কোরান সূরা শাম্স আয়াত 13 তাফসীর

  1. Mokhtasar
  2. Ahsanul Bayan
  3. AbuBakr Zakaria
  4. Ibn Kathir
Surah Shams ayat 13 Bangla tafsir - তাফসীর ইবনে কাসীর - Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান - Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স - বাংলা ভাষায় নোবেল কোরআনের অর্থের অনুবাদ উর্দু ভাষা ও ইংরেজি ভাষা & তাফসীর ইবনে কাসীর : সূরা শাম্স আয়াত 13 আরবি পাঠে(Shams).
  
   

﴿فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ نَاقَةَ اللَّهِ وَسُقْيَاهَا﴾
[ الشمس: 13]

অতঃপর আল্লাহর রসূল তাদেরকে বলেছিলেনঃ আল্লাহর উষ্ট্রী ও তাকে পানি পান করানোর ব্যাপারে সতর্ক থাক। [সূরা শাম্স: 13]

Surah Ash-Shams in Bangla

জহুরুল হক সূরা বাংলা Surah Shams ayat 13


তখন আল্লাহ্‌র রসূল তাদের বলেছিলেন -- ''আল্লাহ্‌র উষ্ট্রী, আর তার জলপানস্থল।’’


Tafsir Mokhtasar Bangla


১৩. তখন তাদেরকে আল্লাহর রাসূল সালেহ ( আলাইহিস-সালাম ) বললেন: তোমরা আল্লাহর উষ্ট্রীকে ছেড়ে দাও এবং তাকে তার পালার দিবসে পান করতে দাও। তাকে কোনরূপ কষ্ট দেয়া থেকে বিরত থাকো।

Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান


তখন আল্লাহর রসূল তাদেরকে বলল, ‘আল্লাহর উষ্ট্রী ও তাকে পানি পান করাবার বিষয়ে সাবধান হও।’ [১] [১] অর্থাৎ, সেই উটনীর যেন কোন ক্ষতি না করে। এইরূপ তার পানি পান করার যে দিন ধার্য্য আছে, তাতেও যেন কোন গড়বড় না করা হয়। উটনী ও সামূদ জাতি উভয়ের জন্য পানির পানের এক এক পৃথক দিন ধার্য্য করে দেওয়া হয়েছিল। তা বহাল রাখার তাকীদ করা হল। কিন্তু সে যালেমরা তা পরোয়া করল না।

Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স


তখন আল্লাহ্র রাসূল তাদেরকে বললেন, ‘আল্লাহ্র উষ্ট্রী ও তাকে পানি পান করানোর বিষয়ে সাবধান হও []।’ [] কুরআন মজীদের অন্যান্য স্থানে এর বিস্তারিত বিবরণ দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, সামূদ জাতির লোকেরা সালেহ আলাইহিস সালামকে বলে দিয়েছিল যে, যদি তুমি সত্যবাদী হও তাহলে কোন নিশানী ( মু‘জিযা ) পেশ করো। একথায় সালেহ আলাইহিস্ সালাম মু‘জিযা হিসেবে একটি উটনী তাদের সামনে হাযির করেন, তিনি বলেন: এটি আল্লাহ্র উটনী। যমীনের যেখানে ইচ্ছা সে চরে বেড়াবে। একদিন সে একা সমস্ত পানি পান করবে এবং অন্যদিন তোমরা সবাই ও তোমাদের পশুরা পানি পান করবে। যদি তোমরা তার গায়ে হাত লাগাও তাহলে মনে রেখো তোমাদের ওপর কঠিন আযাব বর্ষিত হবে। একথায় তারা কিছুদিন পর্যন্ত ভয় করতে থাকলো। তারপর তারা তাদের সবচেয়ে হতভাগা লোককে ডেকে একমত হলো এবং বলল , এই উটনীটিকে শেষ করে দাও। সে এই কাজের দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে এলো। [ দেখুন: সূরা আল-আ‘রাফ ৭৩, আশ-শু‘আরা ১৫৪-১৫৬ এবং আল-ক্বামার ২৯ ]

