কোরান সূরা শুআরা আয়াত 157 তাফসীর
﴿فَعَقَرُوهَا فَأَصْبَحُوا نَادِمِينَ﴾
[ الشعراء: 157]
তারা তাকে বধ করল ফলে, তারা অনুতপ্ত হয়ে গেল। [সূরা শুআরা: 157]
Surah Ash-Shuara in Banglaজহুরুল হক সূরা বাংলা Surah Shuara ayat 157
কিন্ত তারা এটিকে হত্যা করলে, পরিণামে সকাল-সকালই তারা পরিতাপকারী হল।
Tafsir Mokhtasar Bangla
১৫৭. তদুপরি তারা তাকে হত্যা করার ব্যাপারে একমত হলো এবং তাদেরই একজন দুর্ভাগা তাকে হত্যা করলো। ফলে তারা যখন জানতে পারলো যে, নিশ্চয়ই আযাব তাদের উপর অবশ্যম্ভাবীরূপে নাযিল হবে তখন তারা নিজেদের কৃতকর্মের জন্য লজ্জিত হলো। কিন্তু আযাব দেখার সময় লজ্জা কোন ফায়েদায় আসে না।
Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান
কিন্তু ওরা ওকে হত্যা করল, [১] পরিণামে ওরা অনুতপ্ত হল। [২] [১] অর্থাৎ, এই উটনী মহান আল্লাহর ক্ষমতার এক বিশাল নিদর্শন এবং নবীর সত্যতার প্রমাণ হওয়া সত্ত্বেও সামূদ জাতি ঈমান আনল না এবং কুফর ও শিরকের রাস্তায় অটল থাকল। আর তাদের অবাধ্যতা এত বেশি বৃদ্ধি পেল যে, শেষ পর্যন্ত আল্লাহর কুদরতের জলজ্যান্ত নিদর্শন উটনীর পা কেটে ফেলল, যার কারণে সে বসে পড়ল ও পরে তারা তাকে হত্যা করল! [২] এটি তখন ঘটল যখন সালেহ ( আঃ ) উটনী হত্যার পর বললেন, তোমাদেরকে মাত্র তিন দিনের অবকাশ দেওয়া হল। চতুর্থ দিন তোমাদেরকে ধ্বংস করে দেওয়া হবে। এরপর যখন সত্য সত্যই আযাবের নিদর্শনসমূহ প্রকাশ পেতে শুরু করল, তখন তাদের পক্ষ হতে অনুশোচনা প্রকাশ পেল। কিন্তু আযাবের নিদর্শন দেখে নেওয়ার পর অনুশোচনা ও তওবা কোনই কাজে আসে না।
Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স
অতঃপর তারা সেটাকে হত্যা করল, পরিণামে তারা অনুতপ্ত হল।
Tafsir ibn kathir bangla তাফসীর ইবনে কাসীর
১৫৩-১৫৯ নং আয়াতের তাফসীরসামূদ সম্প্রদায় তাদের নবীকে উত্তর দেয়ঃ ‘তোমার উপর কেউ যাদু করেছে। যদিও এর একটি অর্থ এও করা হয়েছেঃ তুমি তো সৃষ্টদের একজন এবং এর দলীল হিসেবে নিম্নের কবিতাংশটি পেশ করা হয়েছেঃ ( আারবি ) অর্থাৎ “ তুমি যদি আমাদের সম্পর্কে প্রশ্ন কর তবে জেনে রেখো যে, আমরা এই সৃষ্ট মানব জাতির চড়ুই পাখী তুল্য ।” কিন্তু প্রথম অর্থটি বেশী প্রকাশমান।এর সাথে সাথেই তারা বললোঃ “ তুমি তো আমাদের মতই একজন মানুষ, সুতরাং আমাদের মধ্যে আর কারো উপর অহী না এসে শুধু তোমার উপর অহী আসবে এটা অসম্ভব । এটা তোমার বানানো কথা ছাড়া কিছুই নয়। তুমি সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা বলছো এবং আল্লাহর উপর মিথ্যা আরোপ করছো। আচ্ছা, আমরা এখন বলি যে, তুমি যদি সত্যিই নবী হও তবে কোন মু'জিযা দেখাও তো দেখি?” ঐ সময় তাদের ছোট বড় সবাই একত্রিত ছিল এবং একবাক্যে তারা হযরত সালেহ ( আঃ )-এর কাছে মু'জিযা দেখতে চেয়েছিল। হযরত সালেহ ( আঃ ) তাদেরকে জিজ্ঞেস করেনঃ “ তোমরা কি মুজিযা দেখতে চাও?” তারা উত্তর দেয়ঃ “এই যে আমাদের সামনে বিরাট পাহাড়টি রয়েছে এটা ফাটিয়ে দিয়ে এর মধ্য হতে এরূপ এরূপ রংএর ও এরূপ আকৃতির একটি গর্ভবতী উষ্ট্ৰী বের কর ।” তিনি বললেনঃ “ আচ্ছা, আমি যদি আমার প্রতিপালকের নিকট প্রার্থনা করি এবং তিনি তোমাদের আকাঙ্ক্ষিত মুজিযাই আমার হাত দ্বারা দেখিয়ে দেন তবে তোমরা আমাকে নবী বলে স্বীকার করবে তো?” তারা তখন তার কাছে দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকার করলো যে, যদি তিনি এ মু'জিযা দেখাতে পারেন তবে তারা অবশ্যই আল্লাহর উপর ঈমান আনবে এবং তাঁকে নবী বলে স্বীকার করে নেবে । হযরত সালেহ ( আঃ ) তৎক্ষণাৎ নামায শুরু করে দিলেন এবং ঐ মু'জিযার জন্যে আল্লাহ তাআলার নিকট দু'আ করলেন। ঐ সময়ই ঐ পাহাড় কেটে গেল এবং ওর মধ্য হতে ঐ ধরনেরই উষ্ট্ৰী বেরিয়ে আসলো। কিছু লোক তো তাদের অঙ্গীকার অনুযায়ী মুমিন হয়ে গেল, কিন্তু অধিকাংশ লোকই অঙ্গীকার ভঙ্গ করে কাফিরই রয়ে গেল।