কোরান সূরা ফাত্হ আয়াত 27 তাফসীর

  1. Mokhtasar
  2. Ahsanul Bayan
  3. AbuBakr Zakaria
  4. Ibn Kathir
Surah Al Fath ayat 27 Bangla tafsir - তাফসীর ইবনে কাসীর - Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান - Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স - বাংলা ভাষায় নোবেল কোরআনের অর্থের অনুবাদ উর্দু ভাষা ও ইংরেজি ভাষা & তাফসীর ইবনে কাসীর : সূরা ফাত্হ আয়াত 27 আরবি পাঠে(Al Fath).
  
   

﴿لَّقَدْ صَدَقَ اللَّهُ رَسُولَهُ الرُّؤْيَا بِالْحَقِّ ۖ لَتَدْخُلُنَّ الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ إِن شَاءَ اللَّهُ آمِنِينَ مُحَلِّقِينَ رُءُوسَكُمْ وَمُقَصِّرِينَ لَا تَخَافُونَ ۖ فَعَلِمَ مَا لَمْ تَعْلَمُوا فَجَعَلَ مِن دُونِ ذَٰلِكَ فَتْحًا قَرِيبًا﴾
[ الفتح: 27]

আল্লাহ তাঁর রসূলকে সত্য স্বপ্ন দেখিয়েছেন। আল্লাহ চাহেন তো তোমরা অবশ্যই মসজিদে হারামে প্রবেশ করবে নিরাপদে মস্তকমুন্ডিত অবস্থায় এবং কেশ কর্তিত অবস্থায়। তোমরা কাউকে ভয় করবে না। অতঃপর তিনি জানেন যা তোমরা জান না। এছাড়াও তিনি দিয়েছেন তোমাদেরকে একটি আসন্ন বিজয়। [সূরা ফাত্হ: 27]

Surah Al-Fath in Bangla

জহুরুল হক সূরা বাংলা Surah Al Fath ayat 27


আল্লাহ্ আলবৎ তাঁর রসূলের জন্য দৈবদর্শনটি যথাযথভাবে বাস্তবায়িত করেছেন। তোমরা সুনিশ্চিত পবিত্র মসজিদে ইন-শা আল্লাহ্ প্রবেশ করবে নিরাপত্তার সাথে, তোমাদের মস্তক মুন্ডন ক’রে ও চুল কেটে, তোমরা ভয় না ক’রে। কিন্তু তিনি জানেন যা তোমরা জান না, সেজন্য এইটি ছাড়াও তিনি সংঘটিত করেছেন এক আসন্ন বিজয়।


Tafsir Mokhtasar Bangla


২৭. অবশ্যই আল্লাহ তদীয় রাসূলকে তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়িত করে দেখিয়েছেন যখন তিনি তাঁকে তা প্রদর্শন করেন ও তিনি তদীয় সাহাবাদেরকে তা অবগত করেন। আর তা এই ছিলো যে, তিনি ও তাঁর সাহাবীগণ বাইতুল্লাহে শত্রæদের কবল থেকে নিরাপদাবস্থায় প্রবেশ করবেন। হজ্জ সম্পন্ন হওয়ার নিদর্শন হিসাবে তাঁদের মধ্যে কেউ মাথা মুÐানো অবস্থায়। আবার কেউ মাথার চুল ছোট করা অবস্থায় থাকবে। হে মুমিনরা! আল্লাহ তোমাদের ব্যাপারে সেই সুবিধার কথা জানেন যা তোমরা নিজেরাও জানো না। ফলে তিনি উক্ত বছরে মক্কায় প্রবেশের ব্যর্থতাকে নিকটতম সফলতা বলে গণ্য করেছেন। আর এটি তাই যা আল্লাহ হুদাইবিয়ার সন্ধি হিসাবে ঘটিয়েছেন। এরপর ছিলো হুদায়বিয়ায় উপস্থিত মু’মিনদের হাতে খায়বার বিজয়।

Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান


নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর রসূল এর স্বপ্ন বাস্তবায়িত করেছেন, আল্লাহর ইচ্ছায় তোমরা অবশ্যই মসজিদুল হারামে প্রবেশ করবে নিরাপদে কেউ কেউ মস্তক মুন্ডন করবে, কেউ কেউ কেশ কর্তন করবে, তোমাদের কোন ভয় থাকবে না।[১] আল্লাহ জানেন তোমরা যা জান না।[২] এটা ছাড়াও তিনি তোমাদেরকে দান করেছেন এক আসন্ন বিজয়। [৩] [১] হুদাইবিয়ার ঘটনার পূর্বে রাসূলুল্লাহ ( সাঃ )-কে স্বপ্নে মুসলিমদের সাথে মাসজিদুল হারাম প্রবেশ করে তাওয়াফ ও উমরাহ করতে দেখানো হয়। নবীর স্বপ্নও অহী ( এবং বাস্তব ) হয়। তবে এই স্বপ্নে এটা নির্দিষ্ট ছিল না যে, তা এ বছরেই হবে। কিন্তু নবী করীম ( সাঃ ) এটাকে অতি মহান সুসংবাদ মনে করে উমরাহ করার জন্য সত্বর প্রস্তুত হয়ে গেলেন এবং এর জন্য সাধারণ ঘোষণা দেওয়ালেন ও বেরিয়েও পড়লেন। পরিশেষে হুদাইবিয়ায় পূর্বোল্লেখিত সন্ধি সুসম্পন্ন হয়। তবে আল্লাহর নিকট এই স্বপ্নের তাৎপর্য ছিল আগামী বছর। যেমন, পরের বছরে মুসলিমগণ অতি নিরাপত্তার সাথে উমরাহ আদায় করেন এবং আল্লাহ তাঁর নবীর স্বপ্নকে সত্য করে দেখান। [২] অর্থাৎ, যদি হুদাইবিয়ায় সন্ধি না হত, তাহলে যুদ্ধে মক্কায় অবস্থিত দুর্বল মুসলিমদের ক্ষতি হত। সন্ধির এই উপকারিতাগুলো আল্লাহই জানেন। [৩] এ থেকে খায়বার ও মক্কা বিজয় সহ সন্ধির সুফল স্বরূপ অধিকহারে ইসলাম গ্রহণের কথাকে বুঝানো হয়েছে। কেননা, এটাও এক প্রকার মহা বিজয়। হুদাইবিয়ার সময় মুসলিমরা ছিলেন দেড় হাজার। এর দু'বছর পর যখন মুসলিমরা বিজয়ী হিসাবে মক্কায় প্রবেশ করেন, তখন তাঁদের সংখ্যা ছিল দশ হাজার।

Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স


অবশ্যই আল্লাহ তাঁর রাসূলকে স্বপ্নটি যথাযথভাবে সত্যে পরিণত করে দিয়েছেন [], আল্লাহর ইচ্ছায় তোমরা অবশ্যই মসজিদুল-হারামে প্রবেশ করবে নিরাপদে --- মাথা মুণ্ডন করে এবং চুল ছেঁটে, নিৰ্ভয়ে। অতঃপর তিনি ( আল্লাহ ) জেনেছেন যা তোমরা জান নি। সুতরাং এ ছাড়াও তিনি তোমাদেরকে দিয়েছেন এক সদ্য বিজয়। [] হুদাইবিয়ার সন্ধি চূড়ান্ত হয়ে গেলে একথা স্থির হয়ে যায় যে, এখন মক্কায় প্রবেশ এবং ( উমরাহ ) পালন ব্যতিরেকেই মদিনায় ফিরে যেতে হবে। বলাবাহুল্য, সাহাবায়ে কেরাম উমরাহ পালনের সংকল্প রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর একটি স্বপ্নের ভিত্তিতে করেছিলেন, যা এক প্রকার ওহি ছিল। এখন বাহ্যতঃ এর বিপরীত হতে দেখে কারও কারও অন্তরে এই সন্দেহ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে লাগল যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর স্বপ্ন সত্য হলো না। অপরদিকে কাফের-মুনাফিকরা মুসলিমদেরকে বিদ্রুপ করল যে, তোমাদের রাসূলের স্বপ্ন সত্য নয়। তখন এই আয়াত নাযিল করে তাদের প্রশ্নের জবাব দেয়া হয়। আয়াতের অর্থ এই যে, আল্লাহ তাঁর রাসূলকে স্বপ্নের ব্যাপারে সাচ্চা দেখিয়েছেন। যদিও এই সাচ্চা দেখানোর ঘটনা ভবিষ্যতে সংঘটিত হওয়ার ছিল; কিন্তু একে অতীত পদবাচ্য ব্যক্ত করে এর নিশ্চিত ও অকাট্য হওয়ার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। অর্থাৎ মসজিদে-হারামে প্ৰবেশ সংক্রান্ত আপনার স্বপ্ন অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে; কিন্তু এ বছর নয়- এ বছরের পরে। স্বপ্নে মসজিদে হারামে প্রবেশের সময় নির্দিষ্ট ছিল না। পরম ঔৎসুক্যবশতঃ সাহাবায়ে কেরাম এ বছরই সফরের সংকল্প করে ফেললেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-ও তাদের সাথে যোগ দিলেন। এতে আল্লাহ তা'আলার বিরাট রহস্য নিহিত ছিল, যা হুদাইবিয়ার সন্ধির মাধ্যমে বিকাশ লাভ করে। সেমতে সিদিকে আকবর রাদিয়াল্লাহু আনহু প্রথমেই উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর জওয়াবে বলেছিলেনঃ আপনার সন্দেহ করা উচিত নয়, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর স্বপ্ন কোনো সময় ও বছর নির্দিষ্ট ছিল না। এখন না হলে পরে হবে। [ বুখারীঃ ২৫২৯ ]

