কোরান সূরা ইউসুফ আয়াত 7 তাফসীর
﴿۞ لَّقَدْ كَانَ فِي يُوسُفَ وَإِخْوَتِهِ آيَاتٌ لِّلسَّائِلِينَ﴾
[ يوسف: 7]
অবশ্য ইউসুফ ও তাঁর ভাইদের কাহিনীতে জিজ্ঞাসুদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে। [সূরা ইউসুফ: 7]
Surah Yusuf in Banglaজহুরুল হক সূরা বাংলা Surah Yusuf ayat 7
ইউসুফ ও তাঁর ভাইদের মধ্যে নিশ্চয়ই নিদর্শন রয়েছে জিজ্ঞাসুদের জন্যে।
Tafsir Mokhtasar Bangla
৭. নিশ্চয়ই ইউসুফ ও তাঁর ভাইদের ঘটনার মধ্যে তাদের খবরাদি সম্পর্কে জিজ্ঞাসুদের জন্য রয়েছে বহু শিক্ষা ও উপদেশ।
Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান
নিশ্চয়ই ইউসুফ ও তাঁর ভাইদের কাহিনীতে জিজ্ঞাসুদের জন্য নিদর্শনাবলী রয়েছে। [১] [১] অর্থাৎ, এই ঘটনাতে আল্লাহর অসীম ক্ষমতা এবং নবী ( সাঃ )-এর নবুঅতের সত্যবাদিতার বড় নিদর্শন রয়েছে। কোন কোন তফসীরবিদ এখানে ইউসুফ ( আঃ )-এর ভাইদের নাম এবং তাঁদের বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স
অবশ্যই ইউসুফ এবং তাঁর ভাইদের [ ১ ] ঘটনায় জিজ্ঞাসুদের জন্য অনেক নিদর্শন রয়েছে [ ২ ]।
[ ১ ] আলোচ্য আয়াতে ইউসুফ আলাইহিস সালাম-এর ভাইদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ইউসুফসহ ইয়াকুব ‘আলাইহিস সালাম-এর বারজন পুত্র সন্তান ছিল। তাদের প্রত্যেকেরই সন্তান-সন্ততি হয় এবং বংশ বিস্তার লাভ করে। ইয়াকুব ‘আলাইহিস সালাম-এর উপাধি ছিল ‘ইসরাঈল’। তাই বারটি পরিবার সবাই ‘বনী-ইসরাঈল’ নামে খ্যাত হয়। ইউসুফ আলাইহিস সালাম-এর একমাত্র সহোদর ভাই ছিলেন বিনইয়ামীন এবং অবশিষ্ট দশজন বৈমাত্রেয় ভাই। [ বাগভী; কুরতুবী; আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ১/৪৫৫ ]
[ ২ ] এ আয়াতে বর্ণিত নিদর্শনসমূহ কি? এ ব্যাপারে কয়েকটি মত রয়েছে। এক.
এতে রয়েছে উপদেশ ও শিক্ষা। দুই.
আশ্চর্যজনক কথাসমূহ। তিন.
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুওয়াতের প্রমাণ। কারণ, তিনি এ ঘটনা জানতেন না, যদি তার কাছে ওহী না আসে তো তিনি তা কিভাবে জানালেন? চার.