Tafsir ibn kathir bangla তাফসীর ইবনে কাসীর


১১-১৫ নং আয়াতের তাফসীরআল্লাহ তা'আলা বলেনঃ সামূদ গোত্রের লোকেরা হঠকারিতা করে এবং অহংকারের বশবর্তী হয়ে তাদের রাসূল ( আঃ ) কে অবিশ্বাস ও অস্বীকার করেছে। মুহাম্মদ ইবনে কাব ( রঃ ) বলেন, ( আরবি ) এর ভাবার্থ হলোঃ তারা সবাই মিথ্যাপ্রতিপন্ন করেছে। কিন্তু প্রথম উক্তিটিই অধিক উত্তম। হযরত মুজাহিদ ( রঃ ) এবং হযরত কাতাদা ও ( রঃ ) এ কথাই বলেছেন। এ হঠকারিতা এবং মিথ্যাচারের কারণে তারা এমন দুর্ভাগ্যের সম্মুখীন হয়েছিল যে, তাদের মধ্যে যে ছিল সবচেয়ে নিকৃষ্ট ব্যক্তি সে প্রস্তুত হয়ে যায়। তার নাম ছিল কিদার ইবনে সালিফ। সে হযরত সালিহ্র ( আঃ ) উন্ত্রীকে কেটে ফেলে। এ সম্পর্কে কুরআন কারীমে বলা হয়েছেঃ ( আরবি )অর্থাৎ “ তারা তাদের সঙ্গীকে আহ্বান করলো, তাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে সে এসে গেল এবং উস্ত্রীকে মেরে ফেললো ।( ৫৪:২৯ ) এ লোকটিও তার কওমের মধ্যে সম্মানিত ছিল। সে ছিল সদ্বংশজাত, সম্ভ্রান্ত এবং কওমের নেতা।হযরত আবদুল্লাহ ইবনে যামআহ ( রাঃ ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) একবার তাঁর ভাষণে ঐ উস্ত্রীর এবং ওর হত্যাকারীর বিষয়ে আলোচনা করেন এবং এ আয়াত তিলাওয়াত করেন। তারপর বলেনঃ “ ঠিক যেন আবু যামআ’হ । এ লোকটিও কিদারের মতই নিজের কওমের নিকট প্রিয়, সম্মানিত এবং সম্ভ্রান্ত ছিল।” ( এ হাদীসটি ইমাম বুখারী (রঃ ) স্বীয় তাফসীরে, ইমাম মুসলিম ( রঃ ) সিফাতুন্নারের মধ্যে এবং ইমাম তিরমিযী ( রঃ ) ও ইমাম নাসাঈ ( রঃ ) তাফসীরের মধ্যে বর্ণনা করেছেন)মুসনাদে ইবনে আবী হাতিমে হযরত আম্মার ইবনে ইয়াসার ( রঃ ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) হযরত আলীকে ( সঃ ) বলেনঃ “ আমি তোমাকে সারা পৃথিবীর সবচেয়ে পাপী ও নিকৃষ্ট দু’টি লোকের কথা বলছি । এক ব্যক্তি হলো সামূদ জাতির সেই নরাধম যে হযরত সালিহ্র ( আঃ ) উষ্ট্রীকে হত্যা করেছে, আর দ্বিতীয় হলো ঐ ব্যক্তি যে তোমার কপালে যখম করবে। তাতে তোমার শ্মশু রক্ত রঞ্জিত হয়ে যাবে।” আল্লাহর রাসূল হযরত সালিহ ( আঃ ) তাঁর কওমকে বললেনঃ হে আমার কওম! তোমরা আল্লাহর উস্ত্রীর কোন ক্ষতি করা হতে বিরত থাকো। তার পানি পান করার নির্ধারিত দিনে জুলুম করে তার পানি বন্ধ করো না। তোমাদের এবং তার পানি পানের দিন তারিখ এবং সময় নির্ধারিত রয়েছে। কিন্তু ঐ দুবৃত্তরা নবীর ( আঃ ) কথা মোটেই গ্রাহ্য করলো না। এই পাপের কারণে তাদের অন্তর কঠিন হয়ে গেল। তারপর তারা তাদের প্রকাশ্য মুকাবিলার জন্যে প্রস্তুত হয়ে গেল এবং ঐ উস্ত্রীকে হত্যা করলো, যাকে আল্লাহ পিতা মাতা ছাড়াই পাথরের একটা টুকরোর মধ্য হতে সৃষ্টি করেছিলেন। ঐ উষ্ট্ৰীটি ছিল হযরত সালিহ্র ( আঃ ) একটি মু'জিযা। এবং আল্লাহর কুদরতের পূর্ণ নিদর্শন। ফলে আল্লাহ তা'আলাও তাদের উপর ভীষণ ক্ষুব্ধ হন এবং পাইকারী হারে আযাব দিয়ে তাদের সবাইকে ধ্বংস করে দেন। নবী ( আঃ )-এর উষ্ট্রী হত্যাকারী ব্যক্তিকে তার সম্প্রদায়ের ছোট বড় নারী পুরুষ সবাই এ ব্যাপারে সমর্থন করেছিল এবং সবারই পরামর্শক্রমেই সেই নরাধম উষ্ট্রীকে হত্যা করেছিল। এ কারণে আল্লাহর আযাবে সবাই ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল।( আরবি ) শব্দটি ( আরবি ) রূপেও পঠিত হয়েছে। অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা কাউকে শাস্তি দিয়ে তার পরিণাম কি হবে তা চিন্তা করেন না। তারা বিগড়ে বসে কিনা সেটারও আল্লাহ তাবারাকাওয়া তাআলা কোন পরোয়া করেন না। এখানে এও অর্থ হতে পারে যে ঐ দুবৃত্ত উস্ত্রীকে মেরে ফেলেছে, কিন্তু এর পরিণামকে ভয় করেনি। কিন্তু প্রথম উক্তিটিই উত্তম। এ সব ব্যাপারে আল্লাহ তাআলাই সঠিক জ্ঞানের অধিকারী।

