কোরান সূরা সাদ আয়াত 2 তাফসীর
﴿بَلِ الَّذِينَ كَفَرُوا فِي عِزَّةٍ وَشِقَاقٍ﴾
[ ص: 2]
বরং যারা কাফের, তারা অহংকার ও বিরোধিতায় লিপ্ত। [সূরা সাদ: 2]
Surah Saad in Banglaজহুরুল হক সূরা বাংলা Surah Sad ayat 2
কিন্ত যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তারা আত্মাভিমানে ও দলপাকানোয় মগ্ন রয়েছে।
Tafsir Mokhtasar Bangla
২. কিন্তু কাফিররা আল্লাহর একত্ববাদের ক্ষেত্রে ভÐামী ও অহংকার এবং নবী ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) এর সাথে বিরুদ্ধাচরণ ও শত্রæতায় লিপ্ত থাকে।
Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান
কিন্তু অবিশ্বাসীরা ঔদ্ধত্য ও বিরোধিতায় ডুবে আছে। [১] [১] অর্থাৎ, এই কুরআন অবশ্যই সন্দেহমুক্ত এবং এর দ্বারা যারা শিক্ষা অর্জন করতে চায় তাদের জন্য নসীহত। তবে এর দ্বারা কাফেরদের কোন উপকার হয় না। কারণ তাদের মনে অহংকার ও গর্ব আছে এবং অন্তরে আছে শত্রুতা ও বিরোধিতা। عِزَّة -শব্দটির অর্থ হয়ঃ সত্যের বিরুদ্ধে ঔদ্ধত্য প্রকাশ করা।
Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স
বরং কাফিররা ঔদ্ধত্য ও বিরোধিতায় নিপতিত আছে।
Tafsir ibn kathir bangla তাফসীর ইবনে কাসীর
১-৩ নং আয়াতের তাফসীর: হুরফে মুকাত্তা'আত যেগুলো সূরাসমূহের শুরুতে এসে থাকে, ওগুলোর পূর্ণ তাফসীর সূরায়ে বাকারার শুরুতে গত হয়েছে। এখানে মহান আল্লাহ কুরআন কারীমের শপথ করেছেন এবং ওকে শিক্ষা ও উপদেশপূর্ণ বলেছেন। কেননা এর কথার উপর আমলকারীদের দ্বীন ও দুনিয়া সুন্দর ও কল্যাণময় হয়ে থাকে। অন্য আয়াতে রয়েছেঃ ( আরবী ) অর্থাৎ “ অবশ্যই আমি তোমাদের উপর কিতাব ( কুরআন ) অবতীর্ণ করেছি যার মধ্যে তোমাদের জন্যে উপদেশ রয়েছে ।”( ২১:১০ ) ভাবার্থ এটাও যে, কুরআন ইযযত, সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী। কারো কারো মতে কসমের উত্তর হলো ...
( আরবী ) অর্থাৎ “ প্রত্যেকেই রাসূলদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে ।” ( ৩৮:১৪ ) কেউ কেউ বলেন যে, কসমের জবাব হলোঃ ( আরবী ) অর্থাৎ “ নিশ্চয়ই ওটা সত্য ।” ( ৩৮:৬৪ ) কিন্তু এটা খুব সঠিক বলে মনে হচ্ছে না। কাতাদা ( রঃ ) বলেন যে, এর জবাব হলো এর পরবর্তী আয়াতটি। ইমাম ইবনে জারীর ( রঃ ) এটাকেই পছন্দ করেছেন। কোন কোন আরবী ভাষাবিদ বলেছেন যে, এই কসমের জবাব হলো ( আরবী ) এবং এর অর্থ হলো সভ্যতা। একটি উক্তি এও আছে যে, সম্পূর্ণ সূরাটির সারমর্মই হলো এই কসমের জবাব। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলাই সবচেয়ে ভাল জানেন।এরপর মহান আল্লাহ বলেনঃ এই কুরআন তো হলো সরাসরি শিক্ষা ও উপদেশ। কিন্তু এর দ্বারা উপকার শুধু সেই লাভ করতে পারে যার অন্তরে ঈমান রয়েছে। কাফির লোকেরা এটা হতে উপকার লাভে বঞ্চিত থাকে। কেননা, তারা অহংকারী এবং এর চরম বিরোধী। তাদের উচিত তাদের ন্যায় পূর্ববর্তী লোকদের পরিণাম চিন্তা করা এবং নিজেদের পরিণাম সম্পর্কে ভীত-সন্ত্রস্ত থাকা। পূর্ববর্তী উম্মতদেরকে এরূপই অপরাধের কারণে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। আল্লাহর আযাব এসে যাওয়ার পর তারা খুব কান্নাকাটি করেছিল। কিন্তু ঐ সময় সবই বৃথা হয়েছিল। যেমন আল্লাহ পাক বলেনঃ ....
