কোরান সূরা মুদ্দাছ্ছির আয়াত 48 তাফসীর

  1. Mokhtasar
  2. Ahsanul Bayan
  3. AbuBakr Zakaria
  4. Ibn Kathir
Surah Muddathir ayat 48 Bangla tafsir - তাফসীর ইবনে কাসীর - Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান - Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স - বাংলা ভাষায় নোবেল কোরআনের অর্থের অনুবাদ উর্দু ভাষা ও ইংরেজি ভাষা & তাফসীর ইবনে কাসীর : সূরা মুদ্দাছ্ছির আয়াত 48 আরবি পাঠে(Muddathir).
  
   

﴿فَمَا تَنفَعُهُمْ شَفَاعَةُ الشَّافِعِينَ﴾
[ المدثر: 48]

অতএব, সুপারিশকারীদের সুপারিশ তাদের কোন উপকারে আসবে না। [সূরা মুদ্দাছ্ছির: 48]

Surah Al-Muddaththir in Bangla

জহুরুল হক সূরা বাংলা Surah Muddathir ayat 48


ফলে সুপারিশকারীদের সুপারিশ তাদের কোনো কাজে আসবে না।


Tafsir Mokhtasar Bangla


৪৮. ফলে কিয়ামত দিবসে ফিরিশতা, নবী ও সজ্জনদের মধ্য হতে কোন সুপারিশকারীর মধ্যস্থতা তাদের উপকারে আসবে না। কেননা, সুপারিশ কবুলের শর্ত হলো সুপারিশকৃত ব্যক্তির উপর আল্লাহর সন্তুষ্টি।

Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান


ফলে সুপারিশকারীদের সুপারিশ তাদের কোন কাজে আসবে না। [১] [১] অর্থাৎ, যে ব্যক্তির মধ্যে উল্লিখিত ( মন্দ ) গুণগুলো বর্তমান থাকবে, তার জন্য কারো সুপারিশও কোন উপকারে আসবে না। কারণ, সে কুফরীর কারণে সুপারিশ পাওয়ার অনুমতিই লাভ করবে না। সুপারিশ তো কেবল তার জন্য উপকারী হবে, যে ঈমানের কারণে শাফাআত লাভের যোগ্য হবে। আল্লাহর পক্ষ থেকে সুপারিশ করার অনুমতি কেবল তাদের জন্যই হবে, সবার জন্য নয়।

Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স


ফলে সুপারিশকারীদের সুপারিশ তাদের কোন উপকার করবে না []। [] এখানে هُم সর্বনাম দ্বারা সেসব অপরাধীকে বোঝানো হয়েছে, পূর্বের আয়াতে যারা তাদের চারটি অপরাধ স্বীকার করেছে- [] তারা সালাত আদায় করত না, [] তারা কোন অভাবগ্ৰস্ত ফকীরকে আহার্য দিত না; অর্থাৎ দরিদ্রদের প্রয়োজনে ব্যয় করত না, [] ভ্ৰান্ত লোকেরা ইসলাম ও ঈমানের বিরুদ্ধে যেসব কথাবার্তা বলত অথবা গোনাহ ও অশ্লীল কাজে লিপ্ত হত, তারাও তাদের সাথে তাতে লিপ্ত হত এবং সম্পর্কহীনতা প্রকাশ করত না, [] তারা কেয়ামত অস্বীকার করত। এর দ্বারা প্রমাণিত হল যে, যেসব অপরাধী এসব গোনাহ করে এবং কেয়ামত অস্বীকার করার মত কুফরী করে, তাদের জন্যে কারও সুপারিশ উপকারী হবে না। কেননা, তারা কাফের। কাফেরদের জন্যে সুপারিশ করার অনুমতি কাউকে দেয়া হবে না। কেউ করলে গ্রহনীয় হবে না। [ দেখুন: ইবন কাসীর; বাগভী; বাদা’ই‘উত তাফসীর ] কুরআনের অন্যান্য আয়াত ও অনেক সহীহ্ হাদীসে প্রমাণিত আছে যে, নবী-রাসূলগণ, শহীদগণ এবং সৎকর্মপরায়ণগণ-এমন কি সাধারণ মুমিনগণও আল্লাহ্র পক্ষ থেকে অনুমতি প্ৰাপ্তির পর অন্যান্য মুমিনদের জন্যে সুপারিশ করবেন এবং তা কবুলও হবে। তবে কাফের মুশরিকদের কারও জন্য কোন সুপারিশ কাজে আসবে না।

