কোরান সূরা রা'দ আয়াত 38 তাফসীর

  1. Mokhtasar
  2. Ahsanul Bayan
  3. AbuBakr Zakaria
  4. Ibn Kathir
Surah Raad ayat 38 Bangla tafsir - তাফসীর ইবনে কাসীর - Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান - Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স - বাংলা ভাষায় নোবেল কোরআনের অর্থের অনুবাদ উর্দু ভাষা ও ইংরেজি ভাষা & তাফসীর ইবনে কাসীর : সূরা রা'দ আয়াত 38 আরবি পাঠে(Raad).
  
   

﴿وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلًا مِّن قَبْلِكَ وَجَعَلْنَا لَهُمْ أَزْوَاجًا وَذُرِّيَّةً ۚ وَمَا كَانَ لِرَسُولٍ أَن يَأْتِيَ بِآيَةٍ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ ۗ لِكُلِّ أَجَلٍ كِتَابٌ﴾
[ الرعد: 38]

আপনার পূর্বে আমি অনেক রসূল প্রেরণ করেছি এবং তাঁদেরকে পত্নী ও সন্তান-সন্ততি দিয়েছি। কোন রসূলের এমন সাধ্য ছিল না যে আল্লাহর নির্দেশ ছাড়া কোন নিদর্শন উপস্থিত করে। প্রত্যেকটি ওয়াদা লিখিত আছে। [সূরা রা'দ: 38]

Surah Ar-Rad in Bangla

জহুরুল হক সূরা বাংলা Surah Raad ayat 38


আর অবশ্যই তোমার পূর্বে আমরা বহু রসূল পাঠিয়েছি, আর তাঁদের জন্য আমরা দিয়েছিলাম স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি, আর কোনো রসূলের পক্ষে এটি নয় যে তিনি কোনো নিদর্শন উপস্থাপিত করবেন আল্লাহ্‌র অনুমতি ব্যতীত। প্রত্যেক নির্ধারিত কালের জন্য বিধান রয়েছে।


Tafsir Mokhtasar Bangla


৩৮. হে রাসূল! আমি আপনার পূর্বে অনেক মানুষকে রাসূল হিসেবে পাঠিয়েছি। অতএব, আপনি কোন নতুন রাসূল নন। আমি তাঁদেরকে অন্য মানুষের ন্যায় স্ত্রী ও সন্তান দিয়েছি। আমি তাঁদেরকে এমন কোন ফিরিশতা বানাইনি যারা বিয়ে-শাদি করে না ও সন্তান জন্ম দেয় না। আপনিও সেই মানুষ রাসূলদেরই একজন। যাঁরা বিয়ে-শাদি করেছেন ও সন্তান জন্ম দিয়েছেন। তাহলে কেন মুশরিকরা আপনাকে তাঁদের মতো হতে দেখে আশ্চর্য বোধ করে? কোন রাসূলের জন্য ঠিক নয় তাঁর নিজ পক্ষ থেকে কোন নিদর্শন নিয়ে আসা। তবে আল্লাহ যখন তা নিয়ে আসার অনুমতি দিবেন তখন কোন অসুবিধে নেই। যে ব্যাপারই আল্লাহ ফায়সালা করেন না কেন তা সবই নির্দিষ্ট কিতাবে উল্লিখিত হয়েছে এবং তার একটি নির্দিষ্ট সময়ও রয়েছে যার আগে ও পরে তা কখনোই হবে না।

Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান


তোমার পূর্বেও আমি অনেক রসূল প্রেরণ করেছিলাম এবং তাদেরকে স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি দান করেছিলাম।[১] আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কোন নিদর্শন উপস্থিত করা কোন রসূলের কাজ নয়;[২] প্রত্যেক নির্ধারিত কালের লিপিবদ্ধ গ্রন্থ আছে। [৩] [১] অর্থাৎ, যত নবী ও রসূল এসেছেন সবাই মানুষই ছিলেন, তাঁদের নিজসব পরিবার, বংশ, স্ত্রী এবং সন্তান-সন্ততি ছিল। তাঁরা না ফিরিশতা ছিলেন আর না মানব রূপে নূরের সৃষ্টি ছিলেন। বরং তারা মানবকুল থেকেই ছিলেন। কেননা যদি তাঁরা ফিরিশতা হতেন তাহলে মানুষের জন্য তাঁদের প্রকৃতির সাথে স্বাভাবিক হওয়া এবং তাঁদের কাছাকাছি হওয়া অসম্ভব ছিল, যার ফলে তাঁদেরকে প্রেরণ করার মুখ্য উদ্দেশ্যই বিফল হয়ে যেত। আর যদি উক্ত ফিরিশতাগণ মানব রূপে আসতেন তাহলে দুনিয়াতে না তাদের পরিবার ও বংশ হতো আর না স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি হতো। এ থেকে জানা গেল যে, সকল নবীগণ মানবকুল থেকেই ছিলেন, মানবরূপে ফিরিশতা অথবা কোন নূরের সৃষ্টি ছিলেন না। উল্লিখিত আয়াতে أزْوَاجًا ( স্ত্রী দান করেছিলাম ) থেকে বৈরাগ্য বা সন্ন্যাস্বাদ খন্ডন হয়। আর ذُرِّيَّةٌ ( সন্তান-সন্ততি দান করেছিলাম ) থেকে পরিবার পরিকল্পনার কথা খন্ডন হয়, কেননা ذُرِّيَّةٌ ( অর্থগত ) বহুবচন শব্দ; যা কমপক্ষে তিন হবে। [২] অর্থাৎ মু'জিযা ( অলৌকিক ঘটনা ) প্রদর্শন রসূলদের এখতিয়ারে নেই যে, যখন তাদের কাছে তলব করা হবে, তখনই তা প্রকাশ করে দেখিয়ে দেবেন, বরং এটা সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর এখতিয়ারে, তিনি স্বীয় হিকমত ও ইচ্ছা অনুসারে ফায়সালা করেন যে, মু'জিযার প্রয়োজন আছে না নেই। আর যদি আছে, তাহলে কি রকম এবং কখন তা দেখাবার প্রয়োজন আছে। [৩] অর্থাৎ আল্লাহ যা কিছুরই ওয়াদা করেছেন, তার একটি সময় নির্ধারিত আছে, উক্ত নির্ধারিত সময়ে তা অবশ্যই ঘটবে, কেননা আল্লাহর ওয়াদা ভঙ্গ হয় না। কেউ কেউ বলেছেন যে বাক্যে আগে-পিছে রয়েছে, মূল বাক্য এরূপ لِكُلِّ كِتَابٍ أجَلٌ অর্থাৎ প্রত্যেক সেই বিষয় যা আল্লাহ লিখে রেখেছেন, তার একটা সময় নির্ধারিত আছে। অর্থাৎ বিষয়টি কাফেরদের ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষার উপর নয়; বরং কেবল মাত্র আল্লাহর ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল।

Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স


আর অবশ্যই আমরা আপনার আগে অনেক রাসূল পাঠিয়েছিলাম এবং তাদেরকে স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি দিয়েছিলাম []। আর আল্লাহ্র অনুমতি ছাড়া কোন নিদর্শন উপস্থিত করা কোন রাসূলের কাজ নয় []। প্রত্যেক বিষয়ের ব্যাপারেই নির্ধারিত সময় লিপিবদ্ধ আছে []। [] নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিরুদ্ধে যেসব আপত্তি উত্থাপন করা হতো এটি তার মধ্য থেকে আর একটি আপত্তির জবাব। তারা বলতো, এ আবার কেমন নবী, যার স্ত্রী-সন্তানাদিও আছে! নবী-রাসূলদের যৌন কামনার সাথে কোন সম্পর্ক থাকতে পারে নাকি? এ রাসূলের কি হলো যে, তিনি বিয়ে করেন? [ বাগভী; কুরতুবী ] নবী-রাসূল সম্পর্কে কাফের ও মুশরিকদের একটি সাধারণ ধারণা ছিল এই যে, তাদের মানুষ না; বরং ফিরিশতা হওয়া দরকার। ফলে সাধারণ মানুষের দৃষ্টিতে তাদের শ্রেষ্ঠত্ব বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকবে। কুরআন তাদের এ ভ্রান্ত ধারণার জবাব একাধিক আয়াতে দিয়েছে। হাদীসে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ‘আমি তো সিয়ামও পালন করি এবং সিয়াম ছাড়াও থাকি; আমি রাত্রিতে নিদ্রাও যাই এবং সালাতের জন্যও দণ্ডায়মান হই; এবং নারীদেরকে বিবাহও করি। যে ব্যক্তি আমার এ সুন্নাত হতে মুখ ফিরিয়ে নেবে, সে আমার দলভুক্ত নয়। [ বুখারীঃ ৪৭৭৬, মুসলিমঃ ১৪০১ ] [] এটিও একটি আপত্তির জবাব। কাফের ও মুশরিকরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে নিদর্শনের দাবী করতো। আগেও সেটার জবাব দেয়া হয়েছে। এখানে আবার সেটার জওয়াব দেয়া হচ্ছে [ কুরতুবী ] অনুরূপভাবে তারা কুরআনের আয়াত পরিবর্তনের জন্যও প্রস্তাব করতো। তারা বলতো আল্লাহ্র কিতাবে আমাদের অভিপ্রায় অনুযায়ী বিধি-বিধান নাযিল হোক। তারা আব্দার করতো যে, আপনি বর্তমান কুরআনের পরিবর্তে সম্পূর্ণ ভিন্ন কুরআন নিয়ে আসুন, যাতে আমাদের প্রতিমাসমূহের উপাসনা নিষিদ্ধ করা না হয় অথবা আপনি নিজেই এর আনীত বিধি-বিধান পরিবর্তন করে দিন অথবা আযাবের জায়গায় রহমত এবং হারামের জায়গায় হালাল করে দিন। [ দেখুন, সূরা ইউনুসঃ ১৫ ] কুরআনুল কারীমের উপরোক্ত বাক্যে ( আরবী ) শব্দ দ্বারা উভয় অর্থই হতে পারে। কারণ, কুরআনের পরিভাষায় ‘আয়াত’ কুরআনের আয়াতকেও আয়াত বলা হয় এবং মু’জিযাকেও। এ কারণেই এ ‘আয়াত’ শব্দের ব্যাখ্যায় কোন কোন তাফসীরবিদ কুরআনী আয়াতের অর্থ ধরে উদ্দেশ্য এরূপ ব্যক্ত করেছেন যে, কোন নবীর এরূপ ক্ষমতা নেই যে, তিনি নিজের পক্ষ থেকে কোন আয়াত তৈরী করে নেবেন। [ কাশশাফ; আল-বাহরুল মুহীত; আত-তাহরীর ওয়াততানওয়ীর ] তবে অধিকাংশ মুফাসসির এখানে আয়াতের অর্থ মু’জিযা ধরে ব্যাখ্যা করেছেন যে, কোন রাসূল ও নবীকে আল্লাহ্ তা’আলা এরূপ ক্ষমতা দেননি যে, তিনি যখন ইচ্ছা, যে ধরণের ইচ্ছা মু’জিযা প্রকাশ করতে পারবেন। [ তাবারী; কুরতুবী; ইবন কাসীর; সা’দী ] আয়াতের সারবস্তু এই যে, আমার রাসূলের কাছে কুরআনী আয়াত পরিবর্তন করার দাবী অন্যায় ও ভ্রান্ত। আমি কোন রাসূলকে এরূপ ক্ষমতা দেইনি। এমনিভাবে কোন বিশেষ ধরণের মু’জিযা দাবী করাও নবুওয়াতের স্বরূপ সম্পর্কে অজ্ঞতারই পরিচায়ক। সেটা তো আমার কাছে, আমি যখন ইচ্ছা সেটা দেখাই। [] এখানে ( أجل ) শব্দের অর্থ নির্দিষ্ট সময় ও মেয়াদ। আর ( كتاب ) শব্দটির অর্থ গ্রন্থ অথবা লেখা। বাক্যের অর্থ নির্ধারণে কয়েকটি মত আছেঃ এক, এখানে শরী’আতের কথাই আলোচনা হয়েছে। তখন অর্থ হবে, প্রত্যেক সময়ের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট কিতাব আছে। আল্লাহ্ তা’আলা জানেন কখন কোন কিতাবের প্রয়োজন। সে অনুসারে তিনি প্রত্যেক জাতির জন্য তাদের সময়ে তাদের উপযোগী কিতাব নাযিল করেছেন। তারপর আল্লাহ্ তা’আলা যখন কুরআন নাযিল করলেন, তখন সেটা পূর্ববর্তী সবগুলোকে রহিত করে দিয়েছে। [ দেখুন, ইবন আবিল ইয, শারহুত তাহাওয়ীয়্যা, ১/১০১-১০২; বাগভী; কুরতুবী; ইবন কাসীর ] দুই, আয়াতের অর্থ বর্ণনায় প্রসিদ্ধ মত এই যে, এখানে তাকদীরের কথাই আলোচনা হচ্ছে। অর্থাৎ প্রত্যেক বস্তুর মেয়াদ ও পরিমাণ আল্লাহ্ তা'আলার কাছে লিখিত আছে। তিনি সৃষ্টির সূচনালগ্নে লিখে দিয়েছেন যে, অমুক ব্যক্তি অমুক সময়ে জন্মগ্রহণ করবে এবং এতদিন জীবিত থাকবে। কোথায় কোথায় যাবে, কি কি কাজ করবে এবং কখন ও কোথায় তার মৃত্যু হবে, তাও লিখিত আছে। অন্য আয়াতে আল্লাহ্ তা’আলা বলেনঃ “ আপনি কি জানেন না যে, আকাশ ও পৃথিবীতে যা কিছু রয়েছে আল্লাহ্ তা জানেন । এ সবই আছে এক কিতাবে; নিশ্চয়ই এটা আল্লাহ্র জন্য সহজ।” [ সূরা আল-হাজ্জঃ ৭০ ] [ বাগভী; কুরতুবী; ইবন কাসীর ]

