কোরান সূরা মুহাম্মদ আয়াত 2 তাফসীর
﴿وَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَآمَنُوا بِمَا نُزِّلَ عَلَىٰ مُحَمَّدٍ وَهُوَ الْحَقُّ مِن رَّبِّهِمْ ۙ كَفَّرَ عَنْهُمْ سَيِّئَاتِهِمْ وَأَصْلَحَ بَالَهُمْ﴾
[ محمد: 2]
আর যারা বিশ্বাস স্থাপন করে, সৎকর্ম সম্পাদন করে এবং তাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে মুহাম্মদের প্রতি অবতীর্ণ সত্যে বিশ্বাস করে, আল্লাহ তাদের মন্দ কর্মসমূহ মার্জনা করেন এবং তাদের অবস্থা ভাল করে দেন। [সূরা মুহাম্মদ: 2]
Surah Muhammad in Banglaজহুরুল হক সূরা বাংলা Surah Muhammad ayat 2
আর যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করছে, আর বিশ্বাস করছে তাতে যা মুহাম্মদের কাছে অবতীর্ণ হয়েছে -- আর সেটিই হচ্ছে তাদের প্রভুর কাছ থেকে আগত মহাসত্য -- তিনি তাদের মন্দ কার্যাবলী তাদের থেকে দূর করে দেবেন, আর ভাল করে দেবেন তাদের অবস্থা।
Tafsir Mokhtasar Bangla
২. আর যারা আল্লাহর উপর ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে উপরন্তু তদীয় রাসূল মুহাম্মাদ ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) এর উপর অবতীর্ণ বিষয়ে ঈমান এনেছে -বস্তুতঃ এটিই হলো তাদের রবের পক্ষ থেকে চিরন্তন সত্য- আল্লাহ তাদের পাপের প্রায়শ্চিত্ত করেছেন। ফলে তিনি তাদেরকে এর মাধ্যমে পাকড়াও করবেন না। বরং আল্লাহ তাদের ইহ ও পরকালীন কার্যাদি সংশোধন করে দিবেন।
Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান
এবং যারা বিশ্বাস করেছে, সৎকর্ম করেছে এবং মুহাম্মাদের প্রতি যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তাতে বিশ্বাস করেছে,[১] আর তা তাদের প্রতিপালক হতে সত্য; তিনি তাদের পাপরাশি ক্ষমা করেছেন[২] এবং তাদের অবস্থা ভাল করে দিয়েছেন। [৩] [১] যদিও বিশ্বাস ও ঈমান আনার মধ্যে মুহাম্মাদ ( সাঃ )-এর প্রতি প্রেরিত অহী অর্থাৎ, পবিত্র কুরআনের উপর ঈমান আনাও শামিল, তবুও এর গুরুত্ব ও মর্যাদাকে আরো বেশী সুস্পষ্ট করার জন্য এটাকে পৃথকভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। [২] অর্থাৎ ঈমান আনার পূর্বেকার ভুল-ভ্রান্তি ও ত্রুটি-বিচ্যুতি ক্ষমা করে দেন। যেমন, নবী করীম ( সাঃ )ও বলেছেন, " ইসলাম পূর্বেকার যাবতীয় পাপকে মুছে দেয়। " ( সহীহুল জামে', আলবানী ) [৩] بَالَهُمْ এর অর্থ أَمْرَهُمْ، شَأنَهُمْ، حَالَهُمْ এগুলোর অর্থ প্রায় একই ধরণের। অর্থাৎ, তাদেরকে পাপাচার থেকে বাঁচিয়ে নিয়ে কল্যাণ ও মঙ্গলের পথ প্রদর্শন করেছেন। আর একজন মু'মিনের জন্য অবস্থা ভালো হওয়ার এটাই সর্বোত্তম চিত্র। এর অর্থ এই নয় যে, ধন-সম্পদের মাধ্যমে তাদের অবস্থা ভালো করে দেওয়া হয়েছে। কারণ, সকল মু'মিন ধন-সম্পদ পায় না। তাছাড়া পার্থিব ধন-সম্পদ লাভ অবস্থা ভাল হওয়ার সুনিশ্চিত প্রমাণও নয়। বরং এতে অবস্থা খারাপ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাই বেশী থাকে। এই জন্য নবী করীম ( সাঃ ) অধিক মাল পছন্দ করতেন না।
Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স
আর যারা ঈমান এনেছে, সৎকাজ করেছে এবং মুহাম্মদের প্রতি যা নাযিল হয়েছে তাতে ঈমান এনেছে, আর তা-ই তাদের রবের পক্ষ হতে প্রেরিত সত্য, তিনি তাদের মন্দ কাজগুলো বিদূরিত করবেন এবং তাদের অবস্থা ভাল করবেন [ ১ ]। [ ১ ] আয়াতে বর্ণিত بال শব্দটি কখনও অবস্থার অর্থে এবং কখনও অন্তরের অর্থে ব্যাবহৃত হয়। [ ফাতহুল কাদীর, কুরতুবী ]
Tafsir ibn kathir bangla তাফসীর ইবনে কাসীর
