কোরান সূরা মারইয়াম আয়াত 83 তাফসীর
﴿أَلَمْ تَرَ أَنَّا أَرْسَلْنَا الشَّيَاطِينَ عَلَى الْكَافِرِينَ تَؤُزُّهُمْ أَزًّا﴾
[ مريم: 83]
আপনি কি লক্ষ্য করেননি যে, আমি কাফেরদের উপর শয়তানদেরকে ছেড়ে দিয়েছি। তারা তাদেরকে বিশেষভাবে (মন্দকর্মে) উৎসাহিত করে। [সূরা মারইয়াম: 83]
Surah Maryam in Banglaজহুরুল হক সূরা বাংলা Surah Maryam ayat 83
তুমি কি লক্ষ্য কর নি যে আমরা শয়তানদের পাঠিয়েছি অবিশ্বাসীদের নিকটে বিশেষ উসকানিতে উসকানি দিতে।
Tafsir Mokhtasar Bangla
৮৩. হে রাসূল! আপনি কি দেখেননি যে, নিশ্চয়ই আমি শয়তানদেরকে পাঠিয়ে তাদেরকে কাফিরদের উপর লাগিয়ে দিয়েছি? যারা তাদেরকে গুনাহের কাজে এবং আল্লাহর দ্বীন থেকে সরিয়ে নেয়ার কাজে বিপুলভাবে উৎসাহিত করে।
Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান
তুমি কি লক্ষ্য কর না যে, আমি অবিশ্বাসীদের জন্য শয়তানদেরকে ছেড়ে রেখেছি; তারা তাদেরকে মন্দকর্মে বিশেষভাবে প্রলুব্ধ করে থাকে। [১] [১] অর্থাৎ পথভ্রষ্ট করে, প্রলোভন ও কুমন্ত্রণা দেয় এবং পাপের দিকে টেনে নিয়ে যায়।
Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স
আপনি কি লক্ষ্য করেননি যে, আমরা কাফেরদের জন্য শয়তানদেরকে ছেড়ে দিয়েছি , তাদেরকে মন্দ কাজে বিশেষভাবে প্রলুব্ধ করার জন্য [ ১ ] ? ষষ্ঠ রুকু’ [ ১ ] تَوْزُّهُمْ اَزًّا শব্দের অর্থ দ্রুত করতে চাওয়া। [ ফাতহুল কাদীর ] তার অন্য অর্থ হচ্ছে, নাড়াচাড়া দেয়া, কোন কাজের জন্যে প্রলুব্ধ করা, উৎসাহিত করা। [ ইবন কাসীর; ফাতহুল কাদীর ] আয়াতের অর্থ এই যে, শয়তানরা কাফেরদেরকে মন্দ কাজে প্রেরণা যোগাতে থাকে, মন্দ কাজের সৌন্দর্য অন্তরে প্রতিষ্ঠিত করে দেয় এবং সেগুলোর অনিষ্টের প্রতি দৃষ্টিপাত করতে দেয় না। তাদেরকে পথভ্রষ্ট করতে থাকে। সীমালঙ্গন করতে দেয়। [ ইবন কাসীর ]
Tafsir ibn kathir bangla তাফসীর ইবনে কাসীর
৮১-৮৪ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তাআলা কাফির ও মুশরিকদের সম্পর্কে খবর দিচ্ছেন তারা ধারণা করছে যে, আল্লাহ ছাড়া অন্যান্য যে সব মাবুদের তারা উপাসনা করছে তারা তাদের সহায়ক ও সাহায্যকারী হবে। কিন্তু এটা তাদের সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। তাদের পূর্ণ মুখাপেক্ষিতার দিন অর্থাৎ কিয়ামতের দিন তারা এদের উপাসনাকে সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করে বসবে এবং তাদের শত্রু হয়ে যাবে। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেনঃ “ তার চেয়ে বেশী পথভ্রষ্ট আর কে আছে যে আল্লাহ ছাড়া অন্যান্যদেরকে আহবান করে; যারা কিয়ামতের দিন তার ডাকে সাড়া দেবে না এবং তারা তার আহবান থেকে সম্পূর্ণ উদাসীন থাকবে । যখন লোকদেরকে একত্রিত করা হবে তখন উপাস্যরা উপাসকদের শত্রু হয়ে যাবে। এবং তাদের উপাসনাকে অস্বীকার করে বসবে।"( আরবী ) এর আর একটি কিরআত ( আরবী ) ও রয়েছে। সেই দিন এই কাফিররা নিজেরাও আল্লাহ ছাড়া অন্যান্যদের ইবদিতকে অস্বীকার করবে। এই সব উপাস্য ও উপাসক জাহান্নামী হবে। তারা একে অপরের উপর লানত। করবে এবং পরস্পর একে অপরের উপর দোষারোপ করবে। সেইদিন তারা। পরস্পরে কঠিন ঝগড়ায় লিপ্ত হয়ে পড়বে। তাদের পরস্পরের সম্পর্ক সেই দিন ছিন্ন হয়ে যাবে। একে অপরের চরম শত্রুতে তারা পরিণত হবে। সাহায্য করা তো দূরের কথা, সেদিন তাদের মানবতাবোধও থাকবে না। উপাস্যরা উপাসকদের জন্যে এবং উপাসকরা উপাস্যদের জন্যে দুঃখ ও আফসোসের কারণ হবে।মহান আল্লাহ বলেনঃ হে নবী ( সঃ )! তুমি কি লক্ষ্য কর না যে, আমি কাফিরদের জন্যে শয়তানদেরকে ছেড়ে রেখেছি? তারা সব সময় তাদেরকে মন্দকর্মে বিশেষভাবে প্রলুব্ধ করতে রয়েছে। মুসলমানদের বিরুদ্ধে তাদেরকে উস্কানী দিতে আছে। তাদেরকে তারা বিদ্রোহী ও উদ্ধত করে তুলছে। যেমন আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা বলেনঃ “ যে ব্যক্তি দয়াময়ের যিকর হতে মুখ ফিরিয়ে নেয়, আমি তার উপর শয়তানের আধিপত্য বিস্তার করি এবং সে । তার সঙ্গী হয়ে যায়।”মহান আল্লাহ স্বীয় নবীকে ( সঃ ) বলেন :তুমি তাদের বিষয়ে তাড়াতাড়ি করো না এবং তাদের জন্যে বদ দুআ করো না। আমি ইচ্ছা করেই তাদেরকে অবকাশ দিয়ে রেখেছি। তাদের পাপকার্য বৃদ্ধি পেতে থাকুক। তাদেরকে পাকড়াও করার দিন ও কাল আমি গণনা করে রেখেছি। যখন ঐ নির্ধারিত কাল এসে যাবে, তখন আমি তাদেরকে পাকড়াও করবো এবং কঠিন শাস্তি দেবো। আমি যালিমদের কৃতকর্ম হতে উদাসীন নই। যেমন মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ ( আরবী ) অর্থাৎ “ যালিমরা যা করছে তার থেকে তুমি আল্লাহকে উদাসীন ও অমনোযোগী মনে করো না ।” ( ১৪:৪২ ) আর এক জায়গায় বলেনঃ ( আরবী ) অর্থাৎ “ অতএব কাফিরদেরকে অবকাশ দাও; তাদেরকে অবকাশ দাও কিছুকালের জন্যে ।”