কোরান সূরা মুরসালাত আয়াত 30 তাফসীর

  1. Mokhtasar
  2. Ahsanul Bayan
  3. AbuBakr Zakaria
  4. Ibn Kathir
Surah Mursalat ayat 30 Bangla tafsir - তাফসীর ইবনে কাসীর - Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান - Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স - বাংলা ভাষায় নোবেল কোরআনের অর্থের অনুবাদ উর্দু ভাষা ও ইংরেজি ভাষা & তাফসীর ইবনে কাসীর : সূরা মুরসালাত আয়াত 30 আরবি পাঠে(Mursalat).
  
   

﴿انطَلِقُوا إِلَىٰ ظِلٍّ ذِي ثَلَاثِ شُعَبٍ﴾
[ المرسلات: 30]

চল তোমরা তিন কুন্ডলীবিশিষ্ট ছায়ার দিকে, [সূরা মুরসালাত: 30]

Surah Al-Mursalat in Bangla

জহুরুল হক সূরা বাংলা Surah Mursalat ayat 30


''চলো সেই ছায়ার দিকে যার রয়েছে তিনটি স্তর, --


Tafsir Mokhtasar Bangla


৩০. তোমরা আগুনের ধোঁয়ার এমন এক ছায়ার দিকে চলো যা তিন ভাগে বিভক্ত।

Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান


চল তিন শাখা বিশিষ্ট ছায়ার দিকে। [১] [১] জাহান্নাম থেকে যে ধোঁয়া বের হবে তা উঁচু হয়ে তিন দিকে ছড়িয়ে যাবে। অর্থাৎ, যেমন দেওয়াল অথবা গাছের ছায়া হয়, যাতে মানুষ শান্তি ও স্বস্তি অনুভব করে, জাহান্নামের এই ধোঁয়া কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সে রকম হবে না। এই ধোঁয়ার ছায়ায় জাহান্নামী কোন স্বস্তি লাভ করবে না।

Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স


চল তিন শাখাবিশিষ্ট আগুনের ছায়ার দিকে,

Tafsir ibn kathir bangla তাফসীর ইবনে কাসীর


২৯-৪০ নং আয়াতের তাফসীর যে কাফিররা কিয়ামতের দিনকে, পুরস্কার ও শাস্তিকে এবং জান্নাত ও জাহান্নামকে অবিশ্বাস করতো, তাদেরকে কিয়ামতের দিন বলা হবেঃ তোমরা দুনিয়ায় যে শাস্তি ও জাহান্নামকে মানতে না তা আজ বিদ্যমান রয়েছে। তাতে প্রবেশ কর। ওর অগ্নিশিখা প্রজ্বলিত রয়েছে এবং উঁচু হয়ে হয়ে তাতে তিনটি টুকরো হয়ে গেছে। সাথে সাথে ধুম্রও উপরের দিকে উঠে যাচ্ছে, ফলে মনে হচ্ছে যেন নীচে ছায়া পড়ে গেছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ওটা ছায়াও নয় এবং এটা আগুনের তেজস্বিতা বা প্রখরতাকে কিছু কমিয়েও দিচ্ছে না। এই জাহান্নাম এতো তেজ, গরম এবং অধিক অগ্নি বিশিষ্ট যে, এর যে অগ্নি স্ফুলিঙ্গগুলো উড়ে যায় সেগুলো এক একটা দুর্গের মত এবং বড় বড় গাছের লম্বা চওড়া কাণ্ডের মত। দর্শকদের ওগুলোকে মনে হয় যেন কালো রঙের উট বা নৌকার রঞ্জু অথবা তামার টুকরো।হযরত ইবনে আব্বাস ( রাঃ ) বলেনঃ “ আমরা শীতকালে তিন হাত বা তার চেয়ে বেশী লম্বা কাষ্ঠ নিয়ে উঁচু করে ধরতাম এবং ওটাকে আমরা ‘কাসর’ বলতাম" ( এটা ইমাম বুখারী (রঃ ) বর্ণনা করেছেন) নৌকার রশিগুলো একত্রিত করলে ওগুলো উঁচু দেহ বিশিষ্ট মানুষের সমান হয়ে যায়। এখানে এটাই উদ্দেশ্য। ঐদিন দুর্ভোগ মিথ্যারোপকারীদের জন্যে। আজকের দিনে অর্থাৎ কিয়ামত দিবসে তারা কিছু বলতেও পারবে না এবং তাদেরকে কোন ওযর পেশ করার অনুমিতও দেয়া হবে না। কেননা, তাদের যুক্তি-প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়েই গেছে এবং যালিমদের উপর আল্লাহর কথা সাব্যস্ত হয়ে গেছে। সুতরাং আর তাদের কোন কথা বলার অনুমতি নেই।কুরআন কারীমে কাফিরদের কথা বলা এবং ওযর পেশ করারও বর্ণনা রয়েছে। সুতরাং তখন ভাবার্থ হবে এই যে, হুজ্জত বা যুক্তি-প্রমাণ কায়েম হয়ে যাওয়ার পূর্বে তারা ওযর ইত্যাদি পেশ করবে। অতঃপর যখন সবকিছু ভেঙ্গে দেয়া হবে এবং যুক্তি-প্রমাণ পেশ হয়ে যাবে তখন কথা বলার এবং ওযর-আপত্তি পেশ করার আর কোন সুযোগ থাকবে না। মোটকথা, হাশরের ময়দানের বিভিন্ন পরিস্থিতি এবং জনগণের বিভিন্ন অবস্থা হবে। কোন সময় এটা হবে এবং কোন সময় ওটা হবে। এজন্যেই এখানে প্রত্যেক কথা বা বাক্যের শেষে অবিশ্বাসকারীদের দুর্ভোগের খবর দেয়া হয়েছে। এরপর ইরশাদ হচ্ছেঃ এটাই ফায়সালার দিন। এখানে আমি তোমাদেরকে এবং পূর্বদেরকে অর্থাৎ পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলকেই একত্রিত করেছি। এখন আমার বিরুদ্ধে তোমাদের কোন অপকৌশল থাকলে তা প্রয়োগ কর। এটা সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলার তাঁর বান্দাদের প্রতি কঠোর ধমক সূচক বাণী। তিনি কিয়ামতের দিন স্বয়ং কাফিরদেরকে বলবেনঃ তোমরা এখন নীরব রয়েছে কেন? আজ তোমাদের চালাকী-চতুরতার, সাহসিকতা এবং চক্রান্ত কোথায় গেল? দেখো, আজ আমি আমার ওয়াদা অনুযায়ী তোমাদের সকলকেই এক ময়দানে একত্রিত করেছি। যদি কোন কৌশল করে আমার হাত হতে ছুটে যাবার কোন পথ বের করতে পার তবে তাতে কোন ত্রুটি করো না। যেমন তিনি অন্য জায়গায় বলেনঃ ( আরবি )অর্থাৎ “ হে দানব ও মানব! আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সীমা তোমরা যদি অতিক্রম করতে পার তবে অতিক্রম কর, কিন্তু তোমরা তা পারবে না শক্তি ব্যতিরেকে ।( ৫৫:৩৩ ) অন্য এক জায়গায় আল্লাহ পাক বলেনঃ ( আরবি ) অর্থাৎ “ তোমরা তাঁর ( আল্লাহর ) কিছুই ক্ষতি করতে পারবে না । হযরত আবূ আবদিল্লাহ জাদালী ( রঃ ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ একদা আমি বায়তুল মুকাদ্দাসে গিয়ে দেখি যে, সেখানে হযরত উবাদাহ ইবনে সামিত ( রাঃ ), হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ( রাঃ ) এবং হযরত কা'ব আহবার ( রাঃ ) বসে রয়েছেন এবং পরস্পর আলাপ আলোচনা করছেন। আমিও তাদের পাশে বসে পড়লাম। হযরত উবাদাহ ইবনে সামিত ( রাঃ ) বললেন যে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলা পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলকেই এক সমতল ও পরিষ্কার ময়দানে একত্রিত করবেন। একজন আহ্বানকারী এসে সকলকে সতর্ক করে দিবেন। অতঃপর আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা বলবেনঃ ‘এটাই ফায়সালার দিন, আমি তোমাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তীদের একত্রিত করেছি। তোমাদের আমার বিরুদ্ধে কোন অপকৌশল থাকলে তা প্রয়োগ কর। জেনে রেখো যে, আজ কোন অহংকারী, উদ্ধত, অস্বীকারকারী এবং মিথ্যা প্রতিপন্নকারী আমার পাকড়াও হতে বাঁচতে পারে না। আর পারে না কোন নাফরমান শয়তান আমার আযাব হতে বাচতে।' তখন হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ( রাঃ ) বলেনঃ আমিও আপনাদেরকে একটি হাদীস শুনাচ্ছি। সেই দিন জাহান্নাম স্বীয় গ্রীবা উঁচু করে লোকদের মাঝে তা পৌঁছিয়ে দিয়ে উচ্চস্বরে বলবেঃ হে লোক সকল! তিন শ্রেণীর লোককে এখনই পাকড়াও করার আমাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আমি তাদেরকে ভালরূপেই চিনি। কোন পিতা তার পুত্রকে এবং কোন ভাই তার ভাইকে ততটা চিনে না যতটা আমি তাদেরকে চিনি। আজ তারা না নিজেরা আমার হতে লুকাতে পারে, না অন্য কেউ তাদেরকে আমার হতে লুকিয়ে রাখতে পারে। একশ্রেণীর লোক হলো ঐ ব্যক্তি যে আল্লাহর সাথে অন্যকে শরীক বানিয়ে নিয়েছে। দ্বিতীয় শ্রেণীর লোক হলো ঐ ব্যক্তি যে অবিশ্বাসকারী ও অহংকারী। আর তৃতীয় শ্রেণী হলো প্রত্যেক নাফরমান শয়তান। অতঃপর সে ঘুরে ঘুরে বেছে বেছে এই গুণাবলীর লোকদেরকে হাশরের ময়দান হতে বের করে নিবে এবং এক এক করে ধরে ধরে নিজের মধ্যে ফেলে দিবে। হিসাব গ্রহণের চল্লিশ বছর পূর্বেই তারা জাহান্নামের পেটে চলে যাবে।" ( এ হাদীসটি ইমাম ইবনে আবী হাতিম (রঃ ) বর্ণনা করেছেন)

