কোরান সূরা সাদ আয়াত 31 তাফসীর
﴿إِذْ عُرِضَ عَلَيْهِ بِالْعَشِيِّ الصَّافِنَاتُ الْجِيَادُ﴾
[ ص: 31]
যখন তার সামনে অপরাহ্নে উৎকৃষ্ট অশ্বরাজি পেশ করা হল, [সূরা সাদ: 31]
Surah Saad in Banglaজহুরুল হক সূরা বাংলা Surah Sad ayat 31
দেখো! বিকেলবেলা তাঁর সমক্ষে দ্রতগামী ঘোড়াদের হাজির করা হল,
Tafsir Mokhtasar Bangla
৩১. সে সময়ের কথা স্মরণ করুন যখন আসরের সময়ে তাঁর নিকট উৎকৃষ্ট ও দ্রæতগামী ঘোড়া পেশ করা হলো। যেগুলো তিন পায়ের উপর ভর করে এক পা তুলে রাখে। সূর্যাস্ত পর্যন্ত তাঁর সামনে এগুলোকে পেশ করা হতে থাকে।
Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান
যখন অপরাহ্নে তার সম্মুখে সুশিক্ষিত দ্রুতগামী অশ্বরাজিকে উপস্থিত করা হল,[১] [১] صَافِنَاتٌ - صَافِنٌ বা صَافِنَاةٌ এর বহুবচন। এর মানে এমন অশ্বরাজি যা তিন পায়ে ভর করে দাঁড়ায়। جِيَادٌ جَوَادٌ এর বহুবচন। এর অর্থ দ্রুতগামী অশ্বরাজি। অর্থাৎ সুলাইমান ( আঃ )-এর সামনে জিহাদের জন্য পালিত উৎকৃষ্ট ( প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ) দ্রুতগামী অশ্বরাজি পরিদর্শনের জন্য পেশ করা হল। عَشِيٌّ যোহর বা আসর থেকে সূর্য অস্তমিত হওয়া পর্যন্ত সময়কে বলা হয়, আমরা যাকে অপরাহণ বা বিকাল বলে থাকি।
Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স
যখন বিকেলে তার সামনে দ্রুতগামী উৎকৃষ্ট অশ্বরাজিকে [ ১ ] পেশ করা হল, [ ১ ] মূলে বলা হয়েছে الصّٰافِنٰات এর অর্থ হচ্ছে এমনসব ঘোড়া যেগুলো দাঁড়িয়ে থাকার সময় অত্যন্ত শান্তভাবে দাঁড়িয়ে থাকে, লাফালাফি দাপাদাপি করে না এবং যখন দৌড়ায় অত্যন্ত দ্রুতবেগে দৌড়ায়। [ দেখুন, আত-তাফসীরুস সহীহ, বাগভী ]
Tafsir ibn kathir bangla তাফসীর ইবনে কাসীর
৩০-৩৩ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তা'আলা হযরত দাউদ ( আঃ )-কে যে একটি বড় নিয়ামত দান করেছিলেন এখানে তারই বর্ণনা দেয়া হচ্ছে যে, তিনি হযরত সুলাইমান ( আঃ )-কে তাঁর নবুওয়াতের উত্তরাধিকারী করেছিলেন। এজন্যেই হযরত সুলাইমান ( আঃ )-এর উল্লেখ করা হয়েছে। নচেৎ হযরত দাউদ ( আঃ )-এর তো। আরো বহু সন্তান ছিল। দাসীরা ছাড়াও তার একশজন স্ত্রী ছিল। সুতরাং হযরত সুলাইমান ( আঃ ) হযরত দাউদ ( আঃ )-এর নবুওয়াতের ওয়ারিশ হয়েছিলেন। যেমন মহান আল্লাহ অন্য আয়াতে বলেনঃ ( আরবী ) অর্থাৎ “ সুলাইমান ( আঃ ) দাউদ ( আঃ )-এর ওয়ারিশ হলো ।” ( ২৭:১৬ ) অর্থাৎ নবুওয়াতের ওয়ারিশ হলেন। হযরত দাউদ ( আঃ )-এর পর হযরত সুলাইমান ( আঃ ) নবুওয়াত লাভ করেন।