১-৩ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তা'আলা বলেন:যারা নিজেরাও আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে এবং অন্যদেরকেও আল্লাহর পথ হতে নিবৃত্ত করেছে, আল্লাহ তা'আলা তাদের আমল নষ্ট করে দিয়েছেন এবং তাদের পুণ্যকর্ম বৃথা হয়েছে। যেমন আল্লাহ তা'আলা অন্য জায়গায় বলেনঃ ( আরবী ) অর্থাৎ “ আমি তাদের কৃতকর্মগুলো বিবেচনা করবো, অতঃপর সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত করবো ।” ( ২৫:২৩ )মহান আল্লাহ বলেনঃ যারা ঈমান এনেছে আন্তরিকতার সাথে এবং দেহ দ্বারা শরীয়ত মুতাবেক আমল করেছে অর্থাৎ বাহির ও ভিতর উভয়কেই আল্লাহর দিকে ঝুঁকিয়ে দিয়েছে এবং আল্লাহর ঐ অহীকেও মেনে নিয়েছে যা কর্তমানে বিদ্যমান শেষ নবী ( সঃ )-এর উপর অবতীর্ণ হয়েছে। যা প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ তা'আলার নিকট হতেই আগত এবং যা নিঃসন্দেহে সত্য। আল্লাহ তাআলা তাদের মন্দ কর্মগুলো ক্ষমা করবেন এবং তাদের অবস্থা ভাল করবেন। এর দ্বারা জানা যাচ্ছে যে, নবী ( সঃ )-এর নবী হওয়ার পর তার উপর এবং কুরআন কারীমের উপরও ঈমান আনা অবশ্য কর্তব্য।হাদীসে এসেছে যে, যে হাঁচি দাতার ( (আরবী ) বলে) জবাব দেয়া হয়েছে। সে যেন জবাবদাতার জন্যে বলেঃ ( আরবী ) অর্থাৎ “ আল্লাহ তোমাদেরকে হিদায়াত দান করুন এবং তোমাদের অবস্থা ভাল করুন!” এরপর মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ কাফিরদের আমল নষ্ট করে দেয়া এবং মুমিনদের মন্দ কর্মগুলো ক্ষমা করা ও তাদের অবস্থা ভাল করার কারণ এই যে, যারা কুফরী করে তারা তো সত্যকে ছেড়ে মিথ্যার অনুসরণ করে, পক্ষান্তরে যারা ঈমান আনে তারা তাদের প্রতিপালক প্রেরিত সত্যের অনুসরণ করে । এভাবেই আল্লাহ মানুষের জন্যে তাদের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন অর্থাৎ তিনি তাদের পরিণাম বর্ণনা করেন। মহান আল্লাহই এসব ব্যাপারে সবচেয়ে ভাল জানেন।
সূরা মুহাম্মদ আয়াত 2 সূরা
| English | Türkçe | Indonesia |
| Русский | Français | فارسی |
| تفسير | Urdu | اعراب |
বাংলায় পবিত্র কুরআনের আয়াত
- বস্তুতঃ এ ছিল এক মহানাদ। অতঃপর সঙ্গে সঙ্গে সবাই স্তদ্ধ হয়ে গেল।
- নিশ্চয় জাহান্নাম গুরুতর বিপদসমূহের অন্যতম,
- আমি রসূলকে কবিতা শিক্ষা দেইনি এবং তা তার জন্যে শোভনীয়ও নয়। এটা তো এক উপদেশ
- যাতে তোমরা আল্লাহ ও রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর এবং তাঁকে সাহায্য ও সম্মান কর
- তাকে কি জানানো হয়নি যা আছে মূসার কিতাবে,
- যে পর্যন্ত না ইয়াজুজ ও মাজুজকে বন্ধন মুক্ত করে দেয়া হবে এবং তারা প্রত্যেক উচ্চভুমি
- কিংবা ভীতি প্রদর্শনের পর তাদেরকে পাকড়াও করবেন? তোমাদের পালনকর্তা তো অত্যন্ত নম্র, দয়ালু।
- ফেরাউন বলল, আমরা কি তোমাকে শিশু অবস্থায় আমাদের মধ্যে লালন-পালন করিনি? এবং তুমি আমাদের মধ্যে
- যখন আপনি কোরআন পাঠ করেন, তখন আমি আপনার মধ্যে ও পরকালে অবিশ্বাসীদের মধ্যে প্রচ্ছন্ন পর্দা
- যখন সে পূর্ণ যৌবনে পৌছে গেল, তখন তাকে প্রজ্ঞা ও ব্যুৎপত্তি দান করলাম। এমননিভাবে আমি
বাংলায় কোরআনের সূরা পড়ুন :
সবচেয়ে বিখ্যাত কোরআন তেলাওয়াতকারীদের কণ্ঠে সূরা মুহাম্মদ ডাউনলোড করুন:
সূরা Muhammad mp3 : উচ্চ মানের সাথে সম্পূর্ণ অধ্যায়টি Muhammad শুনতে এবং ডাউনলোড করতে আবৃত্তিকারকে বেছে নিন
আহমেদ আল-আজমি
ইব্রাহীম আল-আখদার
বান্দার বেলাইলা
খালিদ গালিলি
হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
খলিফা আল টুনাইজি
সাদ আল-গামদি
সৌদ আল-শুরাইম
সালাহ বুখাতীর
আবদ এল বাসেট
আবদুল রশিদ সুফি
আব্দুল্লাহ্ বাস্ফার
আবদুল্লাহ আল-জুহানী
আলী আল-হুদায়েফি
আলী জাবের
ফারেস আব্বাদ
মাহের আলমাইকুলই
মোহাম্মদ আইয়ুব
মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
মুহাম্মাদ জিব্রীল
আল-মিনশাবি
আল হোসারি
মিশারী আল-আফসী
নাসের আল কাতামি
ইয়াসের আল-দোসারি
Please remember us in your sincere prayers