Tafsir ibn kathir bangla তাফসীর ইবনে কাসীর


২৭-২৮ নং আয়াতের তাফসীর: রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) স্বপ্নে দেখেন যে, তিনি মক্কা গিয়েছেন এবং বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করেছেন। তার এই স্বপ্নের বৃত্তান্ত তিনি মদীনাতেই স্বীয় সাহাবীদের ( রাঃ ) সামনে বর্ণনা করেছিলেন। হুদায়বিয়ার সন্ধির বছর যখন তিনি উমরার উদ্দেশ্যে মক্কার পথে যাত্রা শুরু করেন তখন এই স্বপ্নের ভিত্তিতে সাহাবীদের এটা দৃঢ় বিশ্বাস ছিল যে, এই সফরে তারা সফলতার সাথে এই স্বপ্নের প্রকাশ ঘটতে দেখতে পাবেন। কিন্তু সেখানে গিয়ে যখন তাঁরা উল্টো ব্যাপার লক্ষ্য করেন এমনকি সন্ধিপত্র সম্পাদন করে তাদেরকে বায়তুল্লাহর যিয়ারত ছাড়াই ফিরে আসতে হয় তখন এটা তাদের কাছে খুবই কঠিন ঠেকে। সুতরাং হযরত উমার ( রাঃ ) রাসূলুল্লাহ ( সঃ )-কে বলেনঃ “ হে আল্লাহর রাসূল ( সঃ )! আপনি তো আমাদেরকে বলেছিলেনঃ “আমরা বায়তুল্লাহ শরীফে যাবো ও তাওয়াফ করবো?” উত্তরে রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) বলেনঃ “হ্যা, এটা সঠিক কথাই বটে, কিন্তু আমি তো একথা বলিনি যে, এই বছরই এটা করবো?” হযরত উমার ( রাঃ ) জবাব দেনঃ “হ্যা আপনি একথা বলেননি এটা সত্য ।রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) তখন বললেনঃ “ তাহলে এতো তাড়াহুড়া কেন? তোমরা অবশ্যই বায়তুল্লাহ শরীফে যাবে এবং তাওয়াফও অবশ্যই করবে ।” অতঃপর হযরত উমার ( রাঃ ) হযরত আবু বকর ( রাঃ )-কে এ প্রশ্নই করলেন এবং ঐ একই উত্তর পেলেন।এখানে ( আরবী ) ইসতিসনা বা এর ব্যতিক্রমও হতে পারে এ জন্যে নয়, বরং এখানে এটা নিশ্চয়তা এবং গুরুত্বের জন্যে। এই বরকতময় স্বপ্নের প্রকাশ ঘটতে সাহাবীগণ ( রাঃ ) দেখেছেন এবং পূর্ণ নিরাপত্তার সাথে মক্কায় পৌঁছেছেন এবং ইহরাম ভেঙ্গে দিয়ে কেউ কেউ মাথা মুণ্ডন করিয়েছেন এবং কেউ কেউ কেশ কর্তন করিয়েছেন। সহীহ হাদীসে আছে যে, রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলা মাথা মুণ্ডনকারীদের উপর দয়া করুন ।” সাহাবীগণ ( রাঃ ) জিজ্ঞেস করলেনঃ “ চুল কর্তনকারীদের উপরও কি?”রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) দ্বিতীয়বারও ঐ কথাই বললেন । আবার জনগণ ঐ প্রশ্নই করলেন। অবশেষে তৃতীয়বার বা চতুর্থবারে তিনি বললেনঃ “ চুল-কর্তনকারীদের উপরও আল্লাহ দয়া করুন ।”মহান আল্লাহ বলেনঃ “ তোমাদের কোন ভয় থাকবে না । অর্থাৎ মক্কায় যাওয়ার পথেও তোমরা নিরাপত্তা লাভ করবে এবং মক্কায় অবস্থানও হবে তোমাদের জন্যে নিরাপদ। উমরার কাযায় এটাই হয়। এই উমরা সপ্তম হিজরীর যুলকাদাহ মাসে হয়েছিল। রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) হুদায়বিয়া হতে যুলকাদাহ মাসে ফিরে এসেছিলেন। যুলহাজ্জাহ ও মুহাররাম মাসে তো মদীনা শরীফেই অবস্থান করেন। সফর মাসে খায়বার গমন করেন। ওর কিছু অংশ বিজিত হয় যুদ্ধের মাধ্যমে এবং কিছু অংশের উপর আধিপত্য লাভ করা হয় সন্ধির মাধ্যমে। এটা খুব বড় অঞ্চল ছিল। এতে বহু খেজুরের বাগান ও শস্য ক্ষেত্র ছিল। খায়বারের ইয়াহূদীদেরকে তিনি সেখানে খাদেম হিসেবে রেখে দিয়ে তাদের ব্যাপারে এই মীমাংসা করেন যে, তারা বাগান ও ক্ষেত্রের রক্ষণাবেক্ষণ ও কাজকর্ম করবে এবং উৎপাদিত ফল ও শস্যের অর্ধাংশ রাসূলুল্লাহ ( সঃ )-কে প্রদান করবে। রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) খায়বারের সম্পদ শুধু ঐ সব সাহাবীর মধ্যে বন্টন করেন যারা হুদায়বিয়ায় উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা ছাড়া আর কেউই এর অংশ প্রাপ্ত হননি। তবে তাঁরা এর ব্যতিক্রম