মহান আল্লাহ বলেনঃ ‘সে ছিল উত্তম বান্দা এবং অতিশয় আল্লাহ অভিমুখী। অর্থাৎ তিনি বড়ই ইবাদতগুয়ার ছিলেন এবং খুব বেশী আল্লাহর দিকে ঝুঁকে পড়েছিলেন।হযরত মাকহুল ( রঃ ) হতে বর্ণিত আছে যে, যখন আল্লাহ তা'আলা হযরত দাউদ ( আঃ )-কে দান করলেন সুলাইমান ( আঃ )-কে তখন হযরত দাউদ ( আঃ ) হযরত সুলাইমান ( আঃ )-কে প্রশ্ন করলেনঃ “ হে আমার প্রিয় বৎস! আচ্ছা বল তোঃ সবচেয়ে উত্তম জিনিস কি?” তিনি জবাব দিলেনঃ “আল্লাহর পক্ষ হতে আগত চিত্ত-প্রশান্তি এবং ঈমান ।” আবার জিজ্ঞেস করলেনঃ “ সবচেয়ে মন্দ জিনিস কি?” উত্তরে তিনি বললেনঃ “ঈমানের পর কুফরী ।” পুনরার প্রশ্ন করলেনঃ “ সবচেয়ে মিষ্টি জিনিস কি?” তিনি উত্তর দিলেনঃ “আল্লাহর রহমত বা করুণা ।" আবার প্রশ্ন করলেনঃ “ সবচেয়ে শীতল জিনিস কি?” তিনি জবাবে বললেনঃ “আল্লাহ তা'আলার মানুষকে ক্ষমা করে দেয়া এবং মানুষের একে অপরকে মাফ করা ।” তখন হযরত দাউদ ( আঃ ) হযরত সুলাইমান ( আঃ )-কে বললেনঃ “ তাহলে তুমি নবী ।” ( এটা ইবনে আবি হাতিম (রঃ ) বর্ণনা করেছেন)হযরত সুলাইমান ( আঃ )-এর রাজত্বের আমলে তাঁর সামনে তার ঘোড়াগুলো হাযির করা হয় যেগুলো ছিল খুবই দ্রুতগামী এবং ওগুলো তিন পায়ের উপর দাঁড়িয়ে থাকতো। একটি উক্তি এও আছে যে, এগুলো ছিল উড়ন্ত ঘোড়া, যেগুলোর সংখ্যা ছিল বিশ। ইবরাহীম তাইমী ( রঃ ) ঘোড়াগুলোর সংখ্যা বিশ হাজার বলেছেন। এসব ব্যাপারে সর্বাধিক সঠিক জ্ঞানের অধিকারী একমাত্র আল্লাহ।সুনানে আবি দাউদে হযরত আয়েশা ( রাঃ ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) তাবুক অথবা খায়বারের যুদ্ধ হতে ফিরে এসেছিলেন। তিনি বাড়ীতে প্রবেশ করেছেন এমন সময় প্রচণ্ড বেগে বাতাস বইতে শুরু করে। ফলে ঘরের এক কোণের পর্দা সরে যায়। ঐ জায়গায় হযরত আয়েশা ( রাঃ )-এর খেলনার পুতুলগুলো রাখা ছিল। ওগুলোর প্রতি রাসূলুল্লাহ ( সঃ )-এর দৃষ্টি পড়লে তিনি হযরত আয়েশা ( রাঃ )-কে জিজ্ঞেস করলেনঃ “ ওগুলো কি?” তিনি জবাবে বললেনঃ “ওগুলো আমার পুতুল ।” রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) দেখতে পান যে, মধ্যভাগে একটি ঘোড়ার মত কি যেন বানানো রয়েছে যাতে কাপড়ের তৈরী দুটি ডানাও লাগানো আছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ “ এটা কি?" উত্তরে হযরত আয়েশা ( রাঃ ) বললেনঃ “এটা ঘোড়া । তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেনঃ “ কাপড়ের তৈরী ওর উপরে দুই দিকে ও দুটো কি?” তিনি জবাব দিলেনঃ “এ দুটো ওর ডানা ।” রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) বললেনঃ “ ঘোড়াও ভাল এবং ডানা দুটিও উত্তম ।” তখন হযরত আয়েশা ( রাঃ ) বললেনঃ “ আপনি কি শুনেননি যে, হযরত সুলাইমান ( আঃ )-এর ডানা বিশিষ্ট ঘোড়া ছিল?" একথা শুনে রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) হেসে উঠলেন । এমনকি তাঁর শেষ দাঁতটিও দেখা গেল।