কোরান সূরা গাশিয়া আয়াত 6 তাফসীর
﴿لَّيْسَ لَهُمْ طَعَامٌ إِلَّا مِن ضَرِيعٍ﴾
[ الغاشية: 6]
কন্টকপূর্ণ ঝাড় ব্যতীত তাদের জন্যে কোন খাদ্য নেই। [সূরা গাশিয়া: 6]
Surah Al-Ghashiyah in Banglaজহুরুল হক সূরা বাংলা Surah Ghashiya ayat 6
তাদের জন্য বিষাক্ত কাঁটাগাছ থেকে ছাড়া অন্য কোনো খাদ্য থাকবে না,
Tafsir Mokhtasar Bangla
৬. তাদেরকে খাদ্য হিসাবে শিবরিক নামীয় নোংরা ও দুর্গন্ধময় তৃণলতা যা শুকিয়ে গেলে বিষাক্ত হয়ে যায় তা ব্যতীত অন্য কোন খাবার দেয়া হবে না।
Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান
তাদের জন্য বিষাক্ত কণ্টক ব্যতীত কোন খাদ্য নেই। [১] [১] ضَرِيع এক প্রকার কাঁটাদার বৃক্ষ যা শুকিয়ে গেলে পশুরাও ভক্ষণ করতে অপছন্দ করে। মোট কথা, এটাও যাক্কুমের মত এক প্রকার অতি তিক্ত, বদমজাদার এবং অতি অপবিত্র নোংরা খাবার হবে। যা ভক্ষণ করলে জাহান্নামীদের না শরীর পুষ্ট হবে, আর না তাদের ক্ষুধা নিবারণ হবে ।
Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স
তাদের জন্য খাদ্য থাকবে না কাঁটাযুক্ত গুল্ম ছাড়া [ ১ ] , [ ১ ] ضَرِيْعٌ শব্দের অর্থ করা হয়েছে, কাঁটাযুক্ত গুল্ম। অর্থাৎ জাহান্নামীরা কোন খাদ্য পাবে না কেবল এক প্রকার কণ্টকবিশিষ্ট ঘাস। পৃথিবীর মাটিতে এ ধরনের গুল্ম ছড়ায়। দুৰ্গন্ধযুক্ত বিষাক্ত কাঁটার কারণে জন্তু-জানোয়ার এর ধারে কাছেও যায় না। ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত যে, ضَرِيْعٌ হচ্ছে জাহান্নামের একটি গাছ। যা খেয়ে কেউ মোটা তাজা হবে না এবং এতে ক্ষুধা থেকেও মুক্তি পাওয়া যাবে না। [ ফাতহুল কাদীর ] লক্ষণীয় যে, কুরআন মজীদে কোথাও বলা হয়েছে, জাহান্নামের অধিবাসীদের খাবার জন্য “ যাককুম” দেয়া হবে । কোথাও বলা হয়েছে, “ গিসলীন” ( ক্ষতস্থান থেকে ঝরে পড়া তরল পদার্থ ) ছাড়া তাদের আর কোন খাবার থাকবে না । আর এখানে বলা হচ্ছে, তারা খাবার জন্য কাঁটাওয়ালা শুকনো ঘাস ছাড়া আর কিছুই পাবে না। এ বর্ণনাগুলোর মধ্যে মূলত কোন বৈপরীত্য নেই। এর অর্থ এও হতে পারে যে, জাহান্নামের অনেকগুলো পর্যায় থাকবে। বিভিন্ন অপরাধীকে তাদের অপরাধ অনুযায়ী সেই সব পর্যায়ে রাখা হবে। তাদেরকে বিভিন্ন ধরনের আযাব দেয়া হবে। আবার এর অর্থ এও হতে পারে যে, তারা “ যাককুম” খেতে না চাইলে “গিসলীন” পাবে এবং তা খেতে অস্বীকার করলে কাঁটাওয়ালা ঘাস ছাড়া আর কিছুই পাবে না । মোটকথা, তারা কোন মনের মতো খাবার পাবে না। [ কুরতুবী ]
