কোরান সূরা তাওবা আয়াত 28 তাফসীর

  1. Mokhtasar
  2. Ahsanul Bayan
  3. AbuBakr Zakaria
  4. Ibn Kathir
Surah Tawbah ayat 28 Bangla tafsir - তাফসীর ইবনে কাসীর - Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান - Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স - বাংলা ভাষায় নোবেল কোরআনের অর্থের অনুবাদ উর্দু ভাষা ও ইংরেজি ভাষা & তাফসীর ইবনে কাসীর : সূরা তাওবা আয়াত 28 আরবি পাঠে(Tawbah).
  
   

﴿يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْمُشْرِكُونَ نَجَسٌ فَلَا يَقْرَبُوا الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ بَعْدَ عَامِهِمْ هَٰذَا ۚ وَإِنْ خِفْتُمْ عَيْلَةً فَسَوْفَ يُغْنِيكُمُ اللَّهُ مِن فَضْلِهِ إِن شَاءَ ۚ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ حَكِيمٌ﴾
[ التوبة: 28]

হে ঈমানদারগণ! মুশরিকরা তো অপবিত্র। সুতরাং এ বছরের পর তারা যেন মসজিদুল-হারামের নিকট না আসে। আর যদি তোমরা দারিদ্রে?480; আশংকা কর, তবে আল্লাহ চাইলে নিজ করুনায় ভবিষ্যতে তোমাদের অভাবমুক্ত করে দেবেন। নিঃসন্দেহে আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। [সূরা তাওবা: 28]

Surah At-Tawbah in Bangla

জহুরুল হক সূরা বাংলা Surah Tawbah ayat 28


ওহে যারা ঈমান এনেছ! নিঃসন্দেহ মুশরিকরা হচ্ছে অপবিত্র, কাজেই তাদের এই বৎসরের পরে তারা পবিত্র মসজিদের সন্নিকটে আসতে পারবে না; আর যদি তোমরা দারিদ্রের আশঙ্কা করো তা হলে আল্লাহ্ অচিরেই তোমাদের সমৃদ্ধ করবেন তাঁর করুণাভান্ডার থেকে যদি তিনি চান। নিঃসন্দেহ আল্লাহ্ সর্বজ্ঞাতা, পরমজ্ঞানী।


Tafsir Mokhtasar Bangla


২৮. আল্লাহ ও তাঁর রাসূলে বিশ্বাসী এবং তাঁর শরীয়তের অনুসারী হে মু’মিনগণ! নিশ্চয়ই মুশরিকরা হলো নাপাক। কারণ, তাদের মধ্যে রয়েছে কুফরি, যুলুম, সমূহ নিকৃষ্ট চরিত্র ও প্রচুর বদ অভ্যাস। তাই তারা যেন এ বছর তথা নবম হিজরীর পর হজ্জ বা উমরাহরত অবস্থায় হলেও হারামে মাক্কী তথা মসজিদে হারামে প্রবেশ না করে। তোমরা যদি তারা যে খাদ্য ও বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা আমদানী করে তা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা করো তাহলে নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা চাইলে তিনি নিজ অনুগ্রহে অচিরেই তোমাদের জন্য যথেষ্ট হবেন। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানেন। তিনি তোমাদের জন্য যে পরিকল্পনা করছেন তাতে তিনি অত্যন্ত প্রজ্ঞাময়।

Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান


হে বিশ্বাসিগণ! অংশীবাদীরা তো অপবিত্র।[১] সুতরাং এ বছরের পর তারা যেন মাসজিদুল হারামের নিকট না আসে।[২] যদি তোমরা দারিদ্রে্র আশঙ্কা কর, তাহলে জেনে রাখ, আল্লাহ ইচ্ছা করলে তাঁর নিজ করুণায় তিনি তোমাদেরকে অভাবমুক্ত করে দেবেন। [৩] নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। [১] অংশীবাদী বা মুশরিকরা অপবিত্র কথার অর্থ হল, আকীদা-বিশ্বাস ও আমল হিসাবে তারা ( অভ্যন্তরীণভাবে ) অপবিত্র। কারো কারো নিকটে মুশরিক বাহ্যিক ও আভ্যন্তরিক উভয়ভাবে অপবিত্র। কেননা, তারা পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতার সেইরূপ খেয়াল রাখে না, যেরূপ শরীয়ত নির্দেশ করেছে। [২] এটা সেই হুকুম যা সন ৯ হিজরীতে সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণার সাথে করা হয়েছিল। যার বিস্তারিত বর্ণনা পূর্বে ( ১-২নং আয়াতে ) উল্লেখ করা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা কেবল মাসজিদুল হারামের জন্য। নচেৎ প্রয়োজন মোতাবেক মুশরিকরা অন্যান্য মসজিদে প্রবেশ করতে পারে। যেমন নবী ( সাঃ ) সুমামাহ বিন উসালকে মসজিদে নববীর থামে বেঁধে রেখেছিলেন। পরিশেষে আল্লাহ তাআলা তাঁর হৃদয়ে ইসলাম ও নবীর মহব্বত সৃষ্টি করেন এবং তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। পরন্তু অধিকাংশ উলামাগণের নিকট এখানে 'মাসজিদুল হারাম' থেকে উদ্দেশ্য পূর্ণ হারাম এলাকা। অর্থাৎ, হারাম-সীমানার ভিতর মুশরিকদের প্রবেশ নিষেধ। কিছু আসার ( সাহাবার উক্তি ও কর্ম ) অনুসারে এই হুকুম থেকে যিম্মী ও খাদেমদেরকে পৃথক করা হয়েছে। উমার বিন আব্দুল আযীয ( রঃ ) আলোচ্য আয়াতের ভিত্তিতে নিজ রাজত্বকালে ইয়াহুদী-খ্রিষ্টানদেরকেও মুসলিমদের মসজিদে প্রবেশ না করার আদেশ জারী করেছিলেন। ( ইবনে কাসীর ) [৩] মুশরিকদের উপর হারাম প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা জারী হওয়ার কারণে কিছু মুসলিমদের মনে চিন্তা হল যে, হজ্জের মৌসুমে অধিকাধিক লোক জমা হওয়ার কারণে যে ব্যবসা-বাণিজ্য হয়ে থাকে, তাতে প্রভাব পড়তে পারে। আল্লাহ তাআলা বললেন, দারিদ্রে্র ভয় করো না। তিনি অতিসত্বর নিজ অনুগ্রহে তোমাদেরকে ধনবান বানিয়ে দেবেন। সুতরাং বিভিন্ন যুদ্ধে জয়ী হওয়ার ফলে বহু গনীমতের মাল মুসলিমদের হস্তগত হল। অতঃপর ধীরে ধীরে সারা আরববাসী মুসলমান হয়ে গেল। পরিণামে হজ্জের মৌসুমে হাজীদের গমনাগমন ঠিক সেইরূপ হয়ে গেল যেমন পূর্বে ছিল; বরং তার থেকেও বেশী হল। আর সেই সংখ্যাবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা আজও অব্যাহত।

Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স


হে ঈমানদারগ্ণ ! মুশরিকরা তো অপবিত্র []; কাজেই এ বছরের পর [] তারা যেন মসজিদুল হারামের ধারে-কাছে না আসে []। আর যদি তোমরা দারিদ্রের আশংকা কর তবে আল্লাহ্‌ ইচ্ছা করলে তাঁর নিজ করুণায় তোমাদেরকে অভাবমুক্ত করবেন []। নিশ্চয় আল্লাহ্‌ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। [] কোন কোন মুফাসসির বলেন, কাফেরগণ ব্যহ্যিক ও আত্মিক সর্ব দিক থেকেই অপবিত্র। [ কুরতুবী; ফাতহুল কাদীর ] তবে অধিকাংশ মুফাসসির বলেনঃ এখানে নাপাক বলতে তাদের দেহ সত্তা বুঝানো হয়নি, বরং দ্বীনী বিষয়াদিতে তাদের অপবিত্রতা বোঝানো হয়েছে। সে হিসেবে এর অর্থ, তাদের আকীদাহ-বিশ্বাস, আখলাক-চরিত্র, আমল ও কাজ, তাদের জীবন - এসবই নাপাক। [ ইবন কাসীর; সা’দী ]; আর এ সবের নাপাকির কারণেই হারাম শরীফের চৌহদির মধ্যে তাদের প্রবেশ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। [] এ বছর বলতে অধিকাংশ মুফাসসিরীনদের মতে ৯ম হিজরী বুঝানো হয়েছে। কাতাদা বলেন, এটা ছিল সে বছর যে বছর আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু লোকদের নিয়ে হজ করেছেন। তখন আলী এ বিষয়টির ঘোষণা লোকদের মধ্যে দিয়েছিলেন। তখন হিজরতের পর নবম বছর পার হচ্ছিল। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পরবর্তী বছর হজ করেছিলেন। তিনি এর আগেও হজ করেন নি, পরেও করেন নি। [ তাবারী ] [] এখানে “ মাসজিদুল হারাম” বলতে সাধারণতঃ বুঝায় বায়তুল্লাহ শরীফের চতুর্দিকের আঙ্গিনাকে যা দেয়াল দ্বারা পরিবেষ্টিত । তবে কুরআন ও সুন্নার কোন কোন স্থানে তা মক্কার পূর্ণ হারাম শরীফ অর্থেও ব্যবহৃত হয়েছে। যা কয়েক বর্গমাইল এলাকব্যাপী। যার সীমানা চিহ্নিত করেছেন ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম। যেমন, মে'রাজের ঘটনায় মাসজিদুল হারামের উল্লেখ রয়েছে। ইমামগণের ঐক্যমতে এখানে “ মাসজিদুল হারাম অর্থ বায়তুল্লাহর আঙ্গিনা নয় । কারণ, মে'রাজের শুরু হয় উম্মে হানী রাদিয়াল্লাহু আনহার ঘর থেকে, যা বায়তুল্লাহর আঙ্গিনার বাইরে। অনুরূপ সূরা তাওবার শুরুতে ৭ নং আয়াতে যে মসজিদুল হারামের উল্লেখ রয়েছে, তার অর্থও পূর্ণ হারাম শরীফ। কারণ, এখানে উল্লেখিত সন্ধির স্থান হলো হুদায়বিয়া’ যা হারাম শরীফের সীমানার বাইরে তার অতি সন্নিকটে অবস্থিত। [ আল-বালাদুল হারাম: আহকাম ওয়া আদাব ] [] ইবনে আব্বাস বলেন, যখন আল্লাহ তা'আলা মুশরিকদেরকে মাসজিদুল হারামে যাওয়া থেকে নিষেধ করলেন, তখন শয়তান মুমিনদের অন্তরে চিন্তার উদ্রেক ঘটাল যে, তারা কোথেকে খাবে? মুশরিকদেরকে তো বের করে দেয়া হয়েছে, তাদের বানিজ্য কাফেলা তো আর আসবে না। তখন আল্লাহ তা'আলা এ আয়াত নাযিল করলেন। যাতে তিনি তাদেরকে আহলে কিতাবদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে নির্দেশ দিলেন। আর এর মাধ্যমে তিনি তাদেরকে অমুখাপেক্ষী করে দিলেন। [ তাবারী; কুরতুবী ইবন কাসীর ]