সূরা মুরসালাত আয়াত 30 সূরা

انطلقوا إلى ظل ذي ثلاث شعب

سورة: المرسلات - آية: ( 30 )  - جزء: ( 29 )  -  صفحة: ( 581 )


English Türkçe Indonesia
Русский Français فارسی
تفسير Urdu اعراب

বাংলায় পবিত্র কুরআনের আয়াত

  1. যে ব্যক্তি রাত্রিকালে সেজদার মাধ্যমে অথবা দাঁড়িয়ে এবাদত করে, পরকালের আশংকা রাখে এবং তার পালনকর্তার
  2. আল্লাহ ও তাঁর রসূল কোন কাজের আদেশ করলে কোন ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীর সে
  3. যখন ফিরে যায় তখন চেষ্টা করে যাতে সেখানে অকল্যাণ সৃষ্টি করতে পারে এবং শস্যক্ষেত্র ও
  4. নবী ও মুমিনের উচিত নয় মুশরেকদের মাগফেরাত কামনা করে, যদিও তারা আত্নীয় হোক একথা সুস্পষ্ট
  5. আর তাদের উপর যখন কোন আযাব পড়ে তখন বলে, হে মূসা আমাদের জন্য তোমার পরওয়ারদেগারের
  6. নিশ্চয় লূত ছিলেন রসূলগণের একজন।
  7. নিশ্চয়ই ইলিয়াস ছিল রসূল।
  8. অতএব আমাদের কোন সুপারিশকারী নেই।
  9. পৃথিবীতে ঔদ্ধত্যের কারণে এবং কুচক্রের কারণে। কুচক্র কুচক্রীদেরকেই ঘিরে ধরে। তারা কেবল পূর্ববর্তীদের দশারই অপেক্ষা
  10. যেন তারা ইতস্ততঃ বিক্ষিপ্ত গর্দভ।

বাংলায় কোরআনের সূরা পড়ুন :

