কোরান সূরা সাবা আয়াত 22 তাফসীর

  1. Mokhtasar
  2. Ahsanul Bayan
  3. AbuBakr Zakaria
  4. Ibn Kathir
Surah Saba ayat 22 Bangla tafsir - তাফসীর ইবনে কাসীর - Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান - Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স - বাংলা ভাষায় নোবেল কোরআনের অর্থের অনুবাদ উর্দু ভাষা ও ইংরেজি ভাষা & তাফসীর ইবনে কাসীর : সূরা সাবা আয়াত 22 আরবি পাঠে(Saba).
  
   

﴿قُلِ ادْعُوا الَّذِينَ زَعَمْتُم مِّن دُونِ اللَّهِ ۖ لَا يَمْلِكُونَ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ فِي السَّمَاوَاتِ وَلَا فِي الْأَرْضِ وَمَا لَهُمْ فِيهِمَا مِن شِرْكٍ وَمَا لَهُ مِنْهُم مِّن ظَهِيرٍ﴾
[ سبأ: 22]

বলুন, তোমরা তাদেরকে আহবান কর, যাদেরকে উপাস্য মনে করতে আল্লাহ ব্যতীত। তারা নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডলের অনু পরিমাণ কোন কিছুর মালিক নয়, এতে তাদের কোন অংশও নেই এবং তাদের কেউ আল্লাহর সহায়কও নয়। [সূরা সাবা: 22]

Surah Saba in Bangla

জহুরুল হক সূরা বাংলা Surah Saba ayat 22


তুমি বলো -- ''আল্লাহ্‌কে বাদ দিয়ে যাদের তোমরা কল্পনা করেছ তাদের ডাকো, তারা অণুর পরিমাপেও কোনো ক্ষমতা রাখে না মহাকাশমন্ডলীতে আর পৃথিবীতেও নয়, আর তাদের জন্য এই দুইয়ের মধ্যে কোনো একটা শরিকানাও নেই, আর তাদের মধ্যে থেকে তার জন্য কোনো পৃষ্ঠপোষকতাও নেই।’’


Tafsir Mokhtasar Bangla


২২. হে রাসূল! এসব মুশরিকদেরকে বলে দিন, তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে তোমাদের দেবতা বানিয়েছো তাদেরকে ডাকো। যেন তারা তোমাদের উপকার কিংবা অপকার সাধন করে। তারা আসমান-যমীনে এক তিল পরিমাণ কোন কিছু করার ক্ষমতা রাখে না। আর তাদের জন্য তাতে আল্লাহর সাথে না কোন অংশীদার রয়েছে। আর না কোন সহযোগী। তিনি অংশিদার ও সহযোগী থেকে মুক্ত।

Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান


বল, ‘তোমরা তাদেরকে আহবান কর, আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা ( যাদেরকে উপাস্য ) মনে কর।[১] ওরা আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে অণু পরিমাণ কিছুর মালিক নয়[২] এবং এতে ওদের কোন অংশও নেই[৩] এবং ওদের কেউ আল্লাহর কাজে সাহায্যকারীও নয়।’ [৪] [১] অর্থাৎ, যাদেরকে উপাস্য ধারণা কর। এখানে زَعَمْتُمْ শব্দটির দুটি مفعول ( কর্মকারক ) ঊহ্য আছে । অর্থাৎ, زَعَمْتُمُوْهُمْ آلِهَةً [২] অর্থাৎ, তাদের না কোন ভাল-মন্দের এখতিয়ার আছে, না তারা কারোর উপকার করার ক্ষমতা রাখে, আর না কোন ক্ষতি থেকে রক্ষার। এখানে আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর উল্লেখ ব্যাপকতা প্রকাশের জন্য করা হয়েছে, কারণ উভয়ই সকল বাহ্যিক বস্তুর অবস্থানক্ষেত্র। [৩] না সৃষ্টি করায়, না মালিকানায় এবং না নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনায়। [৪] যারা কোন ব্যাপারে আল্লাহর সাহায্য করে থাকে। বরং আল্লাহ তাআলা কোন অংশীদার ছাড়াই সকল এখতিয়ারের একমাত্র মালিক এবং কারোর সাহায্য ছাড়াই তিনি সকল কর্ম নিজেই করে থাকেন।

Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স


বলুন, 'তোমরা আল্লাহ্ ছাড়া যাদেরকে ইলাহ্ মনে করতে তাদেরকে ডাক। তারা আসমানসমূহে অণু পরিমাণ কিছুরও মালিক নয়, যমীনেও নয়। আর এ দু'টিতে তাদের কোন অংশও নেই এবং তাদের মধ্য থেকে কেউ তাঁর সহায়কও নয় []।' [] এ আয়াত ও এর পরবর্তী আয়াতে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কিছুর ইবাদাতের মুলোৎপাটন করা হয়েছে। কারণ আল্লাহ ছাড়া যাদের ইবাদাত করা হয়, তারা কেউই কোন কিছুর মালিক নয়। যদি মালিক না হয় তবে কিভাবে কোন কিছু দাবী করতে পারে? আর তাছাড়া ইবাদাতের অন্য কারণ এটাও হতে পারত যে, তারা মালিক না হলেও অংশীদার। কিন্তু আসমান ও যমীনে কোন কিছুতেই তাদের কোন অংশীদারিত্ব নেই। সুতরাং তাদের ইবাদাত কেন করা হবে? তাছাড়া ইবাদাতের আরও একটি কারণ হতে পারত যে, তারা মালিক বা অংশীদার না হলেও আল্লাহ তাদের সাহায্যের মুখাপেক্ষী। তিনি তাদের সাহায্য নিয়ে থাকেন। কিন্তু আল্লাহ্‌র তো কোন সাহায্যকারীর প্রয়োজন নেই। সুতরাং তাদের ইবাদাত কেন করা হবে? আর যদি বলা হয় যে, তারা কোন কিছুর মালিক নয়, তারা অংশীদার নয়, তারা সাহায্যকারীও নয়, কিন্তু তারা নেক বান্দা, তাদের সুপারিশ গ্রহণ করা হবে। এ শেষোক্ত সন্দেহটির উত্তর পরবর্তী আয়াতে দেয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে যে, তাদের কারও কারও যদি সুপারিশ থেকেও থাকে, তবে তা একমাত্ৰ আল্লাহর অনুমতিক্রমেই হবে। তিনি তাদেরকে সেটার অনুমতি না দিলে তারা সেটার জন্য অগ্রণী হয়ে কিছু করবে না। সুতরাং এ আয়াতের মাধ্যমে শির্কের মুলোৎপাটন করা হয়েছে। [ ইবন তাইমিয়্যা, আল-জাওয়াবুস সহীহ, ৩/১৫৪; আর-রান্দু আলাল মানতিকিইয়্যীন, ৫২৯; দারয়ু তাআরিযিল আকলি ওয়ান নাকল ৫/১৪৯ ] বরং যাদের সুপারিশ কামনা করা হয়, তাদের মধ্যে প্রধান হচ্ছে, ফেরেশতাগণ। আল্লাহর সামনে তাদের অবস্থা কি তা পরবতী আয়াতে বৰ্ণিত হয়েছে।

