কোরান সূরা কাহ্ফ আয়াত 94 তাফসীর
﴿قَالُوا يَا ذَا الْقَرْنَيْنِ إِنَّ يَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ مُفْسِدُونَ فِي الْأَرْضِ فَهَلْ نَجْعَلُ لَكَ خَرْجًا عَلَىٰ أَن تَجْعَلَ بَيْنَنَا وَبَيْنَهُمْ سَدًّا﴾
[ الكهف: 94]
তারা বললঃ হে যুলকারনাইন, ইয়াজুজ ও মাজুজ দেশে অশান্তি সৃষ্টি করেছে। আপনি বললে আমরা আপনার জন্যে কিছু কর ধার্য করব এই শর্তে যে, আপনি আমাদের ও তাদের মধ্যে একটি প্রাচীর নির্মাণ করে দেবেন। [সূরা কাহ্ফ: 94]
Surah Al-Kahf in Banglaজহুরুল হক সূরা বাংলা Surah Kahf ayat 94
তারা বললে -- ''হে যুল্ক্কারনাইন, নিঃসন্দেহ ইয়াজুজ ও মাজুজ দেশে অশান্তি সৃষ্টি করেছে, আমরা কি তবে আপনাকে কর দেব এই শর্তে যে আপনি আমাদের মধ্যে ও তাদের মধ্যে এক প্রাচীর বানিয়ে দেবেন?’’
Tafsir Mokhtasar Bangla
৯৪. তারা বললো: হে যুল-কারনাইন! নিশ্চয়ই ইয়াজূজ-মা’জূজ ( আদম সন্তানের দু’টি বড় জাতি ) হত্যা এবং অন্যান্য কিছুর মাধ্যমে জমিনে ফাসাদ সৃষ্টি করছে। আমরা কি আপনাকে এমন কিছু সম্পদ দেবো, যার বিনিময়ে আপনি আমাদের ও তাদের মাঝে একটি প্রতিবন্ধক দেয়াল বানিয়ে দিবেন?!
Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান
তারা বলল, ‘হে যুলকারনাইন![১] য়্যা’জূজ ও মা’জূজ পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করছে; [২] আমরা কি আপনাকে কর দেব এই শর্তে যে, আপনি আমাদের ও তাদের মাঝে এক প্রাচীর গড়ে দেবেন?’ [১] যুলকারনাইনের সাথে তাদের কথোপকথন কোন দোভাষী দ্বারা হয়েছিল। কিংবা আল্লাহ তাআলা তাঁকে যেসব বিশেষ উপকরণ ও মাধ্যম দান করেছিলেন, তার মধ্যে একটি বিভিন্ন ভাষা বুঝাও হতে পারে। সুতরাং তারা সরাসরি তাঁর সাথে কথা বলেছিল। [২] য়্যা'জূজ ও মা'জূজ দুটি জাতি সহীহ হাদীস মোতাবেক এরা মনুষ্য জাতি। এদের সংখ্যা অন্যান্য জাতির তুলনায় অনেক বেশী হবে এবং তাদেরকে দিয়েই জাহান্নামের বেশী অংশ পূর্ণ করা হবে। ( বুখারী, সূরা হাজ্জের তফসীর, মুসলিম ঈমান অধ্যায় )
Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স
