কোরান সূরা নাযি'আত আয়াত 23 তাফসীর
﴿فَحَشَرَ فَنَادَىٰ﴾
[ النازعات: 23]
সে সকলকে সমবেত করল এবং সজোরে আহবান করল, [সূরা নাযি'আত: 23]
Surah An-Naziat in Banglaজহুরুল হক সূরা বাংলা Surah Naziat ayat 23
তারপর সে জড়ো করল এবং ঘোষণা করলো,
Tafsir Mokhtasar Bangla
২৩. উপরন্তু সে মূসা ( আলাইহিস-সালাম ) কে পরাজিত করার উদ্দেশ্যে তার বাহিনীকে এ বলে ডাক দিয়ে সমবেত করলো যে,
Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান
সে সকলকে সমবেত করল এবং উচ্চ স্বরে ঘোষণা করল।[১] [১] নিজের সম্প্রদায়কে অথবা যুদ্ধ ও লড়াই করার জন্য নিজের সৈন্য-সামন্তকে কিংবা যাদুকরদেরকে মুকাবেলা করার জন্য সমবেত করল এবং হঠকারিতা প্রদর্শন করে নিজেকেই সর্বশ্রেষ্ঠ রব ( প্রভু ও প্রতিপালক ) হওয়ার দাবী ঘোষণা করল।
Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স
অতঃপর সে সকলকে সমবেত করে ঘোষণা দিল,
Tafsir ibn kathir bangla তাফসীর ইবনে কাসীর
১৫-২৬ নং আয়াতের তাফসীরআল্লাহ তা'আলা স্বীয় রাসূল মুহাম্মাদ ( সঃ )-কে অবহিত করছেন যে, তিনি তাঁর বান্দা ও রাসূল হযরত মূসা ( আঃ )-কে ফিরাউনের নিকট পাঠিয়েছিলেন এবং মু'জিযা দ্বারা তাকে সাহায্য করেছিলেন। কিন্তু এতদসত্ত্বেও ফিরাউন ঔদ্ধত্য, হঠকারিতা ও কুফরী হতে বিরত হয়নি। অবশেষে তার উপর আল্লাহর আযাব নাযিল হলো এবং সে ধ্বংস হয়ে গেল। মহামহিমান্বিত আল্লাহ স্বীয় নবী ( সঃ )-কে সম্বোধন করে বলেনঃ হে নবী ( সঃ ) তোমার বিরুদ্ধাচরণকারী এবং তোমাকে মিথ্যা প্রতিপন্নকারী কাফিরদেরও অনুরূপ অবস্থা হবে। এজন্যেই এই ঘটনার শেষে বলেনঃ “ যে ভয় করে তার জন্যে অবশ্যই এতে শিক্ষা রয়েছে ।আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা স্বীয় নবী ( সঃ ) কে বলেনঃ তোমার নিকট কি মূসা ( আঃ )-এর বৃত্তান্ত পৌঁছেছে। ঐ সময় হযরত মূসা ( আঃ ) তুওয়া নামক একটি পবিত্র প্রান্তরে ছিলেন। তুওয়া সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা সূরা তোয়াহা' এর মধ্যে গত হয়েছে। আল্লাহ তা'আলা হযরত মূসা ( আঃ )-কে আহ্বান করে বলেনঃ ফিরাউন হঠকারিতা, অহংকার ও সীমালংঘন করেছে। সুতরাং তুমি তার কাছে গমন কর এবং আমার বার্তা তার নিকট পৌঁছিয়ে দাও। তাকে জিজ্ঞেস কর যে, তোমার কথা শুনে সে সরল, সত্য ও পবিত্র পথে পরিচালিত হতে চায় কি না? তাকে তুমি বলবেঃ তুমি যদি আমার কথা শ্রবণ কর ও মান্য কর তবে তুমি পবিত্রতা অর্জন করবে। আমি তোমাকে আল্লাহর ইবাদতের এমন পদ্ধতি সম্পর্কে অবহিত করবো যার ফলে তোমার হৃদয় নরম ও উজ্জ্বল হবে। তোমার অন্তরে বিনয় ও আল্লাহ ভীতি সৃষ্টি হবে। আর তোমার মন হতে কঠোরতা, রূঢ়তা ও নির্মমতা বিদূরিত হয়ে যাবে।