কোরান সূরা ত্বীন আয়াত 1 তাফসীর

  1. Mokhtasar
  2. Ahsanul Bayan
  3. AbuBakr Zakaria
  4. Ibn Kathir
Surah Tin ayat 1 Bangla tafsir - তাফসীর ইবনে কাসীর - Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান - Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স - বাংলা ভাষায় নোবেল কোরআনের অর্থের অনুবাদ উর্দু ভাষা ও ইংরেজি ভাষা & তাফসীর ইবনে কাসীর : সূরা ত্বীন আয়াত 1 আরবি পাঠে(Tin).
  
   

﴿وَالتِّينِ وَالزَّيْتُونِ﴾
[ التين: 1]

শপথ আঞ্জীর (ডুমুর) ও যয়তুনের, [সূরা ত্বীন: 1]

Surah At-Tin in Bangla

জহুরুল হক সূরা বাংলা Surah Tin ayat 1


ভাবো ডুমুরেব, আর জলপাইয়ের কথা;


Tafsir Mokhtasar Bangla


১. আল্লাহ শপথ করলেন ডুমুর ও তা উৎপন্ন হওয়ার স্থানের। আরো শপথ করলেন জলপাই ও তা উৎপন্ন হওয়ার স্থানের। যা জেরুজালিমের ভ‚মীতে। যথায় আবির্ভ‚ত হয়েছেন ঈসা ( আলাইহিস-সালাম )

Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান


শপথ তীন ও যাইতূনের। [১] [১] ( 'তীন' ডুমুরজাতীয় এক প্রকার মিষ্টি ফল; যার গাছ ও ফল ডুমুর গাছ ও ফলের মতই দেখতে। উর্দুতে 'আনজীর' তর্জমা দেখে তা আমাদের দেশের 'পেয়ারা' 'আঞ্জীর' বা 'আমসপেরা' মনে করা ভুল। যয়তূনকে ইংরেজীতে 'অলিভ' বলা হয়। বাংলাতে এর অনুবাদ 'জলপাই' করা হয়ে থাকে। ) -সম্পাদক

Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স


শপথ ‘তীন’ ও ‘যায়তুন” [] – এর , সূরা সম্পর্কিত তথ্যঃ বারা ইবনে আযেব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার সফরে দু’রাকা‘আতের যে কোন রাকা‘আতে সূরা আত-তীন পড়লেন। আমি তার মত সুন্দর স্বর ও পড়া আর কোন দিন শুনিনি।” [ বুখারী: ৭৬৭, ৬৭৯, ৪৯৫২, মুসলিম: ৪৬8, আবু দাউদ: ১২২১, তিরমিয়ী: ৩১০ ] ----------------------- [] এর ব্যাখ্যায় মুফাসসিরগণের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা যায়। হাসান বসরী, ইকরামাহ, আতা ইবনে আবী রাবাহ, জাবের ইবনে যায়েদ, মুজাহিদ ও ইবরাহীম নাখ‘য়ী রাহেমাহুমুল্লাহ বলেন, তীন বা আঞ্জির ( গোল হালকা কালচে বর্ণের এক রকম মিষ্টি ফল ) বলতে এই সাধারণ তীনকে বুঝানো হয়েছে, যা লোকেরা খায়। আর যায়তুন বলতেও এই যায়তূনই বুঝানো হয়েছে, যা থেকে তেল বের করা হয়। [ কুরতুবী, তাবারী ] কোন কোন মুফাসসির বলেন তীন ও যায়তূন শব্দের অর্থ এই ফল দু‘টি উৎপাদনের সমগ্ৰ এলাকা হতে পারে। আর এটি হচ্ছে সিরিয়া ও ফিলিস্তীন এলাকা। কারণ সে যুগের আরবে তীন ও যায়তূন উৎপাদনের জন্য এ দু’টি এলাকাই পরিচিত ছিল। ইবনে তাইমিয়া ও ইবনুল কাইয়েম রাহেমাহুমুল্লাহ এই ব্যাখ্যা অবলম্বন করেছেন। অন্যদিকে ইবনে জারীর প্রথম বক্তব্যটিকে অগ্ৰাধিকার দিলেও একথা মেনে নিয়েছেন যে, তীন ও যায়তূন দ্বারা এই ফল দু’টি উৎপাদনের এলাকা উদ্দেশ্য হতে পারে।