তারা বলল, ‘হে যুল-কারনাইন! ইয়াজুজ ও মাজুজ [ ১ ] তো যমীনে অশান্তি সৃষ্টি করছে। তাই আমরা কি আপনাকে খরচ দেব যে, আপনি আমাদের ও তাদের মধ্যে এক প্রাচীর গড়ে দেবেন? [ ১ ] ইয়াজুজ-মাজুজ সম্পর্কে কুরআন ও হাদীসের সুস্পষ্ট বর্ণনা থেকে এতটুকু নিঃসন্দেহে প্রমাণিত হয় যে, ইয়াজুজ-মাজুজ মানব সম্প্রদায়ভুক্ত। অন্যান্য মানবের মত তারাও নূহ ‘আলাইহিস সালাম-এর সন্তান-সন্ততি। কুরআনুল করীম স্পষ্টতঃই বলেছে وَجَعَلْنَا ذُرِّيَّتَهٗ هُمُ الْبَاقِيْنَ [ আস-সাফফাতঃ ৭৭ ] অর্থাৎ নুহের মহাপ্লাবনের পরদুনিয়াতে যত মানুষ আছে এবং থাকবে, তারা সবাই নূহ ‘আলাইহিস সালাম-এর সন্তান-সন্ততি হবে। ঐতিহাসিকবৰ্ণনা এব্যাপারে একমত যে, তারা ইয়াফেসের বংশধর। [ মুসনাদে আহমাদঃ ৫/১১ ] তাদের অবশিষ্ট অবস্থা সম্পর্কে সর্বাধিক বিস্তারিত ও সহীহ হাদীস হচ্ছে নাওয়াস ইবনে সামআন রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু-এর হাদীসটি। সেখানে দাজ্জালের ঘটনা ও তার ধ্বংসের কথা বিস্তারিত বর্ণনার পর বলা হয়েছে, “ এমতাবস্থায় আল্লাহ তা'আলা ঘোষণা করবেনঃ আমি আমার বান্দাদের মধ্য থেকে এমন লোক বের করব, যাদের মোকাবেলা করার শক্তি কারো নেই । কাজেই ( হে ঈসা! )। আপনি মুসলিমদেরকে সমবেত করে তুর পর্বতে চলে যান। ( সে মতে তিনি তাই করবেন। ) অতঃপর আল্লাহ তা'আলা ইয়াজুজ-মাজুজের রাস্তা খুলে দেবেন। তাদের দ্রুত চলার কারণে মনে হবে যেন উপর থেকে পিছলে নীচে এসে পড়ছে। তাদের প্রথম দলটি তবরিয়া উপসাগরের কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় তার পানি পান করে এমন অবস্থা করে দেবে যে, দ্বিতীয় দলটি এসে সেখানে কোনদিন পানি ছিল, একথা বিশ্বাস করতে পারবে না। ঈসা ‘আলাইহিস সালাম ও তার সঙ্গীরা তুর পর্বতে আশ্রয় নেবেন। অন্যান্য মুসলিমরা নিজ নিজ দূর্গে ও নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেবে। পানাহারের বস্তুসামগ্ৰী সাথে থাকবে, কিন্তু তাতে ঘাটতি দেখা দেবে। ফলে একটি গরুর মস্তককে একশ’ দীনারের চাইতে উত্তম মনে করা হবে। ঈসা 'আলাইহিস সালাম ও অন্যান্য মুসলিমরা কষ্ট লাঘবের জন্য আল্লাহর কাছে দো'আ করবেন। ( আল্লাহ দো'আ কবুল করবেন ) তিনি মহামারী আকারে রোগব্যাধি পাঠাবেন। ফলে, অল্প সময়ের মধ্যেই ইয়াজুজ-মাজুজের গোষ্ঠী সবাই মরে যাবে। অতঃপর ঈসা 'আলাইহিস সালাম সঙ্গীদেরকে নিয়ে তুর পর্বত থেকে নীচে নেমে এসে দেখবেন। পৃথিবীতে তাদের মৃতদেহ থেকে অর্ধহাত পরিমিত স্থানও খালি নেই এবং ( মৃতদেহ পঁচে ) অসহ্য দুৰ্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। ( এ অবস্থা দেখে পুনরায় ) ঈসা আলাইহিস সালাম ও তার সঙ্গীরা আল্লাহর দরবারে দো'আ করবেন। ( যেন এই বিপদও দূর করে দেয়া হয় )। আল্লাহ তা'আলা এ দো”আও কবুল করবেন এবং বিরাটাকার পাখি প্রেরণ করবেন, যাদের ঘাড় হবে উটের ঘাড়ের মত। ( তারা মৃতদেহগুলো উঠিয়ে যেখানে আল্লাহ ইচ্ছা করবেন, সেখানে ফেলে দেবে। ) কোন কোন বর্ণনায় এসেছে, মৃতদেহগুলো সমুদ্রে নিক্ষেপ করবে। এরপর বৃষ্টি বর্ষিত হবে। কোন নগর ও বন্দর এ বৃষ্টি থেকে বাদ থাকবে না। ফলে সমগ্র ভূপৃষ্ঠ ধৌত হয়ে কাঁচের মত পরিস্কার হয়ে যাবে। অতঃপর আল্লাহ্ তা'আলা ভূপৃষ্ঠকে আদেশ করবেনঃ তোমার পেটের সমুদয় ফল-ফুল উদগীরণ করে দাও এবং নতুনভাবে তোমার বরকতসমূহ প্ৰকাশ কর। ( ফলে তাই হবে এবং এমন বরকত প্ৰকাশিত হবে যে ) একটি ডালিম একদল লোকের আহারের জন্য যথেষ্ট হবে এবং মানুষ তার ছাল দ্বারা ছাতা তৈরী করে ছায়া লাভ করবে। দুধে এত বরকত হবে যে, একটি উস্ত্রীর দুধ একদল লোকের জন্য, একটি গাভীর দুধ এক গোত্রের জন্য এবং একটি ছাগলের দুধ একটি পরিবারের জন্য যথেষ্ট হবে। ( চল্লিশ বছর যাবত এই অসাধারণ বরকত ও শান্তি-শৃংখলা অব্যাহত থাকার পর যখন কেয়ামতের সময় সমাগত হবে; তখন ) আল্লাহ তা'আলা একটি মনোরম বায়ু প্রবাহিত করবেন। এর পরশে সব মুসলিমের বগলের নীচে বিশেষ এক প্রকার রোগ দেখা দেবে এবং সবাই মৃত্যুমুখে পতিত হবে; শুধু কাফের ও দুষ্ট লোকেরাই অবশিষ্ট থেকে যাবে। তারা ভূ-পৃষ্ঠে জন্তু-জানোয়ারের মত খোলাখুলিই অপকর্ম করবে। তাদের উপরই কেয়ামত আসবে। ’ [ মুসলিমঃ ২৯৩৭ ] আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াযীদের বর্ণনায় ইয়াজুজ-মাজুজের কাহিনীর আরো অধিক বিবরণ পাওয়া যায়। তাতে রয়েছেঃ তবরিয়া উপসাগর অতিক্রম করার পর ইয়াজুজ-মাজুজ বায়তুল মোকাদাস সংলগ্ন পাহাড় জাবালুল-খমরে আরোহণ করে ঘোষণা করবেঃ আমরা পৃথিবীর সমস্ত অধিবাসীকে হত্যা করেছি। এখন আকাশের অধিবাসীদেরকে খতম করার পালা। সে মতে তারা আকাশের দিকে তীর নিক্ষেপ করবে। আল্লাহর আদেশে সে তীর রক্তরঞ্জিত হয়ে তাদের কাছে ফিরে আসবে। ( যাতে বোকারা এই ভেবে আনন্দিত হবে যে, আকাশের অধিবাসীরাও শেষ হয়ে গেছে। ) [ মুসলিমঃ ২৯৩৭ ] অন্য হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ কেয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলা আদম ‘আলাইহিস সালাম-কে বলবেনঃ আপনি আপনার সন্তানদের মধ্য থেকে জাহান্নামীদেরকে তুলে আনুন। তিনি বলবেনঃ হে আমার রব! তারা কারা? আল্লাহ বলবেনঃ প্রতি হাজারে নয়শত নিরান্নব্বই জন জাহান্নামী এবং মাত্র একজন জান্নাতী ৷ একথা শুনে সাহাবায়ে কেরাম শিউরে উঠলেন এবং জিজ্ঞেস করলেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মধ্যে