কোরান সূরা আবাসা আয়াত 33 তাফসীর

  1. Mokhtasar
  2. Ahsanul Bayan
  3. AbuBakr Zakaria
  4. Ibn Kathir
Surah Abasa ayat 33 Bangla tafsir - তাফসীর ইবনে কাসীর - Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান - Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স - বাংলা ভাষায় নোবেল কোরআনের অর্থের অনুবাদ উর্দু ভাষা ও ইংরেজি ভাষা & তাফসীর ইবনে কাসীর : সূরা আবাসা আয়াত 33 আরবি পাঠে(Abasa).
  
   

﴿فَإِذَا جَاءَتِ الصَّاخَّةُ﴾
[ عبس: 33]

অতঃপর যেদিন কর্ণবিদারক নাদ আসবে, [সূরা আবাসা: 33]

Surah Abasa in Bangla

জহুরুল হক সূরা বাংলা Surah Abasa ayat 33


তারপর যেদিন কান-ফাটানো আওয়াজ আসবে --


Tafsir Mokhtasar Bangla


৩৩. অতঃপর যখন শ্রবণশক্তি হরণকারী দ্বিতীয় শিঙ্গাধ্বনি এসে পড়বে।

Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান


অতঃপর যখন ( কিয়ামতের ) ধ্বংস-ধ্বনি এসে পড়বে। [১] [১] কিয়ামতকে صاخّة শ্রবণশক্তি হরণকারী ধ্বংস-ধ্বনি এই জন্য বলা হয়েছে যে, এটা অতি ভয়ংকর আওয়াজের সাথে সংঘটিত হবে এবং তা কর্ণকে বধির করে ফেলবে।

Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স


অতঃপর যখন তীক্ষ্ন আওয়াজ আসবে [] , [] আয়াতে বর্ণিত الصاخة শব্দটির মূল অর্থ হলো, ‘এমন কঠোর ডাক যার ফলে মানুষ শ্রবণশক্তি হারিয়ে ফেলে।’ এখানে কিয়ামতের দ্বিতীয় শিংগাধ্বনির কথা বলা হয়েছে। যা পুনরুত্থানের শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া বোঝায়। এই বিকট আওয়ায বুলন্দ হবার সাথে সাথেই মরা মানুষেরা জীবিত হয়ে উঠবে এবং কেয়ামতের মাঠে উপস্থিত হবে। [ মুয়াসসার, জালালাইন ]