Tafsir ibn kathir bangla তাফসীর ইবনে কাসীর


২২-২৩ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা বর্ণনা করছেন যে, তিনি এক ও একক। তিনি অমুখাপেক্ষী ও অভাবমুক্ত। তিনি ছাড়া কোনই মা'বুদ নেই। তিনি তুলনাবিহীন ও অংশীবিহীন। তাঁর কোন শরীক নেই, সাথী নেই, পরামর্শদাতা নেই, মন্ত্রী নেই এবং পরিচালক নেই। সুতরাং কে তাঁর সামনে হঠকারিতা করবে এবং তার বিরুদ্ধাচরণ করবে? তাই মহান আল্লাহ বলেনঃ যাদের কাছে তোমরা আবেদন করে থাকো, জেনে রেখো যে, অণু পরিমাণও ক্ষমতা তাদের নেই। তারা শক্তিহীন ও অক্ষম। না দুনিয়ায় তাদের কোন ক্ষমতা চলে, না আখিরাতে। যেমন আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা বলেনঃ ( আরবী ) অর্থাৎ যাদেরকে তারা আল্লাহ ছাড়া ডাকে তারা খেজুরের ছালেরও মালিকানা রাখে না।”( ৩৫:১৩ ) তাদের সার্বভৌম ক্ষমতা নেই এবং মালিকানার ভিত্তিতে কোন রাজত্ব নেই। আল্লাহ তা'আলা তাঁর কাজে তাদের কাছে কোনই সাহায্য গ্রহণ করেন না। অথচ তারা সবাই দরিদ্র, ফকীর ও অন্যের মুখাপেক্ষী। তারা সবাই গোলাম ও বান্দা। তার শ্রেষ্ঠত্ব, বড়ত্ব, ইজ্জত ও মর্যাদা এমনই যে, তার অনুমতি ছাড়া তাঁর কাছে কেউ কারো জন্যে সুপারিশ করার সাহস রাখে। যেমন মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ ( আরবী ) অর্থাৎ “ কে সে, যে তার অনুমতি ব্যতীত তাঁর নিকট সুপারিশ করবে?”( ২:২৫৫ ) আর এক জায়গায় বলেনঃ ( আরবী ) অর্থাৎ “আকাশের বহু ফেরেশতাও কারো সুপারিশের জন্যে মুখ খুলতে পারে না । হ্যাঁ, তবে আল্লাহ স্বীয় সম্মতিক্রমে যার জন্যে অনুমতি দিবেন ( তার জন্যে অরে )।”( ৫৩:২৬ ) আর এক জায়গায় রয়েছেঃ ( আরবী ) অর্থাৎ তারা শুধু তারই জন্যে সুপারিশ করতে পারে যার প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট রয়েছেন এবং তারা তাঁর ভয়ে কম্পমান থাকে।”( ২১:২৮ )যেমন সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে বর্ণিত আছে যে, সমস্ত আদম-সন্তানের নেতা ও সবচেয়ে বড় সুপারিশকারী হযরত মুহাম্মাদ ( সঃ ) কিয়ামতের দিন যখন মাকামে মাহমূদে শাফাআতের জন্যে উপস্থিত হবেন এবং সবাই ফায়সালার জন্যে তাদের প্রতিপালকের নিকট আসবে, ঐ সময়ের কথা রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) বলেন, আমি আল্লাহ তা'আলার সামনে সিজদায় পড়ে যাবো। কতক্ষণ যে আমি জিদায় পড়ে থাকবো তা একমাত্র আল্লাহ তাআলাই জানেন। ঐ সিজদায় আমি আল্লাহ তা'আলার এতো প্রশংসা করবো যে, ঐ শব্দগুলো এখন আমার মনে হচ্ছে না। তখন আল্লাহ বলবেনঃ “ হে মুহাম্মাদ ( সঃ )! মাথা উঠাও এবং কথা বল, তোমার কথা শোনা হবে । তুমি চাও, তোমাকে দেয়া হবে। তুমি শাফাআত কর, কবূল করা হবে।” প্রতিপালকের শ্রেষ্ঠত্বের আর একটি বর্ণনা দেয়া হচ্ছে যে, যখন তিনি স্বীয় অহীর মাধ্যমে কথা বলেন, আর আকাশসমূহে আল্লাহর নৈকট্য লাভকারী। ফেরেশতারা তা শুনে থাকেন, তখন তাঁরা ভয়ে কেঁপে ওঠেন এবং তাদের জ্ঞান লোপ পাওয়ার উপক্রম হয়। পরে যখন তাদের অন্তর হতে ভয় বিদূরিত হয় ( আরবী ) শব্দটি কোন কোন পঠনে ( আরবী ) ও এসেছে, দুটোরই