ছিলেন যারা হাবশে হিজরত করার পর তথা হতে ফিরে এসেছিলেন। যেমন হযরত জাফর ইবনে আবি তালিব ( রাঃ ) ও তার সঙ্গীরা এবং হযরত আবু মূসা আশআরী ( রাঃ ) ও তাঁর সঙ্গীরা। হুদায়বিয়াতে রাসূলুল্লাহ ( সঃ )-এর সাথে যেসব সাহাবী ( রাঃ ) উপস্থিত ছিলেন তাঁরা সবাই তার সাথে খায়বার যুদ্ধেও শরীক ছিলেন, শুধু আবু দাজানাহ সাম্মাক ইবনে খারশাহ ( রাঃ ) শরীক ছিলেন না, যেমন এর পূর্ণ বর্ণনা স্বস্থানে রয়েছে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) মদীনায় ফিরে আসেন। তারপর সপ্তম হিজরীর যুলকাদাহ মাসে উমরার উদ্দেশ্যে মক্কার পথে যাত্রা শুরু করেন। তার সাথে হুদায়বিয়ায় অংশ গ্রহণকারী সাহাবীগণও ছিলেন। যুলহুলাইফা হতে ইহরাম বাঁধেন এবং কুরবানীর উটগুলো সাথে নেন। বলা হয়েছে যে, ওগুলোর সংখ্যা ছিল ষাট। তাঁরা ‘লাব্বায়েক’ শব্দ উচ্চারণ করতে করতে যখন মাররুয যাহরানের নিকটবর্তী হলেন তখন মুহাম্মাদ ইবনে সালমা ( রাঃ )-কে কিছু ঘোড়া ও অস্ত্র-শস্ত্রসহ আগে আগে পাঠিয়েছিলেন। এ দেখে মুশরিকদের প্রাণ উড়ে গেল, কলিজা শুকিয়ে গেল। তাদের ধারণা হলো যে, রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) পূর্ণ প্রস্তুতি ও সাজ-সরঞ্জামসহ এসেছেন। অবশ্যই তিনি এসেছেন যুদ্ধ করার উদ্দেশ্যে। উভয় দলের মধ্যে দশ বছর কোন যুদ্ধ হবে না’ এই যে একটি শর্ত ছিল তিনি তা ভঙ্গ করেছেন। তাই, তারা মক্কায় দৌড়িয়ে গিয়ে মক্কাবাসীকে এ খবর দিয়ে দিলো। রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) যখন মাররুয যাহরানে পৌঁছলেন যেখান হতে কা'বা ঘরের মূর্তিগুলো দেখা যাচ্ছিল, তখন তিনি শর্ত অনুযায়ী সমস্ত বর্শা, বল্লাম, তীর, কামান বাতনে ইয়াজিজে পাঠিয়ে দেন। শুধু তরবারী সঙ্গে রাখেন এবং ওটাও কোষবদ্ধ থাকে। তখনো তিনি পথেই ছিলেন, ইতিমধ্যে মুশরিকরা মুকরিযকে তাঁর নিকট পাঠিয়ে দেয়। সে এসে বলেঃ “ হে মুহাম্মাদ ( সঃ )! চুক্তি ভঙ্গ করা তো আপনার অভ্যাস নয়?” রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) তাকে বললেনঃ “ব্যাপার কি?” সে উত্তরে বললোঃ “আপনি তীর, বর্শা ইত্যাদি সাথে এনেছেন?” তিনি জবাব দেন:“না, আমি তো ওগুলো বাতনে ইয়াজিজে পাঠিয়ে দিয়েছি?” সে তখন বললোঃ “আপনি যে একজন সৎ ও প্রতিজ্ঞাপালনকারী ব্যক্তি এ বিশ্বাস আমাদের ছিল ।” অতঃপর মক্কার মুশরিক কুরায়েশরা মক্কা শহর ছেড়ে চলে গেল। তারা দুঃখে ও ক্রোধে ফেটে পড়লো। আজ তারা মক্কা শহরে রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) ও তার সাহাবীবর্গকে দেখতেও চায় না। যেসব পুরুষ, নারী ও শিশু মক্কায় রয়ে গেল তারা পথে, প্রকোষ্ঠে এবং ছাদের উপর দাঁড়িয়ে বিস্ময়ের দৃষ্টিতে এই পবিত্র, অকৃত্রিম ও আল্লাহ ভক্ত সেনাবাহিনীর দিকে তাকাতে থাকলো। রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) এবং তাঁর সাহাবীবর্গ ( রাঃ )লাব্বায়েক’ ধ্বনি উচ্চারণ করতে থাকলেনরাসূলুল্লাহ ( সঃ ) কুরবানীর পশুগুলোকে যী-তওয়া নামক স্থানে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি তাঁর কাসওয়া নামক উষ্ট্রীর উপর আরোহণ করে চলছিলেন। যার উপর তিনি হুদায়বিয়ার দিন আরোহণ করেছিলেন। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা আনসারী ( রাঃ ) রাসূলুল্লাহ ( সঃ )-এর উষ্ট্রীর লাগাম ধরে ছিলেন এবং নিম্নের কবিতাটি পাঠ করছিলেনঃ ( আরবী ) অর্থাৎ “ তাঁর নামে, যার দ্বীন ছাড়া কোন দ্বীন নেই ( অর্থাৎ অন্য কোন দ্বীন গ্রহণযোগ্য নয় )আল্লাহর নামে, মুহাম্মাদ ( সঃ ) যাঁর রাসূল। হে কাফিরদের সন্তানরা! তোমরা তাঁর ( রাসূল সঃ-এর ) পথ হতে সরে যাও। আজ আমরা তাঁর প্রত্যাবর্তনের সময় তোমাদেরকে ঐ মারই মারবো যে মার তার আগমনের সময় মেরেছিলাম। এমন মার ( প্রহার ) যা মস্তিষ্ককে ওর ঠিকানা হতে সরিয়ে দিবে এবং বন্ধুকে বন্ধুর কথা ভুলিয়ে দিবে। করুণাময় ( আল্লাহ ) স্বীয় অহী অবতীর্ণ করেছেন যা ঐ সহীফাগুলোর মধ্যে রক্ষিত রয়েছে যা তাঁর রাসূল ( সঃ )-এর সামনে পঠিত হয়। সর্বাপেক্ষা উত্তম মৃত্যু হলো শাহাদাতের মৃত্যু যা তাঁর পথে হয়। হে আমার প্রতিপালক! আমি এই কথার উপর ঈমান এনেছি।” কোন কোন রিওয়াইয়াতে কিছু হের ফেরও রয়েছে। হযরত ইবনে আব্বাস ( রাঃ ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, এই উমরার সফরে যখন রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) মাররুম্ যাহ্রান নামক স্থানে পৌছেন তখন সাহাবীগণ ( রাঃ ) শুনতে পান যে, মক্কাবাসী বলছে:“ এ লোকগুলো ( সাহাবীগণ ) ক্ষীণতা ও দুর্বলতার কারণে উঠা-বসা করতে পারে না ।” একথা শুনে সাহাবীগণ ( রাঃ ) রাসূলুল্লাহ ( সঃ )-এর নিকট এসে বলেনঃ “ হে আল্লাহর রাসূল ( সঃ )! যদি আপনি অনুমতি দেন তবে আমরা আমাদের সওয়ারীর কতকগুলো উটকে যবেই করি এবং ওগুলোর গোশত খাই ও শুরুয়া পান করি এবং এভাবে শক্তি লাভ করে নব উদ্যমে মক্কায় গমন করি ।রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) উত্তরে তাদেরকে বললেনঃ “ না, এরূপ করতে হবে না । তোমাদের কাছে যে খাদ্য রয়েছে তা একত্রিত কর।” তাঁর এই নির্দেশমত সাহাবীগণ ( রাঃ ) তাদের খাদ্যগুলো একত্রিত করলেন এবং দস্তরখানা বিছিয়ে খেতে বসলেন। রাসূলুল্লাহ ( সঃ )-এর দু'আর কারণে খাদ্যে এতো বরকত হলো যে, সবাই পেট পুরে খেলেন ও নিজ নিজ থলে ভর্তি করে নিলেন। রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) সাহাবীবর্গসহ মক্কায় আসলেন এবং সরাসরি বায়তুল্লাহ শরীফে গেলেন। কুরায়েশরা হাতীমের দিকে বসেছিল। রাসূলুল্লাহ( সাঃ ) চাদরের পাল্লা ডান বগলের নীচ দিয়ে বের করে বাম কাঁধের উপর রেখে দিলেন। তিনি সাহাবীদেরকে ( রাঃ ) বললেন:“ জনগণ যেন তোমাদের মধ্যে অলসতা ও দুর্বলতা অনুভব করতে না পারে ।” তিনি রুকে চুম্বন করে দৌড়ের মত চালে তাওয়াফ শুরু করলেন। রুকনে ইয়ামানীর নিকট যখন পৌছলেন, যেখানে কুরায়েশদের দৃষ্টি পড়ছিল না, তখন সেখান হতে ধীরে ধীরে চলে হাজরে আসওয়াদ পর্যন্ত পৌছলেন। কুরায়েশরা বলতে লাগলো:“ তোমরা হরিণের মত লাফিয়ে লাফিয়ে চলছে, চলা যেন তোমরা পছন্দই কর না ।” তিনবার রাসূলুল্লাহ( সাঃ ) এভাবে হালকা দৌড়ে চলে হাজরে আসওয়াদ হতে রুকনে ইয়ামানী পর্যন্ত চলতে থাকলেন। তিন চক্র এভাবেই দিলেন। সুতরাং মাসনূন তরীকা এটাই। অন্য রিওয়াইয়াতে আছে যে, বিদায় হজ্বেও রাসূলুল্লাহ( সাঃ ) এভাবেই তাওয়াফের তিন চক্রে রমল করেছিলেন অর্থাৎ হালকা দৌড়ে চলেছিলেন। ( এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ ) স্বীয় মুসনাদে বর্ণনা করেছেন)সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে রয়েছে যে, প্রথম দিকে মদীনার আবহাওয়া রাসূলুল্লাহ ( সঃ )-এর সাহাবীদের ( রাঃ ) স্বাস্থ্যের প্রতিকূল হয়েছিল। জ্বরের কারণে তারা কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। যখন রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) সাহাবীগণসহ মক্কায় পৌঁছেন তখন মুশরিকরা বলেঃ “ এই যে লোকগুলো আসছে, এদেরকে মদীনার জ্বর দুর্বল ও অলস করে ফেলেছে ।