Tafsir ibn kathir bangla তাফসীর ইবনে কাসীর


৩৮-৩৯ আয়াতের তাফসীর আল্লাহ তাআ’লা স্বীয় রাসূলকে ( সঃ ) বলেনঃ হে মুহাম্মদ ( সঃ )! যেমন তুমি মানুষ হওয়া সত্ত্বেও আল্লাহর রাসূল। অনুরূপভাবে তোমার পূর্ববর্তী সমস্ত রাসূলও মানুষই ছিল। তারা খাদ্য খেতো এবং বাজারে চলাফেরা করতো। তাদের স্ত্রী এবং সন্তান সন্ততিও ছিল। এক জায়গায় আল্লাহ তাআ’লা শ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ রাসূলকে ( সঃ ) সম্বোধন করে বলেনঃ ( আরবি )অর্থাৎ “ তুমি বলঃ আমি তোমাদের মতই মানুষ, আমার উপর ( আল্লাহর পক্ষ থেকে ) ওয়াহী করা হয়ে থাকে মাত্র ।( ১৮: ১১০ )সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) বলেছেনঃ “ আমি ( নফল ) রোযাও রাখি এবং ( সময়ে ) পরিত্যাগও করি আমি ( রাত্রে তাহাজ্জুদের নামাযের জন্যে ) দাঁড়িয়েও থাকি আবার ( সময়ে ) নিদ্রাও যাই, আমি গোশত ভক্ষণ করি, এবং নারীদেরকে বিয়েও করি । ( জেনে রেখোঁরেখো যে, ) যে ব্যক্তি আমার সুন্নাত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় সে আমার মধ্যে নয়।”হযরত আবু আইয়ুব ( রাঃ ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, রাসুলুল্লাহ ( সঃ ) বলেছেনঃ “ চারটি জিনিষ রাসূলদের সুন্নাত ( ১ ) সুগন্ধি ব্যবহার করা । ( ২ ) বিবাহ করা। ( ৩ ) মেসওয়াক ( দাঁতুন ) করা এবং ( ৪ ) মেহেন্দী লাগানো। ( এ হাদীসটি ইমাম আহমদ (রঃ ) স্বীয় মুসনাদে বর্ণনা করেছেন)আল্লাহ তাআ’লা বলেনঃ আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কোন নিদর্শন উপস্থিত করা কোন রাসূলের কাজ নয়। এটা হচ্ছে আল্লাহ তাআ’লার অধিকার ভুক্ত জিনিষ। তিনি যা চান তাই করেন, যা ইচ্ছা হুকুম করেন। প্রত্যেক নির্দিষ্ট সময় ও মেয়াদ কিতাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে। প্রত্যেক জিনিষেরই একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ রয়েছে। তুমি কি জান না যে, নিশ্চয় আল্লাহ তাআ’লা জানেন যা কিছু আকাশে ও পৃথিবীতে রয়েছে। এই সব কিছু কিতাবে বিদ্যমান রয়েছে এবং এটা তো আল্লাহ তাআ’লার কাছে খুবই সহজ।( আরবি ) আল্লাহ তাআ’লার এই উক্তি সম্পর্কে যহ্‌হাক ইবনু মাযাহিম ( রঃ ) বলেন যে, এর ভাবার্থ হচ্ছেঃ আসমান হতে অবতারিত প্রত্যেক কিতাবের একটি নির্দিষ্ট সময় এবং একটি নির্ধারিত মেয়াদ রয়েছে। ওগুলির মধ্যে যেটাকে চান আল্লাহ তাআ’লা মানসূখ বা রহিত করে থাকেন এবং যেটাকে চান ঠিক রাখেন। সুতরাং তিনি স্বীয় রাসূল হযরত মুহাম্মদের ( সঃ ) যে এই কুরআন অবতীর্ণ করেছেন এর দ্বারা পূর্ববর্তী সমস্ত আসমানী কিতাব রহিত হয়ে গেছে। আল্লাহ যা ইচ্ছা উঠিয়ে দেন এবং যা ইচ্ছা বাকী রাখেন। বছরের বিষয়গুলি তিনি নির্ধারিত করে থাকেন। কিন্তু সেগুলি তাঁর ইচ্ছাধীন। এবং যেটা ইচ্ছা বদলিয়ে দেন। তবে দুর্ভাগ্য ও সৌভাগ্য এবং জীবন ও মৃত্যুর উপর এটা প্রযোজ্য নয়, বরং এগুলি এই নিয়মের ব্যতিক্রম। এগুলিতে কোন পরিবর্তন নেই। মানসূর ( রঃ ) বলেনঃ “ আমি হযরত মুজাহিদকে ( রঃ ) জিজ্ঞেস করলামঃ আমাদের কারো নিম্নরূপ দুআ’ করা কি ধরনের হবে? “হে আল্লাহ! যদি আমার নাম পূণ্যবানদের তালিকায় লিপিবদ্ধ থাকে তবে তা বাকী রাখুন । আর যদি পাপিষ্ঠদের তালিকাভুক্ত থাকে তবে তা উঠিয়ে দিন এবং পুণ্যবানদের অন্তর্ভূক্ত করুণ।” উত্তরে তিনি বললেনঃ “ এটা তো খুব উত্তম দুআ’!” এক বছর বা তারও কিছু বেশী দিন পর তাঁর সাথে পুনরায় আমার সাক্ষাৎ হলে আবার আমি তাকে উপরোক্ত প্রশ্ন করি । এবার তিনি ( আরবি ) ( ৪৪: ৩ ) হতে দু’টি আয়াত তিলাওয়াত করলেন এবং বললেন “ কদরের রাত্রে এক বছরের জীবিকা, বিপদ-আপদ নির্ধারিত হয়ে যায় । তারপর আল্লাহ তাআ’লা যা চান আগাপাছা করে থাকেন। হাঁ, তবে সৌভাগ্য ও দুর্ভাগ্যের লিখন পরিবর্তন হয় না।”