কোরান সূরা হুদ আয়াত 53 তাফসীর
﴿قَالُوا يَا هُودُ مَا جِئْتَنَا بِبَيِّنَةٍ وَمَا نَحْنُ بِتَارِكِي آلِهَتِنَا عَن قَوْلِكَ وَمَا نَحْنُ لَكَ بِمُؤْمِنِينَ﴾
[ هود: 53]
তারা বলল-হে হুদ, তুমি আমাদের কাছে কোন প্রমাণ নিয়ে আস নাই, আমরা তোমার কথায় আমাদের দেব-দেবীদের বর্জন করতে পারি না আর আমরা তোমার প্রতি ঈমান আনয়নকারীও নই। [সূরা হুদ: 53]
Surah Hud in Banglaজহুরুল হক সূরা বাংলা Surah Hud ayat 53
তারা বললে -- ''হে হূদ! তুমি আমাদের কাছে কোনো স্পষ্ট প্রমাণ আন নি, আর তোমার কথায় আমরা আমাদের দেবতাদের পরিত্যাগ করতে যাচ্ছি না, আর তোমার প্রতি আমরা বিশ্বাসীও নই।
Tafsir Mokhtasar Bangla
৫৩. তাঁর জাতির লোকেরা বলল: ওহে হূদ! তুমি আমাদের নিকট এমন স্পষ্ট দলীল নিয়ে আসলে না যা আমাদেরকে তোমার প্রতি ঈমানদার বানিয়ে দিবে। আমরা আমাদের উপাস্যদের ইবাদত তোমার দলীলবিহীন কথার কারণে ছেড়ে দিতে পারি না। আর আমরা তোমার এমন দাবির প্রতি ঈমান আনবো না যে, তুমি একজন রাসূল।
Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান
তারা বলল, ‘হে হূদ! তুমি তো আমাদের সামনে কোন প্রমাণ উপস্থাপন করনি। আর তোমার কথায় আমরা আমাদের উপাস্যদেরকে বর্জন করব না এবং আমরা তোমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপনকারী নই।[১] [১] একজন নবী সর্বপ্রকার দলীল ও প্রমাণ পেশ করার পূর্ণ ক্ষমতা রাখেন। কিন্তু চামচিকা-চোখোদের তা নজরে আসে না। হূদ ( আঃ )-এর সম্প্রদায়ও ধৃষ্টতা প্রকাশ করে বলেছিল যে, আমরা প্রমাণ ব্যতীত শুধু তোমার কথামত আমাদের উপাস্যদেরকে কিভাবে বর্জন করব?
Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স
তারা বলল, ‘হে হূদ! তুমি আমাদের কাছে কোন স্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে আসনি [ ১ ],তোমার কথায় আমরা আমাদের উপাস্যদেরকে পরিত্যাগকারী নই এবং আমরা তোমার প্রতি বিশ্বাসীও নই। [ ১ ] অর্থাৎ আপনি আপনার দাবীর স্বপক্ষে এমন কোন দ্ব্যর্থহীন আলামত অথবা কোন সুস্পষ্ট দলীল নিয়ে আসেননি যার ভিত্তিতে আমরা নিসংশয়ে জানতে পারি যে, আল্লাহ আপনাকে পাঠিয়েছেন এবং যে কথা আপনি পেশ করছেন তা সত্য। [ কুরতুবী; ইবন কাসীর ] এখানে যদি কাফেররা তাদের পক্ষ থেকে দাবীকৃত কোন সুনির্দিষ্ট দলীল-প্রমাণের কথা বলে থাকে তবে সেটাই আনতে হবে এমন কোন বাধ্য-বাধকতা নেই। বরং নবী-রাসূলগণ এমন নিদর্শন নিয়ে আসেন যা দেখে তাদের দাবীর সত্যতা ও বিশুদ্ধতা প্রমাণিত হয়। আর যদি তাদের উদ্দেশ্য হয় এটা যে, তিনি তাদের কাছে এমন কোন স্পষ্ট প্রমাণাদি নিয়ে আসেননি যা তার কথার সত্যতার প্রমাণ বহন করবে, তবে তারা মিথ্যা বলেছে। কেননা, প্রত্যেক নবীকেই তার কাওমের কাছে এমন কিছু নিদর্শন দিয়ে পাঠানো হয় যা দেখে কিছু লোক ঈমান আনে। এমনকি যদি তিনি একমাত্র আল্লাহর জন্য দ্বীনকে নির্দিষ্ট করা, তাঁর কোন শরীক না করা, প্রতিটি ভাল কাজ ও সুন্দর চরিত্রের প্রতি নির্দেশ প্রদান, প্রত্যেক খারাপ কাজ যেমন আল্লাহর সাথে শির্ক, অশ্লীলতা, যুলুম, অন্যায় কাজ কর্ম থেকে নিষেধকরণ, তাছাড়া হুদ আলাইহিসসালাম সে সমস্ত অনন্য গুণাবলীর অধিকারী হওয়া, যা কেবল ভাল ও সত্যনিষ্ঠ মানুষদেরই গুণ হয়ে থাকে, এগুলো ছাড়া