কোরান সূরা বাকারাহ্ আয়াত 64 তাফসীর
﴿ثُمَّ تَوَلَّيْتُم مِّن بَعْدِ ذَٰلِكَ ۖ فَلَوْلَا فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَتُهُ لَكُنتُم مِّنَ الْخَاسِرِينَ﴾
[ البقرة: 64]
তারপরেও তোমরা তা থেকে ফিরে গেছ। কাজেই আল্লাহর অনুগ্রহ ও মেহেরবানী যদি তোমাদের উপর না থাকত, তবে অবশ্যই তোমরা ধবংস হয়ে যেতে। [সূরা বাকারাহ্: 64]
Surah Al-Baqarah in Banglaজহুরুল হক সূরা বাংলা Surah Baqarah ayat 64
তারপর তোমরা এর পরেও ফিরে গেলে, কাজেই আল্লাহ্র প্রসন্নতা ও তাঁর করুণা যদি তোমাদের উপরে না থাকত তবে তোমরা অবশ্যই হতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত।
Tafsir Mokhtasar Bangla
৬৪. এ কঠিন অঙ্গীকারের পরও তোমরা তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছো এবং আল্লাহর অবাধ্য হয়েছো। যদি আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে ক্ষমা না করতেন এবং তাওবা কবুল করে তোমাদের প্রতি বিশেষ দয়া না দেখাতেন তাহলে তোমরা এ অবাধ্যতা ও মুখ ফিরিয়ে নেয়ার দরুন অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হতে।
Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান
এর পরেও তোমরা মুখ ফিরিয়ে নিলে, তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া না থাকলে তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে।
Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স
এরপরেও তোমরা মুখ ফিরালে ! অতঃপর তোমাদের প্রতি আল্লাহ্র অনুগ্রহ এবং অনুকম্পা না থাকলে তোমরা অবশ্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে [ ১ ] [ ১ ] এ আয়াতের সম্বোধন বাহ্যিক দৃষ্টিতে সে সমস্ত ইয়াহুদীদের করা হচ্ছে, যারা রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময়ে উপস্থিত ছিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর ঈমান না আনাও যেহেতু উল্লেখিত প্রতিজ্ঞা ভংগেরই অন্তর্ভুক্ত, সেহেতু তাদেরকে পূর্বোক্ত প্রতিজ্ঞা ভংগকারীদের আওতাভুক্ত করে উদাহরণস্বরূপ বলা হয়েছে যে, এরপরও আমি দুনিয়াতে তোমাদের উপর তেমন কোন আযাব নাযিল করিনি, যেমনটি পূর্বকালে প্রতিজ্ঞা ভংগকারীদের উপর নাযিল হয়ে থাকত। এটা একান্তই আল্লাহ্র রহমত।
Tafsir ibn kathir bangla তাফসীর ইবনে কাসীর
৬৩-৬৪ নং আয়াতের তাফসীর এ আয়াত দু'টোতে আল্লাহ্ তা'আলা বানী ইসরাঈলকে আহাদ ও অঙ্গীকারের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছেনঃ ‘আমার ইবাদত ও আমার নবী ( আঃ )-এর অনুসরণের অঙ্গীকার আমি তোমাদের কাছে নিয়েছিলাম এবং সেই অঙ্গীকার পুরো করার জন্যে আমি তূর পাহাড়কে তোমাদের মাথার উপর সমুচ্চ করেছিলাম।" যেমন অন্য জায়গায় রয়েছেঃ যখন আমি পাহাড়কে সামিয়ানার মত তাদের মাথার উপর সমুচ্চ করেছিলাম এবং তারা এই বিশ্বাস করে ফেলেছিল যে, তা তাদের প্রতি নিক্ষিপ্ত হয়ে তাদেরকে দলিত করবে, সে সময় আমি বলেছিলাম যে, আমার প্রদত্ত জিনিসকে শক্ত করে ধর এবং ওর মধ্যে যা কিছু আছে তা স্মরণ কর-তা হলে রক্ষা পেয়ে যাবে।'