কোরান সূরা আনআম আয়াত 22 তাফসীর
﴿وَيَوْمَ نَحْشُرُهُمْ جَمِيعًا ثُمَّ نَقُولُ لِلَّذِينَ أَشْرَكُوا أَيْنَ شُرَكَاؤُكُمُ الَّذِينَ كُنتُمْ تَزْعُمُونَ﴾
[ الأنعام: 22]
আর যেদিন আমি তাদের সবাইকে একত্রিত করব, অতঃপর যারা শিরক করেছিল, তাদের বলবঃ যাদেরকে তোমরা অংশীদার বলে ধারণা করতে, তারা কোথায়? [সূরা আনআম: 22]
Surah Al-Anam in Banglaজহুরুল হক সূরা বাংলা Surah Anam ayat 22
আর একদিন আমরা তাদের সবাইকে একত্রিত করবো, তারপর যারা অংশীদার নিযুক্ত করেছিল তাদের বলবো -- ''কোথায় আছে তোমাদের সেইসব অনুসঙ্গী দেবতারা যাদের তোমরা তুলে ধরেছিলে?’’
Tafsir Mokhtasar Bangla
২২. আপনি কিয়ামতের দিনের কথা স্মরণ করুন যখন আমি ওদের সবাইকে একত্রিত করবো। তাদের কাউকেই ছাড়বো না। অতঃপর আমি আল্লাহর সাথে অন্যের ইবাদাতকারীদেরকে তিরস্কার করে বলবো: আজ তোমাদের সেই মিথ্যা দাবিকৃত শরীকরা কোথায় যারা তোমাদের ধারণায় নিশ্চিত আল্লাহর শরীক?!
Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান
এবং ( স্মরণ কর ) যেদিন তাদের সকলকে একত্র করব, অতঃপর অংশীবাদীদেরকে বলব, ‘যাদেরকে তোমরা ( আমার ) অংশী মনে করতে তারা ( আজ ) কোথায়?’
Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স
আর স্মরণ করুণ,যেদিন আমারা তাদের সবাইকে একত্র করব,তারপর যারা শির্ক করেছে তাদেরকে বলব, ‘যাদেরকে তোমারা আমার শরীক মনে করতে,তারা কোথায় [ ১ ] ?’ [ ১ ] এখানে একটি সর্ববৃহৎ পরীক্ষার কথা বর্ণিত হয়েছে যা হাশরের ময়দানে আল্লাহ রাববুল আলামীন-এর সামনে অনুষ্ঠিত হবে। বলা হয়েছে ঐ দিনটিও স্মরণ যোগ্য, যেদিন আমরা সবাইকে অর্থাৎ মুশরিক ও তাদের তৈরী করা উপাস্যসমূহকে একত্রিত করব। অতঃপর আমরা তাদেরকে প্রশ্ন করব যে, তোমরা যেসব উপাস্যকে আমার অংশীদার, স্বীয় স্বীয় অভাব পূরণকারী ও বিপদ বিদূরণকারী মনে করতে, আজ তারা কোথায়? তারা তোমাদের সাহায্য করে না কেন? হাশরের মাঠে একত্রিত সবাই তখন তারা সে সব উপাস্যদের থেকে নিজদেরকে বিমুক্ত ঘোষণা করবে এবং বলবে, আল্লাহর শপথ আমরা তো মুশরিকই ছিলাম না। এভাবে তারা বাতিল ও মিথ্যা কথা বলবে এবং ওযর-আপত্তি পেশ করতে চেষ্টা করবে। [ তাবারী, কুরতুবী, মুয়াসসার, আইসারুত তাফসীর ]
Tafsir ibn kathir bangla তাফসীর ইবনে কাসীর
২২-২৬ নং আয়াতের তাফসীর: এখানে আল্লাহ তা'আলা মুশরিকদের সম্পর্কে সংবাদ দিচ্ছেন- আমি যখন কিয়ামতের দিন তাদেরকে একত্রিত করবো তখন তাদেরকে ঐসব প্রতিমা সম্বন্ধে জিজ্ঞাসাবাদ করবো আল্লাহকে ছেড়ে তারা যেগুলোর উপাসনা করতো। তিনি বলবেন, আল্লাহ তাআলার সাথে তোমরা যেসব প্রতিমাকে শরীক করতে সেগুলো আজ কোথায়? আল্লাহ পাক বলেনঃ ( আরবী ) অর্থাৎ, তাদের ওযর-আপত্তি ও দলীল শুধুমাত্র এতটুকুই হবে যে, তারা বলবে-আল্লাহর কসম! আমরা মুশরিক ছিলাম না। হযরত ইবনে আব্বাস ( রাঃ ) হতে বর্ণিত আছে যে, তাঁর কাছে একটি লোক এসে বললো, হে ইবনে আব্বাস ( রাঃ )! আপনি তো শুনেছেন যে, আল্লাহ তাআলা বলেছেন-( আরবী ) অর্থাৎ, আল্লাহর কসম! আমরা মুশরিক ছিলাম না। কিন্তু এটা কিভাবে হবে? তখন তিনি বললেন, যখন