সে একজন জান্নাতী কে হবে? তিনি উত্তরে বললেনঃ চিন্তা করো না। তোমাদের মধ্য থেকে এক এবং ইয়াজুজ-মাজুজের মধ্য থেকে এক হাজারের হিসেবে হবে। [ মুসলিমঃ ২২২ ] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেন যে, ইয়াজুজ-মাজুজের আবির্ভাবের পরও বায়তুল্লাহর হজ্ব ও উমরাহ অব্যাহত থাকবে। [ বুখারীঃ ১৪৯০ ] তাছাড়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদিন ঘুম থেকে এমন অবস্থায় জেগে উঠলেন যে, তার মুখমণ্ডল ছিল রক্তিমাভ এবং মুখে এই বাক্য উচ্চারিত হচ্ছিলঃ “ আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই । আরবদের ধ্বংস নিকটবতী ! আজ ইয়াজুজ-মাজুজের প্রাচীরে এতটুকু ছিদ্র হয়ে গেছে। অতঃপর তিনি বৃদ্ধাঙ্গুলি ও তর্জনী মিলিয়ে বৃত্ত তৈরী করে দেখান। যয়নব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা বলেনঃ আমি এ কথা শুনে বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের মধ্যে সৎকর্মপরায়ণ লোক জীবিত থাকতেও কি ধ্বংস হয়ে যাবে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, ধ্বংস হতে পারে; যদি অনাচারের আধিক্য হয় ৷ [ বুখারীঃ ৩৩৪৬, মুসলিমঃ ২৮৮০ ] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেছেনঃ ইয়াজুজ-মাজুজ প্রত্যেহ যুলকারনাইনের দেয়ালটি খুঁড়তে থাকে। খুঁড়তে খুঁড়তে তারা এ লৌহ-প্রাচীরের প্রান্ত সীমার এত কাছাকাছি পৌছে যায় যে, অপরপাশ্বের আলো দেখা যেতে থাকে। কিন্তু তারা একথা বলে ফিরে যায় যে, বাকী অংশটুকু আগামী কাল খুঁড়ব। কিন্তু আল্লাহ তা'আলা প্রাচীরটিকে পূর্ববৎ মজবুত অবস্থায় ফিরিয়ে নেন। পরের দিন ইয়াজুজ-মাজুজ প্রাচীর খননে নতুনভাবে আত্মনিয়োগ করে। খননকার্যে আত্মনিয়োগ ও আল্লাহ তা'আলা থেকে মেরামতের এ ধারা ততদিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে, যতদিন ইয়াজুজ-মাজুজকে বন্ধ রাখা আল্লাহর ইচ্ছা রয়েছে। যেদিন আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে মুক্ত করার ইচ্ছা করবেন, সেদিন ওরা মেহনত শেষে বলবেঃ আল্লাহ ইচ্ছা করলে আমরা আগামী কাল অবশিষ্ট অংশটুকু খুঁড়ে ওপারে চলে যাব। ( আল্লাহর নাম ও তাঁর ইচ্ছার উপর নির্ভর করার কারণে সেদিন ওদের তাওফীক হয়ে যাবে। ) পরের দিন তারা প্রাচীরের অবশিষ্ট অংশকে তেমনি অবস্থায় পাবে এবং তারা সেটুকু খুঁড়েই প্রাচীর ভেদ করে ফেলবে। [ তিরমিযিঃ ৩১৫৩, ইবনে মাজাহঃ ৪১৯৯, হাকিম