‘তূর-এর ভাবার্থ পাহাড়-যেমন সূরা-ই- আ'রাফের আয়াতে আছে এবং সাহাবীগণ ( রাঃ ) ও তাবেঈগণ এর তাফসীর করেছেন। আর এটাই স্পষ্ট। প্র’ ঐ পাহাড়কে বলা হয় যার উপর গাছ পালা জন্মে। ফিৎনার হাদীসে হযরত ইবনে আব্বাস ( রাঃ ) হতে বর্ণিত আছে যে, তারা আনুগত্য স্বীকারে অসম্মত হলে পাহাড়টি তাদের মাথার উপর উঠিয়ে দেয়া হয় যেন তারা আনুগত্য স্বীকারে সম্মত হতে বাধ্য হয়। সুদ্দী ( রঃ ) বলেন যে, তারা সিজদা করতে অস্বীকতি জ্ঞাপন করায় তাদের মাথার উপর পর্বত উঠে যায়। কিন্তু সাথে সাথেই তারা সিজদায় পড়ে যায় এবং ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে আড় চোখে উপরের দিকে দেখতে থাকে। এতে আল্লাহ তাআলা তাদের প্রতি সদয় হন এবং পাহাড় সরিয়ে নেন। এ জন্যেই তারা ঐ সিজদাই পছন্দ করে যে, অর্ধেক দেহ সিজদায় থাকে এবং অন্য দিক দিয়ে উপরের দিকে দেখতে থাকে। যা আমি দিয়েছি’ এর ভাবার্থ হচ্ছে তাওরাত'। -এর অর্থ হচ্ছে শক্তি। অর্থাৎ “ তোমরা তাওরাতকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করতঃ এর উপর আমল করার অঙ্গীকার কর, নতুবা তোমাদের উপর পাহাড় নিক্ষেপ করা হবে । আর এর মধ্যে যা আছে তা স্মরণ কর’ অর্থাৎ তাওরাত পড়তে থাক।” কিন্তু তারা এতো পাকা ও শক্ত অঙ্গীকারকেও গ্রাহ্য করলো না এবং অঙ্গীকার ভঙ্গ করে দিলো।এখন মহান আল্লাহ যদি দয়াপরবশ হয়ে তাদের তাওবা ককূল না করতেন এবং নবীদের ( আঃ ) ক্ৰম পরম্পরা চালু না রাখতেন তবে অবশ্যই তারা ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত হতো। এই ওয়াদা ভঙ্গের কারণে তারা দুনিয়া ও আখেরাতে ধ্বংস হয়ে যেতো।
সূরা বাকারাহ্ আয়াত 64 সূরা
| English | Türkçe | Indonesia |
| Русский | Français | فارسی |
| تفسير | Urdu | اعراب |
বাংলায় পবিত্র কুরআনের আয়াত
- হে ঈমানদারগণ! তোমরা মুমিন ব্যতীত অন্য কাউকে অন্তরঙ্গরূপে গ্রহণ করো না, তারা তোমাদের অমঙ্গল সাধনে
- তারা আল্লাহর নামে হলফ করে বলে যে, তারা তোমাদেরই অন্তর্ভুক্ত, অথচ তারা তোমাদের অন্তর্ভূক্ত নয়,
- অতঃপর তাঁরা আমার বান্দাদের মধ্যে এমন একজনের সাক্ষাত পেলেন, যাকে আমি আমার পক্ষ থেকে রহমত
- যে ভয় করে, সে উপদেশ গ্রহণ করবে,
- আল্লাহ তা’আলা মুমিনদেরকে মজবুত বাক্য দ্বারা মজবুত করেন। পার্থিবজীবনে এবং পরকালে। এবং আল্লাহ জালেমদেরকে পথভ্রষ্ট
- যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে।
- মুমিনগণ, তোমরা এহরাম অবস্থায় শিকার বধ করো না। তোমাদের মধ্যে যে জেনেশুনে শিকার বধ করবে,
- বলূনঃ হে আমার পালনকর্তা, ক্ষমা করুন ও রহম করুন। রহমকারীদের মধ্যে আপনি শ্রেষ্ট রহমকারী।
- তারাই সে লোক, যারা তাদের পালনকর্তার নিদর্শনাবলী এবং তাঁর সাথে সাক্ষাতের বিষয় অস্বীকার করে। ফলে
- যা চামড়া তুলে দিবে।
বাংলায় কোরআনের সূরা পড়ুন :
সবচেয়ে বিখ্যাত কোরআন তেলাওয়াতকারীদের কণ্ঠে সূরা বাকারাহ্ ডাউনলোড করুন:
সূরা Baqarah mp3 : উচ্চ মানের সাথে সম্পূর্ণ অধ্যায়টি Baqarah শুনতে এবং ডাউনলোড করতে আবৃত্তিকারকে বেছে নিন
আহমেদ আল-আজমি
ইব্রাহীম আল-আখদার
বান্দার বেলাইলা
খালিদ গালিলি
হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
খলিফা আল টুনাইজি
সাদ আল-গামদি
সৌদ আল-শুরাইম
সালাহ বুখাতীর
আবদ এল বাসেট
আবদুল রশিদ সুফি
আব্দুল্লাহ্ বাস্ফার
আবদুল্লাহ আল-জুহানী
আলী আল-হুদায়েফি
আলী জাবের
ফারেস আব্বাদ
মাহের আলমাইকুলই
মোহাম্মদ আইয়ুব
মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
মুহাম্মাদ জিব্রীল
আল-মিনশাবি
আল হোসারি
মিশারী আল-আফসী
নাসের আল কাতামি
ইয়াসের আল-দোসারি
Please remember us in your sincere prayers