হযরত শাকীক ইবনু সালমা ( রঃ ) প্রায়ই নিম্নের দুআ’টি করতেনঃ “ হে আল্লাহ! যদি আপনি আমাকে হতভাগ্য ও পাপিষ্ঠদের তালিকাভুক্ত করে থাকেন তবে তা মুছে ফেলুন এবং পুণ্যবান ও সৌভাগ্যবানদের তালিকাভূক্ত করে দিন । যদি আপনি আমার নামটি সৎ লোকদের তালিকায় লিপিবদ্ধ করে থাকেন তবে তা বাকী রাখুন। আপনি যা ইচ্ছা মিটিয়ে থাকেন এবং যা ইচ্ছা বাকী রাখেন। প্রকৃত লিখন আপনার কাছেই রয়েছে।”হযরত উমার ইবনু খাত্তাব ( রাঃ ) বায়তুল্লাহ শরীফের তাওয়াফ করার সময় ক্রন্দনরত অবস্থায় নিম্নরূপ দুআ’ করতেনঃ “ হে আল্লাহ! যদি আপনি আমার উপর পাপ লিখে থাকেন তবে তা মিটিয়ে দিন । আপনি যা চান মিটিয়ে থাকেন এবং যা চান বাকী রাখেন। কিতাবের মূল আপনার কাছেই রয়েছে। আপনি ওটাকে সৌভাগ্য রহমত করে দিন!” হযরত ইবনু মাসউদও ( রাঃ ) অনুরূপ দুআ’ করতেন। হযরত কা'ব ( রাঃ ) আমীরুল মুমিনীন হযরত উমারকে ( রাঃ ) বলেনঃ “ যদি আল্লাহর কিতাবে একটি আয়াত না থাকতো তবে কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু সংঘটিত হবে সবই আমি আপনাকে বলে দিতাম ।” তখন হযরত উমর ( রাঃ ) তাকে জিজ্ঞেস করেনঃ “ ঐ আয়াতটি কি?” উত্তরে তিনি আল্লাহ আআ’লার ( আরবি ) এই উক্তিটিই পাঠ করেন । এইসব উক্তির ভাবার্থ এই যে, তকদীরের পরিবর্তন আল্লাহ তাআ’লার ইখতিয়ারের বিষয়। এ ব্যাপারে হযরত সাওবান ( রাঃ ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) বলেছেনঃ “ কোন কোন পাপের কারণে মানুষকে রূযী থেকে বঞ্চিত করে দেয়া হয়, আর তকদীরকে দুআ’ ছাড়া অন্য কিছুতে পরিবর্তন করতে পারে না এবং পূণ্য ছাড়া অন্য কিছুতে আয়ু বেশী করতে পারে না ।( এ হাদীসটি ইমাম আহমদ (রঃ ) স্বীয় মুসনাদে বর্ণনা করেছেন। ইমাম নাসায়ী ( রঃ ) ও ইমাম ইবনু মাজাহও ( রঃ ) এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন)সহীহ হাদীসে রয়েছে যে, আত্মীয়তা সম্পর্ক যুক্ত করণ আয়ু বৃদ্ধি করে থাকে। অন্য একটি হাদীসে আছে যে, দুআ’ ও তকদীরের সাক্ষাৎ ঘটে, আসমান ও যমীনের মাঝে।হযরত ইবনু আব্বাস ( রাঃ ) বলেন যে, মহা মহিমান্বিত আল্লাহর কাছে লাওহে মাহফুয রয়েছে যা পাঁচ শ' বছরের পথের জিনিষ। ওটা সাদা মুক্তা দ্বারা নির্মিত। ওতে মনি মাণিক্যের দু’টি আবরণী রয়েছে। প্রত্যই আল্লাহ তাআ’লা তিনশ ষাট বার করে ওর প্রতি দৃষ্টি দেন। যা ইচ্ছা মিটিয়ে দেন এবং যা ইচ্ছা ঠিক রাখেন। উম্মুল কিতাব তাঁরই কাছেই রয়েছে। ( এটা ইমাম ইবনু জারীর (রঃ ) বর্ণনা করেছেন)হযরত আবুদ্দারদা ( রাঃ ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) বলেছেনঃ “ রাত্রির তিন ঘণ্টা বাকী থাকতে যিকর খোলা হয় । প্রথম ঘণ্টায় ঐ যিকরের প্রতি দৃষ্টিপাত করা হয় যা আল্লাহ ছাড়া কেউ দেখে না। সুতরাং তিনি যা চান মিটিয়ে দেন এবং যা চান ঠিক রাখেন ( এবং এরপর পুরো হাদীসটি বর্ণনা করেন )( এ হাদীসটিও ইমাম ইবনু জারীর (রঃ ) বর্ণনা করেছেন)কালবী ( রঃ ) বলেন যে, এর দ্বারা জীবিকা বৃদ্ধি করা ও হ্রাস করা এবং আয়ু বৃদ্ধি করা ও হ্রাস করা বুঝানো হয়েছে। তাকে জিজ্ঞেস করা হয়ঃ “ এ কথা আপনার নিকট কে বর্ণনা করেছেন? তিনি উত্তরে বলেনঃ “আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আৰ সা’লেহ ( রঃ ), তাঁর কাছে বর্ণনা করেছেন হযরত জাবির ইবনু আবদিল্লাহ ইবনু রাবাব ( রাঃ ) এবং তার কাছে