কোরান সূরা আলাক্ব আয়াত 19 তাফসীর
﴿كَلَّا لَا تُطِعْهُ وَاسْجُدْ وَاقْتَرِب ۩﴾
[ العلق: 19]
কখনই নয়, আপনি তার আনুগত্য করবেন না। আপনি সেজদা করুন ও আমার নৈকট্য অর্জন করুন। [সূরা আলাক্ব: 19]
Surah Al-Alaq in Banglaজহুরুল হক সূরা বাংলা Surah Al Alaq ayat 19
না, তুমি তার আজ্ঞা পালন করো না, বরং তুমি সিজদা করো এবং নিকটবর্তী হও।
Tafsir Mokhtasar Bangla
১৯. ব্যাপারটি তেমন নয় যেমনটি উক্ত জালিম ধারণা করেছে যে, সে আপনার অনিষ্ট করবে। তাই আপনি তার আদেশ-নিষেধ কোনটারই অনুসরণ করবেন না। বরং আল্লাহর উদ্দেশ্যে সাজদা করুন। আর আনুগত্যের মাধ্যমে তাঁর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করুন। কেননা, এটিই তাঁর নৈকট্য লাভ করিয়ে দেয়।
Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান
সাবধান! তুমি তার অনুসরণ করো না। তুমি সিজদা কর ও আমার নিকটবর্তী হও। [১] [১] ( এই আয়াত পাঠ করার পর সিজদা করা মুস্তাহাব। সিজদার আহকাম জানতে সূরা আ'রাফের শেষ আয়াতের ৭:২০৬ টীকা দেখুন। )
Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স
কখনো নয়! আপনি তার অনুসরণ করবেন না। আর আপনি সিজ্দা করুন এবং নিকটবর্তী হোন [ ১ ]। [ ১ ] এতে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- কে আদেশ করা হয়েছে যে, আবু জাহলের কথায় কৰ্ণপাত করবেন না এবং সেজদা ও সালাতে মশগুল থাকুন। সিজদা করা মানে সালাত আদায় করা। অর্থাৎ হে নবী ! আপনি নিৰ্ভয়ে আগের মতো সালাত আদায় করতে থাকুন। এর মাধ্যমে নিজের রবের নৈকট্য লাভ করুন। কারণ, এটাই আল্লাহ্ তা‘আলার নৈকট্য অর্জনের উপায়। [ কুরতুবী ] রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “ বান্দা যখন সেজদায় থাকে, তখন তার পালনকর্তার অধিক নিকটবর্তী হয় । তাই তোমরা সেজদায় বেশী পরিমাণে দো‘আ কর।” [ মুসলিম: ৪৮২, আবুদাউদ: ৮৭৫, নাসায়ী: ২/২২৬, মুসনাদে আহমাদ: ২/৩৭০ ] অন্য এক হাদীসে আরও বলা হয়েছে, “ সেজদার অবস্থায় কৃত দো‘আ কবুল হওয়ার যোগ্য” । [ মুসলিম: ৪৭৯, আবু দাউদ: ৮৭৬, নাসায়ী: ২/১৮৯, মুসনাদে আহমাদ: ১/২১৯ ]
Tafsir ibn kathir bangla তাফসীর ইবনে কাসীর
৬-১৯ নং আয়াতের তাফসীর আল্লাহ্ তাআলা বলেনঃ সত্য সত্যই মানুষ সীমা ছাড়িয়ে যায়, কারণ সে নিজেকে অমুখাপেক্ষী মনে করে। কিছুটা আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্যের পর সে মনে অহংকার পোষণ করে। অথচ তার ভয় করা উচিত যে, একদিন তাকে আল্লাহর কাছে ফিরে যেতে হবে। সেখানে কৃতকর্মের জন্যে জবাবদিহি করতে হবে! অর্থ সম্পদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবেঃ অর্থসম্পদ কোথা থেকে উপার্জন করেছে এবং কোথায় ব্যয় করেছো?