সুরত আল বাক্বারাহ্ আলে ইমরান সুরত আন-নিসা
সুরত আল-মায়েদাহ্ সুরত ইউসুফ সুরত ইব্রাহীম
সুরত আল-হিজর সুরত আল-কাহফ সুরত মারইয়াম
সুরত আল-হাজ্জ সুরত আল-ক্বাসাস আল-‘আনকাবূত
সুরত আস-সাজদা সুরত ইয়াসীন সুরত আদ-দুখান
সুরত আল-ফাতহ সুরত আল-হুজুরাত সুরত ক্বাফ
সুরত আন-নাজম সুরত আর-রাহমান সুরত আল-ওয়াক্বি‘আহ
সুরত আল-হাশর সুরত আল-মুলক সুরত আল-হাক্কাহ্
সুরত আল-ইনশিক্বাক সুরত আল-আ‘লা সুরত আল-গাশিয়াহ্

সবচেয়ে বিখ্যাত কোরআন তেলাওয়াতকারীদের কণ্ঠে সূরা মুরসালাত ডাউনলোড করুন:

সূরা Mursalat mp3 : উচ্চ মানের সাথে সম্পূর্ণ অধ্যায়টি Mursalat শুনতে এবং ডাউনলোড করতে আবৃত্তিকারকে বেছে নিন
সুরত মুরসালাত  ভয়েস আহমেদ আল-আজমি
আহমেদ আল-আজমি
সুরত মুরসালাত  ভয়েস ইব্রাহীম আল-আখদার
ইব্রাহীম আল-আখদার
সুরত মুরসালাত  ভয়েস বান্দার বেলাইলা
বান্দার বেলাইলা
সুরত মুরসালাত  ভয়েস খালিদ গালিলি
খালিদ গালিলি
সুরত মুরসালাত  ভয়েস হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
সুরত মুরসালাত  ভয়েস খলিফা আল টুনাইজি
খলিফা আল টুনাইজি
সুরত মুরসালাত  ভয়েস সাদ আল-গামদি
সাদ আল-গামদি
সুরত মুরসালাত  ভয়েস সৌদ আল-শুরাইম
সৌদ আল-শুরাইম
সুরত মুরসালাত  ভয়েস সালাহ আবু খাতর
সালাহ বুখাতীর
সুরত মুরসালাত  ভয়েস আবদুল বাসিত আব্দুল সামাদ
আবদ এল বাসেট
সুরত মুরসালাত  ভয়েস আবদুল রশিদ সুফি
আবদুল রশিদ সুফি
সুরত মুরসালাত  ভয়েস আব্দুল্লাহ্ বাস্‌ফার
আব্দুল্লাহ্ বাস্‌ফার
সুরত মুরসালাত  ভয়েস আবদুল্লাহ আওওয়াদ আল-জুহানী
আবদুল্লাহ আল-জুহানী
সুরত মুরসালাত  ভয়েস আলী আল-হুদায়েফি
আলী আল-হুদায়েফি
সুরত মুরসালাত  ভয়েস আলী জাবের
আলী জাবের
সুরত মুরসালাত  ভয়েস ফারেস আব্বাদ
ফারেস আব্বাদ
সুরত মুরসালাত  ভয়েস মাহের আলমাইকুলই
মাহের আলমাইকুলই
সুরত মুরসালাত  ভয়েস মোহাম্মদ আইয়ুব
মোহাম্মদ আইয়ুব
সুরত মুরসালাত  ভয়েস মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
সুরত মুরসালাত  ভয়েস মুহাম্মাদ জিব্রীল
মুহাম্মাদ জিব্রীল
সুরত মুরসালাত  ভয়েস মুহাম্মদ সিদ্দিক আল মিনশাবি
আল-মিনশাবি
সুরত মুরসালাত  ভয়েস আল হোসারি
আল হোসারি
সুরত মুরসালাত  ভয়েস আল-আফসী
মিশারী আল-আফসী
সুরত মুরসালাত  ভয়েস নাসের আল কাতামি
নাসের আল কাতামি
সুরত মুরসালাত  ভয়েস ইয়াসের আল-দোসারি
ইয়াসের আল-দোসারি


Tuesday, June 9, 2026

Please remember us in your sincere prayers