তিনি তাদেরকে বললেনঃ “ দেখো, একদিন আমার এই উষ্ট্ৰীর পানি পান করার পালা এবং অপরদিন তোমাদের জন্তুগুলোর পানি পান করার পালা থাকলো । সাবধান! তোমরা আমার এ উষ্ট্রর কোন প্রকার অনিষ্ট করবে না, নচেৎ কঠিন শাস্তি তোমাদের উপর আপতিত হবে।” কিছুদিন পর্যন্ত তারা এটা মেনে চললো। উষ্ট্রীটি তাদের মধ্যেই অবস্থান করতে থাকলো। ওটা ঘাস-পাতা খেতো এবং ওর পালার দিন পানি পান করতো। ঐদিন তারা ওর দুগ্ধ পান করে পরিতৃপ্ত হতো। কিন্তু কিছুকাল পর তাদের দুষ্কার্য মাথাচাড়া দিয়ে উঠলো। তাদের এক বড় অভিশপ্ত ব্যক্তি উষ্ট্ৰীটিকে মেরে ফেলার ইচ্ছা করলো এবং সমস্ত শহরবাসী তাকে সমর্থন করলো। অতঃপর ঐ দুরাচার উজ্জ্বীটির পা কেটে ফেলে ওকে হত্যা করলো। যার ফলে তাদেরকে কঠিনভাবে লজ্জিত হতে হলো। আকস্মিকভাবে তাদের উপর আল্লাহর আযাব আপতিত হলো এবং তাদেরকে গ্রাস করলো। তারা সমূলে ধ্বংস হয়ে গেল। তাদের এই ধ্বংসলীলা পরবর্তী লোকদের জন্যে শিক্ষণীয় বিষয় হয়ে গেল। এরূপ বড় বড় নিদর্শন স্বচক্ষে দেখেও তাদের অধিকাংশ লোকই ঈমান আনয়ন করেনি। এতে কোন সন্দেহ নেই যে, বিশ্বপ্রতিপালক আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী ও পরম দয়ালু।
সূরা শুআরা আয়াত 157 সূরা
| English | Türkçe | Indonesia |
| Русский | Français | فارسی |
| تفسير | Urdu | اعراب |
বাংলায় পবিত্র কুরআনের আয়াত
- অথবা তোমরা কি বলছ যে, নিশ্চয়ই ইব্রাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব (আঃ) ও তাদের সন্তানগন ইহুদী
- সে দিন মানুষ বলবেঃ পলায়নের জায়গা কোথায় ?
- যে কুফরী করে, তার কফুরের জন্যে সে-ই দায়ী এবং যে সৎকর্ম করে, তারা নিজেদের পথই
- হে আমার পালনকর্তা, আমাকে এবং আমার পরিবারবর্গকে তারা যা করে, তা থেকে রক্ষা কর।
- অতঃপর তোমরা তা অবশ্যই দেখবে দিব্য প্রত্যয়ে,
- তিনিই সে মহান সত্তা, যিনি বানিয়েছেন সুর্যকে উজ্জল আলোকময়, আর চন্দ্রকে স্নিগ্ধ আলো বিতরণকারীরূপে এবং
- এবং নোংরা বাক্যের উদাহরণ হলো নোংরা বৃক্ষ। একে মাটির উপর থেকে উপড়ে নেয়া হয়েছে। এর
- এরপর তোমরা মৃত্যুবরণ করবে
- তালাকে-‘রাজঈ’ হ’ল দুবার পর্যন্ত তারপর হয় নিয়মানুযায়ী রাখবে, না হয় সহৃদয়তার সঙ্গে বর্জন করবে। আর
- তারা বললঃ আমরা একটি ভারী দল থাকা সত্ত্বেও যদি ব্যাঘ্র তাকে খেয়ে ফেলে, তবে আমরা
বাংলায় কোরআনের সূরা পড়ুন :
সবচেয়ে বিখ্যাত কোরআন তেলাওয়াতকারীদের কণ্ঠে সূরা শুআরা ডাউনলোড করুন:
সূরা Shuara mp3 : উচ্চ মানের সাথে সম্পূর্ণ অধ্যায়টি Shuara শুনতে এবং ডাউনলোড করতে আবৃত্তিকারকে বেছে নিন
আহমেদ আল-আজমি
ইব্রাহীম আল-আখদার
বান্দার বেলাইলা
খালিদ গালিলি
হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
খলিফা আল টুনাইজি
সাদ আল-গামদি
সৌদ আল-শুরাইম
সালাহ বুখাতীর
আবদ এল বাসেট
আবদুল রশিদ সুফি
আব্দুল্লাহ্ বাস্ফার
আবদুল্লাহ আল-জুহানী
আলী আল-হুদায়েফি
আলী জাবের
ফারেস আব্বাদ
মাহের আলমাইকুলই
মোহাম্মদ আইয়ুব
মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
মুহাম্মাদ জিব্রীল
আল-মিনশাবি
আল হোসারি
মিশারী আল-আফসী
নাসের আল কাতামি
ইয়াসের আল-দোসারি
Please remember us in your sincere prayers