মুস্তাদরাকঃ ৪/৪৮৮, মুসনাদে আহমাদঃ ২/৫১০, ৫১১ ] আল্লামা ইবনে কাসীর বলেনঃ ‘হাদীসের উদ্দেশ্য এই যে, ইয়াজুজ-মাজুজের প্রাচীর খনন করার কাজটি তখন শুরু হবে, যখন তাদের আবির্ভাবের সময় নিকটবতী হবে। কুরআনে বলা হয়েছে যে, এই প্রাচীর ছিদ্র করা যাবে না। এটা তখনকার অবস্থা, যখন যুলকারনাইন প্রাচীরটি নির্মান করেছিলেন। কাজেই এতে কোন বৈপরীত্য নেই। ” তাছাড়া কুরআনে তারা ছিদ্র পুরোপুরি করতে পারছে না বলা হয়েছে, যা হাদীসের ভাষ্যের বিপরীত নয়।
Tafsir ibn kathir bangla তাফসীর ইবনে কাসীর
৯২-৯৬ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তাআলা সংবাদ দিতে গিয়ে বলেন যে, যুলকারনাইন পূর্ব দিকে সফর শেষ করে একপথ ধরে চলতে থাকেন। চলতে চলতে দেখতে পান যে, দু'টি পাহাড় পরস্পর মিলিতভাবে রয়েছে কিন্তু ঐ পাহাড় দ্বয়ের মাঝে একটি ঘাঁটি রয়েছে, যেখান দিয়ে ইয়াজুজ ও মাজুজ বের হয়ে তুর্কীদের উপর ধ্বংসাত্মক ক্রিয়াকলাপ চালিয়ে থাকে। তারা তাদেরকে হত্যা করে, তাদের বাগান ও ক্ষেত খামার নষ্ট করে, শিশুদেরকেও মেরে ফেলে এবং সবদিক দিয়েই তাদের সর্বনাশ সাধন করে। ইয়াজুজ মাজুজও মানুষ, যেমন সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে রয়েছে যে, মহামহিমান্বিত আল্লাহ হযরত আদমকে ( আঃ ) বলবেনঃ “ হে আদম ( আঃ ) !” তিনি তখন বলবেনঃ “লাব্বায়কা ওয়া সা’দাইকা ( এই তো আমি হাযির আছি ) । আল্লাহ তাআলা বলবেনঃ “ আগুনের অংশ পৃথক কর ।”তিনি বলবেনঃ “ কতটা অংশ পৃথক করবো?” জবাবে মহান আল্লাহ বলবেনঃ “প্রতি হাযার হতে নয়শ’ নিরানব্বই জনকে পৃথক কর ( অর্থাৎ হাযারের মধ্যে নয়শ’ নিরানব্বই জন জাহান্নামী এবং একজন জান্নাতী ) ।” এটা ঐ সময় হবে যখন শিশু বৃদ্ধ হয়ে যাবে এবং গর্ভবতী নারীর গর্ভপাত হয়ে যাবে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) বলেনঃ “ তোমাদের মধ্যে দুটি দল এমন রয়েছে যে, তারা যার মধ্যে থাকবে তাকে বেশী করে দিবে । অর্থাৎ ইয়াজুজ ও মাজুজ।” ইমাম নওয়াভী ( রঃ ) সহীহ মুসলিমের শরাহতে এক অতি বিস্ময়কর কথা লিখেছেন যে, হযরত আদমের ( আঃ ) বিশেষ শুক্রের ( বীর্যের কয়েক ফোঁটা যা মাটিতে পড়েছিল তা থেকেই ইয়াজুজমাজুজকে সৃষ্টি করা হয়েছে। ঐ শুক্রের সাথে হযরত হাওয়ার (আঃ ) শুক্র মিশ্রিত হয় নাই। কিন্তু এটা স্মরণ রাখার যোগ্য যে, এই উক্তিটি খুবই গরীব বা দুর্বল। এর উপর আলী ( জ্ঞান সম্পর্কীয় ) ও নকলী ( শরীয়ত সম্পৰ্কীয় ) কোনই দলীল নেই। আহলে কিতাব হতে এরূপ কথা এসেছে যা মানার যোগ্য মোটেই নয়। তারা এ ধরণের কথা নিজেরাই বানিয়ে নিয়ে থাকে। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তাআলাই সবচেয়ে ভাল জানেন।হযরত সুমরা ( রাঃ ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) বলেছেনঃ “ হযরত নূহের ( আঃ ) তিনটি পুত্র ছিল । সাম, হা’ম এবং ইয়াফিস। সমস্ত আরব সা’মের বংশধর। সমস্ত হাবশী হা’মের বংশধর। সমস্ত তূর্কী ইয়াফিসের বংশধর।” ( এ হাদীসটি ইমাম আহমাদের (রঃ ) মুসনাদে বর্ণিত হয়েছে)কোন কোন আলেমের উক্তি এই যে, ইয়াজুজ-মাজুজ তূর্কীদের পূর্ব পুরুষ ইয়াফিসের সন্তানদেরই অন্তর্ভুক্ত। তাদেরকে তুর্কী বলার কারণ এই যে, তাদের ফাসাদ ও দুষ্টামির কারণে তাদেরকে মানুষের জনবসতির পিছনে পাহাড়ের আড়ালে ছেড়ে দেয়া হয়েছিল।ইমাম ইবনু জারীর ( রঃ ) যুলকারনাইনের সফর সম্পর্কে, ঐ প্রাচীর নির্মাণ সম্পর্কে এবং ইয়াজুজ-মাজুজের দেহাকৃতি ও কান ইত্যাদি সম্পর্কে ওহাব ইবন মনাবাহ ( রঃ ) হতে একটি অতিলম্বা চওড়া ঘটনা স্বীয় তাফসীরে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু ওটা বিস্ময়কর ও অস্বাভাবিক হওয়া ছাড়াও বিশুদ্ধতা হতে বহু দূরে রয়েছে। মুসনাদে ইবনু আবি হাতিমেও এ ধরনের বহু ঘটনা উল্লিখিত হয়েছে। কিন্তু ঐ গুলিও গারীব ও বেঠিক। এ সব ব্যাপারে আল্লাহ তাআলাই সর্বাধিক সঠিক জ্ঞানের অধিকারী। যুলকারনাইন যখন পর্বত প্রাচীরের মধ্যবর্তী স্থলে পৌঁছলেন তখন তিনি তথায় এমন এক সম্প্রদায়কে পেলেন যারা দুনিয়ার অন্যান্য লোকদের হতে বহু দূরে অবস্থান করার কারণে এবং তাদের একটা নির্দিষ্ট ভাষা হওয়ার কারণে অন্যদের ভাষা প্রায়ই বুঝতে পারতো না। ঐ লোকগুলি যুলকারনাইনের শক্তি সামর্থ এবং জ্ঞান ও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় পেয়ে তার নিকট আবেদন জানিয়ে বলেঃ “ যদি আপনি সম্মত হন তবে আমরা কর হিসেবে আপনার জন্যে বহু মালধন ও আসবাবপত্র জমা করবো এবং এর বিনিময়ে আপনি ঐ পর্বত দ্বয়ের মধ্যবর্তী ঘাটিকে কোন সুদৃঢ় প্রাচীর দ্বারা বন্ধ করে দিবেন, যাতে আমরা ঐ বিবাদ ও ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের প্রতি দিনের অত্যাচার হতে নিষ্কৃতি লাভ করতে পারি । তাদের একথার জবাবে হযরত যুলকারনাইন বললেনঃ “ তোমাদের মাল ধনের আমার কোনই প্রয়োজন নেই । আমার প্রতিপালক আমাকে যে ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি দান করেছেন তা