Tafsir ibn kathir bangla তাফসীর ইবনে কাসীর


২৮-২৯ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তাআলা তাঁর পবিত্র দ্বীনের অনুসারী এবং পাক পবিত্র মুসলিম বান্দাদেরকে হুকুম করছেন যে, তারা যেন ধর্মের দিক থেকে অপবিত্র মুশরিকদেরকে বায়তুল্লাহর পাশে আসতে না দেয়। এই আয়াতটি নবম হিজরীতে অবতীর্ণ হয়। ঐ বছরই রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) আলী ( রাঃ )-কে আবু বকর ( রাঃ ) -এর সাথে প্রেরণ করেন এবং নির্দেশ দেনঃ “ হজ্বের সমাবেশে ঘোষণা করে দাও যে, এ বছরের পরে কোন মুশরিক যেন হজ্ব করতে না আসে এবং কেউ যেন উলঙ্গ হয়ে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ না করে । শরীয়তের এই হুকুমকে আল্লাহ তা'আলা এমনিতেই পূর্ণ করে দেন। সেখানে আর মুশরিকদের প্রবেশ লাভের সৌভাগ্য হয়নি এবং এরপরে উলঙ্গ অবস্থায় কেউ আল্লাহর ঘরের তাওয়াফও করেনি। জাবির ইবনে আবদুল্লাহ ( রাঃ ) গোলাম ও যিম্মী ব্যক্তিকে এই হুকুমের বহির্ভূত বলেছেন। মুসনাদে আহমাদে জাবির ইবনে আবদুল্লাহ ( রাঃ ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) বলেছেনঃ “ এ বছরের পরে চুক্তিকৃতগণ ছাড়া এবং তাদের গোলামরা ছাড়া আর কেউই যেন আমাদের মসজিদে প্রবেশ না করে । কিন্তু এই মারফু হাদীস অপেক্ষা বেশী সহীহ সনদযুক্ত মাওকুফ রিওয়ায়াত রয়েছে।মুসলিমদের খলীফা উমার ইবনে আবদুল আযীয ( রঃ ) ফরমান জারী করেছিলেনঃ “ ইয়াহুদী ও খ্রীষ্টানদেরকে মুসলমানদের মসজিদে আসতে দিবে না ।" এই আয়াতকে কেন্দ্র করেই তিনি এই নিষেধাজ্ঞা জারী করেছিলেন। আতা ( রঃ ) বলেন যে, সম্পূর্ণ হারাম শরীফই মসজিদুল হারামের অন্তর্ভুক্ত। মুশরিকরা যে অপবিত্র, এই আয়াতটিই এর দলীল। সহীহ হাদীসে রয়েছে যে, মুমিন অপবিত্র হয় না। বাকী থাকলো এই কথাটি যে মুশরিকদের দেহ ও সত্তাও কি অপবিত্র? এ ব্যাপারে জমহরের উক্তি এই যে, তাদের দেহ অপবিত্র নয়। কেননা আল্লাহ তা'আলা আহলে কিতাবের যবেহকৃত জন্তু হালাল করেছেন। যাহেরিয়া মাযহাবের কোন কোন লোক মুশরিকদের দেহকে অপবিত্র বলেছে। হাসান ( রঃ ) বলেন যে, যে ব্যক্তি মুশরিকদের সাথে মুসাফাহা করবে সে যেন তার হাতটি ধুয়ে নেয়। এ হুকুম হলে লোকদের কেউ কেউ বললোঃ “ তাহলে তো আমাদের বাজার মন্দা হয়ে যাবে এবং ব্যবসার জাঁকজমক নষ্ট হয়ে যাবে । ফলে আমাদের বহুবিধ ক্ষতি সাধিত হবে। ( লুবাব গ্রন্থে ইবনে আবি হাতিম (রঃ ) তাখরীজ করেছেন যে, মুশরিকরা বায়তুল্লাহতে খাদ্য সম্ভার নিয়ে আসতো এবং এর মধ্যে ওরা ব্যবসা করতো। অতঃপর যখন তাদেরকে বায়তুল্লাহতে আসতে নিষেধ করে দেয়া হলো তখন মুসলমানরা বললোঃ “ আমাদের জন্যে খাদ্য কোথায়?" তখন আল্লাহ তাআলা ( আরবী ) এ আয়াত অবতীর্ণ করেন) তাদের এ কথার জবাবে আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ “তোমরা এ ব্যাপারে কোনই ভয় করো না । আল্লাহ তোমাদের আরো বহু পন্থায় দান করবেন। আহলে কিতাবের নিকট থেকে তোমাদের জন্যে তিনি জিযিয়া আদায় করিয়ে দিবেন এবং তোমাদেরকে সম্পদশালী করবেন । তোমাদের জন্যে কোটা বেশী কল্যাণকর তা তোমাদের প্রতিপালকই ভাল জানেন। তাঁর নির্দেশ এবং নিষেধাজ্ঞা সবটাই নিপুণতাপূর্ণ। এ ব্যবসা তোমাদের জন্যে ততোটা লাভজনক নয় যতোটা লাভজনক তোমাদের জিযিয়া প্রাপ্তি ঐ আহলে কিতাবের নিকট থেকে যারা আল্লাহ, তাঁর রাসূল ( সঃ ) এবং কিয়ামতকে অস্বীকারকারী। প্রকৃত অর্থে তারা যখন মুহাম্মাদ ( সঃ )-এর উপর ঈমান আনলো না তখন কোন নবীর উপরই তাদের ঈমান রইলো না। বরং তারা নিজেদের প্রবৃত্তির ও তাদের বড়দের অন্ধ বিশ্বাসের পিছনে পড়ে রয়েছে। যদি তাদের নিজেদের নবীর উপর এবং নিজেদের শরীয়তের উপর পূর্ণ বিশ্বাস থাকতো তবে তারা আমাদের এই নবী ( সঃ )-এর উপরে অবশ্যই ঈমান আনতো। তাঁর শুভাগমনের সুসংবাদ তো প্রত্যেক নবীই দিয়ে গেছেন এবং তার অনুসরণ করার হুকুমও সব নবীই প্রদান করেছেন। কিন্তু এতদসত্ত্বেও তারা এই সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল ( সঃ )-কে অস্বীকার করছে। সুতরাং পূর্ববর্তী নবীদের শরীয়তের সাথেও তাদের কোন সম্পর্ক নেই। এ কারণেই ঐ নবীদেরকে মুখে স্বীকার করার কোনই মূল্য নেই। কেননা মুহাম্মাদ ( সঃ ) হলেন নবীদের নেতা সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল, সর্বশেষ নবী এবং রাসূলদের পূর্ণকারী। অথচ তারা তাঁকেই অস্বীকার করছে। সুতরাং তাদের সাথেও জিহাদ করতে হবে।তাদের সাথে জিহাদের হুকুম হওয়ার এটাই প্রথম আয়াত। ঐ সময় পর্যন্ত আশে পাশের মুশরিকদের সাথে যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। তাদের অধিকাংশই তাওহীদের পতাকা তলে আশ্রয় নিয়েছিল। আরব উপদ্বীপে ইসলাম স্বীয় জায়গা করে নিয়েছিল। এখন ইয়াহদী ও খ্রীষ্টানদের সংবাদ নেয়ার এবং তাদেরকে সত্য পথ দেখাবার নির্দেশ দেয়া হয়। এ হুকুম অবতীর্ণ হয় হিজরী নবম সনে। তখন রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) রোমকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। জনগণকে তিনি স্বীয় সংকল্পের কথা অবহিত করেন। মদীনার চতুম্পার্শ্বের আরবীয়দেরকে যুদ্ধের প্রতি উদ্বুদ্ধ করেন এবং প্রায় ত্রিশ হাজার সৈন্য নিয়ে রোম সাম্রাজ্য অভিমুখে রওয়ানা হন। এই যুদ্ধ থেকে বিমুখ থাকলো মুনাফিকরা এবং আরো কিছু সংখ্যক লোক। গরমের মৌসুম ছিল এবং গাছের ফল পেকে গিয়েছিল। রোমকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে গমনের ব্যাপারে সিরিয়ার পথ ছিল বহু দূরের পথ এবং ঐ সফর ছিল খুবই কঠিন সফর। তারা তাবূক পর্যন্ত পৌঁছে যান। সেখানে প্রায় বিশ দিন অবস্থান করেন। অতঃপর আল্লাহ তা'আলার নিকট ইসতিখারা করে সেখান থেকে প্রত্যাবর্তন করেন। কেননা, তাঁদের অবস্থা ছিল অত্যন্ত সঙ্গীন এবং তারা খুবই দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। ইনশাআল্লাহ সত্বরই এর বর্ণনা আসছে। এই আয়াতকেই দলীল হিসেবে গ্রহণ করে কেউ কেউ বলেছেন যে, জিযিয়া শুধু আহলে কিতাবের নিকট থেকে এবং তাদের সাথে সাদৃশ্যযুক্ত লোকদের নিকট থেকে নেয়া যাবে, যেমন মাজুসীদের নিকট থেকে । রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) হিজরের মাজুসদের নিকট থেকে জিযিয়া আদায় করেছিলেন। ইমাম শাফিঈ ( রঃ )-এর এটাই মাযহাব। ইমাম আহমাদ ( রঃ )-এরও প্রসিদ্ধ মাযহাব এটাই। ইমাম আবু হানীফা ( রঃ ) বলেন যে, সমস্ত আজমীর নিকট থেকে জিযিয়া আদায় করা হবে, তারা আহলে কিতাবই হাক অথবা মুশরিকই হাক। হ্যাঁ, তবে আরবের লোকদের মধ্যে শুধুমাত্র আহলে কিতাবের নিকট থেকে জিযিয়া আদায় করা হবে। ইমাম মালিক ( রঃ ) বলেন যে, সমস্ত কাফিরের নিকট থেকেই জিযিয়া আদায় করা জায়েয। তারা আহলে কিতাবই হাক বা মাজুসীই হাক অথবা মূর্তিপূজক প্রভৃতিই হাক। তাদের মাযহাবের দলীলগুলো বিস্তারিতভাবে আলোচনা করার এখানে তেমন কোন সুযোগ নেই। এসব ব্যাপার আল্লাহ তা'আলাই সবচেয়ে ভাল জানেন।