Tafsir ibn kathir bangla তাফসীর ইবনে কাসীর


হযরত বারা ইবনে আযিব ( রাঃ ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ “ নবী করীম ( সঃ ) তাঁর এক সফরে দু'রাকআত নামাযের কোন এক রাকআতে সূরা তীন পাঠ করছিলেন । আমি তার চেয়ে মধুর ও উত্তম কণ্ঠস্বর অথবা কিরআত আর কারো শুনিনি।১-৮ নং আয়াতের তাফসীরএখানে তাফসীরকারগণ বহু উক্তির উপর মতভেদ করেছেন। কারো কারো মতে তীন' দ্বারা দামেস্কের মসজিদকে বুঝানো হয়েছে। আবার কেউ কেউ বলেন, ‘তীন’ হলো সরাসরি দামেস্ক শহর। অন্য কেউ বলেন যে, ওটা হলো জুদী পাহাড়ে অবস্থিত হযরত নূহের ( আঃ ) মসজিদ। হযরত মুজাহিদের ( রঃ ) মতে এটা হলো সাধারণ আনজীর বা ডুমুর জাতীয় ফল।যায়তুনের অর্থ ও বিভিন্নভাবে করা হয়েছে। কেউ কেউ বলেন যে, ওটা হলো বায়তুল মুকাদ্দাসের মসজিদ। অন্য কারো মতে যায়তুন হলো ঐ ফল যাকে চিপে রস অর্থাৎ তৈল বের করা হয়। ভূরে সীনীন হলো ঐ পাহাড় যেখানে হযরত মূসা ( আঃ ) আল্লাহ তা'আলার সাথে কথা বলেছিলেন।( আরবি ) দ্বারা মক্কা শরীফকে বুঝানো হয়েছে। এ ব্যাপারে কোন মতভেদ নেই। কেউ কেউ বলেন যে, এই তিন জায়গায় তিনজন বিশিষ্ট নবীকে ( আঃ ) প্রেরণ করা হয়েছিল। তুরে সীনীন এর অর্থ হলো তুরে সায়না অর্থাৎ সিনাই পাহাড়। এই পাহাড়ে আল্লাহ জাল্লাজালালুহু হযরত মুসা ( আঃ )-এর সাথে বাক্য বিনিময় করেছেন। বালাদুল আমীন হলো মক্কা মুআযযামা, যেখানে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদকে ( সঃ ) পাঠানো হয়েছে। তাওরাতের শেষেও এ তিনটি জায়গার নাম উল্লিখিত রয়েছে। তাতে রয়েছে যে, তূরে সায়না থেকে আল্লাহ তা'আলা এসেছেন অর্থাৎ তিনি হযরত মূসার ( আঃ ) সাথে কথা বলেছেন আর সা’ঈর। অর্থাৎ বায়তুল মুকাদ্দাসের পাহাড় থেকে তিনি নুর চমকিত করেছেন। অর্থাৎ হযরত ঈসা ( আঃ ) কে সেখানে প্রেরণ করেছেন এবং ফারানের শীর্ষে তিনি উন্নীত হয়েছেন অর্থাৎ মক্কার পাহাড় থেকে হযরত মুহাম্মদ ( সঃ ) কে প্রেরণ করেছেন। অতঃপর এই তিনজন বিশিষ্ট নবীর ভাষা এবং সত্তা সম্পর্কে পর্যায়ক্রমেই উল্লেখ করা হয়েছে।এইসব শপথের পর আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা বলেনঃ নিশ্চয়ই আমি মানুষকে অত্যন্ত সুন্দর ছাঁচে ঢালাই করেছি, অতঃপর তাকে আমি অধঃপতিত হীন অবস্থার লোকদের চেয়েও হীনতম করে দিই। অর্থাৎ জাহান্নামের অধিবাসী করে দিই, যদি তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ( সঃ )-এর আনুগত্য না করে থাকে। এ কারণেই যারা ঈমান এনেছে ও ভাল কাজ করেছে তাদেরকে পৃথক করে নেয়া হয়েছে। কেউ কেউ বলেন যে, এর দ্বারা অতি বৃদ্ধাবস্থায় ফিরিয়ে দেয়ার কথা বুঝানো হয়েছে। ইকরামা ( রঃ ) বলেন যে, যে ব্যক্তি কুরআন জমা করেছে সে বার্ধক্য ও হীন অবস্থায় উপনীত হবে না। ইবনে জারীর ( রঃ ) এ কথা পছন্দ করেছেন। কিন্তু অনেক ঈমানদারও তো বৃদ্ধাবস্থায় উপনীত হন। কাজেই সঠিক কথা হলো ওটাই যা উপরে বর্ণিত হয়েছে। যেমন অন্য জায়গায় আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ ( আরবি )অর্থাৎ “ মহাকালের শপথ! মানুষ অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত, কিন্তু তারা নয়, যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে ।( ১০৩:১-৩ ) ইতিপূর্বেও এরূপ উক্তি উল্লিখিত হয়েছে।মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ হে মানুষ! তুমি যখন তোমার প্রথমবারের সৃষ্টি সম্পর্কে জানো তখন শাস্তি ও পুরস্কারের দিনের আগমনের কথা শুনে এবং পুনরায় জীবিত হওয়ার অর্থাৎ পুনরুত্থানের কথা শুনে এটাকে বিশ্বাস করছো না কেন? এ অবিশ্বাসের কারণ কি? কোন বস্তু তোমাকে কিয়ামত সম্পর্কে অবিশ্বাসী করেছে? যিনি প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন তাঁর পক্ষে পুনরায় সৃষ্টি করা কি কঠিন কাজ?হযরত মুজাহিদ ( রঃ ) একবার হযরত ইবনে আব্বাসকে ( রাঃ ) জিজ্ঞেস করেন “ এখানে কি হযরত মুহাম্মদ ( সঃ ) কে বুঝানো হয়েছে?” উত্তরে তিনি বলেনঃ “আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাচ্ছি । এখানে শুধু সাধারণ মানুষকেই বুঝানো হয়েছে।”এরপর আল্লাহ তাআলা বলেনঃ তিনি কি বিচারকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বিচারক নন? তিনি কারো প্রতি কোন প্রকার যুলুম বা অত্যাচার করেন না। তিনি অবিচার করেন না। এ কারণেই তিনি কিয়ামত বা শেষ বিচারের দিনকে অবশ্যই আনয়ন করবেন এবং সেই দিন তিনি প্রত্যেক যালিম, অত্যাচারীর নিকট থেকে যুলুমঅত্যাচারের প্রতিশোধ গ্রহণ করবেন। ইতিপূর্বে হযরত আবু হুরাইরা ( রাঃ ) হতে মারফু’ রূপে একটি হাদীস গত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) বলেছেনঃ “ যখন তোমাদের মধ্যে কেউ ( আরবি ) সূরাটি পাঠ করবে এবং সূরার শেষের ( আরবি )পর্যন্ত পৌঁছবে তখন যেন সে বলেঃ ( আরবি )অর্থাৎ “হ্যা, এবং আমিও এর উপর সাক্ষ্যদাতাদের মধ্যে একজন ।