আর কোন নিদর্শন না এনে থাকেন তাও তার সত্যবাদিতার জন্য নিদর্শন ও দলীল-প্রমাণ হিসেবে যথেষ্ট। বরং বিবেক-বুদ্ধিসম্পন্ন লোকেরা স্পষ্ট বুঝতে পারে যে অলৌকিক কিছুর চেয়েও এগুলো বেশী প্রমাণবহ। মু'জিযার মত কিছুর চেয়ে এগুলোর দাবী বেশী। তাছাড়া একজন লোক, যার কোন সাহায্য-সহযোগিতাকারী নেই, অথচ সে তার কাওমের মধ্যে চিৎকার করে আহবান করছে, তাদেরকে ডাকছে, তাদেরকে অপারগ করে দিচ্ছে এটা অবশ্যই তার সত্যতার উপর স্পষ্ট নিদর্শন। তিনি তাদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছেন যে, “ নিশ্চয় আমি আল্লাহ্কে সাক্ষী করছি এবং তোমরাও সাক্ষী হও যে, নিশ্চয় আমি তা থেকে মুক্ত যাকে তোমরা শরীক কর, ‘আল্লাহ্ ছাড়া । সুতরাং তোমরা সবাই আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র কর; তারপর আমাকে অবকাশ দিও না।" এটা তাদের সামনে ঘোষণা করছেন, যারা তার শক্র, যাদের রয়েছে প্রচুর ক্ষমতা ও প্রভাব। তারা চাচ্ছে যে কোনভাবে হোক তার কাছে যে আলো আছে সেটা নিভিয়ে দিতে, অথচ তিনি তাদের কোন প্রকার ভ্রক্ষেপ না করে, তাদের শক্তি-সামর্থ্যকে গুরুত্ব না দিয়ে এ ঘোষণা দিয়েই চলেছেন। আর তারা তার কোন ক্ষতি করতে অপারগ হয়ে থাকল, এতে অবশ্যই বিবেকবান-জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শনাবলী রয়েছে। [ সা’দী; ইবনুল কাইয়্যেম, মাদারেজুস সালেকীন: ৩/৪৩১ ]
Tafsir ibn kathir bangla তাফসীর ইবনে কাসীর
৫৩-৫৬ নং আয়াতের তাফসীর আল্লাহ তাআ’লা সংবাদ দিচ্ছেন যে, হযরত হূদের ( আঃ ) কওম তাঁর উপদেশ শুনে তাঁকে বললো: “ হে হূদ ( আঃ )! তুমি যেই দিকে আমাদেরকে আহ্বান করছে তার তো কোন দলিল প্রমাণ আমাদের সামনে পেশ করছো না । আর আমরা এটা করতে পারি না যে, তোমার কথায় আমাদের মাবুদমা’বুদগুলির উপাসনা পরিত্যাগ করবো। আমরা এগুলি ছাড়বোও না এবং তোমাকে সত্যবাদী মেনে নিয়ে তোমার উপর ঈমানও আনবো না। বরং আমাদের তো ধারণা এই যে, যেহেতু তুমি আমাদেরকে আমাদের মাবুদমা’বুদগুলির উপাসনা থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করছে এবং তাদের প্রতি দোষারোপ করছে, সেই হেতু তারা তোমার এই জ্বালাতন সহ্য করতে পারে নাই। তাই, তাদের কারো মার তোমার উপর পতিত হয়েছে। ফলে তোমার মস্তিষ্কের বিকৃতি ঘটেছে। তাদের এই কথা শুনে আল্লাহর নবী হযরত হূদ ( আঃ ) তাদেরকে বললেনঃ ‘যদি তাই হয় তবে জেনে রেখোঁরেখো যে, আমি শুধু তোমাদেরকেই নয়, বরং স্বয়ং আল্লাহ তাআ’লাকেও সাক্ষী রেখে ঘোষণা করছি যে, আল্লাহ ছাড়া যেসব মা'বুদের ইবাদত করা হচ্ছে আমি তাদের থেকে সম্পূর্ণরূপে বিমুখ ও মুক্ত। এখন শুধু তোমরা নও, বরং তোমাদের এই সব মিথ্যা ও বাজে মাবুদমা’বুদকেও ডেকে নাও এবং তোমরা সবাই মিলে যত পার আমার ক্ষতি সাধন কর। আর আমাকে মোটেই অবকাশ দিয়ো না এবং আমার প্রতি কোন সমবেদনাও প্রকাশ করো না। আমার ক্ষতি সাধন করার তোমাদের যতদূর ক্ষমতা থাকে তা প্রয়োগ করতে বিন্দুমাত্র ত্রুটি করো না। আমার ভরসা একমাত্র আল্লাহর উপর। যিনি আমার ও তোমাদের সকলেরই মালিক। তাঁর ইচ্ছা ছাড়া আমার ক্ষতি করার কারো সাধ্য নেই। এমন কেউ নেই যে, তাঁর হুকুম অমান্য করে তাঁর রাজ্য ও রাজত্ব হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। তিনি ন্যায় বিচারক। তিনি কখনো অত্যাচার করেন না। তিনি সরল ও সঠিক পথে রয়েছেন। বান্দাদের ঝুটি তাঁর হাতের মুঠের মধ্যে রয়েছে। সন্তানের উপর পিতামাতার যে দয়া রয়েছে, মুমিনমু’মিন বান্দার উপর আল্লাহর দয়া এর চেয়ে বহুগুণ বেশি রয়েছে। তিনি পরমদাতা ও দয়ালু। তাঁর দান ও দয়ার কোন শেষ নেই। এ কারণেই কতকগুলি লোক বিভ্রান্ত ও উদাসীন হয়ে পড়ে।'