আল্লাহ পাক বলেনঃ যে পর্যন্ত না তারা অধীনতা স্বীকার করে প্রজারূপে জিযিয়া দিতে স্বীকৃত হয়, তাদেরকে ছেড়ে দিয়ো না। সুতরাং মুসলিমদের উপর যিম্মীদের মর্যাদা দেয়া বৈধ নয়। সহীহ মুসলিমে আবূ হুরাইরা ( রাঃ ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী ( সঃ ) বলেছেনঃ “ তোমরা ইয়াহুদী ও নাসারাদেরকে প্রথমে সালাম দিয়ো না এবং যদি পথে তোমাদের সাথে তাদের সাক্ষাৎ হয়ে যায় তবে তাদেরকে সংকীর্ণ পথে যেতে বাধ্য করো ।” এ কারণেই উমার ( রাঃ ) তাদের সাথে এরূপই শর্ত করেছিলেন।আব্দুর রহমান ইবনে গানাম আশআরী ( রাঃ ) বলেন, আমি নিজের হাতে চুক্তিনামা লিখে উমার ( রাঃ )-এর নিকট পাঠিয়েছিলাম যে, সিরিয়াবাসী অমুক অমুক শহুরে খ্রীষ্টানদের পক্ষ হতে এই চুক্তিনামা আল্লাহর বান্দা আমীরুল মুমিনীন উমার ( রাঃ ) -এর নিকট। চুক্তিপত্রের বিষয় বস্তু হচ্ছে- “ যখন আপনারা আমাদের উপর এসে পড়লেন, আমরা আপনাদের নিকট আমাদের জান, মাল ও সন্তান-সন্ততির জন্যে নিরাপত্তার প্রার্থনা জানাচ্ছি । আমরা এ নিরাপত্তা চাচ্ছি এ শর্তাবলীর পরিপ্রেক্ষিতে যে, আমরা এই শহরগুলোতে এবং এগুলোর আশে পাশে নতুন কোন মন্দির, গির্জা এবং খানকা নির্মাণ করবো না। এরূপ কোন নষ্ট ঘরের মেরামত ও সংস্কারও করবো না। এসব ঘরে যদি কোন মুসলিম মুসাফির অবস্থানের ইচ্ছা করেন তবে আমরা তাদেরকে বাধা দেবো না। তারা রাত্রেই অবস্থান করুন অথবা দিনেই অবস্থান করুন। আমরা পথিক ও মুসাফিরদের জন্যে ওগুলোর দরজা সব সময় খুলে রাখবো । যেসব মুসলিম আগমন করবেন আমরা তিন দিন পর্যন্ত তাঁদের মেহমানদারী করবো। আমরা ঐসব ঘরে বা বাসভূমি প্রভৃতিতে কোন গুপ্তচর লুকিয়ে রাখবো না। মুসলিমদের সাথে কোন প্রতারণা করবো না। নিজেদের সন্তানদেরকে কুরআন শিক্ষা দেবো না। নিজেরা শিরক করবো না এবং অন্য কাউকেও শিকের দিকে আহ্বান করবো না। আমাদের মধ্যে কেউ যদি ইসলাম গ্রহণ করার ইচ্ছা করে তবে আমরা তাদেরকে মোটেও বাধা দেবো না। মুসলিমদেরকে আমরা সম্মান করবো। যদি তাঁরা আমাদের কাছে বসার ইচ্ছা করেন তবে আমরা তাদের জন্যে জায়গা ছেড়ে দেবো। কোন কিছুতেই আমরা নিজেদেরকে মুসলিমদের সমান মনে করবো না। পোশাক পরিচ্ছদেও না, আমরা তাদের কথার উপর কথা বলবো না। আমরা তাঁদের পিতৃপদবী যুক্ত নামে নামকরণ করবো না। জিন বিশিষ্ট ঘোড়ার উপর আমরা সওয়ার হবো না। আমরা তরবারী লটকাবো না এবং নিজেদের সাথেও তরবারী রাখবো না। অঙ্গুরীর উপর আরবী নকশা অংকন করাবো না এবং মাথার অগ্রভাগের চুল কেটে ফেলবো না। আমরা যেখানেই থাকি না কেন, পৈতা অবশ্য অবশ্যই ফেলে রাখবো। আমাদের গির্জাসমূহের উপর ক্রুশচিহ্ন প্রকাশ করবো , আমাদের ধর্মীয় গ্রন্থগুলো মুসলিমদের যাতায়াত স্থানে এবং বাজারসমূহে প্রকাশিত হতে দেবো না। গীর্জায় উচ্চৈঃস্বরে শংখ বাজাবো না, মুসলিমদের উপস্থিতিতে আমাদের ধর্মীয় পুস্তকগুলো জোরে জোরে পাঠ করবো না, রাস্তাঘাটে নিজেদের চাল চলন ও রীতি নীতি প্রকাশ করবো না, নিজেদের মৃতদের উপর হায়! হায়!! করে উচ্চৈঃস্বরে শাক প্রকাশ করবে না এবং মুসলিমদের চলার পথে মৃতদেহের সাথে আগুন নিয়ে যাবো না। যেসব গোলাম মুসলিমদের অংশে পড়বে তা আমরা গ্রহণ করবো না। আমরা অবশ্যই মুসলিমদের শুভাকাঙ্ক্ষী হয়ে থাকবো। মুসলিমদের ঘরে আমরা উঁকি মারবো না।" যখন এই চুক্তি পত্র উমার ( রাঃ )-এর সামনে পেশ করা হলো তখন তিনি তাতে আরো একটি শর্ত বাড়িয়ে নিলেন। তা হচ্ছে- “ আমরা কখনো কোন মুসলিমকে প্রহার করবো না ।” অতঃপর তারা বললোঃ “ এসব শর্ত আমরা মেনে নিলাম । আমাদের ধর্মাবলম্বী সমস্ত লোকই এসব শর্তের উপর নিরাপত্তা লাভ করলো। এগুলোর কোন একটি যদি আমরা ভঙ্গ করি তবে আমাদেরকে নিরাপত্তা দানের ব্যাপারে আপনার কোন দায়িত্ব থাকবে না এবং আপনি আপনার শত্রুদের সাথে যা কিছু করেন, আমরাও ওরই যোগ্য ও উপযুক্ত হয়ে যাবো।”

