কোরান সূরা জিন আয়াত 27 তাফসীর
﴿إِلَّا مَنِ ارْتَضَىٰ مِن رَّسُولٍ فَإِنَّهُ يَسْلُكُ مِن بَيْنِ يَدَيْهِ وَمِنْ خَلْفِهِ رَصَدًا﴾
[ الجن: 27]
তাঁর মনোনীত রসূল ব্যতীত। তখন তিনি তার অগ্রে ও পশ্চাতে প্রহরী নিযুক্ত করেন [সূরা জিন: 27]
Surah Al-Jinn in Banglaজহুরুল হক সূরা বাংলা Surah Jinn ayat 27
রসূলের মধ্যে যাঁকে তিনি মনোনয়ন করেছেন তাঁকে ব্যতীত, সেজন্য নিশ্চয় তিনি তাঁর সামনে ও তাঁর পেছনে প্রহরী নিয়োজিত করেন,
Tafsir Mokhtasar Bangla
২৭. তবে আল্লাহ তাঁর রাসূলদের মধ্যে যাঁকে ইচ্ছা তাঁকে যতটুকু চান অবগত করেন এবং তিনি রাসূলের সামনে ফিরিশতাদেরকে প্রেরণ করেন যারা তাঁকে হেফাজত করেন। যেন রাসূল ব্যতীত অন্য কেউ এ ব্যাপারে অবগত না হতে পারে।
Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান
তাঁর মনোনীত রসূল ব্যতীত।[১] সেই ক্ষেত্রে তিনি রসূলের অগ্রে এবং পশ্চাতে প্রহরী নিয়োজিত করেন। [২] [১] অর্থাৎ, তাঁর পয়গম্বরকে কোন কোন এমন অদৃশ্য বিষয় সম্বন্ধে জ্ঞাত করিয়ে দেন, যার সম্পর্ক তাঁর নবুঅতের দায়িত্বের সাথে থাকে অথবা তা তাঁর নবুঅত সত্য হওয়ার দলীল হয়। আর আল্লাহর জানিয়ে দেওয়াতে পয়গম্বর 'আ-লিমুল গায়ব' হতে পারেন না। কেননা, পয়গম্বর নিজেই যদি অদৃশ্য বিষয়ে জ্ঞাতা হন, তাহলে তাঁকে আল্লাহর জানিয়ে দেওয়ার কোন অর্থ হয় না। মহান আল্লাহ যে সময় অদৃশ্য বিষয় সম্পর্কে কোন রসূলকে অবগত করেন, সেই সময়ের পূর্বে এ বিষয়ে রসূলের কোন কিছুই জানা থাকে না। অতএব কেবল আল্লাহর সত্তাই অদৃশ্য বিষয়ে জ্ঞাতা। এই বিষয়টাকেই এখানে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা হয়েছে। [২] অর্থাৎ, অহী অবতীর্ণ হওয়ার সময় পয়গম্বরের আগে-পিছে ফিরিশতাগণ থাকেন। তাঁরা শয়তান এবং জ্বিনদেরকে অহীর বাণী শোনা হতে বিরত রাখেন।
Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স
তাঁর মনোনীত রাসূল ছাড়া। সে ক্ষেত্রে আল্লাহ্ তাঁর রাসূলের সামনে এবং পিছনে প্রহরী নিয়োজিত করেন [ ১ ], [ ১ ] অর্থাৎ আল্লাহ্ তা‘আলা যখন অহীর মাধ্যমে গায়েবী বিষয়ের কোন জ্ঞান তাঁর হেকমত অনুসারে তাঁর রাসূলের কাছে পাঠান তখন তার রক্ষণাবেক্ষণ ও পাহারাদারীর জন্য চারপাশে প্রহরী মোতায়েন করেন। [ সা‘দী ] আর এখানে প্রহরী বলতে ফেরেশ্তা উদ্দেশ্য। [ ইবন কাসীর ]
Tafsir ibn kathir bangla তাফসীর ইবনে কাসীর
২৫-২৮ নং আয়াতের তাফসীর আল্লাহ তা'আলা স্বীয় রাসূল ( সঃ )-কে সম্বোধন করে বলেনঃ হে নবী ( সঃ )! তুমি জনগণকে বলে দাওঃ কিয়ামত কখন হবে এ জ্ঞান আমার নেই। এমন কি ওর সময় নিকটবর্তী কি দূরবর্তী এটাও আমার জানা নেই। অধিকাংশ মূখ ও অজ্ঞ লোকের মধ্যে যে এটা প্রসিদ্ধ হয়ে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) যমীনের ভিতরের জিনিসেরও খবর রাখেন, এটা যে সম্পূর্ণ ভুল কথা তার প্রকৃষ্ট প্রমাণ হলো এই আয়াতে কারীমাটি। এই রিওয়াইয়াতের কোন মূল ভিত্তিই নেই। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন কথা। আমরা এটা কোন কিতাবে পাইনি। হ্যাঁ, এর বিপরীতটা পরিষ্কারভাবে সাব্যস্ত আছে। রাসূলুল্লাহ ( সঃ )-কে কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার সময় সম্পর্কে যখন জিজ্ঞেস করা হতো তখন তিনি তার না জানার কথা প্রকাশ করতেন। হযরত জিবরাঈল ( আঃ ) গ্রাম্য লোকের রূপ ধরে তার নিকট এসে তাঁকে কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার সময় সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিলেন। তিনি তাঁকে পরিষ্কারভাবে উত্তর দিয়েছিলেন যে, এর জ্ঞান যেমন জিজ্ঞেসকারীর নেই তেমনই জিজ্ঞাসিত ব্যক্তিরও নেই।অন্য একটি হাদীসে রয়েছে যে, একজন গ্রাম্য লোক উচ্চস্বরে রাসূলুল্লাহ ( সঃ )-কে প্রশ্ন করেঃ “ হে আল্লাহর রাসূল ( সঃ )! কিয়ামত কখন হবে?" উত্তরে তিনি বলেনঃ “কিয়ামত তো অবশ্যই হবে, এখন তুমি এর জন্যে কি প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে তা বল দেখি?” লোকটি বললোঃ “আমার কাছে রোযা নামাযের আধিক্য নেই, তবে এটা সত্য যে, আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ( সঃ )-কে ভালবাসী ।” রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) তখন তাকে বললেনঃ “ তুমি যাকে ভালবাস তার সাথেই তুমি থাকবে ।" হযরত আনাস ( রাঃ ) বলেন যে, মুসলমানরা এ হাদীস শুনে যতো বেশী খুশী হয়েছিল অন্য হাদীস শুনে ততো বেশী খুশী হয়নি। এ হাদীস দ্বারাও জানা গেল যে, কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার সময় রাসূলুল্লাহ ( সঃ )-এর জানা ছিল না।মুসনাদে ইবনে আবী হাতিমে হযরত আবূ সাঈদ খুদরী ( রাঃ ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী ( সঃ ) বলেছেনঃ “ এতে বিস্ময়ের কিছুই নেই যে, এই উম্মতকে আল্লাহ অর্ধদিন পর্যন্ত অবকাশ দিবেন ।" অন্য একটি রিওয়াইয়াতে এটুকু বেশী রয়েছে যে, হযরত সা'দ ( রাঃ )-কে প্রশ্ন করা হয়ঃ “ অর্ধদিন দ্বারা উদ্দেশ্য কি?” উত্তরে তিনি বলেনঃ “এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো পাঁচশ বছর ।এরপর আল্লাহ পাক বলেনঃ আল্লাহ অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা, তিনি তাঁর অদৃশ্যের জ্ঞান কারো নিকট প্রকাশ করেন না, তাঁর মনোনীত রাসূল ব্যতীত। যেমন আল্লাহ তা’আলার উক্তিঃ ( আরবি )অর্থাৎ “ যা তিনি ইচ্ছা করেন তদ্ব্যতীত তাঁর জ্ঞানের কিছুই তারা আয়ত্ত্ব করতে পারে না ।”( ২:২৫৫ ) মানুষের মধ্য থেকেই হোক বা দানবের মধ্য থেকেই হোক, যাকে আল্লাহ যেটুকু চান অবহিত করে থাকেন। আবার এর আরো বিশেষত্ব এই যে, তার হিফাজত এবং সাথে সাথে এই ইলমের প্রসারের জন্যে যা আল্লাহ তাকে দিয়েছেন, তার আশেপাশে সদা রক্ষক ফেরেশতা নিয়োজিত থাকেন।( আরবি ) বা ( আরবি ) সর্বনামটি কারো কারো মতে নবী ( সঃ )-এর দিকে ফিরেছে। অর্থাৎ হযরত জিবরাঈল ( আঃ )-এর সামনে ও পিছনে চারজন ফেরেশতা থাকতেন, যাতে রাসূলুল্লাহ ( সঃ )-এর মনে দৃঢ় বিশ্বাস জন্মে যে, তারা তাদের প্রতিপালকের পয়গাম সঠিকভাবে তার নিকট পৌঁছিয়ে দিয়েছেন। আবার কারো কারো মতে, এর ( আরবি ) টি আহলে শিরকের দিকে প্রত্যাবর্তিত হয়েছে। অর্থাৎ পালাক্রমে আগমনকারী ফেরেশতারা আল্লাহর নবী ( সঃ )-কে শয়তান হতে ও তাঁর অনিষ্ঠ হতে রক্ষা করেন, যাতে আহলে শিরক জানতে পারে যে, রাসূলগণ আল্লাহর রিসালাত আদায় করেছেন। অর্থাৎ রাসূলদেরকে অবিশ্বাসকারীরাও যেন তাদের