হযরত আবদুল্লাহ ( রাঃ ) বলেনঃ “ দু'জন এমন লোভী রয়েছে যাদের পেট কখনো ভরে না । একজন হলো জ্ঞান অনুসন্ধানকারী এবং অপরজন হলো দুনিয়াদার বা তালেবে দুনিয়া। তবে এ দু’জনের মধ্যে বিরাট পার্থক্য রয়েছে। জ্ঞান অনুসন্ধানী শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে অগ্রসর হয়, আর দুনিয়াদার লোভ,হঠকারিতা এবং নিজের স্বার্থসিদ্ধির পথে অগ্রসর হয়। তারপর ( আরবি ) এ আয়াত দু’টি পাঠ করেন। এর পর জ্ঞান অন্বেষণকারীর ব্যাপারে পাঠ করেন আল্লাহ পাকের নিম্নের উক্তিটিঃ ( আরবি ) অর্থাৎ “ নিশ্চয়ই আল্লাহকে তাঁর জ্ঞানী বা বিদ্বান বান্দারাই ভয় করে ।” ( এ হাদীসটি ইমাম ইবনে আবী হাতিম (রঃ ) বর্ণনা করেছেন) মারফুরূপে রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) পর্যন্তও এ হাদীসটি বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেনঃ “ দুই লোভী ব্যক্তি কখনো পরিতৃপ্ত হয় । একজন হলো জ্ঞান অনুসন্ধানকারী এবং অপরজন হলো দুনিয়া অন্বেষণকারী।” ( ৩৫:২৮ )এরপর আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ তুমি কি তাকে দেখেছো, যে বাধা দেয় এক বান্দাকে যখন সে নামায আদায় করে?' এই আয়াত অভিশপ্ত আবু জাহলের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়। সে রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) কে কাবাগৃহে নামায আদায় করতে বাধা প্রদান করতো। প্রথমে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা তাকে বুঝানোর জন্যে নরম সুরে বলেন যে, যাকে বাধা দিচ্ছে তিনি যদি সৎপথে থেকে থাকেন, লোকদেরকে তাকওয়ার দিকে আহ্বান করেন অর্থাৎ পরহেযগারী শিক্ষা দেন, আর সে ( আবু জাহল ) তাঁকে উঁট ডাপট দেখায়, আল্লাহর ঘর থেকে ফিরিয়ে রাখে, তবে কি তার দুর্ভাগ্যের কোন শেষ আছে? এই হতভাগা কি জানে না যে, যদি সে ধর্মকে অস্বীকার করে এবং বিমুখ হয়, আল্লাহ তা দেখছেন? তার কথা শুনছেন? তার কথা এবং কাজের জন্যে তাকে যে আল্লাহ শাস্তি দিবেন তাও কি সে জানে না? এভাবে বুঝানোর পর মহাপ্রতাপান্বিত আল্লাহ তাকে ভয় প্রদর্শন করে ধমকের সুরে বলছেনঃ যদি সে এ ধরনের বাধাদান, বিরোধিতা, হঠকারিতা এবং কষ্টদান হতে বিরত না হয় তবে আমি তার মস্তকের সম্মুখ ভাগের কেশগুচ্ছ ধরে হেচড়াবো। কারণ সে হলো মিথ্যাচারী ও পাপিষ্ঠ। অতঃপর সে তার পার্শ্বচরদেরকে বা পরিষদকে আহ্বান করুক, আমিও আহ্বান করবো জাহান্নামের প্রহরীদেরকে। তারপর কে হারে ও কে জিতে তা দেখা যাবে।সহীহ বুখারী শরীফে হযরত ইবনে আব্বাস ( রাঃ ) হতে বর্ণিত আছে যে, আবু জাহল বললোঃ “ যদি আমি মুহাম্মদকে ( সঃ ) কাবাঘরে নামায পড়তে দেখি তবে আমি তার ঘাড়ে আঘাত হানবো ।” রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) এ খবর পেয়ে বললেনঃ “ যদি সে এরূপ করে তবে আল্লাহর আযাবের ফেরেশতা তাকে পাকড়াও করবেন ।” অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) বায়তুল্লাহ শরীফে মাকামে ইবরাহীম ( আঃ )-এর কাছে নামায পড়ছিলেন, এমন সময় অভিশপ্ত আবু জাহল এসে বলেলোঃ “ আমি তোমাকে নিষেধ করা সত্ত্বেও তুমি বিরত হলে না? এবার যদি আমি তোমাকে কাবা ঘরে নামায পড়তে দেখি তবে তোমাকে কঠিন শাস্তি দিবো ।” রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) তখন কঠোর ভাষায় তার হুমকির জবাব দিলেন এবং তার হুমকিকে মোটেই গ্রাহ্য করলেন না। বরং তাকে সতর্ক করে দিলেন। তখন ঐ অভিশপ্ত বলতে লাগলোঃ “ তুমি আমাকে সতর্ক করছো? আল্লাহর কসম! আমার এক আওয়াযে সমগ্র প্রান্তর লোকে লোকারণ্য হয়ে যাবে ।” তখন আল্লাহ তাআলা ( আরবি ) এই আয়াতগুলো অবতীর্ণ করেন। হযরত ইবনে আব্বাস ( রাঃ ) বলেন যে, যদি আবু জাহল তার পার্শ্বচরদেরকে ডাকতো তবে তখনই আযাবের ফেরেশতারা তাকে ঘিরে ফেলতেন। ( এ হাদীসটি ইমাম আহমদ (রঃ ), ইমাম তিরমিযী ( রাঃ ), নাসাঈ ( রঃ ) এবং ইমাম ইবনে জারীরও ( রঃ ) বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিযী ( রঃ ) এ হাদীসটিকে হাসান সাহীহ বলেছেন)মুসনাদে আহমদে হযরত ইবনে আব্বাস ( রাঃ ) হতে বর্ণিত আছে যে, আৰু জাহল বললোঃ “ আমি যদি রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) কে কাবাগৃহে নামায পড়তে দেখি তবে তার ঘাড় ভেঙ্গে দিব ।” রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) তখন বললেনঃ “ যদি সে এরূপ করতো তবে জনগণের চোখের সামনেই আযাবের ফেরেশতারা তাকে পাকড়াও করতেন ।” ঠিক এমনিভাবেই কুরআন কারীমে ইয়াহুদীদেরকে বলা হয়েছেঃ ‘যদি তোমরা সত্যবাদী হও তবে মৃত্যু কামনা কর!” যদি তারা মৃত্যু কামনা করতো তবে অবশ্যই তারা মৃত্যুবরণ করতো এবং তাদের বাসস্থান জাহান্নাম দেখতে পেতো। অনুরূপভাবে নাজরানের খ্রিষ্টানদেরকে মুবাহালার জন্যে ডাক দেয়া হয়েছিল। তারা যদি মুবাহালার জন্যে বের হতো তবে তারা ফিরে এসে তাদের জানমাল এবং সন্তান সন্ততি কিছুই পেতো না।ইমাম ইবনে জারীরও ( রঃ ) হযরত ইবনে আব্বাস ( রাঃ ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, আবূ জাহল বলেছিলঃ “ যদি আমি মুহাম্মদ ( সঃ ) কে পুনরায় মাকামে ইবরাহীম ( আঃ )-এর কাছে নামায পড়তে দেখি তবে অবশ্যই তাকে হত্যা করবো!” তখন মহামহিমান্বিত আল্লাহ এ আয়াতগুলো অবতীর্ণ করেন । নবী করীম ( সঃ ) মাকামে ইবরাহীম ( আঃ )এর কাছে গমন করেন। সেখানে আবু জাহলও উপস্থিত ছিল। নবী করীম ( সঃ ) নামায আদায় করলেন, জনগণ আবু জাহলকে বললোঃ “ কি হলো, বসে রইলে যে?" সে উত্তরে বললোঃ “কি আর বলবো! দেখি যে, কে যেন আমার এবং তার মধ্যে পর্দা হয়ে গেল । ( অর্থাৎ কে যেন মুহাম্মদকে (সঃ ) আড়াল করে দাড়ালো ।)" হযরত ইবনে আব্বাস ( রাঃ ) বলেন যে, যদি আবু জাহল একটুখানিও নড়াচড়া করতো তবে জনগণের চোখের সামনেই ফেরেশতারা তাকে ধ্বংস করে দিতেন। ইমাম ইবনে জারীর ( রঃ )-এর অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে যে, আবূ জাহল ( জনগণকে ) জিজ্ঞেস করলোঃ “ মুহাম্মদ ( সঃ ) কি তোমাদের সামনে সিজদাহ করে?" জনগণ উত্তরে বললোঃ “হ্যা তখনই ঐ দুবৃত্ত বললোঃ আল্লাহর কসম! সে যদি আমার সামনে ঐভাবে সিজদাহ করে তবে আমি অবশ্যই তার ঘাড় ভেঙ্গে দিবো । এবং তার মুখে মাটি ফেলে দিবো।" একদিকে আবু জাহল এই ঘৃণ্য উক্তি করলো আর অন্য দিকে রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) নামায শুরু করলেন। তিনি সিজদায় যাওয়ার পর আবু জাহল সামনের দিকে অগ্রসর হলো বটে কিন্তু সাথে সাথেই ভয়ার্তচিত্তে আত্মরক্ষামূলকভাবে পিছনের দিকে সরে আসলো। জনগণ তাকে এর কারণ জিজ্ঞেস করলে সে বললোঃ “ আমার এবং মুহাম্মদ ( সঃ )-এর মাঝে আগুনের পরিখা এবং ভয়াবহ সব জিনিস ও ফেরেশতাদের পালক রয়েছে ।” রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) তখন বললেনঃ “ আবু জাহল যদি আরো কিছু অগ্রসর হতো তবে ফেরেশতারা তার অঙ্গ প্রত্যঙ্গ পৃথক করে দিতেন ।” অতঃপর ( আরবি ) হতে সূরার শেষ পর্যন্ত আয়াতগুলো অবতীর্ণ হয়।