এর অর্থ হচ্ছে, যারা প্রশ্ন করে জানতে চায় এবং যারা জানতে চায় না তাদের সবার জন্যই রয়েছে নিদর্শন। কোন কোন মুফাসসির বলেন, এর দ্বারা উদ্দেশ্য এ কাহিনীর মধ্যে অনেক প্রকার শিক্ষা রয়েছে। যেমন, এতে রয়েছে ভাইদের হিংসা, তাদের হিংসার পরিণতি, ইউসুফের স্বপ্ন এবং এর বাস্তবায়ন, কুপ্রবৃত্তি থেকে, দাসত্ব অবস্থা, বন্দিত্ব অবস্থা ইত্যাদিতে ইউসুফের সবর, বাদশাহী প্রাপ্তি, ইয়া’কুবের পেরেশানী, তার ধৈর্য। শেষ পর্যন্ত প্রার্থিত অবস্থায় উপনীত হওয়া ইত্যাদি সবই এখানে নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হবে। [ বাগভী ] তাই এ সূরায় বর্ণিত ইউসুফ আলাইহিস সালাম-এর কাহিনীকে শুধুমাত্র একটি কাহিনীর নিরিখে দেখা উচিত নয়; বরং এতে জিজ্ঞাসু ও অনুসন্ধিৎসু ব্যক্তিবর্গের জন্য আল্লাহ তা'আলার অপার শক্তির বড় বড় নিদর্শন ও নির্দেশাবলী রয়েছে।
Tafsir ibn kathir bangla তাফসীর ইবনে কাসীর
৭-১০ নং আয়াতের তাফসীর আল্লাহ তাআ’লা বলেন যে, ইউসুফ ( আঃ ) ও তাঁর ভাইদের ঘটনায় জ্ঞান পিপাসুদের জন্যে বহু শিক্ষা ও উপদেশ রয়েছে। হযরত ইউসুফের ( আঃ ) একটি মাত্র সহোদর ভাই ছিলেন, যার নাম ছিল বিনইয়ামীন। অন্যান্য ভাইগুলি ছিলেন তাঁর বৈমাত্রেয় ভাই। তাঁর বৈমাত্রেয় ভাইগুলি পরস্পর বলাবলি করেনঃ “ আমাদের পিতা এ দু'ভাইকে আমাদের অপেক্ষা বেশি ভালবাসেন । বড়ই বিস্ময়ের ব্যাপার যে, আমরা একটা দল রয়েছি, অথচ তিনি আমাদের উপর তাদের দুজনকে প্রাধান্য দিচ্ছেন! নিঃসন্দেহে এটা তাঁর স্পষ্ট ভুলই বটে।” এটা উল্লেখযোগ্য বিষয় যে, হযরত ইউসুফের ( আঃ ) ভাইদের নুবওয়াতের উপর প্রকৃতপক্ষে কোন দলীল প্রমাণ নেই। আর এই আয়াতের বর্ণনা ধারা তো এর বিপরীত। কোন কোন লোক বলেছেন যে, এই ঘটনার পর তাঁরা সবাই নুবওয়াত লাভ করেছিলেন। কিন্তু এটাও প্রমাণের মুখাপেক্ষী। তাঁরা এর প্রমাণ হিসেবে শুধু নিম্নের আয়াতটি পেশ করেছেনঃ ( আরবি )তাঁরা বলতে চান যে, এই আয়াতে বলা হয়েছেঃ ইয়াকুব ( আঃ ) ও তাঁর ( আরবি ) বা সন্তানদের প্রতি ওয়াহী নাযিল করা হয়েছিল। এটা কিন্তু সম্ভাবনা ছাড়া আর বেশী কিছুর ক্ষমতা রাখে না। কেননা, বণী ইসরাঈলের বংশ পরস্পরকে ( আরবি ) বলা হয়ে থাকে। যেমন আরবকে ( আরবি ) এবং আজমকে ( আরবি ) বলা হয়ে থাকে। সুতরাং এই আয়াতে শুধু এটুকুই রয়েছে যে, বণী ইসরাঈলের ( আরবি ) এর উপর ওয়াহী নাযিল হয়েছিল। তাঁদেরকে এরূপ সংক্ষিপ্তভাবে বলার কারণ এই যে, তাঁরা অনেক ছিলেন কিন্তু প্রত্যেক ( আরবি ) হযরত ইউসুফের ( আঃ ) ভাইদের মধ্যকার একজনের নসল বা বংশ ছিলেন। অতএব, এর কোন প্রমাণ নেই যে, আল্লাহ তাআ’লা বিশেষভাবে ঐ ভাইদেরকে নুবওয়াত দান করেছিলেন। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তাআ’লাই সর্বাধিক সঠিক জ্ঞানের অধিকারী। তাঁরা একে অপরকে বলেনঃ ‘এক কাজ করা যাক! তা হলো এই যে, ইউসুফের ( আঃ ) সাথে পিতার সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে। সে-ই হচ্ছে আমাদের পথের কাঁটা। সে যদি না থাকে তবে পিতার মুহাব্বত শুধু আমাদের উপরই থাকবে। এখন তাকে পিতার নিকট হতে সরাবার দু'টি পন্থা আছে। হয় তাকে মেরেই ফেলতে হবে, না হয় কোন দূর দূরান্তে তাকে ফেলে আসতে হবে। এরূপ করলেই আমরা পিতার প্রিয় ভাজন হতে পারবো। এরপর আমরা তাওবা’ করবো, আল্লাহ আমাদেরকে ক্ষমা করে দিবেন। আল্লাহ পাকের উক্তি: ( আরবি ) ( তাদের একজন বললো ) কাতাদা’ ( রঃ ) এবং মুহাম্মদ ইবনু ইসহাক ( রঃ ) বলেন যে, তিনি ছিলেন তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বড়, তাঁর নাম ছিল রাওভীল। সুদ্দী ( রঃ ) বলেন যে, তাঁর নাম ছিল ইয়াহুযা। আর মুজাহিদ ( রঃ ) বলেন যে, তিনি ছিলেন শামউনুস সাফা। তিনি বললেনঃ “ তোমরা ইউসুফকে ( আঃ ) হত্যা করো না । এটা অন্যায় হবে। শুধু শত্রুতার বশবর্তী হয়ে একজন নিরপরাধ ছেলেকে হত্যা করা উচিত হবে না।” এর মধ্যেও মহান আল্লাহর নিপুণতা নিহিত ছিল। তাঁর এটার ইচ্ছাই ছিল না। তাঁদের মধ্যে হযরত ইউসুফকে ( আঃ ) হত্যা করার ক্ষমতাই ছিল না। আল্লাহ তাআ’লার ইচ্ছা তো এটাই ছিল যে, তিনি তাকে নবী করবেন এবং তাঁর ভাইদেরকে তার সামনে বিনীত অবস্থায় দাঁড় করাবেন। সুতরাং রাওভীলের পরামর্শে তাঁদের মন নরম হয়ে গেল এবং সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হলো যে, ইউসুফকে ( আঃ ) কোন অব্যবহৃত কূপে নিক্ষেপ করতে হবে।কাতাদা’ ( রঃ ) বলেন যে, ওটা বায়তুল মুকাদ্দাসের কূপ ছিল। তাঁদের এ ধারণা হলো যে, সম্ভবতঃ কোন মুসাফির সেখান দিয়ে গমনের সময় তাঁকে কূপ থেকে উঠিয়ে নেবে এবং নিজের কাফেলার কাছে নিয়ে যাবে। তখন কোথায় তিনি এবং কোথায় তারা। সুতরাং তাকে হত্যা না করেই যদি কাজ সফল হয়ে যায় তবে হত্যা করার কি প্রয়োজন? মুহাম্মদ ইবনু ইসহাক ইবনু ইয়াসার ( রঃ ) বলেন যে, হযরত ইউসুফের ( আঃ ) ভ্রাতাগণ বড় অপরাধমূলক কাজে একমত হয়েছিলেন। তা হচ্ছেঃ আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা, পিতার সাথে অবাধ্যাচরণ করা, ছোট ভাই এর প্রতি অত্যাচার করা, নিরপরাধ ও নিস্পাপ বালকের ক্ষতি সাধন করা, অচল বৃদ্ধকে কষ্ট দেয়া, হকদারের হক নষ্ঠ করা, হুরমত ও ফযীলতের বিপরীত করা, মর্যাদাবানের মর্যাদা হানি করা, পিতাকে দুঃখ দেয়, তাঁর নিকট থেকে তাঁর কলিজার টুকরা ও চোখের মণিকে চিরতরে সরিয়ে দেয়া, বৃদ্ধপিতা ও আল্লাহ তাআ’লার প্রিয় নবীকে বৃদ্ধ বয়সে অসহনীয় বিপদে পৌছানো, ঐ অবুঝ ছেলেকে দয়ালু পিতার স্নেহপূর্ণ দৃষ্টির অন্তরালে নিয়ে যাওয়া, আল্লাহর দু’জন নবীকে দুঃখ দেয়া, প্রেমিক ও প্রেমাস্পদকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়া, সুখময় জীবনকে দুঃখ ভারাক্রান্ত করে তোলা, ফুলের চেয়েও নরম অবলা শিশুকে মমতাময় বৃদ্ধ পিতার নরম ও গরম কোল হতে চিরতরে পৃথক করে দেয়া ইত্যাদি। আল্লাহ তাঁদেরকে ক্ষমা করুন। তিনি বড়ই করুনাময় ও দয়ালু। বাস্তবেই তারা ( শয়তানের চক্রান্তে পড়ে ) কতই না বড় অপরাধমূলক কাজের জন্যে উঠে পড়ে লেগেছিলেন!