সূরা তাওবা আয়াত 28 সূরা

ياأيها الذين آمنوا إنما المشركون نجس فلا يقربوا المسجد الحرام بعد عامهم هذا وإن خفتم عيلة فسوف يغنيكم الله من فضله إن شاء إن الله عليم حكيم

سورة: التوبة - آية: ( 28 )  - جزء: ( 10 )  -  صفحة: ( 191 )


English Türkçe Indonesia
Русский Français فارسی
تفسير Urdu اعراب

বাংলায় পবিত্র কুরআনের আয়াত

  1. এবং তোমার প্রতি ন্যায় বিচারের দিন পর্যন্ত অভিসম্পাত।
  2. আমি তোমাদেরকে পড়ে শুনাই এ সমস্ত আয়াত এবং নিশ্চিত বর্ণনা।
  3. প্রত্যেকের উপর একজন তত্ত্বাবধায়ক রয়েছে।
  4. এবং বেশী পরিমাণে আপনাকে স্মরণ করতে পারি।
  5. তাঁর এক নিদর্শন এই যে, তুমি ভূমিকে দেখবে অনুর্বর পড়ে আছে। অতঃপর আমি যখন তার
  6. বলুন, আল্লাহ ও রসূলের আনুগত্য প্রকাশ কর। বস্তুতঃ যদি তারা বিমুখতা অবলম্বন করে, তাহলে আল্লাহ
  7. আর অবশ্যই যদি আমি মানুষকে আমার রহমতের আস্বাদ গ্রহণ করতে দেই, অতঃপর তা তার থেকে
  8. তারা বলল, তোমরা তো আমাদের মতই মানুষ, রহমান আল্লাহ কিছুই নাযিল করেননি। তোমরা কেবল মিথ্যাই
  9. তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশিয়ে দিও না এবং জানা সত্ত্বে সত্যকে তোমরা গোপন করো না।
  10. যে লোক রসূলের হুকুম মান্য করবে সে আল্লাহরই হুকুম মান্য করল। আর যে লোক বিমুখতা

