনা দোষে মেরে ফেলেছিলাম। ঐ কারণে আমি মিসর ছেড়েছিলাম। তাই এখন আমার ভয় হচ্ছে যে, তারা হয়তো আমাকে হত্যা করে ফেলবে।” জবাবে মহান আল্লাহ তাঁকে বললেনঃ “ ভয়ের কোন কারণ নেই । তোমার ভাইকে আমি তোমার সঙ্গী বানিয়ে দিলাম এবং তোমাদেরকে উজ্জ্বল দলীল প্রদান করলাম। সুতরাং তারা তোমাদের কোনই ক্ষতি করতে পারবে না। তোমরা ও তোমাদের অনুসারীরা জয়যুক্ত হবে। তোমরা আমার নিদর্শনগুলো নিয়ে তার কাছে যাও এবং তাকে বুঝাতে থাকো। তোমাদের সাথে আমার সাহায্য রয়েছে। তোমাদের ও তাদের সব কথাই আমি শুনতে থাকবে এবং তোমাদের সবকিছুই আমি দেখতে থাকবো। আমার হিফাযত, সাহায্য-সহানুভূতি এবং পৃষ্ঠপোষকতা তোমাদের সাথে রইলো। কাজেই তোমরা উভয়ে ফিরাউনের কাছে গিয়ে বল, আমরা জগতসমূহের প্রতিপালকের রাসূলরূপে তোমার নিকট প্রেরিত হয়েছি।” যেমন অন্য আয়াতে রয়েছেঃ ( আরবি ) অর্থাৎ “ আমরা দু’জন তোমার প্রতিপালকের রাসূল ।” ( ২০: ৪৭ ) আল্লাহ তাদেরকে আরো বলতে বললেনঃ বানী ইসরাঈলকে আমাদের সাথে পাঠিয়ে দাও। তারা আল্লাহর মুমিন বান্দা। তুমি তাদেরকে তোমার দাস বানিয়ে রেখেছে এবং তাদের অবস্থা করেছো অত্যন্ত শোচনীয়। তুমি তাদের দ্বারা লাঞ্ছনার সাথে সেবার কাজ করিয়ে নিচ্ছ এবং তাদেরকে বিভিন্ন প্রকারের শাস্তি দিচ্ছ। এখন তুমি তাদেরকে আযাদ করে দিয়ে আমাদের সাথে পাঠিয়ে দাও।হযরত মূসা ( আঃ )-এর এ পয়গাম ফিরাউন অত্যন্ত তুচ্ছ জ্ঞানে শুনলো এবং তাকে ধমকের সুরে বললোঃ আমরা কি তোমাকে শৈশবে আমাদের মধ্যে প্রতিপালন করিনি? এবং তুমি তো তোমার জীবনের বহু বছর আমাদের মধ্যে কাটিয়েছে। আর তুমি আমাকে এর প্রতিদান এই দিয়েছে যে, আমাদের একটি লোককে হত্যা করেছো। তুমি বড়ই অকৃতজ্ঞ। তার একথার জবাবে হযরত মূসা ( আঃ ) তাকে বললেনঃ “ আমি তো এটা করেছিলাম । তখন যখন আমি অজ্ঞ ছিলাম এবং ওটা ছিল আমার নবুওয়াত প্রাপ্তির পূর্বের ঘটনা।” হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ ( রাঃ )-এর কিরআতে( আরবি ) -এর স্থলে ( আরবি ) রয়েছে। হযরত মূসা ( আঃ ) বললেনঃ ঐ যুগ চলে গেছে, এখন অন্য যুগ এসেছে। আল্লাহ তা'আলা আমাকে রাসূল করে তোমার নিকট পাঠিয়েছেন। এখন যদি তুমি আমার কথা মেনে নাও তবে তুমি শান্তি লাভ করবে। আর যদি আমাকে অবিশ্বাস কর তবে নিঃসন্দেহে তুমি ধ্বংস হয়ে যাবে। আমি যে ভুল করেছিলাম ওর পর তোমাদের ভয়ে পালিয়ে গিয়েছিলাম। এরপর আমার প্রতি আল্লাহ এই অনুগ্রহ করেছেন। সুতরাং এখন পুরাতন কথার উল্লেখ না করে আমার দাওয়াত কবুল করে নাও। জেনে রেখো যে, তুমি আমার একার প্রতি একটা অনুগ্রহ। করেছিলে বটে, কিন্তু আমার কওমের উপর তুমি যুলুম ও বাড়াবাড়ি করেছে। তাদেরকে তুমি অন্যায়ভাবে গোলাম বানিয়ে রেখেছে। আমার সাথে তুমি যে। সদাচরণ করেছে এবং আমার কওমের প্রতি যে অন্যায়াচরণ করেছো দুটো কি সমান হবে?