Tafsir ibn kathir bangla তাফসীর ইবনে কাসীর


৩৩-৪২ নং আয়াতের তাফসীরহযরত ইবনে আব্বাস ( রাঃ ) বলেন যে, ( আরবি ) কিয়ামতের একটি নাম। এ নামের কারণ এই যে, কিয়ামতের শিংগার আওয়াজ ও শোরগোলে কানের পর্দা ফেটে যাবে। সেদিন মানুষ তার নিকটাত্মীয়দেরকে দেখবে কিন্তু তাদেরকে দেখে পালিয়ে যাবে। কেউ কারো কোন কাজে আসবে না। স্বামী তার স্ত্রীকে দেখে বলবেঃ আমি পৃথিবীতে তোমার সাথে কিরূপ ব্যবহার করেছিলাম? স্ত্রী উত্তরে বলবেঃ নিঃসন্দেহে আপনি আমার সাথে খুবই ভাল ব্যবহার করেছিলেন। আমাকে খুবই ভালবাসতেন। এ কথা শুনে স্বামী বলবেঃ আজ আমার একটি মাত্র পুণ্যের প্রয়োজন, তাহলেই আমি আজকের এই মহা বিপদ থেকে মুক্তি পেতে পারি। ঐ একটি পুণ্য তুমি আমাকে দাও। স্ত্রী বলবেঃ আপনি তো সামান্য জিনিসই চেয়েছেন, কিন্তু আমি যে অক্ষম! আজ পুণ্যের আমার নিজেরই একান্ত প্রয়োজন। আশংকা করছি আমিও বিপদে পড়ি না কি? কাজেই পুণ্য দেয়া সম্ভব নয়। পুত্র পিতার সাথে দেখা করে একই রকম আবেদন-নিবেদন জানাবে এবং একই রকম জবাব পাবে। সহীহ্ হাদীসে শাফাআত প্রসঙ্গে বর্ণনা করতে গিয়ে রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) বলেনঃ বড় বড় পয়গাম্বরদের কাছে জনগণ শাফাআতের জন্যে আবেদন জানাবে, কিন্তু তাঁদের প্রত্যেকেই বলবেনঃ “ ইয়া নাফসী, ইয়া নাফসী!' এমনকি হ্যরত ঈসা রুহুল্লাহ্ ( আঃ ) পর্যন্ত বলবেনঃ আজ আল্লাহ্ তা'আলার কাছে নিজের প্রাণ ছাড়া অন্য কারো জন্যে আমি কিছুই বলবো না । এমনকি যার গর্ভ থেকে আমি ভূমিষ্ট হয়েছি সেই মা জননী হযরত মরিয়ম ( আঃ )-এর জন্যেও কিছু বলবো না। মোটকথা, বন্ধু বন্ধুর কাছ থেকে, আত্মীয় আত্মীয়ের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে চলে যাবে। প্রত্যেকেই নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত ও বিব্রত থাকবে। অন্যের প্রতি কেউ ক্ষেপ করবে না। রাসূলুল্লাহ( সঃ ) বলেনঃ “ তোমরা নগ্নপদে, নগ্নদেহে খত্নাবিহীন অবস্থায় আল্লাহ্র কাছে জমায়েত হবে ।” এ কথা শুনে তার এক স্ত্রী বলেনঃ “ হে আল্লাহ্র রাসূল ( সঃ )! তাহলে তো অন্যের লজ্জাস্থানের প্রতি চোখ পড়বে!” রাসূলুল্লাহ্ বললেন! ঐ মহা প্রলয়ের দিনে সব মানুষ এতো ব্যস্ত থাকবে যে, অন্যের প্রতি তাকানোর সুযোগ কারো থাকবে না ।( এ হাদীসটি ইমাম ইবনে আবি হাতিম (রঃ ) বর্ণনা করেছেন)কোন কোন বর্ণনায় আছে যে, অতঃপর আল্লাহর নবী ( সঃ ) ( আরবি ) আয়াতটি তিলাওয়াত করেন।অন্য এক বর্ণনায় উল্লেখ আছে যে, রাসূলুল্লাহ ( সঃ )-এর ঐ স্ত্রী ছিলেন হযরত আয়েশা সিদ্দীকা ( রাঃ ) হযরত আয়েশা ( রাঃ ) রাসূলুল্লাহ( সঃ )-কে বলেনঃ “ হে আল্লাহর রাসূল ( সঃ )! আমার পিতা-মাতা আপনার প্রতি নিবেদিত হোক! আমি আপনাকে একটি কথা জিজ্ঞেস করছি, আপনি তার উত্তর দিন ।রাসূলুল্লাহ( সঃ ) বললেনঃ “ জানা থাকলে অবশ্যই উত্তর দিবো । হযরত আয়েশা ( রাঃ ) তখন জিজ্ঞেস করলেনঃ “ মানুষের হাশর কিভাবে হবে?” রাসূলুল্লাহ( সঃ ) উত্তর দিলেনঃ আল্লাহর নবী ( সঃ ) উত্তর দিলেনঃ “নগ্নপায়ে ও নগ্নদেহে ।” কিছুক্ষণ পর হযরত আয়েশা জিজ্ঞেস করলেনঃ “ মহিলারাও কি ঐ অবস্থায় থাকবে?” রাসূলুল্লাহ( সঃ ) উত্তরে বললেনঃ “হ্যা ।” এ কথা শুনে উম্মুল মুমিনীন দুঃখ করতে লাগলেন। তখন আল্লাহর নবী ( সঃ ) বললেনঃ “ হে আয়েশা ( রাঃ )! এই আয়াতটি শোননা, তারপর পোশাক পরিধান করা না করা নিয়ে তোমার কোন আফসোস বা দুঃখ থাকবে না । হযরত আয়েশা ( রাঃ ) জিজ্ঞেস করলেনঃ “ কোন্ আয়াত?” জবাবে রাসূলুল্লাহ( সাঃ ) ( আরবি )-এ আয়াতটি পাঠ করলেন । অন্য এক বর্ণনায় উম্মুল মুমিনীন হযরত সাওদা ( রাঃ ) -এর জিজ্ঞেস করার কথা উল্লিখিত হয়েছে। সব মানুষ নগ্নপায়ে, নগ্নদেহে খত্নাবিহীন অবস্থায় হাশরের মাঠে সমবেত হবে। কেউ কান পর্যন্ত ঘামের মধ্যে ডুবে যাবে, কারো মুখ পর্যন্ত ঘাম পৌছবে তারপর রাসূলুল্লাহ( সাঃ ) এই আয়াত তিলাওয়াত করেন।এরপর আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ সেখানে লোকদের দুটি দল হবে। এক দলের চেহারা আনন্দে চমকাতে থাকবে। তাদের মন নিশ্চিন্ত ও পরিতৃপ্ত থাকবে। তাদের মুখমণ্ডল সুদর্শন এবং উজ্জ্বল হয়ে উঠবে। তারা হবে জান্নাতি দল। আর একটি দল হবে জাহান্নামীদের। তাদের চেহারা মসিলিপ্ত, কালিমাময় ও মলিন থাকবে। হাদীস শরীফে আছে যে, তাদের ঘাম হবে তাদের জন্যে লাগামের মত। তারা ধূলি-মলিন অবস্থায় পড়ে থাকবে। এরা সেই দল যাদের মনে কুফরী ছিল এবং আমল ছিল পাপে পরিপূর্ণ। যেমন অন্য এক জায়গায় আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ ( আরবি ) অর্থাৎ “ তারা জন্ম দিতে থাকবে শুধু দুষ্কৃতিকারী কাফির ।( ৭১:২৭ )

সূরা আবাসা আয়াত 33 সূরা

فإذا جاءت الصاخة

سورة: عبس - آية: ( 33 )  - جزء: ( 30 )  -  صفحة: ( 585 )


English Türkçe Indonesia
Русский Français فارسی
تفسير Urdu اعراب

বাংলায় পবিত্র কুরআনের আয়াত

  1. মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ তা’আলার কাছে তওবা কর-আন্তরিক তওবা। আশা করা যায়, তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের মন্দ
  2. আপনার কাছে ইব্রাহীমের সম্মানিত মেহমানদের বৃত্তান্ত এসেছে কি?
  3. স্বর্ণ খচিত সিংহাসন।
  4. নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের গোপন রহস্য আল্লাহর কাছেই রয়েছে। কিয়ামতের ব্যাপারটি তো এমন, যেমন চোখের পলক
  5. তিনিই আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছেন। তাতে কিছু আয়াত রয়েছে সুস্পষ্ট, সেগুলোই কিতাবের আসল অংশ।
  6. আর যাদেরকে আমি সৃষ্টি করেছি, তাদের মধ্যে এমন এক দল রয়েছে যারা সত্য পথ দেখায়
  7. আর যখন আপনি তাদের নিকট কোন নিদর্শন নিয়ে না যান, তখন তারা বলে, আপনি নিজের
  8. তারা বিশ্বাস করে না বলে আপনি হয়তো মর্মব্যথায় আত্নঘাতী হবেন।
  9. হে লোক সকল! তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় কর। নিশ্চয় কেয়ামতের প্রকম্পন একটি ভয়ংকর ব্যাপার।
  10. সে বলল, এ জ্ঞান তো আল্লাহর কাছেই রয়েছে। আমি যে বিষয়সহ প্রেরিত হয়েছি, তা তোমাদের

বাংলায় কোরআনের সূরা পড়ুন :