( আরবী ) অর্থাৎ “ যখন তারা আমার আযাব অনুভব করলো তখন তা থেকে বাঁচতে ও পালাতে ইচ্ছা করলো, কিন্তু তা কিরূপে সম্ভব ছিল?” ( ২১:১২ ) হযরত ইবনে আব্বাস ( রাঃ ) বলেন যে, এখন পালাবারও সময় নয় এবং ফরিয়াদেরও সময় নয় । তখন ফরিয়াদ কেউ শুনবে না এবং কিছু উপকারও করতে পারবে না। যতই কান্নাকাটি ও চীৎকার করুক না কেন সবই বিফল হবে। ঐ সময় তাওহীদকে স্বীকার করলেও কোন লাভ হবে না এবং তাওবা করেও কোন উপকার হবে না। এটা হবে অসময়ের চীৎকার ও কান্না। এখানে ( আরবী ) শব্দটি ( আরবী )-এর অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এখানে ( আরবী ) টি অতিরিক্ত। যেমন ( আরবী ) কে ( আরবী ) এবং ( আরবী ) কে বলা হয়ে থাকে। এই দুই স্থানেও ( আরবী ) টি অতিরিক্ত।ইমাম ইবনে জারীর ( রঃ )-এর উক্তি এই যে, এই ( আরবী ) টি ( আরবী )-এর সাথে মিলিত রয়েছে। অর্থাৎ ( আরবী ) হবে। কিন্তু প্রথম উক্তিটিই সমধিক খ্যাত। জমহুর ( আরবী )-কে যবরের সাথে পড়েছেন। ভাবার্থ হলোঃ এটা আক্ষেপ ও হা-হুতাশ করার সময় নয়। কেউ কেউ ( আরবী )-কে যের দিয়ে পড়াকেও বৈধ বলেছেন। ভাষাবিদরা বলেন যে, ( আরবী )-এর অর্থ হলো পিছনে সরে আসা এবং ( আরবী ) বলা হয় সম্মুখে অগ্রসর হওয়াকে। সুতরাং অর্থ হলোঃ এটা পালাবার ও বের হয়ে যাবার সময় নয়। এসব ব্যাপারে সঠিক জ্ঞানের অধিকারী একমাত্র আল্লাহ।
সূরা সাদ আয়াত 2 সূরা
| English | Türkçe | Indonesia |
| Русский | Français | فارسی |
| تفسير | Urdu | اعراب |
বাংলায় পবিত্র কুরআনের আয়াত
- আর আমি যখন তোমাদের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিয়েছিলাম এবং তুর পর্বতকে তোমাদের মাথার উপর তুলে
- সে বললঃ তোমরা স্বহস্ত নির্মিত পাথরের পূজা কর কেন?
- তোমরা কি মনে কর যে, তোমাদের ছেড়ে দেয়া হবে এমনি, যতক্ষণ না আল্লাহ জেনে নেবেন
- অতএব, যার ইচ্ছা, সে একে স্মরণ করুক।
- আপনি কিছুকালের জন্যে তাদেরকে উপেক্ষা করুন।
- কোন কাজে আসেনি তার ধন-সম্পদ ও যা সে উপার্জন করেছে।
- আর তোমরা উপরে উঠে যাচ্ছিলে এবং পেছন দিকে ফিরে তাকাচ্ছিলে না কারো প্রতি, অথচ রসূল
- তিনি আপনাকে পেয়েছেন পথহারা, অতঃপর পথপ্রদর্শন করেছেন।
- যখন আমি ইব্রাহীমকে বায়তুল্লাহর স্থান ঠিক করে দিয়েছিলাম যে, আমার সাথে কাউকে শরীক করো না
- কিতাবীদের মধ্যে যারা কাফেরদের পৃষ্টপোষকতা করেছিল, তাদেরকে তিনি তাদের দূর্গ থেকে নামিয়ে দিলেন এবং তাদের
বাংলায় কোরআনের সূরা পড়ুন :
সবচেয়ে বিখ্যাত কোরআন তেলাওয়াতকারীদের কণ্ঠে সূরা সাদ ডাউনলোড করুন:
সূরা Sad mp3 : উচ্চ মানের সাথে সম্পূর্ণ অধ্যায়টি Sad শুনতে এবং ডাউনলোড করতে আবৃত্তিকারকে বেছে নিন
আহমেদ আল-আজমি
ইব্রাহীম আল-আখদার
বান্দার বেলাইলা
খালিদ গালিলি
হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
খলিফা আল টুনাইজি
সাদ আল-গামদি
সৌদ আল-শুরাইম
সালাহ বুখাতীর
আবদ এল বাসেট
আবদুল রশিদ সুফি
আব্দুল্লাহ্ বাস্ফার
আবদুল্লাহ আল-জুহানী
আলী আল-হুদায়েফি
আলী জাবের
ফারেস আব্বাদ
মাহের আলমাইকুলই
মোহাম্মদ আইয়ুব
মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
মুহাম্মাদ জিব্রীল
আল-মিনশাবি
আল হোসারি
মিশারী আল-আফসী
নাসের আল কাতামি
ইয়াসের আল-দোসারি
Please remember us in your sincere prayers