বর্ণনা করেছেন নবী ( সঃ )” অতঃপর তাঁকে এই আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি উত্তরে বলেনঃ “ সমস্ত কথাই লিপিবদ্ধ করা হয় । অতঃপর বৃহস্পতিবার ঐ সব কথা বের করে দেয়া হয় যেগুলি পুরস্কার ও শাস্তি প্রদান থেকে শূন্য ( অর্থাৎ যার জন্যে ) পুরস্কারও দেয়া হয় না এবং শাস্তিও প্রদান করা হয় না। যেমন তোমার উক্তিঃ ‘আমি খেয়েছি, আমি পান করেছি, আমি এসেছি, আমি গিয়েছি ইত্যাদি। এগুলি সত্যকথা বটে, অথচ পুরষ্কার ও শাস্তি প্রদানের বিষয় নয়। আর যে গুলি সাওয়াব ও আযাবের বিষয় সেগুলি লিখে নেয়া হয়।” হযরত ইবনু আব্বাসের ( রাঃ ) উক্তি এই যে, দু’টি কিতাব রয়েছে। একটি হতে তিনি যা ইচ্ছা মিটিয়ে দেন এবং যা ইচ্ছা ঠিক রাখেন এবং তাঁর কাছে থাকে আসল কিতাব। তিনি আরো বলেন যে, এর দ্বারা ঐ ব্যক্তিকে বুঝানো হয়েছে যে এক যুগ পর্যন্ত আল্লাহর আনুগত্যের কাজে লেগে থাকলো। অতঃপর তার অবাধ্যতার কাজে লেগে গেল এবং ওর উপরই মারা গেল। সুতরাং তার পূণ্য মিটিয়ে দেয়া হয়। আর যার জন্যে ঠিক রাখা হয় সে হচ্ছে ঐ ব্যক্তি যে এখন তো নাফরমানীর কাজে লিপ্ত রয়েছে। কিন্তু আল্লাহ তাআ’লার পক্ষ থেকে তার জন্যে তার বাধ্য ও অনুগত থাকা পূর্বেই নির্ধারিত হয়ে গেছে। কাজেই শেষ সময়ে সে ভাল কাজে লেগে পড়ে এবং এর উপরই মারা যায়। এটাই হচ্ছে ঠিক রাখা।হযরত সাঈদ ইবনু জুবাইর ( রঃ ) বলেন যে, এর ভাবার্থ হচ্ছেঃ আল্লাহ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন এবং যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন না। হযরত ইবনু আব্বাসের ( রাঃ ) উক্তি হচ্ছেঃ তিনি যা চান মানসূখ বা রহিত করে দেন এবং যা চান পরিবর্তন করেন না। রহিতকারীও তাঁর হাতে এবং পরিবর্তনও তাঁরই হাতে। কাতাদা’র ( রঃ ) উক্তি অনুসারে এই আয়াতটি হচ্ছেঃ ( আরবি ) এই আয়াতের মতই। অর্থাৎ “ আমি যা ইচ্ছা মানসূখ বা রহিত করি এবং যা ইচ্ছা বাকী ও চালু রাখি ।( ২: ১০৬ ) হযরত মুজাহিদ ( রঃ ) বলেন যে, যখন আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কোন রাসূল কোন মু’জিযা দেখাতে পারেন না ।” এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয় তখন কুরায়েশদের কাফিররা বলেঃ “ তাহলে তো মুহাম্মদ ( সঃ ) সম্পূর্ণ শক্তিহীন, কাজ থেকে তো অবকাশ লাভ করা হয়েছে!” তখন তাদেরকে ভীতি প্রদর্শন করার উদ্দেশ্যে এই আয়াত অবতীর্ণ হয়ঃ আমি যা ইচ্ছা করি তার জন্যে আমার নতুন কিছু সৃষ্টি করে থাকি । প্রত্যেক রমযান মাসে নবায়ন হয়ে থাকে ( প্রত্যেক রমযান মাসে আমি তার কাছে বর্ণনা করে থাকি ), অতঃপর আল্লাহ তাআ’লা যা ইচ্ছা মিটিয়ে দেন এবং যা ইচ্ছা ঠিক রাখেন মানুষের জীবিকা, তাদের বিপদ-আপদ, আর তিনি তাদেরকে যা প্রদান করেন এবং তাদের জন্যে যা বণ্টন করেন।হযরত হাসান বসরী ( রঃ ) বলেন যে, যার মৃত্যু এসে যায় সে চলে যায়, আর যে জীবিত থাকে সে দুনিয়ায় থেকে যায়, যে পর্যন্ত না সে তার দিন পুরো করে নেয়। ইমাম ইবনু জারীরও ( রঃ ) এই উক্তিটি পছন্দ করেছেন। হালাল, হারাম তার কাছে রয়েছে এবং কিতাবের মূল তাঁরই হাতে আছে। কিতাব স্বয়ং বিশ্বপ্রতিপালকের কাছেই রয়েছে। হযরত ইবনু আব্বাস ( রাঃ ) হযরত কা'বকে ( রাঃ ) উম্মুল কিতাব সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি উত্তরে বলেনঃ আল্লাহ তাআ’লা তার মাখলুককে এবং তাদের আমলকে জেনে নেন । অতঃপর তিনি বলেনঃ “ কিতাবের আকার বিশিষ্ট হয়ে যাও ।” তখন তা হয়ে যায়। হযরত ইবনু আব্বাস ( রাঃ ) বলেন যে, উম্মুল কিতাব দ্বারা যিকরকে বুঝানো হয়েছে।