Tafsir ibn kathir bangla তাফসীর ইবনে কাসীর


৩৮-৫৬ নং আয়াতের তাফসীর আল্লাহ তা’আলা বলেন যে, কিয়ামতের দিন প্রত্যেককেই তার আমলের উপর পাকড়াও করা হবে। কিন্তু যাদের ডান হাতে আমলনামা দেয়া হবে তারা স্বর্গোদ্যানে শান্তিতে বসে থাকবে। তারা জাহান্নামীদেরকে নিকৃষ্ট শাস্তির মধ্যে দেখে তাদেরকে বলবেঃ কিসে তোমাদেরকে জাহান্নামে নিয়ে এসেছে? তারা উত্তরে বলবেঃ আমরা আমাদের প্রতিপালকের ইবাদত করিনি এবং তাঁর সৃষ্টজীবের সাথে সদ্ব্যবহার করিনি। অজ্ঞতা বশতঃ আমাদের মুখে যা এসেছে তা-ই বলেছি। যেখানেই কাউকেও প্রতিবাদ করতে দেখেছি সেখানেই আমরা তাদের সঙ্গে হয়ে গেছি এবং কিয়ামতকেও অস্বীকার করেছি। শেষ পর্যন্ত আমাদের মৃত্যু হয়ে গেছে। এখানে দ্বারা মৃত্যুকে বুঝানো হয়েছে। যেমন, নিম্নের আয়াতেও মৃত্যু অর্থে শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছেঃ ( আরবি )অর্থাৎ “ মৃত্যু আসা পর্যন্ত তুমি তোমার প্রতিপালকের ইবাদত করতে থাকবে ।" ( ১৫:৯৯ ) হযরত উসমান ইবনে মাযউন ( রাঃ )-এর মৃত্যু সম্পৰ্কীয় হাদীসেও শব্দটি মৃত্যু অর্থে ব্যবহৃত হতে দেখা যায়। রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) বলেনঃ ( আরবি ) অর্থাৎ “ তার প্রতিপালকের পক্ষ হতে তার নিকট মৃত্যু এসে গেছে ।”মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ ফলে সুপারিশকারীদের সুপারিশ তাদের কোন কাজে আসবে না। কেননা, শাফাআতের পাত্রের ব্যাপারেই শুধু শাফাআত ফলদায়ক হয়ে থাকে। কিন্তু যার প্রাণটিও কুফরীর উপরই বের হয়েছে তার জন্যে সুপারিশ কি করে ফলদায়ক হতে পারে? সে চিরতরে হাবিয়াহ জাহান্নামে জ্বলতে থাকবে।এরপর প্রবল পরাক্রান্ত আল্লাহ বলেনঃ তাদের কী হয়েছে যে, তারা উপদেশ হতে মুখ ফিরিয়ে নেয়? তারা যেমন ভীত-এস্ত গর্দভ যা সিংহের সম্মুখ হতে পলায়নপর। ফারসী ভাষায় যাকে ( আরবি ) বলে, আরবী ভাষায় তাকে ( আরবি ) বা সিংহ। বলে। আর হাবশী ভাষায় তাকে ( আরবি ) বলা হয়।এরপর ইরশাদ হচ্ছেঃ বস্তুতঃ তাদের প্রত্যেকেই কামনা করে যে, তাকে একটি উন্মুক্ত গ্রন্থ দেয়া হোক। যেমন অন্য জায়গায় রয়েছেঃ ( আরবি )অর্থাৎ “ যখন তাদের নিকট কোন নিদর্শন আসে তখন তারা বলেঃ আল্লাহর রাসূলদেরকে যা দেয়া হয়েছে আমাদেরকে তা না দেয়া পর্যন্ত আমরা কখনো বিশ্বাস করবো না । আল্লাহ রিসালাতের ভার কার উপর অর্পণ করবেন তা তিনিই ভাল জানেন।" ( ৬:১২৪ )হযরত কাতাদাহ ( রঃ ) হতে বর্ণিত আছে যে, এর ভাবার্থ এও হতে পারেঃ তারা চায় যে, তাদেরকে বিনা আমলেই ছেড়ে দেয়া হোক।মহান আল্লাহ বলেনঃ প্রকৃত কারণ এই যে, তারা আখিরাতের ভয় পোষণ করে না। কারণ কিয়ামত যে সংঘটিত হবে এ বিশ্বাসই তাদের নেই। সুতরাং যেটাকে তারা বিশ্বাসই করে না সেটাকে ভয় করবে কি করে?মহান আল্লাহ বলেনঃ প্রকৃত কথা এই যে, কুরআনই সকলের জন্যে উপদেশ বাণী। অতএব, যার ইচ্ছা সে এটা হতে উপদেশ গ্রহণ করুক। তবে আল্লাহর ইচ্ছা ব্যতিরেকে কেউ উপদেশ গ্রহণ করবে না। যেমন আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা অন্য জায়গায় বলেনঃ ( আরবি ) অর্থাৎ “ তোমরা ইচ্ছা করবে না যদি না আল্লাহ ইচ্ছা করেন ।" ( ৭৬:৩০ ) অর্থাৎ তোমাদের চাওয়া আল্লাহর চাওয়ার উপর নির্ভরশীল।পরিশেষে মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ একমাত্র তিনিই ( আল্লাহই ) ভয়ের যোগ্য এবং তিনিই ক্ষমা করার অধিকারী।মুসনাদে আহমাদে হযরত আনাস ইবনে মালিক ( রাঃ ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) ( আরবি )-এ আয়াতটি পাঠ করে বলেন, আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ “ একমাত্র আমিই ভয়ের যোগ্য, সুতরাং একমাত্র আমাকেই ভয় করতে হবে এবং আমার সাথে অন্য কাউকেও শরীক করা চলবে না । যে ব্যক্তি আমার সাথে শরীক করা হতে বেঁচে গেল সে আমার ক্ষমা প্রাপ্তির যোগ্য হয়ে গেল।” ( এ হাদীসটি ইমাম তিরমিযী (রঃ ), ইমাম ইবনে মাজাহ ( রঃ ) এবং ইমাম নাসাঈও ( রঃ ) বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম তিরমিযী ( রঃ ) এটাকে হাসান গারীব বলেছেন)