আল্লাহ তা'আলা স্বীয় রাসূল ( সঃ )-কে মুশরিকদের এই উক্তির খবর অবহিত করেন। মুশরিকরা হাতীমের নিকট বসেছিল। রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) স্বীয় সাহাবীদেরকে ( রাঃ ) নির্দেশ দেন যে, তারা যেন হাজরে আসওয়াদ থেকে নিয়ে রুকনে ইয়ামানী পর্যন্ত তাওয়াফের প্রথম তিন চক্রে দুলকী দৌড়ে চলেন এবং রুকনে ইয়ামানী হতে হাজরে আসওয়াদ পর্যন্ত চার চক্রে স্বাভাবিক গতিতে চলেন। রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) পূর্ণ সাত চক্রেই রমল বা দুলকী দৌড়ের নির্দেশ দেননি। এটা শুধু দয়ার কারণেই ছিল।মুশরিকরা যখন দেখলো যে, সাহাবীগণ সবাই কুদে লাফিয়ে স্ফূর্তি সহকারে চলছেন তখন তারা পরস্পর বলাবলি করেঃ “ এদের সম্পর্কে যে বলা হতো যে, মদীনার জ্বর এদেরকে দুর্বল ও অলস করে ফেলেছে এটাতো গুজব ছাড়া কিছুই নয় । এ লোকগুলো তো অমুক অমুকের চেয়েও বেশী চতুর ও চালাক?”একটি রিওয়াইয়াতে আছে যে, রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) যুলকাদাহ মাসের ৪ তারিখে মক্কা শরীফে পৌঁছে গিয়েছিলেন। অন্য রিওয়াইয়াতে আছে যে, ঐ সময় মুশরিকরা কাঈকাআনের দিকে ছিল। রাসূলুল্লাহ ( সঃ )-এর সাফা মারওয়ার দিকে দৌড়ানোও মুশরিকদেরকে তাদের শক্তি দেখানোর জন্যেই ছিল। হযরত ইবনে আবি আওফা ( রাঃ ) বলেনঃ “ ঐ দিন আমরা রাসূলুল্লাহ ( সঃ )-কে পর্দা করেছিলাম, যাতে কোন মুশরিক অথবা নির্বোধ তাঁর কোন ক্ষতি করতে না পারে ।( এ হাদীসটি ইমাম বুখারী (রঃ ) বর্ণনা করেছেন)হযরত ইবনে উমার ( রাঃ ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) উমরার উদ্দেশ্যে বের হন, কিন্তু কাফির কুরায়েশরা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এবং তাঁকে বায়তুল্লাহ শরীফে প্রবেশ করতে দেয়নি। রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) সেখানেই কুরবানী করেন অর্থাৎ হুদায়বিয়াতেই কুরবানী দেন এবং মস্তক মুণ্ডন করিয়ে নেন। আর তাদের সাথে সন্ধি করেন। সন্ধির একটি শর্ত এই ছিল যে, তিনি এই বছর উমরা না করেই ফিরে যাবেন এবং আগামী বছর উমরা করার জন্যে আসবেন। ঐ সময় তিনি তরবারী ছাড়া অন্য কোন অস্ত্র সাথে আনতে পারবেন না এবং মক্কায় তিনি ঐ কয়েকদিন অবস্থান করবেন যা মক্কাবাসী চাইবে। ঐ শর্ত অনুযায়ী পরের বছর রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) ঐ ভাবেই মক্কায় আসেন এবং তিন দিন পর্যন্ত অবস্থান করেন। তারপর মুশরিকরা বলেঃ “ এখন আপনি বিদায় গ্রহণ করুন!” সুতরাং তিনি ফিরে আসলেন । ( এ হাদীসটিও ইমাম বুখারী (রঃ ) স্বীয় সহীহ’গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন)হযরত বারা ( রাঃ ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) যুলকাদাহ মাসে উমরা করার ইচ্ছা করেন, কিন্তু মুশরিকরা তাকে বাধা প্রদান করে। রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) তাদের সাথে এই মীমাংসা করেন যে, তিনি মাত্র তিন দিন মক্কায় অবস্থান করবেন। যখন সন্ধিপত্র লিখার কাজ শুরু করা হয় তখন লিখা হয়ঃ “ এটা ঐ পত্র যার উপর আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ ( সঃ ) সন্ধি করেছেন ।” তখন মক্কাবাসী বললোঃ “ যদি আমরা আপনাকে আল্লাহর রাসূল বলে মানতাম তবে কখনো বাধা প্রদান করতাম না । বরং আপনি মুহাম্মাদ ইবনে আবদিল্লাহ লিখিয়ে নিন।” তিনি তখন বললেনঃ “ আমি আল্লাহর রাসূলও এবং মুহাম্মাদ ইবনে আবদিল্লাহও বটে ।” অতঃপর তিনি হযরত আলী ( রাঃ )-কে বললেনঃ রাসূলুল্লাহ শব্দটি কেটে দাও । হযরত আলী ( রাঃ ) তখন বললেনঃ আল্লাহর কসম! আমি এটা কখনো কাটতে পারবো না ।” তখন রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) নিজেই সন্ধিপত্রটি হাতে নিয়ে ভালরূপে লিখতে না পারা সত্ত্বেও লিখেনঃ “ এটা ঐ জিনিস যার উপর মুহাম্মাদ ইবনে আবদিল্লাহ ( সঃ ) সন্ধি করেছেন ।” তা এই যে, তিনি