রিসালাতকে জেনে নেয়। কিন্তু এতে চিন্তা-ভাবনার অবকাশ রয়েছে। ইয়াকূব ( রঃ )-এর কিরআত পেশের সাথে রয়েছে। অর্থাৎ জনগণ যেন জেনে নেয় যে, রাসূলগণ তাবলীগ করেছেন। আর সম্ভবতঃ ভাবার্থ এও হবে যে, যেন আল্লাহ জেনে নেন। অর্থাৎ তিনি তাঁর ফেরেশতাদেরকে পাঠিয়ে তাঁর রাসূলদের হিফাযত করে থাকেন, যেন তারা রিসালাত আদায় করতে পারেন ও ওহীর হিফাজত করতে পারেন। আর যেন আল্লাহ তা'আলা জেনে নেন যে, তাঁরা রিসালাত আদায় করেছেন। যেমন তিনি বলেনঃ ( আরবি )অর্থাৎ “ তুমি এ যাবৎ যে কিবলা অনুসরণ করছিলে ওকে আমি এই উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম যাতে জানতে পারি কে রাসূল ( সঃ )-এর অনুসরণ করে এবং কে ফিরে যায়?" ( ২:১৪৩ ) অন্য এক জায়গায় বলেনঃ ( আরবি )অর্থাৎ “আল্লাহ অবশ্যই জেনে নিবেন ঈমানদারদেরকে এবং মুনাফিকদেরকে ।”( ২৯:১১ ) এই ধরনের আরো আয়াতসমূহ রয়েছে। ভাবার্থ এই যে, আল্লাহ তো প্রথম হতেই জানেন, কিন্তু তা তিনি প্রকাশ করেও জেনে নেন। এই জন্যেই এখানে এর পরেই বলেন যে, তিনি সবকিছুরই বিস্তারিত হিসাব রাখেন।
সূরা জিন আয়াত 27 সূরা
| English | Türkçe | Indonesia |
| Русский | Français | فارسی |
| تفسير | Urdu | اعراب |
বাংলায় পবিত্র কুরআনের আয়াত
- আল্লাহ মুমিনদের প্রতি সন্তুষ্ট হলেন, যখন তারা বৃক্ষের নীচে আপনার কাছে শপথ করল। আল্লাহ অবগত
- আল্লাহ নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের অদৃশ্য বিষয় জানেন, তোমরা যা কর আল্লাহ তা দেখেন।
- এটা কিতাব, এর আয়াতসমূহ বিশদভাবে বিবৃত আরবী কোরআনরূপে জ্ঞানী লোকদের জন্য।
- জান্নাত আল্লাহভীরুদের নিকটবর্তী করা হবে।
- আর যদি আল্লাহ তা’আলা মানুষকে যথাশীঘ্র অকল্যাণ পৌঁছে দেন যতশীঘ্র তার কামনা করে, তাহলে তাদের
- এই হলো মানুষের জন্য বর্ণনা। আর যারা ভয় করে তাদের জন্য উপদেশবাণী।
- আমি পৃথিবীস্থ সব কিছুকে পৃথিবীর জন্যে শোভা করেছি, যাতে লোকদের পরীক্ষা করি যে, তাদের মধ্যে
- আর যদি আমি তাদের নির্দেশ দিতাম যে, নিজেদের প্রাণ ধ্বংস করে দাও কিংবা নিজেদের নগরী
- নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করেছে এবং স্বীয় পালনকর্তার সমীপে বিনতি প্রকাশ করেছে তারাই
- বলুনঃ হে পালনকর্তা! আমাকে দাখিল করুন সত্যরূপে এবং আমাকে বের করুন সত্যরূপে এবং দান করুন
বাংলায় কোরআনের সূরা পড়ুন :
সবচেয়ে বিখ্যাত কোরআন তেলাওয়াতকারীদের কণ্ঠে সূরা জিন ডাউনলোড করুন:
সূরা Jinn mp3 : উচ্চ মানের সাথে সম্পূর্ণ অধ্যায়টি Jinn শুনতে এবং ডাউনলোড করতে আবৃত্তিকারকে বেছে নিন
আহমেদ আল-আজমি
ইব্রাহীম আল-আখদার
বান্দার বেলাইলা
খালিদ গালিলি
হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
খলিফা আল টুনাইজি
সাদ আল-গামদি
সৌদ আল-শুরাইম
সালাহ বুখাতীর
আবদ এল বাসেট
আবদুল রশিদ সুফি
আব্দুল্লাহ্ বাস্ফার
আবদুল্লাহ আল-জুহানী
আলী আল-হুদায়েফি
আলী জাবের
ফারেস আব্বাদ
মাহের আলমাইকুলই
মোহাম্মদ আইয়ুব
মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
মুহাম্মাদ জিব্রীল
আল-মিনশাবি
আল হোসারি
মিশারী আল-আফসী
নাসের আল কাতামি
ইয়াসের আল-দোসারি
Please remember us in your sincere prayers