সূরা ত্বীন আয়াত 1 সূরা

والتين والزيتون

سورة: التين - آية: ( 1 )  - جزء: ( 30 )  -  صفحة: ( 597 )


English Türkçe Indonesia
Русский Français فارسی
تفسير Urdu اعراب

বাংলায় পবিত্র কুরআনের আয়াত

  1. এতে প্রত্যেক কাজের জন্যে ফেরেশতাগণ ও রূহ অবতীর্ণ হয় তাদের পালনকর্তার নির্দেশক্রমে।
  2. আমি তাদেরকে যে নিদর্শনই দেখাতাম, তাই হত পূর্ববর্তী নিদর্শন অপেক্ষা বৃহৎ এবং আমি তাদেরকে শাস্তি
  3. তারা এমন লোক যাদেরকে আমি পৃথিবীতে শক্তি-সামর্থ?2470;ান করলে তারা নামায কায়েম করবে, যাকাত দেবে এবং
  4. সকালে ও সন্ধ্যায় তাদেরকে আগুনের সামনে পেশ করা হয় এবং যেদিন কেয়ামত সংঘটিত হবে, সেদিন
  5. আপনি বলে দিনঃ আমরা কি আল্লাহ ব্যতীত এমন বস্তুকে আহবান করব, যে আমাদের উপকার করতে
  6. আমি তাকে উচ্চে উন্নীত করেছিলাম।
  7. এবং নিত্য ব্যবহার্য্য বস্তু অন্যকে দেয় না।
  8. অতএব, যদি সত্যবাদী হও, তবে আকাশের কোন টুকরো আমাদের উপর ফেলে দাও।
  9. হে আমার পালনকর্তা, আমাকে নামায কায়েমকারী করুন এবং আমার সন্তানদের মধ্যে থেকেও। হে আমাদের পালনকর্তা,
  10. এ কারণেই আমি বনী-ইসলাঈলের প্রতি লিখে দিয়েছি যে, যে কেউ প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ অথবাপৃথিবীতে অনর্থ