সূরা মুদ্দাছ্ছির আয়াত 48 সূরা

فما تنفعهم شفاعة الشافعين

سورة: المدثر - آية: ( 48 )  - جزء: ( 29 )  -  صفحة: ( 577 )


English Türkçe Indonesia
Русский Français فارسی
تفسير Urdu اعراب

বাংলায় পবিত্র কুরআনের আয়াত

  1. যখন তাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে কিতাব এসে পৌঁছাল, যা সে বিষয়ের সত্যায়ন করে, যা
  2. তাদের জন্যে এটা কি নিদর্শন নয় যে, বনী-ইসরাঈলের আলেমগণ এটা অবগত আছে?
  3. আপনি এ কোরআন দ্বারা তাদেরকে ভয়-প্রদর্শন করুন, যারা আশঙ্কা করে স্বীয় পালনকর্তার কাছে এমতাবস্থায় একত্রিত
  4. লূতের সম্প্রদায় পয়গম্বরগণকে মিথ্যাবাদী বলেছে।
  5. বরং পরকাল সম্পর্কে তাদের জ্ঞান নিঃশেষ হয়ে গেছে; বরং তারা এ বিষয়ে সন্দেহ পোষন করছে
  6. তারা বলল, আমাদের কষ্ট ছিল তোমার আসার পূর্বে এবং তোমার আসার পরে। তিনি বললেন, তোমাদের
  7. তোমরা তোমাদের কথা গোপনে বল অথবা প্রকাশ্যে বল, তিনি তো অন্তরের বিষয়াদি সম্পর্কে সম্যক অবগত।
  8. নিশ্চয় বিচার দিবস নির্ধারিত রয়েছে।
  9. আর যেদিন আমি তাদের সবাইকে সমবেত করব; আর যারা শেরক করত তাদেরকে বলবঃ তোমরা এবং
  10. তারা আরও বলেছে, আমরা ধনে-জনে সমৃদ্ধ, সুতরাং আমরা শাস্তিপ্রাপ্ত হব না।

বাংলায় কোরআনের সূরা পড়ুন :