মুশরিকরা দেখবে যে, নামাযী ছাড়া আর কেউ জান্নাতে প্রবেশ করছে না তখন তারা পরস্পর বলাবলি করবে- এসো আমরা শিরক করাকে অস্বীকার করি।' একথা বলে তারা নিজেদের মুশরিক হওয়াকে অস্বীকার করে বসবে। তখন আল্লাহ পাক তাদের মুখে মোহর লাগিয়ে দিবেন। অতঃপর তাদের হাত পা তাদের মুশরিক হওয়ার সাক্ষ্য দিতে থাকবে, ফলে তারা কোন কথাই আর গোপন করতে পারবে না। হে প্রশ্নকারী! সুতরাং এখন তো তোমার মনে কোন সন্দেহ রইলো না যে, কুরআন কারীমে এমন কোন কথা। অবশিষ্ট নেই যা খুলে খুলে বলার অপেক্ষা রাখে। কিন্তু তুমি বুঝতে পার না এবং ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করতেও সক্ষম নও। হযরত ইবনে আব্বাস ( রাঃ ) বলেন যে, এই আয়াতটি মুনাফিকদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছিল। কিন্তু এখানে সন্দেহের উদ্রেক হচ্ছে যে, এই আয়াতটি তো মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছিল, আর মক্কায় আবার মুনাফিক ছিল কোথায়? মদীনায় ইসলাম সাধারণভাবে গৃহীত হওয়ার পরে তো তাদের দল সৃষ্টি হয়। মুনাফিকদের ব্যাপারে যে আয়াত অবতীর্ণ হয় তা হচ্ছে আয়াতে মুজাদালাহ। তা হচ্ছে-( আরবী ) অর্থাৎ “ যেই দিন আল্লাহ তাদেরকে একত্রিত করবেন ( অর্থাৎ কিয়ামতের দিন ), সেই দিন তারা আল্লাহর নামে কসম খেয়ে খেয়ে বর্ণনা করতে থাকবে ।” ( ৫৮:১৮ ) অনুরূপভাবে আল্লাহ পাক এখানে ঐ লোকদের সম্পর্কে বলেছেনঃ ( আরবী ) অর্থাৎ লক্ষ্য কর, তারা নিজেদের সম্পর্কে কিরূপ মিথ্যা বলছে! তখন যাদেরকে তারা মিথ্যা মা’দ মনোনীত করেছিল, তারা সবাই নিরুদ্দেশ হয়ে যাবে।ইরশাদ হচ্ছে-তাদের মধ্যে এমন লোকও রয়েছে যারা মনোযোগ সহকারে কান লাগিয়ে তোমার ( মুহাম্মাদ সঃ ) কথা শুনে থাকে, কিন্তু তাদের দুষ্কর্মের কারণে যাতে তারা তোমার কথা ভালরূপে বুঝতে না পারে সে জন্যে আমি তাদের অন্তরের উপর আবরণ রেখে দিয়েছি এবং তাদের কানে বধিরতা রেখেছি, যাতে তারা শুনতে না পায়, তারা যদি সমস্ত আয়াত ও প্রমাণাদিও অবলোকন করে তথাপি তারা ঈমান আনবে না। তারা অহী শুনবার জন্যে এসে থাকে, কিন্তু এই শ্রবণে তাদের কোনই উপকার হয় না। যেমন আল্লাহ তা'আলা অপর এক জায়গায় বলেছেন, তাদের দৃষ্টান্ত সেই চতুষ্পদ জন্তুর ন্যায় যে তার রাখালের শব্দ ও ডাক শুনে বটে, কিন্তু অর্থ কিছুই বুঝে না। অতঃপর মহান আল্লাহ বলেন যে, তারা দলীল প্রমাণাদি অবলোকন করে থাকে বটে, কিন্তু তাদের না আছে কোন বিবেক বুদ্ধি এবং না তারা ন্যায়পরায়ণতার সাথে কাজ করে থাকে, সুতরাং তারা ঈমান আনবে কিরূপে? এরপর আল্লাহ তা'আলা রাসূলুল্লাহ ( সঃ )-কে সম্বোধন করে বলেনঃ যদি তাদের মধ্যে কল্যাণ লাভের সামর্থ্য থাকতো তবে আল্লাহ তাদেরকে শুনার তাওফীক দিতেন। আর যখন তারা তোমার কাছে আসে তখন তর্ক বিতর্কে লিপ্ত হয়ে যায় এবং বাতিল ও অযৌক্তিক কথা পেশ করতঃ সত্যকে লোপ করে দেয়ার চেষ্টা করে। তারা বলে- হে মুহাম্মাদ ( সঃ )! যেসব কথা আপনি অহীর নাম দিয়ে পেশ করছেন ওগুলো তো পূর্ববর্তী লোকদের কাহিনী ছাড়া আর কিছুই নয়। তারা জনগণকে নবী ( সঃ )-এর সাথে যোগাযোগ করতে বাধা প্রদান করে এবং তারা নিজেরাও দূরে সরে থাকে।