বাংলায় কোরআনের সূরা পড়ুন :

সুরত আল বাক্বারাহ্ আলে ইমরান সুরত আন-নিসা
সুরত আল-মায়েদাহ্ সুরত ইউসুফ সুরত ইব্রাহীম
সুরত আল-হিজর সুরত আল-কাহফ সুরত মারইয়াম
সুরত আল-হাজ্জ সুরত আল-ক্বাসাস আল-‘আনকাবূত
সুরত আস-সাজদা সুরত ইয়াসীন সুরত আদ-দুখান
সুরত আল-ফাতহ সুরত আল-হুজুরাত সুরত ক্বাফ
সুরত আন-নাজম সুরত আর-রাহমান সুরত আল-ওয়াক্বি‘আহ
সুরত আল-হাশর সুরত আল-মুলক সুরত আল-হাক্কাহ্
সুরত আল-ইনশিক্বাক সুরত আল-আ‘লা সুরত আল-গাশিয়াহ্

সবচেয়ে বিখ্যাত কোরআন তেলাওয়াতকারীদের কণ্ঠে সূরা ত্বীন ডাউনলোড করুন:

সূরা Tin mp3 : উচ্চ মানের সাথে সম্পূর্ণ অধ্যায়টি Tin শুনতে এবং ডাউনলোড করতে আবৃত্তিকারকে বেছে নিন
সুরত ত্বীন  ভয়েস আহমেদ আল-আজমি
আহমেদ আল-আজমি
সুরত ত্বীন  ভয়েস ইব্রাহীম আল-আখদার
ইব্রাহীম আল-আখদার
সুরত ত্বীন  ভয়েস বান্দার বেলাইলা
বান্দার বেলাইলা
সুরত ত্বীন  ভয়েস খালিদ গালিলি
খালিদ গালিলি
সুরত ত্বীন  ভয়েস হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
সুরত ত্বীন  ভয়েস খলিফা আল টুনাইজি
খলিফা আল টুনাইজি
সুরত ত্বীন  ভয়েস সাদ আল-গামদি
সাদ আল-গামদি
সুরত ত্বীন  ভয়েস সৌদ আল-শুরাইম
সৌদ আল-শুরাইম
সুরত ত্বীন  ভয়েস সালাহ আবু খাতর
সালাহ বুখাতীর
সুরত ত্বীন  ভয়েস আবদুল বাসিত আব্দুল সামাদ
আবদ এল বাসেট
সুরত ত্বীন  ভয়েস আবদুল রশিদ সুফি
আবদুল রশিদ সুফি
সুরত ত্বীন  ভয়েস আব্দুল্লাহ্ বাস্‌ফার
আব্দুল্লাহ্ বাস্‌ফার
সুরত ত্বীন  ভয়েস আবদুল্লাহ আওওয়াদ আল-জুহানী
আবদুল্লাহ আল-জুহানী
সুরত ত্বীন  ভয়েস আলী আল-হুদায়েফি
আলী আল-হুদায়েফি
সুরত ত্বীন  ভয়েস আলী জাবের
আলী জাবের
সুরত ত্বীন  ভয়েস ফারেস আব্বাদ
ফারেস আব্বাদ
সুরত ত্বীন  ভয়েস মাহের আলমাইকুলই
মাহের আলমাইকুলই
সুরত ত্বীন  ভয়েস মোহাম্মদ আইয়ুব
মোহাম্মদ আইয়ুব
সুরত ত্বীন  ভয়েস মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
সুরত ত্বীন  ভয়েস মুহাম্মাদ জিব্রীল
মুহাম্মাদ জিব্রীল
সুরত ত্বীন  ভয়েস মুহাম্মদ সিদ্দিক আল মিনশাবি
আল-মিনশাবি
সুরত ত্বীন  ভয়েস আল হোসারি
আল হোসারি
সুরত ত্বীন  ভয়েস আল-আফসী
মিশারী আল-আফসী
সুরত ত্বীন  ভয়েস নাসের আল কাতামি
নাসের আল কাতামি
সুরত ত্বীন  ভয়েস ইয়াসের আল-দোসারি
ইয়াসের আল-দোসারি


Tuesday, June 23, 2026

Please remember us in your sincere prayers