মক্কায় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না, শুধু তরবারী নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন এবং সেটাও আবার কোষবদ্ধ থাকবে। আরো শর্ত এই যে, মক্কাবাসীদের যে কেউ তার সাথে যেতে চাইবে তাকে তিনি সঙ্গে নিয়ে যেতে পারবেন না। পক্ষান্তরে তাঁর সঙ্গীদের কেউ যদি মক্কায় থেকে যেতে চায় তবে তিনি তাকে বাধা দিতে পারবেন না।” অতঃপর যখন রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) মক্কায় আসলেন এবং নির্ধারিত সময় কেটে গেল। তখন মুশরিকরা হযরত আলী ( রাঃ )-এর নিকট এসে বললোঃ “ মুহাম্মাদ ( সঃ )-কে বলুন যে, সময় অতিক্রান্ত হয়েছে, সুতরাং এখন বিদায় হয়ে যেতে হবে ।” তখন নবী ( সঃ ) বেরিয়ে পড়লেন। এমন সময় হযরত হামযা ( রাঃ )-এর কন্যা চাচা চাচা বলে তাঁর পিছন ধরলো। হযরত আলী ( রাঃ ) তখন তার অঙ্গুলী ধরে হযরত ফাতেমা ( রাঃ )-এর কাছে নিয়ে গেলেন এবং তাঁকে বললেনঃ “ তোমার চাচার মেয়েকে ভালভাবে রাখো । হযরত ফাতেমা ( রাঃ ) আনন্দের সাথে মেয়েটিকে তার পাশে বসালেন। এখন হযরত আলী ( রাঃ ), হযরত যায়েদ ( রাঃ ) এবং হযরত জাফর ( রাঃ )-এর মধ্যে ঝগড়া বেঁধে গেল। হযরত আলী ( রাঃ ) বললেনঃ “ আমি একে নিয়ে এসেছি, এটা আমার চাচার কন্যা । হযরত জাফর ( রাঃ ) বললেনঃ “ এটা আমার চাচাতো বোন এবং তার খালা আমার পত্নী । হযরত যায়েদ ( রাঃ ) বললেনঃ “ এটা আমার ভাইয়ের কন্যা । রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) এ ঝগড়ার মীমাংসা এই ভাবে করলেন যে, মেয়েটিকে তিনি তার খালাকে প্রদান করলেন এবং বললেন যে, খালা মায়ের স্থলাভিষিক্তা।” হযরত আলী ( রাঃ )-কে তিনি বললেনঃ “ তুমি আমা হতে এবং আমি তোমা হতে ( অর্থাৎ আমার ও আমি তোমার ) হযরত জাফর ( রাঃ )-কে বললেনঃ “ দৈহিক গঠনে ও চরিত্রে আমার সাথে তোমার পূর্ণ সাদৃশ্য রয়েছে ।" হযরত যায়েদ ( রাঃ )-কে বললেনঃ “ তুমি আমার ভাই ও আযাদকৃত ক্রীতদাস ।" হযরত আলী ( রাঃ ) বললেনঃ “ হে আল্লাহর রাসূল ( সঃ )! আপনি হযরত হামযা ( রাঃ )-এর কন্যাকে বিয়ে করছেন না কেন?” উত্তরে তিনি বললেনঃ “এটা আমার দুধ ভাই-এর কন্যা । ( তাই তার সাথে আমার বিবাহ বৈধ নয় )।"এরপর মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ আল্লাহ জানেন তোমরা যা জান না । এটা ছাড়াও তিনি তোমাদেরকে দিয়েছেন এক সদ্য বিজয়।' অর্থাৎ এই সন্ধির মধ্যে যে যৌক্তিকতা রয়েছে তা আল্লাহ তাআলাই ভাল জানেন, তোমরা জান না। এরই ভিত্তিতে তোমাদেরকে এই বছর মক্কা যেতে দেয়া হলো না, বরং আগামী বছর যেতে দিবেন। আর এই যাওয়ার পূর্বেই যার ওয়াদা স্বপ্নের আকারে রাসূলুল্লাহ ( সঃ )-কে দেয়া হয়েছিল, তোমাদেরকে সেই আসন্ন বিজয় দান করা হলো। আর ঐ বিজয় হলো সন্ধি যা তোমাদের এবং তোমাদের শত্রুদের মধ্যে হয়ে গেল। এরপর আল্লাহ তা'আলা মুমিনদেরকে সুসংবাদ শুনাচ্ছেন যে, তিনি স্বীয় রাসূল ( সঃ )-কে এই শত্রুদের উপর এবং সমস্ত শক্রর উপর বিজয় দান করবেন। এজন্যেই তাকে তিনি পথ-নির্দেশ ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন। শরীয়তে এ দুটি জিনিসই থাকে, অর্থাৎ ইলম ও আমল। সুতরাং শরয়ী ইলমই সঠিক ও বিশুদ্ধ ইলম এবং শরয়ী আমলই হলো গ্রহণযোগ্য আমল। সুতরাং শরীয়তের খবরগুলো সত্য এবং হুকুমগুলো ন্যায়সঙ্গত।আল্লাহ তাআলা এটাই চান যে, সারা দুনিয়ায় আজমে, মুসলমানদের মধ্যে ও মুশরিকদের মধ্যে যতগুলো দ্বীন রয়েছে সবগুলোর উপরই স্বীয় দ্বীনকে জয়যুক্ত করবেন। এই কথার উপর আল্লাহই সাক্ষী হিসেবে যথেষ্ট যে, মুহাম্মাদ ( সঃ ) আল্লাহর রাসূল এবং তিনিই তাঁর সাহায্যকারী। এসব ব্যাপারে মহিমাময় আল্লাহ তাআলাই সবচেয়ে ভাল জানেন।