এরপর আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা বলেনঃ সাবধান! তুমি তার অনুসরণ করো না, বরং তুমি নামায পড়তে থাকে এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে থাকো। অর্থাৎ অধিক পরিমাণে ইবাদত কর এবং যেখানে খুশী নামায পড়তে থাকো। তাকে পরোয়া করার কোনই প্রয়োজন নেই। আল্লাহ তা'আলা তোমার রক্ষাকারী ও সাহায্যকারী রয়েছেন। তিনি তোমাকে শত্রুদের কবল থেকে রক্ষা করবেন। তুমি সিজদাহ কর এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভ করার ব্যাপারে সদা সচেষ্ট থাকো। সিজদার মধ্যে বেশী বেশী করে দু'আ কর। হাদীস শরীফে উল্লিখিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) ( আরবি ) এবং ( আরবি ) এই। সূরায় সিজদাহ করতেন।
সূরা আলাক্ব আয়াত 19 সূরা
English | Türkçe | Indonesia |
Русский | Français | فارسی |
تفسير | Urdu | اعراب |
বাংলায় পবিত্র কুরআনের আয়াত
- এটা অক্ষত রাখবে না এবং ছাড়বেও না।
- যাতে তোমরা তাদের পিঠের উপর আরোহণ কর। অতঃপর তোমাদের পালনকর্তার নেয়ামত স্মরণ কর এবং বল
- যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্যে রসূলুল্লাহর
- যখন তাদের কাছে আমার সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ তেলাওয়াত করা হয়, তখন কাফেররা মুমিনদেরকে বলেঃ দুই দলের
- আমি মানুষকে পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করার জোর নির্দেশ দিয়েছি। যদি তারা তোমাকে আমার সাথে এমন
- যেদিন আল্লাহর সাথে মিলিত হবে; সেদিন তাদের অভিবাদন হবে সালাম। তিনি তাদের জন্যে সম্মানজনক পুরস্কার
- আল্লাহর পক্ষ থেকে যে সত্য এসেছে, তার ব্যতিক্রম কিছু না বলার ব্যাপারে আমি সুদৃঢ়। আমি
- তাদের দৃষ্টি থাকবে অবনমিত; তারা হবে হীনতাগ্রস্ত। এটাই সেইদিন, যার ওয়াদা তাদেরকে দেয়া হত।
- তবে কি আমি ব্যতীত তাদের এমন দেব-দেবী আছে যারা তাদেরকে রক্ষা করবে? তারা তো নিজেদেরই
- আমি তওরাত অবর্তীর্ন করেছি। এতে হেদায়াত ও আলো রয়েছে। আল্লাহর আজ্ঞাবহ পয়গম্বর, দরবেশ ও আলেমরা
বাংলায় কোরআনের সূরা পড়ুন :
সবচেয়ে বিখ্যাত কোরআন তেলাওয়াতকারীদের কণ্ঠে সূরা আলাক্ব ডাউনলোড করুন:
সূরা Al Alaq mp3 : উচ্চ মানের সাথে সম্পূর্ণ অধ্যায়টি Al Alaq শুনতে এবং ডাউনলোড করতে আবৃত্তিকারকে বেছে নিন
আহমেদ আল-আজমি
ইব্রাহীম আল-আখদার
বান্দার বেলাইলা
খালিদ গালিলি
হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
খলিফা আল টুনাইজি
সাদ আল-গামদি
সৌদ আল-শুরাইম
সালাহ বুখাতীর
আবদ এল বাসেট
আবদুল রশিদ সুফি
আব্দুল্লাহ্ বাস্ফার
আবদুল্লাহ আল-জুহানী
আলী আল-হুদায়েফি
আলী জাবের
ফারেস আব্বাদ
মাহের আলমাইকুলই
মোহাম্মদ আইয়ুব
মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
মুহাম্মাদ জিব্রীল
আল-মিনশাবি
আল হোসারি
মিশারী আল-আফসী
নাসের আল কাতামি
ইয়াসের আল-দোসারি
Please remember us in your sincere prayers