ভাবার্থ একই। তখন তাঁরা একে অপরকে জিজ্ঞেস করেনঃ “ এই সময় প্রতিপালকের কি হুকুম নাযিল হলো?” আহলে আরশ তাদের পার্শ্ববর্তীদের নিকট ধারাবাহিকভাবে ও সঠিকভাবে আল্লাহর আদেশ পৌছিয়ে থাকেন । এই আয়াতের একটি ভাবার্থ এও বর্ণনা করা হয়েছে যে, যখন মৃত্যু-যাতনার সময় আসে তখন মুশরিক একথা বলে থাকে এবং অনুরূপভাবে কিয়ামতের দিনও বলবে যখন তাদের জ্ঞান ফিরবে তাদের দুনিয়ার গাফিলতির পর, অর্থাৎ দুনিয়ায় যে তারা আল্লাহকে, তাঁর রাসূল ( সঃ )-কে, আখিরাতকে ইত্যাদি সবকিছুকেই ভুলে ছিল, কিয়ামতের দিন যখন তাদের জ্ঞান ফিরবে এবং সব কিছু বুঝতে পারবে তখন তারা পরস্পর বলাবলি করবেঃ “ তোমাদের প্রতিপালক কি বললেন?" উত্তরে বলা হবেঃ “যা সত্য তিনি তাই বলেছেন ।” যে জিনিস হতে তারা দুনিয়ায় নিশ্চিন্ত থাকতো আজ সেটা তাদের সামনে পেশ করা হবে। তাহলে অন্তর হতে ভয় দূর হওয়ার অর্থ এই হলো যে, যখন তাদের চোখের উপর হতে পর্দা সরিয়ে দেয়া হবে তখন তাদের পূর্বের সব সন্দেহ ও অবিশ্বাস মিটে যাবে এবং শয়তানী কুমন্ত্রণা দূর হয়ে যাবে, ঐ সময় তারা আল্লাহ তা'আলার সমস্ত কথার সত্যতা স্বীকার করে নিবে এবং তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও মাহাত্মের কথা মেনে নিবে। সুতরাং মৃত্যুর সময়ের স্বীকারুক্তিও কোন কাজে আসবে না এবং কিয়ামতের দিনের স্বীকারুক্তিতেও কোন লাভ হবে না। ইমাম ইবনে জারীর ( রঃ )-এর মতে প্রথম তাফসীরই সঠিক। অর্থাৎ এটা ফেরেশতাদের উক্তি হওয়াই যুক্তিযুক্ত। হাদীসে ও আসারেও এর উপরই জোর দেয়া হয়েছে। সহীহ বুখারীতে এ আয়াতের তাফসীরে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যখন আল্লাহ তাআলা কোন বিষয়ের ফায়সালা আসমানে করেন তখন ফেরেশতারা বিনয়ের সাথে তাদের ডানা ঝুঁকিয়ে থাকেন এবং প্রতিপালকের কালাম এমনই হয় যেমন ঐ শিকলের শব্দ, যা পাথরের উপর বাজানো হয়। যখন তাদের ভয় কমে আসে তখন তারা পরস্পরের মধ্যে বিজ্ঞাসাবাদ করেনঃ “ তোমাদের প্রতিপালক কি বললেন?" উত্তরে বলা হয়ঃ “যা সত্য তিনি তাই বলেছেন । তিনি সমুচ্চ, মহান।" কোন কোন সময় জ্বিনেরা ফেরেশতাদের কথা শুনার জন্যে তাদের নির্ধারিত স্থানে গমন করে এবং চুরি করে কিছু শুনেও ফেলে। তাদের যারা উপরে থাকে তারা তাদের নীচে অবস্থানকারীদেরকে তা বলে দেয়। এভাবে ঐ কথাগুলো দুনিয়ায় চলে আসে এবং গণক ও যাদুকরদের কানে পৌঁছে যায়। ঐ শয়তান জ্বিনদেরকে জ্বালিয়ে দেয়ার জন্যে জ্বলন্ত উল্কাপিণ্ড তাদের পশ্চাদ্ধাবন করে। কিন্তু তার পূর্বেই কিছু কিছু খবর তারা দুনিয়ায় পৌঁছিয়ে দেয়। কখনো কখনো আবার খবর পৌঁছানোর পূর্বেই তারা জ্বলে পুড়ে যায়।গণক বা যাদুকর দু' একটি ঐ সত্য কথার সাথে শত শতটি মিথ্যা মিলিয়ে জনগণের সামনে প্রচার করে। কাহেনের দু' একটি কথা যখন সত্য প্রমাণিত হয় তখন জনগণ তার মুরীদ হতে শুরু করে। তারা একে অপরকে বলেঃ “ দেখো, এ কাজটি তার কথা অনুযায়ী হয়েছে ।”