সূরা শুআরা আয়াত 14 সূরা
| English | Türkçe | Indonesia |
| Русский | Français | فارسی |
| تفسير | Urdu | اعراب |
বাংলায় পবিত্র কুরআনের আয়াত
- আল্লাহ বললেনঃ বের হয়ে যা, এখান থেকে। কারণ, তুই অভিশপ্ত।
- যখন যাদুকররা আগমণ করল, তখন ফেরআউনকে বলল, যদি আমরা বিজয়ী হই, তবে আমরা পুরস্কার পাব
- এবং আমাকে পরবর্তীদের মধ্যে সত্যভাষী কর।
- এর গুচ্ছ শয়তানের মস্তকের মত।
- বলুন, যারা পথভ্রষ্টতায় আছে, দয়াময় আল্লাহ তাদেরকে যথেষ্ট অবকাশ দেবেন; এমনকি অবশেষে তারা প্রত্যক্ষ করবে
- অতঃপর তারা উষ্ট্রীকে হত্যা করল এবং স্বীয় প্রতিপালকের আদেশ অমান্য করল। তারা বললঃ হে ছালেহ,
- এবং আমার জিহবা থেকে জড়তা দূর করে দিন।
- তোমাদের মধ্যে যারা উচ্চমর্যাদা ও আর্থিক প্রাচুর্যের অধিকারী, তারা যেন কসম না খায় যে, তারা
- যখন তোমাদের দুটি দল সাহস হারাবার উপক্রম হলো, অথচ আল্লাহ তাদের সাহায্যকারী ছিলেন, আর আল্লাহর
- এই কোরআন এমন পথ প্রদর্শন করে, যা সর্বাধিক সরল এবং সৎকর্ম পরায়ণ মুমিনদেরকে সুসংবাদ দেয়
বাংলায় কোরআনের সূরা পড়ুন :
সবচেয়ে বিখ্যাত কোরআন তেলাওয়াতকারীদের কণ্ঠে সূরা শুআরা ডাউনলোড করুন:
সূরা Shuara mp3 : উচ্চ মানের সাথে সম্পূর্ণ অধ্যায়টি Shuara শুনতে এবং ডাউনলোড করতে আবৃত্তিকারকে বেছে নিন
আহমেদ আল-আজমি
ইব্রাহীম আল-আখদার
বান্দার বেলাইলা
খালিদ গালিলি
হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
খলিফা আল টুনাইজি
সাদ আল-গামদি
সৌদ আল-শুরাইম
সালাহ বুখাতীর
আবদ এল বাসেট
আবদুল রশিদ সুফি
আব্দুল্লাহ্ বাস্ফার
আবদুল্লাহ আল-জুহানী
আলী আল-হুদায়েফি
আলী জাবের
ফারেস আব্বাদ
মাহের আলমাইকুলই
মোহাম্মদ আইয়ুব
মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
মুহাম্মাদ জিব্রীল
আল-মিনশাবি
আল হোসারি
মিশারী আল-আফসী
নাসের আল কাতামি
ইয়াসের আল-দোসারি
Please remember us in your sincere prayers