তোমাদের ধন দৌলত অপেক্ষা বহুগুণে উত্তম ও উৎকৃষ্ট।" যেমন হযরত সুলাইমান ( আঃ ) সাবা দেশের রানীর দূতদেরকে বলেছিলেনঃ ( আরবী ) অর্থাৎ “ তোমরা কি আমাকে ধন সম্পদ দ্বারা সাহায্য করতে চাও? আল্লাহ আমাকে যা দিয়েছেন তা তোমাদেরকে যা দিয়েছেন তা হতে শ্রেষ্ঠ ।” ( ২৭:৩৬ ) অতঃপর যুলকারনাইন ঐ লোকদেরকে বললেনঃ “ তোমরা আমাকে তোমাদের দৈহিক শক্তি ও শ্রম দ্বারা সাহায্য কর । তাহলে আমি তোমাদের ও তাদের মধ্যস্থলে একটি সুদৃঢ় প্রাচীর গড়ে দিচ্ছি।” ( আরবী ) শব্দটি ( আরবী ) শব্দের বহুবচন। এর অর্থ হলো খণ্ড। যুলকারনাইন তাদেরকে বললেনঃ “ তোমরা আমার নিকট লৌহখণ্ডসমূহ নিয়ে এসো ।” তখন তারা তার কাছে ওগুলি আনয়ন করলো। তখন তিনি প্রাচীর নির্মাণ কার্যে লেগে। পড়লেন। ওটা দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে এমন হলো যে, সমস্ত জায়গাকে ঘিরে ফেললো এবং পর্বত শিখর পর্যন্ত পৌঁছে গেল। প্রাচীরটির দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও পুরুত্বের বর্ণনায় বিভিন্ন উক্তি রয়েছে। যখন প্রাচীরটির নির্মাণকার্য সমাপ্ত হয়ে গেল তখন তিনি তাদেরকে নির্দেশ দিলেনঃ “ এখন তোমরা এই প্রাচীরের চতুষ্পর্শ্বে আগুন জ্বালিয়ে দাও এবং হাঁপরে দম দিয়ে থাকো ।” যখন ওটা অগ্নিবৎ উত্তপ্ত ' হলো তখন তিনি তাদেরকে বললেনঃ “ এখন তোমরা গলিত তাম্র আনয়ন কর এবং ওর চতুর্দিকে সম্পূর্ণরূপে বহিয়ে দাও ।" এ কাজও করা হলো। সুতরাং ঠাণ্ডা হওয়ার পর প্রাচীরটি অত্যন্ত মযবুত হয়ে গেল। প্রাচীরটি দেখে মনে হলো যেন তা রেখা যুক্ত চাদর।বর্ণিত আছে যে, একজন সাহাবী ( রাঃ ) রাসূলুল্লাহর ( সঃ ) খিদমতে আর করেনঃ “ আমি ঐ প্রাচীরটি দেখেছি । তাঁর এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) তাকে প্রশ্ন করেনঃ “ ওটা কিরূপ?” উত্তরে তিনি বলেনঃ “যেন তা রেখাযুক্ত চাদর, যাতে লাল ও কালো রেখা রয়েছে ।” তখন রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) বলেনঃ “ তুমি ঠিকই বলেছো ।”। ( এ হাদীসটি ইমাম ইবনু জারীর (রঃ ) বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এ রিওয়াইয়াতটি মুরসাল)খলীফা ওয়াসিক স্বীয় খিলাফত কালে তার কোন এক আমীর বা সভাষদকে এক সেনাবাহিনী ও বহু সাজ-সরঞ্জামসহ এই উদ্দেশ্যে প্রেরণ করেন যে, তারা যেন ঐ প্রাচীরটি দেখে এসে তাঁর নিকট ওর বর্ণনা দেন ঐ সেনাবাহিনী দুই বছরেরও অধিক কাল সফর করেন এবং তাঁরা ঐ প্রাচীরের নিকট পৌঁছে যান। তারা দেখতে