সুরত আল বাক্বারাহ্ আলে ইমরান সুরত আন-নিসা
সুরত আল-মায়েদাহ্ সুরত ইউসুফ সুরত ইব্রাহীম
সুরত আল-হিজর সুরত আল-কাহফ সুরত মারইয়াম
সুরত আল-হাজ্জ সুরত আল-ক্বাসাস আল-‘আনকাবূত
সুরত আস-সাজদা সুরত ইয়াসীন সুরত আদ-দুখান
সুরত আল-ফাতহ সুরত আল-হুজুরাত সুরত ক্বাফ
সুরত আন-নাজম সুরত আর-রাহমান সুরত আল-ওয়াক্বি‘আহ
সুরত আল-হাশর সুরত আল-মুলক সুরত আল-হাক্কাহ্
সুরত আল-ইনশিক্বাক সুরত আল-আ‘লা সুরত আল-গাশিয়াহ্

সবচেয়ে বিখ্যাত কোরআন তেলাওয়াতকারীদের কণ্ঠে সূরা মুদ্দাছ্ছির ডাউনলোড করুন:

সূরা Muddathir mp3 : উচ্চ মানের সাথে সম্পূর্ণ অধ্যায়টি Muddathir শুনতে এবং ডাউনলোড করতে আবৃত্তিকারকে বেছে নিন
সুরত মুদ্দাছ্ছির  ভয়েস আহমেদ আল-আজমি
আহমেদ আল-আজমি
সুরত মুদ্দাছ্ছির  ভয়েস ইব্রাহীম আল-আখদার
ইব্রাহীম আল-আখদার
সুরত মুদ্দাছ্ছির  ভয়েস বান্দার বেলাইলা
বান্দার বেলাইলা
সুরত মুদ্দাছ্ছির  ভয়েস খালিদ গালিলি
খালিদ গালিলি
সুরত মুদ্দাছ্ছির  ভয়েস হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
সুরত মুদ্দাছ্ছির  ভয়েস খলিফা আল টুনাইজি
খলিফা আল টুনাইজি
সুরত মুদ্দাছ্ছির  ভয়েস সাদ আল-গামদি
সাদ আল-গামদি
সুরত মুদ্দাছ্ছির  ভয়েস সৌদ আল-শুরাইম
সৌদ আল-শুরাইম
সুরত মুদ্দাছ্ছির  ভয়েস সালাহ আবু খাতর
সালাহ বুখাতীর
সুরত মুদ্দাছ্ছির  ভয়েস আবদুল বাসিত আব্দুল সামাদ
আবদ এল বাসেট
সুরত মুদ্দাছ্ছির  ভয়েস আবদুল রশিদ সুফি
আবদুল রশিদ সুফি
সুরত মুদ্দাছ্ছির  ভয়েস আব্দুল্লাহ্ বাস্‌ফার
আব্দুল্লাহ্ বাস্‌ফার
সুরত মুদ্দাছ্ছির  ভয়েস আবদুল্লাহ আওওয়াদ আল-জুহানী
আবদুল্লাহ আল-জুহানী
সুরত মুদ্দাছ্ছির  ভয়েস আলী আল-হুদায়েফি
আলী আল-হুদায়েফি
সুরত মুদ্দাছ্ছির  ভয়েস আলী জাবের
আলী জাবের
সুরত মুদ্দাছ্ছির  ভয়েস ফারেস আব্বাদ
ফারেস আব্বাদ
সুরত মুদ্দাছ্ছির  ভয়েস মাহের আলমাইকুলই
মাহের আলমাইকুলই
সুরত মুদ্দাছ্ছির  ভয়েস মোহাম্মদ আইয়ুব
মোহাম্মদ আইয়ুব
সুরত মুদ্দাছ্ছির  ভয়েস মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
সুরত মুদ্দাছ্ছির  ভয়েস মুহাম্মাদ জিব্রীল
মুহাম্মাদ জিব্রীল
সুরত মুদ্দাছ্ছির  ভয়েস মুহাম্মদ সিদ্দিক আল মিনশাবি
আল-মিনশাবি
সুরত মুদ্দাছ্ছির  ভয়েস আল হোসারি
আল হোসারি
সুরত মুদ্দাছ্ছির  ভয়েস আল-আফসী
মিশারী আল-আফসী
সুরত মুদ্দাছ্ছির  ভয়েস নাসের আল কাতামি
নাসের আল কাতামি
সুরত মুদ্দাছ্ছির  ভয়েস ইয়াসের আল-দোসারি
ইয়াসের আল-দোসারি


Friday, June 5, 2026

Please remember us in your sincere prayers