সূরা রা'দ আয়াত 38 সূরা

ولقد أرسلنا رسلا من قبلك وجعلنا لهم أزواجا وذرية وما كان لرسول أن يأتي بآية إلا بإذن الله لكل أجل كتاب

سورة: الرعد - آية: ( 38 )  - جزء: ( 13 )  -  صفحة: ( 254 )


English Türkçe Indonesia
Русский Français فارسی
تفسير Urdu اعراب

বাংলায় পবিত্র কুরআনের আয়াত

  1. যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলকে কষ্ট দেয়, আল্লাহ তাদের প্রতি ইহকালে ও পরকালে অভিসম্পাত করেন
  2. আমি অবশ্যই দাউদ ও সুলায়মানকে জ্ঞান দান করেছিলাম। তাঁরা বলে ছিলেন, আল্লাহর প্রশংসা, যিনি আমাদেরকে
  3. এবং বিপথগামীদের সামনে উম্মোচিত করা হবে জাহান্নাম।
  4. আমি শপথ করি কেয়ামত দিবসের,
  5. অতএব, বিশ্বজগতের পালনকর্তা, ভূ-মন্ডলের পালনকর্তা ও নভোমন্ডলের পালনকর্তা আল্লাহর-ই প্রশংসা।
  6. যখন বেড়িও শৃঙ্খল তাদের গলদেশে পড়বে। তাদেরকে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে।
  7. তোমরা যখন একথা শুনলে, তখন ঈমানদার পুরুষ ও নারীগণ কেন নিজেদের লোক সম্পর্কে উত্তম ধারণা
  8. এই হলো মানুষের জন্য বর্ণনা। আর যারা ভয় করে তাদের জন্য উপদেশবাণী।
  9. তারা বলল, তোমাকে এবং তোমার সাথে যারা আছে, তাদেরকে আমরা অকল্যাণের প্রতীক মনে করি। সালেহ
  10. আর যেন সোজা দ্বীনের প্রতি মুখ করি সরল হয়ে এবং যেন মুশরেকদের অন্তর্ভুক্ত না হই।