হযরত মূসা ( আঃ ) ফিরাউনের কাছে গেলেন, তাকে আল্লাহর বাণী শশানালেন, যুক্তি প্রমাণ উপস্থাপন করলেন এবং নিজের সত্যতার স্বপক্ষে মু'জিযা দেখালেন। কিন্তু ফিরাউনের মনে কুফরী বদ্ধমূল ছিল বলে সে হযরত মূসা ( আঃ )-এর কথা শোনা সত্ত্বেও তার মধ্যে কোন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হলো না। সে বারবার সত্যকে অস্বীকার করে নিজের হঠকারী স্বভাবের উপর অটল রয়ে গেল। হক ও সত্য সুস্পষ্ট হওয়া সত্ত্বেও হতভাগ্য ফিরাউন ঈমান আনতে পারলো না। ফিরাউনের মন জানতো যে, তার কাছে আল্লাহর পয়গাম নিয়ে যিনি এসেছেন তিনি সত্য নবী এবং তাঁর শিক্ষাও সত্য। কিন্তু তার মন জানলেও সে বিশ্বাস করতে পারলো না। জানা এক কথা এবং ঈমান আনয়ন করা অন্য কথা। মন যা জানে তা বিশ্বাস করাই হলো ঈমান, অর্থাৎ সত্যের অনুগত হয়ে যাওয়া এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ( সঃ )-এর কথার প্রতি আমল করার জন্যে আত্মনিয়োগ করা। ফিরাউন সত্য হতে মুখ ফিরিয়ে নিলো এবং সত্যবিরোধী তৎপরতা চালাতে শুরু করলো। সে যাদুকরদেরকে একত্রিত করে তাদের কাছে হযরত মূসা ( আঃ )-কে হেয় প্রতিপন্ন করতে চাইলো। সে স্বগোত্রকে একত্রিত করে তাদের মধ্যে ঘোষণা করলোঃ “ আমিই তোমাদের বড় প্রতিপালক ।" একথা বলার চল্লিশ বছর পূর্বে সে বলেছিলঃ ( আরবি ) অর্থাৎ “ আমি ছাড়া তোমাদের কোন মাবুদ আছে তা আমি জানি না ।” ( ২৮:৩৮ ) এবার তার হঠকারিতা এবং ঔদ্ধত্য একেবারে সীমা ছাড়িয়ে গেল। সে খোলাখুলিভাবে বলে ফেললোঃ “ আমিই তোমাদের মহা প্রভু । আমি সবার উপর বিজয়ী।”“ অতঃপর আল্লাহ, তাকে আখিরাতে ও দুনিয়ায় কঠিন শাস্তি দেন ।” অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলা তাকে এমন শাস্তি দেন যে, তা তার মত আল্লাহ দ্রোহীদের জন্যে চিরকাল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। এটা তো দুনিয়ার ব্যাপার। এছাড়া আখিরাতের শাস্তি এখনো অবশিষ্ট রয়েছে। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ ( আরবি )অর্থাৎ “ আমি তাদেরকে জাহান্নামের দিকে আহ্বানকারী নেতা বানিয়েছি এবং কিয়ামতের দিন তাদেরকে সাহায্য করা হবে না ।” ( ২৮:৪১ ) আয়াতের সঠিক অর্থ এটাই যে, আখিরতি ও উলা দ্বারা দুনিয়া ও আখিরাতকে বুঝানো হয়েছে। কেউ কেউ বলেন যে, এর দ্বারা ফিরাউনের দুইটি উক্তি উদ্দেশ্য। অর্থাৎ তার এ কথা বলাঃ “ আমি ছাড়া তোমাদের কোন মা'বুদ আছে বলে আমার জানা নেই ।” এবং এরপরে বলাঃ “ আমিই তোমাদের শ্রেষ্ঠ প্রতিপালক । আবার অন্য কেউ কেউ বলেন যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো কুফরী ও নাফরমানী। কিন্তু প্রথমটিই সঠিকতম উক্তি। আর এতে কোন সন্দেহ নেই। এতে ঐ লোকদের জন্যে শিক্ষা ও উপদেশ রয়েছে যারা উপদেশ গ্রহণ করে এবং যাদের অন্যায় হতে বিরত থাকার মানসিকতা রয়েছে।
সূরা নাযি'আত আয়াত 23 সূরা
| English | Türkçe | Indonesia |
| Русский | Français | فارسی |
| تفسير | Urdu | اعراب |
বাংলায় পবিত্র কুরআনের আয়াত
- সত্যিকার অধীশ্বর আল্লাহ মহান। আপনার প্রতি আল্লাহর ওহী সম্পুর্ণ হওয়ার পূর্বে আপনি কোরআন গ্রহণের ব্যপারে
- অথচ আল্লাহ তোমাদের শত্রুদেরকে যথার্থই জানেন। আর অভিভাবক হিসাবে আল্লাহই যথেষ্ট এবং সাহায্যকারী হিসাবেও আল্লাহই
- তোমাদের কুফরের কারণে আজ এতে প্রবেশ কর।
- অতএব, দেখ তাদের চক্রান্তের পরিনাম, আমি অবশ্রই তাদেরকে এবং তাদের সম্প্রদায়কে নাস্তনাবুদ করে দিয়েছি।
- এবং তাদেরকে ভয় প্রদর্শন করার জন্যে যারা বলে যে, আল্লাহর সন্তান রয়েছে।
- সে বলল, যদি তুমি কোন নিদর্শন নিয়ে এসে থাক, তাহলে তা উপস্থিত কর যদি তুমি
- না, এটা ঠিক নয়। সে যা বলে আমি তা লিখে রাখব এবং তার শাস্তি দীর্ঘায়িত
- তারা যদি আপনাকে মিথ্যাবাদী বলে, তবে তাদের পূর্বে মিথ্যাবাদী বলেছে কওমে নূহ, আদ, সামুদ,
- আমি মূসাকে কিতাব দিয়েছিলাম, অতঃপর তাতে মতভেদ সৃষ্টি হয়। আপনার পালনকর্তার পক্ষ থেকে পূর্ব সিদ্ধান্ত
- তারা বলেঃ যখন আমরা অস্থিতে পরিণত ও চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে যাব, তখনও কি নতুন করে
বাংলায় কোরআনের সূরা পড়ুন :
সবচেয়ে বিখ্যাত কোরআন তেলাওয়াতকারীদের কণ্ঠে সূরা নাযি'আত ডাউনলোড করুন:
সূরা Naziat mp3 : উচ্চ মানের সাথে সম্পূর্ণ অধ্যায়টি Naziat শুনতে এবং ডাউনলোড করতে আবৃত্তিকারকে বেছে নিন
আহমেদ আল-আজমি
ইব্রাহীম আল-আখদার
বান্দার বেলাইলা
খালিদ গালিলি
হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
খলিফা আল টুনাইজি
সাদ আল-গামদি
সৌদ আল-শুরাইম
সালাহ বুখাতীর
আবদ এল বাসেট
আবদুল রশিদ সুফি
আব্দুল্লাহ্ বাস্ফার
আবদুল্লাহ আল-জুহানী
আলী আল-হুদায়েফি
আলী জাবের
ফারেস আব্বাদ
মাহের আলমাইকুলই
মোহাম্মদ আইয়ুব
মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
মুহাম্মাদ জিব্রীল
আল-মিনশাবি
আল হোসারি
মিশারী আল-আফসী
নাসের আল কাতামি
ইয়াসের আল-দোসারি
Please remember us in your sincere prayers