হযরত ইবনে আব্বাস ( রাঃ ) হতে বর্ণিত আছে যে, একদা রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) সাহাবীদের দলে বসেছিলেন। এমন সময় একটি তারকা খসে পড়লো, ফলে চতুর্দিক আলোকিত হয়ে গেল। রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেনঃ “ অজ্ঞতার যুগে এভাবে তারকা ছিটকে পড়লে তোমরা কি বলতে?” সাহাবীরা জবাবে বললেনঃ “এ অবস্থায় আমরা বলতাম যে, হয়তো কোন বড় ও সম্ভান্ত মানুষ জন্মগ্রহণ করেছে অথবা মারা গেছে । বর্ণনাকারী যুহরী ( রঃ )-কে জিজ্ঞেস করা হলোঃ অজ্ঞতার যুগেও কি এই ভাবে তারকা ঝরে বা ছিটকে পড়তো?” তিনি উত্তরে বলেনঃ “ হ্যা, তবে রাসূলুল্লাহ ( সঃ )-এর নবুওয়াতের যুগেই এটা খুব বেশী হয় ।রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) সাহাবীদের ঐ কথার উত্তরে বললেনঃ “ জেনে রেখো যে, কারো জন্ম বা মৃত্যুর সাথে ওগুলোর কোন সম্পর্কে নেই । কথা হলো এই যে, আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা যখন আকাশে কোন বিষয়ের ফায়সালা করেন তখন আরশ বহনকারী ফেরেশতারা তাঁর তাসবীহ পাঠ করতে থাকেন। তারপর সপ্তম আকাশবাসী, এরপর ষষ্ঠ আকাশবাসী তাঁর মহিমা ঘঘাষণা করতে থাকেন। আর এভাবে শেষ পর্যন্ত এই তাসবীহ্ দুনিয়ার আকাশ পর্যন্ত পৌঁছে যায়। তারপর আরশের আশে পাশের ফেরেশতারা আরশ বহনকারী ফেরেশতাদেরকে জিজ্ঞেস করেনঃ আল্লাহ তা'আলা কি বললেন?” তারা তখন তাঁদেরকে তা বলে দেন । এভাবে প্রত্যেক নীচের ফেরেশতা তাদের উপরের ফেরেশতাদেরকে এটা জিজ্ঞেস করেন এবং তাঁদেরকে তা বলে দেন। শেষ পর্যন্ত প্রথম আকাশে এ খবর পৌছে যায়। কখনো কখনো চুরি করে শ্রবণকারী জ্বিনেরা ওটা শুনে নেয়। তখন তাদের উপর তারকা ছিটকে পড়ে। এতদসত্ত্বেও যে কথা পৌঁছানোর ইচ্ছা আল্লাহ তাআলা করেন, ওটা ঐ জ্বিন নিয়ে নেয় এবং ওর সাথে কহু কিছু মিথ্যা মিলিয়ে নিয়ে জনগণের মধ্যে প্রচার করে।” ( এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ ) বর্ণনা করেছেন)হযরত নাওয়াস ইবনে সামআন ( রাঃ ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) বলেছেনঃ “ যখন আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা কোন বিষয়ের অহী করার ইচ্ছা করেন তখন তিনি অহীর মাধ্যমে কথা বলেন । সুতরাং যখন তিনি কথা বলেন তখন আকাশ ভয়ে কাপতে শুরু করে। আর ফেরেশতারা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে সিজদায় পড়ে যান। সর্বপ্রথম হযরত জিবরাঈল ( আঃ ) মাথা উঠান এবং আল্লাহর আদেশ শ্রবণ করেন। অতঃপর তার মুখে অন্যান্য ফেরেশতারা শুনেন এবং বলতে থাকেন যে, আল্লাহ সত্য বলেছেন। তিনি উচ্চতা ও শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী। তিনি সমুচ্চ ও মহান।” ( এ হাদীসটি ইবনে আবি হাতিম (রঃ ) বর্ণনা করেছেন)হযরত ইবনে আব্বাস ( রাঃ ) হযরত কাতাদা ( রঃ ) এ আয়াতের তাফসীরে বলেন যে, এটা হলো ঐ অহী যা হযরত ঈসা ( আঃ )-এর পরে নবী-শূন্য যামানায় বন্ধ থাকে। অতঃপর খাতিমুল মুরসালীন হযরত মুহাম্মাদ ( সঃ )-এর উপর নতুনভাবে নাযিল হওয়া শুরু হয়। প্রকৃত কথা এই যে, এই ইবতিদা বা নতুনভাবে শুরু হওয়াটাও এই আয়াতের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। তবে আয়াতটি এটাকেও অন্তর্ভুক্ত করে এবং অন্য সবকেও করে।