হযরত সুলাইমান ( আঃ ) ঘোড়াগুলোর দেখা শোনায় এমন ব্যস্ত হয়ে পড়লেন যে, তাঁর আসরের নামাযের খেয়ালই থাকলো না। নামাযের কথা তিনি সম্পূর্ণরূপে বিস্মরণ হয়ে গেলেন। যেমন রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) খন্দকের যুদ্ধের সময় একদিন যুদ্ধে মগ্ন থাকার কারণে আসরের নামায পড়তে পারেননি। মাগরিবের নামাযের পর ঐ নামায আদায় করেন।সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে রয়েছে যে, সূর্য ডুবে যাওয়ার পর হযরত উমার ( রাঃ ) কুরায়েশ কাফিরদেরকে মন্দ বলে রাসূলুল্লাহ ( সঃ )-এর নিকট আসলেন এবং বললেনঃ “ হে আল্লাহর রাসূল ( সঃ )! আমি তো আসরের নামায পড়তে পারিনি?" রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) উত্তরে বললেনঃ “এখন পর্যন্ত আমিও নামায আদায় করতে সক্ষম হইনি ।” অতঃপর তারা বাতহান নামক স্থানে গিয়ে অযু করলেন এবং সূর্য অস্তমিত হওয়ার পর আসরের নামায আদায় করলেন এবং পরে মাগরিবের নামায পড়লেন। এটাও হতে পারে যে, হযরত সুলাইমান ( আঃ )-এর দ্বীনে যুদ্ধ-ব্যস্ততার কারণে নামাযকে বিলম্বে আদায় করা জায়েয ছিল। তাঁর ঘোড়াগুলো হয়তো যুদ্ধের ঘোড়া ছিল যেগুলোকে একমাত্র ঐ উদ্দেশ্যেই রাখা হয়েছিল। যেমন কোন কোন আলেম একথাও বলেছেন যে, সালাতে খাওফ ( ভয়ের সময়ের নামায ) জারী হওযার পূর্বে এই অবস্থাই ছিল। যখন তরবারী চৰ্চ করে ওঠে এবং শত্রু সৈন্য এসে ভিড়ে যায়, আর নামাযের জন্যে রুকু-সিজদা করার সুযোগই হয় না তখন এই হুকুম রয়েছে। যেমন সাহাবীগণ ( রাঃ ) তাসতির’ বিজয়ের সময় এরূপ করেছিলেন। কিন্তু আমাদের প্রথম উক্তিটিই সঠিক। কেননা, এরপরেই হযরত সুলাইমান ( আঃ )-এর এই ঘোড়াগুলোকে পুনরায় তলব করা ইত্যাদির বর্ণনা রয়েছে। তিনি ওগুলোকে কেটে ফেলার নির্দেশ দেন এবং বলেনঃ “ এগুলো তো আমাকে আমার প্রতিপালকের ইবাদত হতে উদাসীন করে ফেলেছে । সুতরাং এগুলো রাখা চলবে না।" অতঃপর ঐ ঘোড়াগুলোর পা ও গলদেশ কেটে ফেলা হয়। কিন্তু হযরত ইবনে আব্বাস ( রাঃ ) বলেন যে, হযরত সুলাইমান ( আঃ ) শুধু ঘোড়াগুলোর কপালের লোমগুলো ইত্যাদির উপর হাত ফিরিয়েছিলেন। ইমাম ইবনে জারীরও ( রঃ ) এই উক্তিটি গ্রহণ করেছেন যে, বিনা কারণে জন্তুকে কষ্ট দেয়া অবৈধ। ঐ জন্তুগুলোর কোনই দোষ ছিল না যে, তিনি ওগুলো কেটে ফেলবেন। কিন্তু আমি বলি যে, হয়তো তাদের শরীয়তে এ কাজ বৈধ ছিল, বিশেষ করে ঐ সময়, যখন ঐগুলো আল্লাহর স্মরণে বাধা সৃষ্টি করলো এবং নামাযের ওয়াক্ত সম্পূর্ণরূপে চলেই গেল। তাহলে তার ঐ ক্রোধ আল্লাহর জন্যেই ছিল। আর এর ফলে আল্লাহ তা'আলা তাঁকে ওগুলোর চেয়ে দ্রুতগামী ও হালকা জিনিস দান করেছিলেন। অর্থাৎ বাতাসকে তিনি তার অনুগত করে দিয়েছিলেন।