বাংলায় কোরআনের সূরা পড়ুন :

সুরত আল বাক্বারাহ্ আলে ইমরান সুরত আন-নিসা
সুরত আল-মায়েদাহ্ সুরত ইউসুফ সুরত ইব্রাহীম
সুরত আল-হিজর সুরত আল-কাহফ সুরত মারইয়াম
সুরত আল-হাজ্জ সুরত আল-ক্বাসাস আল-‘আনকাবূত
সুরত আস-সাজদা সুরত ইয়াসীন সুরত আদ-দুখান
সুরত আল-ফাতহ সুরত আল-হুজুরাত সুরত ক্বাফ
সুরত আন-নাজম সুরত আর-রাহমান সুরত আল-ওয়াক্বি‘আহ
সুরত আল-হাশর সুরত আল-মুলক সুরত আল-হাক্কাহ্
সুরত আল-ইনশিক্বাক সুরত আল-আ‘লা সুরত আল-গাশিয়াহ্

সবচেয়ে বিখ্যাত কোরআন তেলাওয়াতকারীদের কণ্ঠে সূরা রা'দ ডাউনলোড করুন:

সূরা Raad mp3 : উচ্চ মানের সাথে সম্পূর্ণ অধ্যায়টি Raad শুনতে এবং ডাউনলোড করতে আবৃত্তিকারকে বেছে নিন
সুরত রা'দ  ভয়েস আহমেদ আল-আজমি
আহমেদ আল-আজমি
সুরত রা'দ  ভয়েস ইব্রাহীম আল-আখদার
ইব্রাহীম আল-আখদার
সুরত রা'দ  ভয়েস বান্দার বেলাইলা
বান্দার বেলাইলা
সুরত রা'দ  ভয়েস খালিদ গালিলি
খালিদ গালিলি
সুরত রা'দ  ভয়েস হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
সুরত রা'দ  ভয়েস খলিফা আল টুনাইজি
খলিফা আল টুনাইজি
সুরত রা'দ  ভয়েস সাদ আল-গামদি
সাদ আল-গামদি
সুরত রা'দ  ভয়েস সৌদ আল-শুরাইম
সৌদ আল-শুরাইম
সুরত রা'দ  ভয়েস সালাহ আবু খাতর
সালাহ বুখাতীর
সুরত রা'দ  ভয়েস আবদুল বাসিত আব্দুল সামাদ
আবদ এল বাসেট
সুরত রা'দ  ভয়েস আবদুল রশিদ সুফি
আবদুল রশিদ সুফি
সুরত রা'দ  ভয়েস আব্দুল্লাহ্ বাস্‌ফার
আব্দুল্লাহ্ বাস্‌ফার
সুরত রা'দ  ভয়েস আবদুল্লাহ আওওয়াদ আল-জুহানী
আবদুল্লাহ আল-জুহানী
সুরত রা'দ  ভয়েস আলী আল-হুদায়েফি
আলী আল-হুদায়েফি
সুরত রা'দ  ভয়েস আলী জাবের
আলী জাবের
সুরত রা'দ  ভয়েস ফারেস আব্বাদ
ফারেস আব্বাদ
সুরত রা'দ  ভয়েস মাহের আলমাইকুলই
মাহের আলমাইকুলই
সুরত রা'দ  ভয়েস মোহাম্মদ আইয়ুব
মোহাম্মদ আইয়ুব
সুরত রা'দ  ভয়েস মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
সুরত রা'দ  ভয়েস মুহাম্মাদ জিব্রীল
মুহাম্মাদ জিব্রীল
সুরত রা'দ  ভয়েস মুহাম্মদ সিদ্দিক আল মিনশাবি
আল-মিনশাবি
সুরত রা'দ  ভয়েস আল হোসারি
আল হোসারি
সুরত রা'দ  ভয়েস আল-আফসী
মিশারী আল-আফসী
সুরত রা'দ  ভয়েস নাসের আল কাতামি
নাসের আল কাতামি
সুরত রা'দ  ভয়েস ইয়াসের আল-দোসারি
ইয়াসের আল-দোসারি


Wednesday, June 10, 2026

Please remember us in your sincere prayers