সূরা সাবা আয়াত 22 সূরা

قل ادعوا الذين زعمتم من دون الله لا يملكون مثقال ذرة في السموات ولا في الأرض وما لهم فيهما من شرك وما له منهم من ظهير

سورة: سبأ - آية: ( 22 )  - جزء: ( 22 )  -  صفحة: ( 430 )


English Türkçe Indonesia
Русский Français فارسی
تفسير Urdu اعراب

বাংলায় পবিত্র কুরআনের আয়াত

  1. আরও বলঃ পালনকর্তা, আমাকে কল্যাণকর ভাবে নামিয়ে দাও, তুমি শ্রেষ্ঠ অবতারণকারী।
  2. যিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল সৃষ্টি করেছেন, তিনিই কি তাদের অনুরূপ সৃষ্টি করতে সক্ষম নন? হ্যাঁ
  3. তোর প্রতি আমার এ অভিশাপ বিচার দিবস পর্যন্ত স্থায়ী হবে।
  4. আমি তাদেরকে দেব ফল-মূল এবং মাংস যা তারা চাইবে।
  5. এই যে, জান্নাতের উত্তরাধিকারী তোমরা হয়েছ, এটা তোমাদের কর্মের ফল।
  6. এ মাটি থেকেই আমি তোমাদেরকে সৃজন করেছি, এতেই তোমাদেরকে ফিরিয়ে দিব এবং পুনরায় এ থেকেই
  7. এবং পঞ্চমবার বলবে যে, যদি সে মিথ্যাবাদী হয় তবে তার উপর আল্লাহর লানত।
  8. স্মরণ কর, যেদিন আমি প্রত্যেক দলকে তাদের নেতাসহ আহবান করব, অতঃপর যাদেরকে তাদের ডান হাতে
  9. যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সাথে সংগ্রাম করে এবং দেশে হাঙ্গামা সৃষ্টি করতে সচেষ্ট হয়,
  10. সুস্পষ্ট আরবী ভাষায়।

বাংলায় কোরআনের সূরা পড়ুন :

