কোরান সূরা ক্বাসাস আয়াত 36 তাফসীর
﴿فَلَمَّا جَاءَهُم مُّوسَىٰ بِآيَاتِنَا بَيِّنَاتٍ قَالُوا مَا هَٰذَا إِلَّا سِحْرٌ مُّفْتَرًى وَمَا سَمِعْنَا بِهَٰذَا فِي آبَائِنَا الْأَوَّلِينَ﴾
[ القصص: 36]
অতঃপর মূসা যখন তাদের কাছে আমার সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী নিয়ে পৌছল, তখন তারা বলল, এতো অলীক জাদু মাত্র। আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের মধ্যে এ কথা শুনিনি। [সূরা ক্বাসাস: 36]
Surah Al-Qasas in Banglaজহুরুল হক সূরা বাংলা Surah Qasas ayat 36
তারপর মূসা যখন তাদের কাছে এলেন আমাদের সুস্পষ্ট নিদর্শনগুলো নিয়ে, তারা বলল -- ''এ তো বানানো ভেলকিবাজি ছাড়া আর কিছুই নয়, আর একরম আমাদের পূর্ববর্তী বাপদাদার আমলেও আমরা শুনি নি।’’
Tafsir Mokhtasar Bangla
৩৬. যখন মূসা ( আলাইহিস-সালাম ) তাদের নিকট আমার সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ নিয়ে আসলেন তখন তারা বললো: এটি মূলতঃ বানানো মিথ্যা; যা মূসা বানিয়েছে। আমরা এ ব্যাপারে নিজেদের পূববর্তী বাপ-দাদা থেকে কিছুই শুনিনি।
Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান
সুতরাং মূসা যখন ওদের নিকট আমার সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী সহ উপস্থিত হল, তখন ওরা বলল, ‘এ তো অলীক যাদু মাত্র! আমাদের পূর্বপুরুষকালে কখনও এরূপ ঘটতে শুনিনি।’ [১] [১] অর্থাৎ, এই দাওয়াত যে, বিশ্ব-জাহানে একমাত্র আল্লাহই ইবাদতের যোগ্য এটি আমাদের জন্য সম্পূর্ণ নতুন কথা। এ কথা না আমরা শুনেছি আর না আমাদের পূর্বপুরুষেরা এই তাওহীদ সম্পর্কে অবহিত ছিল। মক্কার মুশরিকরাও নবী ( সাঃ ) সম্পর্কে বলেছিল,{أَجَعَلَ الْآلِهَةَ إِلَهًا وَاحِدًا إِنَّ هَذَا لَشَيْءٌ عُجَابٌ} অর্থাৎ, সে কি বহু উপাস্যের পরিবর্তে এক উপাস্য বানিয়ে নিয়েছে? এ তো এক অত্যাশ্চর্য ব্যাপার। ( সূরা সা'দ ৩৮:৫ আয়াত )
Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স
অতঃপর মূসা যখন তাদের কাছে আমাদের সুস্পষ্ট নিদর্শন নিয়ে আসল, তারা বলল, ‘এটা তো অলীক জাদু মাত্ৰ [ ১ ] ! আর আমাদের পূর্বপুরুষদের কালে কখনো এরূপ কথা শুনিনি [ ২ ]।’ [ ১ ] বলা হয়েছেঃ অলীক জাদু বা বানোয়াট জাদু। [ কুরতুবী ] তুমি নিজে এটা বানিয়ে নিয়েছ। [ ফাতহুল কাদীর ] [ ২ ] রিসালাতের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মূসা আলাইহিসসালাম যেসব কথা বলেছিলেন সে দিকে ইংগিত করা হয়েছে। কুরআনের অন্যান্য জায়গায় এগুলোর বিস্তারিত বিবরণ এসেছে। অন্যত্র এসেছে, মূসা তাকে বলেনঃ “ তুমি কি পবিত্র-পরিচ্ছন্ন নীতি অবলম্বন করতে আগ্রহী? এবং আমি তোমাকে তোমার রবের পথ বাতলে দিলে কি তুমি ভীত হবে? [ সূরা আন-নাযি‘আতঃ ১৮-১৯ ] সূরা ত্বা-হায়ে বলা হয়েছেঃ “আর আমরা তোমার রবের রাসূল, তুমি বনী ইসরাঈলকে আমাদের সাথে যেতে দাও । আমরা তোমার কাছে তোমার প্রতিপালকের কাছ থেকে নির্দশন নিয়ে এসেছি। আর যে ব্যাক্তি সঠিক পথের অনুসারী হয় তার জন্য রয়েছে শান্তি ও নিরাপত্তা। আমাদের প্রতি অহী নাযিল করা হয়েছে এ মর্মে যে, শাস্তি তার জন্য যে মিথ্যা আরোপ করে ও মুখ ফিরিয়ে নেয়।” [ ৪৭-৪৮ ] এ কথাগুলো সম্পর্কেই ফির‘আউন বলে, আমাদের বাপ দাদারাও কখনো একথা শোনেনি যে, মিসরের ফির‘আউনের উপরেও কোন কর্তৃত্বশালী সত্তা আছে, যে তাকে হুকুম করার ক্ষমতা রাখে, তাকে শাস্তি দিতে পারে, তাকে নির্দেশ দেবার জন্য কোন লোককে তার দরবারে পাঠাতে পারে এবং যাকে ভয় করার জন্য মিসরের বাদশাহকে উপদেশ দেয়া যেতে পারে। এ সম্পূর্ণ অভিনব কথা আমরা আজ এক ব্যাক্তির মুখে শুনছি। অথবা আয়াতের অর্থ আমরা নবুওয়ত ও রিসালাত সম্পর্কে আগে কখনও শুনিনি। [ দেখুন, ফাতহুল কাদীর ]
Tafsir ibn kathir bangla তাফসীর ইবনে কাসীর
৩৬-৩৭ নং আয়াতের তাফসীরহযরত মূসা ( আঃ ) নবুওয়াত রূপ উপহার লাভ করে এবং আল্লাহর সাহায্য প্রাপ্ত হয়ে আল্লাহ তা'আলার নির্দেশক্রমে মিসরে গিয়ে পৌঁছেন। সেখানে পৌঁছে তিনি ফিরাউন ও তার লোকদের সামনে আল্লাহর একত্ববাদ এবং তার রিসালাতের ঘোষণা দেন এবং তাঁকে প্রদত্ত মু'জিযাগুলো তাদেরকে প্রদর্শন করেন। ফিরাউনসহ সবারই এ দৃঢ় বিশ্বাস হয় যে, নিশ্চয়ই হযরত মূসা ( আঃ ) আল্লাহর নবী। কিন্তু সে যুগ যুগ ধরে যে অহংকার করে আসছিল তা এবং তার পুরাতন কুফরী মাথাচাড়া দিয়ে উঠলো। তাই অন্তরের বিশ্বাসকে গোপন রেখে সে মুখে বলতে শুরু করলো: “ এটা তো যাদু ছাড়া কিছুই নয় ।” অতঃপর সে স্বীয় দবদবাও শক্তির দাপট দেখিয়ে সত্যের বিরোধিতায় উঠে পড়ে লেগে গেল এবং আল্লাহর নবী ( আঃ )-এর সামনে বললো : “ আমরা তো কখনো শুনিনি যে, আল্লাহ এক । শুধু আমরা কেন? আমাদের পূর্বপুরুষরাও কখনো এরূপ কথা শুনেনি। আমরা বড়, ছোট সবাই বহু খোদার উপাসনা করে আসছি। এই নবী কোথা হতে এই নতুন কথা নিয়ে এসেছে?” উত্তরে হযরত মূসা ( আঃ ) বললেনঃ “ আমাকে ও তোমাদেরকে আল্লাহ খুব ভাল রূপেই অবগত আছেন । তিনিই আমার ও তোমাদের মধ্যে ফায়সালা করবেন যে, কে সঠিক পথের উপর রয়েছে এবং আখিরাতে কার পরিণাম শুভ হবে। আল্লাহর সাহায্য কার সাথে রয়েছে তা তোমরা সত্বরই জানতে পারবে। যালিম অর্থাৎ মুশরিকদের পরিণাম কখনো শুভ হয় না। সুতরাং তারা সফলকাম হবে না।