সূরা ইউসুফ আয়াত 7 সূরা
| English | Türkçe | Indonesia |
| Русский | Français | فارسی |
| تفسير | Urdu | اعراب |
বাংলায় পবিত্র কুরআনের আয়াত
- যারা আমার নিদর্শনাবলীকে মিথ্যা বলে, তাদেরকে তাদের নাফরমানীর কারণে আযাব স্পর্শ করবে।
- অথচ তিনি তোমাদেরকে বিভিন্ন রকমে সৃষ্টি করেছেন।
- আল্লাহর দিকে একনিষ্ট হয়ে, তাঁর সাথে শরীক না করে; এবং যে কেউ আল্লাহর সাথে শরীক
- অনন্তর পাকড়াও করল তাদেরকে ভূমিকম্প। ফলে তারা সকাল বেলায় গৃহ মধ্যে উপুড় হয়ে পড়ে রইল।
- তোমরা স্বীয় প্রতিপালককে ডাক, কাকুতি-মিনতি করে এবং সংগোপনে। তিনি সীমা অতিক্রমকারীদেরকে পছন্দ করেন না।
- আপনি কিছুকালের জন্যে তাদেরকে উপেক্ষা করুন।
- তাদের উপর তাদের গুহায় তিনশ বছর, অতিরিক্ত আরও নয় বছর অতিবাহিত হয়েছে।
- যে কেউ আল্লাহ ও রসূলের অবাধ্যতা করে এবং তার সীমা অতিক্রম করে তিনি তাকে আগুনে
- এবং রুচিমত পাখীর মাংস নিয়ে।
- সে আবার দৃষ্টিপাত করেছে,
বাংলায় কোরআনের সূরা পড়ুন :
সবচেয়ে বিখ্যাত কোরআন তেলাওয়াতকারীদের কণ্ঠে সূরা ইউসুফ ডাউনলোড করুন:
সূরা Yusuf mp3 : উচ্চ মানের সাথে সম্পূর্ণ অধ্যায়টি Yusuf শুনতে এবং ডাউনলোড করতে আবৃত্তিকারকে বেছে নিন
আহমেদ আল-আজমি
ইব্রাহীম আল-আখদার
বান্দার বেলাইলা
খালিদ গালিলি
হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
খলিফা আল টুনাইজি
সাদ আল-গামদি
সৌদ আল-শুরাইম
সালাহ বুখাতীর
আবদ এল বাসেট
আবদুল রশিদ সুফি
আব্দুল্লাহ্ বাস্ফার
আবদুল্লাহ আল-জুহানী
আলী আল-হুদায়েফি
আলী জাবের
ফারেস আব্বাদ
মাহের আলমাইকুলই
মোহাম্মদ আইয়ুব
মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
মুহাম্মাদ জিব্রীল
আল-মিনশাবি
আল হোসারি
মিশারী আল-আফসী
নাসের আল কাতামি
ইয়াসের আল-দোসারি
Please remember us in your sincere prayers