( ৮৬:১৭ ) আর এক জায়গায় রয়েছেঃ ( আরবী ) অর্থাৎ “ আমি অবকাশ দিয়ে থাকি যাতে তাদের পাপ বৃদ্ধি পায় ।" ( ৩:১৭৮ ) অন্যত্র বলেছেনঃ ( আরবী ) অর্থাৎ “ আমি তাদেরকে অল্পদিনের জন্যে সুখ ভোগ করাবো, অতঃপর তাদেরকে ভীষণ শাস্তির দিকে আসতে বাধ্য করবো ।” ( ৩১:২৪ ) আর এক স্থানে বলেছেনঃ ( আরবী ) অর্থাৎ “ হে নবী ( সঃ )! তুমি বলে দাওঃ “তোমরা উপকার ও সুখভোগ করে নাও, তোমাদের প্রকৃত ঠিকানা জাহান্নামই বটে ।" ( ১৪:৩০ )আল্লাহ তাআলা বলেনঃ আমি তো গণনা করছি তাদের নির্ধারিত কাল। অর্থাৎ আমি তাদের বছর, মাস, দিন এবং সময় গণনা করতে রয়েছি। নির্ধারিত সময় এসে গেলেই তাদের উপর শাস্তি এসে পড়বে।
সূরা মারইয়াম আয়াত 83 সূরা
| English | Türkçe | Indonesia |
| Русский | Français | فارسی |
| تفسير | Urdu | اعراب |
বাংলায় পবিত্র কুরআনের আয়াত
- অতঃপর যখন চন্দ্রকে ঝলমল করতে দেখল, বললঃ এটি আমার প্রতিপালক। অনন্তর যখন তা অদৃশ্য হয়ে
- তারা বলেঃ যখন আমরা মরে যাব এবং মৃত্তিকা ও অস্থিতে পরিণত হব, তখনও কি আমরা
- অতঃপর আমি মূসা ও হারুণকে প্রেরণ করেছিলাম আমার নিদর্শনাবলী ও সুস্পষ্ট সনদসহ,
- যারা নির্যাতিত হওয়ার পর আল্লাহর জন্যে গৃহত্যাগ করেছে, আমি অবশ্যই তাদেরকে দুনিয়াতে উত্তম আবাস দেব
- অথবা তাদের কৃতকর্মের জন্যে সেগুলোকে ধ্বংস করে দেন এবং অনেককে ক্ষমাও করে দেন।
- তাদের জন্যেই রয়েছে মন্দ শাস্তি এবং তারাই পরকালে অধিক ক্ষতিগ্রস্ত।
- আপনি নিজেকে তাদের সংসর্গে আবদ্ধ রাখুন যারা সকাল ও সন্ধ্যায় তাদের পালনকর্তাকে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের
- তারা স্মরণ করবে না, কিন্তু যদি আল্লাহ চান। তিনিই ভয়ের যোগ্য এবং ক্ষমার অধিকারী।
- যিনি নভোমন্ডল, ভূমন্ডল ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর পালনকর্তা, দয়াময়, কেউ তাঁর সাথে কথার অধিকারী হবে
- কল্যাণের জন্যে প্রেরিত বায়ুর শপথ,
বাংলায় কোরআনের সূরা পড়ুন :
সবচেয়ে বিখ্যাত কোরআন তেলাওয়াতকারীদের কণ্ঠে সূরা মারইয়াম ডাউনলোড করুন:
সূরা Maryam mp3 : উচ্চ মানের সাথে সম্পূর্ণ অধ্যায়টি Maryam শুনতে এবং ডাউনলোড করতে আবৃত্তিকারকে বেছে নিন
আহমেদ আল-আজমি
ইব্রাহীম আল-আখদার
বান্দার বেলাইলা
খালিদ গালিলি
হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
খলিফা আল টুনাইজি
সাদ আল-গামদি
সৌদ আল-শুরাইম
সালাহ বুখাতীর
আবদ এল বাসেট
আবদুল রশিদ সুফি
আব্দুল্লাহ্ বাস্ফার
আবদুল্লাহ আল-জুহানী
আলী আল-হুদায়েফি
আলী জাবের
ফারেস আব্বাদ
মাহের আলমাইকুলই
মোহাম্মদ আইয়ুব
মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
মুহাম্মাদ জিব্রীল
আল-মিনশাবি
আল হোসারি
মিশারী আল-আফসী
নাসের আল কাতামি
ইয়াসের আল-দোসারি
Please remember us in your sincere prayers