সূরা ক্বাসাস আয়াত 36 সূরা
| English | Türkçe | Indonesia |
| Русский | Français | فارسی |
| تفسير | Urdu | اعراب |
বাংলায় পবিত্র কুরআনের আয়াত
- যদি তারা তোমার সাথে বিতর্কে অবতীর্ণ হয় তবে বলে দাও, "আমি এবং আমার অনুসরণকারীগণ আল্লাহর
- তাদেরকে বলা হবেঃ তোমরা যা করতে তার প্রতিফলস্বরূপ তোমরা তৃপ্ত হয়ে পানাহার কর।
- আমি মূসাকে কিতাব দিয়েছি, অতএব আপনি কোরআন প্রাপ্তির বিষয়ে কোন সন্দেহ করবেন না। আমি একে
- এরা সে লোক, যারা নিজেরাই নিজেদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, আর এরা যা কিছু মিথ্যা মা’বুদ সাব্যস্ত
- আপনি কিছুকালের জন্যে তাদেরকে উপেক্ষা করুন।
- যখন নির্দেশ দান করেন ফেরেশতাদিগকে তোমাদের পরওয়ারদেগার যে, আমি সাথে রয়েছি তোমাদের, সুতরাং তোমরা মুসলমানদের
- এটা ছিল কুফরের কারণে তাদের প্রতি আমার শাস্তি। আমি অকৃতজ্ঞ ব্যতীত কাউকে শাস্তি দেই না।
- আমার কাছে এ ওহীই আসে যে, আমি একজন স্পষ্ট সতর্ককারী।
- অতঃপর আল্লাহর রসূল তাদেরকে বলেছিলেনঃ আল্লাহর উষ্ট্রী ও তাকে পানি পান করানোর ব্যাপারে সতর্ক থাক।
- আল্লাহ আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ করেছেন তিনি যে তা সজ্ঞানেই করেছেন, সে ব্যাপারে আল্লাহ নিজেও
বাংলায় কোরআনের সূরা পড়ুন :
সবচেয়ে বিখ্যাত কোরআন তেলাওয়াতকারীদের কণ্ঠে সূরা ক্বাসাস ডাউনলোড করুন:
সূরা Qasas mp3 : উচ্চ মানের সাথে সম্পূর্ণ অধ্যায়টি Qasas শুনতে এবং ডাউনলোড করতে আবৃত্তিকারকে বেছে নিন
আহমেদ আল-আজমি
ইব্রাহীম আল-আখদার
বান্দার বেলাইলা
খালিদ গালিলি
হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
খলিফা আল টুনাইজি
সাদ আল-গামদি
সৌদ আল-শুরাইম
সালাহ বুখাতীর
আবদ এল বাসেট
আবদুল রশিদ সুফি
আব্দুল্লাহ্ বাস্ফার
আবদুল্লাহ আল-জুহানী
আলী আল-হুদায়েফি
আলী জাবের
ফারেস আব্বাদ
মাহের আলমাইকুলই
মোহাম্মদ আইয়ুব
মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
মুহাম্মাদ জিব্রীল
আল-মিনশাবি
আল হোসারি
মিশারী আল-আফসী
নাসের আল কাতামি
ইয়াসের আল-দোসারি
Please remember us in your sincere prayers