হ্যরত কাতাদা ( রঃ ) ও হযরত আবুদ দাহমা ( রঃ ) প্রায়ই হজ্ব করতেন। তারা বলেন, একবার এক গ্রামে একজন বেদুইনের সঙ্গে আমাদের সাক্ষাৎ হয়। সে বলে, রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) আমার হাত ধরে আমাকে বহু কিছু দ্বীনী শিক্ষা দিয়েছিলেন। তাতে এও ছিলঃ “ তুমি আল্লাহকে ভয় করে যে জিনিস ছেড়ে দিবে, আল্লাহ তা'আলা তোমাকে তদপেক্ষা উত্তম জিনিস দান করবেন ।" ( এটা ইমাম আহমাদ (রঃ ) স্বীয় মুসনাদে বর্ণনা করেছেন)
সূরা সাদ আয়াত 31 সূরা
| English | Türkçe | Indonesia |
| Русский | Français | فارسی |
| تفسير | Urdu | اعراب |
বাংলায় পবিত্র কুরআনের আয়াত
- মূসা বললেন তার কওমকে, সাহায্য প্রার্থনা কর আল্লাহর নিকট এবং ধৈর্য্য ধারণ কর। নিশ্চয়ই এ
- আপনি কি তাকে লক্ষ্য করেছেন যে, আমার নিদর্শনাবলীতে বিশ্বাস করে না এবং বলেঃ আমাকে অর্থ-সম্পদ
- আল্লাহ বললেনঃ তোমরা নেমে যাও। তোমরা এক অপরের শত্রু। তোমাদের জন্যে পৃথিবীতে বাসস্থান আছে এবং
- অতঃপর সে একবার তারকাদের প্রতি লক্ষ্য করল।
- যারা স্বীয় পালনকর্তার সত্তার অবিশ্বাসী তাদের অবস্থা এই যে, তাদের কর্মসমূহ ছাইভস্মের মত যার উপর
- মূসা বলল, তিনি তোমাদের পালনকর্তা এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদেরও পালনকর্তা।
- কসম ঝঞ্ঝাবায়ুর।
- অতঃপর ওরা তার প্রতি মিথ্যারোপ করেছিল এবং উষ্ট্রীর পা কর্তন করেছিল। তাদের পাপের কারণে তাদের
- যিনি বিচার দিনের মালিক।
- তারা যখন কোন মন্দ কাজ করে, তখন বলে আমরা বাপ-দাদাকে এমনি করতে দেখেছি এবং আল্লাহও
বাংলায় কোরআনের সূরা পড়ুন :
সবচেয়ে বিখ্যাত কোরআন তেলাওয়াতকারীদের কণ্ঠে সূরা সাদ ডাউনলোড করুন:
সূরা Sad mp3 : উচ্চ মানের সাথে সম্পূর্ণ অধ্যায়টি Sad শুনতে এবং ডাউনলোড করতে আবৃত্তিকারকে বেছে নিন
আহমেদ আল-আজমি
ইব্রাহীম আল-আখদার
বান্দার বেলাইলা
খালিদ গালিলি
হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
খলিফা আল টুনাইজি
সাদ আল-গামদি
সৌদ আল-শুরাইম
সালাহ বুখাতীর
আবদ এল বাসেট
আবদুল রশিদ সুফি
আব্দুল্লাহ্ বাস্ফার
আবদুল্লাহ আল-জুহানী
আলী আল-হুদায়েফি
আলী জাবের
ফারেস আব্বাদ
মাহের আলমাইকুলই
মোহাম্মদ আইয়ুব
মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
মুহাম্মাদ জিব্রীল
আল-মিনশাবি
আল হোসারি
মিশারী আল-আফসী
নাসের আল কাতামি
ইয়াসের আল-দোসারি
Please remember us in your sincere prayers



