কোরান সূরা ইউনুস আয়াত 81 তাফসীর
﴿فَلَمَّا أَلْقَوْا قَالَ مُوسَىٰ مَا جِئْتُم بِهِ السِّحْرُ ۖ إِنَّ اللَّهَ سَيُبْطِلُهُ ۖ إِنَّ اللَّهَ لَا يُصْلِحُ عَمَلَ الْمُفْسِدِينَ﴾
[ يونس: 81]
অতঃপর যখন তারা নিক্ষেপ করল, মূসা বলল, যা কিছু তোমরা এনেছ তা সবই যাদু-এবার আল্লাহ এসব ভন্ডুল করে দিচ্ছেন। নিঃসন্দেহে আল্লাহ দুস্কর্মীদের কর্মকে সুষ্ঠুতা দান করেন না। [সূরা ইউনুস: 81]
Surah Yunus in Banglaজহুরুল হক সূরা বাংলা Surah Yunus ayat 81
যখন তারা ফেলল, মূসা বললেন -- ''তোমরা যা নিয়ে এসেছ তা ভেলকিবাজী। নিঃসন্দেহ আল্লাহ্ একে বাতিল করে দেবেন ।’’ আল্লাহ্ নিশ্চয়ই হুজ্জতকারীদের কাজে ভাল করেন না।
Tafsir Mokhtasar Bangla
৮১. যখন তারা নিজেদের কাছে থাকা যাদুর সবকিছু দেখানো শুরু করলো তখন মূসা ( আলাইহিস-সালাম ) তাদেরকে বললেন: তোমরা যা দেখাচ্ছো তা মূলতঃ যাদু। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা অচিরেই তোমাদের কর্মকাÐকে বাতিল ও ক্রিয়াহীন করে দিবেন। তোমরা নিজেদের যাদুর মাধ্যমে জমিনে ফাসাদ সৃষ্টিকারী। আর আল্লাহ তা‘আলা ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের আমলকে বিশুদ্ধ করেন না।
Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অতঃপর যখন তারা নিক্ষেপ করল, তখন মূসা বলল, ‘তোমরা যা এনেছ তাই হল যাদু; নিশ্চয়ই আল্লাহ এখনই এটাকে নিশ্চিহ্ন করে দেবেন;[১] ( কেননা ) আল্লাহ অশান্তি সৃষ্টিকারীদের কাজ সার্থক করেন না।’ [২] [১] সুতরাং এমনই হল, মিথ্যা কি আর সত্যের মুকাবিলায় জয়ী হতে পারে? যাদুকররা তাদের যাদু-বিদ্যায় যতই দক্ষতা অর্জন করে থাকুক, তারা যা কিছু পেশ করেছিল, তা যাদু ও ইন্দ্রজাল ( চোখের ভেলকিই ) ছিল। কিন্তু মূসা ( আঃ ) যখন আল্লাহর আদেশে তাঁর লাঠি নিক্ষেপ করলেন, তখন সে সকল ইন্দ্রজালকে এক পলকে শেষ করে দিল। [২] আর এই সব যাদুকররাও অশান্তি সৃষ্টিকারী ছিল। তারা শুধু পার্থিব সুখ অর্জনের জন্য যাদু শিক্ষা করেছিল আর যাদুর ভেলকি দেখিয়ে মানুষকে বোকা বানাতো। আল্লাহ তাআলা তাদের এই দুষ্কর্মকে কিভাবে সার্থকতা দান করবেন?
Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স
অতঃপর যখন তারা নিক্ষেপ করল, তখন মূসা বললেন, ‘তোমরা যা এনেছ তা জাদু, নিশ্চয় আল্লাহ্ সেগুলোকে অসার করে দেবেন। নিশ্চয় আল্লাহ্ অশান্তি সৃষ্টিকারীদের কাজ সার্থক করেন না।’
Tafsir ibn kathir bangla তাফসীর ইবনে কাসীর
৭৯-৮২ নং আয়াতের তাফসীর: মহান আল্লাহ যাদুকর ও মূসা ( আঃ )-এর কাহিনী সূরায়ে আ’রাফে বর্ণনা করেছেন এবং সেখানে এর উপর আলোকপাত করা হয়েছে। আর এই সূরায় এবং সূরায়ে তাহা ও সূরায়ে শুআরায়ও এটা বর্ণিত হয়েছে। ফিরআউন তার যাদুকরদের বাজে কথন এবং প্রতারণামূলক কলাকৌশলের মাধ্যমে মূসা ( আঃ )-এর সুস্পষ্ট সত্যের মুকাবিলা করতে চেয়েছিল। কিন্তু সে সম্পূর্ণরূপে বিফল মনোরথ হয় এবং সাধারণ সমাবেশে আল্লাহ্ পাকের দলীল প্রমাণাদি ও মু'জিযাসমূহ জয়যুক্ত হয়। সমস্ত যাদুকর সিজদায় পড়ে যায় এবং বলে ওঠে “ আমরা বিশ্ব প্রতিপালকের উপর ঈমান আনলাম । যিনি মূসা ( আঃ ) ও হারূন ( আঃ )-এর প্রতিপালক।" ফিরআউনের তো বিশ্বাস ছিল যে, সে যাদুকরদের সাহায্যে আল্লাহর রাসূলের উপর বিজয় লাভ করবে। কিন্তু সে অকৃতকার্য হয় এবং তার জন্যে জাহান্নাম অবধারিত হয়ে যায় । ফিরআউন নির্দেশ দিয়েছিল যে, দেশের প্রত্যেক প্রান্ত থেকে যেন যাদুকরদেরকে একত্রিত করা হয়। ঐ যাদুকররা মূসা ( আঃ )-কে বলেঃ “ আপনি যে কাজ করতে চান করে ফেলেন । তাদের একথা বলার কারণ ছিল এই যে, ফিরআউন তাদের সাথে অঙ্গীকার করেছিলঃ “ তোমরা যদি বিজয় লাভ করতে পার, তবে আমার নৈকট্য লাভ করবে এবং তোমাদেরকে বড় রকমের পুরস্কার দেয়া হবে ।” যাদুকররা মূসা ( আঃ )-কে বলেঃ “ প্রথমে আপনি আপনার কর্মকৌশল দেখাবেন, না আমরাই প্রথমে দেখাবো?” উত্তরে মূসা ( আঃ ) বললেনঃ “তোমরাই প্রথমে তোমাদের কলাকৌশল প্রদর্শন কর ।” এটা বলার উদ্দেশ্য ছিল এই যে, যাতে যাদুকররা কি পেশ করছে তা জনগণ দেখতে পারে। তারপর যেন সত্যের আগমন ঘটে এবং মিথ্যাকে মিথ্যারূপেই প্রমাণ করে। যাদুকররা তাদের যাদুর দড়িগুলো নিক্ষেপ করলো এবং জনগণের চোখে যাদু লাগিয়ে দিলো। তাদের দড়িগুলো সাপ হয়ে গেল, ফলে জনগণ ভয় পেয়ে গেল। তারা মনে করলো যে, যাদুকররা বড় রকমের যাদু পেশ করেছে। মূসা ( আঃ )-ও ভয় পেয়ে গেলেন। আল্লাহ পাক তখন মূসা ( আঃ )-কে বললেনঃ “ হে মূসা ( আঃ )! ভয় করো না । তুমিই জয়যুক্ত হবে। তোমার লাঠিখানা তুমি মাটিতে নিক্ষেপ কর। ওটি অজগর হয়ে গিয়ে তাদের সাপগুলোকে গিলে ফেলবে। যাদুকরদের এই কর্মকৌশল তো যাদু ছাড়া কিছুই নয়। যাদুকররা কোনক্রমেই সফলতা লাভ করতে পারে না। এ অবস্থায় মূসা ( আঃ ) তাদেরকে বললেনঃ “ এটা তো তোমাদের যাদুর খেলা । আল্লাহ তা'আলা অবশ্যই তোমাদের এ কাজকে মিথ্যা প্রমাণিত করবেন।”