Tafsir ibn kathir bangla তাফসীর ইবনে কাসীর
হযরত নুমান ইবনে বাশীর ( রাঃ ) হতে বর্ণিত এ হাদীসটি পূর্বে গত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) ঈদের নামাযে এবং জুমআর দিনে( আরবি ) এবং পাঠ করতেন। ইমাম মালিক ( রঃ ) এর মুআত্তা নামক হাদীস গ্রন্থে রয়েছে যে, জুমআর নামাযে রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) প্রথম রাকআতে সুরা জুমআহ্ এবং দ্বিতীয় রাকআতে সূরা ( আরবি ) পাঠ করতেন। ( এ হাদীসটি সুনানে আবী দাউদ, সহীহ মুসলিম, সুনানে ইবনে মাজাহ এবং সুনানে নাসাঈর মধ্যেও বর্ণিত হয়েছে )১-৭ নং আয়াতের তাফসীরগাশিয়াহ্ হলো কিয়ামতের একটি নাম, কারণ এটা সবার উপর আসবে, সবাইকে ঘিরে ধরবে এবং ঢেকে ফেলবে। মুসনাদে ইবনে আবী হাতিমে হযরত আমর ইবনে মায়ুমুন ( রাঃ ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী করীম ( সঃ ) একটি স্ত্রী লোকের পার্শ্ব দিয়ে গমন করার সময় শুনতে পান যে, পাঠ করছে। তখন তিনি দাড়িয়ে গিয়ে শুনতে থাকেন এবং বলেনঃ ( আরবি ) অর্থাৎ “ হ্যা, আমার নিকট ( কিয়ামতের সংবাদ ) এসেছে ।” এরপর আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ সেইদিন বহু লোক হবে অপমানিত চেহারাবিশিষ্ট। অবমাননা তাদের উপর আপতিত হবে। তাদের পুণ্যকর্মসমূহ বিনষ্ট হয়ে যাবে। তারা বড় বড় কাজ করেছিল, আমলের জন্যে কষ্ট করেছিল, কিন্তু আজ তারা প্রজ্জ্বলিত অগ্নিকুণ্ডে প্রবেশ করবে।হযরত আবু ইমরান জাওফী ( রঃ ) হতে বর্ণিত আছে যে, একদা হযরত উমার ইবনে খাত্তাব ( রাঃ ) এক রাহিবের ( খ্রিষ্টান পাদ্রীর ) আশ্রমের পার্শ্ব দিয়ে গমন করছিলেন। সেখানে দাঁড়িয়ে তিনি ঐ রাহিবকে ডাক দেন। খ্রিস্টান সাধক তাঁর কাছে হাজির হলে সাধককে দেখে কেঁদে ফেলেন। সাধক তাঁকে ক্রন্দনের কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেনঃ “ আল্লাহ তা'আলার কিতাবে উল্লেখিত তাঁর ( আরবি ) এই উক্তি আমার স্মরণে এসেছে এবং ওটাই আমাকে কাঁদিয়েছে ( এটা হাফিয আবু বকর বারকানী (রঃ ) বর্ণনা করেছেন) এর ভাবার্থ হলোঃ ইবাদত, রিয়াযত করছে, অথচ শেষ পর্যন্ত জাহান্নামে প্রবেশ করবে ।সহীহ বুখারীতে রয়েছে যে, হযরত ইবনে আব্বাস ( রাঃ ) বলেনঃ ( আরবি ) দ্বারা খ্রিষ্টানদেরকে বুঝানো হয়েছে। ইকরামা ( রাঃ ) এবং সুদ্দী ( রঃ ) বলেন যে, এর ভাবার্থ হচ্ছে দুনিয়ায় তারা পাপের কাজ করছে এবং আখেরাতে তারা শাস্তি এবং প্রহারের কষ্ট ভোগ করবে। তারা প্রবেশ করবে জ্বলন্ত অগ্নিতে। সেখানে ছাড়া অন্য কোন খাদ্য মিলবে না। এটা হবে আগুনের বৃক্ষ, জাহান্নামের পাথর। এতে বিষাক্ত কন্টক বিশিস্ট ফল ধরে থাকবে। এটা হবে দুর্গন্ধময় খাদ্য ও অত্যন্ত নিকৃষ্ট আহার্য। এটা ভক্ষণে দেহও পুষ্ট হবে না, ক্ষুধাও নিবৃত্ত হবে না এবং অবস্থারও কোন পরিবর্তন হবে না।