সূরা শাম্স আয়াত 13 সূরা

فقال لهم رسول الله ناقة الله وسقياها

سورة: الشمس - آية: ( 13 )  - جزء: ( 30 )  -  صفحة: ( 595 )


English Türkçe Indonesia
Русский Français فارسی
تفسير Urdu اعراب

বাংলায় পবিত্র কুরআনের আয়াত

  1. তারা বললঃ দয়াময় আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছে। তাঁর জন্য কখনও ইহা যোগ্য নয়; বরং তারা
  2. এগুলো এ কারণে যে, আল্লাহ সত্য এবং তিনি মৃতকে জীবিত করেন এবং তিনি সবকিছুর উপর
  3. যেদিন শিংগায় ফুঁক দেয়া হবে;
  4. বলুন, হে মুর্খরা, তোমরা কি আমাকে আল্লাহ ব্যতীত অন্যের এবাদত করতে আদেশ করছ?
  5. কিংবা বলতে শুরু করঃ যদি আমাদের প্রতি কোন গ্রন্থ অবতীর্ণ হত, আমরা এদের চাইতে অধিক
  6. অবশ্যই তোমাদের উপর তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত আছে।
  7. আবার অনেক লোক রয়েছে যাদের কাজকর্ম আল্লাহর নির্দেশের উপর স্থগিত রয়েছে; তিনি হয় তাদের আযাব
  8. পৃথিবীতে এবং ব্যক্তিগতভাবে তোমাদের উপর কোন বিপদ আসে না; কিন্তু তা জগত সৃষ্টির পূর্বেই কিতাবে
  9. নূহের সম্প্রদায় যখন রসূলগণের প্রতি মিথ্যারোপ করল, তখন আমি তাদেরকে নিমজ্জত করলাম এবং তাদেরকে মানবমন্ডলীর
  10. তিনি একে উচ্চ করেছেন ও সুবিন্যস্ত করেছেন।

বাংলায় কোরআনের সূরা পড়ুন :