সুরত আল বাক্বারাহ্ আলে ইমরান সুরত আন-নিসা
সুরত আল-মায়েদাহ্ সুরত ইউসুফ সুরত ইব্রাহীম
সুরত আল-হিজর সুরত আল-কাহফ সুরত মারইয়াম
সুরত আল-হাজ্জ সুরত আল-ক্বাসাস আল-‘আনকাবূত
সুরত আস-সাজদা সুরত ইয়াসীন সুরত আদ-দুখান
সুরত আল-ফাতহ সুরত আল-হুজুরাত সুরত ক্বাফ
সুরত আন-নাজম সুরত আর-রাহমান সুরত আল-ওয়াক্বি‘আহ
সুরত আল-হাশর সুরত আল-মুলক সুরত আল-হাক্কাহ্
সুরত আল-ইনশিক্বাক সুরত আল-আ‘লা সুরত আল-গাশিয়াহ্

সবচেয়ে বিখ্যাত কোরআন তেলাওয়াতকারীদের কণ্ঠে সূরা সাবা ডাউনলোড করুন:

সূরা Saba mp3 : উচ্চ মানের সাথে সম্পূর্ণ অধ্যায়টি Saba শুনতে এবং ডাউনলোড করতে আবৃত্তিকারকে বেছে নিন
সুরত সাবা  ভয়েস আহমেদ আল-আজমি
আহমেদ আল-আজমি
সুরত সাবা  ভয়েস ইব্রাহীম আল-আখদার
ইব্রাহীম আল-আখদার
সুরত সাবা  ভয়েস বান্দার বেলাইলা
বান্দার বেলাইলা
সুরত সাবা  ভয়েস খালিদ গালিলি
খালিদ গালিলি
সুরত সাবা  ভয়েস হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
সুরত সাবা  ভয়েস খলিফা আল টুনাইজি
খলিফা আল টুনাইজি
সুরত সাবা  ভয়েস সাদ আল-গামদি
সাদ আল-গামদি
সুরত সাবা  ভয়েস সৌদ আল-শুরাইম
সৌদ আল-শুরাইম
সুরত সাবা  ভয়েস সালাহ আবু খাতর
সালাহ বুখাতীর
সুরত সাবা  ভয়েস আবদুল বাসিত আব্দুল সামাদ
আবদ এল বাসেট
সুরত সাবা  ভয়েস আবদুল রশিদ সুফি
আবদুল রশিদ সুফি
সুরত সাবা  ভয়েস আব্দুল্লাহ্ বাস্‌ফার
আব্দুল্লাহ্ বাস্‌ফার
সুরত সাবা  ভয়েস আবদুল্লাহ আওওয়াদ আল-জুহানী
আবদুল্লাহ আল-জুহানী
সুরত সাবা  ভয়েস আলী আল-হুদায়েফি
আলী আল-হুদায়েফি
সুরত সাবা  ভয়েস আলী জাবের
আলী জাবের
সুরত সাবা  ভয়েস ফারেস আব্বাদ
ফারেস আব্বাদ
সুরত সাবা  ভয়েস মাহের আলমাইকুলই
মাহের আলমাইকুলই
সুরত সাবা  ভয়েস মোহাম্মদ আইয়ুব
মোহাম্মদ আইয়ুব
সুরত সাবা  ভয়েস মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
সুরত সাবা  ভয়েস মুহাম্মাদ জিব্রীল
মুহাম্মাদ জিব্রীল
সুরত সাবা  ভয়েস মুহাম্মদ সিদ্দিক আল মিনশাবি
আল-মিনশাবি
সুরত সাবা  ভয়েস আল হোসারি
আল হোসারি
সুরত সাবা  ভয়েস আল-আফসী
মিশারী আল-আফসী
সুরত সাবা  ভয়েস নাসের আল কাতামি
নাসের আল কাতামি
সুরত সাবা  ভয়েস ইয়াসের আল-দোসারি
ইয়াসের আল-দোসারি


Tuesday, June 9, 2026

Please remember us in your sincere prayers