সুরত আল বাক্বারাহ্ আলে ইমরান সুরত আন-নিসা
সুরত আল-মায়েদাহ্ সুরত ইউসুফ সুরত ইব্রাহীম
সুরত আল-হিজর সুরত আল-কাহফ সুরত মারইয়াম
সুরত আল-হাজ্জ সুরত আল-ক্বাসাস আল-‘আনকাবূত
সুরত আস-সাজদা সুরত ইয়াসীন সুরত আদ-দুখান
সুরত আল-ফাতহ সুরত আল-হুজুরাত সুরত ক্বাফ
সুরত আন-নাজম সুরত আর-রাহমান সুরত আল-ওয়াক্বি‘আহ
সুরত আল-হাশর সুরত আল-মুলক সুরত আল-হাক্কাহ্
সুরত আল-ইনশিক্বাক সুরত আল-আ‘লা সুরত আল-গাশিয়াহ্

সবচেয়ে বিখ্যাত কোরআন তেলাওয়াতকারীদের কণ্ঠে সূরা আবাসা ডাউনলোড করুন:

সূরা Abasa mp3 : উচ্চ মানের সাথে সম্পূর্ণ অধ্যায়টি Abasa শুনতে এবং ডাউনলোড করতে আবৃত্তিকারকে বেছে নিন
সুরত আবাসা  ভয়েস আহমেদ আল-আজমি
আহমেদ আল-আজমি
সুরত আবাসা  ভয়েস ইব্রাহীম আল-আখদার
ইব্রাহীম আল-আখদার
সুরত আবাসা  ভয়েস বান্দার বেলাইলা
বান্দার বেলাইলা
সুরত আবাসা  ভয়েস খালিদ গালিলি
খালিদ গালিলি
সুরত আবাসা  ভয়েস হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
সুরত আবাসা  ভয়েস খলিফা আল টুনাইজি
খলিফা আল টুনাইজি
সুরত আবাসা  ভয়েস সাদ আল-গামদি
সাদ আল-গামদি
সুরত আবাসা  ভয়েস সৌদ আল-শুরাইম
সৌদ আল-শুরাইম
সুরত আবাসা  ভয়েস সালাহ আবু খাতর
সালাহ বুখাতীর
সুরত আবাসা  ভয়েস আবদুল বাসিত আব্দুল সামাদ
আবদ এল বাসেট
সুরত আবাসা  ভয়েস আবদুল রশিদ সুফি
আবদুল রশিদ সুফি
সুরত আবাসা  ভয়েস আব্দুল্লাহ্ বাস্‌ফার
আব্দুল্লাহ্ বাস্‌ফার
সুরত আবাসা  ভয়েস আবদুল্লাহ আওওয়াদ আল-জুহানী
আবদুল্লাহ আল-জুহানী
সুরত আবাসা  ভয়েস আলী আল-হুদায়েফি
আলী আল-হুদায়েফি
সুরত আবাসা  ভয়েস আলী জাবের
আলী জাবের
সুরত আবাসা  ভয়েস ফারেস আব্বাদ
ফারেস আব্বাদ
সুরত আবাসা  ভয়েস মাহের আলমাইকুলই
মাহের আলমাইকুলই
সুরত আবাসা  ভয়েস মোহাম্মদ আইয়ুব
মোহাম্মদ আইয়ুব
সুরত আবাসা  ভয়েস মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
সুরত আবাসা  ভয়েস মুহাম্মাদ জিব্রীল
মুহাম্মাদ জিব্রীল
সুরত আবাসা  ভয়েস মুহাম্মদ সিদ্দিক আল মিনশাবি
আল-মিনশাবি
সুরত আবাসা  ভয়েস আল হোসারি
আল হোসারি
সুরত আবাসা  ভয়েস আল-আফসী
মিশারী আল-আফসী
সুরত আবাসা  ভয়েস নাসের আল কাতামি
নাসের আল কাতামি
সুরত আবাসা  ভয়েস ইয়াসের আল-দোসারি
ইয়াসের আল-দোসারি


Friday, June 5, 2026

Please remember us in your sincere prayers