আল্লাহ পাক বলেন- “ আল্লাহ্ ফাসাদকারীদের কাজ সম্পন্ন হতে দেন না । তিনি সত্যকে সত্যরূপেই প্রমাণ করবেন, যদিও পাপাচারীদের কাছে তা অপছন্দনীয় হয়।”ইবনে আবি সুলাইম ( রাঃ ) হতে বর্ণিত আছে যে, নিম্নের আয়াতগুলো আল্লাহ তা'আলার হুকুমে যাদুক্রিয়া থেকে আরোগ্য দানের কাজ করে থাকে। এই আয়াত পড়ে পানিতে ফুঙ্কার দিতে হবে। অতঃপর সেই পানি যাদুকৃত ব্যক্তির মাথায় ঢেলে দিতে হবে। আয়াতগুলো হচ্ছে সূরায়ে ইউনুসের নিম্নের আয়াতঃ ( আরবী ) পর্যন্ত। অন্য আয়াত হচ্ছেঃ ( আরবী ) ( ৭:১১৮ ) হতে শেষ চার আয়াত পর্যন্ত। আর ( আরবী ) ( ২০:৬৯ ) এই আয়াতটি।
সূরা ইউনুস আয়াত 81 সূরা
| English | Türkçe | Indonesia |
| Русский | Français | فارسی |
| تفسير | Urdu | اعراب |
বাংলায় পবিত্র কুরআনের আয়াত
- অতঃপর তার উপর পান করবে উত্তপ্ত পানি।
- এবং পর্বতমালা হবে ধুনিত রঙ্গীন পশমের মত।
- অতঃপর তিনি তা তাদের কাছে পাঠ করতেন, তবে তারা তাতে বিশ্বাস স্থাপন করত না।
- যখন তারা জাহান্নামে পরস্পর বিতর্ক করবে, অতঃপর দূর্বলরা অহংকারীদেরকে বলবে, আমরা তোমাদের অনুসারী ছিলাম। তোমরা
- অথবা আপনার জন্যে খেজুরের ও আঙ্গুরের একটি বাগান হবে, অতঃপর আপনি তার মধ্যে নির্ঝরিনীসমূহ প্রবাহিত
- তাঁর কাছেই ফিরে যেতে হবে তোমাদের সবাইকে, আল্লাহর ওয়াদা সত্য, তিনিই সৃষ্টি করেন প্রথমবার আবার
- সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে, অতঃপর তাদের অধিকাংশই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, তারা শুনে না।
- মুমিনগণ, তোমরা অঙ্গীকারসমূহ পূর্ন কর। তোমাদের জন্য চতুষ্পদ জন্তু হালাল করা হয়েছে, যা তোমাদের কাছে
- আমি মানুষকে মাটির সারাংশ থেকে সৃষ্টি করেছি।
- তারা এ কাজের উপযুক্ত নয় এবং তারা এর সামর্থ?451; রাখে না।
বাংলায় কোরআনের সূরা পড়ুন :
সবচেয়ে বিখ্যাত কোরআন তেলাওয়াতকারীদের কণ্ঠে সূরা ইউনুস ডাউনলোড করুন:
সূরা Yunus mp3 : উচ্চ মানের সাথে সম্পূর্ণ অধ্যায়টি Yunus শুনতে এবং ডাউনলোড করতে আবৃত্তিকারকে বেছে নিন
আহমেদ আল-আজমি
ইব্রাহীম আল-আখদার
বান্দার বেলাইলা
খালিদ গালিলি
হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
খলিফা আল টুনাইজি
সাদ আল-গামদি
সৌদ আল-শুরাইম
সালাহ বুখাতীর
আবদ এল বাসেট
আবদুল রশিদ সুফি
আব্দুল্লাহ্ বাস্ফার
আবদুল্লাহ আল-জুহানী
আলী আল-হুদায়েফি
আলী জাবের
ফারেস আব্বাদ
মাহের আলমাইকুলই
মোহাম্মদ আইয়ুব
মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
মুহাম্মাদ জিব্রীল
আল-মিনশাবি
আল হোসারি
মিশারী আল-আফসী
নাসের আল কাতামি
ইয়াসের আল-দোসারি
Please remember us in your sincere prayers