সুরত আল বাক্বারাহ্ আলে ইমরান সুরত আন-নিসা
সুরত আল-মায়েদাহ্ সুরত ইউসুফ সুরত ইব্রাহীম
সুরত আল-হিজর সুরত আল-কাহফ সুরত মারইয়াম
সুরত আল-হাজ্জ সুরত আল-ক্বাসাস আল-‘আনকাবূত
সুরত আস-সাজদা সুরত ইয়াসীন সুরত আদ-দুখান
সুরত আল-ফাতহ সুরত আল-হুজুরাত সুরত ক্বাফ
সুরত আন-নাজম সুরত আর-রাহমান সুরত আল-ওয়াক্বি‘আহ
সুরত আল-হাশর সুরত আল-মুলক সুরত আল-হাক্কাহ্
সুরত আল-ইনশিক্বাক সুরত আল-আ‘লা সুরত আল-গাশিয়াহ্

সবচেয়ে বিখ্যাত কোরআন তেলাওয়াতকারীদের কণ্ঠে সূরা শাম্স ডাউনলোড করুন:

সূরা Shams mp3 : উচ্চ মানের সাথে সম্পূর্ণ অধ্যায়টি Shams শুনতে এবং ডাউনলোড করতে আবৃত্তিকারকে বেছে নিন
সুরত শাম্স  ভয়েস আহমেদ আল-আজমি
আহমেদ আল-আজমি
সুরত শাম্স  ভয়েস ইব্রাহীম আল-আখদার
ইব্রাহীম আল-আখদার
সুরত শাম্স  ভয়েস বান্দার বেলাইলা
বান্দার বেলাইলা
সুরত শাম্স  ভয়েস খালিদ গালিলি
খালিদ গালিলি
সুরত শাম্স  ভয়েস হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
সুরত শাম্স  ভয়েস খলিফা আল টুনাইজি
খলিফা আল টুনাইজি
সুরত শাম্স  ভয়েস সাদ আল-গামদি
সাদ আল-গামদি
সুরত শাম্স  ভয়েস সৌদ আল-শুরাইম
সৌদ আল-শুরাইম
সুরত শাম্স  ভয়েস সালাহ আবু খাতর
সালাহ বুখাতীর
সুরত শাম্স  ভয়েস আবদুল বাসিত আব্দুল সামাদ
আবদ এল বাসেট
সুরত শাম্স  ভয়েস আবদুল রশিদ সুফি
আবদুল রশিদ সুফি
সুরত শাম্স  ভয়েস আব্দুল্লাহ্ বাস্‌ফার
আব্দুল্লাহ্ বাস্‌ফার
সুরত শাম্স  ভয়েস আবদুল্লাহ আওওয়াদ আল-জুহানী
আবদুল্লাহ আল-জুহানী
সুরত শাম্স  ভয়েস আলী আল-হুদায়েফি
আলী আল-হুদায়েফি
সুরত শাম্স  ভয়েস আলী জাবের
আলী জাবের
সুরত শাম্স  ভয়েস ফারেস আব্বাদ
ফারেস আব্বাদ
সুরত শাম্স  ভয়েস মাহের আলমাইকুলই
মাহের আলমাইকুলই
সুরত শাম্স  ভয়েস মোহাম্মদ আইয়ুব
মোহাম্মদ আইয়ুব
সুরত শাম্স  ভয়েস মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
সুরত শাম্স  ভয়েস মুহাম্মাদ জিব্রীল
মুহাম্মাদ জিব্রীল
সুরত শাম্স  ভয়েস মুহাম্মদ সিদ্দিক আল মিনশাবি
আল-মিনশাবি
সুরত শাম্স  ভয়েস আল হোসারি
আল হোসারি
সুরত শাম্স  ভয়েস আল-আফসী
মিশারী আল-আফসী
সুরত শাম্স  ভয়েস নাসের আল কাতামি
নাসের আল কাতামি
সুরত শাম্স  ভয়েস ইয়াসের আল-দোসারি
ইয়াসের আল-দোসারি


Friday, June 5, 2026

Please remember us in your sincere prayers