হযরত হূদের ( আঃ ) এই কথাগুলির প্রতি লক্ষ্য করা যাক। তিনি আদি সম্প্রদায়ের জন্যে তাঁর এই উক্তির মধ্যে আল্লাহর একত্ববাদের বহু দলিল বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ আল্লাহ ছাড়া কেউ যখন লাভ ও ক্ষতির মালিক নয়, তিনি ছাড়া কারো কোন জিনিসের উপর যখন কোন অধিকার নেই, তখন একমাত্র তিনিই যে উপাসনার যোগ্য এটা প্রমাণিত হয়ে গেল। আর তোমরা তাকে ছাড়া যে সব মা'বুদের ইবাদত করছো সেই সবগুলি বাতিল সাব্যস্ত হলো। আল্লাহ তাআ’লা তাদের থেকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র। আধিপত্য, ব্যবস্থাপনা, অধিকার এবং ইখতেয়ার একমাত্র তাঁরই। সবাই তাঁর কর্তৃত্বাধীন। তিনি ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই।
সূরা হুদ আয়াত 53 সূরা
| English | Türkçe | Indonesia |
| Русский | Français | فارسی |
| تفسير | Urdu | اعراب |
বাংলায় পবিত্র কুরআনের আয়াত
- আল্লাহ কি বিচারকদের মধ্যে শ্রেষ্টতম বিচারক নন?
- বস্তুতঃ আল্লাহ যদি তাদের মধ্যে কিছুমাত্র শুভ চিন্তা জানতেন, তবে তাদেরকে শুনিয়ে দিতেন। আর এখনই
- বলুনঃ আমি তো কেবল ওহীর মাধ্যমেই তোমাদেরকে সতর্ক করি, কিন্তু বধিরদেরকে যখন সতর্ক করা হয়,
- তারা বললঃ না, তবে আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে পেয়েছি, তারা এরূপই করত।
- নিশ্চয় তাদের প্রত্যাবর্তন আমারই নিকট,
- অতঃপর তাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া, যারা ঈমান আনে এবং পরস্পরকে উপদেশ দেয় সবরের ও উপদেশ দেয়
- কখনও না, যখন প্রাণ কন্ঠাগত হবে।
- তিনি সপ্ত আকাশ স্তরে স্তরে সৃষ্টি করেছেন। তুমি করুণাময় আল্লাহ তা’আলার সৃষ্টিতে কোন তফাত দেখতে
- আর কিই বা ক্ষতি হত তাদের যদি তারা ঈমান আনত আল্লাহর উপর কেয়ামত দিবসের উপর
- বলুনঃ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর যিনি না কোন সন্তান রাখেন, না তাঁর সার্বভৌমত্বে কোন শরীক আছে
বাংলায় কোরআনের সূরা পড়ুন :
সবচেয়ে বিখ্যাত কোরআন তেলাওয়াতকারীদের কণ্ঠে সূরা হুদ ডাউনলোড করুন:
সূরা Hud mp3 : উচ্চ মানের সাথে সম্পূর্ণ অধ্যায়টি Hud শুনতে এবং ডাউনলোড করতে আবৃত্তিকারকে বেছে নিন
আহমেদ আল-আজমি
ইব্রাহীম আল-আখদার
বান্দার বেলাইলা
খালিদ গালিলি
হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
খলিফা আল টুনাইজি
সাদ আল-গামদি
সৌদ আল-শুরাইম
সালাহ বুখাতীর
আবদ এল বাসেট
আবদুল রশিদ সুফি
আব্দুল্লাহ্ বাস্ফার
আবদুল্লাহ আল-জুহানী
আলী আল-হুদায়েফি
আলী জাবের
ফারেস আব্বাদ
মাহের আলমাইকুলই
মোহাম্মদ আইয়ুব
মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
মুহাম্মাদ জিব্রীল
আল-মিনশাবি
আল হোসারি
মিশারী আল-আফসী
নাসের আল কাতামি
ইয়াসের আল-দোসারি
Please remember us in your sincere prayers