( আরবী ) -এর তাফসীরে দু'টি উক্তি রয়েছে। একটি হচ্ছে যে, তারা জনগণকে সত্যের অনুসরণ, রাসূলুল্লাহ ( সঃ )-এর সত্যতা স্বীকারকরণ এবং কুরআন কারীমের অনুসরণ হতে বিরত রাখে এবং নিজেরাও এগুলো থেকে দুরে সরে থাকে। তারা যেন দু'টি খারাপ করে থাকে। তা হল এই যে, তারা না নিজেরা উপকৃত হয়, না অন্যদেরকে উপকার লাভ করতে দেয়। দ্বিতীয় উক্তি হল এই যে, ( আরবী ) -এর ভাবার্থ হল-জনগণ রাসূলুল্লাহ ( সঃ )-কে কষ্ট দেয়ার চেষ্টা করলে আবু তালিব তাদেরকে বাধা দিতেন। সেই সম্পর্কেই এই আয়াত অবতীর্ণ হয়। সাঈদ ইবনে আবূ হিলাল বলেন যে, রাসূলুল্লাহ ( সঃ )-এর দশজন চাচা সম্পর্কে এই আয়াত অবতীর্ণ হয়। তারা সবাই লোকদেরকে তাঁকে হত্যা করা থেকে বাধা প্রদান করতো বটে, কিন্তু বড়ই দুঃখের বিষয় এই যে, তারা নিজেরা ঈমানের বরকত লাভ থেকে বঞ্চিত থাকতেন। সুতরাং তাঁরা ছিলেন বাহ্যতঃ তাঁর প্রতি সহানুভূতিশীল, কিন্তু ভিতরে ছিলেন তাঁর বিরুদ্ধাচরণকারী। এর পর ইরশাদ হচ্ছে যে, তারা নির্বুদ্ধিতা বশতঃ নিজেদেরকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। তারা এ কথাটা মোটেই বুঝছে না যে, তারা নিজেরাই নিজেদের ক্ষতি ও ধ্বংস টেনে আনছে!
সূরা আনআম আয়াত 22 সূরা
| English | Türkçe | Indonesia |
| Русский | Français | فارسی |
| تفسير | Urdu | اعراب |
বাংলায় পবিত্র কুরআনের আয়াত
- অপরাধীরা আগুন দেখে বোঝে নেবে যে, তাদেরকে তাতে পতিত হতে হবে এবং তারা তা থেকে
- এবং সুলায়মানের অধীন করে দিয়েছিলাম প্রবল বায়ুকে; তা তাঁর আদেশে প্রবাহিত হত ঐ দেশের দিকে,
- অথচ আমরা মনে করতাম, মানুষ ও জিন কখনও আল্লাহ তা’আলা সম্পর্কে মিথ্যা বলতে পারে না।
- আর আছে খোসাবিশিষ্ট শস্য ও সুগন্ধি ফুল।
- সে সকলকে সমবেত করল এবং সজোরে আহবান করল,
- তাদেরকে বলা হবেঃ তোমরা যা করতে তার প্রতিফলস্বরূপ তোমরা তৃপ্ত হয়ে পানাহার কর।
- কিন্তু শুনবে সালাম আর সালাম।
- নিশ্চয় মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত;
- স্মরণ কর লূতের কথা, তিনি তাঁর কওমকে বলেছিলেন, তোমরা কেন অশ্লীল কাজ করছ? অথচ এর
- মহিলা বললঃ এ ঐ ব্যক্তি, যার জন্যে তোমরা আমাকে ভৎর্সনা করছিলে। আমি ওরই মন জয়
বাংলায় কোরআনের সূরা পড়ুন :
সবচেয়ে বিখ্যাত কোরআন তেলাওয়াতকারীদের কণ্ঠে সূরা আনআম ডাউনলোড করুন:
সূরা Anam mp3 : উচ্চ মানের সাথে সম্পূর্ণ অধ্যায়টি Anam শুনতে এবং ডাউনলোড করতে আবৃত্তিকারকে বেছে নিন
আহমেদ আল-আজমি
ইব্রাহীম আল-আখদার
বান্দার বেলাইলা
খালিদ গালিলি
হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
খলিফা আল টুনাইজি
সাদ আল-গামদি
সৌদ আল-শুরাইম
সালাহ বুখাতীর
আবদ এল বাসেট
আবদুল রশিদ সুফি
আব্দুল্লাহ্ বাস্ফার
আবদুল্লাহ আল-জুহানী
আলী আল-হুদায়েফি
আলী জাবের
ফারেস আব্বাদ
মাহের আলমাইকুলই
মোহাম্মদ আইয়ুব
মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
মুহাম্মাদ জিব্রীল
আল-মিনশাবি
আল হোসারি
মিশারী আল-আফসী
নাসের আল কাতামি
ইয়াসের আল-দোসারি
Please remember us in your sincere prayers