সূরা গাশিয়া আয়াত 6 সূরা
| English | Türkçe | Indonesia |
| Русский | Français | فارسی |
| تفسير | Urdu | اعراب |
বাংলায় পবিত্র কুরআনের আয়াত
- যেসব জন্তুর উপর আল্লাহর নাম উচ্চারিত হয় না, সেগুলো থেকে ভক্ষণ করো না; এ ভক্ষণ
- পূর্ববর্তীরা পরবর্তীদেরকে বলবেঃ তাহলে আমাদের উপর তোমাদের কোন শ্রেষ্ঠত্ব নেই অতএব, শাস্তি আস্বাদন কর স্বীয়
- যদি আপনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন, কে আকাশ থেকে বারি বর্ষণ করে, অতঃপর তা দ্বারা মৃত্তিকাকে
- এবং সে তার পরিবার-পরিজনের কাছে হৃষ্টচিত্তে ফিরে যাবে
- বিশ্বাসকারীদের জন্যে পৃথিবীতে নিদর্শনাবলী রয়েছে,
- একে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন যা আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি ভীষণ বিপদের ভয় প্রদর্শন করে এবং মুমিনদেরকে
- তাদের মধ্যে কতক আপনার দিকে কান পাতে, অতঃপর যখন আপনার কাছ থেকে বাইরে যায়, তখন
- এই কোরআন তো বিশ্ব-জাহানের পালনকর্তার নিকট থেকে অবতীর্ণ।
- তিনি যদি রিযিক বন্ধ করে দেন, তবে কে আছে, যে তোমাদেরকে রিযিক দিবে বরং তারা
- নূহ আরও বললঃ হে আমার পালনকর্তা, আপনি পৃথিবীতে কোন কাফের গৃহবাসীকে রেহাই দিবেন না।
বাংলায় কোরআনের সূরা পড়ুন :
সবচেয়ে বিখ্যাত কোরআন তেলাওয়াতকারীদের কণ্ঠে সূরা গাশিয়া ডাউনলোড করুন:
সূরা Ghashiya mp3 : উচ্চ মানের সাথে সম্পূর্ণ অধ্যায়টি Ghashiya শুনতে এবং ডাউনলোড করতে আবৃত্তিকারকে বেছে নিন
আহমেদ আল-আজমি
ইব্রাহীম আল-আখদার
বান্দার বেলাইলা
খালিদ গালিলি
হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
খলিফা আল টুনাইজি
সাদ আল-গামদি
সৌদ আল-শুরাইম
সালাহ বুখাতীর
আবদ এল বাসেট
আবদুল রশিদ সুফি
আব্দুল্লাহ্ বাস্ফার
আবদুল্লাহ আল-জুহানী
আলী আল-হুদায়েফি
আলী জাবের
ফারেস আব্বাদ
মাহের আলমাইকুলই
মোহাম্মদ আইয়ুব
মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
মুহাম্মাদ জিব্রীল
আল-মিনশাবি
আল হোসারি
মিশারী আল-আফসী
নাসের আল কাতামি
ইয়াসের আল-দোসারি
Please remember us in your sincere prayers