পান যে, প্রাচীরটি লৌহ ও তাম্র দ্বারা নির্মিত। তাতে একটি বিরাট দর রয়েছে এবং তাতে একটি বৃহৎ তালা লাগানো আছে। প্রাচীরটির নির্মাণ কার্য শেষ করার পর যে মসল্লা অবশিষ্ট ছিল তা একটি বুরুজে রক্ষিত আছে। সেখানে প্রহরী নিযুক্ত রয়েছে। প্রাচীর অত্যন্ত উচ্চ। যথাসাধ্য চেষ্টা করেও ওর উপরে আরোহন করা সম্ভম্বপর নয়। ওর সাথে মিলিত পাহাডগুলি দু”দিক দিয়ে বরাবর চলে গিয়ে তারা আরো বহু বিস্ময়কর জিনিস অবলোকন করেন এবং ফিরে এসে খলীফার নিকট সব বিবরণ বর্ণনা করেন।
সূরা কাহ্ফ আয়াত 94 সূরা
| English | Türkçe | Indonesia |
| Русский | Français | فارسی |
| تفسير | Urdu | اعراب |
বাংলায় পবিত্র কুরআনের আয়াত
- আপনি আল্লাহর সাথে অন্য উপাস্যকে আহবান করবেন না। তিনি ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নেই। আল্লাহর
- ঘন উদ্যান,
- শয়তান তোমাদের শত্রু; অতএব তাকে শত্রু রূপেই গ্রহণ কর। সে তার দলবলকে আহবান করে যেন
- অথবা বলতে শুরু কর যে, অংশীদারিত্বের প্রথা তো আমাদের বাপ-দাদারা উদ্ভাবন করেছিল আমাদের পূর্বেই। আর
- অথচ তারা পূর্ব থেকে সত্যকে অস্বীকার করছিল। আর তারা সত্য হতে দূরে থেকে অজ্ঞাত বিষয়ের
- যদি সব মানুষের এক মতাবলম্বী হয়ে যাওয়ার আশংকা না থাকত, তবে যারা দয়াময় আল্লাহকে অস্বীকার
- আর তাদেরকে হত্যাকর যেখানে পাও সেখানেই এবং তাদেরকে বের করে দাও সেখান থেকে যেখান থেকে
- নির্মান করেছি তোমাদের মাথার উপর মজবুত সপ্ত-আকাশ।
- সমুদ্রে ভাসমান পর্বতসম জাহাজসমূহ তাঁর অন্যতম নিদর্শন।
- এবং কোন সহৃদয় বন্ধু ও নেই।
বাংলায় কোরআনের সূরা পড়ুন :
সবচেয়ে বিখ্যাত কোরআন তেলাওয়াতকারীদের কণ্ঠে সূরা কাহ্ফ ডাউনলোড করুন:
সূরা Kahf mp3 : উচ্চ মানের সাথে সম্পূর্ণ অধ্যায়টি Kahf শুনতে এবং ডাউনলোড করতে আবৃত্তিকারকে বেছে নিন
আহমেদ আল-আজমি
ইব্রাহীম আল-আখদার
বান্দার বেলাইলা
খালিদ গালিলি
হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
খলিফা আল টুনাইজি
সাদ আল-গামদি
সৌদ আল-শুরাইম
সালাহ বুখাতীর
আবদ এল বাসেট
আবদুল রশিদ সুফি
আব্দুল্লাহ্ বাস্ফার
আবদুল্লাহ আল-জুহানী
আলী আল-হুদায়েফি
আলী জাবের
ফারেস আব্বাদ
মাহের আলমাইকুলই
মোহাম্মদ আইয়ুব
মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
মুহাম্মাদ জিব্রীল
আল-মিনশাবি
আল হোসারি
মিশারী আল-আফসী
নাসের আল কাতামি
ইয়াসের আল-দোসারি
Please remember us in your sincere prayers