বাংলায় কোরআনের সূরা পড়ুন :

সুরত আল বাক্বারাহ্ আলে ইমরান সুরত আন-নিসা
সুরত আল-মায়েদাহ্ সুরত ইউসুফ সুরত ইব্রাহীম
সুরত আল-হিজর সুরত আল-কাহফ সুরত মারইয়াম
সুরত আল-হাজ্জ সুরত আল-ক্বাসাস আল-‘আনকাবূত
সুরত আস-সাজদা সুরত ইয়াসীন সুরত আদ-দুখান
সুরত আল-ফাতহ সুরত আল-হুজুরাত সুরত ক্বাফ
সুরত আন-নাজম সুরত আর-রাহমান সুরত আল-ওয়াক্বি‘আহ
সুরত আল-হাশর সুরত আল-মুলক সুরত আল-হাক্কাহ্
সুরত আল-ইনশিক্বাক সুরত আল-আ‘লা সুরত আল-গাশিয়াহ্

সবচেয়ে বিখ্যাত কোরআন তেলাওয়াতকারীদের কণ্ঠে সূরা তাওবা ডাউনলোড করুন:

সূরা Tawbah mp3 : উচ্চ মানের সাথে সম্পূর্ণ অধ্যায়টি Tawbah শুনতে এবং ডাউনলোড করতে আবৃত্তিকারকে বেছে নিন
সুরত তাওবা  ভয়েস আহমেদ আল-আজমি
আহমেদ আল-আজমি
সুরত তাওবা  ভয়েস ইব্রাহীম আল-আখদার
ইব্রাহীম আল-আখদার
সুরত তাওবা  ভয়েস বান্দার বেলাইলা
বান্দার বেলাইলা
সুরত তাওবা  ভয়েস খালিদ গালিলি
খালিদ গালিলি
সুরত তাওবা  ভয়েস হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
সুরত তাওবা  ভয়েস খলিফা আল টুনাইজি
খলিফা আল টুনাইজি
সুরত তাওবা  ভয়েস সাদ আল-গামদি
সাদ আল-গামদি
সুরত তাওবা  ভয়েস সৌদ আল-শুরাইম
সৌদ আল-শুরাইম
সুরত তাওবা  ভয়েস সালাহ আবু খাতর
সালাহ বুখাতীর
সুরত তাওবা  ভয়েস আবদুল বাসিত আব্দুল সামাদ
আবদ এল বাসেট
সুরত তাওবা  ভয়েস আবদুল রশিদ সুফি
আবদুল রশিদ সুফি
সুরত তাওবা  ভয়েস আব্দুল্লাহ্ বাস্‌ফার
আব্দুল্লাহ্ বাস্‌ফার
সুরত তাওবা  ভয়েস আবদুল্লাহ আওওয়াদ আল-জুহানী
আবদুল্লাহ আল-জুহানী
সুরত তাওবা  ভয়েস আলী আল-হুদায়েফি
আলী আল-হুদায়েফি
সুরত তাওবা  ভয়েস আলী জাবের
আলী জাবের
সুরত তাওবা  ভয়েস ফারেস আব্বাদ
ফারেস আব্বাদ
সুরত তাওবা  ভয়েস মাহের আলমাইকুলই
মাহের আলমাইকুলই
সুরত তাওবা  ভয়েস মোহাম্মদ আইয়ুব
মোহাম্মদ আইয়ুব
সুরত তাওবা  ভয়েস মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
সুরত তাওবা  ভয়েস মুহাম্মাদ জিব্রীল
মুহাম্মাদ জিব্রীল
সুরত তাওবা  ভয়েস মুহাম্মদ সিদ্দিক আল মিনশাবি
আল-মিনশাবি
সুরত তাওবা  ভয়েস আল হোসারি
আল হোসারি
সুরত তাওবা  ভয়েস আল-আফসী
মিশারী আল-আফসী
সুরত তাওবা  ভয়েস নাসের আল কাতামি
নাসের আল কাতামি
সুরত তাওবা  ভয়েস ইয়াসের আল-দোসারি
ইয়াসের আল-দোসারি


Friday, June 5, 2026

Please remember us in your sincere prayers