সূরা ফাত্হ আয়াত 27 সূরা

لقد صدق الله رسوله الرؤيا بالحق لتدخلن المسجد الحرام إن شاء الله آمنين محلقين رءوسكم ومقصرين لا تخافون فعلم ما لم تعلموا فجعل من دون ذلك فتحا قريبا

سورة: الفتح - آية: ( 27 )  - جزء: ( 26 )  -  صفحة: ( 514 )


English Türkçe Indonesia
Русский Français فارسی
تفسير Urdu اعراب

বাংলায় পবিত্র কুরআনের আয়াত

  1. সুতরাং তাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি যেন আপনাকে বিস্মিত না করে। আল্লাহর ইচ্ছা হল এগুলো দ্বারা
  2. এবং এ কারণে যে, কেয়ামত অবশ্যম্ভাবী, এতে সন্দেহ নেই এবং এ কারণে যে, কবরে যারা
  3. আর প্রত্যেক সম্প্রদায়ের একেকজন রসূল রয়েছে। যখন তাদের কাছে তাদের রসূল ন্যায়দন্ডসহ উপস্থিত হল, তখন
  4. তাদের পূর্বে যারা ছিল, তারা চক্রান্ত করেছে। আর সকল চক্রান্ত তো আল্লাহর হাতেই আছে। তিনি
  5. আমি মুমিনগণকে তাড়িয়ে দেয়ার লোক নই।
  6. অনন্তর আমি তাকে ও তার সঙ্গীদেরকে স্বীয় অনুগ্রহে রক্ষা করলাম এবং যারা আমার আয়াতসমূহে মিথ্যারোপ
  7. অতঃপর বলেছিঃ তোমরা তোমাদের পালনকর্তার ক্ষমা প্রার্থনা কর। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল।
  8. হে আমাদের সম্প্রদায়, তোমরা আল্লাহর দিকে আহবানকারীর কথা মান্য কর এবং তাঁর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন
  9. অতঃপর আমি তাকে ও তার সেনাবাহিনীকে পাকড়াও করলাম এবং তাদেরকে সমুদ্রে নিক্ষেপ করলাম। সে ছিল
  10. এটা জান্নাতস্থিত ‘সালসাবীল’ নামক একটি ঝরণা।

বাংলায় কোরআনের সূরা পড়ুন :

সুরত আল বাক্বারাহ্ আলে ইমরান সুরত আন-নিসা
সুরত আল-মায়েদাহ্ সুরত ইউসুফ সুরত ইব্রাহীম
সুরত আল-হিজর সুরত আল-কাহফ সুরত মারইয়াম
সুরত আল-হাজ্জ সুরত আল-ক্বাসাস আল-‘আনকাবূত
সুরত আস-সাজদা সুরত ইয়াসীন সুরত আদ-দুখান
সুরত আল-ফাতহ সুরত আল-হুজুরাত সুরত ক্বাফ
সুরত আন-নাজম সুরত আর-রাহমান সুরত আল-ওয়াক্বি‘আহ
সুরত আল-হাশর সুরত আল-মুলক সুরত আল-হাক্কাহ্
সুরত আল-ইনশিক্বাক সুরত আল-আ‘লা সুরত আল-গাশিয়াহ্

সবচেয়ে বিখ্যাত কোরআন তেলাওয়াতকারীদের কণ্ঠে সূরা ফাত্হ ডাউনলোড করুন:

সূরা Al Fath mp3 : উচ্চ মানের সাথে সম্পূর্ণ অধ্যায়টি Al Fath শুনতে এবং ডাউনলোড করতে আবৃত্তিকারকে বেছে নিন
সুরত ফাত্হ  ভয়েস আহমেদ আল-আজমি
আহমেদ আল-আজমি
সুরত ফাত্হ  ভয়েস ইব্রাহীম আল-আখদার
ইব্রাহীম আল-আখদার
সুরত ফাত্হ  ভয়েস বান্দার বেলাইলা
বান্দার বেলাইলা
সুরত ফাত্হ  ভয়েস খালিদ গালিলি
খালিদ গালিলি
সুরত ফাত্হ  ভয়েস হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
সুরত ফাত্হ  ভয়েস খলিফা আল টুনাইজি
খলিফা আল টুনাইজি
সুরত ফাত্হ  ভয়েস সাদ আল-গামদি
সাদ আল-গামদি
সুরত ফাত্হ  ভয়েস সৌদ আল-শুরাইম
সৌদ আল-শুরাইম
সুরত ফাত্হ  ভয়েস সালাহ আবু খাতর
সালাহ বুখাতীর
সুরত ফাত্হ  ভয়েস আবদুল বাসিত আব্দুল সামাদ
আবদ এল বাসেট
সুরত ফাত্হ  ভয়েস আবদুল রশিদ সুফি
আবদুল রশিদ সুফি
সুরত ফাত্হ  ভয়েস আব্দুল্লাহ্ বাস্‌ফার
আব্দুল্লাহ্ বাস্‌ফার
সুরত ফাত্হ  ভয়েস আবদুল্লাহ আওওয়াদ আল-জুহানী
আবদুল্লাহ আল-জুহানী
সুরত ফাত্হ  ভয়েস আলী আল-হুদায়েফি
আলী আল-হুদায়েফি
সুরত ফাত্হ  ভয়েস আলী জাবের
আলী জাবের
সুরত ফাত্হ  ভয়েস ফারেস আব্বাদ
ফারেস আব্বাদ
সুরত ফাত্হ  ভয়েস মাহের আলমাইকুলই
মাহের আলমাইকুলই
সুরত ফাত্হ  ভয়েস মোহাম্মদ আইয়ুব
মোহাম্মদ আইয়ুব
সুরত ফাত্হ  ভয়েস মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
সুরত ফাত্হ  ভয়েস মুহাম্মাদ জিব্রীল
মুহাম্মাদ জিব্রীল
সুরত ফাত্হ  ভয়েস মুহাম্মদ সিদ্দিক আল মিনশাবি
আল-মিনশাবি
সুরত ফাত্হ  ভয়েস আল হোসারি
আল হোসারি
সুরত ফাত্হ  ভয়েস আল-আফসী
মিশারী আল-আফসী
সুরত ফাত্হ  ভয়েস নাসের আল কাতামি
নাসের আল কাতামি
সুরত ফাত্হ  ভয়েস ইয়াসের আল-দোসারি
ইয়াসের আল-দোসারি


Friday, June 19, 2026

Please remember us in your sincere prayers